মূল অংশে যান
ব্যাখ্যাসহ হাদীস

ইসলামে জীব-জন্তুর অধিকার

৭টি হাদীস

তোমরা এ সকল বোবা পশুদের ব্যাপারে আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন কর। সুস্থ সবল রেখে এদের পিঠে আরোহণ কর এবং সুস্থ সবল রেখে এদের গোশত খাও।

عن سهل بن عمرو رضي الله عنه قال: مرَّ رسول الله صلى الله عليه وسلم ببعير قد لَحِق ظَهْرُه ببَطْنِهِ، فقال: «اتقوا الله في هذه البهائم المُعْجَمة، فاركَبُوها صالحة، وكُلُوها صالحة».
সাহল ইবন আমর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে মারফূ‘ সনদে বর্ণিত। একদা রাসূলূল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন একটি উটের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন, যার পেট ও পিঠ অনাহারে একত্র হয়ে গিয়েছিল। তা দেখে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরা এ সকল বোবা পশুদের ব্যাপারে আল্লাহ্কে ভয় কর। এদেরকে দানাপানি দিয়ে সুস্থ সবল রাখ ও সুস্থ সবল পশুর পিঠে আরোহণ কর এবং খাওয়ার সময়ও সুস্থ সবল প্রাণীর গোশত খাও।
এটি আবূ দাঊদ বর্ণনা করেছেন। - এটি আহমাদ বর্ণনা করেছেন।মানসহীহ
ব্যাখ্যা

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি উট দেখলেন, যার পেট ও পিঠ অনাহারে একত্র হয়ে গিয়েছিল। তা দেখে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বোবা পশুদের সাথে দয়ার্দ্র হওয়ার নির্দেশ দিলেন। বস্তুত মানুষের ওপর দায়িত্ব হলো তারা যেন বোবা পশুদের সাথে ভালো ব্যবহার করে। তাদের উপর এমন বোঝা চাপিয়ে দিবে না যা তারা বহন করতে পারে না। তাদের খাবার ও পানীয়ের ব্যাপারে কার্পণ্য করবে না। ফলে যদি তার পিঠে আরোহণ করে তখন সেটাকে আরোহণ উপযোগী পাবে আর যদি তার গোস্ত খেতে হয় তবে সেটা খাওয়ার উপযোগী পাবে।

সূত্র

- رياض الصالحين من كلام سيد المرسلين؛ للإمام أبي زكريا النووي، تحقيق د. ماهر الفحل، دار ابن كثير-دمشق، الطبعة الأولى، 1428ه. - بهجة الناظرين شرح رياض الصالحين؛ تأليف سليم الهلالي، دار ابن الجوزي- الطبعة الأولى1418ه. - نزهة المتقين شرح رياض الصالحين؛ تأليف د. مصطفى الخِن وغيره، مؤسسة الرسالة-بيروت، الطبعة الرابعة عشرة، 1407هـ. - سنن أبي داود، لأبي داود السجستاني، تحقيق محمد محيي الدين، المكتبة العصرية. - كنوز رياض الصالحين، لحمد بن ناصر العمار، دار كنوز إشبيليا- الطبعة الأولى1430ه. - شرح رياض الصالحين؛ للشيخ محمد بن صالح العثيمين، مدار الوطن، الرياض، 1426هـ. - مرقاة المفاتيح: علي بن سلطان محمد، أبو الحسن نور الدين الملا الهروي القاري -دار الفكر، بيروت – لبنان الطبعة: الأولى، 1422هـ - 2002م. -التَّنويرُ شَرْحُ الجَامِع الصَّغِيرِ محمد بن إسماعيل الصنعاني، المحقق: د. محمَّد إسحاق محمَّد إبراهيم مكتبة دار السلام، الرياض -الطبعة: الأولى، 1432 هـ - 2011 م.

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

নিশ্চয় বিড়াল অপবিত্র (প্রাণী) নয়। এরা তোমাদের আশেপাশে ঘুরাফেরাকারী ও তোমাদের সংশ্রবে আশ্রিত প্রাণী।

عن كبشة بنت كعب بن مالك -وكانت تحت ابن أبي قتادة-: أن أبا قتادة دخل فسَكَبَتْ له وَضُوءًا، فجاءت هرة فشربت منه، فأصغى لها الإناء حتى شربت، قالت كبشة: فرآني أنظر إليه، فقال: أتعجبين يا ابنة أخي؟ فقلت: نعم، فقال: إن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «إنها ليست بنجس، إنها من الطوافين عليكم والطوافات».
কাবশা বিনত কা‘ব ইবন মালিক রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি আবূ কাতাদা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুর পুত্রবধূ ছিলেন। তিনি বলেন, একদা আবূ কাতাদা (গৃহে) আগমন করলে আমি তাকে অযুর পানি দিলাম। এমতাবস্থায় একটি বিড়াল এসে উক্ত পানি পান করলো। বিড়ালটির পানি পান করার সুবিধার্থে আবূ কাতাদা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু পাত্রটি কাত করে ধরলেন এবং বিড়ালটি তৃপ্তি সহকারে পানি পান করল। কাবশা বলেন, তিনি আমাকে এর প্রতি তাকিয়ে থাকতে দেখে জিজ্ঞেস করলেন, হে আমার ভ্রাতুষ্পুত্রী! তুমি কি আশ্চর্যবোধ করছ? জবাবে আমি (কাবশা) বললাম, হ্যাঁ। তখন তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “নিশ্চয় বিড়াল অপবিত্র (প্রাণী) নয়। এরা তোমাদের আশেপাশে ঘুরাফেরাকারী ও তোমাদের সংশ্রবে আশ্রিত প্রাণী।”
এটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন। - এটি নাসাঈ বর্ণনা করেছেন। - এটি আবূ দাঊদ বর্ণনা করেছেন। - এটি আহমাদ বর্ণনা করেছেন। - এটি দারিমী বর্ণনা করেছেনমানসহীহ
ব্যাখ্যা

উপরোক্ত হাদীসে এসেছে, আবূ কাতাদা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু অযু শুরু করলে একটি বিড়াল ঘরে প্রবেশ করল -সাধারণত বিড়াল গৃহে প্রবেশ করে, মানুষের সাথে মিলেমিশে থাকে এবং আশেপাশে ঘুরাফেরা করে- বিড়ালটির পানি পান করার সুবিধার্থে আবূ কাতাদা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু পাত্রটি কাত করে ধরলেন যাতে অযুর পানি থেকে পান করে। এতে তার ভ্রাতুষ্পুত্রী কাবশা আশ্চর্য হলেন। পাত্রের পানি শুধু অযু করার জন্য প্রস্তুত করা হয়েছিল। সুতরাং তা স্বয়ং পবিত্র ও অন্যকে পবিত্রকারী হওয়া অত্যাবশ্যক। তখন আবূ কাতাদা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু কাবশাকে নিম্নোক্ত হাদীস বললেন যে, নিশ্চয় বিড়াল নাপাক প্রাণী নয়। সে পাত্র থেকে পানি পান করায় অবশিষ্ট পানিতে কোনো প্রভাব পড়ে নি। কেননা নিশ্চয় এরা সর্বদা মানুষের আশেপাশে ঘুরাফেরাকারী ও সংশ্রবে আশ্রিত প্রাণী।

সূত্র

- منحة العلام في شرح بلوغ المرام: تأليف عبد الله الفوزان - طبعة دار ابن الجوزي، الطبعة الأولى، 1428. - توضيح الأحكام شرح بلوغ المرام: تأليف عبد الله البسام - مكتبة الأسدي – مكة المكرمة –الطبعة: الخامِسَة، 1423 هـ - 2003 م. - تسهيل الإلمام بفقه الأحاديث من بلوغ المرام: تأليف الشيخ صالح الفوزان - مؤسسة الرسالة. - سنن أبي داود، سليمان بن الأشعث السِّجِسْتاني، تحقيق: محمد محيي الدين عبد الحميد: المكتبة العصرية، صيدا - بيروت. - سنن الترمذي - محمد بن عيسى الترمذي، تحقيق وتعليق: أحمد محمد شاكر ومحمد فؤاد عبد الباقي وإبراهيم عطوة عوض -شركة مكتبة ومطبعة مصطفى البابي الحلبي - مصر، الطبعة: الثانية، 1395 هـ - 1975 م. - مسند الإمام أحمد بن حنبل المحقق: شعيب الأرنؤوط - عادل مرشد، وآخرون إشراف: د عبد الله بن عبد المحسن التركي مؤسسة الرسالة، الطبعة: الأولى، 1421 هـ - 2001 م.

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম জীব-জন্তুকে কষ্ট দিয়ে হত্যা করতে নিষেধ করেছেন।

عن أنس رضي الله عنه قال: نَهى رسول الله صلى الله عليه وسلم أن تُصْبَرَ البَهائِم.
আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম জীব-জন্তুকে কষ্ট দিয়ে হত্যা করতে নিষেধ করেছেন।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।মানসহীহ
ব্যাখ্যা

আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু আমাদেরকে বলেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম জীব-জন্তুকে জীবন্ত আটকিয়ে রেখে তীর বা অন্য কিছু দ্বারা কষ্ট দিয়ে হত্যা করতে নিষেধ করেছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা থেকে নিষেধ করেছেন কারণ এর দ্বারা জীব-জন্তুকে কষ্ট প্রদান করা হয়।

সূত্র

نزهة المتقين، تأليف: جمعٌ من المشايخ، الناشر: مؤسسة الرسالة، الطبعة الأولى: 1397 هـ الطبعة الرابعة عشر 1407 هـ. بهجة الناظرين، تأليف: سليم بن عيد الهلالي، الناشر: دار ابن الجوزي ، سنة النشر: 1418 هـ - 1997م. صحيح البخاري، تأليف: محمد بن إسماعيل البخاري، تحقيق: محمد زهير الناصر، الناشر: دار طوق النجاة الطبعة: الأولى، 1422هـ. صحيح مسلم، تأليف: مسلم بن الحجاج النيسابوري، تحقيق: محمد فؤاد عبد الباقي الناشر: دار إحياء التراث العربي، بيروت. رياض الصالحين، تأليف: محيي الدين يحيى بن شرف النووي، تحقيق: د. ماهر بن ياسين الفحل، الطبعة: الأولى، 1428 هـ. المنهاج شرح صحيح مسلم، تأليف: محيي الدين يحيى بن شرف النووي، الناشر: دار إحياء التراث العربي، الطبعة: الثانية 1392 هـ. شرح رياض الصالحين، تأليف: محمد بن صالح العثيمين، الناشر: دار الوطن للنشر، الطبعة: 1426 هـ.

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন একটি গাধা দেখতে পেলেন, যার চেহারা দাগা ছিল। তা দেখে তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করলেন।

عن ابن عباس رضي الله عنهما مرفوعاً: رأى رسول الله صلى الله عليه وسلم حِمَارًا مَوْسُومَ الوَجْهِ، فأنكر ذلك؟ فقال: «والله لا أَسِمُهُ إلا أقصى شيء من الوجه» وأمر بحماره فُكُوِيَ في جَاعِرَتَيْهِ، فهو أول من كوى الجاعرتين.
ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা থেকে মারফু‘ হিসেবে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম চেহারা দাগানো একটি গাধা দেখতে পেলেন। তা দেখে তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করলেন। অতঃপর বললেন, “আল্লাহর কসম! আমি ওর চেহারা থেকে সবচেয়ে দূরবর্তী অঙ্গে দাগাব। (আগুনের ছ্যাঁকা দিয়ে চিহ্ন দিব।)” অতঃপর তিনি নিজ গাধা সম্পর্কে নির্দেশ করলেন এবং তার পাছায় দাগা হলো। সুতরাং তিনিই প্রথম ব্যক্তি যিনি (গাধার) পাছা দেগেছিলেন।
এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।মানসহীহ
ব্যাখ্যা

হাদীসটির অর্থ: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন একটি গাধা দেখতে পেলেন, যার চেহারা দাগা হয়েছিল। তিনি সেটা অপছন্দ করলেন। ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমার অপর একটি হাদীসে আছে, "لعن فاعله" “দাগীকে তিনি অভিশাপ করেছেন।” চেনার জন্য জন্তুর দেহে দাগ লাগানোকে আল-ওয়াসাম বলা হয়। জন্তুর মালিকেরা তাদের জন্তুর সুরক্ষার জন্যে আলামত গ্রহণ করেন, আর প্রত্যেক গোত্রের জন্যই নির্দিষ্ট আলামত রয়েছে। হয়তো দু’টি সরল দাগ বা চারকোণা দাগ বা গোল দাগ বা চাঁদের মতো দাগ। মোটকথা প্রতিটি গোত্রের জন্যেই নির্ধারিত আলামত রয়েছে। আলামত জন্তুকে হিফাযত করে, যখন কোনো জন্তু হারিয়ে যায়, তখন মানুষেরা সেই আলামত দেখে বুঝতে পারে যে, জন্তুটি অমুক গোত্রের, তখন তারা তাদের নিকট সংবাদ পোঁছে দেয়। "فقال " অর্থাৎ আব্বাস ইবন আব্দুল মুত্তালিব রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বললেন, যেমনটি স্পষ্ট করেছেন ইবন হিব্বান তার সহীহ গ্রন্থে ইবন আব্বাস সূত্রে। তিনি বলেন, “আব্বাস একটি উট বা বাহনকে তার চেহারায় দাগিয়ে ছিলেন। রাসূলুলল্লাহু সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা দেখে ক্ষুব্ধ হলেন। তখন আব্বাস বললেন, আমি তার পেছন ব্যতীত কোথাও দাগাব না। তারপর তিনি তার পাছায় দাগালেন। যখন তিনি (চিহরায় দাগানো) নিষিদ্ধের বিষয়টি জানতে পারলেন, তিনি কসম করলেন, আর কখনো কোনো গাধাকে তার চেহারার শেষ প্রান্তে ছাড়া দাগাবেন না। ইবন হিব্বানের পূর্বের বর্ণনায় বর্ণিত, (তিনি বলেছেন) আমি তার শেষাংশ ছাড়া কোথাও দাগাবো না, ফলে তিনি তার পাছায় দাগ লাগান। অতঃপর তিনি (রাসূল) নিজ গাধা সম্পর্কে নির্দেশ করলেন, ফলে তার গাধার পাছায় দাগা হল। আর দাগের স্থান হলো তার শেষাংশ, উরুর উপর লেজের জায়গায় যেখানে জন্তুকে আঘাত করা হয়। ইমাম নববী রহ. বলেন, যখন দাগ লাগানো হয়, তখন মুস্তাহাব হলো ছাগলকে তার কানে এবং উট ও গরুকে তাদের উরুর গোঁড়ায় দাগ লাগানো। কারণ, এ জায়গাটি শক্ত হওয়ার কারণে কষ্ট কম হয়, এখানে পশমও কম হয়, তাই আলামত স্পষ্ট দেখা যায়। দাগ লাগানোর উপকারিতা হলো একটি জন্তুকে অন্য জন্তু থেকে পৃথক করা। সুতরাং আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুই প্রথম ব্যক্তি যিনি গাধার পাছা দাগিয়েছিলেন।

সূত্র

نزهة المتقين، تأليف: جمعٌ من المشايخ، الناشر: مؤسسة الرسالة، الطبعة الأولى: 1397 هـ الطبعة الرابعة عشر 1407 هـ. كنوز رياض الصالحين، تأليف: حمد بن ناصر بن العمار، الناشر: دار كنوز أشبيليا، الطبعة الأولى: 1430 هـ. بهجة الناظرين، تأليف: سليم بن عيد الهلالي، الناشر: دار ابن الجوزي ، سنة النشر: 1418 هـ- 1997م. صحيح مسلم، تحقيق: محمد فؤاد عبد الباقي الناشر: دار إحياء التراث العربي – بيروت. رياض الصالحين، تأليف: محيي الدين يحيى بن شرف النووي، تحقيق: د. ماهر بن ياسين الفحل ، الطبعة: الأولى، 1428 هـ. دليل الفالحين، تأليف: محمد بن علان، الناشر: دار الكتاب العربي، نسخة الكترونية ، لا يوجد بها بيانات نشر. شرح رياض الصالحين، تأليف: محمد بن صالح العثيمين، الناشر: دار الوطن للنشر، الطبعة: 1426 هـ.

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

“আগুনের রব ব্যতীত আগুন দিয়ে কিছুকে শাস্তি দেয়ার কারো অধিকার নেই”।

عنْ ابنِ مَسْعُودٍ رَضيَ اللهُ عنهُ قَالَ: كُنَّا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي سَفَرٍ، فَانْطَلَقَ لِحَاجَتِهِ، فَرَأَيْنَا حُمَّرَةً مَعَهَا فَرْخَانِ، فَأَخَذْنَا فَرْخَيْهَا، فَجَاءَتِ الْحُمَرَةُ فَجَعَلَتْ تَفْرِشُ، فَجَاءَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ: «مَنْ فَجَعَ هَذِهِ بِوَلَدِهَا؟ رُدُّوا وَلَدَهَا إِلَيْهَا»، وَرَأَى قَرْيَةَ نَمْلٍ قَدْ حَرَّقْنَاهَا، فَقَالَ: «مَنْ حَرَّقَ هَذِهِ؟» قُلْنَا: نَحْنُ. قَالَ: «إِنَّهُ لَا يَنْبَغِي أَنْ يُعَذِّبَ بِالنَّارِ إِلَّا رَبُّ النَّارِ».
ইবনু মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা ’আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সফর সঙ্গী ছিলাম। তিনি তাঁর প্রয়োজনে অন্যত্র গেলেন। ’আমরা দু’টি বাচ্চাসহ একটি পাখি দেখতে পেয়ে বাচ্চা দুটোকে ধরে নিলাম। মা পাখিটা সাথে সাথে আসলো এবং পাখা ঝাঁপটিয়ে বাচ্চার জন্য অস্থিরতা প্রকাশ করতে লাগলো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফিরে এসে বললেনঃ “কে এর বাচ্চা নিয়ে এসে একে অস্থিরতায় ফেলেছে? বাচ্চাগুলো এদের মায়ের কাছে ফিরিয়ে দাও”। তিনি আমাদের পুড়িয়ে দেয়া একটা পিঁপড়ার টিবি দেখতে পেয়ে বললেনঃ “কে এগুলো পুড়িয়েছে?” ’আমরা বললাম, ’আমরা। তিনি বললেনঃ “আগুনের রব ব্যতীত আগুন দিয়ে কিছুকে শাস্তি দেয়ার কারো অধিকার নেই”।
আবু দাউদ এটি বর্ণনা করেছেনমানসহীহ
ব্যাখ্যা

আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, তারা নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে এক সফরে ছিলেন, তিনি সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম মলত্যাগ করতে বেরিয়ে পড়লেন এবং তার সঙ্গীরা দুটি ছানাসহ একটি লাল পাখি দেখতে পেলেন, তাই তারা তাদের ধরলেন। লাল পাখিটি তার ছানা হারানোর ভয়ে আতঙ্কিত হয়ে তার ডানা মেলে দিতে শুরু করল এবং ডানা খুলতে শুরু করল। তারপর তিনি সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এসে বললেন: তার সন্তানদের কেড়ে নিয়ে কে তাকে দুঃখিত এবং ভীত করেছে?! তারপর তিনি তাকে তা ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দিলেন। তারপর তিনি একটি পিঁপড়ার গ্রাম দেখতে পেলেন যা আগুনে পুড়া হয়েছিল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: কে এটা পুড়িয়ে দিয়েছে? তার কিছু সাহাবী বললেন: আমরা। তিনি তাদের বললেন: কাউকে আগুন দিয়ে জীবন্ত যন্ত্রণা দেওয়া স্রষ্টা ছাড়া কারও পক্ষে জায়েয নয়।

শিক্ষা
  1. প্রয়োজন পূরণ করার জন্য নিজেকে লুকানোর বৈধতা।
  2. পশুদের বাচ্চা কেড়ে নিয়ে তাদের উপর নির্যাতন করা নিষেধ।
  3. আগুনে পিঁপড়া এবং পোকামাকড় পোড়ানো নিষেধ।
  4. প্রাণীদের প্রতি করুণা ও দয়া করার তাগিদ দেওয়া এবং ইসলামই প্রথম তা করেছিল।
  5. পশুদের প্রতি তাঁর করুণা।
  6. আগুনের দ্বারা শাস্তি দেওয়া এমন একটি কাজ যা আল্লাহ তা‘আলার একচেটিয়া অধিকার।
সূত্র

سنن أبي داود (4/ 309) (2675). نزهة المتقين، لمجموعة من الباحثين (2/ 1105). كنوز رياض الصالحين، لمجموعة من الباحثين (19/ 150). بهجة الناظرين، لسليم الهلالي (3/ 120). شرح رياض الصالحين، لابن عثيمين (6/ 300).

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জীব-জন্তুর মুখে প্রহার ও দাগ লাগাতে নিষেধ করেছেন।

عن ابن عباس رضي الله عنهما أن النبي صلى الله عليه وسلم مر عليه حمار قد وُسِمَ في وجهه، فقال:«لعن الله الذي وسمه». وفي رواية لمسلم أيضا: نهى رسول الله صلى الله عليه وسلم عن الضرب في الوجه، وعن الوسم في الوجه»
ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সম্মুখ দিয়ে একটি গাধা গেল, যার মুখে দাগ লাগানো ছিল। তিনি বললেন, যে লোক এটিকে দাগ লাগিয়েছে, আল্লাহ তাকে লানত করুন।” মুসলিমের আরেক বর্ণনায় এসেছে, “রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জীব-জন্তুর মুখে প্রহার ও দাগ লাগানতে নিষেধ করেছেন।”
এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।মানসহীহ
ব্যাখ্যা

এ হাদীসে তার প্রতি কঠোর সাবধান বাণী উচ্চারণ করা হয়েছে যে, প্রাণির মুখে দাগ লাগায় ও মুখে প্রহার করে। আলিমগণ এ ধরণের কাজকে কবীরা গুনাহের অন্তর্ভুক্ত বলেছেন। তারা নিষেধাজ্ঞার কারণ বর্ণনায় বলেছেন, মুখ-মণ্ডল হচ্ছে যাবতীয় সৌন্দর্যের কেন্দ্র সূক্ষ্ম জায়গা। তার অঙ্গগুলো দ্বারা মানুষ অধিক অনুভূতি গ্রহণ করে, সুতরাং মুখে প্রহর সেটা বিনষ্ট ও হ্রাস করে দিতে পারে, কখনো চেহারা বিকৃত করে দিতে পারে, আর এতে বিকৃতিা খুব খারাপ। কারণ এটা প্রকাশ্য ও স্পষ্ট জায়গা যা ঢাকা সম্ভব নয়, আর তাতে আঘাত করলে ক্ষত হওয়ার সম্ভাবনাই বেশী।

সূত্র

نزهة المتقين، تأليف: جمعٌ من المشايخ، الناشر: مؤسسة الرسالة، الطبعة الأولى: 1397 هـ الطبعة الرابعة عشر 1407 هـ. بهجة الناظرين، تأليف: سليم بن عيد الهلالي، الناشر: دار ابن الجوزي ، سنة النشر: 1418 هـ- 1997م. صحيح مسلم، تحقيق: محمد فؤاد عبد الباقي الناشر: دار إحياء التراث العربي – بيروت. رياض الصالحين، تأليف: محيي الدين يحيى بن شرف النووي ، تحقيق: د. ماهر بن ياسين الفحل ، الطبعة: الأولى، 1428 هـ. المنهاج شرح صحيح مسلم، تأليف: محيي الدين يحيى بن شرف النووي، الناشر: دار إحياء التراث العربي، الطبعة: الثانية 1392 هـ. شرح رياض الصالحين، تأليف: محمد بن صالح العثيمين، الناشر: دار الوطن للنشر، الطبعة: 1426 هـ. الزواجر عن اقتراف الكبائر، تأليف: أحمد بن محمد بن علي بن حجر الهيتمي، الناشر: دار الفكر، الطبعة: الأولى، 1407هـ - 1987م.

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

একবার একটি কুকুর কোনো এক কূপের পাশে চক্কর দিচ্ছিল, এমতাবস্থায় যে পিপাসা তাকে মেরে ফেলার উপক্রম করছিল। ইত্যবসরে বনী ইসরাঈলের বেশ্যাদের এক বেশ্যা তাকে দেখল। ফলে সে নিজের চামড়ার মোজা খুলে তার জন্যে পানি তুলল ও তাকে পান করাল। ফলে এর বিনিময়ে তাকে ক্ষমা করা হল।

عن أبي هريرة رضي الله عنه مرفوعاً: «بينما رجلٌ يمشي بطريقٍ اشتَدَّ عليه العَطَشُ، فوَجَدَ بِئْرًا فنزل فيها فَشَرِبَ، ثم خَرَجَ فإذا كَلْبٌ يَلْهَثُ يأكل الثَّرَى مِنَ العَطَشِ، فقال الرجلُ: لقد بَلَغَ هذا الكَلْبَ مِنَ العَطَشِ مِثْلَ الذِي كان قَدْ بَلَغَ مِنِّي، فنَزَلَ البِئْرَ، فَمَلَأَ خُفَّهُ ماءً ثم أَمْسَكَهُ بِفِيهِ حَتَّى رَقِيَ، فَسَقَى الكَلْبَ، فشَكَرَ اللهُ له، فَغَفَرَ لهُ» قالوا: يا رسول الله، إنَّ لَنَا في البَهَائِمِ أَجْرًا؟ فقال: «في كُلِّ كَبِدٍ رَطْبَةٍ أَجْرٌ». وفي رواية: «فشَكَرَ اللهُ له، فغَفَرَ له، فَأَدْخَلَهُ الجَنَّةَ». وفي رواية: «بَيْنَمَا كَلْبٌ يُطِيفُ بِرَكْيَةٍ قد كَادَ يَقْتُلُهُ العَطَشُ إذ رَأَتْهُ بَغِيٌّ مِنْ بَغَايَا بَنِي إِسْرَائِيلَ، فَنَزَعَتْ مُوقَهَا فَاسْتَقَتْ له بهِ فَسَقَتْهُ فَغُفِرَ لها بِهِ».
আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “একবার জনৈক ব্যক্তি পথ দিয়ে চলছিল। তার খুব পিপাসা পেল, তাই সে একটি কূপ পেয়ে তাতে নেমে পানি পান করল। অতঃপর বের হয়ে দেখল যে, একটি কুকুর হাঁপাচ্ছে, পিপাসায় কাদা চাটছে। লোকটি বলল, ‘পিপাসায় আমি যেখানে পৌঁছেছিলাম, কুকুরটিও সেখানে গিয়ে পৌঁছেছে।’ অতঃপর সে কূপে নামল এবং তার মোজায় পানি ভরে মুখে দিয়ে ধরে উপরে উঠল ও কুকুরকে পান করাল। আল্লাহ তা‘আলা তার আমলকে কবুল করলেন ও তাকে ক্ষমা করলেন।” সাহাবীগণ বলল, ‘হে আল্লাহর রসূল! চতুষ্পদ জন্তুর ক্ষেত্রেও কি আমাদের সাওয়াব হবে?’ তিনি বললেন, “প্রত্যেক সতেজ জীবের প্রতি দয়া প্রদর্শনে নেকী রয়েছে।” অন্য এক বর্ণনায় আছে যে, “আল্লাহ তাআলা তার আমলকে কবুল করলেন, তাকে ক্ষমা করলেন ও তাকে জান্নাতে প্রবেশ করালেন।” অপর এক বর্ণনায় আছে, “একবার একটি কুকুর কোনো এক কূপের পাশে চক্কর দিচ্ছিল, এমতাবস্থায় যে পিপাসা তাকে মেরে ফেলার উপক্রম করছিল। ইত্যবসরে বনী ইসরাঈলের বেশ্যাদের এক বেশ্যা তাকে দেখল। ফলে সে নিজের চামড়ার মোজা খুলে তার জন্যে পানি তুলল ও তাকে পান করাল। ফলে এর বিনিময়ে তাকে ক্ষমা করা হল।”
এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন। - মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।মানসহীহ
ব্যাখ্যা

জনৈক ব্যক্তি মুসাফির অবস্থায় রাস্তায় চলছিল, তাকে পিপাসায় পেল ফলে সে কূপে নেমে সেখান থেকে পান করল এবং তার পিপাসাও শেষ হল। যখন সে বের হল দেখল একটি কুকুর পিপাসার কারণে কাঁদা মাটি খাচ্ছে, যেন সে মাটির পানি চুষে পিপাসা মিটাতে পারে, বস্তুত কঠিন পিপাসায় এরূপ করছিল। লোকটি ভাবল, আল্লাহর কসম আমাকে যেরূপ পিপাসা স্পর্শ করেছিল, কুকুরটিকেও সেরূপ পিপাসা স্পর্শ করেছে। অতঃপর সে কূপে নেমে তার মোজায় পানি ভরে মুখ দিয়ে ধরল, আর দুই হাত দ্বারা উপরে উঠতে থাকল, উপরে উঠে কুকুরকে পান করাল। যখন সে কুকুরকে পান করাল আল্লাহ তা‘আলা তার আমল কবুল করলেন ও তাকে ক্ষমা করলেন এবং তার কারণে তাকে জান্নাতে প্রবেশ করালেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সাহাবীদের এ হাদীস বর্ণনা করলেন, তখন তারা জিজ্ঞেস করল, হে আল্লাহর রাসূল! চতুষ্পদ জন্তুতেও কি আমাদের সওয়াব হবে? ’অর্থাৎ তাও কি সাওয়াবের কারণ হবে? তিনি বললেন, “প্রত্যেক সতেজ জীবের কারণে নেকী রয়েছে।” অর্থাৎ তাকে পান করানোতে। কারণ, জীব পানির মুখাপেক্ষী, পানি না হলে শুকিয়ে যাবে ও জীব-জন্তু ধ্বংস হবে। অপর বর্ণনায় আছে, বনী ইসরাঈলের এক বেশ্যা নারী একটি কুপের পাশে একটি কুকুরকে পিপাসায় ঘোরাফেরা করতে দেখল। কিন্তু পানি পর্যন্ত পৌঁছা তার পক্ষে সম্ভব ছিল না। তাই সে নিজের মোজা খুলে পানি দ্বারা পূর্ণ করল ও কুকুরকে পান করালো। এ আমলের কারণে আল্লাহ তা‘আলা তাকে ক্ষমা করলেন।

সূত্র

رياض الصالحين، للنووي، نشر: دار ابن كثير للطباعة والنشر والتوزيع، دمشق – بيروت، تحقيق: ماهر ياسين الفحل، الطبعة: الأولى، 1428هـ - 2007م. نزهة المتقين شرح رياض الصالحين، نشر: مؤسسة الرسالة، الطبعة: الرابعة عشر، 1407ه 1987م. شرح رياض الصالحين، لابن عثيمين، نشر: دار الوطن للنشر، الرياض، الطبعة: 1426ه. كنوز رياض الصالحين، نشر: دار كنوز إشبيليا، الطبعة: الأولى، 1430ه 2009م. بهجة الناظرين شرح رياض الصالحين، للهلالي، نشر: دار ابن الجوزي. ط1 -1415 المعجم الوسيط، نشر: دار إحياء التراث العربي، بيروت – لبنان، الطبعة: الثانية. صحيح البخاري، نشر: دار طوق النجاة (مصورة عن السلطانية بإضافة ترقيم ترقيم محمد فؤاد عبد الباقي)، الطبعة: الأولى، 1422ه. صحيح مسلم، تحقيق: محمد فؤاد عبد الباقي، نشر: دار إحياء التراث العربي – بيروت.

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

এখানকার প্রতিটি হাদীস, মান, ব্যাখ্যা ও শিক্ষা HadeethEnc.com যেভাবে প্রকাশ করে হুবহু সেভাবেই দেখানো, তাদের পুনঃপ্রকাশের শর্ত মেনে। মানের সঙ্গে মান-নির্ধারকের নাম নেই। অনুবাদ ও ব্যাখ্যা এর লেখকদের নিজস্ব, এবং কোনো কোনোটিতে বিধান বলা আছে; সাবীলের পর্যালোচকেরা এগুলো যাচাই করেননি। আরবি হাদীসটিই মূল পাঠ। উৎস: HadeethEnc.com