নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুমিনের কাজ ও অবস্থার ব্যাপারে আশ্চর্যান্বিত হয়েছেন। এর কারণ হচ্ছে মুমিনের প্রতিটি অবস্থাই ভালো, আর এটা মুমিন ছাড়া অন্য কারো জন্য সম্ভব নয়। যদি তার কাছে কোন আনন্দঘন মুহূর্ত আসে, সে তথন আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করে, আর এতে করে সে তার শুকরিয়ার জন্য পুরষ্কার পায়। আর যদি তার উপরে কোন দুঃখ আপতিত হয়, তবুও সে সবর করে এবং আল্লাহর কাছে এর পুরষ্কার আশা করে, এতে করেও সে সবরের কারণে পুরষ্কার পায়। সুতরাং অবস্থা যাই হোক না কেন, সে পুরষ্কার পেয়ে থাকে।
- আনন্দের সময়ে শুকরিয়া আদায় করা এবং কষ্টের সময় ধৈর্য ধরার ফযীলত। যে ব্যক্তি এ দুটি কাজ করবে, সে উভয় জগতের কল্যাণ অর্জন করবে। আর যে ব্যক্তি নি‘আমাতের জন্য শুকরিয়া আদায় করবে না এবং বিপদে ধৈর্য্য ধারণ করবে না, সে পুরস্কার থেকে বঞ্চিত হবে আর এর বিপরীতে সে পাপের বোঝা বহন করবে।
- ঈমানের ফযীলত, ঈমানদার ছাড়া প্রতিটি অবস্থাতে অন্য কেউই পুরষ্কারের অধিকারী হবে না।
- বিপদে সবর করা এবং আনন্দে শুকরিয়া আদায় করা মুমিনদের বৈশিষ্ট্যের মধ্যে অন্যতম।
- আল্লাহ তা‘আলার ফয়সালা ও বিধান (তাকদীর) এর উপরে ঈমান একজন মুমিনকে প্রতিটি অবস্থাতে পরিপূর্ণ সন্তুষ্টির মধ্যে রাখে, আর যে মুমিন নয় তার ব্যাপারটি এ থেকে ভিন্ন, কেননা তার উপরে বিপদ আসলে সে স্থায়ী ক্ষোভের মধ্যেই থাকে, যখন তার উপরে আল্লাহ তা‘আলার নি‘আমাত এসে থাকে, তখন সে আল্লাহর আনুগত্যের কাজ থেকে মুখ ফিরিয়ে ঐ কাজ নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ে, উপরন্তু সে ঐ নি‘আমাতকে আল্লাহর অবাধ্যতার ক্ষেত্রে ব্যবহার করে।
صحيح مسلم (4/ 2295) (2999). بهجة الناظرين شرح رياض الصالحين، لسليم الهلالي (1/ 82). شرح رياض الصالحين، لابن عثيمين (1/ 197). نزهة المتقين شرح رياض الصالحين، لمجموعة من الباحثين (1/ 59).