ফেরেশতা জিব্রাইল আলাইহিস সালাম নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে এসে জিজ্ঞাসা করলেন: হে মোহাম্মদ, তুমি কি অসুস্থ? তিনি বললেন: হ্যাঁ। জিব্রাইল নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তার নিম্নের কথা দ্বারা ঝাড়ফুঁক করলেন: «باسم الله» আল্লাহর নামে তার সাহায্য প্রার্থনা করে, «أرقيك» আমি তোমাকে ঝাড়ফুক করটি আমি তোমাকে আশ্রয়ে দিচ্ছি «من كل شيء يؤذيك» ছোট বা বড় সব কষ্টদায়ক বস্তু হতে «من شر كل نفس» "প্রত্যেক আত্মার অনিষ্ট থেকে", «أو عين حاسد» "অথবা ঈর্ষান্বিত ব্যক্তির দৃষ্টি থেকে" যাতে তুমি আক্রান্ত না হও। আল্লাহ «يشفيك» "তোমাকে আরোগ্য" দান করবেন এবং সমস্ত রোগ থেকে রক্ষা করবেন এবং সুরক্ষা দিবেন। «باسم الله أرقيك» "আল্লাহর নামে আমি তোমার উপর রুকিয়া করছি।" তিনি জোর দেওয়ার জন্য এটি পুনরাবৃত্তি করেছেন এবং এটি দিয়েই শুরু ও শেষ করেছেন এই ইঙ্গিত করার জন্য যে তিনি ব্যতীত আর কেউ উপকার করতে পারে না।
- অসুস্থতা সম্পর্কে সংবাদ দেয়া বৈধ। এটি অবস্থার বাস্তবতা তুলে ধরার অংশ। এটি অধৈর্যতা বা বিরক্তির প্রকাশ হিসেবে নয়।
- নিম্নলিখিত শর্তে রুকিয়াহ জায়েয: ১- এটি কুরআন, আল্লাহর যিকির অথবা বৈধ দোআর মাধ্যমে হওয়া উচিত। ২- এটি অবশ্যই আরবি, অথবা অন্য কোন ভাষায় হতে হবে যার অর্থ জানা আছে। ৩- রুকিয়াহর নিজের কোন প্রভাব নেই বলে বিশ্বাস করা; এটি একটি উপায় মাত্র যার কোন প্রভাব নেই আল্লাহর অনুমতি ছাড়া। ৪- এটি অবশ্যই শিরক, নিষিদ্ধ জিনিস, বিদআত অথবা এর দিকে পরিচালিত করে এমন যেকোনো কিছু থেকে মুক্ত থাকতে হবে।
- বদ নজরের ক্ষতির প্রমাণ এবং এটি সত্য, তাই এর থেকে সুরক্ষা চাওয়া উচিত।
- হাদীসে বর্ণিত যিকির দ্বারা রুকিয়াহ করা মুস্তাহাব।
- নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম অন্যান্য মানুষের মতোই মানুষ। অন্যদের যেমন রোগ হয় তারও তেমন রোগ হয়।
- আল্লাহর তাঁর নবীর প্রতি যত্নশীল, তাঁর সুরক্ষার জিম্মাদার এবং তিনি তাঁর ফেরেশতাদের উপর এই দায়িত্ব পালনের ভার সমর্পনকারী।
صحيح مسلم (4/ 1718) (2186). بهجة الناظرين شرح رياض الصالحين، لسليم الهلالي (2/ 164). تطريز رياض الصالحين، لفيصل آل مبارك (ص538). شرح رياض الصالحين، لابن عثيمين (4/ 485). كنوز رياض الصالحين، لمجموعة من الباحثين (11/ 568). نزهة المتقين شرح رياض الصالحين، لمجموعة من الباحثين (1/ 690).