عن أنس رضي الله عنه قال: «أَنْفَجْنَا أَرْنَباً بِمَرِّ الظَّهْرَانِ، فَسَعَى الْقَوْمُ فَلَغَبُوا، وَأَدْرَكْتُهَا فَأَخَذْتُهَا، فَأَتَيْتُ بِهَا أَبَا طَلْحَةَ، فَذَبَحَهَا وَبَعَثَ إلَى رَسُولِ الله صلى الله عليه وسلم بِوَرِكِهَا وَفَخِذَيْهَا فَقَبِلَهُ».
আনাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত: মাররুয-যাহরান নামী স্থানে আমরা একটি খরগোশকে উত্যক্ত করলাম। লোকেরা ছুটোছুটি করে ক্লান্ত হয়ে পড়ল। আর আমি তাকে পেলাম এবং ধরলাম। তারপর তাকে নিয়ে আবূ তালহার নিকট আসলে সে তা জবেহ করল এবং রাসূলুল্লাহর নিকট তার নিতম্ব ও রান প্রেরণ করলে তিনি তা গ্রহণ করেন।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।মানসহীহ
ব্যাখ্যা
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তার সাহাবীগণ একটি সফরে ছিলেন। হতে পারে তারা যে স্থানে অবতরণ করেন সেটি ছিল ‘মাররুয যাহরান’ নামী স্থান। এ স্থানে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সাহাবীদের নিয়ে বিজয়ের বছর অবতরণ করেন। তারা একটি খরগোশকে তাড়া করল। সবাই সেটিকে ধরার জন্য তার পিছু নিল। তিনি বলেন তারা অক্ষম হলে আমি সেটিকে ধরে ফেলি। আনাস ইবন মালিক তখন তার যৌবনে পা দিয়েছেন মাত্র। তিনি সেটিকে ধরে তার মায়ের স্বামী আবু তালহার নিকট নিয়ে গেলে তিনি তা জবেহ করে দেন এবং তা থেকে নিতম্ব রাসূলের জন্য হাদিয়া দেন। তিনি তা গ্রহণ করলেন এবং হতে পারে তিনি তা থেকে খেলেন।
সূত্র
صحيح البخاري، محمد بن إسماعيل البخاري الجعفي، تحقيق: محمد زهير الناصر، دار طوق النجاة (مصورة عن السلطانية بإضافة ترقيم: محمد فؤاد عبد الباقي)، الطبعة: الأولى 1422هـ.
الإلمام بشرح عمدة الأحكام، إسماعيل بن محمد الأنصاري، دار الفكر، دمشق، الطبعة: الأولى 1381هـ.
تأسيس الأحكام، أحمد بن يحيى النجمي، دار علماء السلف، الطبعة: الثانية 1414هـ.
تيسير العلام شرح عمدة الأحكام، عبد الله بن عبد الرحمن البسام، تحقيق: محمد صبحي حلاق، مكتبة الصحابة، الأمارات، مكتبة التابعين، القاهرة، الطبعة: العاشرة 1426هـ.
عمدة الأحكام من كلام خير الأنام صلى الله عليه وسلم لعبد الغني المقدسي، دراسة وتحقيق: محمود الأرناؤوط، مراجعة وتقديم: عبد القادر الأرناؤوط، دار الثقافة العربية، دمشق، بيروت، مؤسسة قرطبة، الطبعة: الثانية 1408هـ.
عن عَبْد اللهِ بن أبي أوفى رضي الله عنهما قال: «غَزَوْنَا مَعَ رَسُولِ الله صلى الله عليه وسلم سَبْعَ غَزَوَاتٍ، نَأْكُلُ الْجَرَادَ».
আব্দুল্লাহ ইবন আবি আওফা রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: “আমরা রাসূলুল্লাহুর সাথে সাতটি যুদ্ধ টিড্ডি (ফড়িং) খেতে খেতে করেছি”।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।মানসহীহ
ব্যাখ্যা
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা রাসূলের সাহাবীদেরকে সাতটি যুদ্ধে তাদের নিকট কোন খাদ্য না থাকার কারণে টিড্ডি (ফড়িং) দ্বারা রিযিক হিসেবে সাহায্য করেছেন যেমনটি তিনি তাদেরকে আম্বর মাছ দ্বারা সাহায্য করেছিলেন। যে মাছটি সমূদ্র থেকে বের হয়েছিল অপর একটি যুদ্ধে তারা সবাই তা থেকে খেয়েছিলেন।
সূত্র
- صحيح البخاري، دار طوق النجاة، ط 1422هـ.
- صحيح مسلم، ط دار إحياء التراث العربي، تحقيق محمد فؤاد عبد الباقي.
- خلاصة الكلام، فيصل آل مبارك ط. الثانية 1412هـ.
- الإفهام لابن باز، ط مؤسسة الجريسي تحقيق سعيد القحطاني.
- تيسير العلام شرح عمدة الأحكام، للبسام، ط. دار الميمان، 1426هـ.
- تأسيس الأحكام للنجمي، ط دار المنهاج، 1427هـ.
عن أَسْمَاء بِنْت أَبِي بَكْرٍ رضي الله عنهما قالت: «نَحَرْنَا عَلَى عَهْدِ رَسُولِ الله صلى الله عليه وسلم فَرَسًا فَأَكَلْنَاهُ». وَفِي رِوَايَةٍ «وَنَحْنُ بِالْمَدِينَةِ».
আসমা বিনত আবূ বকর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “আমরা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাললাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে একটি ঘোড়া নহর করলাম এবং সেটি খেলাম।” অন্য বর্ণনায় রয়েছে, “তখন আমরা মদীনায় ছিলাম।”
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।মানসহীহ
ব্যাখ্যা
আসমা বিনত আবূ বকর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা সংবাদ দিয়েছেন যে, তারা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাললাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে একটি ঘোড়া নহর করেছিলেন এবং সেটি ভক্ষণ করেছেন। এ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত যে, ঘোড়ার গোস্ত খাওয়া জায়েয। সুতরাং আল-কুরআনে গাধা ও খচ্চরের সাথে ঘোড়ার কথা উল্লেখ করায় এটি খাওয়া নিষিদ্ধ হওয়ার সন্দেহ করা যাবে না। আল্লাহ বলেছেন, “আর (তিনি সৃষ্টি করেছেন) ঘোড়া, খচ্চর ও গাধা, তোমাদের আরোহণ ও শোভার জন্য এবং তিনি সৃষ্টি করেন এমন কিছু, যা তোমরা জান না।” [সূরা আন-নাহাল, আয়াত: ৮]
সূত্র
1- صحيح البخاري، محمد بن إسماعيل البخاري الجعفي، تحقيق: محمد زهير الناصر، دار طوق النجاة (مصورة عن السلطانية بإضافة ترقيم: محمد فؤاد عبد الباقي)، الطبعة: الأولى 1422هـ.
2- صحيح مسلم، مسلم بن الحجاج القشيري النيسابوري، تحقيق محمد فؤاد عبد الباقي، دار إحياء التراث العربي، بيروت، الطبعة: 1423هـ.
3- خلاصة الكلام شرح عمدة الأحكام، فيصل بن عبد العزيز المبارك، الطبعة: الثانية 1412هـ، 1992م.
4- الإفهام في شرح عمدة الأحكام، لابن باز، تحقيق: سعيد القحطاني، مؤسسة عبد العزيز بن باز الخيرية، الرياض، الطبعة: الأولى 1435هـ.
5- الإلمام بشرح عمدة الأحكام، إسماعيل بن محمد الأنصاري، دار الفكر، دمشق، الطبعة: الأولى 1381هـ.
6- تيسير العلام شرح عمدة الأحكام، عبد الله بن عبد الرحمن البسام، دار الميمان، الطبعة: الأولى 1426هـ، 2005م.
7- تأسيس الأحكام، أحمد بن يحيى النجمي، دار المنهاج، الطبعة: 1427هـ.
عن جابر بن عبد الله رضي الله عنهما : (أن النبي صلى الله عليه وسلم نهى عن لحوم الحُمُرِ الأَهْلِيَّةِ، وأَذِنَ في لحوم الخيل).
ولمسلم وحده قال: (أكلنا زمن خيبر الخيل وحُمُرَ الوَحْشِ، ونهى النبي صلى الله عليه وسلم عن الحمار الأَهْلِيِّ).
عن عبد الله بن أبي أوفى رضي الله عنه قال: (أصابتنا مجاعة ليالي خيبر، فلما كان يوم خيبر: وقعنا في الحُمُرِ الأَهْلِيَّةِ فانْتَحَرْنَاهَا، فلما غَلَتِ بها القُدُورُ: نادى مُنَادِي رسول الله صلى الله عليه وسلم أن أَكْفِئُوا القُدُورَ، وربما قال: ولا تأكلوا من لحوم الحُمُرِ شيئا).
عن أبي ثعلبة رضي الله عنه قال: (حَرَّمَ رسول الله صلى الله عليه وسلم لحوم الحُمُر الأَهْلِيَّةِ).
জাবের ইবন আব্দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গৃহপালিত গাধার গোস্ত খেতে নিষেধ করেছেন এবং ঘোড়ার গোস্ত খাওয়ার অনুমতি প্রদান করেছেন। সহীহ মুসলিমের একক বর্ণনায় বর্ণিত: আমরা খাইবারের বছর জঙ্গলি গাধা ও ঘোড়ার গোস্ত খেয়েছি। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের গৃহ পালিত গাধার গোস্ত খাওয়া থেকে নিষেধ করেছেন। আব্দুল্লাহ ইবন আবূ আওফা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: খাইবারের রাতে আমাদের ক্ষুধা পেল। যখন দিন হলো আমরা গৃহ পালিত গাধার ওপর লুটে পড়লাম। যখন পাতিলসমূহ উতরানো আরম্ভ করল তখন রাসূলের আহ্বানকারী বলল, তোমরা পাতিলসমূহ উল্টে ফেল। হয়তো বা বলল, তোমরা গাধার গোস্ত থেকে কিছুই ভক্ষণ করো না। সা‘লাবা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গৃহপালিত গাধার গোস্ত নিষিদ্ধ করেন।
এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন। - মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।মানসহীহ
ব্যাখ্যা
জাবের ইবন আব্দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহুমা সংবাদ দেন যে, গৃহপালিত গাধার গোস্ত খেতে নিষেধ করেছেন এবং তিনি ঘোড়া ও গাধার গোস্ত খাওয়ার অনুমতি প্রদান করেছেন। আর আব্দুল্লাহ ইবন আবূ আওফা রাদিয়াল্লাহু আনহুমা সংবাদ দেন যে, খাইবারে ঘটনার রাতে তাদের ক্ষুধা পেয়েছিল। যখন খাইবার জয় হলো, তারা তার গাধা যবেহ করলেন এবং তার গোস্ত নিলেন এবং রান্না করা আরম্ভ করলেন। তারপর যখন তারা তা রান্না করা শেষ করলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের পাতিলসমূহ উল্টে ফেলা এবং এ গোস্ত থেকে কোন কিছু না খাওয়ার নির্দেশ দিলেন।
সূত্র
1- صحيح البخاري، محمد بن إسماعيل البخاري الجعفي، تحقيق: محمد زهير الناصر، دار طوق النجاة (مصورة عن السلطانية بإضافة ترقيم: محمد فؤاد عبد الباقي)، الطبعة: الأولى 1422هـ.
2- صحيح مسلم، مسلم بن الحجاج القشيري النيسابوري، تحقيق محمد فؤاد عبد الباقي، دار إحياء التراث العربي، بيروت، الطبعة: 1423هـ.
3- تيسير العلام شرح عمدة الأحكام، عبد الله بن عبد الرحمن البسام، تحقيق: محمد صبحي حلاق، مكتبة الصحابة، الأمارات، مكتبة التابعين، القاهرة، الطبعة: العاشرة 1426 هـ.
4- تأسيس الأحكام، أحمد بن يحيى النجمي، دار المنهاج، القاهرة، الطبعة: الأولى 1427هـ.
জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহুমা হতে বর্ণিত যে, তিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে মক্কা বিজয়ের বছর মক্কায় অবস্থানকালে বলতে শুনেছেন: “আল্লাহ তা‘আলা ও তাঁর রাসূল মদ, মৃত জন্তু, শূকর ও মূর্তি কেনা-বেচা হারাম করে দিয়েছেন”। তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলো, হে আল্লাহর রাসূল! মৃত জন্তুর চর্বি সম্পর্কে আপনি কী বলেন? তা দিয়ে তো নৌকায় প্রলেপ দেয়া হয় এবং চামড়া তৈলাক্ত করা হয় আর লোকে তা দ্বারা চেরাগ জ্বালিয়ে থাকে? তিনি বললেন, “না, তাও হারাম”। তারপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “আল্লাহ তা‘আলা ইয়াহূদীদের বিনাশ করুন। আল্লাহ যখন তাদের জন্য মৃতের চর্বি হারাম করে দেন, তখন তারা তা গলিয়ে বিক্রি করে মূল্য ভোগ করে”।
সহীহ বুখারী ও মুসলিমমানসহীহ
ব্যাখ্যা
জাবির ইবন আবদুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহুমা নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লামকে মক্কা বিজয়ের বছর মক্কায় অবস্থানকালে বলতে শুনেছেন, নিশ্চয় আল্লাহ ও তাঁর রাসূল মদ, মৃত পশু, শূকর ও মূর্তি বিক্রি নিষিদ্ধ করেছেন। বলা হলো: হে আল্লাহর রাসূল, আমাদের জন্য মৃত পশুর চর্বি বিক্রি করা জায়েয হবে? কেননা এটি জাহাজে রং করার জন্য ব্যবহৃত হয়, এটি দ্বারা চামড়া তৈলাক্ত করা হয় আর লোকেরা তা দ্বারা চেরাগ জ্বালিয়ে থাকে। তিনি বললেন: না, এটি বিক্রি করা হারাম। তারপর তিনি সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: আল্লাহ ইহুদীদের ধ্বংস ও তাদের অভিশাপ করুন। আল্লাহ যখন তাদের ওপর পশুর চর্বি হারাম করলেন, তখন তারা তা গলিয়ে তারপর তার চর্বি বিক্রি করে তার মূল্য ভক্ষণ করল।
শিক্ষা
নাওয়াবী বলেন: মৃত, মদ এবং শূকর: মুসলিমরা সর্বসম্মতভাবে একমত যে এর প্রত্যেকটি বিক্রি করা হারাম।
কাদী বলেন: এই হাদীসে রয়েছে যে, যা খাওয়া বা যার দ্বারা উপকৃত হওয়া বৈধ নয়, তা বিক্রি করাও জায়েয নয় এবং তার দাম খাওয়াও জায়েয নয়, যেমনটি হাদীসে উল্লেখিত চর্বির ক্ষেত্রে রয়েছে।
ইবনু হাজার বলেন: এর প্রেক্ষাপট স্পষ্টভাবে ঈঙ্গিত করে যা অনেকে ব্যাখ্যা করেছেন যে, "এটি হারাম” বলতে বোঝায় তা বিক্রি করা, ব্যবহার করা নয়।
প্রতিটি এমন কৌশল যা হারামকে হালাল করার দিকে নিয়ে যায়,তাই বাতিল।
নববী বলেন: আলেমগণ বলেছেন: মৃত পশু বিক্রির নিষেধাজ্ঞার ব্যাপকতায় রয়েছে যে, আমরা যদি কাফিরকে হত্যা করি এবং কাফিররা তাকে ক্রয় করতে চায় বা তার বিনিময় মূল্য দিতে চায়, তখন তা বিক্রি করা হারাম। হাদীসে এসেছে: নওফল ইবন আবদুল্লাহ আল-মাখজুমিকে খন্দকের দিনে মুসলিমরা হত্যা করেন, তখন কাফিররা নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তার দেহের জন্য দশ হাজার দিরহাম ব্যয় করেন, কিন্তু তিনি তা গ্রহণ করেননি এবং তাকে তাদের কাছে দিয়ে দেন।
সূত্র
صحيح البخاري (3/ 84) (2236).
صحيح مسلم (3/ 1207) (1581).
التحفة الربانية في شرح الأربعين حديثًا النووية، (ص97).
فتاوى اللجنة الدائمة - المجموعة الأولى- اللجنة الدائمة للبحوث العلمية والإفتاء (22/ 506).
الشرح الممتع على زاد المستقنع، لابن عثيمين (1/ 71).
كشف اللثام شرح عمدة الأحكام، لمحمد السفاريني الحنبلي (4/ 557).
تيسير العلام شرح عمدة الأحكام، لعبد الله البسام (ص479).
عن أبي عبد الله جابر بن عبد الله رضي الله عنهما قال: بعثنا رسول الله صلى الله عليه وسلم وأمَّر علينا أبا عبيدة رضي الله عنه نتلقى عِيرًا لقريش، وزودنا جِرَابًا من تمر لم يجد لنا غيره، فكان أبو عبيدة يعطينا تمرة تمرة، فقيل: كيف كنتم تصنعون بها؟ قال: نمَصها كما يمص الصبي ثم نشرب عليها من الماء، فتكفينا يومنا إلى الليل، وكنا نضرب بعصينا الْخَبَطَ ثم نبله بالماء فنأكله. قال: وانطلقنا على ساحل البحر، فرفع لنا على ساحل البحر كهيئة الكثيب الضخم، فأتيناه فإذا هي دابة تدعى الْعَنْبَرَ، فقال أبو عبيدة: ميتة، ثم قال: لا، بل نحن رسل رسول الله صلى الله عليه وسلم وفي سبيل الله وقد اضطررتم فكلوا، فأقمنا عليه شهرًا، ونحن ثلاثمئة حتى سَمِنَّا، ولقد رأيتنا نغترف من وَقْبِ عينه بالْقِلاَلِ الدهن ونقطع منه الْفِدَرَ كالثور أو كقدر الثور، ولقد أخذ منا أبو عبيدة ثلاثة عشر رجلاً فأقعدهم في وقب عينه وأخذ ضلعًا من أضلاعه فأقامها ثم رحل أعظم بعير معنا فمر من تحتها وتزودنا من لحمه وَشَائِقَ، فلما قدمنا المدينة أتينا رسول الله صلى الله عليه وسلم فذكرنا ذلك له، فقال: «هو رزق أخرجه الله لكم فهل معكم من لحمه شيء فتطعمونا؟» فأرسلنا إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم منه فأكله.
আবূ আব্দুল্লাহ জাবের ইবন আব্দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে (এক অভিযানে) পাঠালেন এবং আবূ উবাইদাহকে আমাদের নেতা বানালেন। (আমাদেরকে পাঠানোর উদ্দেশ্য ছিল,) আমরা যেন কুরাইশের এক কাফেলার পশ্চাদ্ধাবন করি। তিনি আমাদেরকে পাথেয়স্বরূপ এক থলি খেজুর দিলেন। আমাদেরকে দেওয়ার মতো এ ছাড়া অন্য কিছু পেলেন না। সুতরাং আবূ উবাইদাহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু আমাদেরকে একটি একটি করে খেজুর দিতেন। তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হলো, ‘আপনারা সেটা দিয়ে কী করতেন?’ তিনি বললেন, ‘আমরা তা বাচ্চার চুষার মত চুষতাম, তারপর পানি পান করতাম। সুতরাং এটা আমাদের জন্য দিন থেকে রাত পর্যন্ত যথেষ্ট হত। আর আমরা লাঠি দ্বারা গাছের পাতা ঝরাতাম, তারপর তা পানিতে ভিজিয়ে খেতাম। আমরা (একবার) সমুদ্রের উপকূল দিয়ে চলছিলাম, আমাদের জন্যে বালির বিশাল স্তূপের মতো এক বস্তু উৎক্ষিপ্ত হলো সমুদ্রতীরে। আমরা তার কাছাকাছি এসে দেখলাম যে, একটা বড় জন্তু, যাকে আম্বার (মাছ) বলা হয়।’ আবূ উবাইদাহ বললেন, ‘এটা তো মৃত (ফলে তা আমাদের জন্য বৈধ নয়)।’ পুনরায় তিনি বললেন, ‘না (বৈধ) বরং আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লামের দূত এবং আল্লাহর পথে (বের হয়েছি) আর তোমরা (এখন) নিরুপায়, সেহেতু খাও।’ সুতরাং আমরা তিন শো লোক একমাস তার দ্বারাই জীবনধারণ করলাম, এমনকি শেষ পর্যন্ত আমরা মোটা হয়ে গেলাম। আমরা ঐ জন্তুর চোখের গর্ত থেকে মগ দিয়ে তেল বের করতাম এবং তার থেকে বলদের সমপরিমাণ মাংসের ফালি কাটতাম। একদা আবূ উবাইদাহ রাদয়িাল্লাহু ‘আনহু আমাদের মধ্যে তেরজনকে নিয়ে ঐ মাছের একটি চোখের কোটরে বসিয়ে দিলেন। আর তার পাঁজরের একখানি হাড় দ্বারা ঐ জন্তুটা দাঁড় করালেন। অতঃপর আমাদের সব চেয়ে বড় উটের উপর চড়ে তিনি তার নিচ দিয়ে পার হয়ে গেলেন। আর আমরা তার মাংস ফালি থেকে পাথেয়স্বরূপ কিছু সাথে নিলাম। অতঃপর যখন আমরা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এলাম এবং তাঁর কাছে ঐ মাছের কথা আলোচনা করলাম, তখন তিনি বললেন, “তা রিযিক ছিল, যা আল্লাহ তা‘আলা তোমাদের জন্য বের করেছেন। আমাদেরকে খাওয়ানোর মতো তোমাদের কাছে তার কিছু মাংস আছে কি?” ফলে আমরা তাঁর নিকট কিছু মাংস পাঠালাম, সুতরাং তিনি তা ভক্ষণ করলেন।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।মানসহীহ
ব্যাখ্যা
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবূ উবাইদাহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুকে আমীর নিযুক্ত করে কুরাইশদের একটি কাফেলা যারা খাদ্য রশদ বহন করছিল তাদের পাকড়াও করার জন্য একটি সৈন্যদল পাঠালেন। আর তিনি তাদের একটি চামড়ার থলি দিলেন যাতে কিছু শুকনা খেজুর ছিল। তাদের সাথে খাদ্য বস্তু কম থাকার কারণে তাদের আমীর তাদের প্রত্যেককে একটি করে খেজুর খেতে দিতেন। তারা তা চুষতো এবং তার ওপর পানি পান করত। তাদের কেউ কেউ তাদের লাঠি দ্বারা গাছের পাতা যা উট খেত ঝরিয়ে খসখসে অবস্থা দূর করার জন্য পানিতে ভিজাত তারপর খেত। যখন তারা নদীর তীরে পৌঁছলো, বালির টিলার মত কি যেন দেখতে পেল। তারপর তারা কাছে এসে দেখে বিশাল একটি মাছ যাকে আম্বর বলা হতো। প্রথমে তাদের আমীর আবূ উবাইদা তা থেকে তাদের ভক্ষণ করতে নিষেধ করেন। কারণ, তা মৃত। আর কুরআনের আয়াত দ্বারা মৃত হারাম হওয়া প্রমাণিত। তারপর তার ইজতেহাদ পরিবর্তন হলো এবং তিনি তাদের তা থেকে খাওয়ার অনুমতি দিলেন। কারণ, প্রয়োজনের সময় মৃত খাওয়াও বৈধ। বিশেষ করে তারা আল্লাহর আনুগত্যের সফরে রয়েছেন। তখন তাদের নিকট নদীর মৃত মাছ খাওয়া যে হালাল তা জানা ছিল না। ফলে তারা প্রয়োজন দ্বারা দলীল দেন। মোটকথা, তারা তা থেকে ভক্ষণ করল এবং কিছু অংশ মদীনায় নিয়ে আসল। মদীনায় এসে তারা বিষয়টি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জানালো, তিনি তাদের কর্মের বৈধতা দিলেন এবং তা থেকে তিনি নিজেও ভক্ষণ করলেন।
সূত্র
المسند الصحيح (صحيح مسلم), تأليف: مسلم بن حجاج النيسابوري, تحقيق: محمد فؤاد عبدالباقي, دار إحياء التراث العربي.
رياض الصالحين، النووي، تعليق وتحقيق: الدكتور ماهر ياسين الفحل -الناشر: دار ابن كثير للطباعة والنشر والتوزيع، دمشق - بيروت-الطبعة: الأولى، 1428 هـ - 2007 م.
بهجة الناظرين شرح رياض الصالحين, تأليف: سليم بن عيد الهلالي, دار ابن الجوزي.
دليل الفالحين لطرق رياض الصالحين, تأليف: محمد علي بن محمد البكري الصديقي, عناية: خليل مأمون شيحا, الناشر: دار المعرفة, ط 4 عام 1425ه.
عن عبد الله بن عمر رضي الله عنهما قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم : «أُحِلَّتْ لكم مَيْتَتَانِ وَدَمَانِ، فأما الميتتان: فَالْجَرَادُ والْحُوتُ، وأما الدَّمَانِ: فالكبد والطحال».
আব্দুল্লাহ ইবন উমার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা থেকে মারফু‘ হিসেবে বর্ণিত, “তোমাদের জন্য দু’প্রকারের মৃতজীব ও দু’ধরনের রক্ত হালাল করা হয়েছে। মৃতজীব দু’টি হলো মাছ ও টিড্ডি। আর দু’প্রকারের রক্ত হলো কলিজা ও প্লীহা।”
এটি ইবন মাজাহ বর্ণনা করেছেন। - এটি আহমাদ বর্ণনা করেছেন।মানসহীহ
ব্যাখ্যা
ইবন উমার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা কিছু জিনিস ভক্ষণ করা বৈধ হওয়া সম্পর্কে ইসলামী শরী‘আতের ফিকহী হুকুম আমাদেরকে বর্ণনা করেছেন। তন্মধ্যে একটি হলো, মৃত টিড্ডি ও মাছ। আর দ্বিতীয় প্রকার হলো, দু’ধরণের রক্ত। তা হলো কলিজা ও প্লীহা। এ দু’ধরণের জিনিসকে মৃতপ্রাণী ও রক্ত খাওয়া হারামের ব্যাপক হুকুম থেকে পৃথক রাখা হয়েছে। দেখুন, ফাতহু যিল জালালি ওয়াল ইকরাম বিশারহি বুলূগিল মারাম (১/১০৩)।
সূত্র
1. توضيح الأحكام للشيخ البسام، ط5، مكتبة الأسدي، مكة المكرمة، 1423ه.
2. سُبل السلام، للصنعاني، دار الحديث.
3. تسهيل الإلمام، للشيخ صالح الفوزان، بعناية: عبدالسلام السليمان، ط1، 1427ه.
4. شرح الشيخ ابن عثيمين للبلوغ، تحقيق صبحي رمضان وآخر، ط1، المكتبة الإسلامية، مصر، 1427ه.
5. منحة العلَّام للشيخ عبد الله بن صالح الفوزان، ط1، دار ابن الجوزي، الدمام، 1427ه.
عن أم شريك رضي الله عنها : أن رسول الله صلى الله عليه وسلم أمرها بِقَتْلِ الأَوْزَاغِ وقال: «كان يَنْفُخُ على إبراهيم».
উম্মে শারীক রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম টিকটিকি মারতে আদেশ দিয়েছেন এবং বলেছেন যে, “এটি ইবরাহীমের অগ্নিকুণ্ডে ফুঁ দিয়েছিল।”
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।মানসহীহ
ব্যাখ্যা
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম টিকটিকি মারতে নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি সংবাদ দেন যে, এটি ইবরাহীম আলাইহিস সালামের উপর প্রজ্জলিত আগুনে ফুঁ দিয়েছিল যাতে তার উত্তাপ আরও বৃদ্ধি পায়। বিষয়টি তাওহীদ ও ইখলাস পন্থীদের প্রতি টিকটিকির চরম বিদ্বেষের বিষয়টি স্পষ্ট করে।
সূত্র
- صحيح البخاري، للإمام أبي عبد الله محمد بن إسماعيل البخاري، عناية محمد زهير الناصر، دار طوق النجاة، الطبعة الأولى، 1422هـ.
- صحيح مسلم؛ للإمام مسلم بن الحجاج، حققه ورقمه محمد فؤاد عبد الباقي، دار عالم الكتب-الرياض، الطبعة الأولى، 1417هـ.
- دليل الفالحين لطرق رياض الصالحين؛ لمحمد بن علان الشافعي، دار الكتاب العربي-بيروت.
- بهجة الناظرين شرح رياض الصالحين؛ تأليف سليم بن عيد الهلالي، دار ابن الجوزي- الطبعة الأولى1418ه.
- نزهة المتقين شرح رياض الصالحين؛ تأليف د. مصطفى الخِن وغيره، مؤسسة الرسالة-بيروت، الطبعة الرابعة عشرة، 1407هـ.
- مرقاة المفاتيح :علي بن سلطان القاري -دار الفكر، بيروت - لبنان الطبعة الأولى، 1422هـ - 2002م.
- شرح رياض الصالحين؛ للشيخ محمد بن صالح العثيمين، مدار الوطن، الرياض، 1426هـ.
- فيض القدير شرح الجامع الصغير، زين الدين عبد الرؤوف المناوي القاهري -المكتبة التجارية الكبرى – مصر-الطبعة: الأولى، 1356هـ.
এখানকার প্রতিটি হাদীস, মান, ব্যাখ্যা ও শিক্ষা HadeethEnc.com যেভাবে প্রকাশ করে হুবহু সেভাবেই দেখানো, তাদের পুনঃপ্রকাশের শর্ত মেনে। মানের সঙ্গে মান-নির্ধারকের নাম নেই। অনুবাদ ও ব্যাখ্যা এর লেখকদের নিজস্ব, এবং কোনো কোনোটিতে বিধান বলা আছে; সাবীলের পর্যালোচকেরা এগুলো যাচাই করেননি। আরবি হাদীসটিই মূল পাঠ। উৎস: HadeethEnc.com