আনাস ইবন মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন পায়খানায় প্রবেশ করতেন তখন আমি ও আমার মত একটি ছেলে পানির পাত্র এবং ‘আনাযা’ (এমন লাঠি যার মাথায় লোহা লাগানো থাকে) নিয়ে যেতাম। তিনি পানি দ্বারা শৌচকার্য করতেন।
সহীহ বুখারী ও মুসলিমমানসহীহ
ব্যাখ্যা
আনাস ইবনু মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মলত্যাগের জন্য বের হতেন, তখন তিনি এবং তাঁর সমবয়সী একজন খাদেম তাঁর সাথে নিয়ে যেতেন। তারা তাদের সাথে বর্শার মাথার মতো মাথা বিশিষ্ট একটি লাঠি বহন করতেন, যাতে এটিকে একটি সুতরা বানিয়ে তার উপর পর্দা জাতীয় কিছু ঝুলানো যায় অথবা এটিকে একটি সালাতের জন্য সুতরা বানানো যায়। তারা তাদের সাথে পানি ভর্তি একটি ছোট চামড়ার পাত্রও বহন করতেন। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মলত্যাগ শেষ করতেন, তখন তাদের একজন তাকে পাত্রটি দিতেন এবং তিনি পানি দিয়ে নিজেকে পরিষ্কার করতেন।
শিক্ষা
একজন মুসলিম প্রাকৃতিক প্রয়োজন পূরণের সময় তার পবিত্রতার বিষয়গুলো প্রস্তুত করে নিবে; যাতে তাকে দাঁড়াতে না হয় যার ফলে সে নোংরা হতে পারে।
পায়খানা-পেশাব করার সময় গোপনাঙ্গ এমনভাবে সংরক্ষণ করা যাতে কেউ তা দেখতে না পায়; যেহেতু গোপনাঙ্গ দেখা নিষিদ্ধ, তাই তিনি লাঠি মাটিতে রেখে তার উপর আড়ালকারী কাপড়টি রাখতেন।
শিশুদের ইসলামী আদব শেখানো এবং তার উপর তাদের লালন-পালন করা; যাতে তারা তার উত্তরসূরী হতে পারে।
সূত্র
صحيح البخاري (1/ 42) (152).
صحيح مسلم (1/ 227) (271).
تيسير العلام شرح عمدة الأحكام، لعبد الله البسام (ص40).
تنبيه الأفهام شرح عمدة الأحكام، لابن عثيمين (1/ 43).
الإفهام في شرح عمدة الأحكام، لابن باز (ص84).
عن أنس بن مالك رضي الله عنه قال: «جاء أعرابِيُّ، فبَالَ في طَائِفَة المَسجد، فَزَجَرَه النَّاسُ، فَنَهَاهُمُ النبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَلمَّا قَضَى بَولَه أَمر النبي صلى الله عليه وسلم بِذَنُوب من ماء، فَأُهرِيقَ عليه».
আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা জনৈক বেদুঈন এসে মাসজিদের এক পাশে পেশাব করে দিল। তা দেখে লোকজন তাকে ধমক দিতে লাগল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়সাল্লাম তাদের নিষেধ করলেন। সে তার পেশাব করা শেষ করলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আদেশে এর উপর এক বালতি পানি ঢেলে দেওয়া হল।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।মানসহীহ
ব্যাখ্যা
গ্রাম্য লোকদের স্বভাবে ছিল অজ্ঞতা ও মূর্খতা। কারণ, রাসূলুল্লাহু সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর যা নাযিল হয়েছে তা শেখা থেকে তারা ছিল দূরে। একদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সাহাবীদের নিয়ে মসজিদে উপস্থিত ছিলেন। এ মুহুর্তে একজন গ্রাম্য লোক আসল এবং সে মসজিদের এক পাশে পেশাব করে দিল। তার ধারণা ছিল যে এটি একটি খালি জায়গার মতই। মসজিদের সম্মানের কারণে তার কর্মটি সাহাবীদের কাছে আশ্চর্য রকম মনে হলো। তখন তারা তার পেশাব করার মাঝখানে তাকে ধমক দিল। কিন্তু মহান চরিত্রের অধিকারী যাকে সু-সংবাদ ও সহজীকরণ নিয়ে পাঠানো হয়েছে তিনি তাদেরকে ধমক দিতে না করলেন। কারণ, তিনি গ্রামের লোকদের অবস্থা জানতেন। এ ছাড়াও যাতে মসজিদের অধিক জায়গায় পেশাব ছড়িয়ে না পড়ে এবং তার পেশাব বন্ধ করার কারণে তার ক্ষতি না হয় এবং যেন সে নসীহত ও তা‘লীম সহজেই গ্রহণ করে নেয় যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহিস সালাম তাকে শিক্ষা দেবেন। আর তিনি তাদের নির্দেশ দিলেন যে, তার পেশাবের উপর এক বালতি পানি ডেলে দিয়ে তার পেশাবের জায়গাটি যেন পবিত্র করে নেয়।
সূত্র
تيسير العلام شرح عمدة الأحكام للبسام، حققه وعلق عليه وخرج أحاديثه وصنع فهارسه: محمد صبحي بن حسن حلاق، ط10، مكتبة الصحابة، الأمارات - مكتبة التابعين، القاهرة، 1426 هـ.
تنبيه الأفهام شرح عمدة لأحكام لابن عثيمين، ط1، مكتبة الصحابة، الإمارات، 1426هـ.
صحيح البخاري، تحقيق: محمد زهير بن ناصر الناصر، ط1، دار طوق النجاة (مصورة عن السلطانية بإضافة ترقيم: محمد فؤاد عبد الباقي)، 1422هـ.
صحيح مسلم، تحقيق: محمد فؤاد عبد الباقي، دار إحياء التراث العربي، بيروت.
আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি একবার মদীনার কোন এক রাস্তায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে সাক্ষাৎ করলেন। তিনি (আবূ হুরাইরাহ) তখন (জানাবাত) অপবিত্র অবস্থায় ছিলেন। এ কারণে তিনি আস্তে করে পাশ দিয়ে চলে গেলেন এবং গোসল করলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে খোঁজ করলেন। যখন তিনি আসলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “হে আবূ হুরাইরাহ তুমি কোথায় ছিলে"? তিনি বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনার সঙ্গে যখন আমার সাক্ষাৎ হয় তখন আমি অপবিত্রাবস্থায় ছিলাম। তাই আমি গোসল না করে আপনার মাজলিসে বসা ভাল মনে করিনি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: “সুবহানাল্লাহ! মুমিন তো অপবিত্র হয় না”।
সহীহ বুখারী ও মুসলিমমানসহীহ
ব্যাখ্যা
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদীনার এক রাস্তায় আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহুর সাথে দেখা করেন। আবু হুরায়রা তখন অপবিত্র অবস্থায় ছিলেন এবং নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি শ্রদ্ধার কারণে, তিনি তাঁর সাথে বসে থাকা এবং তাঁর সাথে কথা বলা অপছন্দ করতেন, কারণ তিনি মনে করতেন তিনি অপবিত্র। তাই সে গোপনে গিয়ে স্নান করল, তারপর ফিরে এসে বসল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, সে কোথায় গেছে? সে তাঁকে তার অবস্থা এবং জানাবতের কারণে অপবিত্র অবস্থায় তার সাথে বসতে অপছন্দ করেছেন জানালেন। তাই নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম অবাক হয়ে বললেন: মুমিন পবিত্র এবং কোন অবস্থাতেই সে অপবিত্র হয় না; চাই জীবিত হোক বা মৃত হোক।
শিক্ষা
জানাবাত কেবল সালাত পড়া, কুরআন স্পর্শ করা এবং মসজিদে অবস্থান করা থেকে বিরত রাখে। এটি মুসলিমদের সাথে উঠবস করতে বা দেখা সাক্ষাত করতে বারণ করে না এবং এর কারণে জুনুবী ব্যক্তি অপবিত্র হয় না।
জীবিত এবং মৃত উভয় হালতে মুমিনের পবিত্রতা।
সৎ, জ্ঞানী এবং ধার্মিক ব্যক্তিদের সম্মান করা এবং তাদের সাথে সর্বোত্তমভাবে বসা।
একজন অনুসারীর তার নেতার কাছ থেকে চলে যাওয়ার অনুমতি চাওয়ার বৈধতা। কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহুকে তার অজান্তেই চলে যাওয়ার জন্য নিন্দা করেছেন, কারণ অনুমতি চাওয়া একটি উত্তম শিষ্টাচার।
অবাক হওয়ার সময় বলা: سبحان الله (আল্লাহ পবিত্র)।
স্বার্থের খাতিরে একজন ব্যক্তির নিজের সম্পর্কে এমন কথা বলা জায়েজ যা লজ্জাজনক।
কাফের অপবিত্র, কিন্তু তার বিশ্বাস খারাপ হওয়ার কারণে তার অপবিত্রতা আধ্যাত্মিক।
আন-নওয়াবী বলেন: এই হাদীসে আরেকটি শিষ্টাচার রয়েছে যে, যদি কোন আলেম তার অনুসারীর এমন কিছু দেখেন যা তিনি আশঙ্কা করছেন যে সঠিক নয়, তাহলে তার উচিত তাকে জিজ্ঞাসা করা, তাকে সঠিক কথা বলা এবং এর বিধান ব্যাখ্যা করা। আল্লাহ ভালো জানেন।
সূত্র
صحيح البخاري (1/ 65) (285).
صحيح مسلم (1/ 282) (371).
الإلمام بشرح عمدة الأحكام، لإسماعيل الأنصاري (1/ 46).
تيسير العلام شرح عمدة الأحكام، للبسام (ص61).
تنبيه الأفهام شرح عمدة الأحكام، لابن عثيمين (1/ 74).
আবূ আইয়ূব আল-আনসারী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “যখন তোমরা পায়খানায় আসবে, তখন তোমরা কিবলামুখী হয়ে বসবে না, অথবা কিবলার দিকে পিঠ করেও বসবে না, বরং তোমরা পূর্ব-পশ্চিম দিকে ঘুরে বসবে।” আবূ আইয়ূব বলেছেন: আমরা শামে এসে দেখলাম যে, শৌচাগারগুলি কিবলার দিকে মুখ করে তৈরী করা, তখন আমরা অন্যদিক ঘুরে বসতাম এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতাম।
সহীহ বুখারী ও মুসলিমমানসহীহ
ব্যাখ্যা
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষেধ করেছেন, কোন ব্যক্তি যখন তার প্রাকৃতিক ডাকে সাড়া দেওয়ার ইচ্ছা করে, তখন সে যেন কিবলাকে সামনে রেখে কিবলামুখী না হয়ে বসে, আবার যেন সে কিবলাকে পিছনে পিঠের দিকে রেখেও না বসে। বরং তার জন্য আবশ্যক হচ্ছে, মদীনাবাসীর ন্যায় কিবলার দিক হলে, সে পূর্ব অথবা পশ্চিমের দিকে ঘুরে বসবে। তারপরে আবূ আইয়ূব রদিয়াল্লাহু আনহু সংবাদ দিচ্ছেন, তারা যখন শামে গেলেন, তখন তারা প্রয়োজন মেটানোর জন্য প্রস্তুতকৃত শৌচাগারগুলিকে কা‘বা অভিমুখী দেখতে পেলেন। তখন তারা তাদের শরীরকে কা‘বার দিক থেকে ঘুরিয়ে রাখতেন। আবার সেই সাথে তারা আল্লাহর কাছে ক্ষমাও চাইতেন।
শিক্ষা
এর হিকমত হচ্ছে কা‘বা আল-মুশাররাফার প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং তার মর্যাদা দেওয়া।
প্রাকৃতিক ডাকে সাড়া দেওয়ার স্থান থেকে বের হয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করা।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক উত্তম শিক্ষাদান; কেননা যখন তিনি নিষিদ্ধ বিষয়টির উল্লেখ করলেন তখন (পাশাপাশি) বৈধ বস্তুর দিক-নির্দেশনাও দিয়ে দিলেন।
সূত্র
صحيح البخاري (1/ 88) (394).
صحيح مسلم (1/ 224) (264).
تيسير العلام شرح عمدة الأحكام، للبسام (ص37).
تنبيه الأفهام شرح عمدة الأحكام، لابن عثيمين (1/ 39).
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه قَالَ: إِنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «إِذَا شَرِبَ الْكَلْبُ فِي إِنَاءِ أَحَدِكُمْ فَلْيَغْسِلْهُ سَبْعًا».
ولمسلم: « أولاهُنَّ بالتُراب».
আবূ হুরাইরা রদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “যখন তোমাদের কারো পাত্রে কুকুর পান করে, সে তা সাতবার ধুয়ে নিবে”। আর সহীহ মুসলিমের বর্ণনায় রয়েছে: “তার প্রথমবার মাটি দিয়ে”।
সহীহ বুখারী ও মুসলিমমানসহীহ
ব্যাখ্যা
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম পাত্রে কুকুর জিহ্বা দাখিল করলে সেটি সাতবার ধৌত করতে নির্দেশ দিয়েছেন। তার প্রথমটি হবে মাটি দিয়ে যাতে তার পরে পানি দিয়ে ধৌত করা হয়। তবেই নাপাকি থেকে ও তার ক্ষতি থেকে পরিপূর্ণ পবিত্রতা হাসিল হবে।
শিক্ষা
কুকুরের লালা কঠিন অপবিত্র
কুকুর পাত্রে মুখ লাগালে তা নাপাক হয়ে যায় এবং তার মধ্যে থাকা পানিও নাপাক করে দেয়।
মাটি দিয়ে পরিষ্কার করা এবং সাতবার ধৌত করা কেবল কুকুরের লালার সাথে খাস, তার প্রস্রাব, তার পায়খানা এবং কুকুরটি যে সমস্ত জিনিস নাপাক ও ময়লা করে সেগুলোর জন্য নয়।
মাটি দিয়ে পাত্র ধোয়ার নিয়ম: পাত্রে পানি রেখে তাতে মাটি যোগ করুন, তারপর এই মিশ্রণ দিয়ে পাত্রটি ধুয়ে ফেলুন।
হাদীসটির বাহ্যিক অর্থ হলো, এটা সব কুকুরের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। এমনকি শরীয়ত যেসব কুকুর পালন করার অনুমোদন দিয়েছেন তার ক্ষেত্রে, যেমন শিকার করা, পাহারা দেওয়া এবং পশুপালন করার কুকুর।
সাবান বা পরিস্কার করার অন্য কোন উপাদান মাটির স্থলাভিষিক্ত নয়; কেননা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাটিকে নির্দিষ্ট করেছেন।
সূত্র
صحيح البخاري (1/ 45) (172).
صحيح مسلم (1/ 234) (279).
الإلمام بشرح عمدة الأحكام، لإسماعيل الأنصاري (1/ 14).
تيسير العلام شرح عمدة الأحكام، للبسام (ص24).
’আলী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: كُنْتُ رَجُلًا مَذَّاءً وَكُنْتُ أَسْتَحْيِي أَنْ أَسْأَلَ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِمَكَانِ ابْنَتِهِ فَأَمَرْتُ الْمِقْدَادَ بْنَ الْأَسْوَدِ فَسَأَلَهُ فَقَالَ: «يَغْسِلُ ذَكَرَهُ وَيَتَوَضَّأُ»
‘আমার বেশি বেশি(লজ্জাস্থানে) মাযী বের হতো। আমি এ সম্পর্কে নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে জিজ্ঞেস করতে লজ্জাবোধ করতাম। কারণ তার কন্যা ছিল আমার স্ত্রী। তাই আমি মিকদাদ ইবনুল আসওয়াদকে (এ সম্পর্কে জানতে) বললাম। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করলেন। তখন তিনি বললেন: “এতে তার পুরুষাঙ্গ ধুয়ে ফেলবে এবং অযু করে নিবে।”
বুখারীর বর্ণনায় রয়েছে: তিনি বলেন:
«تَوَضَّأْ وَاغْسِلْ ذَكَرَكَ».
“তুমি অযু করো এবং তোমার পুরুষাঙ্গ ধুয়ে ফেলো।”
সহীহ বুখারী ও মুসলিমমানসহীহ
ব্যাখ্যা
‘আলী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু সংবাদ দেন যে, তার বেশি বেশি মাযী বের হয়। -মাযী হলো সাদা পাতলা পানি, যা যৌন উত্তেজনার সময় বা সহবাসের পূর্বে যৌনাঙ্গ থেকে বের হয়-। এটি বের হলে কী করণীয়, তা তিনি জানতেন না। কিন্তু এ সম্পর্কে নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে জিজ্ঞেস করতেও তিনি লজ্জাবোধ করতেন। কেননা তিনি ছিলেন নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের কন্যা ফাতিমা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহার স্বামী। তাই তিনি মিকদাদ ইবনুল আসওয়াদ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুকে এ সম্পর্কে নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করতে বলেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে জবাবে বললেন: এতে তার পুরুষাঙ্গ ধুয়ে ফেলবে অতঃপর অযু করে নিবে।
শিক্ষা
হাদীসে ‘আলী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুর ফযীলত বর্ণিত হয়েছে; এমনকি লজ্জাবোধ তাকে কারো মাধ্যমে প্রশ্ন করা থেকে বিরত রাখেনি।
ফতোয়া তালাশের ক্ষেত্রে কাউকে প্রতিনিধি করা জায়েয।
প্রয়োজনে নিজের লজ্জাকর কোন সংবাদ অন্য ব্যক্তি কে দেওয়া জায়েয।
মাযী অপবিত্র এবং তা শরীর ও কাপড় থেকে ধৌত করা ওয়াজিব।
মাযী বের হওয়া অযু ভঙ্গের কারণ।
মাযীর কারণে পুরুষাঙ্গ ও অন্ডকোষ ধৌত করা ওয়াজিব, যা অন্য হাদীসে বর্ণিত হয়েছে।
সূত্র
صحيح البخاري (1/ 62) (269).
صحيح مسلم (1/ 247) (303).
الإلمام بشرح عمدة الأحكام، لإسماعيل الأنصاري (1/ 39).
تيسير العلام شرح عمدة الأحكام، للبسام (ص53).
خلاصة الكلام شرح عمدة الأحكام، لفيصل آل مبارك (ص29).
উম্মু কায়স বিনত মিহসান রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা হতে বর্ণিত, তিনি তাঁর এমন একটি ছোট ছেলেকে নিয়ে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট এলেন যে তখনো খাবার খেতে শিখেনি। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শিশুটিকে তাঁর কোলে বসালেন। তখন সে তাঁর কাপড়ে পেশাব করে দিল। তিনি পানি আনিয়ে এর উপর ছিটিয়ে দিলেন এবং তা ধৌত করলেন না।
সহীহ বুখারী ও মুসলিমমানসহীহ
ব্যাখ্যা
উম্মু কায়স বিনতে মিহসান রাদিয়াল্লাহু আনহা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নিকট তাঁর একটি ছোট্ট ছেলেকে নিয়ে এলেন, যে তখনও খাবার খেতে শুরু করেনি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে নিজের কোলে বসালেন। তখন সে ছেলে তাঁর কাপড়ে প্রস্রাব করে দিল। তিনি পানি আনালেন এবং তার কাপড়ে তা ছিটিয়ে দিলেন, তা ধৌত করলেন না।
শিক্ষা
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর উত্তম চরিত্র ও তাঁর অসাধারণ বিনয়।
ভাল আচরণ, বিনয় এবং ছোটদের প্রতি নম্রতা প্রদর্শন করা এবং বয়োজ্যেষ্ঠদের হৃদয় জয় করার উপায় হিসেবে তাদের শিশুদের আদর করা, কোলে বসানো ইত্যাদি করার প্রতি উৎসাহ প্রদান করা হয়েছে।
ছোট ছেলে বাচ্চার পেশাব নাপাক যদিও সে ইচ্ছাকৃতভাবে খাবার না খায়।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যেটি করেছেন, তাকে বলা হয় نَضْح (পানি ছিটানো)। এটি শুধুমাত্র সেই ছোট ছেলে শিশুর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, যে এখনো খাবার খেতে শুরু করেনি। কিন্তু যদি মেয়ে শিশু হয়, তবে সে ছোট হলেও তার প্রস্রাব ধুয়ে ফেলতে হবে।
যে ছেলে শিশু তার পুষ্টি মায়ের দুধ থেকে গ্রহণ করে, তার মল অপবিত্র এবং তা অন্যান্য অপবিত্রতার মতোই ধুয়ে ফেলতে হবে।
ধোয়া এমন একটি কাজ, যাতে পানি পৌঁছানোর সঙ্গে অতিরিক্ত কাজও জরুরি।
অপবিত্রতা লাগার স্থান দ্রুত পরিত্র করে ফেলা উত্তম; যাতে দ্রুত অপবিত্রতা থেকে পবিত্রতা অর্জন করা যায় এবং যেন তা ভুলে না যায়।
সূত্র
صحيح البخاري (1/ 54) (223).
صحيح مسلم (1/ 238) (287).
الإلمام بشرح عمدة الأحكام، لإسماعيل الأنصاري (1/ 42).
تيسير العلام شرح عمدة الأحكام، للبسام (ص55).
تنبيه الأفهام شرح عمدة الأحكام، لابن عثيمين (1/ 68).
عن أبي هريرة رضي الله عنه قال: بال أعرابي في المسجد، فقام الناس إليه لِيَقَعُوا فيه، فقال النبي صلى الله عليه وسلم : «دعوه وأريقوا على بوله سَجْلاً من ماء، أو ذَنُوبًا من ماء، فإنما بُعِثْتُمْ مُيَسِّرِينَ، ولم تُبْعَثُوا مُعَسِّرِينَ».
আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, জনৈক বেদুঈন মসজিদে পেশাব করে দিল। ফলে লোকেরা তাকে শাসানোর জন্য উঠে দাঁড়াল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওসাল্লাম বললেন, “তাকে ছাড় এবং তার পেশাবের উপর এক কলস অথবা এক বালতি পানি ঢেলে দাও। কেননা তোমাদেরকে সহজ করার জন্য পাঠানো হয়েছে, কঠোরতা করার জন্য পাঠানো হয় নি।”
মুত্তাফাকুন আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম), তবে শব্দ সহীহ বুখারীর।মানসহীহ
ব্যাখ্যা
জনৈক বেদুঈন মসজিদে নববীতে দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করা আরম্ভ করল। লোকেরা তাকে মুখে বকাঝকা করল, হাতে কিছু করে নি। অর্থাৎ চিৎকার করে শাসালো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের বললেন, তাকে ছেড়ে দাও, যখন সে পেশাব করা শেষ করলো, তিনি তাদের বললেন, যে জায়গায় সে পেশাব করেছে সেখানে এক বালতি পানি ঢেলে দাও। আর তাদেরকে বুঝিয়ে বললেন, তোমরা সহজের দিকে আহ্বানকারী, মানুষকে তাড়াতে ও হিদায়াত থেকে দূরে সরানোর জন্যে নয়।
সূত্র
الجامع المسند الصحيح (صحيح البخاري), تأليف: محمد بن إسماعيل البخاري, تحقيق: محمد زهير بن ناصر الناصر, دار طوق النجاة ترقيم محمد فؤاد عبدالباقي, ط 1422.
رياض الصالحين-النووي-تعليق وتحقيق: الدكتور ماهر ياسين الفحل الناشر: دار ابن كثير للطباعة والنشر والتوزيع، دمشق - بيروت-الطبعة: الأولى، 1428 هـ - 2007 م.
بهجة الناظرين شرح رياض الصالحين, تأليف: سليم بن عيد الهلالي, دار ابن الجوزي.
إرشاد الساري لشرح صحيح البخاري, تأليف: أبو العباس أحمد بن محمد القسطلاني, الناشر: المطبعة الكبرى الأميرية, ط7 عام 1323.
এখানকার প্রতিটি হাদীস, মান, ব্যাখ্যা ও শিক্ষা HadeethEnc.com যেভাবে প্রকাশ করে হুবহু সেভাবেই দেখানো, তাদের পুনঃপ্রকাশের শর্ত মেনে। মানের সঙ্গে মান-নির্ধারকের নাম নেই। অনুবাদ ও ব্যাখ্যা এর লেখকদের নিজস্ব, এবং কোনো কোনোটিতে বিধান বলা আছে; সাবীলের পর্যালোচকেরা এগুলো যাচাই করেননি। আরবি হাদীসটিই মূল পাঠ। উৎস: HadeethEnc.com