عن أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «مَنْ يُرِدِ اللهُ بِهِ خَيْرًا يُصِبْ مِنْهُ».
আবূ হুরায়রা রদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “আল্লাহ যে ব্যক্তির কল্যাণ কামনা করেন, তাকে তিনি দুঃখ-কষ্টে পতিত করেন।”
এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন।মানসহীহ
ব্যাখ্যা
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম সংবাদ দিয়েছেন যে, আল্লাহ যখন মুমিন বান্দাদের মধ্যে কারো কল্যাণ চান, তখন তিনি তাদেরকে তাদের জান, মাল ও পরিবার-পরিজনের ব্যাপারে পরীক্ষায় পতিত করেন। কেননা এতে উক্ত মুমিন ব্যক্তির দু‘আর মাধ্যমে আল্লাহর কাছে আশ্রয় অর্জিত হয়, গুনাহ মাফ হয় এবং তার মর্যাদা বৃদ্ধি পায়।
শিক্ষা
- মুমিন ব্যক্তি নানা ধরনের বালা-মুসিবতে পতিত হয়।
- বালা-মুসিবত কখনো কখনো বান্দার জন্য আল্লাহর ভালোবাসার নিদর্শন হয়ে থাকে। এতে তার মর্যাদা বৃদ্ধি পায় এবং গুনাহসমূহ মার্জনা হয়।
- বিপদ-আপদের সময় ধৈর্যধারণ করা এবং অধৈর্য না হওয়ার ব্যাপারে উৎসাহিত করা হয়েছে।
সূত্র
صحيح البخاري (7/ 115) (5645).
كنوز رياض الصالحين، لمجموعة من الباحثين (1/ 509).
بهجة الناظرين، لسليم الهلالي (1/ 98).
تطريز رياض الصالحين، لفيصل آل مبارك (ص45).
نزهة المتقين، مجموعة من المشايخ (1/ 71).
شرح رياض الصالحين، لابن عثيمين (1/ 244).
مرقاة المفاتيح شرح مشكاة المصابيح، لعلي القاري (3/ 1127).
HadeethEnc.com-এ এই হাদীসعَن أَبِي بُرْدَةَ بْنِ أَبِي مُوسَى رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: وَجِعَ أَبُو مُوسَى وَجَعًا شَدِيدًا، فَغُشِيَ عَلَيْهِ وَرَأْسُهُ فِي حَجْرِ امْرَأَةٍ مِنْ أَهْلِهِ، فَلَمْ يَسْتَطِعْ أَنْ يَرُدَّ عَلَيْهَا شَيْئًا، فَلَمَّا أَفَاقَ، قَالَ: أَنَا بَرِيءٌ مِمَّنْ بَرِئَ مِنْهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَرِئَ مِنَ الصَّالِقَةِ وَالحَالِقَةِ وَالشَّاقَّةِ.
আবূ বুরদাহ ইবনু আবূ মূসা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবূ মূসা আশ‘আরী রাদিয়াল্লাহু আনহু কঠিন রোগে আক্রান্ত হলেন। এমনকি তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়লেন। তখন তাঁর মাথা তাঁর পরিবারভুক্ত কোন এক মহিলার কোলে ছিল। তিনি তাকে কোন জবাব দিতে পারছিলেন না। জ্ঞান ফিরে পেলে তিনি বললেন, সে সব লোকের সঙ্গে আমি সম্পর্ক রাখি না যাদের সাথে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্ক ছিন্ন করেছেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সে সব নারীর সাথে সম্পর্কচ্ছেদের কথা প্রকাশ করেছেন- যারা চিৎকার করে ক্রন্দন করে, যারা মস্তক মুন্ডন করে এবং যারা জামা কাপড় ছিন্ন করে।
সহীহ বুখারী ও মুসলিমমানসহীহ
ব্যাখ্যা
আবু বুরদাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন যে, তাঁর পিতা আবু মুসা আল-আশ'আরী রাদিয়াল্লাহু রাদিয়াল্লাহু আনহু গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং অজ্ঞান হয়ে পড়েন। তখন তাঁর মাথা তাঁর পরিবারের একজন মহিলার কোলে ছিল, তাই সে চিৎকার করে তার জন্য শোক প্রকাশ করল, কিন্তু সে অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার কারণে তার কথার উত্তর দিতে পারল না। যখন তার জ্ঞান ফিরে এলো, তখন সে বলল: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম যার সাথে সম্পর্কচ্ছেদ করেছেন, আমিও তার সাথে সম্পর্কচ্ছেদ করলাম। তিনি সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কচ্ছেদ করেছেন: আল-সালিকা: বিপদের সময় চিৎকারকারী নারী। আল-হালিকা: বিপদের সময় চুল মুন্ডনকারী নারী। আর শাক্কা (الشاقة): যে নারী মুসীবাতের সময় তার কাপড় ছিঁড়ে ফেলে। কারণ এগুলো জাহিলি যুগের বিষয়, বরং বিপদের সময় ধৈর্য ধরার এবং আল্লাহর কাছ থেকে প্রতিদান আশা করার আদেশ করা হয়েছে।
শিক্ষা
- বিপদের সময় কাপড় ছিঁড়ে ফেলা, চুল কামানো এবং উচ্চস্বরে আওয়াজ করা নিষিদ্ধ, কারণ এগুলো বড় পাপ।
- বিলাপ বা উচ্চস্বরে আওয়াজ না করে দুঃখ এবং কান্না করা হারাম নয়, কারণ এটি আল্লাহর সিদ্ধান্তের প্রতি ধৈর্য ধরার বিপরীত না, বরং এটি রহমত।
- কথা বা কাজের মাধ্যমে আল্লাহর কষ্টকর তাকদীরের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করা হারাম।
- মুসিবতের সময় ধৈর্য ধারন ওয়াজিব।
সূত্র
صحيح البخاري (2/ 81) (1296).
صحيح مسلم (1/ 100) (104).
تيسير العلام شرح عمدة الأحكام، لعبد الله البسام (ص287).
تنبيه الأفهام شرح عمدة الأحكام، لابن عثيمين (2/ 371).
HadeethEnc.com-এ এই হাদীসعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «الْمُؤْمِنُ الْقَوِيُّ، خَيْرٌ وَأَحَبُّ إِلَى اللهِ مِنَ الْمُؤْمِنِ الضَّعِيفِ، وَفِي كُلٍّ خَيْرٌ، احْرِصْ عَلَى مَا يَنْفَعُكَ، وَاسْتَعِنْ بِاللهِ وَلَا تَعْجَزْ، وَإِنْ أَصَابَكَ شَيْءٌ، فَلَا تَقُلْ لَوْ أَنِّي فَعَلْتُ كَانَ كَذَا وَكَذَا، وَلَكِنْ قُلْ قَدَرُ اللهِ وَمَا شَاءَ فَعَلَ، فَإِنَّ (لَوْ) تَفْتَحُ عَمَلَ الشَّيْطَانِ».
আবূ হুরাইরা রদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “শক্তিশালী মুমিন দুর্বল মুমিন অপেক্ষা আল্লাহর কাছে অধিকতর উত্তম ও পছন্দনীয়। তবে তাদের প্রত্যেকের মধ্যেই কল্যাণ রয়েছে। সুতরাং যা তোমাকে উপকৃত করবে, তার প্রতি তুমি আগ্রহী হও। এবং আল্লাহর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা কর। তুমি কখনো অক্ষম হয়ো না। যদি তোমার কাছে কোন বিপদ আপতিত হয়। তাহলে এ কথা বলবে না: যদি আমি এমন এমন করতাম, তাহলে এমনটি হত না। বরং এ কথা বলবে:قَدَرُ اللهِ وَمَا شَاءَ فَعَلَ، ‘আল্লাহ তা’আলা যা নির্দিষ্ট করেছেন এবং যা চেয়েছেন তাই করেছেন।” কেননা لَوْ (যদি) বলা শয়তানের কাজকে খুলে দেয়।”
ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেনমানসহীহ
ব্যাখ্যা
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ হাদীসে বর্ণনা করেছেন, মুমিন সকলেই (অন্যদের তুলনায়) উত্তম। তবে ঈমান, দৃঢ়তা, সম্পদ ও অন্যান্য শক্তির বিবেচনায় শক্তিশালী মুমিন দুর্বল মুমিন অপেক্ষায় মহান আল্লাহর কাছে অধিকতর উত্তম ও পছন্দনীয়। অতপর নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুমিনদেরকে দুনিয়া ও আখিরাতের যেসব বিষয়ে কল্যাণ রয়েছে, সেগুলো অর্জনের উপায়-উপকরণ সংগ্রহ করতে অসিয়ত করেছেন। অবশ্যই আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলার উপর নির্ভরশীল হয়ে, তাঁর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করে এবং তার উপর তাওয়াক্কুল করে তা অর্জন করতে হবে। অতপর নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম অক্ষমতা, অলসতা করতে এবং উভয় জগতের কল্যাণকর কাজে ধীরগতি হতে নিষেধ করেছেন। অতএব, মুমিন যখন কোন কাজে আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করে, তাঁর কাছে কল্যাণ কামনা করে সর্বশক্তি ব্যয় করে, উপায়-উপকরণ গ্রহণ করে, তখন সে শুধু আল্লাহর উপরই কাজটি ন্যস্ত করে এবং তার জেনে রাখা উচিত যে, মহান আল্লাহ বান্দার জন্যে যা নির্ধারণ করেন, তাতেই রয়েছে কল্যাণ। এরপরেও যদি কোন মুসিবত আপতিত হয়, তাহলে এ কথা বলবে না: ‘যদি আমি এমন করতাম, তাহলে এমন এমন হত।’ ‘কেননা আল্লাহর নির্ধারিত তাকদীরের উপরে আপত্তি করতে এবং যা কিছু তোমার থেকে ছুটে গেছে সে ব্যাপারে আফসোস বাড়াতে لَوْ (যদি) বলা শয়তানের কাজকে খুলে দেয়।’ বরং সে যেন আল্লাহর প্রতি আত্মসমর্পনকারী এবং তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হয়ে বলে: ‘আল্লাহ তা’আলা যা নির্দিষ্ট করেছেন এবং যা চেয়েছেন তাই করেছেন। সুতরাং যা কিছু সংঘটিত হয়েছে, তা আল্লাহর ইচ্ছা অনুযায়ী হয়েছে। তিনি যা চান তা-ই করেন। তাঁর ফয়সালার কেউ বিরোধী নেই এবং তাঁর রায়কে কেউ প্রশ্নবিদ্ধ ও প্রতিবাদ করতে পারে না।
শিক্ষা
- ঈমানের ভিত্তিতে মানুষ বিভিন্ন স্তরের হয়ে থাকে।
- কাজে-কর্মে শক্তি-সামর্থ্য থাকা মুস্তাহাব। কেননা শক্তির দ্বারা এমন কিছু উপকারিতা অর্জন করা যায়, তা দুর্বলতা দ্বারা অর্জিত হয় না।
- মানুষের উচিত যা কিছু তার জন্যে কল্যাণকর তার চেষ্টা ও আশা করা এবং যা কিছু অকল্যাণ তা বর্জন করা।
- মুমিনের উচিত সকল কাজে মহান আল্লাহর সাহায্য তালাশ করা এবং নিজের উপরে নির্ভর না করা।
- আল্লাহ কর্তৃক ফয়সালা ও তাকদীর প্রমাণিত। তবে তা কল্যাণ তালাশে উপায়-উপকরণ ও প্রচেষ্টার সাথে সাংঘর্ষিক নয়।
- কোন বিপদ আপদ আপতিত হলে অসন্তুষ্টির বশবর্তী হয়ে لَوْ (যদি) শব্দটি বলতে নিষেধ করা হয়েছে। তাছাড়া আল্লাহ তা‘আলার ফয়সালা ও তাকদীরের ব্যাপারে আপত্তি করাও হারাম।
সূত্র
صحيح مسلم (4/ 2052) (2664).
توضيح الأحكام من بلوغ المرام، لعبد الله البسام (7/ 492).
منحة العلام في شرح بلوغ المرام، لعبد الله الفوزان (10/ 338).
فتح ذي الجلال والإكرام، لابن عثيمين (6/ 430).
HadeethEnc.com-এ এই হাদীসعن أسامة بن زيد رضي الله عنهما مرفوعاً: «إذا سمعتم الطاعونَ بأرض فلا تدخلوها وإذا وقع بأرض وأنتم فيها فلا تخرجوا منها».
উসামা ইবন যায়েদ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যখন তোমরা কোন ভূখণ্ডে প্লেগ বা মহামারী ছড়িয়ে পড়তে শুনবে, তখন সেখানে প্রবেশ করো না। আর তা ছড়িয়ে পড়েছে এমন ভূখণ্ডে তোমরা যদি থাক, তাহলে সেখান থেকে বের হয়ো না।”
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।মানসহীহ
ব্যাখ্যা
যখন কোনো এলাকায় মহামারী দেখা দেয়, আর তাতে কোনো লোক প্রবেশ না করে থাকে, তাহলে তার ও তার সাথীদের সুস্থতা সংরক্ষণের স্বার্থে তার জন্য সেখানে প্রবেশ করা বৈধ হবে না। আর যদি কোনো এলাকায় মহামারী দেখা দেয়, আর সে সেখানে রয়েছে, তাহলে তার জন্য সে এলাকা থেকে বের হওয়া বৈধ হবে না। তার দায়িত্ব হলো আল্লাহর নির্ধারিত তাকদীরের ওপর ধৈর্য ধারণ করা, যাতে তার জন্য সাওয়াব লিপিবদ্ধ করা হয়।
সূত্র
- صحيح البخاري ،للإمام محمد بن إسماعيل البخاري، عناية محمد زهير الناصر، دار طوق النجاة، الطبعة الأولى، 1422هـ.
- صحيح مسلم؛ للإمام مسلم بن الحجاج، حققه ورقمه محمد فؤاد عبد الباقي، دار عالم الكتب-الرياض، الطبعة الأولى، 1417هـ.
- كنوز رياض الصالحين»،لحمد بن ناصر العمار،دار كنوز إشبيليا- الطبعة الأولى1430ه.
- شرح رياض الصالحين؛ للشيخ محمد بن صالح العثيمين، مدار الوطن، الرياض، 1426هـ.
- منار القاري شرح مختصر صحيح البخاري تأليف- حمزة محمد قاسم مكتبة دار البيان، دمشق - الجمهورية العربية السورية، مكتبة المؤيد، الطائف - المملكة العربية السعودية-1410 هـ - 1990 م.
-دليل الفالحين لطرق رياض الصالحين/محمد علي بن محمد بن علان البكري -اعتنى بها: خليل مأمون شيحا- دار المعرفة للطباعة والنشر والتوزيع، بيروت – لبنان- الطبعة: الرابعة، 1425 هـ - 2004 م.
- بهجة الناظرين شرح رياض الصالحين؛ تأليف سليم بن عيد الهلالي، دار ابن الجوزي- الطبعة الأولى1418ه.
- نزهة المتقين شرح رياض الصالحين؛ تأليف د. مصطفى الخِن وغيره، مؤسسة الرسالة-بيروت، الطبعة الرابعة عشرة، 1407هـ.
HadeethEnc.com-এ এই হাদীসعن أسيد بن أبي أسيد التابعي، عن امرأة من المبايعات، قالت: كان فيما أخذ علينا رسولُ الله صلى الله عليه وسلم في المعروف الذي أخذ علينا أن لا نعصيه فيه: أن لا نَخْمِشَ وجهًا، ولا نَدْعُوَ وَيْلًا، ولا نَشُقَّ جَيْبًا، وأن لا نَنْشُرَ شَعْرًا.
উসাইদ ইবনে আবূ উসাইদ তাবেয়ী, এমন এক মহিলা থেকে বর্ণনা করেন, যিনি নবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট বায়আতকারিণী মহিলাদের একজন ছিলেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে সব সৎকর্ম করতে ও তাতে তাঁর অবাধ্যতা না করতে আমাদের কাছে অঙ্গীকার নিয়েছিলেন, সে সবের মধ্যে এটিও ছিল যে, (শোকাহত হয়ে) আমরা চেহারা খামচাব না, ধ্বংস ও সর্বনাশ কামনা করব না, বুকের কাপড় ছিঁড়ব না এবং মাথার চুল আলুথালু করব না।’
এটি আবূ দাঊদ বর্ণনা করেছেন।মানসহীহ
ব্যাখ্যা
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নারী সাহাবীদের বাই‘আত গ্রহণ করানোর সময় তারা যাতে তার অবাধ্য না হয় সে ব্যাপারে প্রতিশ্রুতি গ্রহণ করতেন। তা থেকে কতক হলো, কেউ যেন চেহারা না খামচায়, চেহারায় আঘাত না করে এবং মুখের ওপর প্রহার না করে, নিষিদ্ধ নিয়াহার মাধ্যমে আওয়াজ বড় না করে, কেউ যেন কাপড় না ছিঁড়ে এবং মুসিবতের সময় মাথার চুল আলুথালু না করে এবং না ছিঁড়ে।
সূত্র
نزهة المتقين، تأليف: جمعٌ من المشايخ، الناشر: مؤسسة الرسالة، الطبعة الأولى: 1397 هـ الطبعة الرابعة عشر 1407هـ.
كنوز رياض الصالحين، تأليف: حمد بن ناصر بن العمار، الناشر: دار كنوز أشبيليا، الطبعة الأولى: 1430هـ.
بهجة الناظرين، تأليف: سليم بن عيد الهلالي، الناشر: دار ابن الجوزي، سنة النشر: 1418هـ- 1997م.
سنن أبي داود، تأليف: سليمان بن الأشعث السِّجِسْتاني، تحقيق: محمد محيي الدين عبد الحميد، الناشر: المكتبة العصرية، صيدا.
صحيح الترغيب والترهيب، تأليف: محمد ناصر الدين الألباني، الناشر: مكتبة المعارف، الطبعة: الخامسة.
رياض الصالحين، تأليف: محيي الدين يحيى بن شرف النووي ، تحقيق: د. ماهر بن ياسين الفحل، الطبعة: الأولى، 1428هـ.
HadeethEnc.com-এ এই হাদীসعن أبي هريرة رضي الله عنه ، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم : «لما خلق اللهُ آدمَ مسح ظهره، فسقط من ظهره كل نَسَمة هو خالقها من ذُرِّيته إلى يوم القيامة، وجعل بين عيني كل إنسان منهم وَبِيصًا من نور، ثم عرضهم على آدم فقال: أي رب، مَن هؤلاء؟ قال: هؤلاء ذريتك، فرأى رجلا منهم فأعجبه وَبِيصُ ما بين عينيه، فقال: أي رب مَن هذا؟ فقال: هذا رجل من آخر الأمم من ذُرِّيتك يقال له: داود. فقال: رب كم جعلتَ عُمُرَه؟ قال: ستين سنة، قال: أي رب، زِده من عُمُري أربعين سنة. فلما قضي عمر آدم جاءه مَلَكُ الموت، فقال: أوَلَم يبقَ من عمري أربعون سنة؟ قال: أوَلَم تُعْطِها ابنَك داود قال: فجَحَدَ آدمُ فجحدت ذُرِّيتُه، ونسي آدمُ فنسيت ذُرِّيتُه، وخَطِئ آدم فخَطِئت ذُرِّيتُه».
আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহ আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ তা‘আলা আদম আলাইহিস সালামকে সৃষ্টি করার পর তার পিঠ মাসেহ করলে তার পিঠ থেকে কিয়ামত পর্যন্ত যতটি জীবন তার প্রজন্ম থেকে তিনি সৃষ্টি করবেন তার প্রতিটি জীবন ঝরে পড়ল। প্রতিটি মানুষের দুই চোখের মাঝখানে নূরের তিলক পরিয়ে দেন। তারপর তাদেরকে আদমের সামনে তুলে ধরলে তিনি বলেন, তারা কারা? তিনি বলেন, তারা হলো তোমার সন্তান। তিনি তাদের থেকে এক লোককে দেখেন যার চোখের মাঝখানের নূরের তিলকটি তাকে অবিভুত করল। তাই তিনি বললেন, আমার রব! এ লোকটি কে? তিনি বললেন, তোমার সন্তানদের থেকে শেষ উম্মাতসমূহের একজন লোক, যার নাম দাউদ। তিনি বললেন, হে রব, তুমি তার হায়াত কত বছল নির্ধারণ করেছে? বললেন, ষাট বছর। বলল, হে রব! তুমি আমার হায়াত থেকে তাকে চল্লিশ বছর বাড়িয়ে দাও। তারপর যখন আদম আলাইহিস সালামের বয়স শেষ হলো তখন মালাকুল মাওত আসলে তিনি বলেন, আমার হায়াতের চল্লিশ বছর কি এখনো বাকী নয়? সে বলল, তুমি কি তোমার ছেলে দাউদকে তা দিয়ে দাওনি? তিনি বলেন, আদম অস্বীকার করল, তারপর তার সন্তারা অস্বীকার করল। আদম নিজে ভুলে গেল তারপর সন্তানরাও ভুলে গেল। আদম নিজে ভুল করল, তারপর সন্তানরাও ভুল করল।
এটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন।মানসহীহ
ব্যাখ্যা
আল্লাহ তা‘আলা যখন আদম আলাইহিস সালামকে সৃষ্টি করেন, তখন তিনি তার পিঠ মাসেহ করেন। তারপর তার পিঠ থেকে কিয়ামত পর্যন্ত যতটি জীবন তার প্রজন্ম থেকে তিনি সৃষ্টি করবেন, সবাই বের হয়ে আসে। এখান মাসেহ করা এবং বের হওয়া সবই বাস্তব। এমন কোন ব্যাখ্যা করা বৈধ নয় যা তার আসল অর্থ থেকে ফিরিয়ে দেয়। যেমনটি আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা‘আতের মাযহাব। তারপর যখন তিনি তাদেরকে তার পিঠ থেকে বের করেন, প্রতিটি মানুষের দুই চোখের মাঝখানে নূরের আলোতে আলোকিত ও চমকিত তিলক পরিয়ে দেন। তারপর তাদেরকে আদমের সামনে তুলে ধরলে তিনি বলেন, হে রব! তারা কারা? তিনি বলেন, তারা হলো তোমার সন্তান। তিনি তাদের থেকে এক লোককে দেখেন যার চোখের মাঝখানের নূরের তিলকটি তাকে অবিভুত করল। তাই তিনি বললেন, হে আমার রব! এ লোকটি কে? তিনি বললেন, দাউদ। আদম বললেন, হে রব, তুমি তার হায়াত কত বছর নির্ধারণ করেছো? বললেন, ষাট বছর। বলল, হে রব! তুমি আমার হায়াত থেকে তাকে চল্লিশ বছর বাড়িয়ে দাও।
তারপর যখন আদম আলাইহিস সালামের বয়স চল্লিশ বছর বাদ দিয়ে বাকীটা শেষ হলো তখন মালাকুল মাওত তার রুহ কবজ করার জন্য আসলো। তখন আদম বললেন, আমার হায়াতের চল্লিশ বছর এখনো বাকী আছে। সে তাকে বলল, তুমি তা তোমার ছেলে দাউদকে দিয়ে দিয়েছো। তখন আদম তা অস্বীকার করল। কারণ, তিনি ছিলেন রূহ জগতে। মালাকুল মাওতের তার কাছে আসার সময় সে অবস্থাটি তার মনে ছিল না। ফলে তার সন্তানরা তা অস্বীকার করল। আদম নিজে ভুলে গেল তার সন্তানরাও ভুলে গেল। আদম নিজে অবাধ্য হলো, তার সন্তানরাও অবাধ্য হলো। কারণ, সন্তান সাধারণত পিতার মতোই হয়ে থাকে।
দাউদ আলাইহিস সালামের বয়স চল্লিশ বছর নির্ধারিত ছিল। তারপর আল্লাহ তা ষাট বছর করেন। আল্লাহ যা হয়েছিল, যা হবে, যা হয় নাই এবং যদি হয় তা কীভাবে হবে সবই জানেন। তাই তিনিই জানেন যা তিনি তার জন্য নির্ধারণ করেছিলেন এবং পরে যা তিনি তাকে বাড়িয়ে দিয়েছেন। ফিরিশতাগণকে আল্লাহ যা জানান তা ছাড়া তাদের কোন ইলম নাই। কোন বস্তু অস্তিত্বে আসার আগে ও পরে তার সম্পর্কে কেবল আল্লাহই জানেন। এ কারণেই উলামাগণ বলেছেন, মুচে ফেলা এবং বহাল রাখা সবই হলো ফিরিশতাদের দফতরসমূহে। কিন্তু আল্লাহর ইলমের কোন পরিবর্তন হয় না। তার কাছে এমন কোন বিষয় প্রকাশ পায় না যার সম্পর্কে তিনি জ্ঞাত ছিলেন না। তাই তার নিকট কোন রহিত করণ এবং বহাল রাখা নাই।
সূত্র
سنن الترمذي، نشر: شركة مكتبة ومطبعة مصطفى البابي الحلبي – مصر، الطبعة: الثانية، 1395هـ - 1975م.
صحيح الجامع الصغير وزياداته، للألباني، نشر: المكتب الإسلامي.
المصباح المنير في غريب الشرح الكبير، لأحمد بن محمد بن علي الفيومي، الناشر: المكتبة العلمية – بيروت.
مرقاة المفاتيح شرح مشكاة المصابيح، لعلي بن سلطان الملا الهروي القاري، الناشر: دار الفكر، بيروت – لبنان، الطبعة: الأولى، 1422هـ - 2002م.
مجموع الفتاوى، لتقي الدين أحمد بن عبد الحليم بن تيمية الحراني، المحقق: عبد الرحمن بن محمد بن قاسم، الناشر: مجمع الملك فهد لطباعة المصحف الشريف، المدينة النبوية، المملكة العربية السعودية، عام النشر: 1416هـ/1995م.
صفات الله عز وجل الواردة في الكتاب والسنة- علوي بن عبد القادر السَّقَّاف- الناشر: الدرر السنية - دار الهجرة-الطبعة: الثالثة، 1426 هـ - 2006م.
قصص الأنبياء-أبو الفداء إسماعيل بن عمر بن كثير -تحقيق: مصطفى عبد الواحد -الناشر: مطبعة دار التأليف - القاهرة-الطبعة: الأولى، 1388 هـ - 1968 م.
HadeethEnc.com-এ এই হাদীসعن أبي عزة الهذلي رضي الله عنه قال قال رسول الله صلى الله وسلم: «إذا أراد اللهُ قَبْضَ عبد بأرض جعلَ له بها حاجة».
আবূ ‘ইয্যা আল-হুযালী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “আল্লাহ যখন কোন বান্দাকে কোথাও মৃত্যু দান করতে চান তখন সেখানে তার জন্য কোন প্রয়োজন সৃষ্টি করেন।”
এটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন। - এটি আবূ দাঊদ আত-ত্বয়ালিসী বর্ণনা করেছেন। - এটি আহমাদ বর্ণনা করেছেন।মানসহীহ
ব্যাখ্যা
আল্লাহ তা‘আলা যখন তার কোন বান্দাকে কোনো নির্দিষ্ট ভূমিতে মৃত্যু দান করতে চান অথচ সে সেখানে নেই, তখন সেখানে তার জন্য কোন প্রয়োজন সৃষ্টি করেন। যখন সে তার প্রয়োজন পূরণ করতে সেখানে যায় তখন আল্লাহ তা‘আলা সেখানে তার মৃত্যু দান করেন। মহান আল্লাহ বান্দার জন্য যা নির্ধারণ করেন ও যা কিছু তার তাকদীরে লিপিবদ্ধ করেন তা তাঁর নির্ধারিত লেখা অনুযায়ীই সংঘটিত হবে। আর এটিই হচ্ছে আল্লাহর ফয়সালা ও তাকদীরের ওপর ঈমান।
সূত্র
سنن الترمذي، محمد بن عيسى الترمذي، تحقيق وتعليق: أحمد محمد شاكر، ومحمد فؤاد عبد الباقي، وإبراهيم عطوة عوض، شركة مكتبة ومطبعة مصطفى البابي الحلبي، مصر، الطبعة: الثانية، 1395هـ، 1975م.
مسند الإمام أحمد بن حنبل، أحمد بن حنبل أبو عبدالله الشيباني، تحقيق: شعيب الأرنؤوط و عادل مرشد، وآخرون، تحت إشراف: عبد الله بن عبد المحسن التركي، مؤسسة الرسالة، الطبعة: الأولى1421هـ.
مسند أبي داود الطيالسي، أبو داود سليمان بن داود الطيالسي، تحقيق: محمد بن عبد المحسن التركي، الناشر: دار هجر، مصر، الطبعة: الأولى، 1419هـ، 1999م.
سلسلة الأحاديث الصحيحة وشيء من فقهها وفوائدها، محمد ناصر الدين الألباني، مكتبة المعارف للنشر والتوزيع، الرياض، الطبعة الأولى لمكتبة المعارف، 1422هـ.
الصحاح تاج اللغة وصحاح العربية، إسماعيل بن حماد الجوهري الفارابي، تحقيق: أحمد عبد الغفور عطار، دار العلم للملايين، بيروت، الطبعة: الرابعة 1407هـ، 1987م.
فيض القدير شرح الجامع الصغير، زين الدين محمد عبد الرؤوف المناوي، المكتبة التجارية الكبرى، مصر، الطبعة: الأولى 1356هـ.
HadeethEnc.com-এ এই হাদীসعن عمر الجمعي رضي الله عنه : أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «إذا أراد اللهُ بعبدٍ خيرًا استعملَه قبل موتِه» فسأله رجلٌ من القوم: ما استعملَه؟ قال: «يهديه اللهُ عزَّ وجلَّ إلى العمل الصالح قبل موتِه، ثم يقبضه على ذلك».
উমার আল-জাম‘ঈ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে মারফ‘ হিসেবে বর্ণিত: যখন আল্লাহ কোন বান্দার সাথে ভালো ইচ্ছা করেন তখন তার মৃত্যুর পূর্বে তার দ্বারা তা করিয়ে নেন। উপস্থিতদের এক লোক তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, করিয়ে নেওয়ার কি অর্থ? তিনি বললেন, মৃত্যুর পূর্বে আল্লাহ তাকে নেক আমলা করার তৌফিক দেন। তারপর নেক-্আমলের উপর তাকে দুনিয়া থেকে তুলে নেন।
এটি আহমাদ বর্ণনা করেছেন।মানসহীহ
ব্যাখ্যা
যখন আল্লাহ তার কোন বান্দার সাথে ভালোর ইচ্ছা করেন, মারা যাওয়ার আগে আল্লাহ তাকে ভালো আমল করার তাওফীক দেন। ফলে তার ভালো পরিণতি হাসিল হবে এবং সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।
সূত্র
مسند الإمام أحمد بن حنبل، تحقيق: شعيب الأرنؤوط - عادل مرشد، وآخرون، نشر: مؤسسة الرسالة، الطبعة: الأولى، 1421هـ - 2001م.
صحيح الجامع الصغير وزياداته، للألباني، نشر: المكتب الإسلامي.
مرقاة المفاتيح شرح مشكاة المصابيح، لعلي بن سلطان الملا الهروي القاري، الناشر: دار الفكر، بيروت – لبنان، الطبعة: الأولى، 1422هـ - 2002م.
الصحاح تاج اللغة وصحاح العربية, أبو نصر إسماعيل بن حماد الجوهري الفارابي, تحقيق: أحمد عبد الغفور عطار, دار العلم للملايين – بيروت, الطبعة: الرابعة 1407 هـ - 1987 م.
HadeethEnc.com-এ এই হাদীসএখানকার প্রতিটি হাদীস, মান, ব্যাখ্যা ও শিক্ষা HadeethEnc.com যেভাবে প্রকাশ করে হুবহু সেভাবেই দেখানো, তাদের পুনঃপ্রকাশের শর্ত মেনে। মানের সঙ্গে মান-নির্ধারকের নাম নেই। অনুবাদ ও ব্যাখ্যা এর লেখকদের নিজস্ব, এবং কোনো কোনোটিতে বিধান বলা আছে; সাবীলের পর্যালোচকেরা এগুলো যাচাই করেননি। আরবি হাদীসটিই মূল পাঠ। উৎস: HadeethEnc.com