মূল অংশে যান
ব্যাখ্যাসহ হাদীস

যিকিরের ক্ষেত্রে নবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পদ্ধতি

৮টি হাদীস

“মানুষ যখন নিজ বাড়িতে প্রবেশ করার সময় এবং খাবার সময় আল্লাহর নাম স্মরণ করে (‘বিসমিল্লাহ’ বলে), তখন শয়তান (তার সঙ্গীদেরকে) বলে: ’তোমাদের জন্য রাত্রিযাপনের স্থানও নেই এবং রাতের খাবারও নেই।

عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ رضي الله عنهما أَنَّهُ سَمِعَ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «إِذَا دَخَلَ الرَّجُلُ بَيْتَهُ، فَذَكَرَ اللهَ عِنْدَ دُخُولِهِ وَعِنْدَ طَعَامِهِ، قَالَ الشَّيْطَانُ: لَا مَبِيتَ لَكُمْ، وَلَا عَشَاءَ، وَإِذَا دَخَلَ، فَلَمْ يَذْكُرِ اللهَ عِنْدَ دُخُولِهِ، قَالَ الشَّيْطَانُ: أَدْرَكْتُمُ الْمَبِيتَ، وَإِذَا لَمْ يَذْكُرِ اللهَ عِنْدَ طَعَامِهِ، قَالَ: أَدْرَكْتُمُ الْمَبِيتَ وَالْعَشَاءَ».
জাবির বিন আব্দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেন: “মানুষ যখন নিজ বাড়িতে প্রবেশ করার সময় এবং খাবার সময় আল্লাহর নাম স্মরণ করে (‘বিসমিল্লাহ’ বলে), তখন শয়তান (তার সঙ্গীদেরকে) বলে: ’তোমাদের জন্য রাত্রিযাপনের স্থানও নেই এবং রাতের খাবারও নেই।’ যখন সে বাড়ি প্রবেশ করার সময় আল্লাহর নাম না নেয় , তখন শয়তান বলে: ’তোমরা রাতের খাবার পেলে।’ আর যখন সে খাবার সময়েও আল্লাহর নাম না নেয়, তখন শয়তান বলে: ’তোমরা রাত্রিযাপনের জায়গাও পেলে এবং খাবারও পেলে।”
ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেনমানসহীহ
ব্যাখ্যা

নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাড়িতে প্রবেশ এবং খাবার খাওয়ার সময় আল্লাহর নাম স্মরণ করতে (‘বিসমিল্লাহ’ বলতে) আদেশ করেছেন। যখন কেউ নিজ বাড়িতে প্রবেশের সময় এবং খাবার শুরু করার সময় ‘বিসমিল্লাহ’ বলে, তখন শয়তান তার সঙ্গীদেরকে বলে: ’তোমাদের জন্য এ বাড়িতে রাত্রিযাপনের স্থানও নেই এবং রাতের খাবারও নেই।’ এ বাড়িতে এর মালিক আল্লাহর নাম স্মরণ করে বাড়িটি সুরক্ষিত করেছে। অন্যদিকে যখন সে ব্যক্তি বাড়ি প্রবেশ করার সময় এবং খাবার গ্রহণের সময় আল্লাহর নাম না নেয় , তখন শয়তান তার সঙ্গীদেরকে সংবাদ দিয়ে বলে: ’তারা এ বাড়িতে রাত্রিযাপনের জায়গাও পেলে এবং রাতের খাবারও পেলে।’

শিক্ষা
  1. বাড়িতে প্রবেশের সময় এবং খাবার শুরু করার আগে আল্লাহর নাম স্মরণ করা (বিসমিল্লাহ বলা) মুস্তাহাব। কেননা যে বাড়িতে প্রবেশের সময় এবং যে বাড়িতে খাবার খাওয়ার শুরুতে আল্লাহর নাম নেওয়া না হয়, সে বাড়িতে শয়তান রাত্রিযাপন করে এবং বাড়ির লোকদের সাথে রাতের খাবার খায়।
  2. শয়তান বনী আদমের সকল কাজ পর্যবেক্ষণ করে এবং খবরদারী করে। সুতরাং বনী আদম যখনই আল্লাহর যিকির থেকে গাফিল হয়ে যায়, তখন শয়তান তার উদ্দেশ্য সাধন করে।
  3. যিকির শয়তানকে বিতাড়িত করে।
  4. প্রত্যেকটি শয়তানের সঙ্গী-সাথী ও অনুসারী আছে, যারা তার কথায় সুসংবাদ গ্রহণ করে এবং তার আদেশ মান্য করে।
সূত্র

صحيح مسلم (3/ 1598) (2018). بهجة الناظرين شرح رياض الصالحين، لسليم الهلالي (2/ 50). تطريز رياض الصالحين، لفيصل المبارك (ص467). شرح رياض الصالحين، لابن عثيمين (4/ 190). نزهة المتقين شرح رياض الصالحين، لمجموعة من الباحثين (1/ 700).

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

“হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট নিজেকে সমর্পন করলাম, আপনার প্রতি ঈমান আনলাম, আপনার উপর তাওয়াক্কুল করলাম, আপনার কাছে প্রত্যাবর্তন করলাম ও আপনার ক্ষমতায় (শত্রুর বিরুদ্ধে) বিবাদ করলাম। হে আল্লাহ! আপনার ইজ্জতের অসীলায় আমি আশ্রয় চাই, আপনি ব্যতীত কোনো (সত্য) ইলাহ নেই, আপনি আমাকে পথভ্রষ্ট করবেন না। আপনি সেই চিরঞ্জীব যে মরবে না। জিন ও মানব সকলেই মারা যাবে।”

عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضيَ اللهُ عنهما أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَقُولُ: «اللهُمَّ لَكَ أَسْلَمْتُ، وَبِكَ آمَنْتُ، وَعَلَيْكَ تَوَكَّلْتُ، وَإِلَيْكَ أَنَبْتُ، وَبِكَ خَاصَمْتُ، اللهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِعِزَّتِكَ، لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ أَنْ تُضِلَّنِي، أَنْتَ الْحَيُّ الَّذِي لَا يَمُوتُ، وَالْجِنُّ وَالْإِنْسُ يَمُوتُونَ».
ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ ‍দু‘আ পড়তেন: “হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট নিজেকে সমর্পন করলাম, আপনার প্রতি ঈমান আনলাম, আপনার উপর তাওয়াক্কুল করলাম, আপনার কাছে প্রত্যাবর্তন করলাম ও আপনার ক্ষমতায় (শত্রুর বিরুদ্ধে) বিবাদ করলাম। হে আল্লাহ! আপনার ইজ্জতের অসীলায় আমি আশ্রয় চাই, আপনি ব্যতীত কোনো (সত্য) ইলাহ নেই, আপনি আমাকে পথভ্রষ্ট করবেন না। আপনি সেই চিরঞ্জীব যে মরবে না। জিন ও মানব সকলেই মারা যাবে।”
সহীহ বুখারী ও মুসলিম, এটি সহীহ মুসলিমের শব্দ এবং বুখারী তা সংক্ষেপে বর্ণনা করেছেন।মানসহীহ
ব্যাখ্যা

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দোয়ার মধ্যে একটি ছিল: (اللهم لك أسلمت) "হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে আত্মসমর্পণ করেছি"— অর্থাৎ আমি আত্মসমর্পণ করেছি এবং আনুগত্য করেছি। (وبك آمنت) "এবং আপনার প্রতি ঈমান এনেছি" — অর্থাৎ আমি সত্যায়ন করেছি এবং স্বীকার করেছি। (وعليك توكلت) "এবং আপনার উপরই ভরসা করেছি" — অর্থাৎ আমি আমার সব বিষয় আপনাকে সোপর্দ করেছি এবং আপনার উপর নির্ভর করেছি। (وإليك أنبت) "এবং আপনার দিকেই ফিরেছি" — অর্থাৎ আমি আপনার দিকেই প্রত্যাবর্তন করেছি এবং আপনার দিকে মুখ করেছি। (وبك خاصمت) "এবং আপনার সাহায্যেই শত্রুদের সাথে বিতর্ক করেছি" — অর্থাৎ আমি আপনার সাহায্যে শত্রুদের সাথে যুক্তি ও প্রমাণ উপস্থাপন করেছি। (اللهم إني أعوذ) "হে আল্লাহ! আমি আশ্রয় চাই"—অর্থাৎ আমি আপনার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। (بعزتك) "আপনার শক্তির মাধ্যমে" — অর্থাৎ আপনার ক্ষমতা, প্রতিরোধ ও বিজয়ী শক্তির মাধ্যমে। (لا إله إلا أنت) "আপনি ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই"— অর্থাৎ আপনি ছাড়া কোনো সত্যিকার ইলাহ নেই। (أن تضلني) "যাতে আপনি আমাকে পথভ্রষ্ট না করেন"— অর্থাৎ আপনার সন্তুষ্টি ও হিদায়াত থেকে আমাকে দূরে না রাখেন। (أنت الحي الذي لا يموت) "আপনি চিরঞ্জীব, যিনি কখনো মৃত্যুবরণ করেন না” — অর্থাৎ আপনি চিরস্থায়ী, কখনো ধ্বংস হন না। (والجن والإنس يموتون) "অথচ জিন ও মানুষ মৃত্যুবরণ করে" — অর্থাৎ তারা ধ্বংসশীল।"

শিক্ষা
  1. প্রত্যেক দোয়ার আগে আল্লাহর প্রশংসা ও গুণবর্ণনা করার নিয়ম শরিয়তে রয়েছে।
  2. আল্লাহ তাআলার উপর একমাত্র ভরসা করা এবং তাঁর কাছেই নিরাপত্তা চাওয়া আবশ্যক; কারণ তিনি পরিপূর্ণ গুণাবলির অধিকারী, তাই একমাত্র তাঁর উপরই নির্ভর করা যায়। আর সব সৃষ্টি অক্ষম এবং মৃত্যুর দিকে ধাবমান, তাই তাদের উপর ভরসা করা উচিত নয়।
  3. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত এই বিস্তৃত এবং পূর্ণাঙ্গ দোয়া অনুসরণ করা, যাতে সত্যিকার ঈমান এবং পরিপূর্ণ বিশ্বাস প্রকাশ করা হয়েছে।
  4. সিন্দী (রহ.) বলেন: রাসূলের বাণী (أنت الحي) "আপনি চিরঞ্জীব: সুতরাং আপনিই একক সত্ত্বা, যার কাছে আশ্রয় চাওয়া যায়, অন্য কারো নয়।
সূত্র

صحيح البخاري (9/ 117) (7383). صحيح مسلم (4/ 2086) (2717). تطريز رياض الصالحين، لفيصل آل مبارك (ص72). فتح رب البرية بتلخيص الحموية، لابن عثيمين (ص79). نزهة المتقين شرح رياض الصالحين، لمجموعة من الباحثين (1/ 109). مرعاة المفاتيح شرح مشكاة المصابيح، عبيد الله المباركفوري (8/ 223).

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

তোমরা ‘ইয়া যাল জালালি ওয়াল-ইকরাম’ বাক্যটিকে সর্বদা অধিক হারে বলো।

عن أنس رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رسُولُ الله صلى الله عليه وسلم : «ألِظُّوا بـ (يَاذا الجَلاَلِ والإكْرامِ)».
আনাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “ইয়া যাল জালালি ওয়াল-ইকরাম’ বাক্যটিকে তোমরা সর্বদা অধিক হারে বলো।”
এটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন। - এটি নাসাঈ বর্ণনা করেছেন। - এটি আহমাদ বর্ণনা করেছেন।মানসহীহ
ব্যাখ্যা

হাদীসটিতে (ألظوا) একটি নির্দেশমূলক বাক্য। অর্থাৎ এ দো‘আটিকে তোমরা বাধ্যতামূলক কর, বেশি বেশি কর। উদ্দেশ্য হচ্ছে, তোমাদের দো‘আয় এ বাক্যটি বেশি বেশি বল এবং তা তোমাদের মুখের বুলিতে পরিণত কর। কারণ, এটি আল্লাহর নামসমূহ থেকে একটি নামকে শামিল করেছে। কেউ কেউ বলেছেন, এটি ইসমে আজম বা বড় নাম। কারণ, এটি রুবুবিয়্যাহ ও উলুহিয়্যার সমস্ত গুণাগুণকে শামিল করেছে।

সূত্র

- رياض الصالحين من كلام سيد المرسلين، للإمام أبي زكريا النووي، تحقيق د. ماهر الفحل، دار ابن كثير، دمشق، الطبعة الأولى، 1428ه. - نزهة المتقين شرح رياض الصالحين، تأليف د. مصطفى الخِن وغيره، مؤسسة الرسالة، بيروت، الطبعة الرابعة عشر، 1407هـ. - كنوز رياض الصالحين، لحمد بن ناصر العمار، دار كنوز إشبيليا - الطبعة الأولى، 1430ه. سنن الترمذي - محمد بن عيسى الترمذي، تحقيق وتعليق: أحمد محمد شاكر ومحمد فؤاد عبد الباقي وإبراهيم عطوة عوض - شركة مكتبة ومطبعة مصطفى البابي الحلبي - مصر، الطبعة: الثانية، 1395هـ - 1975م.

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

আল্লাহর শপথ! আমি প্রত্যহ আল্লাহর কাছে সত্তর বারেরও বেশি ইস্তিগফার [ক্ষমাপ্রার্থনা] ও তাওবা করে থাকি।

عن أبي هريرة رضي الله عنه قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: «وَاللهِ إني لأَسْتَغْفِرُ اللهَ وأَتُوبُ إليهِ في اليومِ أَكْثَرَ من سَبْعِينَ مَرَّةً».
আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে মরফূ‘ হিসেবে বর্ণিত, “আল্লাহর শপথ! আমি প্রত্যহ আল্লাহর কাছে সত্তর বারেরও বেশি ইস্তিগফার [ক্ষমাপ্রার্থনা] ও তাওবা করে থাকি।”
এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন।মানসহীহ
ব্যাখ্যা

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যার পূর্বাপর সকল গোনাহ আল্লাহ ক্ষমা করে দিয়েছেন, তিনি শপথ করেন যে, প্রত্যহ তিনি আল্লাহর কাছে সত্তর বারেরও বেশি ইস্তিগফার [ক্ষমাপ্রার্থনা] ও তাওবা করে থাকেন।”

সূত্র

-نزهة المتقين شرح رياض الصالحين، نشر: مؤسسة الرسالة، الطبعة: الرابعة عشر، 1407هـ - 1987م. -شرح رياض الصالحين، لابن عثيمين، نشر: دار الوطن للنشر، الرياض، الطبعة: 1426هـ. -بهجة الناظرين شرح رياض الصالحين، للهلالي، نشر: دار ابن الجوزي، الطبعة الأولى1418هـ. -صحيح البخاري، نشر: دار طوق النجاة (مصورة عن السلطانية بإضافة ترقيم ترقيم محمد فؤاد عبد الباقي)، الطبعة: الأولى، 1422هـ.

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

“হে লোক সকল! তোমরা আল্লাহর সমীপে তাওবা কর ও তাঁর নিকট ক্ষমা চাও! কেননা, আমি প্রতিদিন এক শো বার তাওবা করি”।

عن الْأَغَرِّ رضي الله عنه، وَكَانَ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «يَا أَيُّهَا النَّاسُ تُوبُوا إِلَى اللهِ، فَإِنِّي أَتُوبُ فِي الْيَوْمِ إِلَيْهِ مِائَةَ مَرَّةٍ».
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাহাবী আগার (আল মুযানী) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূালুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “হে লোক সকল! তোমরা আল্লাহর সমীপে তাওবা কর ও তাঁর নিকট ক্ষমা চাও! কেননা, আমি প্রতিদিন এক শো বার তাওবা করি”।
ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেনমানসহীহ
ব্যাখ্যা

নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম মানুষকে বারবার তওবা ও ইস্তেগফার করার নির্দেশ দেন। তিনি নিজের সম্পর্কে বলেন যে, তিনি দিনে একশবারেরও বেশি আল্লাহ তা‘আলার কাছে তওবা ও ক্ষমা প্রার্থনা করেন, অথচ তার অতীত ও ভবিষ্যতের পাপসমূহ ক্ষমা করা হয়েছে। এতেই আল্লাহ তা‘আলার প্রতি বিনয় এবং ইবাদতের পরিপূর্ণতা রয়েছে।

শিক্ষা
  1. ঈমানের ক্ষেত্রে তাদের পদমর্যাদা এবং স্তর নির্বিশেষে সকলেই আল্লাহ তা‘আলার নিকট প্রত্যাবর্তন করা এবং তাওবার মাধ্যমে নিজেদের পরিপূর্ণ করা প্রয়োজন। আল্লাহ তা‘আলার অধিকার পূরণে কেউ ত্রুটিমুক্ত নয়: (হে মুমিনগণ, তোমরা সকলেই আল্লাহর কাছে তওবা করো।)
  2. তাওবা সর্বজনীন, তা নিষিদ্ধ কাজ ও পাপের কারণেই হোক বা কর্তব্য পালনে অবহেলার কারণেই হোক।
  3. তওবার ক্ষেত্রে আন্তরিকতা তার কবুলের শর্ত। কাজেই যে ব্যক্তি আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো জন্য পাপ ত্যাগ করে, সে তাওবাকারী না।
  4. আল-নওয়াবী বলেন: তওবার জন্য তিনটি শর্ত রয়েছে: পাপ করা বন্ধ করা, তা করার জন্য অনুতপ্ত হওয়া এবং আর কখনও তা না করার দৃঢ় সংকল্প করা। যদি পাপটি মানুষের সাথে সম্পর্কিত হয়, তাহলে এর চতুর্থ শর্ত রয়েছে, তা হল: জুলমকে তার মালিকের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া, অথবা তার কাছ থেকে দায়মুক্তি লাভ করা।
  5. নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের ক্ষমা প্রার্থনা করা তার পাপের জন্য হওয়া জরুরি নয়, বরং এটি তাঁর পূর্ণ দাসত্ব এবং আল্লাহর যিকিরের প্রতি আসক্তি এবং তাঁর মহত্ত্ব এবং আল্লাহ তা‘আলার মহান অধিকার এবং বান্দা তাঁর নিয়ামতের জন্য তাঁর কৃতজ্ঞতা প্রকাশে যা-ই করুন না কেন নিজের ত্রুটি-বিচ্যুতি সম্পর্কে সচতেনতার কারণে। এটি তাঁর পরবর্তী উম্মতের জন্য পথ দেখানোর একটি প্রক্রিয়া বটে এবং অন্যান্য হিকমত রয়েছে।
সূত্র

صحيح مسلم (4/ 2075) (2702). نزهة المتقين شرح رياض الصالحين، لمجموعة من الباحثين (1/ 33). شرح رياض الصالحين، لابن عثيمين (1/ 97). بهجة الناظرين شرح رياض الصالحين، لسليم الهلالي (1/ 52).

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সিজদার সময় এই দু'আ পড়তেন: «اللهُمَّ اغْفِرْ لِي ذَنْبِي كُلَّهُ دِقَّهُ، وَجِلَّهُ، وَأَوَّلَهُ وَآخِرَهُ وَعَلَانِيَتَهُ وَسِرَّهُ» অর্থাৎ, হে আল্লাহ! তুমি আমার ছোট ও বড়, পূর্বের ও পরের, প্রকাশিত ও গুপ্ত সকল প্রকার পাপকে মাফ করে দাও।”

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه: أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَقُولُ فِي سُجُودِهِ: «اللهُمَّ اغْفِرْ لِي ذَنْبِي كُلَّهُ دِقَّهُ، وَجِلَّهُ، وَأَوَّلَهُ وَآخِرَهُ وَعَلَانِيَتَهُ وَسِرَّهُ».
আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সিজদার সময় এই দু'আ পড়তেন: «اللهُمَّ اغْفِرْ لِي ذَنْبِي كُلَّهُ دِقَّهُ، وَجِلَّهُ، وَأَوَّلَهُ وَآخِرَهُ وَعَلَانِيَتَهُ وَسِرَّهُ» অর্থাৎ, হে আল্লাহ! তুমি আমার ছোট ও বড়, পূর্বের ও পরের, প্রকাশিত ও গুপ্ত সকল প্রকার পাপকে মাফ করে দাও।”
ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেনমানসহীহ
ব্যাখ্যা

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সিজদায় এই দোয়া করতেন: (اللهم اغفر لي ذنبي) (হে আল্লাহ, আমার পাপ ক্ষমা করুন) তা ঢেকে রেখে এবং এর পরিণতি থেকে আমাকে রক্ষা করে। অতএব আপনি ক্ষমা করুন, উপেক্ষা করুন এবং এড়িয়ে যান, (كله) (সবকিছু), আমি বলতে চাচ্ছি: (دِقّه) (ছোট পাপ), (وجِلّه) (বড় পাপ) (وأوله) (প্রথম পাপ) (وآخره) (শেষ পাপ) এবং এর মধ্যে যা আছে, (علانيته وسره) (প্রকাশ্য ও গোপন), যা আপনি ছাড়া কেউ জানে না, আপনি পবিত্র।

শিক্ষা
  1. ইবনুল কাইয়্যিম বলেন: তিনি ছোট ও বড়, সূক্ষ্ম ও মহান, প্রথম ও শেষ, গোপন ও প্রকাশ্য সব পাপের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন। এটি সাধারণীকরণ ও ব্যাপকতা যাতে বান্দা যা করে তার সবকিছুর উপর তাওবা আসে, সে তার পাপ সম্পর্কে জানে বা না জানে।
  2. বলা হয়েছে: (الدِّق) শব্দটি (الجِلّ) এর আগে উল্লেখ করা হয়েছে। কারণ প্রার্থনাকারী তার প্রার্থনায় ক্রমশ সামনে এগিয়ে যান। অধিকন্তু ছোট পাপ বারবার করা এবং সেগুলোর প্রতি ভ্রুক্ষেপ না করার ফলে বড় পাপের উৎপত্তি হয়, যেন এগুলো বড় পাপের মাধ্যম। আবার ক্ষমা প্রার্থনার দাবি হল প্রমাণিত বস্তু আগে আনা এবং তারপর উচ্চতায় এগিয়ে যাওয়া।
  3. আল্লাহর কাছে অনুনয় করা এবং তাঁর কাছে সকল ছোট-বড় পাপের ক্ষমা প্রার্থনা করা।
  4. আন-নওয়াবী বলেন: এতে দোয়ার উপর জোর দেওয়া এবং এর শব্দের পরিধি বৃদ্ধি করার দাবি রয়েছে, যদিও এর এক অংশ অন্যটির জন্য যথেষ্ট হয়।
সূত্র

صحيح مسلم (1/ 350) (483). بهجة الناظرين شرح رياض الصالحين، لسليم الهلالي (2/ 506). تطريز رياض الصالحين، لفيصل آل مبارك (ص780). شرح رياض الصالحين، لابن عثيمين (5/ 509). كنوز رياض الصالحين، لمجموعة من الباحثين (17/ 111). نزهة المتقين شرح رياض الصالحين، لمجموعة من الباحثين (2/ 979).

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

হে আল্লাহ! তুমি আমাকে মার্জনা কর, যে অপরাধ আমি পূর্বে করেছি এবং যা পরে করেছি, যা গোপনে করেছি এবং যা প্রকাশ্যে করেছি।

عن علي بن أبي طالب رضي الله عنه قال: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم إذا قام إلى الصلاة يكون من آخر ما يقول بين التشهد والتسليم: «اللهم اغفر لي ما قَدَّمتُ وما أخَّرْتُ، وما أسررتُ وما أعلنتُ، وما أسْرَفتُ، وما أنت أعلم به مني، أنت المُقَدِّم، وأنت المؤخر، لا إله إلا أنت».
আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সালাতের জন্য দণ্ডায়মান হতেন, তখন তাশাহহুদ ও সালাম ফিরার মধ্যখানে এই দু'আ পড়তেন। অর্থাৎ, “হে আল্লাহ! তুমি আমাকে মার্জনা কর, যে অপরাধ আমি পূর্বে করেছি এবং যা পরে করেছি, যা গোপনে করেছি এবং যা প্রকাশ্যে করেছি, যা অতিরিক্ত করেছি এবং যা তুমি আমার চাইতে অধিক জান। তুমি আদি, তুমিই অন্ত। তুমি ব্যতীত কেউ সত্য উপাস্য নেই।”
এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।মানসহীহ
ব্যাখ্যা

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সালাতের জন্য দণ্ডায়মান হতেন, তখন তাশাহহুদ ও সালাম ফিরার মধ্যখানে এই দু'আ পড়তেন। অর্থাৎ, “হে আল্লাহ! তুমি আমাকে মার্জনা কর, যে অপরাধ আমি পূর্বে করেছি এবং যে আমল আমি পরে করেছি। আমার থেকে যত প্রকার বাড়াবাড়ি হয়েছে। আর আমি যা গোপনে করেছি এবং যা প্রকাশ্যে করেছি। আর যা আমি অতিরিক্ত করেছি অর্থাৎ সীমালঙ্গন করেছি। এটি গুনাহের বিভিন্ন প্রকার উল্লেখ করার মাধ্যমে ক্ষমা চাওয়ার বিষয়ে মুবালাগাহ করা। আর যা তুমি আমার চাইতে অধিক জান। অর্থাৎ সে সব গুনাহ মাফ কর যার সংখ্যা ও হুকুম আমি জানি না। তুমিই পিছেকারী। অর্থাৎ সাহায্য না করে কতক বান্দাকে পশ্চাতে ঠেলে দেন। আর তুমিই অগ্রগামীকারী, অর্থাৎ কতক বান্দাকে সম্মানের মর্তবায় উন্নীত করেন। আর তুমি অন্ত তার জন্যে যাকে তুমি উচ্চতা থেকে নিচে নামাতে চাও। তুমি ব্যতীত কোন ইলাহ নেই। অর্থাৎ, তুমি ছাড়া সত্যিকার কোন ইলাহ নেই।

সূত্র

بهجة الناظرين شرح رياض الصالحين، تأليف: سليم الهلالي، دار ابن الجوزي. رياض الصالحين من كلام سيد المرسلين، للإمام أبي زكريا النووي، تحقيق د. ماهر الفحل، دار ابن كثير- دمشق، الطبعة الأولى، 1428هـ. صحيح مسلم، للإمام مسلم بن الحجاج، حققه ورقمه محمد فؤاد عبدالباقي، دار عالم الكتب، الرياض، الطبعة الأولى، 1417هـ. مرقاة المفاتيح شرح مشكاة المصابيح، تأليف ملا علي القاري، تحقيق صدقي العطار، دار الفكر، بيروت، الطبعة الأولى، 1412هـ. نزهة المتقين شرح رياض الصالحين، تأليف د. مصطفى الخِن وغيره، مؤسسة الرسالة، بيروت، الطبعة الرابعة عشر، 1407هـ.

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

তুমি পড়বে: «لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، اللهُ أَكْبَرُ كَبِيرًا، وَالْحَمْدُ لِلَّهِ كَثِيرًا، سُبْحَانَ اللهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ، لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللهِ الْعَزِيزِ الْحَكِيمِ» অর্থ: “আল্লাহ ছাড়া কোন প্রকৃত মাবূদ নেই, তিনি একক, তার কোনই শরীক নেই। আল্লাহ অনেক বড়, আল্লাহর জন্য অনেক প্রশংসা, আমি পবিত্রতা ঘোষণা করি সে আল্লাহর যিনি সৃষ্টিজগতের রব, কারো কোন উপায় বা শক্তি নেই আল্লাহ ছাড়া, যিনি প্রতাপান্বিত ও প্রজ্ঞাবান।”

عَنْ سَعْدٍ رضي الله عنها قَالَ: جَاءَ أَعْرَابِيٌّ إِلَى رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ: عَلِّمْنِي كَلَامًا أَقُولُهُ، قَالَ: «قُلْ: لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، اللهُ أَكْبَرُ كَبِيرًا، وَالْحَمْدُ لِلَّهِ كَثِيرًا، سُبْحَانَ اللهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ، لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللهِ الْعَزِيزِ الْحَكِيمِ» قَالَ: فَهَؤُلَاءِ لِرَبِّي، فَمَا لِي؟ قَالَ: «قُلْ: اللهُمَّ اغْفِرْ لِي وَارْحَمْنِي وَاهْدِنِي وَارْزُقْنِي».
সা‘দ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: একদিন এক বেদুঈন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এসে বলল: হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে এমন কিছু দু’আ-কালাম শিখিয়ে দিন যা আমি পড়তে পারি। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তুমি পড়বে: «لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، اللهُ أَكْبَرُ كَبِيرًا، وَالْحَمْدُ لِلَّهِ كَثِيرًا، سُبْحَانَ اللهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ، لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللهِ الْعَزِيزِ الْحَكِيمِ» অর্থ: “আল্লাহ ছাড়া কোন প্রকৃত মাবূদ নেই, তিনি একক, তার কোনই শরীক নেই। আল্লাহ অনেক বড়, আল্লাহর জন্য অনেক প্রশংসা, আমি পবিত্রতা ঘোষণা করি সে আল্লাহর যিনি সৃষ্টিজগতের রব, কারো কোন উপায় বা শক্তি নেই আল্লাহ ছাড়া, যিনি প্রতাপান্বিত ও প্রজ্ঞাবান।” (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শেখানো দু’আ শুনে) সে বেদুঈনটি বলল: হে আল্লাহর রাসূল! এটা তো আমার রবের জন্য (তাঁর প্রশংসা), আমার জন্য কী? তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তুমি পড়বে:اللهُمَّ اغْفِرْ لِي وَارْحَمْنِي وَاهْدِنِي وَارْزُقْنِي». “হে আল্লাহ! তুমি আমাকে মাফ কর, দয়া কর, হিদায়াত দান কর এবং আমাকে রিযিক দাও)।
ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেনমানসহীহ
ব্যাখ্যা

একজন বেদুইন ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে চাইলেন, তাকে যেন তিনি এমন একটি জিকির শিখিয়ে দেন, যা তিনি বলতে পারেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন: বলো- "لا إله إلا الله وحده لا شريك له" "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকা লাহু" (একমাত্র আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই, তাঁর কোন শরীক নেই) তিনি তাওহীদের সাক্ষ্য দিয়ে শুরু করেছেন। অর্থাৎ আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্যিকার মাবূদ নেই। "আল্লাহু আকবার কাবীরা" অর্থাৎ, আল্লাহ সবচেয়ে মহান এবং সবকিছুর চেয়ে বড়। "ওয়াল হামদু লিল্লাহি কাসীরা" অর্থাৎ, আল্লাহর জন্য অনেক প্রশংসা, তাঁর গুণাবলী, কাজ এবং অগণিত নিয়ামতের জন্য। "সুবহানাল্লাহি রাব্বিল আলামীন" অর্থাৎ, আল্লাহ সকল ত্রুটি থেকে পবিত্র এবং মহান। "লা হাওলা ওয়া লা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহিল আজীযিল হাকীম" অর্থাৎ, এক অবস্থা থেকে অন্য অবস্থায় পরিবর্তন শুধুমাত্র আল্লাহর দ্বারা, তার সাহায্য ও তাওফীকের মাধ্যমেই সম্ভব। তারপর সেই ব্যক্তি বললেন: এই কথাগুলো আমার রবের যিকির ও মহিমা বর্ণনার জন্য। তাহলে আমার নিজের জন্য দুআ কী? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন: বলো- "আল্লাহুম্মাগফির লী" অর্থাৎ, আল্লাহ আমার গুনাহগুলো মোচন করুন এবং তা ঢেকে দিন। "ওয়ারহামনী":আমার প্রতি দয়া করো অর্থাৎ, আমাকে ধর্মীয় ও পার্থিব উপকারিতা এবং কল্যাণ পৌঁছানোর মাধ্যমে। "ওয়াহদিনী" অর্থাৎ, আমাকে সর্বোত্তম অবস্থার দিকে এবং সিরাতুল মুস্তাকিমের দিকে হিদায়াত দিন। "ওয়ারযুকনী"আমাকে রিজিক দান করো অর্থাৎ আমাকে হালাল সম্পদ, সুস্বাস্থ্য এবং সব ধরনের ভালো ও সুস্থতা দান করুন।

শিক্ষা
  1. লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আল্লাহু আকবার,আল হামদু লিল্লাহ ও সুবহানাল্লাহ এর মাধ্যমে আল্লাহর যিকির করার প্রতি উৎসাহ রয়েছে এখানে।
  2. দু্আর আগে আল্লাহর যিকির ও প্রশংসা করা উত্তম।
  3. প্রত্যেকের উত্তম দুআ এবং দুনিয়া ও আখিরাতের ব্যাপক কল্যাণের জন্য কুরআন, সুন্নাহে বর্ণিত দুআ করা উচিত। এছাড়াও যা চায়, তা দ্বারা দুআ করতে পারে।
  4. বান্দার উচিত দুনিয়া ও আখিরাতে যা তার জন্য উপকারী তা শেখার প্রতি আগ্রহী হওয়া।
  5. এতে রয়েছে মাগফিরাত, রহমত ও রিযিক চাওয়ার প্রতি উৎসাহ, কারণ এগুলোই হলো সব ধরনের কল্যাণের সমষ্টি।
  6. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উম্মতকে উপকারী জিনিস শেখানোর ব্যাপারে আগ্রহ।
  7. রহমতের পূর্বে মাগফিরাতের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যেন প্রথমে পরিপূর্ণ ভাবে পাপ মুক্ত হয়ে যায়। যেহেতু মাগফিরাত হলো গুনাহ ঢেকে দেওয়া এবং জাহান্নাম থেকে দূরে রাখা, আর রহমত হলো সকাল কল্যাণ পৌঁছে দেওয়া এবং জান্নাতে প্রবেশ করা। এটাই হলো মহা সাফল্য।
সূত্র

صحيح مسلم (4/ 2072) (2696). بهجة الناظرين شرح رياض الصالحين، لسليم الهلالي (2/ 498). نزهة المتقين شرح رياض الصالحين، لمجموعة من الباحثين (2/ 972). مرقاة المفاتيح شرح مشكاة المصابيح، لعلي القاري (4/ 1606).

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

এখানকার প্রতিটি হাদীস, মান, ব্যাখ্যা ও শিক্ষা HadeethEnc.com যেভাবে প্রকাশ করে হুবহু সেভাবেই দেখানো, তাদের পুনঃপ্রকাশের শর্ত মেনে। মানের সঙ্গে মান-নির্ধারকের নাম নেই। অনুবাদ ও ব্যাখ্যা এর লেখকদের নিজস্ব, এবং কোনো কোনোটিতে বিধান বলা আছে; সাবীলের পর্যালোচকেরা এগুলো যাচাই করেননি। আরবি হাদীসটিই মূল পাঠ। উৎস: HadeethEnc.com