আমি জনৈক লোক সম্পর্কে জানি যার বাড়ী অপেক্ষা কারো বাড়ী মসজিদ থেকে অধিক দূরে ছিল বলে আমার জানা নেই। জামা’আতের সাথে কোন ওয়াক্তের সালাত আদায় করা তিনি ছাড়তেন না
উবাই ইবনে কা‘আব থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি জনৈক লোক সম্পর্কে জানি যার বাড়ী অপেক্ষা কারো বাড়ী মসজিদ থেকে অধিক দূরে ছিল বলে আমার জানা নেই। জামা’আতের সাথে কোন ওয়াক্তের সালাত আদায় করা তিনি ছাড়তেন না। উবাই ইবনু কাব বলেনঃ তাকে বলা হলো অথবা (বর্ণনাকারী আবূ উসমান নাহদীর সন্দেহ) আমি বললামঃ যদি তুমি একটি গাধা কিনে নাও এবং তার পিঠে আরোহণ করে রাতের অন্ধকারে এবং রোদের মধ্যে সালাত আদায় করতে আসো তাহলে তো বেশ ভালই হয়। এ কথা শুনে সে বললঃ আমার বাড়ী মসজিদের পাশে হোক তা আমি পছন্দ করি না। আমি চাই মসজিদে হেঁটে আসা এবং মাসজিদ থেকে ঘরে আমার পরিবার-পরিজনের কাছে যাওয়ার প্রতিটি পদক্ষেপ আমার জন্য (আমলনামায়) লিপিবদ্ধ হোক। তার এ কথা শুনে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “মহান আল্লাহ তা’আলা তোমার জন্য অনুরূপ সাওয়াবই একত্রিত করে রেখেছেন”।
ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেনমানসহীহ
ব্যাখ্যা
উবাই ইবনু কাব রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন যে, আনসারদের একজন ব্যক্তি মসজিদে নববী থেকে সবচেয়ে দূরে ছিলেন এবং তিনি কখনও কোন সালাত মিস করতেন না। বরং, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে প্রতিটি সালাতে অংশ নিতেন, তাই তাকে বলা হল: যদি তুমি রাতের অন্ধকারে এবং দিনের বেলায় রোদের উত্তাপের সময় চড়ার জন্য একটি গাধা কিনে নিতে ভালো হত, তিনি বললেন: আমার বাড়ি মসজিদের পাশে হলে আমি খুশি হব না। আমি চাই আল্লাহ যেন আমার জন্য মসজিদে সালাতের জন্য হেঁটে যাওয়া এবং আমার পরিবারের কাছে ফিরে আসা লিখে দেন। তাঁর কথা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে পৌঁছে গেল। তখন তিনি বললেন: “আল্লাহ তোমার জন্য সেসব কিছুই জমা করেছেন”।
শিক্ষা
সাহাবীদের সৎকর্ম করার এবং তা আরও বৃদ্ধি করার এবং সওয়াব অর্জনের আগ্রহ।
আন-নওয়াবী বলেন: এটি সালাত থেকে ফিরে আসার সময়কার পদক্ষেপে সাওয়াব প্রমাণ করে, যেমন যাওয়ার সময় প্রমাণিত।
মুসলিমরা একে অপরকে সৎকর্মের উপদেশ দেয় এবং একে অপরকে সৎকর্মের নসিহত করে। যদি কেউ দেখে যে তার ভাইকে কষ্ট স্পর্শ করবে, তাহলে তাকে তা দূর করার পরামর্শ দেওয়া উচিত।
মসজিদ থেকে দূরে থাকা জামাতের সালাতে যোগদান না করার কোন অজুহাত নয়, যদি সালাতের আযান শুনতে পাওয়া যায়।
সূত্র
صحيح مسلم (1/ 460) (663).
بهجة الناظرين شرح رياض الصالحين، لسليم الهلالي (1/ 162).
شرح رياض الصالحين، لابن عثيمين (2/ 199).
এখানকার প্রতিটি হাদীস, মান, ব্যাখ্যা ও শিক্ষা HadeethEnc.com যেভাবে প্রকাশ করে হুবহু সেভাবেই দেখানো, তাদের পুনঃপ্রকাশের শর্ত মেনে। মানের সঙ্গে মান-নির্ধারকের নাম নেই। অনুবাদ ও ব্যাখ্যা এর লেখকদের নিজস্ব, এবং কোনো কোনোটিতে বিধান বলা আছে; সাবীলের পর্যালোচকেরা এগুলো যাচাই করেননি। আরবি হাদীসটিই মূল পাঠ। উৎস: HadeethEnc.com