عن علي بن أبي طالب رضي الله عنه قال: "حدثوا الناس بما يعرفون، أتريدون أن يُكذَّب اللهُ ورسولهُ؟".
‘আলী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “মানুষ যা বুঝে তাই তাদের নিকট বল, তোমরা কি পছন্দ কর যে, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে মিথ্যা বলা হোক।”
এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন।মানসহীহ
ব্যাখ্যা
আমিরুল মুমিনীন আলী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বর্ণনা করেন যে, সাধারণ জনগণকে শুধু এটিই বলা উচিৎ যা মানুষকে তাদের দীনের মূলনীতি ও বিধিবিধানের ক্ষেত্রে উপকারী। যেমন, তাওহীদ, হালাল-হারাম বর্ণনা করা। আর যা মানুষকে তার থেকে বিরত রাখে সেগুলো পরিহার করা, যার কোনো প্রয়োজন নেই অথবা যা মানুষের নিকট কঠিন হয়ে পড়ে ও যা বুঝা তাদের জন্যে কষ্টকর হয়, (সেগুলোও না বলা) যা তাদেরকে সত্য পরিহার ও তা গ্রহণ না করার দিকে ধাবিত করে।
সূত্র
كتاب التوحيد للإمام محمد بن عبد الوهاب، ت: د. دغش العجمي، مكتبة أهل الأثر, الطبعة الخامسة, 1435ه.
الجديد في شرح كتاب التوحيد، لمحمد بن عبد العزيز السليمان القرعاوي, ت: محمد بن أحمد سيد, مكتبة السوادي، الطبعة: الخامسة، 1424ه.
الملخص في شرح كتاب التوحيد، للشيخ صالح الفوزان, دار العاصمة, الطبعة الأولى، 1422ه.
صحيح البخاري, ترقيم محمد فؤاد عبد الباقي, دار طوق النجاة, الطبعة: الأولى، 1422هـ.
HadeethEnc.com-এ এই হাদীসعن سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، عَنْ أَبِيهِ قَالَ: لَمَّا حَضَرَتْ أَبَا طَالِبٍ الْوَفَاةُ، جَاءَهُ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَوَجَدَ عِنْدَهُ أَبَا جَهْلٍ وَعَبْدَ اللهِ بْنَ أَبِي أُمَيَّةَ بْنِ الْمُغِيرَةِ، فَقَالَ: «أَيْ عَمِّ، قُلْ: لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ، كَلِمَةً أُحَاجُّ لَكَ بِهَا عِنْدَ اللهِ»، فَقَالَ أَبُو جَهْلٍ وَعَبْدُ اللهِ بْنُ أَبِي أُمَيَّةَ: أَتَرْغَبُ عَنْ مِلَّةِ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ، فَلَمْ يَزَلْ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَعْرِضُهَا عَلَيْهِ، وَيُعِيدَانِهِ بِتِلْكَ الْمَقَالَةِ، حَتَّى قَالَ أَبُو طَالِبٍ آخِرَ مَا كَلَّمَهُمْ: عَلَى مِلَّةِ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ، وَأَبَى أَنْ يَقُولَ: لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: «وَاللهِ لَأَسْتَغْفِرَنَّ لَكَ مَا لَمْ أُنْهَ عَنْكَ»، فَأَنْزَلَ اللهُ: {مَا كَانَ لِلنَّبِيِّ وَالَّذِينَ آمَنُوا أَنْ يَسْتَغْفِرُوا لِلْمُشْرِكِينَ} [التوبة: 113]، وَأَنْزَلَ اللهُ فِي أَبِي طَالِبٍ، فَقَالَ لِرَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم: {إِنَّكَ لا تَهْدِي مَنْ أَحْبَبْتَ وَلَكِنَّ اللهَ يَهْدِي مَنْ يَشَاءُ} [القصص: 56].
সা‘ঈদ ইবনুল মুসাইয়্যাব রহ. তার পিতা (মুসাইয়্যাব ইবন হুজন) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন: لَمَّا حَضَرَتْ أَبَا طَالِبٍ الْوَفَاةُ، جَاءَهُ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَوَجَدَ عِنْدَهُ أَبَا جَهْلٍ وَعَبْدَ اللهِ بْنَ أَبِي أُمَيَّةَ بْنِ الْمُغِيرَةِ، فَقَالَ: «أَيْ عَمِّ، قُلْ: لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ، كَلِمَةً أُحَاجُّ لَكَ بِهَا عِنْدَ اللهِ»، فَقَالَ أَبُو جَهْلٍ وَعَبْدُ اللهِ بْنُ أَبِي أُمَيَّةَ: أَتَرْغَبُ عَنْ مِلَّةِ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ، فَلَمْ يَزَلْ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَعْرِضُهَا عَلَيْهِ، وَيُعِيدَانِهِ بِتِلْكَ الْمَقَالَةِ، حَتَّى قَالَ أَبُو طَالِبٍ آخِرَ مَا كَلَّمَهُمْ: عَلَى مِلَّةِ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ، وَأَبَى أَنْ يَقُولَ: لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: «وَاللهِ لَأَسْتَغْفِرَنَّ لَكَ مَا لَمْ أُنْهَ عَنْكَ»، فَأَنْزَلَ اللهُ: {مَا كَانَ لِلنَّبِيِّ وَالَّذِينَ آمَنُوا أَنْ يَسْتَغْفِرُوا لِلْمُشْرِكِينَ} [التوبة: 113]، وَأَنْزَلَ اللهُ فِي أَبِي طَالِبٍ، فَقَالَ لِرَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم: {إِنَّكَ لا تَهْدِي مَنْ أَحْبَبْتَ وَلَكِنَّ اللهَ يَهْدِي مَنْ يَشَاءُ} [القصص: 56].
আবূ তালিব এর মৃত্যুর সময় উপস্থিত হলে, আল্লাহর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার নিকট আসলেন। তখন সেখানে তিনি আবূ জাহাল ও ‘আবদুল্লাহ্ ইবন আবূ উমায়্যাহকে উপস্থিত পেলেন। (রাবী বলেন) তিনি তাকে বললেন: “হে চাচাজান! ‘লা- ইলা-হা ইল্লাল্লাহ’ কালিমা পাঠ করুন, তা হলে এর দ্বারা আমি আল্লাহর সমীপে আপনার জন্য সুপারিশ করতে পারবো।” তখন আবূ জাহাল ও ‘আবদুল্লাহ্ ইবন আবূ উমায়্যাহ তাকে বলে উঠল, তুমি কি আবদুল মুত্তালিবের মিল্লাত হতে বিমুখ হবে? নবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার নিকট কালিমাহ বারবার পুনরাবৃত্তি করতে লাগলেন। অবশেষে আবূ তালিব তাদের সামনে শেষ কথাটি যা বলল, তা এই যে, সে আবদুল মুত্তালিবের মিল্লাতের উপর অবিচল রয়েছে, সে ‘লা- ইলা-হা ইল্লাল্লাহ’ বলতে অস্বীকার করল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “আল্লাহর কসম! তবুও আমি আপনার জন্য মাগফিরাত কামনা করতে থাকব, যতক্ষণ না আমাকে তা হতে নিষেধ করা হয়।” এ প্রসঙ্গে আল্লাহ্ তা‘আলা নাযিল করেন: “নবীর জন্য সংগত নয় এবং ঈমানদারদের জন্যও সংগত নয় যে,তারা মুশরিকদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করবে।” [সূরা আত-তাওবা: ১১৩] আর আল্লাহ তা‘আলা আবূ তালিব সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে নাযিল করেন: “আপনি যাকে পছন্দ করেন তাকে হিদায়াত দিতে পারবেন না। তবে আল্লাহ যাকে চান তাকেই হিদায়াত দান করেন।” [সূরা আল-কাসাস: ৫৬]
সহীহ বুখারী ও মুসলিমমানসহীহ
ব্যাখ্যা
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর চাচা আবু তালিবকে তার মৃত্যু আসন্ন অবস্থায় দেখতে প্রবেশ করলেন, তখন তাঁকে বললেন: চাচা, আপনি কালেমা :
"لاإله إلا الله"
(আল্লাহ ছাড়া সত্য কোন উপাস্য নেই,) বলুন , তাহলে আমি আল্লাহর কাছে আপনার পক্ষে সাক্ষ্য দিব। আবু জাহেল ও আবদুল্লাহ ইবনে আবি উমাইয়া বলল, হে আবু তালিব, তুমি কি তোমার পিতা আবদুল মুত্তালিবের ধর্ম পরিত্যাগ করছ? আর তা হচ্ছে, মূর্তি পূজা। তারা এভাবেই তার সাথে বলতে থাকে যতক্ষণ না তিনি তাদের সাথে শেষ কথাটি বলেছিলেন: আমি আব্দুল মুত্তালিবের মিল্লাতের ওপর আছি,যা শিরকী মিল্লাত এবং মূর্তি পূজার উপর (আমি রয়েছি)। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: আমি আপনার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করব, যদি না আমার রব আমাকে তা করতে নিষেধ করেন। তখন আল্লাহ তা’আলার বাণী অবতীর্ণ হয়: {مَا كَانَ لِلنَّبِيِّ وَالَّذِينَ آمَنُوا أَنْ يَسْتَغْفِرُوا لِلْمُشْرِكِينَ وَلَوْ كَانُوا أُولِي قُرْبَى مِنْ بَعْدِ مَا تَبَيَّنَ لَهُمْ أَنَّهُمْ أَصْحَابُ الْجَحِيمِ} [التوبة: 113]،
“মুশরিকদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা নবী এবং ঈমানদারদের জন্য উচিত নয়, যদিও তারা আত্মীয় হয়, তাদের কাছে এটা স্পষ্ট হয়ে যাওয়ার পর যে তারা জাহান্নামী।” আবু তালিব সম্পর্কে আল্লাহর বাণী অবতীর্ণ হয়েছিল: {إِنَّكَ لا تَهْدِي مَنْ أَحْبَبْتَ وَلَكِنَّ اللَّهَ يَهْدِي مَنْ يَشَاءُ وَهُوَ أَعْلَمُ بِالْمُهْتَدِينَ} [القصص: 56]،
“তুমি যাকে ভালবাসো তাকে হেদায়েত করতে পারবে না; বরং আল্লাহ যাকে ইচ্ছা সৎপথে হেদায়েত দান করেন এবং তিনিই ভালো জানেন কারা হেদায়েতপ্রাপ্ত।” তুমি যাকে হেদায়েত দিতে পছন্দ কর তাকে হেদায়েত দিতে পারবেনা; তোমার দায়িত্ব তো শুধুমাত্র বার্তা পৌঁছে দেয়া এবং আল্লাহ যাকে ইচ্ছা তাকে হেদায়েত করেন।
শিক্ষা
- সকল মুশরিকের জন্য ক্ষমা চাওয়া হারাম; তারা যতোই আত্মীয়তা হোক বা তাদের আমল যাই হোক তাদের অনুগ্রহ যতোই থাকুক।
- পূর্বপুরুষ ও গুরুজনদের ভ্রান্ত নীতির অনুকরণ করা জাহেলী যুগের মানুষের কাজ।
- নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পরিপূর্ণ করুণা এবং মানুষকে দাওয়াত দেয়া ও তাদেরকে সঠিক পথ দেখাতে তাঁর অদম্য আগ্রহের প্রকাশ।
- যারা দাবী করে আবু তালিব ইসলাম গ্রহণ করেছেন তাদের জবাব।
- মানুষের শেষ আমলেরই বিবেচনা হবে।
- উপকার সাধন বা ক্ষতি থেকে রক্ষা করাকে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং অন্যান্যদের সাথে সম্পৃক্ত করার ভ্রান্ততা প্রমাণিত।
- যে ব্যক্তি ইলম, ইয়াক্বীন ও বিশ্বাসের সাথে ( لا إله إلا الله) "আল্লাহ ছাড়া কোন সত্য মাবূদ নেই" বলে স্বীকৃতি দিবে সে ইসলামে প্রবেশ করবে।
- মানুষের জন্য খারাপ মানুষ এবং খারাপ সঙ্গীদের ক্ষতি।
- لا إله إلا الله “আল্লাহ ব্যতীত কোন সত্য মাবূদ নেই” এর অর্থ: মূর্তি, আওলিয়া ও সৎব্যক্তিদের পূজা ত্যাগ করা এবং একমাত্র আল্লাহর ইবাদাত করা। আর মুশরিকরাও এর অর্থ জানে।
- মুশরিক রোগীকে দেখতে যাওয়া জায়েয, যদি আশা করা যায় যে সে ইসলাম গ্রহণ করবে।
- হেদায়েত দেয়ার তাওফীক একমাত্র আল্লাহর হাতে, তাঁর কোন অংশীদার নেই; রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দায়িত্ব শুধু পথ দেখানো, নির্দেশনা দেয়া এবং রবের বাণী পৌঁছানো।
সূত্র
صحيح البخاري (6/ 112) (4772).
صحيح مسلم (1/ 54) (24).
الملخص في شرح كتاب التوحيد، لصالح الفوزان (ص155).
الجديد في شرح كتاب التوحيد، للقرعاوي (ص169).
HadeethEnc.com-এ এই হাদীসعن أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ رضي الله عنه قال: بينما نحن جلوس مع النبي صلى الله عليه وسلم في المسجد دخل رجل على جمل، فأناخه في المسجد ثم عقله، ثم قال لهم: أيكم محمد؟ والنبي صلى الله عليه وسلم متكئ بين ظهرانيهم، فقلنا: هذا الرجل الأبيض المتكئ. فقال له الرجل: يا ابن عبد المطلب فقال له النبي صلى الله عليه وسلم: «قد أجبتك». فقال الرجل للنبي صلى الله عليه وسلم: إني سائلك فمشدد عليك في المسألة، فلا تجد علي في نفسك؟ فقال: «سل عما بدا لك» فقال: أسألك بربك ورب من قبلك، آلله أرسلك إلى الناس كلهم؟ فقال: «اللهم نعم». قال: أنشدك بالله، آلله أمرك أن نصلي الصلوات الخمس في اليوم والليلة؟ قال: «اللهم نعم». قال: أنشدك بالله، آلله أمرك أن نصوم هذا الشهر من السنة؟ قال: «اللهم نعم». قال: أنشدك بالله، آلله أمرك أن تأخذ هذه الصدقة من أغنيائنا فتقسمها على فقرائنا؟ فقال النبي صلى الله عليه وسلم: «اللهم نعم». فقال الرجل: آمنت بما جئت به، وأنا رسول من ورائي من قومي، وأنا ضمام بن ثعلبة أخو بني سعد بن بكر.
আনাস ইবনু মালিক রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: একদা আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে মসজিদে বসা ছিলাম, এক ব্যক্তি উটের পিঠে সওয়ার হয়ে সেখানে এসে তার উটকে মসজিদে বসিয়ে বাঁধলেন। তারপর সাহাবীদেরকে বললেন: “তোমাদের মধ্যে মুহাম্মাদ কে?” নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তখন তাদের মধ্যেই হেলান দেওয়া অবস্থাতে ছিলেন, আমরা বললাম: হেলান দেওয়া এই সাদা ব্যক্তিটি। তখন সে বলল: হে আব্দুল মুত্তালিবের সন্তান! নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে বললেন: “আমি তোমার জবাব দিয়েছি।” তখন সে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে উদ্দেশ্য করে বলল: আমি আপনাকে কিছু বিষয় কঠিনভাবে জিজ্ঞাসা করছি, হয়ত তা আপনাকে কষ্ট দেবে, তবে আপনি আমার ব্যাপারে আপনার অন্তরে কোন কষ্ট নেবেন না। তখন তিনি বললেন: “তুমি জিজ্ঞাসা কর যা জানতে চাও।” তখন সে বলল: আমি আপনার রব এবং আপনার পূর্ববর্তীদের রবের কসম করে জিজ্ঞাসা করছি, আল্লাহ কী আপনাকে সমগ্র মানব জাতীর কাছে প্রেরণ করেছেন? তিনি বললেন: “আল্লাহুম্মা (হে আল্লাহ!), অবশ্যই।” তারপর সে বলল: আমি আপনাকে আল্লাহর কসম দিয়ে জিজ্ঞাসা করছি, আল্লাহ কী আপনাকে আদেশ করেছেন যে, আমরা রাতে-দিনে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করব? তিনি বললেন: “আল্লাহুম্মা (হে আল্লাহ!), অবশ্যই।” তারপর সে বলল: আমি আপনাকে আল্লাহর কসম দিয়ে জিজ্ঞাসা করছি, আল্লাহ কী আপনাকে আদেশ করেছেন যে, আমরা বছরের এই মাসে সিয়াম পালন করব? তিনি বললেন: “আল্লাহুম্মা (হে আল্লাহ!), অবশ্যই।” তারপর সে বলল: আমি আপনাকে আল্লাহর কসম দিয়ে জিজ্ঞাসা করছি, আল্লাহ কী আপনাকে আদেশ করেছেন যে, আপনি আমাদের ধনী ব্যক্তিদের থেকে এই সদাকাহ (যাকাত) গ্রহণ করে তা আমাদের দরিদ্রদের মাঝে বণ্টন করে দিবেন? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: “আল্লাহুম্মা (হে আল্লাহ!), অবশ্যই।” তারপর লোকটি বলল: আপনি যা নিয়ে আগমন করেছেন তার উপরে আমি ঈমান আনলাম আর আমি হচ্ছি আমার পিছনে থাকা কওমের প্রতিনিধি, এবং আমি বনু সা‘দ ইবনু বকরের ভাই দ্বিমাম ইবনু ছা‘লাবাহ।
সহীহ বুখারী ও মুসলিমমানসহীহ
ব্যাখ্যা
আনাস ইবনু মালিক রদিয়াল্লাহু ‘আনহু বর্ণনা করছেন, সাহাবীগণ একদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে মসজিদে বসে ছিলেন, তখন উটের পিঠে করে একজন ব্যক্তি তার কাছে এসে উটকে বসিয়ে তা বেঁধে রাখল। তারপর সে জিজ্ঞাসা করল: তোমাদের মধ্যে মুহাম্মাদ কে? সবার মাঝে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন হেলান দেওয়া অবস্থায় ছিলেন। আমরা বললাম: এই সাদা পোষাক পরিহিত হেলান দেওয়া ব্যক্তি। তখন লোকটি বলল: হে আব্দুল মুত্তালিবের সন্তান! নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে বললেন: আমি তোমার কথা শুনেছি, তুমি প্রশ্ন কর, আমি উত্তর দেব। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে উদ্দেশ্য করে লোকটি বলল: আমি আপনাকে কঠোর ভাষায় জিজ্ঞাসা করছি, তাই আপনি আমার ওপর অসন্তুষ্ট হবেন না। তথা: আমার উপরে রাগ করবেন না এবং আমার ব্যাপারে সংকীর্ণ মনোভাব পোষণ করবেন না। তিনি বললেন: তুমি যা ইচ্ছা জিজ্ঞাসা কর। তখন সে বলল: আমি আপনাকে আপনার রব ও আপনার আগে গত হওয়া ব্যক্তিদের রবের কসম দিয়ে জিজ্ঞাসা করছি, আল্লাহ কী আপনাকে মানুষের কাছে প্রেরণ করেছেন? তখন তিনি তার সত্যতা নিশ্চিত করে বললেন: “হে আল্লাহ!১ হ্যাঁ। তখন লোকটি বলল: আমি আপনাকে আল্লাহর কসম দিচ্ছি, তথা: আল্লাহর নামে আপনাকে জিজ্ঞাসা করছি, আল্লাহ কী আপনাকে আদেশ করেছেন যে, আমরা যেন দিনে-রাতে পাঁচবার সালাত আদায় করি? এগুলো হচ্ছে ফরয সালাতসমূহ। তিনি বললেন: “হে আল্লাহ! হ্যাঁ।” তখন লোকটি বলল: আমি আপনাকে কসম দিচ্ছি, আল্লাহ কী আপনাকে আদেশ করেছেন যে, আমরা বছরের এ মাস তথা রমাদান মাসে সিয়াম পালন করব? তিনি বললেন: “হে আল্লাহ ! হ্যাঁ।” তখন লোকটি বলল: আমি আপনাকে কসম দিচ্ছি, আল্লাহ কী আপনাকে আদেশ করেছেন যে, আপনি আমাদের ধনী ব্যক্তিদের কাছ থেকে সদাকা গ্রহণ করে আমাদের দরিদ্রদের মাঝে তা বণ্টন করে দেবেন? আর তা হল: যাকাত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: “হে আল্লাহ ! হ্যাঁ।” তরাপর দ্বিমাম ইসলাম গ্রহণ করেন এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সংবাদ দিলেন যে, তিনি অচিরেই তার জাতিকে ইসলামের দিকে আহবান জানাবেন। আর এরপরে তিনি তার নিজের পরিচয় প্রদান করে বললেন: তিনি হচ্ছেন বনু সা‘দ ইবনু বাকরের অন্তর্ভুক্ত দ্বিমাম ইবনু ছা‘লাবাহ।
শিক্ষা
- নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বিনয় প্রকাশ: যেহেতু সাহাবীদের থেকে এ লোকটি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে পৃথক করতে পারছিলেন না।
- নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্দর আচরণ: এবং প্রশ্নকারীর জবাবে তার কোমলতা ফুটে উঠেছে। আর সুন্দরভাবে উত্তর প্রদান করা দাও‘আত গ্রহণ করার মাধ্যম।
- কোন ব্যক্তিকে তার বৈশিষ্ট্য দ্বারা পরিচয় দেওয়া যেমন: লাল, সাদা, লম্বা, খাটো বা এরকম অন্যান্য বৈশিষ্ট্য, যার মাধ্যমে ত্রুটি বর্ণনা উদ্দেশ্য না, তা দ্বারা পরিচয় প্রদান করা জায়েয, যদি উক্ত ব্যক্তি তা অপছন্দ না করে।
- প্রয়োজন সাপেক্ষে কাফিরের মসজিদে প্রবেশ করা জায়েয।
- রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাদীসে হজ্জের উল্লেখ করেননি, হতে পারে উক্ত ব্যক্তি আগমনের সময় পর্যন্ত হজ্জ ফরয হয়নি।
- হাদীসটিতে সাহাবীদের মানুষকে ইসলামের দিকে আহবানের আগ্রহের কথা ফুটে উঠেছে। কারণ তার শুধুমাত্র ইসলাম গ্রহণের পরপরই তিনি তার জাতিকে দাও‘আত দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
সূত্র
صحيح البخاري (1/ 23) (63)، صحيح مسلم (1/ 41) (12)، شرح ابن بطال (1/145)، عمدة القاري شرح صحيح البخاري (2/ 22).
HadeethEnc.com-এ এই হাদীস