মূল অংশে যান
ব্যাখ্যাসহ হাদীস

কবর যিয়ারত

৩টি হাদীস

জানাযার পশ্চাদানুগমণ করতে আমাদের নিষেধ করা হয়েছে, তবে আমাদের উপর কড়াকড়ি আরোপ করা হয়নি।

عَنْ أُمِّ عَطِيَّةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا قَالَتْ: نُهِينَا عَنِ اتِّبَاعِ الجَنَائِزِ، وَلَمْ يُعْزَمْ عَلَيْنَا.
উম্মু আতিয়্যাহ্ রাদিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, জানাযার পশ্চাদানুগমণ করতে আমাদের নিষেধ করা হয়েছে, তবে আমাদের উপর কড়াকড়ি আরোপ করা হয়নি।
সহীহ বুখারী ও মুসলিমমানসহীহ
ব্যাখ্যা

উম্মে আতিয়াহ আল-আনসারিয়াহ রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম মহিলাদেরকে জানাযার সাথে হাঁটতে নিষেধ করেছেন। এর কারণ হলো তাদের মধ্যে এবং তাদের মাধ্যমে ফিতনার ভয় এবং তাদের ধৈর্যের অভাব। তারপর তিনি রাদিয়াল্লাহু আনহা আমাদের জানান যে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম অন্যান্য নিষেধাজ্ঞার মতো নিষেধ করার ওপর জোর দেননি।

শিক্ষা
  1. নারীদের জানাযায় অংশ নেওয়া নিষিদ্ধ। এই অংশ নেওয়া যেখানে জানাযা প্রস্তুত করা হয় ও সালাত আদায় করা হয় এবং যেখানে তাদের সমাহিত করা হয় সেই কবরস্থানসহ সব কিছুকে শামিল করে।
  2. এই নিষেধাজ্ঞার কারণ হলো, নারীরা এই ধরনের দুঃখজনক দৃশ্য এবং মর্মস্পর্শী পরিস্থিতি সহ্য করতে পারে না। সম্ভবত তাদের কাছ থেকে অসন্তুষ্টি এবং অধৈর্যতা প্রকাশ পাবে যা ওয়াজিব ধৈর্যের পরিপন্থী।
  3. নিষেধাজ্ঞার মূলনীতি হলো হারাম হওয়া, তবে উম্মে আতিয়াহ রাদিয়াল্লাহু আনহা অবস্থার প্রেক্ষাপট থেকে বুঝতে পেরেছিলেন যে জানাযা অনুসরণ না করার নিষেধাজ্ঞা চূড়ান্ত এবং নিশ্চিত পর্যায়ের ছিল না। তবে, এমন কিছু হাদীস আছে যা এই হাদীসের চেয়ে কঠিনভাবে জানাযা অনুসরণ না করার অর্থ প্রদান করে।
সূত্র

صحيح البخاري (2/ 78) (1278). صحيح مسلم (2/ 646) (938). تيسير العلام شرح عمدة الأحكام، لعبد الله البسام (ص285). تنبيه الأفهام شرح عمدة الأحكام، لابن عثيمين (2/ 366).

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

“ইয়াহুদী ও খৃস্টানদের ওপর আল্লাহর অভিসম্পাত, তারা তাদের নবীদের সমাধিসমূহকে উপাসনালয়ে পরিণত করেছে।’’

عَنْ عَائِشَةَ أُمِّ المؤْمنينَ رَضيَ اللهُ عنها قَالَتْ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي مَرَضِهِ الَّذِي لَمْ يَقُمْ مِنْهُ: «لَعَنَ اللهُ الْيَهُودَ وَالنَّصَارَى، اتَّخَذُوا قُبُورَ أَنْبِيَائِهِمْ مَسَاجِدَ» قَالَتْ: فَلَوْلَا ذَاكَ أُبْرِزَ قَبْرُهُ، غَيْرَ أَنَّهُ خُشِيَ أَنْ يُتَّخَذَ مَسْجِدًا.
উম্মুল মুমেনিন ’আয়িশাহ্ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা সূত্রে বর্ণিত; তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে অসুস্থতা থেকে আর সুস্থ হয়ে উঠেননি, সে অসুস্থতা অবস্থায় বলেছেন: “ইয়াহুদী ও খৃস্টানদের ওপর আল্লাহর অভিসম্পাত, তারা তাদের নবীদের সমাধিসমূহকে উপাসনালয়ে পরিণত করেছে।’’ আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা বলেন: এরূপ প্রথা যদি না থাকত তবে তাঁর কবরকেও খোলা রাখা হতো। তবে তিনি আশঙ্কা করছিলেন যে, তার কবরকেও মসজিদ (সিজদার স্থান) বানানো হতে পারে।
সহীহ বুখারী ও মুসলিমমানসহীহ
ব্যাখ্যা

উম্মুল মুমিনীন আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সেই অসুস্থতার সময়ে, যাতে তাঁর অবস্থা গুরুতর হয়ে পড়েছিল এবং তিনি ইন্তেকাল করেছিলেন, বলেছেন: আল্লাহ ইহুদি ও নাসারাদের লানত করেছেন এবং তাঁর রহমত থেকে বিতাড়িত করেছেন। কারণ তারা তাদের নবীদের কবরকে মসজিদ বানিয়েছে, যেমন তার উপর ঘর নির্মাণ করা, কবরের কাছে বা কবরের দিকে ফিরে নামাজ পড়া। তারপর তিনি (আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা) বলেছেন: যদি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই নিষেধ ও সতর্কবাণী এবং সাহাবায়ে কেরামের এই আশঙ্কা না থাকত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কবরের সাথে ইহুদি ও নাসারাদের মতো আচরণ করা হবে, তাহলে তাঁর কবরকে বিশেষভাবে প্রকাশিত করা হত।

শিক্ষা
  1. এটি তাঁর শেষ উপদেশগুলোর মধ্যে একটি, যা এর বিশেষত্ব এবং গুরুত্বের প্রতি ইঙ্গিত করে।
  2. কবরকে মসজিদ বানানো এবং জানাযার নামাজ ছাড়া কবরের কাছে নামাজ পড়ার উদ্দেশ্যে যাওয়া কঠোরভাবে নিষিদ্ধ এবং হারাম। কারণ, এটি মৃত ব্যক্তিকে অতি সম্মান করা, তার কবর প্রদক্ষিণ করা, তার কোণগুলিতে হাত বুলানো এবং তার নামে ডাকার দিকে নিয়ে যায়। আর এসবই শিরক এবং এর মাধ্যম।
  3. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাওহীদের প্রতি অত্যন্ত গুরুত্ব দিতেন এবং কবরগুলোকে অতি সম্মান করার ব্যাপারে সতর্ক থাকতেন; কারণ এটি শিরকের দিকে নিয়ে যায়।
  4. আল্লাহ তা‘আলা তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তাঁর কবরের কাছে শিরক করা থেকে রক্ষা করেছেন। তাই তিনি তাঁর সাহাবাগণ এবং পরবর্তীদেরকে তাঁর কবরকে বিশেষভাবে প্রকাশিত করা থেকে সংরক্ষিত রাখার জন্য অনুপ্রাণিত করেছেন।
  5. সাহাবীরা রাদিয়াল্লাহু আনহুম নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উপদেশ অনুযায়ী কাজ করেছিলেন এবং তারা তাওহিদে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ ছিলেন।
  6. ইহুদী ও খ্রিষ্টানদের অনুকরণ করতে নিষেধ করা হয়েছে, এবং কবরের উপরে নির্মাণ করা তাদের রীতির মধ্যে একটি।
  7. কবরকে মসজিদ বানানো এবং কবরের কাছে বা কবরের দিকে ফিরে নামাজ পড়া, এমনকি যদি সেখানে মসজিদ নির্মাণ না করা হয় তবুও তা নিষিদ্ধ।
সূত্র

صحيح البخاري (2/ 102) (1390). صحيح مسلم (1/ 376) (529). تيسير العلام شرح عمدة الأحكام، لعبد الله البسام (ص292). تنبيه الأفهام شرح عمدة الأحكام، لابن عثيمين (2/ 376). الإلمام بشرح عمدة الأحكام، لإسماعيل الأنصاري (1/ 236).

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

বলো: মু’মিন ও মুসলিম কবরবাসিগণ তোমাদের ওপর সালাম ! আল্লাহ তা‘আলা আমাদের পূর্বের এবং পরবর্তীদের প্রতি দয়া করুন। যদি আল্লাহ চান তাহলে আমরাও তোমাদের সঙ্গে অচীরেই মিলিত হব।

عن عائشة رضي الله عنها قالت: ألا أُحَدِّثكم عنِّي وعن رسول الله صلى الله عليه وسلم قلنا: بلى، قال: قالت: لمَّا كانت ليلتي التي كان النبيُّ صلى الله عليه وسلم فيها عندي، انقلب فوضعَ رداءه، وخلع نعلَيْه، فوضعهما عند رجليه، وبسط طرفَ إزاره على فراشه، فاضطجع، فلم يلبث إلا رَيْثما ظنَّ أن قد رقدتُ، فأخذ رداءه رُوَيْدًا، وانتعل رُوَيْدًا، وفتح الباب فخرج، ثم أجافه رُوَيْدًا، فجعلتُ دِرْعي في رأسي، واختمرتُ، وتَقنَّعتُ إزاري، ثم انطلقتُ على إثره، حتى جاء البَقِيعَ فقام، فأطال القيام، ثم رفع يديه ثلاث مرات، ثم انحرف فانحرفتُ، فأسرع فأسرعت، فهَرْول فهرولتُ، فأحضر فأحضرت، فسبقتُه فدخلت، فليس إلا أن اضطجعتُ فدخل، فقال: «ما لك؟ يا عائشُ، حَشْيا رابِية» قالت: قلت: لا شيء، قال: «تُخْبِرِينِي أَو لَيُخْبِرَنِّي اللطيفُ الخبير» قالت: قلت: يا رسول الله، بأبي أنت وأمي، فأخبرته، قال: «فأنتِ السواد الذي رأيتُ أمامي؟» قلت: نعم، فلَهَدَني في صدري لَهْدةً أوجعتني، ثم قال: «أظننتِ أنْ يَحِيفَ اللهُ عليك ورسولُه؟» قالت: مَهْما يكتمِ الناسُ يعلمه الله، قال: «نعم، فإن جبريلَ أتاني حين رأيتِ، فناداني، فأخفاه منك، فأجبتُه، فأخفيته منك، ولم يكن يدخل عليك وقد وضعتِ ثيابك، وظننت أن قد رقدت، فكرهتُ أن أوقظَك، وخشيتُ أن تستوحشي، فقال: إنَّ ربَّك يأمركَ أن تأتيَ أهلَ البَقِيع فتستغفر لهم»، قالت: قلت: كيف أقول لهم يا رسول الله؟ قال «قولي: السلامُ على أهل الدِّيار من المؤمنين والمسلمين، ويرحمُ اللهُ المستقدمين منا والمستأخرين، وإنَّا إن شاء الله بكم للاحِقون».
আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি কি তোমাদেরকে আমার ও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পক্ষ থেকে হাদীস বর্ণনা করব না। আমরা বললাম হ্যাঁ। সে বলল, তিনি (আয়েশা) বলেন, যে রাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার কাছে থাকতো, সে রাত আসলে তিনি ঘরে আসলেন এবং চাদর ও জুতা খুলে পায়ের সামনে রাখলেন। আর চাদরের এক পাশকে তিনি বিছানার ওপর বিছিয়ে শুয়ে পড়লেন। তারপর আমি ঘুমিয়ে পড়েছি এ ধারণা হওয়া পর্যন্ত তিনি অবস্থান করলেন। তারপর তিনি খুব ধীরে ধীরে চাদর নিলেন, খুব ধীরে ধীরে জুতা পরিধান করলেন এবং দরজা খুলে বের হয়ে পড়লেন। তারপর খুব ধীরে তিনি দরজা বন্ধ করলেন। তারপর আমি আমার জামাকে মাথায় রাখলাম, উড়না ও পায়জামা পরলাম এবং তার পিছনে পিছনে চলতে লাগলাম। এরপর তিনি বাকীতে এসে দীর্ঘ সময় দাঁড়ালেন, দুইহাতকে তিনবার উঠালেন। তারপর তিনি ফিরলেন আমিও ফিরলাম। তাড়াতাড়ি করলে আমিও তাড়াতাড়ি করতাম এবং স্বাভাবিক চললে আমিও স্বাভাবিক চলতাম। আমি তার আগেই ঘরে প্রবেশ করলাম এবং শুয়ে পড়লাম। তারপর তিনি প্রবেশ করে বলেলেন, হে আয়েশা! তোমার কি হয়েছে? তুমি বড় আওয়াজে নিশ্বাস ত্যাগ করছ? তিনি বলেন, আমি বললাম, না, কিছুই হয়নি। তিনি বললেন, তুমি জানাবে নাকি আমাকে দয়ালু সংবাদদাতা জানাবেন? তিনি বলেন, আমি বললাম হে আল্লাহর রাসূল! আপনার ওপর আমার মা বাবা কুরবান হোক। তারপর সে বিষয়টি তাকে অবগত করেন। তিনি বললেন, তুমিই কি সেই কালো বস্তু যা আমি আমার সামনে দেখতে পেলাম। আমি বললাম হ্যাঁ। তারপর তিনি আমার সীনায় স্বীয় হাত দ্বারা একটি আঘাত করলেন যাতে আমি ব্যথা পেলাম এবং বললেন, তুমি কি ধারণা করছ যে, আল্লাহ ও তার রাসূল তোমার ওপর কোন অন্যায় করবে? তিনি বললেন, হ্যাঁ, মানুষ যাই গোপন করুক আল্লাহ তা অবশ্যই জানে। তিনি বললেন, তুমি যখন আমাকে উঠে যেতে দেখলে তখন জিবরীল আমার কাছে আসল এবং তোমাকে না-জানিয়ে আমাকে গোপনে ডাক দিল। আমি গোপনে তোমাকে না জানিয়ে তার ডাকে সাড়া দিলাম। সে তোমার কাছে আসতে চাইল না কারণ তুমি কাপড় খুলে ফেলছ। আর আমি ধারণা করছিলাম যে তুমি ঘুমিয়ে পড়ছ। তাই তোমাকে জাগানো ভালো মনে করলাম না এবং আশঙ্কা করলাম তুমি একাকিত্ব বোধ করবে। তিনি বললেন, তোমার রব তোমাকে নির্দেশ দিচ্ছে যে, তুমি যেন বাকীবাসীদের নিকট যাও এবং তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করো। আমি বললাম, তাহলে আমি তাদের কীভাবে ক্ষমা চাইবো? তিনি বলেন, তুমি বল, মু’মিন ও মুসলিম কবরবাসিগণ তোমাদের ওপর সালাম ! আল্লাহ তা‘আলা আমাদের পূর্বের এবং পরবর্তীদের প্রতি দয়া করুন। যদি আল্লাহ চান তাহলে আমরাও তোমাদের সঙ্গে অচীরেই মিলিত হব।
এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।মানসহীহ
ব্যাখ্যা

উম্মুল মু’মিনীন আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা তার মাঝে ও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মাঝে সংঘটিত একটি ঘটনা বর্ণনা করেন। ঘটনাটি ঘটেছিল যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ওয়াসাল্লাম তার রাতে ও তার কাছে ছিলেন। তিনি স্বীয় বিছানায় এসে স্বীয় চাদর রাখেন, জুতা খুলেন এবং উভয়টিকে পায়ের পাশে রাখেন। যখন এ ধারণা হলো যে, আমি ঘুমিয়ে পড়েছি, তিনি আমাকে সতর্ক করা ছাড়া খুব ধীরে ধীরে স্বীয় চাদরটি নিলেন, খু্ব আস্তে জুতা পরলেন এবং দরজা খুলে বের হয়ে পড়লেন। তারপর খুব ধীরে দরজাটি বন্ধ করলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ কর্মটি এ জন্য করলেন, যাতে তিনি তাকে না জাগিয়ে বের হন। কারণ, রাতের অন্ধকারে তাকে একা ছাড়লে সে ভয় পেতে পারে। তারপর আয়েশা স্বীয় কাপড় ও উড়না পরলেন এবং তার পিছনে পিছনে চলতে লাগলেন, এমনকি তিনি বাকীতে এসে দাঁড়ালেন। এটি মদীনার কবরস্থান। তিনি দাড়ালেন এবং দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলেন। তারপর তিনি দোআয় দুইহাতকে তিনবার উঠালেন। তারপর তিনি স্বীয় ঘরে ফিরার জন্য ঘুরলেন আয়েশাও খুব দ্রুত ঘুরল। তারপর তিনি দ্রুত হাঁটলেন সেও দ্রুত হাঁটল এবং তিনি স্বাভাবিক চললেন সেও স্বাভাবিক চলল। আমি তার আগেই ঘরে প্রবেশ করলাম এবং শুয়ে পড়লাম। তারপর তিনি প্রবেশ করে বলেলেন, হে আয়েশা! তোমার কি হয়েছে? তুমি বড় আওয়াজে নিশ্বাস ত্যাগ করছ? অর্থাৎ তুমি হাঁপাচ্ছো। দ্রুত হাঁটা বা চিৎকার করে কথা বলার কারণে একজন মানুষের মধ্যে যে হাঁপানি-ধারাবাহিক ও বড় বড় নিশ্বাস ত্যাগ ইত্যাদি সৃষ্টি হয় তাই এখানে উদ্দেশ্য। ‘রাবিয়াহ’ অর্থ উঁচু পেট। তিনি বললেন,না, আমার কিছুই হয়নি। তিনি বললেন, তুমি জানাবে নাকি আমাকে দয়ালু সংবাদদাতা জানাবেন? তারপর তিনি সংঘটিত বিষয়টি তাকে জানালেন। তিনি বললেন, তুমিই কি সেই ব্যক্তি যাকে আমি আমার সামনে দেখতে পেলাম। আমি বললাম হ্যাঁ। তারপর তিনি তার সীনায় স্বীয় হাত দ্বারা আঘাত করলেন যাতে সে ব্যথা পেল এবং বললেন, তুমি কি ধারণা করছ যে, আল্লাহ ও তার রাসূল তোমার ওপর কোন অন্যায় করবে? অর্থাৎ যে রাত্রিটি তোমার জন্য নির্ধারিত সে রাতে আমি আমার অন্য কোনো স্ত্রীর কাছে যাব? তিনি বললেন, হ্যাঁ, মানুষ যাই গোপন করুন আল্লাহ তা জানেন। অর্থাৎ, মানুষ যাই গোপন করুক না কেন তা কি আল্লাহ জানে না। কেমন যেন তিনি যখন এ কথা বললেন, তখন নিজের নফসের প্রতি সমর্থন জানিয়ে বললেন: হ্যাঁ। তারপর তিনি তাকে জানালেন, জিবরীল আমার কাছে আসল তবে ভিতরে প্রবেশ করেনি। কারণ, আয়েশো কাপড় খুলে ফেলছে এবং ঘুমের জন্য প্রস্তুতি নিয়েছে। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ধারণা করল যে সে ঘুমিয়ে পড়েছে। তাকে জাগানো ভালো মনে করল না যাতে সে রাতের অন্ধকারে একা ভয় না পায় সে জন্য। জিবরীল তাকে বললেন, তোমার রব তোমাকে নির্দেশ দিচ্ছে যে, তুমি যেন বাকীবাসীদের নিকট যাও এবং তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আদেশ পালনার্থে বাকী কবরবাসীদের কাছে আসলেন এবং তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থণা করলেন। আয়েশা বলেন, তাহলে আমি তাদের জন্য কীভাবে ক্ষমা চাইবো? তিনি বলেন, তুমি বল, মু’মিন ও মুসলিম কবরবাসিগণ তোমাদের ওপর সালাম ! আল্লাহ তা‘আলা আমাদের পূর্বের এবং পরবর্তীদের প্রতি দয়া করুন। যদি আল্লাহ চান তাহলে আমরাও তোমাদের সঙ্গে অচীরেই মিলিত হব”।

সূত্র

صحيح مسلم، تحقيق: محمد فؤاد عبد الباقي، نشر: دار إحياء التراث العربي – بيروت. المنهاج شرح صحيح مسلم بن الحجاج، للنووي، نشر: دار إحياء التراث العربي – بيروت، الطبعة: الثانية، 1392هـ. مختار الصحاح، لزين الدين أبو عبد الله، الحنفي الرازي، تحقيق: يوسف الشيخ محمد، نشر: المكتبة العصرية - الدار النموذجية، بيروت – صيدا، الطبعة: الخامسة، 1420هـ / 1999م. إكمال المعلم بفوائد مسلم لعياض بن موسى اليحصبي السبتي، المحقق: الدكتور يحيى إسماعيل، الناشر: دار الوفاء للطباعة والنشر والتوزيع، مصر، الطبعة: الأولى، 1419 هـ - 1998م. معجم اللغة العربية المعاصرة، للدكتور أحمد مختار عبد الحميد عمر بمساعدة فريق عمل، الناشر: عالم الكتب، الطبعة: الأولى، 1429 هـ - 2008 م. القول المفيد على كتاب التوحيد- العثيمين- دار ابن الجوزي، المملكة العربية السعودية- الطبعة: الثانية, محرم 1424هـ. فقه الأسماء الحسنى -عبد الرزاق العباد -دار التوحيد -الرياض-الطبعة الأولى -1429. تاج العروس من جواهر القاموس- محمّد مرتضى، الزَّبيدي -المحقق: مجموعة من المحققين- الناشر: دار الهداية.

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

এখানকার প্রতিটি হাদীস, মান, ব্যাখ্যা ও শিক্ষা HadeethEnc.com যেভাবে প্রকাশ করে হুবহু সেভাবেই দেখানো, তাদের পুনঃপ্রকাশের শর্ত মেনে। মানের সঙ্গে মান-নির্ধারকের নাম নেই। অনুবাদ ও ব্যাখ্যা এর লেখকদের নিজস্ব, এবং কোনো কোনোটিতে বিধান বলা আছে; সাবীলের পর্যালোচকেরা এগুলো যাচাই করেননি। আরবি হাদীসটিই মূল পাঠ। উৎস: HadeethEnc.com