عن أبي هريرة رضي الله عنه مرفوعاً: يُستجاب لأحدكم ما لم يَعْجَلْ: يقول: قد دعوت ربي، فلم يستجب لي».
وفي رواية لمسلم: «لا يزال يُستجاب للعبد ما لم يَدْعُ بإثم، أو قطيعة رحم، ما لم يَسْتَعْجِلْ» قيل: يا رسول الله ما الاستعجال؟ قال: «يقول: قد دعوت، وقد دعوت، فلم أر يستجب لي، فَيَسْتَحْسِرُ عند ذلك ويَدَعُ الدعاء».
আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে মারফু হিসেবে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “তোমাদের প্রত্যেকের দো‘আ গৃহীত হয়; যাবৎ না সে তাড়াহুড়ো করে। যেমন, সে বলে, ‘আমি আমার রবের নিকট দো‘আ করেছি, কিন্তু তিনি আমার দো‘আ কবুল করেন নি।” মুসলিমের এক বর্ণনায় আছে, “বান্দার দো‘আ ততক্ষণ পর্যন্ত কবূল করা হয়, যতক্ষণ সে গুনাহের জন্য বা আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করার জন্য দো‘আ না করে, আর যতক্ষণ না সে তাড়াহুড়ো করে।” জিজ্ঞাসা করা হলো, ‘হে আল্লাহর রাসূল! তাড়াহুড়ো মানে কী?’ তিনি বললেন, “দো‘আকারী বলে, ‘দো‘আ করলাম, আবার দো‘আ করলাম, অথচ দেখলাম না যে, তিনি আমার দো‘আ কবুল করছেন।’ কাজেই সে তখন আফসোস করে এবং দো‘আ করা ত্যাগ করে।”
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।মানসহীহ
ব্যাখ্যা
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জানিয়ে দিচ্ছেন যে, যতক্ষণ না বান্দা পাপের দো‘আ, আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন ও তাড়াহুড়া না করে, বান্দার দো‘আ কবুল করা হয়। জিজ্ঞাসা করা হলো, ‘হে আল্লাহর রাসূল! তাড়াহুড়ো কী যে কারণে দো‘আ কবুল হয় না?’ তিনি বললেন, “দো‘আকারী বলে, ‘দো‘আ করলাম, দো‘আ করলাম, আমার পক্ষ থেকে বার বার দো‘আ প্রকাশ পেয়েছে, কিন্তু আমার দো‘আ কবুল করা হলো না।’ তখন সে তাড়াহুড়া করে আর দো‘আ করা ছেড়ে দেয়।”
সূত্র
- صحيح البخاري، للإمام محمد بن إسماعيل البخاري، تحقيق محمد الناصر، دار طوق النجاة.
- صحيح مسلم، للإمام مسلم بن الحجاج النيسابوري، تحقيق محمد فؤاد عبد الباقي، دار إحياء التراث العربي.
- بهجة الناظرين شرح رياض الصالحين، تأليف سليم بن عيد الهلالي، دار ابن الجوزي، الطبعة الأولى، 1418ه.
- نزهة المتقين شرح رياض الصالحين، تأليف د. مصطفى سعيد الخِن وغيره، مؤسسة الرسالة، بيروت، الطبعة الرابعة عشرة، 1407هـ.
- كنوز رياض الصالحين، لحمد بن ناصر العمار، دار كنوز إشبيليا، الطبعة الأولى، 1430ه.
- دليل الفالحين لطرق رياض الصالحين، لمحمد علي بن محمد بن علان البكري الصديقي، اعتنى بها: خليل مأمون شيحا، دار المعرفة.
- شرح رياض الصالحين، للشيخ محمد بن صالح العثيمين، مدار الوطن، الرياض، 1426هـ.
HadeethEnc.com-এ এই হাদীসعَنْ أَبِي سَعِيدٍ رضي الله عنه أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «مَا مِنْ مُسْلِمٍ يَدْعُو بِدَعْوَةٍ لَيْسَ فِيهَا إِثْمٌ، وَلَا قَطِيعَةُ رَحِمٍ، إِلَّا أَعْطَاهُ اللهُ بِهَا إِحْدَى ثَلَاثٍ: إِمَّا أَنْ تُعَجَّلَ لَهُ دَعْوَتُهُ، وَإِمَّا أَنْ يَدَّخِرَهَا لَهُ فِي الْآخِرَةِ، وَإِمَّا أَنْ يَصْرِفَ عَنْهُ مِنَ السُّوءِ مِثْلَهَا» قَالُوا: إِذنْ نُكْثِرُ، قَالَ: «اللهُ أَكْثَرُ».
আবূ সাঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “কোন মুসলিম পাপ নেই ও আত্মীয়তার সম্পর্ক ছেদ নেই এমন কোনো দোয়া করে না, যার বিনিময়ে আল্লাহ তাকে তিনটির একটি প্রদান করেন না: হয় তার দোয়া দ্রুত কবুল করেন, অথবা সেটি তার জন্য আখিরাতে জমা রাখেন, অথবা তার থেকে অনুরূপ খারাপ দূর করেন” তারা বলল: তাহলে আমরা বেশী করে করব, তিনি বললেন, “আল্লাহ আরো বেশী দিবেন।
এটি আহমাদ বর্ণনা করেছেন।মানসহীহ
ব্যাখ্যা
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: যদি কোন মুসলিম আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করে এবং এমন কোন বিষয় প্রার্থনা করে যা পাপ নয়, যেমন পাপ ও অন্যায়কে সহজ করার জন্য প্রার্থনা করা, অথবা পারিবারিক সম্পর্ক ছিন্ন করার জন্য প্রার্থনা করা; যেমন সে তার সন্তান এবং আত্মীয়স্বজনের বিরুদ্ধে প্রার্থনা করল, তবে আল্লাহ তাকে তার প্রার্থনার কারণে তিনটি জিনিসের মধ্যে একটি অবশ্যই দান করবেন: হয় তিনি তার দোয়া দ্রুত করবেন এবং সে যা চেয়েছে তা তাকে দিয়ে দিবেন। অথবা আল্লাহ তা'আলা কিয়ামতের দিন তার জন্য পুরষ্কার হিসেবে, তার মর্যাদা বৃদ্ধি করবেন, অথবা তার পাপের রহমত ও ক্ষমা হিসেবে এটি বিলম্বিত করবেন। অথবা দোয়ার পরিমাণ অনুযায়ী, এই পৃথিবীতেও তাকে একই ধরনের অনিষ্ট থেকে রক্ষা করবেন। সাহাবীগণ নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বললেন: তাহলে আমরা প্রচুর দোয়া করব; যেন এই গুণগুলোর একটি অর্জন করতে পারি? তিনি সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: আল্লাহর কাছে যা আছে তা তুমি যা চাও তার চেয়েও অনেক বেশি, কারণ তাঁর দান অক্ষয় এবং কখনও শেষ হয় না।
শিক্ষা
- একজন মুসলিমের প্রার্থনা কবুল করা হয় এবং প্রত্যাখ্যাত হয় না, তবে কয়েকটি শর্ত ও আদব রয়েছে; অতএব বান্দার উচিত ঘন ঘন প্রার্থনা করা এবং কবুল হওয়ার ব্যাপারে তাড়াহুড়ো না করা।
- দোয়া কবুল হওয়ার অর্থ যা চাওয়া হয়েছে তা পাওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; তার দোয়া দ্বারা তার পাপের কাফফারা হতে পারে, অথবা পরকালে তার জন্য সংরক্ষিত হতে পারে।
- ইবনু বায রহ. বলেন: বারবার প্রার্থনা করা, আল্লাহ সম্পর্কে ভালো ধারণা রাখা এবং হতাশ না হওয়া দোয়া কবুল হওয়ার সবচেয়ে বড় কারণগুলির মধ্যে একটি। কাজেই একজন ব্যক্তির প্রার্থনায় অবিচল থাকা উচিত, আল্লাহ সম্পর্কে ভালো ধারণা থাকা উচিত এবং জেনে রাখা উচিত যে তিনি সর্বজ্ঞ ও প্রজ্ঞাময়। তিনি হয়তো কোন কারণে দ্রুত দোয়া কবুল করেন, অথবা তা কোন কারণে বিলম্ব করতে পারেন, অথবা তিনি প্রার্থনাকারীকে তার চাওয়া জিনিসের চেয়ে উত্তম কিছু দিতে পারেন।
সূত্র
مسند أحمد (17/ 213) (11133).
بهجة الناظرين شرح رياض الصالحين، لسليم الهلالي (2/ 592).
تطريز رياض الصالحين، لفيصل آل مبارك (ص805).
شرح رياض الصالحين، لابن عثيمين (6/ 54).
مرقاة المفاتيح شرح مشكاة المصابيح، للقاري (4/ 1537).
نزهة المتقين شرح رياض الصالحين، لمجموعة من الباحثين (2/ 1020).
HadeethEnc.com-এ এই হাদীসعَنْ سَلْمَانَ رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّ رَبَّكُمْ حَيِيٌّ كَرِيمٌ، يَسْتَحْيِي مِنْ عَبْدِهِ إِذَا رَفَعَ يَدَيْهِ إِلَيْهِ أَنْ يَرُدَّهُمَا صِفْرًا».
সালমান রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “নিশ্চয় তোমাদের রব চিরঞ্জীব, অতি দানশীল। তাঁর নিকট তাঁর কোনো বান্দা স্বীয় দু‘হাত উঠালে তিনি তা খালি ফিরিয়ে দিতে লজ্জাবোধ করেন।”
এটি আবূ দাঊদ, তিরমিযী ও ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন।মানহাসান
ব্যাখ্যা
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম দোয়ার সময় হাত তুলে দোয়া করার তাগিদ দিয়েছেন। তিনি বললেন যে আল্লাহ (حَيي) খুবই লাজুক এবং দান করা বন্ধ করেন না। তিনি বান্দার সাথে তাই করেন যা তাকে খুশি করে আর যা তার ক্ষতি করে তা ছেড়ে দেন।
(كريم) চাওয়া ছাড়াই দান করেন, তাহলে চাওয়ার পরে কেমন হবে!
তিনি তাঁর মুমিন বান্দার প্রতি লজ্জিত হন যে, প্রার্থনার জন্য তার দুই হাত তুলার পর কিছু না দিয়ে খালি, শূন্য ও হতাশ করে ফিরিয়ে দিবেন।
শিক্ষা
- মানুষ যত বেশি আল্লাহর প্রতি তার প্রয়োজনীয়তা এবং তার ইবাদত প্রকাশ করবে, তত বেশি আশাবাদী এবং কবুলের কাছাকাছি হবে।
- দুয়া করার উৎসাহ প্রদান এবং দুয়ায় হাত তোলা মুস্তাহাব এবং এটি দুআ কবুল হওয়ার অন্যতম কারণ।
- আল্লাহর বান্দাদের প্রতি তাঁর উদারতা ও করুণার ব্যাপকতার বয়ান।
সূত্র
سنن أبي داود (2/ 609) (1488).
سنن الترمذي (5/ 521) (3556).
توضيح الأحكام من بلوغ المرام، لعبد الله البسام (7/ 552).
منحة العلام في شرح بلوغ المرام، لعبد الله الفوزان (10/ 423).
فتح ذي الجلال والإكرام، لابن عثيمين (6/ 483).
HadeethEnc.com-এ এই হাদীসعَنْ عَائِشَةَ رضي الله عنها قَالَتْ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَسْتَحِبُّ الْجَوَامِعَ مِنَ الدُّعَاءِ، وَيَدَعُ مَا سِوَى ذَلِكَ.
‘আয়িশাহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম অল্প শব্দে বহুল অর্থবোধক দো‘আ পছন্দ করতেন এবং তা ছাড়া অন্য দো‘আ পরিহার করতেন।
এটি আবু দাউদ ও আহমাদ বর্ণনা করেছেন।মানসহীহ
ব্যাখ্যা
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন দুআ পছন্দ করতেন যাতে দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণ থাকে, যার শব্দ কম কিন্তু অর্থ অনেক এবং যার মধ্যে থাকত আল্লাহর প্রশংসা এবং ন্যায়নিষ্ঠ উদ্দেশ্য আর বাকি সবকিছু ছেড়ে দিতেন।
শিক্ষা
- অল্প শব্দে দোয়া করা মুস্তাহাব, যাতে ভালো অর্থ থাকে এবং কঠিন ও জটিল বিষয়-বনিতা থাকা মাকরুহ, যা নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নির্দেশনার পরিপন্থী।
- আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন অল্প শব্দে বেশী অর্থের জন্য নির্বাচিত।
- নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম যার মাধ্যমে দোয়া করেছেন প্রমাণিত হয়েছে তার প্রতি আগ্রহী হওয়া; যদিও তা দীর্ঘ হয় এবং তার অনেক শব্দ থাকে, কারণ তার সবগুলো বিস্তৃত দোয়া।
সূত্র
سنن أبي داود (2/ 605) (1482).
مسند أحمد (42/ 76) (25151).
بهجة الناظرين شرح رياض الصالحين، لسليم الهلالي (2/ 542).
نزهة المتقين شرح رياض الصالحين، لمجموعة من الباحثين (2/ 1003).
شرح رياض الصالحين، لابن عثيمين (6/ 15).
كنوز رياض الصالحين، لمجموعة من الباحثين (17/ 349).
HadeethEnc.com-এ এই হাদীসعَن أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: «لاَ يَقُلْ أَحَدُكُمْ: اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي إِنْ شِئْتَ، ارْحَمْنِي إِنْ شِئْتَ، ارْزُقْنِي إِنْ شِئْتَ، وَليَعْزِمْ مَسْأَلَتَهُ، إِنَّهُ يَفْعَلُ مَا يَشَاءُ، لاَ مُكْرِهَ لَهُ».
ولمسلم: «وَلَكِنْ لِيَعْزِمِ الْمَسْأَلَةَ وَلْيُعَظِّمِ الرَّغْبَةَ، فَإِنَّ اللهَ لَا يَتَعَاظَمُهُ شَيْءٌ أَعْطَاهُ».
আবূ হুরাইরাহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, "তোমাদের কেউ যেন না বলে: 'হে আল্লাহ, তুমি যদি চাও আমাকে ক্ষমা করো, যদি চাও আমার প্রতি দয়া করো, যদি চাও আমাকে রিযিক দাও।' তার উচিত তার অনুরোধটি দৃঢ়ভাবে উপস্থাপন করা। কারণ তিনি যা চান তাই করেন, আর কেউ তাকে বাধ্য করতে পারে না।" আর মুসলিমের বর্ণনায় রয়েছে: "কিন্তু তার উচিত তার অনুরোধটি দৃঢ়ভাবে উপস্থাপন করা এবং তার আকাঙ্ক্ষাকে বড় করে তোলা, কারণ আল্লাহ তাকে যা দেন তা তার কাছে অনেক বড় নয়”।
সহীহ বুখারী ও মুসলিমমানসহীহ
ব্যাখ্যা
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোনো কিছুর উপর দোয়া সম্পৃক্ত করতে নিষেধ করেছেন, এমনকি যদি তা আল্লাহর ইচ্ছাও হয়। এটি জ্ঞাত নিশ্চিত বিষয় যে, তিনি ইচ্ছা না করলে ক্ষমা করা হবে না, কাজেই তাঁর ইচ্ছার শর্ত করার কোন অর্থ নেই। এটি এমন ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যে ইচ্ছা ছাড়া বলপ্রয়োগ বা অন্য কোন কারণে কিছু করতে বাধ্য হয়, যা থেকে আল্লাহ তা‘আলা পবিত্র। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাদিসের শেষে এই কথাটি স্পষ্ট করে বলেছেন, “তাঁকে বাধ্য করার মতো কেউ নেই, ঠিক যেমন আল্লাহ যা দেন তাঁর কাছে তা মহান ঠেকে না এবং তিনি অসহায় নন ও তাঁর উপর কোন কিছু বৃহৎ নয় যে, 'যদি তুমি চাও' বলা হবে। এটিকে ইচ্ছার সাথে শর্তাধীন করা তাঁর ক্ষমা থেকে এক ধরণের অমুখাপেক্ষিতা। তাই যে বলে, 'যদি তুমি চাও, আমাকে দাও...' এটি কেবল তখনই ব্যবহৃত হয় যখন কেউ এর থেকে অমুখাপেক্ষী থাকে বা অক্ষম ব্যক্তির সাথে। কিন্তু সক্ষম সত্ত্বার সাথে এবং প্রার্থিত বস্তুর প্রয়োজন ও অভাবের কারণে তা দৃঢ়ভাবে চাইবে, ফকিরের মত চাইবে এবং যা চাইবে তার প্রতি অভাব প্রকাশ করবে আর আল্লাহর দিকে ফিরে যাবে। কারণ তিনিই নিখুঁত ধনী, সবকিছুর উপর সক্ষম।
শিক্ষা
- ইচ্ছার সাথে সম্পৃক্ত করে দোয়া করা নিষেধ।
- আল্লাহর সাথে যা সামঞ্জস্য নয় এমন বিশেষণ থেকে তাকে পবিত্র ঘোষণা করা, তাঁর অনুগ্রহের বিশালতা, তাঁর সম্পদের পরিপূর্ণতা এবং তাঁর উদারতা ও দানশীলতার দলিল।
- আল্লাহর জন্য পরিপূর্ণতা সাব্যস্ত করা।
- আল্লাহর কাছে যা আছে তার প্রতি আকাঙ্ক্ষাকে আরও বাড়িয়ে তোলা এবং তাঁর সম্পর্কে ভালো ধারনা করা।
- কিছু লোক অজান্তেই আল্লাহর ইচ্ছার সাথে দোয়া সম্পৃক্ত করে, যেমন বলে: جزاك الله خيرًا إن شاء الله “আল্লাহ তোমাকে উত্তম প্রতিদান দিন, ইনশাআল্লাহ" অথবা الله يرحمه إن شاء الله "আল্লাহ তার উপর রহম করুন, ইনশাআল্লাহ।" হাদিস অনুসারে এটি জায়েয নয়।
সূত্র
صحيح البخاري (9/ 140) (7477).
صحيح مسلم (4/ 2063) (2679).
الجديد في شرح كتاب التوحيد، لمحمد القرعاوي (ص410).
الملخص في شرح كتاب التوحيد، لصالح الفوزان (ص368).
القول المفيد على كتاب التوحيد، لابن عثيمين (2/ 331).
HadeethEnc.com-এ এই হাদীসعن أبي بن كعب رضي الله عنه : كان رسولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم إذا ذَهَبَ ثُلثُ الليلِ قامَ، فقال: "يا أيها الناسُ، اذكروا اللهَ، جاءت الرَّاجِفَةُ، تَتْبَعُها الرَّادِفَةُ، جاءَ الموتُ بما فيه، جاءَ الموتُ بما فيه"، قلتُ: يا رسول الله، إني أُكْثِرُ الصلاةَ عليكَ، فكم أجعلُ لكَ من صلاتِي؟ فقالَ: "ما شِئتَ"، قلتُ: الرُّبُعَ؟، قالَ: "ما شئتَ، فإنْ زِدتَ فهو خيرٌ لكَ"، قلتُ: فالنّصفَ؟، قالَ: "ما شئتَ، فإن زِدتَ فهو خيرٌ لكَ"، قلتُ: فالثلثين؟ قالَ: "ما شئتَ، فإن زدتَ فهو خيرٌ لكَ"، قلتُ: أجعلُ لكَ صلاتِي كُلَّها؟ قالَ: "إذاً تُكْفى هَمَّكَ، ويُغْفَرَ لكَ ذَنبُكَ".
উবাই ইবন কা‘ব রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, যখন রাতের এক-তৃতীয়াংশ পার হয়ে যেত, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম উঠে দাঁড়াতেন এবং বলতেন, “হে লোক সকল! আল্লাহকে স্মরণ কর। কম্পনকারী (প্রথম ফুৎকার) এবং তার সহগামী (দ্বিতীয় ফুৎকার) চলে এসেছে, আর মৃত্যু তার ভয়াবহতা নিয়ে হাজির, মৃত্যু তার ভয়াবহতা নিয়ে হাযির।” আমি বললাম, ‘হে আল্লাহর রাসূল! আমি আপনার উপর বেশি বেশি দুরূদ পড়ি। অতএব, আমি আপনার প্রতি দরূদ পড়ার জন্য (দো‘আর) কতটা সময় নির্দিষ্ট করব?’ তিনি বললেন, “তুমি যতটা ইচ্ছা কর।” আমি বললাম, ‘এক-চতুর্থাংশ?’ তিনি সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “যতটা চাও। যদি তুমি বেশি কর, তবে তা তোমার জন্য উত্তম হবে।” আমি বললাম, ‘অর্ধেক (সময়)?’ তিনি বললেন, “তুমি যা চাও; যদি বেশি কর, তাহলে তা ভাল হবে।” আমি বললাম, ‘দুই-তৃতীয়াংশ?’ তিনি বললেন, “তুমি যা চাও (তাই কর)। যদি বেশি কর, তবে তা তোমার জন্য উত্তম।” আমি বললাম, ‘আমি আমার (দো‘আর) সম্পূর্ণ সময় দুরূদের জন্য নির্দিষ্ট করব!’ তিনি বললেন, “তাহলে তো (এ কাজ) তোমার দশ্চিন্তা (দূর করার) জন্য যথেষ্ট হবে এবং তোমার পাপকে মোচন করা হবে।”
এটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন। - এটি আহমাদ বর্ণনা করেছেন।মানহাসান
ব্যাখ্যা
হাদীসের শুরুতে আলোচনা করা হয় যে, রাতের এক-তৃতীয়াংশ হলে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘুম থেকে উঠে দাঁড়াতেন এবং তিনি তার উম্মতকে অলসতা থেকে সতর্ক করতেন এবং আল্লাহর পরিপূর্ণ রহমতে যে সব আমল দ্বারা তাঁর সন্তুষ্টি লাভ হয়, তার ওপর উৎসাহ প্রদান করে বলতেন, “হে লোকসকল! আল্লাহকে স্মরণ কর। জবানের দ্বারা ও অন্তরের দ্বারা; যাতে তিনি তার উম্মতকে যিকির বা আল্লাহর স্মরনের কারণে বেশি নেক আমল করা ও অন্যান্য কাজ ছাড়ার ওপর প্রতিষ্ঠিত করতে পারেন। হাদীসটিতে আরো রয়েছে যে, একজন প্রার্থনাকারীর কিছু এমন দো‘আ আছে যা সে তার নিজের জন্য করে। এমতাবস্থায় সে এ কাজ করতে পারে যে, তার যাবতীয় দো‘আর এক-তৃতীয়াংশ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর সালাত পেশ করায় ব্যয় করবে, কিংবা অর্ধেকাংশ বা পুরো অংশ জুড়েই সে তা করবে অর্থাৎ পুরো সময়েই কেবল রাসূলের ওপর সালাত পাঠ করার মাধ্যমেই দো‘আর কাজ সম্পন্ন করবে। যেমন, নিজের জন্য দো‘আ করার পরিবর্তে রাসূলুল্লাহর ওপর দুরূদ পাঠ করল। রাসূলুল্লাহ থেকে প্রমাণিত হয়েছে যে, “যে ব্যক্তি তার ওপর একবার সালাত পড়বে আল্লাহ তার ওপর দশবার সালাত পাঠ করেন।” হাদীসটি ইমাম মুসলিম স্বীয় সহীহ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। (১/৩০৬, হাদীস নং ৪০৮) এটা থেকে বুঝা যায় যে, কেবল রাসূলের ওপর সালাত পেশ করার সাওয়াবই তার জন্য যথেষ্ট হবে। এ কারণেই তিনি বলেন, তাহলে তো এ কাজ অর্থাৎ দরূদ পড়া তোমার দুশ্চিন্তার জন্য যথেষ্ট হবে এবং তোমার পাপও মোচন করা হবে। অর্থাৎ তুমিতো আল্লাহর কাছে ক্ষতির কারণ দূর করতে চাইছ, যা তোমার দুশ্চিন্তা বাড়ায় এবং তোমাকে গুনাহে বাধ্য করে। কিন্তু যখন তুমি দো‘আর পরিবর্তে দুরূদ পড়লে তখন তোমার আসল উদ্দেশ্য হাসিল হয়ে গেল। হাদীসটির উদ্দেশ্য এও হতে পারে যে, দো‘আর মধ্যে রাসূলকে তার ওপর দরূদ পাঠের মাধ্যমে শরীক করবে। ফলে যেন সে বলল, যখনই আমি আমার জন্য দো‘আ করব, আপনার ওপরও দুরূদ পাঠ করব। এ কথা প্রমাণ করে না যে, দো‘আ বাদ দিয়ে শুধু পুরো সময় রাসূলের ওপর সালাত পেশ করায় সীমাবদ্ধ থাকবে। বরং দুটোই করবে; এর মাধ্যমে সব হাদীসের ওপর আমল করা সম্ভব হবে।
সূত্র
بهجة الناظرين شرح رياض الصالحين؛ تأليف سليم الهلالي، دار ابن الجوزي.
تحفة الذاكرين بعدة الحصن الحصين؛ للإمام محمد بن علي الشوكاني، تحقيق سيد إبراهيم وغيره، دار الحديث-القاهرة، الطبعة الأولى، 1419م.
الجامع الكبير؛ للإمام محمد بن عيسى الترمذي، تحقيق د. بشار عواد، دار الغرب الإسلامي-بيروت، الطبعة الثانية، 1998م.
جامع المسائل؛ لشيخ الإسلام أحمد بن تيمية الحراني، تحقيق محمد عزيز شمس، دار عالم الفوائد، الطبعة الأولى، 1422هـ.
دليل الفالحين لطرق رياض الصالحين؛ لمحمد بن علان الشافعي، دار الكتاب العربي-بيروت.
رياض الصالحين من كلام سيد المرسلين؛ للإمام أبي زكريا النووي، تحقيق د. ماهر الفحل، دار ابن كثير-دمشق، الطبعة الأولى، 1428هـ.
سلسلة الأحاديث الصحيحة؛ للشيخ محمد ناصر الدين الألباني، مكتبة المعارف-الرياض، 1415هـ.
صحيح مسلم؛ للإمام مسلم بن الحجاج، حققه ورقمه محمد فؤاد عبدالباقي، دار عالم الكتب-الرياض، الطبعة الأولى، 1417هـ.
كنوز رياض الصالحين؛ فريق علمي برئاسة أ.د. حمد العمار، دار كنوز إشبيليا-الرياض، الطبعة الأولى، 1430هـ.
المسند؛ للإمام أحمد بن حنبل، نشر المكتب الإسلامي-بيروت، مصور عن الطبعة الميمنية.
نزهة المتقين شرح رياض الصالحين؛ تأليف د. مصطفى الخِن وغيره، مؤسسة الرسالة-بيروت، الطبعة الرابعة عشر، 1407هـ.
HadeethEnc.com-এ এই হাদীসعن أنس رضي الله عنه : أن النبيَّ صلى الله عليه وسلم جاءَ إلى سعد بنِ عبادة رضي الله عنه فَجَاءَ بِخُبْزٍ وَزَيْتٍ، فأكلَ، ثم قال النبيُّ صلى الله عليه وسلم : «أفْطَرَ عِنْدَكُمُ الصَّائِمُونَ؛ وَأكَلَ طَعَامَكُمُ الأَبرَارُ، وَصَلَّتْ عَلَيْكُمُ المَلاَئِكَةُ».
আনাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম সা‘দ ইবন উবাদা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুর নিকট যান। তিনি রুটি এবং যাইতুনের তেল তাঁর সামনে পেশ করেন। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা খেয়ে এরূপ বলেন, “সাওম পালনকারীগণ তোমাদের কাছে ইফতার করুক, নেককার লোকেরা তোমাদের খানা খাক, আর ফিরিশতাগণ তোমাদের উপর রহমত প্রেরণ করুক।”
এটি ইবন মাজাহ বর্ণনা করেছেন। - এটি আবূ দাঊদ বর্ণনা করেছেন। - এটি আহমাদ বর্ণনা করেছেন। - এটি দারিমী বর্ণনা করেছেনমানহাদীসটির সনদ সহীহ।
ব্যাখ্যা
আনাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, একদা নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম খাযরাজ গোত্রের সর্দার সা‘দ ইবন উবাদার নিকট যান। তার কথা: “তিনি রুটি ও যাইতুন (তেল) নিয়ে আসলেন”। এ হাদীসে (মেহমানের সামনে) সহজসাধ্য জিনিস পেশ করার দলিল রয়েছে এবং তা দানশীলতার পরিপন্থী নয়। “তিনি খেলেন”। অর্থাৎ নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম খেলেন। তার বাণী: “অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন”। অর্থাৎ খাবার শেষ করে। তার বাণী: “তোমাদের নিকট সাওম পালনকারীগণ ইফতার করুক” অর্থাৎ আল্লাহ তোমাদেরকে সায়িমকে ইফতার করানোর সাওয়াব দান করুক। পুরো বাক্যটি দু‘আ অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। তার বাণী: “তাকওয়াবান লোকেরা তোমাদের খানা খাক”। আবরার শব্দটি বাররুন এর বহুবচন। এর অর্থ তাকওয়াবান। তার বাণী: “ফিরিশতাগণ তোমাদের উপর রহমত প্রেরণ করুক” অর্থাৎ তোমাদের জন্য ইস্তিগফার করুক। দেখুন, দলীলুল ফালিহীন, (7/75-76)
সূত্র
1- بهجة الناظرين شرح رياض الصالحين؛ تأليف سليم الهلالي، دار ابن الجوزي.
2- تطريز رياض الصالحين؛ تأليف فيصل آل مبارك، تحقيق د. عبدالعزيز آل حمد، دار العاصمة-الرياض، الطبعة الأولى، 1423هـ.
3- دليل الفالحين لطرق رياض الصالحين؛ لمحمد بن علان الشافعي، دار الكتاب العربي-بيروت.
4- رياض الصالحين من كلام سيد المرسلين؛ للإمام أبي زكريا النووي، تحقيق د. ماهر الفحل، دار ابن كثير-دمشق، الطبعة الأولى، 1428هـ.
5- سنن أبي داود؛ للإمام أبي داود سليمان بن الأشعث السجستاني، تعليق عزت الدعاس وغيره، دار ابن حزم-بيروت، الطبعة الأولى، 1418هـ.
6- سنن ابن ماجه؛ للحافظ محمد بن يزيد القزويني، حققه محمد فؤاد عبدالباقي، دار إحياء الكتب العربية.
7- المسند؛ للإمام أحمد بن حنبل، نشر المكتب الإسلامي-بيروت، مصور عن الطبعة الميمنية.
8- مسند الدارمي –المعروف بـ: سنن الدارمي-؛ للإمام عبدالله بن عبدالرحمن الدارمي، تحقيق حسين سليم، دار المغني-الرياض، الأولى، 1421هـ.
9- مشكاة المصابيح؛ تأليف محمد بن عبدالله التبريزي، تحقيق محمد ناصر الدين الألباني، المكتب الإسلامي-بيروت، الطبعة الثانية، 1399هـ.
10- نزهة المتقين شرح رياض الصالحين؛ تأليف د. مصطفى الخِن وغيره، مؤسسة الرسالة-بيروت، الطبعة الرابعة عشر، 1407هـ.
HadeethEnc.com-এ এই হাদীসএখানকার প্রতিটি হাদীস, মান, ব্যাখ্যা ও শিক্ষা HadeethEnc.com যেভাবে প্রকাশ করে হুবহু সেভাবেই দেখানো, তাদের পুনঃপ্রকাশের শর্ত মেনে। মানের সঙ্গে মান-নির্ধারকের নাম নেই। অনুবাদ ও ব্যাখ্যা এর লেখকদের নিজস্ব, এবং কোনো কোনোটিতে বিধান বলা আছে; সাবীলের পর্যালোচকেরা এগুলো যাচাই করেননি। আরবি হাদীসটিই মূল পাঠ। উৎস: HadeethEnc.com