মূল অংশে যান
ব্যাখ্যাসহ হাদীস

রমযানের শেষ দশক

৬টি হাদীস

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম শেষ দশকে এতো পরিশ্রম করতেন যা তিনি অন্য সময় করতেন না।

عَنْ عَائِشَةَ أُمِّ المؤْمِنينَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا: كَانَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَجْتَهِدُ فِي الْعَشْرِ الْأَوَاخِرِ مَا لَا يَجْتَهِدُ فِي غَيْرِهِ.
উম্মুল মু’মিনীন ‘আয়িশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা থেকে বর্ণিত: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম শেষ দশকে এতো পরিশ্রম করতেন যা তিনি অন্য সময় করতেন না।
ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেনমানসহীহ
ব্যাখ্যা

যখন রমজানের শেষ দশ দিন আসত, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইবাদত ও আনুগত্যের জন্য কঠোর পরিশ্রম করতেন এবং কল্যাণমূলক বিভিন্ন কাজ, নেক আমল এবং ইবাদত আঞ্জাম দিয়ে অন্যান্য সময়ের চেয়ে চরম পর্যায়ে যেতেন। এটা হল ঐ রাতগুলোর মাহাত্ম্য ও ফযীলত এবং লাইলাতুল কদর অন্বেষণ করার স্বার্থে ছিল।

শিক্ষা
  1. সাধারণভাবে রমযান মাসে আর বিশেষভাবে তার শেষ দশ দিনে বিভিন্ন প্রকার ইবাদত ও আনুগত্যে উৎসাহ প্রদান করা।
  2. একুশে রমযানের রাত থেকে শেষ দশক শুরু হয় এবং মাসের শেষ পর্যন্ত অব্যাহত থাকে।
  3. ইবাদতের জন্য ফযীলতপূর্ণ সময়গুলোকে লুফে নেওয়া মুস্তাহাব।
সূত্র

صحيح مسلم (2/ 832) (1175). كنوز رياض الصالحين، لمجموعة من الباحثين (14/ 463). نزهة المتقين، لمجموعة من الباحثين (2/ 848). بهجة الناظرين شرح رياض الصالحين، لسليم الهلالي (2/ 339).

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

“যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে সাওয়াব লাভের আশায় লাইলাতুল ক্বদরে রাত জেগে দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করে, তার পূর্ববর্তী গুনাহসমূহ মাফ করে দেয়া হয়।”

عن أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «مَنْ يَقُمْ لَيْلَةَ الْقَدْرِ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ»
আবূ হুরায়রা রদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে সাওয়াব লাভের আশায় লাইলাতুল ক্বদরে রাত জেগে দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করে, তার পূর্ববর্তী গুনাহসমূহ মাফ করে দেয়া হয়।”
সহীহ বুখারী ও মুসলিমমানসহীহ
ব্যাখ্যা

নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম (এ হাদীসে) লাইলাতুল কদরে রাত জেগে সালাত আদায়ের ফযিলত সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন, যা রমযানের শেষ দশকে হয়ে থাকে। তাছাড়া যে ব্যক্তি এ রাতের যেসব ফযিলত রয়েছে সেগুলোর ব্যাপারে বিশ্বাসের সাথে সালাত, দু‘আ, কুরআন তিলাওয়াত ও ‍যিকিরের মাধ্যমে কঠোর প্রচেষ্টায় রত থাকবে এবং এসব আমলের দ্বারা মহান আল্লাহর কাছে প্রতিদান আশা করবে, যেখানে কোন প্রকার রিয়া (লৌকিকতা) ও সুম‘আ (সুনাম) এর প্রত্যাশা থাকবে না, তাহলে তার পূর্ববর্তী গুনাহসমূহ মাফ করে দেয়া হবে।

শিক্ষা
  1. এ হাদীসে লাইলাতুল কদর ও এ রাতে ইবাদতের মধ্যে রাত জাগার ফযিলত বর্ণিত হয়েছে।
  2. বিশুদ্ধ নিয়্যাত ব্যতীত নেক আমলসমূহ কবুল করা হয় না।
  3. মহান আল্লাহর অপরিসীম অনুগ্রহ ও রহমত, যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে সাওয়াব লাভের আশায় লাইলাতুল ক্বদরে রাত জেগে ইবাদত করবে, তার পূর্ববর্তী গুনাহসমূহ মাফ করে দেওয়া হবে।
সূত্র

صحيح البخاري (1/ 16) (35). صحيح مسلم (1/ 523) (760). كنوز رياض الصالحين، لمجموعة من الباحثين (14/ 435). بهجة الناظرين، لسليم الهلالي (2/ 337). نزهة المتقين، (2/ 846). شرح النووي على مسلم (6/ 40). شرح رياض الصالحين، لابن عثيمين (5/ 220). شرح صحيح البخاري، لابن بطال (4/ 21).

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

যারা আমার সঙ্গে ই‘তিকাফ করেছে, তারা যেন শেষ দশকে ই‘তিকাফ করে। কারণ আমাকে স্বপ্নে লাইলাতুল কাদর দেখানো হয়েছিল। পরে আমাকে তা ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। অবশ্য আমি স্বপ্নে দেখতে পেয়েছি যে, ঐ রাতের সকালে আমি কাদা ও পানির মাঝে সাজদাহ করছি। তোমরা তা শেষ দশকে তালাশ কর।

عن أبي سعيد الخُدْري رضي الله عنه : «أن رسول الله صلى الله عليه وسلم كان يَعْتَكِفُ في العَشْرِ الأَوْسَطِ من رمضان. فاعتكف عامًا، حتى إذا كانت لَيْلَةَ إِحْدَى وَعِشْرِينَ -وهي اللَّيْلَةُ التي يخرج من صَبِيحَتِهَا من اعتكافه- قال: من اعتكف معي فَلْيَعْتَكِفِ العَشْرَ الأَوَاخِرَ فقد أُرِيتُ هَذِهِ اللَّيْلَةَ ثم أُنْسِيتُهَا، وقد رَأَيْتُنِي أَسْجُدُ فِي مَاءٍ وَطِينٍ من صَبِيحَتِهَا، فَالْتَمِسُوهَا فِي العَشْرِ الأَوَاخِرِ، والتمسوها في كل وِتْرٍ. فَمَطَرَتِ السَّمَاءُ تلك الليلة، وكان المسجد على عَرِيشٍ، فَوَكَفَ المسجد، فَأبْصَرَتْ عَيْنَايَ رسول الله صلى الله عليه وسلم وعلى جَبْهَتِهِ أَثَرُ المَاءِ وَالطِّين من صُبْحِ إحْدَى وَعشْرِيْنَ».
আবূ সা‘ঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রামাদানের মধ্যম দশকে ই‘তিকাফ করতেন। এক বছর এরূপ ই‘তিকাফ করেন, যখন একুশের রাত আসলো, যে রাতের সকালে তিনি তাঁর ই‘তিকাফ থেকে বের হবেন, তখন বললেন, যারা আমার সঙ্গে ই‘তিকাফ করেছে তারা যেন শেষ দশকে ই‘তিকাফ করে। আমাকে স্বপ্নে লাইলাতুল কাদর দেখানো হয়েছিল। পরে আমাকে তা ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। অবশ্য আমি স্বপ্নে দেখতে পেয়েছি যে, ঐ রাতের সকালে আমি কাদা ও পানির মাঝে সাজদাহ করছি। তোমরা তা শেষ দশকে তালাশ কর এবং প্রত্যেক বেজোড় রাতে তালাশ কর। পরে এই রাতে আকাশ থেকে বৃষ্টি বর্ষিত হলো, মসজিদের ছাদ ছিল খেজুর পাতার ছাউনির। ফলে মসজিদে টপটপ করে বৃষ্টি পড়তে লাগল। তাই একুশের রাতের সকালে আমার দু’চোখ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কপালে কাদা ও পানির চিহ্ন দেখতে পেয়েছে।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।মানসহীহ
ব্যাখ্যা

আবূ সা‘ঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহু সংবাদ দিচ্ছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমযানের মধ্যম দশকে লাইলাতুল কদরের অন্বেষণে ই‘তিকাফ করতেন। তাঁর অভ্যাস অনুযায়ী এক বছর এভাবে ই‘তিকাফ করেন, যখন একুশের রাত আসলো, যে রাতের সকালে তিনি তাঁর ই‘তিকাফ থেকে বের হবেন, তখন তিনি জানতে পারলেন যে, কদরের রাত রামাযানের শেষ দশকে। ফলে তিনি তাঁর সাহাবীগণকে বললেন, যারা আমার সঙ্গে রামাযানের মধ্য দশকে ই‘তিকাফ করেছে তারা যেন তাদের ই‘তিকাফ শেষ দশক পর্যন্ত চালিয়ে যায়। তিনি আরো বলেছেন, আল্লাহ তা‘আলা তাকে স্বপ্নে এলাইলাতুল কাদর দেখিয়েছেন অতঃপর তাঁকে তা ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। অবশ্য তিনি স্বপ্নে সে বছরের লাইলাতুল কদরের রাতে কিছু আলামত দেখেছেন: আর সেসব আলামত হলো, ফজরের সালাতে কাদা ও পানির মাঝে তাঁর সাজদাহ করা। আল্লাহ তাঁর নবীর স্বপ্ন সত্যে পরিণত করেছেন। ফলে একুশে রামাযানের রাতে আকাশ থেকে বৃষ্টি বর্ষিত হলো, মসজিদের ছাদ ছিল খেজুর পাতার ছাউনির। আর খুঁটি ছিলো খেজুরে গাছের। বৃষ্টির ফলে মসজিদে টপটপ করে পানি পড়তে লাগল। ফলে একুশের রাতের সকালে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাদা ও পানিতে সাজদাহ করেছেন। দেখুন, তাইসীরুল আল্লাম, পৃ. ৩৪৯; তান্বীহুল আফহাম, (৩/৪৭২); তা’সীসুল আহকাম (৩/২৯২)।

সূত্র

عمدة الأحكام، تأليف: عبد الغني بن عبد الواحد المقدسي، تحقيق: محمود الأرناؤوط، دار الثقافة العربية ومؤسسة قرطبة، الطبعة الثانية، 1408هـ. تيسير العلام، تأليف: عبد الله بن عبد الرحمن البسام، تحقيق محمد صبحي بن حسن حلاق، مكتبة الصحابة ومكتبة التابعين، الطبعة العاشرة، 1426 هـ. تأسيس الأحكام شرح عمدة الأحكام، تأليف: أحمد بن يحي النجمي: نسخة إلكترونية لا يوجد بها بيانات نشر. تنبيه الأفهام شرح عمدة الإحكام، تأليف: محمد بن صالح العثيمين، مكتبة الصحابة ومكتبة التابعين، الطبعة الأولى: 1426هـ. الإفهام في شرح عمدة الأحكام، للشيخ عبد العزيز بن عبد الله بن باز، تحقيق: سعيد بن علي بن وهف القحطاني، الطبعة الأولى، 1435 هـ خلاصة الكلام على عمدة الأحكام، تأليف: فيصل بن عبد العزيز آل مبارك، الطبعة الثانية، 1412 هـ صحيح البخاري ، تأليف: محمد بن إسماعيل البخاري ، تحقيق: محمد زهير الناصر، الناشر: دار طوق النجاة الطبعة: الأولى، 1422هـ صحيح مسلم ، تأليف: مسلم بن الحجاج النيسابوري، تحقيق: محمد فؤاد عبد الباقي، الناشر: دار إحياء التراث العربي – بيروت.

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

“তোমরা রমাযানের শেষ দশকের বেজোড় রাতে লাইলাতুল কদরের অনুসন্ধান কর”।

عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «تَحَرَّوْا لَيْلَةَ القَدْرِ فِي الوِتْرِ مِنَ العَشْرِ الأَوَاخِرِ مِنْ رَمَضَانَ».
‘আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “তোমরা রমাযানের শেষ দশকের বেজোড় রাতে লাইলাতুল কদরের অনুসন্ধান কর”।
সহীহ বুখারী ও মুসলিমমানসহীহ
ব্যাখ্যা

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মানুষকে অনেক নেক আমল করার জন্য কদরের রাত তালাশ, অন্বেষণ ও অনুসন্ধান করতে কঠোর পরিশ্রমের প্রতি উৎসাহিত করেছেন। এটি প্রতি বছর রমযানের দিনগুলিতে শেষ দশের বেজোড় রাতগুলিতে হওয়ার সম্ভাবনা বেশি, যা হল: একুশতম, তেইশতম, পঁচিশতম, সাতাশতম এবং ঊনত্রিশতম।

শিক্ষা
  1. কদরের রাতের ফযীলত এবং তা অন্বেষণ করার তাগিদ।
  2. আল্লাহর প্রজ্ঞা ও করুণায় এই রাতকে গোপন রেখেছেন যাতে মানুষ ইবাদতের জন্য এটির সন্ধান করে প্রচেষ্টা করে এবং তাদের সাওয়াব বৃদ্ধি পায়।
  3. রমযানের শেষ দশ দিনে কদরের রাতটি আসে এবং বেজোড় রাতে এটি হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
  4. লাইলাতুল কদর রমযানের শেষ দশ রাতের একটি। এটি সেই রাত যে রাতে আল্লাহ তায়ালা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উপর কুরআন নাযিল করেছেন। তিনি বরকত, সম্মান এবং নেক আমলের প্রভাব বিবেচনায় এই রাতকে হাজার মাসের চেয়েও উত্তম করেছেন।
  5. এই রাতকে (লাইলাতুল কদর) দালের উপর সুকুন দিয়ে, নামকরণ করা হয়েছে, হয় সম্মানের জন্য, যেমন বলা হয়: فلان عظيم القدر (অমুক ব্যক্তি মহান মর্যাদার অধিকারী), তাই আজীম শব্দের সাথে লায়লা যোগ করা হল বস্তুকে তার সিফাতের সাথে যোগ করার শ্রেণীভুক্ত হবে। অর্থ সম্মানিত রাত, অর্থাৎ এটি সম্মান, মহিমা এবং মর্যাদা ইত্যাদির দিক থেকে মহান। “নিশ্চয়ই, আমরা এটিকে একটি বরকতময় রাতে অবতীর্ণ করেছি”। [আদ-দুখান: ৩], অথবা التقدير (নির্ধারণ) থেকে: তখন তার সাথে রাত যোগ করা হলে পাত্রকে তার অন্তর্ভুক্ত জিনিসের সাথে সংযোজন করার অর্থ হবে। অর্থাৎ এই রাতে বছরের ঘটনাবলী নির্ধারণ করা হয়, {এতে প্রতিটি জ্ঞানগর্ভ বিষয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়} [আদ-দুখান: ৪]।
সূত্র

صحيح البخاري (3/ 46) (2017). صحيح مسلم (2/ 828) (1169). تيسير العلام، لعبد الله البسام (ص347). تنبيه الأفهام شرح عمدة الأحكام، لابن عثيمين (3/ 470).

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

“আমি দেখছি শেষ সাত রাতে তোমাদের স্বপ্নগুলো মিলে গেছে। অতএব, যে ব্যক্তি এর সন্ধান প্রত্যাশী, সে যেন শেষ সাত রাতে তা সন্ধান করে।”

عَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا: أَنَّ رِجَالًا مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أُرُوا لَيْلَةَ القَدْرِ فِي المَنَامِ فِي السَّبْعِ الأَوَاخِرِ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَرَى رُؤْيَاكُمْ قَدْ تَوَاطَأَتْ فِي السَّبْعِ الأَوَاخِرِ، فَمَنْ كَانَ مُتَحَرِّيهَا فَلْيَتَحَرَّهَا فِي السَّبْعِ الأَوَاخِرِ».
ইবনু উমার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা থেকে বর্ণিত: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কতিপয় সহাবীকে স্বপ্নের মাধ্যমে রমযানের শেষের সাত রাত্রে লাইলাতুল ক্বদর দেখানো হয়। এ শুনে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: “আমি দেখছি শেষ সাত রাতে তোমাদের স্বপ্নগুলো মিলে গেছে। অতএব, যে ব্যক্তি এর সন্ধান প্রত্যাশী, সে যেন শেষ সাত রাতে তা সন্ধান করে।”
সহীহ বুখারী ও মুসলিমমানসহীহ
ব্যাখ্যা

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কিছু সাহাবী স্বপ্নে দেখেছেন যে, রমযানের শেষ সাত রাতে কদরের রাত হবে। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: আমি দেখতে পাচ্ছি যে রমজানের শেষ সাত দিনে তোমাদের স্বপ্নগুলি মিলে গেছে। সুতরাং যে ব্যক্তি এটি পাওয়ার ইচ্ছা করে এবং তা অনুসন্ধান করতে আগ্রহী, সে যেন অনেক নেক আমল করার উদ্দেশ্যে এটি অন্বেষণ ও অনুসন্ধান করার চেষ্টা করে। কারণ এটি শেষ সাতে হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। যদি রমযান ত্রিশ দিনের হয় তবে এটি চব্বিশ তারিখের রাতে শুরু হয়। আর যদি রমযান ঊনত্রিশ দিনের হয়, তবে এটি তেইশ তারিখ থেকে শুরু হয়।

শিক্ষা
  1. কদরের রাতের ফযীলত এবং তা অন্বেষণ করার প্রতি উৎসাহ প্রদান।
  2. আল্লাহর প্রজ্ঞা ও করুণায় এই রাতকে গোপন রেখেছেন যাতে মানুষ ইবাদতের জন্য এটির সন্ধানে চেষ্টা করে এবং তাদের সাওয়াব বৃদ্ধি পায়।
  3. রমযানের শেষ দশে কদরের রাতটি রয়েছে এবং শেষ সাত রাতে এটি হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
  4. লাইলাতুল কদর রমযানের শেষ দশ রাতের একটি। এটি সেই রাত যে রাতে আল্লাহ তায়ালা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উপর কুরআন নাযিল করেছেন। তিনি বরকত, সম্মান এবং নেক আমলের প্রভাব বিবেচনায় এই রাতকে হাজার মাসের চেয়েও উত্তম করেছেন।
  5. এই রাতকে (লাইলাতুল কদর) দালের উপর সুকুন দিয়ে, নামকরণ করা হয়েছে, হয় সম্মানের জন্য, যেমন বলা হয়:فلان عظيم القدر (অমুক ব্যক্তি মহান মর্যাদার অধিকারী), তাই আজীম শব্দের সাথে লায়লা যোগ করা হল বস্তুকে তার সিফাতের সাথে যোগ করার শ্রেণীভুক্ত হবে। অর্থ সম্মানিত রাত, অর্থাৎ এটি সম্মান, মহিমা এবং মর্যাদা ইত্যাদির দিক থেকে মহান। “নিশ্চয়ই, আমরা এটিকে একটি বরকতময় রাতে অবতীর্ণ করেছি”। [আদ-দুখান: ৩], অথবা التقدير (নির্ধারণ) থেকে: তখন তার সাথে রাত যোগ করা হলে পাত্রকে তার অন্তর্ভুক্ত জিনিসের সাথে সংযোজন করার অর্থ হবে। অর্থাৎ এই রাতে বছরের ঘটনাবলী নির্ধারণ করা হয়, {এতে প্রতিটি জ্ঞানগর্ভ বিষয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়} [আদ-দুখান: ৪]।
সূত্র

صحيح البخاري (3/ 46) (2015). صحيح مسلم (2/ 822) (1165). تنبيه الأفهام شرح عمدة الأحكام، لابن عثيمين (3/ 467). تيسير العلام شرح عمدة الأحكام، لعبد الله البسام (ص347).

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

যখন রমযানের শেষ দশক প্রবেশ করত, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতে নিজে জাগতেন, নিজ পরিজনদেরকেও জাগাতেন, কঠোর পরিশ্রম করতেন এবং লুঙ্গি বেঁধে নিতেন।

عَنْ عَائِشَةَ أُمِّ المُؤْمِنينَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا قَالَتْ: كَانَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا دَخَلَ الْعَشْرُ أَحْيَا اللَّيْلَ، وَأَيْقَظَ أَهْلَهُ، وَجَدَّ وَشَدَّ الْمِئْزَرَ.
উম্মুল মু’মিনীন ‘আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: যখন রমযানের শেষ দশক প্রবেশ করত, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতে নিজে জাগতেন, নিজ পরিজনদেরকেও জাগাতেন, কঠোর পরিশ্রম করতেন এবং লুঙ্গি বেঁধে নিতেন।
সহীহ বুখারী ও মুসলিমমানসহীহ
ব্যাখ্যা

যখন রমযানের শেষ দশ রাত প্রবেশ করত তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজে সারা রাত সকল প্রকার ইবাদতের মাধ্যমে জেগে থাকতেন, নিজ পরিবার পরিজনদেরকেও সালাতের জন্য জাগাতেন, ইবাদতে তাঁর স্বভাবের চেয়ে বেশী কঠোর পরিশ্রম করতেন। এর জন্যই ফারিগ হতেন এবং স্ত্রী সংসর্গ বর্জন করতেন।

শিক্ষা
  1. মানুষকে সৎকর্ম করে পুণ্যময় সময়গুলোকে কাজে লাগাতে উৎসাহিত করা।
  2. আন-নওয়াবী বলেন: এই হাদিসে: রমজানের শেষ দশ দিনে ইবাদত বৃদ্ধি করা ও এর রাতগুলিকে ইবাদতের মাধ্যমে জীবিত করা মুস্তাহাব প্রমাণিত হয়।
  3. বান্দার উচিত তার পরিবারকে ইবাদতের নির্দেশ দিতে আগ্রহী হওয়া এবং তাদের উপর ধৈর্য ধরা।
  4. ভালো কাজ করার জন্য প্রয়োজন দৃঢ় সংকল্প, ধৈর্য এবং অধ্যবসায়।
  5. আন-নওয়াবী বলেন: "লুঙ্গি শক্ত করা" এর অর্থ সম্পর্কে আলিমদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। কেউ বলেছেন: এটি হল অন্যান্য মাসে তার অভ্যাসের বেশী ইবাদতের প্রচেষ্টা করা। এর অর্থ: ইবাদতের জন্য হাতের আস্তিন গুটিয়ে নেওয়া। বলা হয়: আমি এই কাজের জন্য আমার কোমর শক্ত করে বেঁধেছি। অর্থাৎ: আমি তার জন্য আমার হাত গুটিয়ে নিলাম এবং নিজেকে তার জন্য উৎসর্গ করলাম। কেউ বলেছেন: এটি ইবাদতের জন্য নারীদের থেকে নিজেকে বিচ্ছিন্ন করার একটি ইঙ্গিত।
সূত্র

صحيح البخاري (3/ 47) (2024). صحيح مسلم (2/ 832) (1174). نزهة المتقين شرح رياض الصالحين، لمجموعة من الباحثين (1/ 132). بهجة الناظرين شرح رياض الصالحين، لسليم الهلالي (1/ 181).

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

এখানকার প্রতিটি হাদীস, মান, ব্যাখ্যা ও শিক্ষা HadeethEnc.com যেভাবে প্রকাশ করে হুবহু সেভাবেই দেখানো, তাদের পুনঃপ্রকাশের শর্ত মেনে। মানের সঙ্গে মান-নির্ধারকের নাম নেই। অনুবাদ ও ব্যাখ্যা এর লেখকদের নিজস্ব, এবং কোনো কোনোটিতে বিধান বলা আছে; সাবীলের পর্যালোচকেরা এগুলো যাচাই করেননি। আরবি হাদীসটিই মূল পাঠ। উৎস: HadeethEnc.com