عن عبد الله بن عبَّاس رضي الله عنهما قال: «أُمِرَ الناس أن يكون آخر عَهْدِهِمْ بالبيت، إلا أنه خُفِّفَ عن المرأة الحائض».
আব্দুল্লাহ ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, লোকদেরকে সবশেষে বায়তুল্লাহ তাওয়াফ করে বিদায় হওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে; তবে ঋতুবতী নারীর জন্য এ তাওয়াফ শিথিল (মাফ) করা হয়েছে।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।মানসহীহ
ব্যাখ্যা
সম্মানীত এ ঘরের জন্যে রয়েছে সম্মান ও মর্যাদা। এ গৃহটি আল্লাহর ইবাদত এবং তাঁর সমীপে বিনয় ও শ্রদ্ধার বহিঃপ্রকাশের নিদর্শন। ফলে মানুষের বক্ষে এ ঘরের ব্যাপারে রয়েছে ভীতি। অন্তরে রয়েছে সম্মানবোধ, এ ঘরের সাথে সম্পর্ক ও ভালোবাসা।
এ কারণে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাজীদেরকে সবশেষে বায়তুল্লাহ তাওয়াফ করে বিদায় হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। সর্বশেষ এ তাওয়াফটি বিদায়ী তাওয়াফ বলা হয়। কিন্তু হায়েযগ্রস্ত মহিলাদের জন্য এ তাওয়াফ মাফ করা হয়েছে। যেহেতু তারা হায়েয অবস্থায় অপবিত্র থাকায় মসজিদে প্রবেশ করলে তা নোংরা হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় তাদের থেকে বিদায়ী তাওয়াফ ফিদিয়া ব্যতীতই মাফ করে দেওয়া হয়েছে। এ বিধানটি হজের ব্যাপারে প্রযোজ্য, উমরার ব্যাপারে নয়।
তাইসীরুল ‘আল্লাম, 434পৃ; তাম্বীহুল আফহাম, 2/584 ও তা’সীসুল আহকাম, 3/436।
সূত্র
تيسير العلام شرح عمدة الأحكام، عبد الله بن عبد الرحمن البسام، تحقيق: محمد صبحي حلاق، مكتبة الصحابة، الأمارات، مكتبة التابعين، القاهرة، الطبعة: العاشرة 1426هـ.
تنبيه الأفهام شرح عمدة الأحكام، محمد بن صالح العثيمين، مكتبة الصحابة، الإمارات، الطبعة: الأولى 1426هـ.
الإفهام في شرح عمدة الأحكام لابن باز، تحقيق: سعيد القحطاني، مؤسسة عبد العزيز بن باز الخيرية، الرياض، الطبعة: الأولى 1435هـ.
خلاصة الكلام شرح عمدة الأحكام، فيصل بن عبد العزيز المبارك، الطبعة: الثانية 1412هـ، 1992م.
صحيح البخاري، محمد بن إسماعيل البخاري الجعفي، تحقيق: محمد زهير الناصر، دار طوق النجاة (مصورة عن السلطانية بإضافة ترقيم: محمد فؤاد عبد الباقي)، الطبعة: الأولى 1422هـ.
صحيح مسلم، مسلم بن الحجاج القشيري النيسابوري، تحقيق محمد فؤاد عبد الباقي، دار إحياء التراث العربي، بيروت، الطبعة: 1423هـ.
تأسيس الأحكام، أحمد بن يحيى النجمي، دار المنهاج، القاهرة، الطبعة: الأولى.
عن أبي موسى الأشعري رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «إِذَا مَرِضَ الْعَبْدُ أَوْ سَافَرَ كُتِبَ لَهُ مِثْلُ مَا كَانَ يَعْمَلُ مُقِيمًا صَحِيحًا».
আবূ মূসা আল-আশ‘আরী রদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: “যখন বান্দা অসুস্থ হয় কিংবা সফরে থাকে, তখন তার জন্য তা-ই লেখা হয়, যা সে স্বগৃহে অবস্থানকালে সুস্থ অবস্থায় আমল করত।”
এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন।মানসহীহ
ব্যাখ্যা
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ হাদীসে আল্লাহ তা‘আলার অনুগ্রহ ও রহমত সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন। একজন মুসলিমের সাধারণ নিয়ম হলো সে সুস্থ ও মুকীম অবস্থায় নেক আমল করবে। অতপর যখন সে ওযরগ্রস্ত হবে, অসুস্থ হবে তখন তার পক্ষে আগের মতো আমল করা সম্ভব হয় না অথবা সফরে ব্যস্ত থাকলে বা অন্য কোন ওযর থাকলেও তার পক্ষে পূর্বের মতো নেক আমল করা সম্ভব হয় না। তখন আল্লাহ তার জন্য পরিপূর্ণ
সাওয়াব লিখে দেন, যেমনিভাবে তাকে সুস্থ ও মুকীম অবস্থায় পরিপূর্ণ সাওয়াব দিতেন।
শিক্ষা
বান্দার প্রতি আল্লাহ প্রশস্ত অনুগ্রহের কথা হাদীসটিতে বর্ণিত হয়েছে।
সুস্থ ও অবসর সময়ে ভালো কাজ বেশি বেশি করতে ও সময়কে কাজে লাগানোর চেষ্টা করতে উৎসাহিত করা হয়েছে।
সূত্র
صحيح البخاري (4/ 57) (2996).
شرح رياض الصالحين، لابن عثيمين (1/ 36).
بهجة الناظرين شرح رياض الصالحين، لسليم الهلالي (1/ 211).
بهجة قلوب الأبرار وقرة عيون الأخيار في شرح جوامع الأخبار، لعبد الرحمن السعدي (ص83).
উবাই ইবনে কা‘আব থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি জনৈক লোক সম্পর্কে জানি যার বাড়ী অপেক্ষা কারো বাড়ী মসজিদ থেকে অধিক দূরে ছিল বলে আমার জানা নেই। জামা’আতের সাথে কোন ওয়াক্তের সালাত আদায় করা তিনি ছাড়তেন না। উবাই ইবনু কাব বলেনঃ তাকে বলা হলো অথবা (বর্ণনাকারী আবূ উসমান নাহদীর সন্দেহ) আমি বললামঃ যদি তুমি একটি গাধা কিনে নাও এবং তার পিঠে আরোহণ করে রাতের অন্ধকারে এবং রোদের মধ্যে সালাত আদায় করতে আসো তাহলে তো বেশ ভালই হয়। এ কথা শুনে সে বললঃ আমার বাড়ী মসজিদের পাশে হোক তা আমি পছন্দ করি না। আমি চাই মসজিদে হেঁটে আসা এবং মাসজিদ থেকে ঘরে আমার পরিবার-পরিজনের কাছে যাওয়ার প্রতিটি পদক্ষেপ আমার জন্য (আমলনামায়) লিপিবদ্ধ হোক। তার এ কথা শুনে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “মহান আল্লাহ তা’আলা তোমার জন্য অনুরূপ সাওয়াবই একত্রিত করে রেখেছেন”।
ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেনমানসহীহ
ব্যাখ্যা
উবাই ইবনু কাব রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন যে, আনসারদের একজন ব্যক্তি মসজিদে নববী থেকে সবচেয়ে দূরে ছিলেন এবং তিনি কখনও কোন সালাত মিস করতেন না। বরং, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে প্রতিটি সালাতে অংশ নিতেন, তাই তাকে বলা হল: যদি তুমি রাতের অন্ধকারে এবং দিনের বেলায় রোদের উত্তাপের সময় চড়ার জন্য একটি গাধা কিনে নিতে ভালো হত, তিনি বললেন: আমার বাড়ি মসজিদের পাশে হলে আমি খুশি হব না। আমি চাই আল্লাহ যেন আমার জন্য মসজিদে সালাতের জন্য হেঁটে যাওয়া এবং আমার পরিবারের কাছে ফিরে আসা লিখে দেন। তাঁর কথা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে পৌঁছে গেল। তখন তিনি বললেন: “আল্লাহ তোমার জন্য সেসব কিছুই জমা করেছেন”।
শিক্ষা
সাহাবীদের সৎকর্ম করার এবং তা আরও বৃদ্ধি করার এবং সওয়াব অর্জনের আগ্রহ।
আন-নওয়াবী বলেন: এটি সালাত থেকে ফিরে আসার সময়কার পদক্ষেপে সাওয়াব প্রমাণ করে, যেমন যাওয়ার সময় প্রমাণিত।
মুসলিমরা একে অপরকে সৎকর্মের উপদেশ দেয় এবং একে অপরকে সৎকর্মের নসিহত করে। যদি কেউ দেখে যে তার ভাইকে কষ্ট স্পর্শ করবে, তাহলে তাকে তা দূর করার পরামর্শ দেওয়া উচিত।
মসজিদ থেকে দূরে থাকা জামাতের সালাতে যোগদান না করার কোন অজুহাত নয়, যদি সালাতের আযান শুনতে পাওয়া যায়।
সূত্র
صحيح مسلم (1/ 460) (663).
بهجة الناظرين شرح رياض الصالحين، لسليم الهلالي (1/ 162).
شرح رياض الصالحين، لابن عثيمين (2/ 199).
عن أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم : «إذا قَام أحَدُكُم من الليل، فَاسْتَعْجَمَ القرآن على لِسَانه، فلم يَدْرِ ما يقول، فَلْيَضْطَجِع».
আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যখন তোমাদের কেউ রাতে জাগ্রত হয় এবং কুরআন তার মুখে কঠিন ঠেকে, কি বলছে বুঝতে পারে না, সে শুয়ে পড়বে।”
এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।মানসহীহ
ব্যাখ্যা
হাদীসের অর্থ: বান্দা যখন রাতের সালাতে থাকে এবং ঘুমের প্রভাবে তার পক্ষে কুরআন তিলাওয়াত করা কঠিন হয় যে, কি পড়ছে বলতে পারে না, তখন সে শুয়ে পড়বে, যতক্ষণ না তার থেকে ঘুম চলে যায়। যাতে আল্লাহর কালাম বিকৃত ও পরিবর্তিত না হয় এবং হতে পরে তার মুখ থেকে এমন কথা বের হবে যা বৈধ নয়। যেমন, অর্থের পরিবর্তন, বাক্য বিকৃতি এবং হতে পারে নিজের ওপর বদ-দো‘আ করবে। সহীহ বুখারীতে আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে মারফু‘ হিসেবে বর্ণিত, “যখন তোমাদের কেউ সালাতে তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়, সে ঘুমিয়ে নিবে, যতক্ষণ না সে তার তিলাওয়াত বুঝতে পারে।”
সূত্র
- رياض الصالحين من كلام سيد المرسلين؛ للإمام أبي زكريا النووي، تحقيق د. ماهر الفحل، دار ابن كثير - دمشق، الطبعة الأولى، 1428ه.
- بهجة الناظرين شرح رياض الصالحين؛ تأليف سليم الهلالي، دار ابن الجوزي- الطبعة الأولى 1418ه.
- نزهة المتقين شرح رياض الصالحين؛ تأليف د. مصطفى الخِن وغيره، مؤسسة الرسالة-بيروت، الطبعة الرابعة عشر، 1407هـ.
- صحيح مسلم؛ للإمام مسلم بن الحجاج، حققه ورقمه محمد فؤاد عبد الباقي، دار عالم الكتب-الرياض، الطبعة الأولى، 1417هـ.
- كنوز رياض الصالحين، لحمد بن ناصر العمار، دار كنوز إشبيليا- الطبعة الأولى 1430ه.
- إِكمَالُ المُعْلِمِ بفَوَائِدِ مُسْلِم، لعياض بن موسى اليحصبي السبتي أبو الفضل - المحقق: الدكتور يحْيَى إِسْمَاعِيل - دار الوفاء للطباعة والنشر والتوزيع، مصر- الطبعة: الأولى، 1419 هـ - 1998 م.
عن جابر رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم : «ما من مسلم يَغرس غَرسا إلا كان ما أُكل منه له صدقة، وما سُرق منه له صدقة، ولا يَرْزَؤُهُ أحد إلا كان له صدقة».
وفي رواية: «فلا يَغرس المسلم غَرسا فيأكلَ منه إنسان ولا دَابَة ولا طير إلا كان له صدقة إلى يوم القيامة»، وفي رواية: «لا يَغرس مسلم غرسا، ولا يزرع زرعًا، فيأكل منه إنسان ولا دَابَة ولا شيء، إلا كانت له صدقة».
জাবের রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “যে কোনো মুসলিম কোনো গাছ লাগায়, অতঃপর তা থেকে যতটা খাওয়া হয়, তা তার জন্য সাদকাহ হয়, তা থেকে যতটুকু চুরি হয়, তা তার জন্য সাদকাহ হয় এবং যে কোনো ব্যক্তি তার থেকে কিছু গ্রহণ করে, সেটাও তার জন্য সাদকাহ হয়ে যায়।” অন্য এক বর্ণনায় আছে, “মুসলিম যে গাছ লাগায়, আর তা থেকে কোনো মানুষ, কোনো জন্তু ও কোনো পাখী যা কিছু খায়, তা কিয়ামত পর্যন্ত তার জন্য সাদকাহ হয়ে যায়।” অন্য এক বর্ণনায় আছে, “মুসলিম যে গাছ লাগায় এবং ফসল বুনে অতঃপর তা থেকে কোনো মানুষ, কোন জন্তু অথবা অন্য কিছু খায়, তবে তা তার জন্য সাদকাহ হয়ে যায়।” আর তারা উভয় আনাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুর বর্ণনা থেকে বর্ণনা করেছে।
এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন। - মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।মানসহীহ
ব্যাখ্যা
এ হাদীসের অর্থ: যে মুসলিম কোনো গাছ লাগায় অথবা ফসল বুনে অতঃপর তা থেকে জীবিত মাখলুক থেকে কোনো প্রাণী খেল, তার বিনিময়ে তাকে অবশ্যই সাওয়াব দেওয়া হয়; এমনকি তার মৃত্যুর পরও। যতদিন ফসল ও তার রোপন অবশিষ্ট থাকবে ততদিন তার জন্য তার আমলও জারী থাকবে। এই বাবের হাদীসে ফসল উৎপাদন ও বৃক্ষরোপনের ওপর উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। আর অবশ্যই ফসল উৎপাদন ও বৃক্ষরোপনে অনেক কল্যাণ নিহিত। এতে দীন ও দুনিয়ার উপকারিতা রয়েছে। আর যখন তা থেকে ভক্ষণ করা হয় তখন তার জন্য তা সদকা হয়ে যায়। এর চেয়ে আরো আশ্চর্যের বিষয় হলো, যদি কোনো চোর তা থেকে চুরি করে; যেমন কোনো ব্যক্তি একটি খেজুর বৃক্ষের কাছে এসে তা থেকে খেজুর চুরি করল। এতে তার মালিকের সাওয়াব হবে, এতদসত্বেও যে, যদি সে এই চুরকে সম্পর্কে অবগত হতো তাহলে সে তাকে আদালতে উপস্থিত করত। তারপরও আল্লাহ তা‘আলা এই চুরির বিনিময়ে কিয়ামতের দিন পর্যন্ত তার জন্য সদকার সাওয়াব লিখবেন।এমনিভাবে যদি তা থেকে যমীনে বিচরণশীল কোনো জন্তু ও কোনো হিংস্র প্রাণী খায় তাহলে এর জন্য তার মালিকের সাওয়াব হবে। আর এ হাদীসটি মুসলিমের জন্য খাস। কেননা সেই দুনিয়া ও আখেরাতে সদকার সাওয়াবের মাধ্যমে উপকৃত হয়।
সূত্র
- صحيح البخاري، للإمام محمد بن إسماعيل البخاري، تحقيق محمد الناصر، دار طوق النجاة، الطبعة الأولى، 1422هـ.
- صحيح مسلم، للإمام مسلم بن الحجاج، تحقيق محمد فؤاد عبد الباقي، دار إحياء التراث العربي.
- بهجة الناظرين شرح رياض الصالحين، تأليف سليم الهلالي، دار ابن الجوزي- الطبعة الأولى1418هـ.
- نزهة المتقين شرح رياض الصالحين، تأليف د. مصطفى الخِن وغيره، مؤسسة الرسالة-بيروت، الطبعة الرابعة عشرة، 1407هـ.
- كنوز رياض الصالحين، لحمد بن ناصر العمار، دار كنوز إشبيليا- الطبعة الأولى1430هـ.
- دليل الفالحين لطرق رياض الصالحين، لمحمد علي بن محمد الشافعي اعتنى بها: خليل مأمون شيحا، دار المعرفة للطباعة والنشر والتوزيع، بيروت – لبنان-الطبعة: الرابعة، 1425 هـ - 2004 م.
- شرح رياض الصالحين، للشيخ محمد بن صالح العثيمين، مدار الوطن، الرياض، 1426هـ.
- الأدب النبوي، محمد عبد العزيز الخَوْلي، دار المعرفة -بيروت- الطبعة: الرابعة، 1423 هـ.
আবূ হুরাইরা রদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “সূর্য উদিত হয় এমন প্রতিটি দিনেই শরীরের প্রতিটি (হাড়ের) জোড়ার জন্য মানুষের সদকা করা আবশ্যক। দুই ব্যক্তির মধ্যে ন্যায় স্থাপন করা একটি সদকা, কোন ব্যক্তিকে তার বাহনে উঠতে সাহায্য করা সদকা, অথবা তার মাল বাহনে তুলে দেওয়া সদকা, ভালো কথা বলা সদকা, সালাতের জন্য প্রতিটি পদক্ষেপ সদকা এবং পথ থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরিয়ে ফেলা সদকা।”
সহীহ বুখারী ও মুসলিমমানসহীহ
ব্যাখ্যা
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বর্ণনা করেছেন যে, শরী‘আতের আদেশপ্রাপ্ত প্রতিটি মুসলিম ব্যক্তির উপর প্রতিদিন তার হাড়ের গিরাসমূহকে সুস্থ রাখার কারণে সমান সংখ্যা পরিমাণ আল্লাহর তা‘আলার কাছে শুকরিয়া আদায়ের লক্ষ্যে সদকা করা আবশ্যক। আর এ কারণেও যে তিনি তার হাড়গুলোকে বিভিন্ন গিরা গিরাতে বিভক্ত করেছেন, যাতে করে ব্যক্তি সেগুলোকে সংকোচন ও প্রসারণ করতে পারে। আর এসব সদকা শুধুমাত্র অর্থ দান করার উপরে নির্ভর করে না, বরং এগুলো আদায় হতে পারে সকল ধরণের নেক আমলের মাধ্যমে, যার মধ্যে রয়েছে: দুজন ব্যক্তির মধ্যে তোমার ন্যায় সঙ্গত ফয়সালা বা তাদের ঝগড়া মিটিয়ে দেওয়া একটি সদকা। তুমি যখন কোন অপারগ ব্যক্তিকে তার পশু বা বাহনে সওয়ারের ক্ষেত্রে সহযোগিতা করেব, তুমি তাকে বাহনে উঠিয়ে দেবে অথবা তার মালগুলো তুলে দেবে, তাহলে তাও একটি সদকা। যিকর, দু‘আ, সালাম ও অনুরূপ উত্তম কথাগুলোও সদকা। সালাতে যাওয়ার পথে প্রতিটি পদক্ষেপ সদকা। যা কষ্ট দেয় এমন বস্তু পথ থেকে দূর করা একটি সদকা।
শিক্ষা
মানুষের হাড়ের গঠন এবং সুস্থতা তার উপর মহান আল্লাহ তা‘আলার সবচেয়ে বড় নি‘আমাতগুলির মধ্যে অন্যতম। তাই বিশেষভাবে সেই নি‘আমাতের শুকরিয়া আদায় করার জন্য তার প্রতিটি হাড়ের পক্ষ থেকে সদকা করা প্রয়োজন।
এ নি‘আমাত অব্যাহত থাকার জন্য প্রতিদিন শুকরিয়া নবায়ন করার প্রতি উৎসাহ প্রদান।
প্রতিদিন নফল আমল ও সদকার উপরে অটল থাকার প্রতি উৎসাহ প্রদান।
মানুষের মধ্যে বিবাদ মিটিয়ে দেওয়ার ফযীলত।
ব্যক্তিকে তার ভাইকে সহযোগিতার প্রতি উৎসাহ প্রদান; কেননা তাকে সহযোগিতা করাও সদকা।
জামা‘আতে উপস্থিত হওয়া এবং সেখানে পায়ে হেঁটে গমন করা এবং এভাবে মসজিদ আবাদ রাখার প্রতি উৎসাহ প্রদান।
কষ্ট দেয় বা ক্ষতি করে এমন কিছু দূরীকরণের মাধ্যমে মুসলিমদের পথকে সম্মান করা আবশ্যক।
সূত্র
صحيح البخاري (4/ 56) (2989).
صحيح مسلم (1/ 498) (720).
-التحفة الربانية في شرح الأربعين حديثًا النووية، مطبعة دار نشر الثقافة، الإسكندرية، الطبعة: الأولى، 1380 هـ.
-شرح الأربعين النووية، للشيخ ابن عثيمين، دار الثريا للنشر.
-فتح القوي المتين في شرح الأربعين وتتمة الخمسين، دار ابن القيم، الدمام المملكة العربية السعودية، الطبعة: الأولى، 1424هـ/2003م.
-الفوائد المستنبطة من الأربعين النووية، للشيخ عبد الرحمن البراك، دار التوحيد للنشر، الرياض.
عن عائشة رضي الله عنها مرفوعاً: «إذا نَعَسَ أحدكم وهو يصلي فَلْيَرْقُدْ حتى يذهب عنه النوم، فإن أحدكم إذا صلى وهو نَاعِسٌ لا يدري لعله يذهب يستغفر فَيَسُبُّ نَفْسَهُ».
আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা থেকে মারফূ‘ সনদে বর্ণিত, “যখন সালাত আদায় করা অবস্থায় তোমাদের কারো তন্দ্রা আসবে, তখন তার উচিত ঘুমিয়ে যাওয়া, যতক্ষণ না তার ঘুম চলে যাবে। কারণ, তোমাদের কেউ যদি তন্দ্রা অবস্থায় সালাত আদায় করে তাহলে দেখা যাবে যে সে হয়ত ক্ষমা প্রার্থনা করতে গিয়ে নিজেকে গালি দিচ্ছে।”
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।মানসহীহ
ব্যাখ্যা
হাদীসের আলোচ্য বিষয়, ইবাদতে আত্মার ওপর কষ্ট চাপিয়ে দেওয়া অপছন্দ করা। যখন কোনো সালাত আদায়কারী সালাত আদায় অবস্থায় নিজের ওপর ঘুমের প্রচণ্ড চাপ অনুভব করে, তখন তার জন্য উচিত, সালাত ভেঙ্গে ফেলা বা সম্পন্ন করে ঘুমিয়ে পড়া এবং আত্মাকে কিছু সময় বিশ্রাম দেওয়া, যাতে ক্লান্ত থাকা অবস্থায় তার থেকে তার বিপক্ষে দো‘আ করা প্রকাশ না পায়।
সূত্র
صحيح البخاري, تأليف: محمد بن إسماعيل البخاري, تحقيق: محمد زهير بن ناصر الناصر, دار طوق النجاة ترقيم محمد فؤاد عبدالباقي, ط 1422.
صحيح مسلم ،تأليف: مسلم بن الحجاج النيسابوري, تحقيق: محمد فؤاد عبدالباقي, دار إحياء التراث العربي.
مقاييس اللغة, تأليف: أحمد بن فارس الرازي, المحقق: عبدالسلام محمد هارون, الناشر: دار الفكر, عام 1399
بهجة الناظرين شرح رياض الصالحين, تأليف: سليم بن عيد الهلالي, دار ابن الجوزي،الطبعة الأولى1418.
نزهة المتقين شرح رياض الصالحين, تأليف: مصطفى الخن ومصطفى البغا ومحي الدين مستو وعلي الشربجي ومحمد لطفي, مؤسسة الرسالة, ط 14 عام 1407 - 1987.
دليل الفالحين لطرق رياض الصالحين؛ لمحمد بن علان الشافعي، تحقيق خليل مأمون شيحا-دار المعرفة-بيروت-الطبعة الرابعة1425ه.
আবূ হুরাইরা রদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “নিশ্চয়ই দ্বীন সহজ। দ্বীন নিয়ে যে বাড়াবাড়ি করে দ্বীন তার উপর জয়ী হয়। কাজেই তোমরা আমলে সঠিক ও মধ্যপন্থা অবলম্বন কর এবং আমলে অবহেলা করো না ,(নেকীর) আশান্বিত থাক এবং সকাল-সন্ধ্যায় ও রাতের কিছু অংশে (’ইবাদাতের মাধ্যমে) সাহায্য চাও”।
এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন।মানসহীহ
ব্যাখ্যা
মহানবী সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্পষ্ট করেছেন যে ইসলাম ধর্ম তার সমস্ত বিষয়ে সহজ এবং সহজতার উপর ভিত্তি করে আর যখন অক্ষমতা প্রকাশ পায় এবং প্রয়োজন দেখা দেয় তখন সুবিধা (প্রয়োজনীয় শিথিলতা) নিশ্চিত করা হয়। কারণ সাধ্যের সবটুকু খরচ করে ধর্মীয় কাজ আঞ্জাম দেওয়া এবং সহজতা গ্রহণ না করার পরিণাম অক্ষম হওয়া এবং তার সমস্ত বা আংশিক আমল ছেড়ে দেওয়া হয়। তারপর তিনি সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম অতিরঞ্জন ছাড়াই মধ্যপন্থার আহ্বান জানান। কাজেই বান্দাকে যা করতে আদেশ করা হয়েছে তাতে সে ত্রুটি করবে না এবং যে কাজ করতে সামর্থ্য রাখে না তার বোঝা বহন করবে না। যদি সে সম্পূর্ণরূপে কাজটি করতে অক্ষম হন; তাহলে যতটা সম্ভব তার কাছাকাছি আমল করবে।
তিনি সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম অবিরাম আমল করার ওপর সুসংবাদ প্রদান করেছেন যদিও তা কম হয় বা যদিও সে সম্পূর্ণরূপে আমল করতে প্রকৃতই অক্ষম হয় আর এ অক্ষমতা তার নিজের পক্ষ থেকে না হলে সাওয়াব হ্রাস করা হয় না।
যেহেতু এই পৃথিবী প্রকৃতপক্ষে সফরের স্থান এবং পরকালে যাওয়ার একটি বাহন বিশেষ, তাই তিনি সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনটি উদ্দীপক সময়ে অবিরাম ইবাদত বজায় রেখে সাহায্য তলব করার নির্দেশ দিয়েছেন:
প্রথম: ভোর বেলা চলা: দিনের শুরুতে যাত্রা করা; ফজরের সালাত এবং সূর্যোদয়ের মধ্যে।
দ্বিতীয়: অপরাহ্ন: দুপুরের পর যাত্রা করা।
তৃতীয়: রাতে যাত্রা: রাতের সমস্ত বা আংশিক অংশে চলা। যেহেতু রাতের আমল দিনের আমলের চেয়ে বেশি কঠিন, তাই তিনি وشيءٍ من الدلجة বলে এর কিছু অংশের আদেশ দিয়েছেন।
শিক্ষা
ইসলামী শরীয়তের স্বাচ্ছন্দ্য ও সহনশীলতার প্রমাণ এবং বাড়াবাড়ি ও অবহেলার মধ্যবর্তী অবস্থান গ্রহণ করা।
অবশ্যই বান্দাকে তার সামর্থ্য মোতাবেক শিথিলতা বা কঠোরতা ছাড়াই কাজটি সম্পাদন করতে হবে।
বান্দার ওপর আবশ্যক হলো ইবাদতে উদ্যমতার সময় গ্রহণ করা। আর এই তিনটি সময় হল সর্বোত্তম সময় যখন শরীর ইবাদতের জন্য প্রস্তুত হয়।
ইবনু হাজার আল-আসকালানী বলেছেন: যেন তিনি একজন মুসাফির কে একটি গন্তব্যের দিকে সম্বোধন করেছেন। আর এই তিনটি সময় মুসাফিরের জন্য সর্বোত্তম সময়, তাই তিনি তাকে তার উদ্যমতার সময় সম্পর্কে সতর্ক করেছেন। কারণ মুসাফির যদি সারারাত ও দিনে ভ্রমণ করে তবে সে অক্ষম ও বাধাগ্রস্ত হয়ে পড়বে। আর যদি এই উদ্যম সময়ে চলার চেষ্টা করে সে কষ্ট ছাড়াই অবিরাম চলতে পারবে।
ইবনু হাজার বলেন: এই হাদীসের শিক্ষা হল শরীয়তের দেওয়া ছাড় গ্রহণ করা উত্তম। কারণ ছাড়ের জায়গায় আবশ্যিক বিধান গ্রহণ করা এক প্রকার বাড়াবাড়ি, যেমন কেউ পানি ব্যবহার করতে অক্ষম অবস্থায় তায়াম্মুম ত্যাগ করে পানি ব্যবহার করার কারণে ক্ষতির সম্মুখীন হল।
ইবনুল মুনীর বলেনঃ এই হাদীসটি নবুওয়াতের একটি নিদর্শন। আমরা দেখেছি এবং আমাদের পূর্ববর্তী লোকেরা দেখেছেন যে, দ্বীনের ব্যাপারে বাড়াবাড়িতে লিপ্ত প্রত্যেকে এক সময় ইবাদত ছেড়ে দেন; এর উদ্দেশ্য ইবাদতে পরিপূর্ণতা অর্জনে বাধা দেওয়া নয়। কারণ এটি একটি প্রশংসনীয় বিষয়; বরং তার উদ্দেশ্য হল ক্লান্তি আনয়নকারী বাড়াবাড়ি থেকে নিষেধ করা; অথবা নফল ইবাদতে বাড়াবাড়ি থেকে নিষেধ করা যা উত্তম বিষয় ছাড়ার দিকে নিয়ে যায়; অথবা ফরযকে তার নির্দিষ্ট সময়ের বাইরে নিয়ে যায়, যেমন কেউ সারা রাত নফল সালাতে মগ্ন থেকে ফজর সালাত জামাতের সাথে না পড়ে ঘুমিয়ে পড়ল; অথবা এতটা বিলম্ব করল যে সূর্য উদিত হয়ে ফরযের সময় শেষ হয়ে গেল।
সূত্র
صحيح البخاري (1/ 16) (39).
بهجة الناظرين شرح رياض الصالحين، لسليم الهلالي (1/ 219).
تطريز رياض الصالحين، لفيصل آل مبارك (ص115).
এখানকার প্রতিটি হাদীস, মান, ব্যাখ্যা ও শিক্ষা HadeethEnc.com যেভাবে প্রকাশ করে হুবহু সেভাবেই দেখানো, তাদের পুনঃপ্রকাশের শর্ত মেনে। মানের সঙ্গে মান-নির্ধারকের নাম নেই। অনুবাদ ও ব্যাখ্যা এর লেখকদের নিজস্ব, এবং কোনো কোনোটিতে বিধান বলা আছে; সাবীলের পর্যালোচকেরা এগুলো যাচাই করেননি। আরবি হাদীসটিই মূল পাঠ। উৎস: HadeethEnc.com