আবূ হুরাইরা রদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: বিপদাপদ মু’মিন পুরুষ ও নারীর নিজের জান, সন্তান-সন্ততি ও সম্পদে লেগেই থাকে, যতক্ষণা সে তার ওপর পাপ না থাকাবস্থায় আল্লাহর সাক্ষাত করেন।
এটি তিরিমিযী ও আহমাদ বর্ণনা করেছেন।মানহাসান
ব্যাখ্যা
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম সংবাদ দিচ্ছেন: মুমিন পুরুষ ও নারীর উপর থেকে বিপদাপদ ও পরীক্ষা বিচ্ছিন্ন হবে না, তার নিজের জীবনে যেমন, শরীরে সুস্থতা-অসুস্থতা; তার সন্তানদের মধ্যে অসুস্থতা, মৃত্যু, অবাধ্যতা ইত্যাদি এবং তার সম্পদের ক্ষেত্রে যেমন, দারিদ্র্যতা, ব্যবসায় মন্দা, চুরি, কষ্টের জীবন এবং জীবিকা নির্বাহে সংকীর্ণতা। যতক্ষণ না আল্লাহ এই বিপদাপদের মাধ্যমে তার পাপ ও অপকর্মের প্রায়শ্চিত্ত করাবেন, যাতে তিনি যখন আল্লাহর সাথে সাক্ষাত করবেন তখন তিনি যে সমস্ত পাপ এবং অপকর্ম করেছেন তা থেকে শুদ্ধ হয়ে যান।
শিক্ষা
মুমিন বান্দাদের প্রতি আল্লাহর করুণার মধ্যে একটি হল, তিনি এই পৃথিবীতে দুর্ভাগ্য ও দুর্দশার মাধ্যমে তাদের পাপের প্রায়শ্চিত্ত করেন।
নিছক বিপদই ঈমানের শর্তে পাপের কাফফারা করে দেয়, তাই বান্দা যদি ধৈর্য্যধারণ করে এবং অসন্তুষ্ট না হয় তবে তাকে পুরস্কৃত করা (সাওয়াব দেওয়া) হবে।
এখানে মুমিন (নারী-পুরুষ) যা পছন্দ করেন এবং যা অপছন্দ করেন সকল বিষয়ে ধৈর্য্য ধারণ করতে উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে , আল্লাহ যা আদেশ করেছেন তা পালন না করা পর্যন্ত ধের্য্য ধারন করবেন, আল্লাহ যার থেকে নিষেধ করেছেন তা থেকে দূরে না হওয়া পর্যন্ত ধৈর্য্য ধারন করবেন, আর আল্লাহ সাওয়াব আশা করবেন ও তার শাস্তিকে ভয় করবেন।
তার বক্তব্যঃ “পুরুষ ও নারী মুমিনের উপর” এতে “মুমিন নারী” শব্দটি যোগ করা নারীর প্রতি অধিক গুরুত্বের প্রমাণ। অন্যথায়, তিনি যদি বলতেন: “মুমিনের উপর”, তাহলে নারীও এতে অন্তর্ভুক্ত হতো; কারণ এটি পুরুষদের জন্য নির্দিষ্ট নয়, তাই যদি কোনও মহিলার উপর দুঃখ-কষ্ট আসে, তবে তাকেও পাপ ও গুনাহ মোচন করে অনুরূপ সাওয়াবের (পুরস্কারের) প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।
বান্দা একের পর এক যেসব কষ্টের সম্মুখীন হয় তার উপর প্রাপ্ত সাওয়াব সেগুলোকে সহজ করে তোলে।
সূত্র
سنن الترمذي (4/ 204) (2399).
مسند أحمد (13/ 248) (7859).
بهجة الناظرين شرح رياض الصالحين، لسليم الهلالي (1/ 113).
تطريز رياض الصالحين، لفيصل آل مبارك (ص51).
شرح رياض الصالحين، لابن عثيمين (1/ 273).
نزهة المتقين شرح رياض الصالحين، لمجموعة من الباحثين (1/ 80).
সুহাইব রদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: عَجَبًا لِأَمْرِ الْمُؤْمِنِ، إِنَّ أَمْرَهُ كُلَّهُ خَيْرٌ، وَلَيْسَ ذَاكَ لِأَحَدٍ إِلَّا لِلْمُؤْمِنِ، إِنْ أَصَابَتْهُ سَرَّاءُ شَكَرَ، فَكَانَ خَيْرًا لَهُ، وَإِنْ أَصَابَتْهُ ضَرَّاءُ صَبَرَ، فَكَانَ خَيْرًا لَهُ : “মুমিনের ব্যাপার আশ্চর্যজনক। অবশ্যই তার সকল বিষয় তার জন্য কল্যাণময়। আর এটি মুমিন ছাড়া অন্য কারো জন্য হতে পারে না। যদি তার কোন আনন্দ আসে, তবে সে শুকরিয়া আদায় করে, যা তার জন্য কল্যাণময়। আর যদি তার উপরে কোন দুঃখজনক কিছু আপতিত হয়, তাহলে সে সবর করে, সেটাও তার জন্য কল্যাণকর হয়।”
ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেনমানসহীহ
ব্যাখ্যা
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুমিনের কাজ ও অবস্থার ব্যাপারে আশ্চর্যান্বিত হয়েছেন। এর কারণ হচ্ছে মুমিনের প্রতিটি অবস্থাই ভালো, আর এটা মুমিন ছাড়া অন্য কারো জন্য সম্ভব নয়। যদি তার কাছে কোন আনন্দঘন মুহূর্ত আসে, সে তথন আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করে, আর এতে করে সে তার শুকরিয়ার জন্য পুরষ্কার পায়। আর যদি তার উপরে কোন দুঃখ আপতিত হয়, তবুও সে সবর করে এবং আল্লাহর কাছে এর পুরষ্কার আশা করে, এতে করেও সে সবরের কারণে পুরষ্কার পায়। সুতরাং অবস্থা যাই হোক না কেন, সে পুরষ্কার পেয়ে থাকে।
শিক্ষা
আনন্দের সময়ে শুকরিয়া আদায় করা এবং কষ্টের সময় ধৈর্য ধরার ফযীলত। যে ব্যক্তি এ দুটি কাজ করবে, সে উভয় জগতের কল্যাণ অর্জন করবে। আর যে ব্যক্তি নি‘আমাতের জন্য শুকরিয়া আদায় করবে না এবং বিপদে ধৈর্য্য ধারণ করবে না, সে পুরস্কার থেকে বঞ্চিত হবে আর এর বিপরীতে সে পাপের বোঝা বহন করবে।
ঈমানের ফযীলত, ঈমানদার ছাড়া প্রতিটি অবস্থাতে অন্য কেউই পুরষ্কারের অধিকারী হবে না।
বিপদে সবর করা এবং আনন্দে শুকরিয়া আদায় করা মুমিনদের বৈশিষ্ট্যের মধ্যে অন্যতম।
আল্লাহ তা‘আলার ফয়সালা ও বিধান (তাকদীর) এর উপরে ঈমান একজন মুমিনকে প্রতিটি অবস্থাতে পরিপূর্ণ সন্তুষ্টির মধ্যে রাখে, আর যে মুমিন নয় তার ব্যাপারটি এ থেকে ভিন্ন, কেননা তার উপরে বিপদ আসলে সে স্থায়ী ক্ষোভের মধ্যেই থাকে, যখন তার উপরে আল্লাহ তা‘আলার নি‘আমাত এসে থাকে, তখন সে আল্লাহর আনুগত্যের কাজ থেকে মুখ ফিরিয়ে ঐ কাজ নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ে, উপরন্তু সে ঐ নি‘আমাতকে আল্লাহর অবাধ্যতার ক্ষেত্রে ব্যবহার করে।
সূত্র
صحيح مسلم (4/ 2295) (2999).
بهجة الناظرين شرح رياض الصالحين، لسليم الهلالي (1/ 82).
شرح رياض الصالحين، لابن عثيمين (1/ 197).
نزهة المتقين شرح رياض الصالحين، لمجموعة من الباحثين (1/ 59).
عن أنس بن مالك رضي الله عنه قال: «إنكم لتعملون أعمالا هي أَدَقُّ في أعينكم من الشَّعْرِ، كنا نَعُدُّهَا على عهد رسول الله - صلى الله عليه وسلم - من المُوبِقَاتِ».
আনাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু (তাঁর যুগের লোকদেরকে সম্বোধন ক’রে) বলেছেন যে, ‘তোমরা বহু এমন (পাপ) কাজ করছ, সেগুলো তোমাদের দৃষ্টিতে চুল থেকেও সূক্ষ্ম (নগণ্য)। কিন্তু আমরা সেগুলোকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে বিনাশকারী মহাপাপ বলে গণ্য করতাম।
এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন।মানসহীহ
ব্যাখ্যা
আমলে অলসতাকারী একটি জামাতকে মহান সাহাবী আনাস ইবন মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু এ বলে সম্বোধন করেন যে, গুনাহের ভয়াবহতা সম্পর্কে তোমাদের দৃষ্টি না থাকার কারণে তোমরা কতক গুনাহ হালকা করে দেখ। তা তোমাদের নিকট খুব ছোট। আর সাহাবীগণ গুনাহের ভয়াবহতা সম্পর্কে জানতো, তাদের মধ্যে আল্লাহর ভয় থাকা এবং নিজেদের হিসাব ও আল্লাহর উপস্থিতি অবলোকন করত বলে তারা তাকে ধ্বংস ও হালাক হিসেবে গণনা করত।
সূত্র
بهجة الناظرين شرح رياض الصالحين لسليم الهلالي، ط1، دار ابن الجوزي، الدمام، 1415ه.
تطريز رياض الصالحين للشيخ فيصل المبارك، ط1، تحقيق: عبد العزيز بن عبد الله آل حمد، دار العاصمة، الرياض، 1423 هـ.
دليل الفالحين لطرق رياض الصالحين لمحمد علي بن محمد بن علان، ط4، اعتنى بها: خليل مأمون شيحا، دار المعرفة،بيروت، 1425 ه.
رياض الصالحين للنووي، ط1، تحقيق: ماهر ياسين الفحل، دار ابن كثير، دمشق، بيروت، 1428 هـ.
كنوز رياض الصالحين، مجموعة من الباحثين برئاسة حمد بن ناصر العمار، ط1، كنوز إشبيليا، الرياض، 1430هـ.
صحيح البخاري، تحقيق: محمد زهير بن ناصر الناصر، ط1، دار طوق النجاة (مصورة عن السلطانية بإضافة ترقيم: محمد فؤاد عبد الباقي)، 1422ه.
نزهة المتقين شرح رياض الصالحين لمجموعة من الباحثين، ط14، مؤسسة الرسالة، 1407هـ.
عن أنس -رضي الله عنه - أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: "إذا أراد الله بعبده الخير عجل له العقوبة في الدنيا، وإذا أراد بعبده الشر أمسك عنه بذنبه حتى يُوَافِيَ به يومَ القيامة".
আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: আল্লাহ তা‘আলা যখন তার কোনো বান্দার কল্যাণ চান তখন তাড়াতাড়ি দুনিয়াতে তাকে বিপদে নিক্ষেপ করে শাস্তি দেন। আর যখন তিনি তার কোনো বান্দার অকল্যাণ চান তখন তাকে তার অপরাধের শাস্তি প্রদান থেকে বিরত থাকেন। যাতে কিয়ামতের দিন তিনি তাকে পুরাপুরি শাস্তি দেন।
এটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন।মানসহীহ
ব্যাখ্যা
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সংবাদ দিচ্ছেন যে, আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দার কল্যাণে ইচ্ছা করার নিদর্শন হচ্ছে, দুনিয়াতে নগদে তার গুনাহের ওপর শাস্তি দেয়া; যাতে সে গুনাহ থেকে পরিস্কার হয়ে যায় এবং তার কোনো গুণাহ না থাকে, যদ্বারা কিয়ামতের দিন তাকে শাস্তি দিবেন। কেননা যার আমলের হিসাব দুনিয়াতেই হবে আখেরাতে তার হিসাব হালকা হবে। আর বান্দার প্রতি কল্যাণ সাধনের নিদর্শন হচ্ছে, বান্দার গুণাহর কারণে দুনিয়াতে তাকে শাস্তি না দেওয়া। যাতে কিয়ামতের দিন সে পুরাপুরি গুণাহ নিয়ে উপস্থিত হয়। এরপর কিয়ামতের দিন তাকে তার প্রাপ্য হিসেবে প্রতিদান দেওয়া হবে।
সূত্র
الملخص في شرح كتاب التوحيد، للشيخ صالح الفوزان, دار العاصمة, الطبعة الأولى، 1422ه.
الجديد في شرح كتاب التوحيد، لمحمد بن عبد العزيز السليمان القرعاوي, تحقيق: محمد بن أحمد سيد, مكتبة السوادي، الطبعة: الخامسة، 1424ه.
جامع الترمذي, تحقيق: أحمد شاكر, شركة مكتبة ومطبعة مصطفى البابي, الطبعة: الثانية، 1395هـ.
صحيح الجامع الصغير, للألباني, المكتب الإسلامي.
নুমান ইবনু বাশীর রদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: -এ সময় নু’মান রদিয়াল্লাহু ‘আনহু তাঁর দুই আঙ্গুল দ্বারা উভয় কানের দিকে ইঙ্গিত করেন-: “নিশ্চই হালাল সুস্পষ্ট এবং হারামও সুস্পষ্ট, আর এ উভয়ের মাঝে রয়েছে বহু অস্পষ্ট বিষয়, অধিকাংশ লোকই সেগুলো জানে না। যে ব্যক্তি এ সব অস্পষ্ট বিষয় থেকে দূরে থাকে, সে তার দীন ও মর্যাদাকে নিরাপদে রাখে। আর যে লোক অস্পষ্ট বিষয়ে পতিত হবে, সে হারামের মধ্যে লিপ্ত হয়ে পড়বে। যেমন কোন রাখাল সংরক্ষিত (সরকারী) চারণভূমির আশ-পাশে পশু চরায়, আশংকা রয়েছে যে, পশু তার অভ্যন্তরে যেয়ে ঘাস খাবে। সাবধান! প্রত্যেক বাদশাহরই সংরক্ষিত এলাকা থাকে। সাবধান! আল্লাহর সংরক্ষিত এলাকা হল তার হারামকৃত বিষয়সমূহ। জেনে রাখো, দেহের মধ্যে এক টুকরা মাংস আছে। যখন তা সুস্থ থাকে, তখন সমস্ত শরীরই সুস্থ থাকে। আর যখন তা নষ্ট হয়ে যায় তখন সমস্ত শরীরই নষ্ট হয়ে যায়। মনে রেখো, তা হল ’ক্বলব’ (হৃদয়)।”
সহীহ বুখারী ও মুসলিমমানসহীহ
ব্যাখ্যা
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ হাদীসে বস্তু হালাল-হারাম হওয়ার ব্যাপারে সাধারণ মূলনীতি বর্ণনা করেছেন। ইসলামী শরী‘আতে সকল বস্তু তিন প্রকারের হয়ে থাকে। ১। সুস্পষ্ট হালাল ২। সুস্পষ্ট হারাম ৩। হালাল-হারাম হওয়ার ব্যাপারে অস্পষ্ট , অধিকাংশ মানুষ যার হুকুম জানে না।
সুতরাং যে ব্যক্তি এসব সন্দেহজনক বিষয়সমূহ পরিহার করে, সে ব্যক্তি হারামে পতিত হওয়া থেকে দূরে থেকে তার দীনের ব্যাপারে নিরাপদ থাকে। তাছাড়া সেসব সংশয় পূর্ণ জিনিসে পতিত হওয়ার কারণে মানুষের সমালোচনা থেকে মুক্ত থেকে তার মান-সম্মানও নিরাপদ থাকে। আর যে ব্যক্তি এসব সংশয়পূর্ণ বিষয়সমূহ থেকে বিরত থাকে না, সে হয় হারামে লিপ্ত হয়ে পড়ে অথবা মানুষ (তার সমালোচনা করে) তার সম্মানহানী করে। যে ব্যক্তি সংশয়পূর্ণ বিষয়সমূহে লিপ্ত হয়, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার ব্যাপারে একটি উপমা পেশ করেছেন যে, সে ব্যক্তি এমন একজন রাখালের ন্যায় যে সংরক্ষিত (সরকারী) চারণভূমির আশ-পাশে পশু চরায়। এটি সংরক্ষিত চারণভূমির অতি নিকটে হওয়ায় আশংকা রয়েছে যে, তার পশুগুলো এর অভ্যন্তরে গিয়ে ঘাস খেয়ে ফেলবে। এমনিভাবে যে ব্যক্তি সংশয়পূর্ণ বস্তুতে লিপ্ত হয়, সেও উক্ত সন্দেহজনক কাজটির মাধ্যমে হারামের অতি নিকটবর্তী হয়ে পড়ে, হতে পারে যে, সে অচিরেই হারামে নিপতিত হয়ে পড়বে। এরপরে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম সংবাদ দিয়েছেন যে, মানুষের দেহের মধ্যে এক টুকরা মাংস আছে, যার নাম ক্বলব (অন্তর)। শরীরের সুস্থতা এর সুস্থতার মাধ্যমেই হয়ে থাকে এবং এর অসুস্থতার মাধ্যমেই শরীর অসুস্থ হয়ে থাকে।
শিক্ষা
হাদীসে সেসব সন্দেহজনক বস্তু থেকে বিরত থাকতে উৎসাহ প্রদান করা হয়েছে, যেগুলোর হুকুম সুষ্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়নি।
সূত্র
صحيح البخاري (1/ 20) (52).
صحيح مسلم (3/ 1219) (1599).
التحفة الربانية في شرح الأربعين حديثا النووية (ص18).
شرح الأربعين النووية، لابن عثيمين (ص105).
فتح القوي المتين في شرح الأربعين وتتمة الخمسين، للعباد (ص41).
فتح الباري لابن حجر (4/ 291).
شرح النووي على مسلم (11/ 28).
’আবদুল্লাহ্ ইবনু ’উমার রাদিয়াল্লাহু আনহুমা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার আমার দু’ কাঁধ ধরে বললেন: “তুমি দুনিয়াতে থাক যেন তুমি একজন প্রবাসী অথবা পথচারী”। আর ইবনু ’উমার বলতেন, তুমি সন্ধ্যায় উপনীত হলে সকালের আর অপেক্ষা করো না এবং সকালে উপনীত হলে সন্ধ্যার আর অপেক্ষা করো না। তোমার সুস্থতার সময় তোমার পীড়িত অবস্থার জন্য প্রস্তুতি লও। আর তোমার জীবিত অবস্থায় তোমার মৃত্যুর জন্য প্রস্তুতি লও।
এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন।মানসহীহ
ব্যাখ্যা
ইবনু ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা উল্লেখ করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার কাঁধ - যা বাহু এবং কাঁধের সংযোগস্থল - ধরলেন এবং তাকে বললেন: “তুমি দুনিয়াতে থাক যেন তুমি একজন প্রবাসী ”, যে এমন দেশে এসেছে যেখানে তার কোনো থাকার স্থান নেই এবং তাকে সান্তনা দেওয়ার কোনো নাগরিক নেই; পরিবার, পরিজন ও বন্ধু-বান্ধব কিছু নেই, যা সৃষ্টিকর্তা থেকে বিমূখ থাকার কারণ; বরং তুমি প্রবাসীর চেয়ে কঠোর হও, তা হলে নিজ দেশের অন্বেষণে চলমান পথিক; কারণ প্রবাসী কখনো পরদেশে অবস্থান করেন এবং সেখানে স্থায়ী হন, যা নিজ দেশের অন্বেষণে চলমান পথিক করেন না। তার অবস্থা হল বোঝা হালকা করা এবং নিজ দেশে ফেরার জন্য অধির আগ্রহে অনবরত চলতে থাকা। যেমন একজন ভ্রমণকারী যা তাকে ভ্রমণের গন্তব্যে পৌঁছাবে তার চেয়ে বেশী জিনিসের প্রয়োজন অনুভব করে না, একইভাবে এই দুনিয়ায় মুমিন যা তাকে তার গন্তব্যে পৌঁছাবে তার চেয়ে বেশি কিছুর প্রয়োজন বোধ করে না।
ইবনু ওমর এই উপদেশের উপর আমল করেছেন এবং তিনি বলতেন: আপনি যদি সকাল করেন তবে সন্ধ্যার জন্য অপেক্ষা করবেন না এবং যখন আপনি সন্ধ্যা করবেন তখন সকালের জন্য অপেক্ষা করবেন না এবং আপনি নিজেকে কবরবাসীদের মধ্যে গণ্য করুন। কারণ জীবন সুস্থতা ও অসুস্থতা থেকে মুক্ত নয়; সুতরাং, আপনার অসুস্থতা না আসতে আপনার সুস্থতার দিনগুলি তাড়াতাড়ি করুন। অসুস্থতা আপনাকে নেক আমল করতে বাধা দেওয়ার আগেই সুস্থতার সময় সেগুলোর সদ্ব্যবহার করুন এবং এই দুনিয়াতে আপনার জীবনের সদ্ব্যবহার করুন এবং এতে আপনার মৃত্যুর পরে যা আপনার উপকার করবে তা সংগ্রহ করুন।
শিক্ষা
শিক্ষক শিক্ষার্থীকে উৎসাহিত ও সতর্ক করার জন্য শিক্ষাদানের সময় নিজের হাতের তালু শিক্ষার্থীর কাঁধে রাখা।
যে শিক্ষা তলব করেনি তাকে উপদেশ এবং নির্দেশনা দিয়ে শুরু করা।
সন্তোষজনক উপমা পেশ করে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্দর শিক্ষা দান; তাঁর বাণীর মাধ্যমে: "এই পৃথিবীতে এমনভাবে থাক যেন তুমি একজন ভিনদেশী বা পথিক।"
পরকালের যাত্রায় মানুষের ভিন্নতা। যেমন দুনিয়া ত্যাগের ক্ষেত্রে মুসাফির মর্যাদা প্রবাসীর মর্যাদার চেয়ে উচ্চতর।
আশা ছোট করা এবং মৃত্যুর জন্য প্রস্তুতির বয়ান।
হাদীসটি রিযিক পরিত্যাগ করা এবং পার্থিব ভোগ-বিলাস নিষিদ্ধ করার ইঙ্গিত দেয় না; তবে দুনিয়া বিমুখ হওয়ার প্রতি উৎসাহ দেয় এবং তা কম করার ইঙ্গিত দেয়।
মৃত্যু অথবা অসুস্থতার প্রতিবন্ধকতা এবং নেক আমল করার সক্ষমতা হারানোর আগেই তাতে তাড়াহুড়ো করা।
আবদুল্লাহ ইবনু ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমার মর্যাদা প্রমাণিত, কারণ তিনি আল্লাহ্র রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই উপদেশ দ্বারা প্রভাবিত হয়েছেন।
মুমিনদের স্থায়ী ঠিকানা জান্নাত, তিনি দুনিয়াতে প্রবাসী এবং আখিরাতের ভ্রমণকারী। তাই তার হৃদয় নির্বাসিত দেশের কোনো কিছুর সাথে সংযুক্ত হয় না, বরং তার হৃদয় তার স্বদেশের সাথে সংযুক্ত থাকে যেখানে সে ফিরে যাবে। এই পৃথিবীতে তার অবস্থান হল তার চাহিদা পূরণ করা এবং তার স্বদেশে ফিরে যাওয়ার প্রস্তুতি গ্রহণ করা।
সূত্র
صحيح البخاري (8/ 89) (6416).
التحفة الربانية في شرح الأربعين حديثًا النووية، لإسماعيل الأنصاري (ص90).
شرح الأربعين النووية، لابن عثيمين (ص390).
فتح القوي المتين في شرح الأربعين وتتمة الخمسين، للنووي وابن رجب (ص131).
আবূ হুরাইরাহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “তোমরা এক অপরের প্রতি হিংসা করো না, কেনাবেচাতে জিনিসের মূল্য বাড়িয়ে এক অপরকে ধোঁকা দিয়ো না, একে অপরের প্রতি শত্রুতা রেখো না, একে অপর থেকে (ঘৃণাভরে) মুখ ফিরায়ো না এবং একে অপরের কেনাবেচার উপর কেনাবেচা করো না। আর আল্লাহর বান্দাগণ! তোমরা পরস্পর ভাই হয়ে যাও। মুসলিম মুসলিমের ভাই। সে তার প্রতি যুলুম করবে না, তাকে লাঞ্ছিত করবে না, তাকে মিথ্যারোপ করবে না এবং তাকে তুচ্ছ ভাববে না। আর তাকওয়া হচ্ছে এখানে। তিনি নিজ বুকের দিকে ইঙ্গিত করে এ কথা তিনবার বললেন। কোনো মুসলিম ভাইকে তুচ্ছ ভাবা একটি মানুষের মন্দ হওয়ার জন্য যথেষ্ট। প্রত্যেক মুসলিমের রক্ত, মাল এবং তার মর্যাদা অপর মুসলিমের ওপর হারাম।”
ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেনমানসহীহ
ব্যাখ্যা
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুসলিম ব্যক্তিকে তার অপর ভাইয়ের সাথে ভালো আচরণ করতে উপদেশ দিয়েছেন এবং মুসলিম ভাইদের প্রতি কর্তব্য ও শিষ্টাচার তুলে ধরেছেন। এর মধ্যে রয়েছে: প্রথম উপদেশ: পরস্পরের প্রতি হিংসা করোনা। অর্থাৎ কারো ব্যাপারে এমন আকাঙ্ক্ষা করোনা যেন তার কাছে থাকা কোনো নিয়ামত দূর হয়ে যায়। দ্বিতীয় উপদেশ: পরস্পর প্রতারণা করোনা। যেমন, কোনো পণ্যের মূল্যে ইচ্ছাকৃতভাবে বাড়িয়ে বলা, অথচ পণ্যটি কেনার কোনো ইচ্ছা নেই; কেবল বিক্রেতাকে উপকৃত করা বা ক্রেতার ক্ষতি করা উদ্দেশ্য। তৃতীয় উপদেশ: পরস্পরের প্রতি শত্রুতা করোনা। এটি হলো একে অপরকে অপছন্দ করা বা তার ক্ষতি করার ইচ্ছা। তবে যদি তা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য হয় (যেমন: অন্যায় বা পাপের প্রতি ঘৃণা), তাহলে তা অপরিহার্য। চতুর্থ উপদেশ: একে অপরের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করবে না। অর্থাৎ, কাউকে এড়িয়ে চলা বা তার থেকে মুখ ফিরিয়ে রাখা এবং তার সঙ্গে কথা বলা বন্ধ করা। পঞ্চম উপদেশ: অন্যের বিক্রয়ের ওপর বিক্রয় করবেন না। যেমন, ক্রেতাকে বলা: “আমার কাছে একই পণ্য আছে, যা এর চেয়ে কম মূল্যের বা উন্নত মানের।” অতঃপর তিনি সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি সামগ্রিক উপদেশ দিলেন এবং বললেন: তোমরা ভাইয়ের মতো হও। ফলে, উল্লিখিত নিষিদ্ধ বিষয়গুলো থেকে বিরত থাকো এবং সৌহার্দ্য প্রদর্শন করো। সহানুভূতি, সদয়তা, কোমল ব্যবহার, ভালো কাজে সহযোগিতা করো, হৃদয়কে পবিত্র রাখো এবং সব অবস্থায় কল্যাণ কামনা কর। এমন ভ্রাতৃত্বের কতিপয় দাবি: একজন মুসলিম অন্য মুসলিমের প্রতি অত্যাচার না করা বা তার ওপর সীমালঙ্ঘন না করা। কোনো মুসলিম অন্য মুসলিমকে বিপদে সাহায্য করা থেকে বিরত না থাকা, অথচ তার উপর জুলুম হচ্ছে, আর সে তাকে সাহায্য করতে পারে। তার থেকে জুলুম প্রতিহত করা। কোন মুসলিমকে ছোট মনে করা বা তাকে তুচ্ছজ্ঞান করা থেকে বিরত থাকা এবং তাকে অবজ্ঞা ও ঘৃণার দৃষ্টিতে না দেখা; কেননা এটি অন্তরের অহংকারের ফল। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনবার বলেন যে, তাকওয়া অন্তরে থাকে। যার অন্তরে সেই তাকওয়া রয়েছে, যা উত্তম চরিত্র, আল্লাহভীতি ও তাঁর নজরদারির অনুভূতি সৃষ্টি করে, সে কোনো মুসলিমকে তুচ্ছজ্ঞান করবে না। আর মুসলিমের জন্য খারাপ গুণ ও নিকৃষ্ট চরিত্রের মধ্যে যথেষ্ট হলো—তার অপর মুসলিম ভাইকে তুচ্ছজ্ঞান করা; আর এটি অন্তরের অহংকারের কারণে হয়। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পূর্বোক্ত বিষয়ের প্রতি আবারও জোর দিয়ে বললেন যে, প্রতিটি মুসলিমের রক্ত, সম্পদ এবং সম্মান অপর মুসলিমের জন্য হারাম। রক্তের হারাম হওয়া মানে হলো—তার প্রাণ নেওয়া বা তাকে হত্যা করা কিংবা এর চেয়ে কম কিছু, যেমন আহত করা, প্রহার করা ইত্যাদি হারাম। সম্পদের হারাম হওয়া মানে হলো—তার সম্পদ অন্যায়ভাবে নেওয়া হারাম। আর সম্মানের হারাম হওয়া মানে হলো—তার ব্যক্তিগত সত্তা বা বংশীয় মর্যাদার নিন্দা করা হারাম।
শিক্ষা
ঈমানি ভ্রাতৃত্ব যা দাবি করে তার প্রতি আদেশ করা হয়েছে এবং এর বিরোধী কথা ও কাজ থেকে নিষেধ করা হয়েছে।
তাকওয়ার মূল ভিত্তি হলো অন্তরে থাকা আল্লাহর পরিচিতি, তাঁর ভয় ও তাঁর নজরদারির অনুভূতি। আর এই তাকওয়া থেকেই নেক আমল জন্ম নেয়।
কোন কথা বা কাজ দ্বারা হোক, যে কোনোভাবে মুসলিমকে কষ্ট দেওয়া নিষিদ্ধ।
এটি হিংসার অন্তর্ভুক্ত নয় যে, একজন মুসলিম অন্যের মতো হতে চায়, তবে তার থেকে সেই নি‘আমত দূর হওয়ার আকাঙ্ক্ষা না করে তা চায়। এটিকে বলা হয় গিবতা বা ঈর্ষা, যা বৈধ এবং এটি কল্যাণের প্রতিযোগিতায় উদ্বুদ্ধ করে।
মানুষ স্বভাবগতভাবে অপছন্দ করে যে কেউ তাকে কোনো গুণে ছাড়িয়ে যাক। যদি সে অন্যের গুণের বিলুপ্তি কামনা করে, তবে তা নিন্দনীয় হিংসা। আর যদি সে প্রতিযোগিতা করে এগিয়ে যেতে চায়, তবে তা অনুমোদিত ঈর্ষা।
মুসলিমের জন্য তার ভাইয়ের বিক্রয়ের উপর বিক্রয় করার অন্তর্ভুক্ত এটি নয় যে, সে ক্রেতাকে এ কথা জানিয়ে দেবে যে, তার ক্রয়ে চরম প্রতারণা করা হয়েছে; বরং এটি তার কল্যাণকামীতার একটি দাবি, তবে শর্ত হলো যে, তার নিয়ত হবে ক্রেতা ভাই এর কল্যাণ করা, বিক্রেতার ক্ষতি সাধন করা নয়। আর প্রতিটি কাজ নিয়তের উপর নির্ভরশীল।
যদি ক্রেতা-বিক্রেতা পরস্পর একমত না হন এবং মূল্য স্থির না হয়, তবে এমতাবস্থায় অপর মুসলিমের বিক্রয়কে তার ভাই এর বিক্রয় উপর বিক্রয় হিসেবে ধর্তব্য হবেনা; যা নিষিদ্ধ।
হাদিসে নিষিদ্ধ ঘৃণার মধ্যে 'আল্লাহর জন্য ঘৃণা' অন্তর্ভুক্ত নয়, কারণ এটি অবশ্যকরণীয় এবং ঈমানের সবচেয়ে মজবুত রশিগুলোর মধ্যে একটি।
সূত্র
صحيح مسلم (4/ 1986) (2564).
التحفة الربانية في شرح الأربعين حديثًا النووية، لإسماعيل الأنصاري (ص79).
شرح الأربعين النووية، لابن عثيمين (ص339).
فتح القوي المتين في شرح الأربعين وتتمة الخمسين، النووي وابن رجب (ص118).
الأحاديث الأربعون النووية وعليها الشرح الموجز المفيد، لعبد الله المحسن (ص67).
আবূ হুরায়রা রদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “তোমরা তোমাদের তুলনায় নিম্নস্তরের লোকদের প্রতি তাকাও। তবে তোমাদের তুলনায় উপরের স্তরের লোকদের প্রতি তাকাবে না। কেননা, তোমাদের ওপর আল্লাহর নিয়ামতকে তুচ্ছ না ভাবার এটাই উত্তম পন্থা।”
সহীহ বুখারী ও মুসলিমমানসহীহ
ব্যাখ্যা
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুসলিমকে নির্দেশ দিয়েছেন যে, দুনিয়ার বিষয় যেমন মর্যাদা, সম্পদ, প্রতিপত্তি ইত্যাদিতে সে যেন তার চেয়ে নিচের ও কম মর্যাদার লোকদের দিকে তাকায়, এবং তার চেয়ে উপরের ও বেশি মর্যাদার লোকদের দিকে না তাকায়। কারণ, আল্লাহর নিয়ামতকে তুচ্ছ ও হ্রাস করা থেকে বিরত রাখার জন্য নিচের দিকে তাকানো বেশি উপযুক্ত।
শিক্ষা
ক্বানা‘আহ তথা পরিতুষ্টি মুমিনদের সর্বোত্তম গুণাবলির মধ্যে একটি, এবং এটি আল্লাহর তাকদীরের প্রতি সন্তুষ্টির লক্ষণ।
ইবনে জারীর বলেছেন: এ হাদীসটি বিভিন্ন ধরনের ভালো কাজের একটি সামষ্টিক বর্ণনা; কারণ মানুষ যখন দুনিয়াতে তার চেয়ে বেশি সম্পদশালী ব্যক্তিকে দেখে, তখন তার নাফস সেটাই চায় এবং আল্লাহ তাআলার নিয়ামতকে তুচ্ছ মনে করে, আর তা অর্জনের জন্য বা তার কাছাকাছি পৌঁছানোর জন্য লোভ করে। এটি অধিকাংশ মানুষের মধ্যে বিদ্যমান। কিন্তু যখন সে দুনিয়ার বিষয়ে তার চেয়ে নিচের লোকদের দিকে তাকায়, তখন তার উপর আল্লাহ তাআলার নিয়ামত স্পষ্ট হয়, ফলে সে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে ও বিনয়ী হয় এবং ভালো কাজ করে।
সূত্র
صحيح البخاري (8/ 102) (6490).
صحيح مسلم (4/ 2275) (2963).
كنوز رياض الصالحين، لمجموعة من الباحثين (7/ 261).
بهجة الناظرين شرح رياض الصالحين، لسليم الهلالي (1/ 534).
تطريز رياض الصالحين، لفيصل آل مبارك (ص316).
توضيح الأحكام من بلوغ المرام ، لعبد الله البسام (7/ 287).
منحة العلام شرح بلوغ المرام، لعبد الله الفوزان (10/ 17).
এখানকার প্রতিটি হাদীস, মান, ব্যাখ্যা ও শিক্ষা HadeethEnc.com যেভাবে প্রকাশ করে হুবহু সেভাবেই দেখানো, তাদের পুনঃপ্রকাশের শর্ত মেনে। মানের সঙ্গে মান-নির্ধারকের নাম নেই। অনুবাদ ও ব্যাখ্যা এর লেখকদের নিজস্ব, এবং কোনো কোনোটিতে বিধান বলা আছে; সাবীলের পর্যালোচকেরা এগুলো যাচাই করেননি। আরবি হাদীসটিই মূল পাঠ। উৎস: HadeethEnc.com