মূল অংশে যান
ব্যাখ্যাসহ হাদীস

সালাতের ফযীলত

১৬টি হাদীস

কে প্রশ্ন করলাম,আল্লাহর নিকট কোন আমলটি সর্বাধিক প্রিয়?’ তিনি বললেন, “যথা সময়ে সালাত আদায় করা।” আমি আবার জিজ্ঞেস করলাম, ’তারপর কোনটি?’ তিনি বললেন, “পিতামাতার সাথে সদ্ব্যবহার করা।” আমি আবার জিজ্ঞেস করলাম, ’তারপর কোনটি?’ তিনি বললেন, “আল্লাহর পথে জিহাদ করা।

عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بِن مَسْعُودٍ رضي الله عنه قَالَ: سَأَلْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: أَيُّ العَمَلِ أَحَبُّ إِلَى اللَّهِ؟ قَالَ: «الصَّلاَةُ عَلَى وَقْتِهَا»، قَالَ: ثُمَّ أَيٌّ؟ قَالَ: «ثُمَّ بِرُّ الوَالِدَيْنِ» قَالَ: ثُمَّ أَيٌّ؟ قَالَ: «الجِهَادُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ» قَالَ: حَدَّثَنِي بِهِنَّ، وَلَوِ اسْتَزَدْتُهُ لَزَادَنِي.
আব্দুল্লাহ ইবন মাস‘ঊদ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: سَأَلْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: أَيُّ العَمَلِ أَحَبُّ إِلَى اللَّهِ؟ قَالَ: «الصَّلاَةُ عَلَى وَقْتِهَا»، قَالَ: ثُمَّ أَيٌّ؟ قَالَ: «ثُمَّ بِرُّ الوَالِدَيْنِ» قَالَ: ثُمَّ أَيٌّ؟ قَالَ: «الجِهَادُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ» قَالَ: حَدَّثَنِي بِهِنَّ، وَلَوِ اسْتَزَدْتُهُ لَزَادَنِي. ‘আমি নবী কে প্রশ্ন করলাম,আল্লাহর নিকট কোন আমলটি সর্বাধিক প্রিয়?’ তিনি বললেন, “যথা সময়ে সালাত আদায় করা।” আমি আবার জিজ্ঞেস করলাম, ’তারপর কোনটি?’ তিনি বললেন, “পিতামাতার সাথে সদ্ব্যবহার করা।” আমি আবার জিজ্ঞেস করলাম, ’তারপর কোনটি?’ তিনি বললেন, “আল্লাহর পথে জিহাদ করা। তিনি বলেন, এতটুকু তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বলেছেন। যদি আমি আরো জিজ্ঞেস করতাম তাহলে তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে আরো বলতেন।
সহীহ বুখারী ও মুসলিমমানসহীহ
ব্যাখ্যা

নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করা হয়েছে, আল্লাহর কাছে কোন আমলটি উত্তম? তিনি বললেন: “ফরয সালাত শরী‘আহ নির্ধারিত সময়ে আদায় করা। অতঃপর পিতামাতার সাথে সদ্ব্যবহার করা ও তাঁদের প্রতি ইহসান করা, তাঁদের হকসমূহ যথাযথভাবে আদায় করা এবং তাঁদের অবাধ্য না হওয়া। অতঃপর উত্তম কাজ হলো মহান আল্লাহর কালিমাকে সুউচ্চ করতে, দ্বীন ইসলাম ও মুসলিমদের পক্ষে, ইসলামের নিদর্শনসমূহ প্রকাশ করতে জান ও মাল দ্বারা আল্লাহর পথে জিহাদ করা। ইবনু মাস‘ঊ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে এ আমলগুলোর সংবাদ দিয়েছেন। আমি যদি তাঁকে আরো বলতাম তারপর কোনটি, তাহলে তিনি আমাকে আরো বেশী বলতেন।

শিক্ষা
  1. আল্লাহর ভালোবাসার মাত্রা হিসেবে কাজের মর্যাদার তারতম্য হয়।
  2. উত্তম থেকে সর্বোত্তম কাজের প্রতি মুসলিম কে আগ্রহ ও অনুপ্রেরণা দেয়া ।
  3. ব্যক্তি ও অবস্থার ভিন্নতার কারণে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের জবাবের পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়েছে। যে কাজগুলো তাদের মধ্যে প্রত্যেকের জন্যে অধিক উপকারি তিনি তাদেরকে সে কাজগুলোকে সর্বোত্তম কাজ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।
সূত্র

صحيح البخاري (1/ 112) (527). صحيح مسلم (1/ 90) (85). الإلمام بشرح عمدة الأحكام، لإسماعيل الأنصاري (1/ 70). تيسير العلام شرح عمدة الأحكام، للبسام (ص84). تنبيه الأفهام شرح عمدة الأحكام، لابن عثيمين (1/ 108).

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

“মুনাফিকদের ওপর সবচেয়ে কঠিন সালাত হলো এশা ও ফজরের সালাত। তারা যদি তার ফযিলত জানতো তাহলে হামাগুড়ি দিয়ে হলেও তাতে উপস্থিত হত

عن أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «‌إِنَّ ‌أَثْقَلَ صَلَاةٍ عَلَى الْمُنَافِقِينَ صَلَاةُ الْعِشَاءِ وَصَلَاةُ الْفَجْرِ، وَلَوْ يَعْلَمُونَ مَا فِيهِمَا لَأَتَوْهُمَا وَلَوْ حَبْوًا، وَلَقَدْ هَمَمْتُ أَنْ آمُرَ بِالصَّلَاةِ فَتُقَامَ، ثُمَّ آمُرَ رَجُلًا فَيُصَلِّيَ بِالنَّاسِ، ثُمَّ أَنْطَلِقَ مَعِي بِرِجَالٍ مَعَهُمْ حُزَمٌ مِنْ حَطَبٍ إِلَى قَوْمٍ لَا يَشْهَدُونَ الصَّلَاةَ، فَأُحَرِّقَ عَلَيْهِمْ بُيُوتَهُمْ بِالنَّارِ».
আবূ হুরাইরা রদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “মুনাফিকদের ওপর সবচেয়ে কঠিন সালাত হলো এশা ও ফজরের সালাত। তারা যদি তার ফযিলত জানতো তাহলে হামাগুড়ি দিয়ে হলেও তাতে উপস্থিত হত। আর আমি ইচ্ছে করেছি, সালাতের আদেশ দিব তারপর ইকামাত দেয়া হবে তারপর একজনকে মানুষদের নিয়ে সালাত আদায় করতে বলব। অতঃপর আমি কতক মানুষ যাদের সাথে লাকড়ির বোঝা থাকবে তাদেরকে নিয়ে সেসব লোকদের কাছে যাবো যারা সালাতে উপস্থিত হয় না এবং তাদের ওপর তাদের বাড়িঘর আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দিব।”
সহীহ বুখারী ও মুসলিমমানসহীহ
ব্যাখ্যা

নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুনাফিক এবং সালাতে তাদের উপস্থিত না হওয়ার অলসতা সম্পর্কে সংবাদ দিচ্ছেন এ হাদীসে, বিশেষ ভাবে এশা ও ফজর দু’টি সালাত। তারা যদি মুসলিমদের জামাতে উপস্থিত হওয়ার ফজিলত জানতো, তাহলে বাচ্চাদের ন্যায় হাত ও হাটু দ্বারা হামাগুড়ি দিয়ে হলেও তাতে এসে উপস্থিত হতো। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম দৃঢ় প্রতিজ্ঞা করেছেন, তিনি সালাতের নির্দেশ দিবেন আর সালাতের ইকামত দেওয়া হবে এবং একজন ব্যক্তিকে তার জায়গায় ইমাম বানাবেন, তারপর তিনি লাকড়ির বোঝা বহনকারী ব্যক্তিকে নিয়ে তাদের নিকট যাবেন যারা সালাতের জামাতে হাজির হয় নাই। আর জামাতে হাজির না হয়ে তারা যে অপরাধ করেছে তার শাস্তি স্বরূপ তাদের ঘর জ্বালিয়ে দিবেন, কিন্তু তা করেননি, কারণ ঘরসমূহে নারী, নিরাপরাধ শিশু ও অন্যান্য অপারগ ব্যক্তি রয়েছেন যাদের কোনো পাপ নেই।

শিক্ষা
  1. মসজিদে সালাতের জামাতে হাজির না হওয়ার ভয়াবহতা।
  2. মুনাফিকরা তাদের ইবাদত দ্বারা কেবল লৌকিকতা ও প্রসিদ্ধি কামনা করে। কাজেই যে সময় মানুষ তাদেরকে দেখে সে সময় ছাড়া তারা সালাতে হাজির হয় না।
  3. এশা ও ফজরের সালাত জামাতে আদায় করার সাওয়াব অপরিসীম। এ দুই সালাতে হামাগুড়ি দিয়ে হলেও আসা উচিত।
  4. এশা ও ফজরের সালাতে যত্নশীল থাকা নিফাক থেকে মুক্তির সনদ আর এই দুই সালাতে হাজির না হওয়া মুনাফিকদের নিদর্শন।
সূত্র

صحيح مسلم (1/ 451) (651). صحيح البخاري (1/ 132) (657). الإلمام بشرح عمدة الأحكام، لإسماعيل الأنصاري (1/ 88). تيسير العلام شرح عمدة الأحكام، للبسام (ص107). تنبيه الأفهام شرح عمدة الأحكام، لابن عثيمين (1/ 136).

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাতে এ কথার সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য মাবূদ নেই এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর রাসূল, সালাত কায়েম, যাকাত আদায়, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করা ও তাদের আদেশ মান্য করা ও প্রতিটি মুসলিমের কল্যাণ কামনা করার শর্তে আমি বাই‘আত গ্রহণ করেছি।

عَنْ جَرِيرِِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ رضي الله عنه قَالَ: بَايَعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى شَهَادَةِ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ، وَإِقَامِ الصَّلاَةِ، وَإِيتَاءِ الزَّكَاةِ، وَالسَّمْعِ وَالطَّاعَةِ، وَالنُّصْحِ لِكُلِّ مُسْلِمٍ.
জারীর ইবন আব্দুল্লাহ রদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাতে এ কথার সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য মাবূদ নেই এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর রাসূল, সালাত কায়েম, যাকাত আদায়, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করা ও তাদের আদেশ মান্য করা ও প্রতিটি মুসলিমের কল্যাণ কামনা করার শর্তে আমি বাই‘আত গ্রহণ করেছি।
সহীহ বুখারী ও মুসলিমমানসহীহ
ব্যাখ্যা

সাহাবী জারীর ইবন আব্দুল্লাহ রদিয়াল্লাহু ‘আনহু এ হাদীসে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাতে তাওহীদ তথা আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য মাবূদ নেই এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর রাসূল- এ কালেমার সাক্ষ্য, দিনে রাতে পাঁচ ওয়াক্ত ফরয সালাত , তার শর্ত ফরজ ওয়াজিব ও সুন্নাতসহকারে আদায়, ফরয যাকাত আদায়, আর তা হলো আর্থিক ফরয ইবাদত, যা ধনীদের থেকে নিয়ে এর হকদার দরিদ্র ও অন্যদেরকে দেওয়া হয়, তাছাড়া শাসকের আনুগত্য করা এবং প্রতিটি মুসলিমের জন্যে কল্যাণ কামনা করার উপরে বাই‘আত গ্রহণ করেছেন। আর মুসলিমের জন্যে কল্যাণ কামনা করার উদ্দেশ্য হলো তার উপকার করার ব্যাপারে গুরুত্ব দেওয়া, তাকে কল্যাণ পৌঁছানো এবং কথা ও কাজে তার থেকে মন্দ ও ক্ষতিকর জিনিস প্রতিহত করা।

শিক্ষা
  1. সালাত ও যাকাতের গুরুত্ব এ হাদীসে বর্ণিত হয়েছে। আর এ দুটি ইসলামের অন্যতম রুকন।
  2. মুসলিমদের মধ্যে পরস্পর নসীহত দেওয়া ও নেওয়ার গুরুত্ব বুঝানো হয়েছে। এমনকি বিষয়টি সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবীদের থেকে বাই‘আত গ্রহণ করেছেন।
সূত্র

صحيح البخاري (1/ 111) (524)، (3/ 72) (2157). صحيح مسلم (1/ 75) (56). بهجة الناظرين شرح رياض الصالحين، لسليم الهلالي (1/ 272). تطريز رياض الصالحين، لفيصل آل مبارك (ص145). شرح رياض الصالحين، لابن عثيمين (2/ 398). نزهة المتقين شرح رياض الصالحين، لمجموعة من الباحثين (1/ 206).

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

আল্লাহ তা‘আলা তাদের ঘর ও কবরসমূহ আগুন দিয়ে ভরে দিক। যেমনিভাবে তারা আমাদেরকে মধ্যবর্তী সালাত থেকে বিরত রাখছে, এমনকি সূর্য ডুবে গেল।

عن عَلِي بن أبي طالب رضي الله عنه أَنَّ النَّبِيَّ - صلى الله عليه وسلم - قَالَ يَوْمَ الْخَنْدَقِ: «مَلَأ اللهُ قُبُورَهم وبُيُوتَهُم نَارًا، كَمَا شَغَلُونَا عن الصَّلاَة الوُسْطَى حَتَّى غَابَت الشَّمس». وفي لفظ لمسلم: «شَغَلُونَا عن الصَّلاَة الوُسْطَى -صلاة العصر-»، ثم صَلاَّهَا بين المغرب والعشاء». وله عن عبد الله بن مسعود قال: «حَبَسَ المُشرِكُون رسول الله صلى الله عليه وسلم عن العصر، حَتَّى احْمَرَّت الشَّمسُ أو اصْفَرَّت، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم : شَغَلُونَا عن الصَّلاَة الوُسْطَى -صلاة العصر-، مَلَأَ الله أَجْوَافَهُم وقُبُورَهم نَارًا (أَو حَشَا الله أَجْوَافَهُم وَقُبُورَهُم نَارًا)».
আলী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে মারফূ‘ হিসেবে বর্ণিত: “আল্লাহ তা‘আলা তাদের ঘর ও কবরসমূহ আগুন দিয়ে ভরে দিক। যেমনিভাবে তারা আমাদেরকে মধ্যবর্তী সালাত থেকে বিরত রাখছে, এমনকি সূর্য ডুবে গেল”। মুসলিমের বর্ণনায় বর্ণিত: “আমাদেরকে মধ্যবর্তী সালাত-আসরের সালাত- থেকে বিরত রাখছে”। অতঃপর মাগরিব ও এশার মাঝে তা আদায় করেন।” সহীহ মুসলিমের অপর একটি বর্ণনা ‘আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মুশরিকরা নাবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আসরের সলাত থেকে বিরত রাখলো, এমনকি সূর্য লাল বা হলুদ হয়ে গেল। তখন তিনি বললেন, যারা আমাদেরকে মধ্যবর্তী সালাত-আসরের সালাত-থেকে বিরত রাখলো, আল্লাহ তাদের পেট ও কবরসমূহ আগুন দিয়ে ভরে দিন”।
এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন। - মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।মানসহীহ
ব্যাখ্যা

মুশরিকরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তার সাহাবীদের মদীনার সুরক্ষা ও আত্মরক্ষা স্বার্থে আসরের সালাত থেকে বিরত রাখল এমনকি সূর্য্য ডুবে গেল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তার সাহাবীগন সূর্য্য ডোবার পরই সালাত আদায় করেন। তাই তারা তাকে এবং তার সাহাবীদেরকে যে কষ্ট দিয়েছে সে জন্য তিনি তাদের ওপর বদ-দো‘আ করেন যাতে তাদের পেট, ঘর ও কবরগুলোকে আগুন দ্বারা ভরে দেয়। আর তারা আমাদেরকে আসরের সালাত যেটি সর্ব উত্তম সালাত তা থেকে বিরত রাখে।

সূত্র

الإلمام بشرح عمدة الأحكام، إسماعيل بن محمد الأنصاري، دار الفكر، دمشق، الطبعة: الأولى 1381هـ. تيسير العلام شرح عمدة الأحكام، عبد الله بن عبد الرحمن البسام، تحقيق: محمد صبحي حلاق، مكتبة الصحابة، الأمارات، مكتبة التابعين، القاهرة، الطبعة: العاشرة 1426هـ. تنبيه الأفهام شرح عمدة الأحكام، محمد بن صالح العثيمين، مكتبة الصحابة، الإمارات، الطبعة: الأولى 1426هـ، 2005م. عمدة الأحكام من كلام خير الأنام -صلى الله عليه وسلم- لعبد الغني المقدسي، دراسة وتحقيق: محمود الأرناؤوط، مراجعة وتقديم: عبد القادر الأرناؤوط، دار الثقافة العربية، دمشق، بيروت، مؤسسة قرطبة، الطبعة: الثانية 1408هـ، 1988م. صحيح البخاري، محمد بن إسماعيل البخاري الجعفي، تحقيق: محمد زهير الناصر، دار طوق النجاة (مصورة عن السلطانية بإضافة ترقيم: محمد فؤاد عبد الباقي)، الطبعة: الأولى 1422هـ. صحيح مسلم، مسلم بن الحجاج القشيري النيسابوري، تحقيق محمد فؤاد عبد الباقي، دار إحياء التراث العربي، بيروت، الطبعة: 1423هـ.

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সর্বোত্তম সালাত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলো, তিনি বললেন, “দীর্ঘ কিয়ামযুক্ত সালাত।”

وعن جابر رضي الله عنه قال: سُئِل رسول الله صلى الله عليه وسلم أي الصلاة أفضل؟ قال: «طُول القُنُوتِ».
জাবের রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সর্বোত্তম সালাত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলো, তিনি বললেন, “দীর্ঘ কিয়ামযুক্ত সালাত।”
এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।মানসহীহ
ব্যাখ্যা

সাহাবীগণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলেন, সর্বোত্তম সালাত কোনটি? আর সাহাবীদের এ প্রশ্ন ছিল নেক আমল অধিক পরিমাণে করার প্রতি তাদের আগ্রহের কারণেই। এ দ্বারা উদ্দেশ্য, কোন ধরণের সালাত উত্তম? বা সালাতের কোন আমলটি উত্তম? কিয়াম নাকি রুকু নাকি সাজদাহ?। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের জানিয়ে দেন যে, “তা হলো দীর্ঘ কিয়ামযুক্ত সালাত।”

সূত্র

رياض الصالحين من كلام سيد المرسلين؛ للإمام أبي زكريا النووي، تحقيق د. ماهر الفحل، دار ابن كثير-دمشق، الطبعة الأولى، 1428ه . - نزهة المتقين شرح رياض الصالحين؛ تأليف د. مصطفى الخِن وغيره، مؤسسة الرسالة-بيروت، الطبعة الرابعة عشر، 1407هـ. - صحيح مسلم؛ للإمام مسلم بن الحجاج، حققه ورقمه محمد فؤاد عبد الباقي، دار عالم الكتب-الرياض، الطبعة الأولى، 1417هـ. - تطريز رياض الصالحين؛ تأليف فيصل آل مبارك، تحقيق د. عبد العزيز آل حمد، دار العاصمة-الرياض، الطبعة الأولى، 1423هـ.

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

“পাঁচ ওয়াক্ত সালাত, এক জুমু‘আ থেকে আরেক জুমু‘আ আদায় করা এবং এক রমযান থেকে অপর রমযান পালন করা, এগুলোর মধ্যবর্তী সময়ের গুনাহের কাফফারা হয়ে যাবে; যদি সে কবীরা গুনাহ থেকে বিরত থাকে।”

عن أبي هريرة رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم كان يقول: «الصَّلَوَاتُ الْخَمْسُ، وَالْجُمُعَةُ إِلَى الْجُمُعَةِ، وَرَمَضَانُ إِلَى رَمَضَانَ، مُكَفِّرَاتٌ مَا بَيْنَهُنَّ إِذَا اجْتَنَبَ الْكَبَائِرَ».
আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেন: “পাঁচ ওয়াক্ত সালাত, এক জুমু‘আ থেকে আরেক জুমু‘আ আদায় করা এবং এক রমযান থেকে অপর রমযান পালন করা, এগুলোর মধ্যবর্তী সময়ের গুনাহের কাফফারা হয়ে যাবে; যদি সে কবীরা গুনাহ থেকে বিরত থাকে।”
ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেনমানসহীহ
ব্যাখ্যা

নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ হাদীসে বর্ণনা করেছেন যে, দিনে রাতে পাঁচ ওয়াক্ত ফরয সালাত, প্রত্যেক সপ্তাহে জুমু‘আ সালাত এবং প্রতি বছর রমযান মাসের সাওম পালন সেগুলোর মধ্যবর্তী সময়ের সগীরা গুনাহের কাফফারা হয়ে যাবে; তবে শর্ত হলো কবীরা গুনাহ থেকে বিরত থাকতে হবে। অন্যদিকে কবীরা গুনাহ যেমন যিনা, মদ পান ইত্যাদি তাওবা ব্যতীত মাফ হয় না।

শিক্ষা
  1. গুনাহসমূহ কবীরা ও সগীরা দু’প্রকারের হয়ে থাকে।
  2. সগীরা গুনাহ তখনই কাফফারা হবে যখন কবীরা গুনাহ থেকে বিরত থাকবে।
  3. কবীরা গুনাহ হলো সেসব গুনাহ যেগুলোর ব্যাপারে দুনিয়াবী সাজার হুকুম বর্ণিত হয়েছে অথবা এসবের ব্যাপারে আযাব অথবা আল্লাহর অসন্তুষ্টি অথবা হুমকি অথবা এতে লিপ্তকারীকে লানত ইত্যাদি মাধ্যমে পরকালীন হুমকির কথা বলা হয়েছে। যেমন যিনা ও মদ্যপান ইত্যাদি।
সূত্র

صحيح مسلم (1/ 209) (233). شرح رياض الصالحين، لابن عثيمين (2/ 183). نزهة المتقين بشرح رياض الصالحين، لمصطفى سعيد الخن (1/ 158). تطريز رياض الصالحين، لفيصل آل مبارك (ص108). بهجة الناظرين شرح رياض الصالحين، لسليم بن عيد الهلالي (1/ 209).

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

“তুমি আল্লাহর জন্য অবশ্যই বেশি বেশি সিজদা করবে; কেননা তুমি যখনই আল্লাহর জন্য একটি সিজদা করবে, আল্লাহ তা’আলা এর বিনিময়ে তোমার মর্যাদা একধাপ বৃদ্ধি করে দিবেন এবং তোমার একটি গুনাহও মাফ করে দিবেন।”

عَنْ مَعْدَانَ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ الْيَعْمَرِيُّ قَالَ: لَقِيتُ ثَوْبَانَ مَوْلَى رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقُلْتُ: أَخْبِرْنِي بِعَمَلٍ أَعْمَلُهُ يُدْخِلُنِي اللهُ بِهِ الْجَنَّةَ؟ أَوْ قَالَ قُلْتُ: بِأَحَبِّ الْأَعْمَالِ إِلَى اللهِ، فَسَكَتَ. ثُمَّ سَأَلْتُهُ فَسَكَتَ. ثُمَّ سَأَلْتُهُ الثَّالِثَةَ فَقَالَ: سَأَلْتُ عَنْ ذَلِكَ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ: «عَلَيْكَ بِكَثْرَةِ السُّجُودِ لِلَّهِ، فَإِنَّكَ لَا تَسْجُدُ لِلَّهِ سَجْدَةً، إِلَّا رَفَعَكَ اللهُ بِهَا دَرَجَةً، وَحَطَّ عَنْكَ بِهَا خَطِيئَةً» قَالَ مَعْدَانُ: ثُمَّ لَقِيتُ أَبَا الدَّرْدَاءِ فَسَأَلْتُهُ فَقَالَ لِي: مِثْلَ مَا قَالَ لِي: ثَوْبَانُ.
মা‘দান ইবনু আবী ত্বালহা আল-ইয়া‘মারী হতে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মুক্ত গোলাম ছাউবান রদিয়াল্লাহু আনহুর সাথে সাক্ষাৎ করে বললাম: আমাকে এমন একটি কাজের কথা বলে দিন, যা করলে আল্লাহ আমাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। অথবা (রাবীর সন্দেহ) তিনি বললেন: আমি জিজ্ঞাসা করলাম: আল্লাহর কাছে সবচেয়ে পছন্দনীয় কাজের ব্যাপারে, তখন তিনি চুপ থাকলেন। আমি আবার তাকে জিজ্ঞেস করলে তিনি এবারও চুপ থাকলেন। আমি তৃতীয়বার তাকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন: আমি এ ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞেস করেছিলাম। তিনি বলেছিলেন: “তুমি আল্লাহর জন্য অবশ্যই বেশি বেশি সিজদা করবে; কেননা তুমি যখনই আল্লাহর জন্য একটি সিজদা করবে, আল্লাহ তা’আলা এর বিনিময়ে তোমার মর্যাদা একধাপ বৃদ্ধি করে দিবেন এবং তোমার একটি গুনাহও মাফ করে দিবেন।” মা‘দান বলেন: অতপর আমি আবুদ দারদা রদিয়াল্লাহু আনহুর সাথে সাক্ষাৎ করে তাকেও এ কথা জিজ্ঞেস করলে, তিনি ছাউবান রদিয়াল্লাহু আনহু আমাকে যা বলেছিলেন, তিনিও সেটাই বললেন।
ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেনমানসহীহ
ব্যাখ্যা

জান্নাতে প্রবেশ করার কারণ অথবা আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় আমল সম্পর্কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করা হয়? প্র্রশ্নকারীকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জবাব দিয়েছিলেন: তুমি সালাতে দ্বারা বেশী বেশী সিজদা করতে থাক; কেননা তুমি আল্লাহর উদ্দেশ্যে একটি সিজদা করা মাত্রই আল্লাহ তোমার মর্যাদার একটি ধাপ উঁচু করে দেন আর তোমার থেকে একটি পাপ ক্ষমা করে দেন।

শিক্ষা
  1. মুসলিমদেরকে ফরয ও নফল উভয় ধরণের সালাতে উৎসাহিত করা হয়েছে। কেননা সালাতে সেজদা থাকে।
  2. সাহাবাদের ফিকহ ও জ্ঞানের পরিচয়, তারা জানতেন যে, আল্লাহর রহমতের পরে আমল ব্যতীত জান্নাত লাভ করা সম্ভব নয়।
  3. সালাতের মধ্যে সিজদা করা গোনাহ ক্ষমা এবং মর্যাদা বৃদ্ধির জন্য একটি অন্যতম মাধ্যম।
সূত্র

صحيح مسلم (1/ 353) (488). كنوز رياض الصالحين، لمجموعة من الباحثين. بهجة الناظرين، لسليم الهلالي (1/ 188). نزهة المتقين، لمجموعة من الباحثين (1/ 137). شرح رياض الصالحين، لابن عثيمين (2/ 105). شرح النووي على مسلم، (4/ 205).

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

“যে ব্যক্তি দু’টি ঠাণ্ডায় সালাত পড়বে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।”

عن أَبِي مُوسَى الأَشْعَرِيِّ رضي الله عنه: أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «مَنْ صَلَّى ‌الْبَرْدَيْنِ دَخَلَ الْجَنَّةَ»
আবূ মূসা আল-আশ‘আরী রদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: “যে ব্যক্তি দু’টি ঠাণ্ডায় সালাত পড়বে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।”
সহীহ বুখারী ও মুসলিমমানসহীহ
ব্যাখ্যা

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুটি ঠান্ডার সময়ের সালাত আদায়ের ব্যাপারে গুরুত্বারোপ করেছেন, সালাত দুটি হচ্ছে: ফজর এবং আসর। এবং যে ব্যক্তি তা যথাযথভাবে আদায় করবে যেমন: ওয়াক্তের মধ্যে, জামা‘আতের সাথে ইত্যাদি, তার জন্য এটি জান্নাতে যাওয়ার কারণ হবে।

শিক্ষা
  1. ফজর ও আসরের সালাতের ব্যাপারে যত্নবান হওয়ার ফযীলত, যেহেতু ফজর হচ্ছে তৃপ্তি সহকারে ঘুমের সময়, আর আসর হচ্ছে মানুষের কাজে ব্যস্ত থাকার সময়। যে ব্যক্তি এ দুটি সালাতের ব্যাপারে যত্নবান হল, সে অন্যান্য সালাতকে যথাযথভাবে সংরক্ষরনে যত্নবান হবে, এটাই স্বাভাবিক।
  2. ফজর ও আসরের নামাজকে দুই ঠাণ্ডার সালাত বলা হয়; কেননা ফজরের সালাতে রয়েছে রাতের শীতলতা, আর আসরের সালাতে রয়েছে দিনের শীতলতা, যদিও তা গরমের সময়ে হয়, তবে তা আগের সময়ের (দুপুরের) চেয়ে হালকা হয়ে যায়। অথবা এর নামকরণ তাগলীব তথা আরবী প্রাধান্য রীতি অনুযায়ী হয়েছে, যেমন: বলা হয়: দুটি চাঁদ তথা সূর্য ও চন্দ্র।
সূত্র

صحيح البخاري (1/ 119) (574). صحيح مسلم (1/ 440) (635). نزهة المتقين، لمجموعة من الباحثين (1/ 159). شرح رياض الصالحين، لابن عثيمين (2/ 187).

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস
১৬টির মধ্যে ৮
১৬টি হাদীস
  1. কে প্রশ্ন করলাম,আল্লাহর নিকট কোন আমলটি সর্বাধিক প্রিয়?’ তিনি বললেন, “যথা সময়ে সালাত আদায় করা।” আমি আবার জিজ্ঞেস করলাম, ’তারপর কোনটি?’ তিনি বললেন, “পিতামাতার সাথে সদ্ব্যবহার করা।” আমি আবার জিজ্ঞেস করলাম, ’তারপর কোনটি?’ তিনি বললেন, “আল্লাহর পথে জিহাদ করা।
  2. “মুনাফিকদের ওপর সবচেয়ে কঠিন সালাত হলো এশা ও ফজরের সালাত। তারা যদি তার ফযিলত জানতো তাহলে হামাগুড়ি দিয়ে হলেও তাতে উপস্থিত হত
  3. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাতে এ কথার সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য মাবূদ নেই এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর রাসূল, সালাত কায়েম, যাকাত আদায়, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করা ও তাদের আদেশ মান্য করা ও প্রতিটি মুসলিমের কল্যাণ কামনা করার শর্তে আমি বাই‘আত গ্রহণ করেছি।
  4. আল্লাহ তা‘আলা তাদের ঘর ও কবরসমূহ আগুন দিয়ে ভরে দিক। যেমনিভাবে তারা আমাদেরকে মধ্যবর্তী সালাত থেকে বিরত রাখছে, এমনকি সূর্য ডুবে গেল।
  5. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সর্বোত্তম সালাত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলো, তিনি বললেন, “দীর্ঘ কিয়ামযুক্ত সালাত।”
  6. “পাঁচ ওয়াক্ত সালাত, এক জুমু‘আ থেকে আরেক জুমু‘আ আদায় করা এবং এক রমযান থেকে অপর রমযান পালন করা, এগুলোর মধ্যবর্তী সময়ের গুনাহের কাফফারা হয়ে যাবে; যদি সে কবীরা গুনাহ থেকে বিরত থাকে।”
  7. “তুমি আল্লাহর জন্য অবশ্যই বেশি বেশি সিজদা করবে; কেননা তুমি যখনই আল্লাহর জন্য একটি সিজদা করবে, আল্লাহ তা’আলা এর বিনিময়ে তোমার মর্যাদা একধাপ বৃদ্ধি করে দিবেন এবং তোমার একটি গুনাহও মাফ করে দিবেন।”
  8. “যে ব্যক্তি দু’টি ঠাণ্ডায় সালাত পড়বে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।”
  9. ‘‘আচ্ছা তোমরা বল তো, যদি কারোর বাড়ির দরজার সামনে একটি নদী থাকে, যাতে সে প্রতিদিন পাঁচবার করে গোসল করে, তাহলে তার শরীরে কোন ময়লা অবশিষ্ট থাকবে কি?’’
  10. “যে ব্যক্তি ফজরের সালাত আদায় করলো সে আল্লাহর যিম্মাদারিতে থাকলো
  11. “এমন কোন ব্যক্তি কখনোই জাহান্নামে যাবে না, যে সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্তের পূর্বে সালাত ( ফাজর ও আসরের সালাত) আদায় করে”।
  12. “কোন মুসলিমের যখন কোন ফরয সালাতের ওয়াক্ত হয়, আর সে উত্তমরূপে সালাতের অযু করে, সালাতের নিয়ম ও রুকূকে উত্তমরূপে আদায় করে, তা হলে যতক্ষণ না সে কোন কাবীরাহ গুনাহে লিপ্ত হবে তার এ সালাত তার পিছনের সকল গুনাহের জন্যে কাফফারাহ হয়ে যাবে। আর এ (ফজীলত) সবসময়ই প্রযোজ্য।”
  13. আপনি কী মনে করেন , যদি আমি ফরয সালাতসমূহ আদায় করি, রমাদানের সিয়াম পালন করি, হালালগুলোকে হালাল মানি এবং হারামসমূহকে হারাম মনে করি,
  14. “পবিত্রতা ঈমানের অর্ধেক। “الحمد لله” ‘আলহামদু লিল্লা ‘ মিযান-দাঁড়িপাল্লা পরিপূর্ণ করে দেয় এবং “سبحان الله والحمد لله” ‘সুবহানাল্লাহি ওয়ালহামদু লিল্লাহ’ কালেমা আসমান ও জমিনের মধ্যবর্তী স্থানকে পরিপূর্ণ করে দেয়।
  15. “হে বিলাল! সালাত কায়িম করো। আর তার মাধ্যমে আমাদেরকে শান্তি দাও”।
  16. বান্দা সালাত আদায় করে, কিন্তু কেউ সালাতের সওয়াব পায় দশ ভাগের এক ভাগ, কেউ নয় ভাগের এক ভাগ, কেউ আট ভাগের এক ভাগ, কেউ সাত ভাগের এক ভাগ, কেউ ছয় ভাগের এক ভাগ, কেউ পাঁচ ভাগের এক ভাগ, কেউ চার ভাগের এক ভাগ, কেউ তিন ভাগের এক ভাগ, আর কেউবা পায় কেবল অর্ধেক সওয়াব।

এখানকার প্রতিটি হাদীস, মান, ব্যাখ্যা ও শিক্ষা HadeethEnc.com যেভাবে প্রকাশ করে হুবহু সেভাবেই দেখানো, তাদের পুনঃপ্রকাশের শর্ত মেনে। মানের সঙ্গে মান-নির্ধারকের নাম নেই। অনুবাদ ও ব্যাখ্যা এর লেখকদের নিজস্ব, এবং কোনো কোনোটিতে বিধান বলা আছে; সাবীলের পর্যালোচকেরা এগুলো যাচাই করেননি। আরবি হাদীসটিই মূল পাঠ। উৎস: HadeethEnc.com