মূল অংশে যান
ব্যাখ্যাসহ হাদীস

দোয়ার ফযীলত

৪টি হাদীস

“একজন মুসলিম বান্দা তার ভাইয়ের অনুপস্থিতিতে তার জন্য দুআ করলে তা কবুল হয়

عَن أُمِّ الدَّرْدَاءِ وَ أَبِي الدَّرداءِ رَضيَ اللهُ عنهما أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَقُولُ: «دَعْوَةُ الْمَرْءِ الْمُسْلِمِ لِأَخِيهِ بِظَهْرِ الْغَيْبِ مُسْتَجَابَةٌ، عِنْدَ رَأْسِهِ مَلَكٌ مُوَكَّلٌ كُلَّمَا دَعَا لِأَخِيهِ بِخَيْرٍ، قَالَ الْمَلَكُ الْمُوَكَّلُ بِهِ: آمِينَ وَلَكَ بِمِثْلٍ».
উম্মু দারদা ও আবু দারদা রাদিয়াল্লাহু আনহুমা হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেন: “একজন মুসলিম বান্দা তার ভাইয়ের অনুপস্থিতিতে তার জন্য দুআ করলে তা কবুল হয়। তার মাথার নিকটে একজন ফেরেশতা নিয়োজিত থাকেন, যখন সে তার ভাইয়ের জন্য প্রার্থনা করে তখন নিয়োজিত ফেরেশতা বলে থাকে "আমীন এবং তোমার জন্যও অবিকল তাই"।
ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেনমানসহীহ
ব্যাখ্যা

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যে, একজন মুসলিমের দোআ তার মুসলিম ভাইয়ের জন্য তার অনুপস্থিতিতে কবুল করা হয়। কারণ এটি আন্তরিকতার দিক থেকে আরও স্পষ্ট এবং প্রার্থনাকারীর মাথার কাছে একজন ফেরেশতা নিযুক্ত থাকেন এবং যখনই সে তার ভাইয়ের জন্য প্রার্থনা করে, তখন তার কাছে নিযুক্ত ফেরেশতা বলেন: আমিন এবং তুমি যেমন প্রার্থনা করেছ তেমনি তোমার জন্যও হোক।

শিক্ষা
  1. মুমিনদের একে অপরের প্রতি সদয় হতে উৎসাহিত করা, এমনকি দোআর মাধ্যমেও।
  2. অনুপস্থিতিতে দোআ করা পড়া ঈমান ও ভ্রাতৃত্বের আন্তরিকতার স্পষ্ট ইঙ্গিত।
  3. অনুপস্থিতিতে দোআ করার শর্তারোপ; কারণ এতে আন্তরিকতা এবং হৃদয়ের উপস্থিতির আরও বেশি প্রকাশ ঘটে।
  4. দোআ কবুল হওয়ার একটি কারণ হলো, একজন মুসলিম তার ভাইয়ের অনুপস্থিতিতে তার জন্য দোয়া করবে।
  5. আন-নওয়াবী বলেন: মুসলিম ভাইয়ের অনুপস্থিতিতে তার জন্য দুআ করার মধ্যে ফয়ীলত রয়েছে। যদি কেউ মুসলিমদের একটি দলের জন্য দুআ করে, তাহলে এই ফযীলত অর্জিত হবে। আবার যদি কেউ সকল মুসলিমদের জন্য দুআ করে, তাহলে স্পষ্টত এই মর্যাদা অর্জিত হবে। প্রাথমিক যুগের কিছু মুসলিম যখন নিজেদের জন্য দুআ করতে চাইতেন, তখন তাদের মুসলিম ভাইয়ের জন্যও একই দুআ করতেন। কারণ এটি কবুল করা হয়, আর সেও একই দোআ লাভ করে।
  6. ফেরেশতার কিছু কাজের বয়ান এবং তাদের মধ্যে এমনও আছেন যাকে আল্লাহ এই কাজ করার জন্য নিযুক্ত করেছেন।
সূত্র

صحيح مسلم (4/ 2094) (2733). بهجة الناظرين شرح رياض الصالحين، لسليم الهلالي (2/ 585). نزهة المتقين شرح رياض الصالحين، لمجموعة من الباحثين (2/ 1018). شرح رياض الصالحين، لابن عثيمين (6/ 48). كنوز رياض الصالحين، لمجموعة من الباحثين (17/ 510).

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

“দু’আই হল ইবাদত

عن النعمان بن بَشِير رضي الله عنه قال: سمعت النبيَّ صلى الله عليه وسلم يقول: «الدُّعَاءُ هُوَ الْعِبَادَةُ»، ثُمَّ قَرَأَ: «{وَقَالَ رَبُّكُمُ ادْعُونِي أَسْتَجِبْ لَكُمْ إِنَّ الَّذِينَ يَسْتَكْبِرُونَ عَنْ عِبَادَتِي سَيَدْخُلُونَ جَهَنَّمَ دَاخِرِينَ} [غافر: 60]».
নু‘মান ইবনু বাশীর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: “দু’আই হল ইবাদত।” এরপর তিনি তিলাওয়াত করলেন: {وَقَالَ رَبُّكُمُ ادْعُونِي أَسْتَجِبْ لَكُمْ إِنَّ الَّذِينَ يَسْتَكْبِرُونَ عَنْ عِبَادَتِي سَيَدْخُلُونَ جَهَنَّمَ دَاخِرِينَ} [غافر: 60]». “তোমাদের রব বলেন, তোমরা আমাকেই ডাক, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দিব। যারা অহংকারে আমার ইবাদত বিমুখ তারা অবশ্যই লাঞ্ছিত হয়ে জাহান্নামে প্রবেশ করবে।” [সূরা গাফির, আয়াত: ৬০]
এটি আবূ দাউদ, তিরমিযী, ইবনে মাজাহ ও আহমাদ বর্ণনা করেছেন।মানসহীহ
ব্যাখ্যা

নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ হাদীসে বর্ণনা করেছেন যে, দু‘আই হলো ইবাদত। সুতরাং জরুরী হলো সকল ইবাদতই আল্লাহর জন্য একনিষ্ঠ হওয়া। হোক তা সাহায্য ও সহযোগিতা চাওয়া মূলক ইবাদত, যেমন আল্লাহর কাছে উপকারী কিছু চাওয়া এবং দুনিয়া ও আখিরাতের অকল্যাণ থেকে পানাহ চাওয়া। অথবা হোক তা ইবাদতমূলক দুআ করা, আর তা হলো, প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য কথা ও কাজ, অন্তরের ইবাদত বা শারীরিক ইবাদত বা আর্থিক ইবাদত ইত্যাদি যা কিছু আল্লাহ ভালোবাসেন ও যেকাজে তিনি সন্তুষ্ট হন সেগুলো পালন করা। এরপরে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ ব্যাপারে দলিল পেশ করেন। তিনি বলেন, আল্লাহ বলেন: “আর তোমাদের রব বলেন, তোমরা আমাকে ডাকো, আমি তোমাদের জন্য সাড়া দিবো। নিশ্চয় যারা অহঙ্কার বশতঃ আমার ইবাদাত থেকে বিমুখ থাকে, তারা অচিরেই লাঞ্ছিত অবস্থায় জাহান্নামে প্রবেশ করবে।”

শিক্ষা
  1. দু‘আ হলো ইবাদতের মূল। আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো কাছে দু‘আ করা জায়েয নেই।
  2. দু‘আ প্রকৃত ইবাদত-বন্দেগী, রবের অমুখাপেক্ষীতা, তাঁর কুদরত ও বান্দার আল্লাহর প্রতি মুখাপেক্ষীতার স্বীকৃতি অন্তর্ভুক্ত করে।
  3. অহংকার বশত: আল্লাহর ইবাদত ও তাঁর কাছে দু‘আ বর্জন করার ব্যাপারে রয়েছে কঠোর শাস্তি। নিশ্চয় যারা অহঙ্কার বশতঃ আল্লাহর নিকট দুআ থেকে বিমুখ থাকে, তারা অচিরেই লাঞ্ছিত অবস্থায় জাহান্নামে প্রবেশ করবে।
সূত্র

سنن أبي داود (2/ 603) (1479). سنن الترمذي (5/ 292) (3247). سنن ابن ماجه (5/ 5) (3828). مسند أحمد (30/ 297) (18352). توضيح الأحكام من بلوغ المرام، للبسام (7/ 546). منحة العلام في شرح بلوغ المرام، لعبد الله الفوزان (10/ 416). فتح ذي الجلال والإكرام، لابن عثيمين (6/ 480). سبل السلام بشرح بلوغ المرام، للصنعاني (2/ 707).

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

“আল্লাহ তা‘আলার নিকট দু‘আর চেয়ে অধিক সম্মানিত কোনো বস্তু নেই।”

عن أبي هريرة رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «لَيْسَ شَيْءٌ أَكْرَمَ عَلَى اللهِ تَعَالَى مِنَ الدُّعَاءِ».
আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “আল্লাহ তা‘আলার নিকট দু‘আর চেয়ে অধিক সম্মানিত কোনো বস্তু নেই।”
এটি তিরমিযী, ইবনে মাজাহ ও আহমাদ বর্ণনা করেছেন।মানহাসান
ব্যাখ্যা

নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ হাদীসে বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহ তা‘আলার নিকট দু‘আর চেয়ে সর্বোত্তম কোনো ইবাদত নেই। কেননা দু‘আতে রয়েছে আল্লাহর অমুখাপেক্ষীতার স্বীকৃতি এবং বান্দার অক্ষমতা ও তাঁর প্রতি মুখাপেক্ষীতার স্বীকারোক্তি।

শিক্ষা
  1. এ হাদীসে দু‘আর ফযিলত বর্ণনা করা হয়েছে। যে ব্যক্তি আল্লাহর কাছে দু‘আ করে, সে আল্লাহকে বড় মনে করে ও সম্মান দেয় এবং সে স্বীকৃতি দেয় যে, তিনি সুবহানাহু ওয়াতা‘আলা অভাবমুক্ত, ধনী; কেননা ফকিরের কাছে কেউ চায় না। তিনি সর্বশ্রোতা; বধিরের কাছে চাওয়া হয় না। তিনি দানশীল; কেউ কৃপণের কাছে সাহায্য চায় না। তিনি দয়ালু; কেননা কঠোর হৃদয়ের অধিকারীর কাছে চাওয়া হয় না। তিনি সক্ষম; কেননা অক্ষম ব্যক্তির কাছে দু‘আ করা হয় না। তিনি অতি নিকটবর্তী; দূরবর্তী কেউ শুনতে পায় না, ইত্যাদি মহান ও সুন্দর গুণাবলী আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতা‘আলার জন্য সাব্যস্ত করে।
সূত্র

سنن الترمذي (5/ 385) (3370). سنن ابن ماجه (5/ 6) (3829). مسند أحمد (14/ 360) (8748). توضيح الأحكام من بلوغ المرام، للبسام (7/ 546). منحة العلام في شرح بلوغ المرام، لعبد الله الفوزان (10/ 416). فتح ذي الجلال والإكرام، لابن عثيمين (6/ 481). سبل السلام بشرح بلوغ المرام، للصنعاني (2/ 707).

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

“যখন মানুষ মৃত্যুবরণ করে তখন তার সমস্ত আমল বন্ধ হয়ে যায় তিন প্রকার আমল ছাড়া। সাদাকা জারিয়াহ্(চালু থাকে এমন) অথবা এমন ইলম যার দ্বারা উপকার হয় অথবা পুণ্যবান সন্তান যে তার জন্যে দু’আ করতে থাকে”।

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «إِذَا مَاتَ الْإِنْسَانُ انْقَطَعَ عَنْهُ عَمَلُهُ إِلَّا مِنْ ثَلَاثَةٍ: إِلَّا مِنْ صَدَقَةٍ جَارِيَةٍ، أَوْ عِلْمٍ يُنْتَفَعُ بِهِ، أَوْ وَلَدٍ صَالِحٍ يَدْعُو لَهُ».
আবূ হুরাইরাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “যখন মানুষ মৃত্যুবরণ করে তখন তার সমস্ত আমল বন্ধ হয়ে যায় তিন প্রকার আমল ছাড়া। সাদাকা জারিয়াহ্(চালু থাকে এমন) অথবা এমন ইলম যার দ্বারা উপকার হয় অথবা পুণ্যবান সন্তান যে তার জন্যে দু’আ করতে থাকে”।
ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেনমানসহীহ
ব্যাখ্যা

নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মৃত ব্যক্তির আমল তার মৃত্যুর সাথে সাথে বন্ধ হয়ে যায়, তার মৃত্যুর পরে তার কোন নেক আমল হাসিল হয় না এই তিনটি জিনিস ছাড়া: যেহেতু সে এগুলোর উপলক্ষ্য হয়েছিল: প্রথমটি: সদকা যার সাওয়াব চলমান এবং স্থায়ী, বন্ধ হয় না যেমন ওয়াকফ করা, মসজিদ নির্মাণ করা, কূপ খনন করা ইত্যাদি। দ্বিতীয়টি: এমন ইলম যার দ্বারা মানুষ উপকৃত হয়, যেমন ইলমের কিতাব রচনা করা, বা কাউকে শিক্ষা দেওয়া; তারপর সেই ব্যক্তি তার মৃত্যুর পরে তার ইলম ছড়িয়ে দিল। তৃতীয়: সৎ মুমিন সন্তান যে তার পিতামাতার জন্য দোয়া করে।

শিক্ষা
  1. আলেমগণ সর্বসম্মতভাবে একমত যে, একজন ব্যক্তি তার মৃত্যুর পর যে সাওয়াব লাভ করে তার মধ্যে রয়েছে সদকা জারিয়াহ, উপকারী ইলম এবং দোয়া। অন্যান্য হাদিসে এসছে: হজও।
  2. এই হাদীসে বিশেষভাবে এই তিনটি উল্লেখ করা হয়েছে: কারণ এগুলো কল্যাণের ভিত্তি এবং নেককার লোকেরা তাদের মৃত্যুর পর এগুলো অবশিষ্ট থাকুক তা ইচ্ছা করে থাকে।
  3. প্রত্যেক ইলম যা উপকারী তার দ্বারা সাওয়াব হাসিল হবে, কিন্তু এসবের প্রধান এবং শীর্ষে রয়েছে শরয়ী ইলম এবং তার সহযোগী ইলমসমূহ।
  4. এই তিনটির মধ্যে ইলম সবচেয়ে উপকারী; কারণ ইলম এমন যে তা শিখে তার দ্বারা সে উপকৃত হয়, ইলমে রয়েছে শরীয়তের সুরক্ষা এবং সাধারণভাবে মাখলুকের উপকার। ইলম হল সবচেয়ে ব্যাপক এবং ব্যাপ্তীময়। কারণ আপনার জীবনকালে যারা উপস্থিত আছে এবং আপনার মৃত্যুর পর যারা উপস্থিত থাকবে তারা সবাই আপনার ইলম থেকে শিখবে।
  5. উত্তম সন্তান লালন-পালনের জন্য উৎসাহ; তারাই যারা পরকালে তাদের পিতামাতার উপকার করবে। আর তাদের উপকারের মধ্যে একটি হল তারা তাদের জন্য দোয়া করবে।
  6. পিতা-মাতার মৃত্যুর পর তাদের প্রতি অনুগ্রহ করতে উৎসাহিত করা, এটিও এক ধরনের দয়া যা থেকে সন্তান উপকৃত হয়।
  7. দোয়া মৃতদের উপকার করে, যদিও তা সন্তান ব্যতীত অন্য কারো থেকে হয়, তবে সন্তানকে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে; কারণ সাধারণত সে পিতা-মাতার জন্য দোয়া করতে থাকে যতক্ষণ না সে নিজে মারা যায়।
সূত্র

صحيح مسلم (3/ 1255) (1631)، البحر المحيط الثجاج في شرح صحيح الإمام مسلم بن الحجاج (28/ 413).

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

এখানকার প্রতিটি হাদীস, মান, ব্যাখ্যা ও শিক্ষা HadeethEnc.com যেভাবে প্রকাশ করে হুবহু সেভাবেই দেখানো, তাদের পুনঃপ্রকাশের শর্ত মেনে। মানের সঙ্গে মান-নির্ধারকের নাম নেই। অনুবাদ ও ব্যাখ্যা এর লেখকদের নিজস্ব, এবং কোনো কোনোটিতে বিধান বলা আছে; সাবীলের পর্যালোচকেরা এগুলো যাচাই করেননি। আরবি হাদীসটিই মূল পাঠ। উৎস: HadeethEnc.com