عن عبد الله بن مسعود رضي الله عنه قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: «إنَّ الرُّقَى والتَمائِمَ والتِّوَلَةَ شِرْكٌ».
আব্দুল্লাহ ইবনু মাস‘ঊদ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি: “যাদু, তাবীজ ও অবৈধ প্রেম ঘটানোর মন্ত্র শির্ক-এর অন্তর্ভুক্ত।”(১)
এটি আবূ দাউদ, ইবন মাজাহ ও আহমাদ বর্ণনা করেছেন।মানসহীহ
ব্যাখ্যা
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ হাদীসে কতিপয় কাজকে শিরকের অন্তর্ভুক্ত বলেছেন। তন্মধ্যে কয়েকটি হলো:
প্রথমত: অবৈধ ঝাড়ফুঁক: যেসব শিরকী বাক্য দ্বারা জাহেলী যুগের মানুষেরা আরোগ্য তালাশ করত।
দ্বিতীয়ত: তাবিজ-কবচ,পুঁতি-দানা ইত্যাদি ব্যাবহার: যা বাচ্চা, পশু ও অন্যের গলায় বদ নজর এড়ানোর জন্য ঝুলানো হয়।
তৃতীয়ত: প্রেম ঘটানোর মন্ত্র: যা স্বামী স্ত্রীর উভয়ের মাঝে ভালোবাসা সৃষ্টির জন্য ব্যবহার করা হয়।
এসব কাজ শিরকের অন্তর্ভুক্ত। কেননা এগুলোকে উপায় বানানো হয়; অথচ শরী‘য়তে এগুলোকে উপায় গন্য করার ব্যাপারে শরী‘য়তের দলীল সাব্যস্ত হয়নি। আবার এগুলো ইন্দ্রিয় কোন কারণও নয়; যা অভিজ্ঞতার দ্বারা প্রমাণিত। অন্যদিকে শরী‘য়তে যেগুলোকে কারণ সাব্যস্ত করা হয়েছে যেমন, কুরআন তিলাওয়াত বা ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য কারণ যেমন ঔষধ যা অভিজ্ঞতা দ্বারা প্রমাণিত। এগুলো জায়েয; তবে বিশ্বাস থাকতে হবে যে, এগুলো নিছক অসিলা মাত্র; প্রকৃত উপকার বা ক্ষতি একমাত্র আল্লাহর হাতে।
শিক্ষা
- হাদীসে যা দ্বারা তাওহীদ ও আক্বীদা ত্রুটিযুক্ত হয়, তা থেকে সংরক্ষণ করা হয়েছে।
- অবৈধ ঝাড়ফুঁক, তা’বীজ ও জাদুটোনা করে কারো প্রেমে আকৃষ্ট করা হারাম।
- এ তিনটির ব্যাপারে যদি মানুষ বিশ্বাস করে যে, এগুলো রোগমুক্তির অসিলা।তবে এটি ছোট শিরক। কেননা এগুলোকে শরী‘য়ত অসীলা বানায়নি। অন্যদিকে যদি কেউ বিশ্বাস করে এগুলো স্বয়ং নিজেই উপকার বা ক্ষতি করতে পারে, তবে এটি বড় শিরক হবে।
- শিরকী ও হারাম উপায় গ্রহণ করা থেকে সতর্ক করা হয়েছে।
- ঝাড়ফুঁক, তা’বীজ-কবচ নিষিদ্ধ। কেননা এগুলো করা শিরক; তবে শরী‘য়তসম্মত উপায়ে ঝাড়ফুঁক করা জায়েয।
- একমাত্র আল্লাহর সাথে অন্তরকে সম্পৃক্ত রাখা জরুরী। তাঁর থেকেই ক্ষতি ও উপকার হয়ে থাকে, তাঁর কোন শরীক নেই। সুতরাং আল্লাহ ব্যতীত কারো থেকে কল্যাণ আসতে পারে না। আবার আল্লাহ ব্যতীত কেউ অকল্যাণও দূর করতে পারে না।
- বৈধ ঝাঁড় ফুক হলো যাতে নিম্নোক্ত তিনটি শর্ত পাওয়া যাবে: ১। এ বিশ্বাস করা যে, এটি উপকরণ মাত্র। আল্লাহর আদেশ ব্যতীত এগুলো কোন উপকার করতে পারে না। ২। কুরআন ও আল্লাহর নাম ও সিফাত, হাদীসে বর্ণিত দু‘আহ ও শর‘য়তসম্মত দু‘আর দ্বারা হতে হবে। ৩। এর ভাষা বোধগম্য হতে হবে এবং তাবিজ এবং যাদুবিদ্যার অন্তর্ভুক্ত কোন কিছু হতে পারবে না।
সূত্র
سنن أبي داود (6/ 31) (3883).
سنن ابن ماجه (4/ 554) (3530).
مسند أحمد (6/ 110) (3615).
الجديد في شرح كتاب التوحيد، لمحمد القرعاوي (ص91).
الملخص في شرح كتاب التوحيد، لصالح الفوزان (ص79).
القول المفيد على كتاب التوحيد، لابن عثيمين (1/ 180).
HadeethEnc.com-এ এই হাদীসعَنْ عَائِشَةَ أُمِّ المؤْمنينَ رَضيَ اللهُ عنها قَالَت: كَانَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا أَتَى الْمَرِيضَ يَدْعُو لَهُ قَالَ: «أَذْهِبِ الْبَاسَ، رَبَّ النَّاسِ، وَاشْفِ أَنْتَ الشَّافِي، لَا شِفَاءَ إِلَّا شِفَاؤُكَ، شِفَاءً لَا يُغَادِرُ سَقَمًا».
উম্মুল মু’মিনীন ‘আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে যখন কোন অসুস্থ ব্যক্তি আসতো, তখন তিনি বলতেন:
“হে মানুষের রব! কষ্ট দূর করে দিন। আরোগ্যতা দান করুন, আপনিই একমাত্র আরোগ্য দানকারী। আপনার আরোগ্য ব্যতীত অন্য কোন আরোগ্য নেই। এমন আরোগ্যতা দান করুন যা সামান্য রোগকেও অবশিষ্ট না রাখে।”
সহীহ বুখারী ও মুসলিমমানসহীহ
ব্যাখ্যা
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন কোনো রোগীকে দেখতে যেতেন, তখন তিনি তার জন্য দোয়া করতেন এবং বলতেন: হে আল্লাহ, রোগের কষ্ট ও তীব্রতা দূর করুন। হে মানুষের রব, তাদের সৃষ্টিকর্তা ও প্রতিপালক, এই রোগীকে সুস্থ করুন।, আপনিই একমাত্র নিরাময়কারী, আমি আপনার 'আশ-শাফী' (নিরাময়কারী) নামের উসীলায় আপনার কাছে শিফা প্রার্থনা করি। রোগীর আরোগ্য কেবল আপনার আরোগ্য ও সুস্থতার মাধ্যমেই সম্ভব। এমন আরোগ্য দিন যা কোনো রোগ বা অসুস্থতা অবশিষ্ট রাখে না।
শিক্ষা
- নিরাময়কারী হলেন আল্লাহ তাআলা, আর চিকিৎসক ও ওষুধ হল মাধ্যম, যা আল্লাহর অনুমতি ছাড়া কোনো উপকার বা ক্ষতি করতে পারে না।
- রোগীর সেবা ও খোঁজখবর নেওয়া মুসলিমদের মধ্যে পারস্পরিক অধিকারগুলোর একটি এবং আত্মীয়দের ক্ষেত্রে এটি আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
- রোগী দেখতে গেলে তার জন্য এই বরকতময় ও প্রমাণিত দোয়া পড়ার প্রতি উৎসাহ দেওয়া হয়েছে।
- নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নির্দেশনা অনুযায়ী, কুরআন ও উত্তম দোয়ার মাধ্যমে রুকইয়াহ (শরঈ চিকিৎসা) করা একটি বৈধ ও উত্তম পদ্ধতি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজে যখন অসুস্থ হতেন, তখন তিনি নিজেকে রুকইয়াহ করতেন। এছাড়াও, তিনি তার পরিবারের সদস্যদের এবং অন্যান্য অসুস্থ ব্যক্তিদেরও রুকইয়াহ করতেন।
- ইবনে হাজার (রহ.) বলেছেন: ‘রোগীর জন্য সুস্থতার দোয়া করার বিষয়টি কিছু লোকের কাছে জটিল মনে হয়েছে, যেহেতু রোগে গুনাহ মোচন ও সওয়াব লাভের বিষয়টি হাদীসে বারবার উল্লেখ করা হয়েছে। এর জবাব হলো: দোয়া একটি ইবাদত, এবং এটি সওয়াব ও গুনাহ মোচনের সাথে সাংঘর্ষিক নয়। কারণ, সওয়াব ও গুনাহ মোচন রোগের শুরুতে এবং এর উপর ধৈর্য ধারণের মাধ্যমেই অর্জিত হয়। দোয়া কারীর জন্য দুটি কল্যাণ রয়েছে: হয় তার দোয়া কবুল হবে এবং সে তার কাঙ্ক্ষিত ফল লাভ করবে, অথবা তার দোয়ার বদলে তাকে অন্য কোনো উপকার দেওয়া হবে বা কোনো ক্ষতি থেকে রক্ষা করা হবে। আর এ সবই আল্লাহ তাআলার অনুগ্রহ।’
সূত্র
صحيح البخاري (7/ 134) (5750).
صحيح مسلم (4/ 1721) (2191).
بهجة الناظرين شرح رياض الصالحين، لسليم الهلالي (2/ 162).
شرح رياض الصالحين، لابن عثيمين (4/ 477).
كنوز رياض الصالحين، لمجموعة من الباحثين (11/ 539).
نزهة المتقين شرح رياض الصالحين، لمجموعة من الباحثين (1/ 687).
HadeethEnc.com-এ এই হাদীসعَنْ أَبِي سَعِيدٍ رَضيَ اللهُ عنه: أَنَّ جِبْرِيلَ أَتَى النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ: يَا مُحَمَّدُ اشْتَكَيْتَ؟ فَقَالَ: «نَعَمْ» قَالَ: «بِاسْمِ اللهِ أَرْقِيكَ، مِنْ كُلِّ شَيْءٍ يُؤْذِيكَ، مِنْ شَرِّ كُلِّ نَفْسٍ أَوْ عَيْنِ حَاسِدٍ، اللهُ يَشْفِيكَ بِاسْمِ اللهِ أَرْقِيكَ».
আবূ সাঈদ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, জিবরীল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট আগমন করে বললেন, হে মুহাম্মাদ। আপনি কি অসুস্থতা বোধ করছেন? তিনি বললেন, “হ্যাঁ”। তিনি (জিবরীল) বললেনঃ “আল্লাহর নামে আপনাকে ঝাড়-ফুঁক করছি- সে সব জিনিস হতে, যা আপনাকে কষ্ট দেয়, সব আত্মার খারাবী অথবা হিংসুকের কুদৃষ্টি হতে আল্লাহ আপনাকে মুক্তি দিন, আল্লাহর নামে আপনাকে ঝাড়-ফুঁক করছি”।
ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেনমানসহীহ
ব্যাখ্যা
ফেরেশতা জিব্রাইল আলাইহিস সালাম নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে এসে জিজ্ঞাসা করলেন: হে মোহাম্মদ, তুমি কি অসুস্থ? তিনি বললেন: হ্যাঁ। জিব্রাইল নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তার নিম্নের কথা দ্বারা ঝাড়ফুঁক করলেন: «باسم الله» আল্লাহর নামে তার সাহায্য প্রার্থনা করে, «أرقيك» আমি তোমাকে ঝাড়ফুক করটি আমি তোমাকে আশ্রয়ে দিচ্ছি «من كل شيء يؤذيك» ছোট বা বড় সব কষ্টদায়ক বস্তু হতে «من شر كل نفس» "প্রত্যেক আত্মার অনিষ্ট থেকে", «أو عين حاسد» "অথবা ঈর্ষান্বিত ব্যক্তির দৃষ্টি থেকে" যাতে তুমি আক্রান্ত না হও। আল্লাহ «يشفيك» "তোমাকে আরোগ্য" দান করবেন এবং সমস্ত রোগ থেকে রক্ষা করবেন এবং সুরক্ষা দিবেন। «باسم الله أرقيك» "আল্লাহর নামে আমি তোমার উপর রুকিয়া করছি।" তিনি জোর দেওয়ার জন্য এটি পুনরাবৃত্তি করেছেন এবং এটি দিয়েই শুরু ও শেষ করেছেন এই ইঙ্গিত করার জন্য যে তিনি ব্যতীত আর কেউ উপকার করতে পারে না।
শিক্ষা
- অসুস্থতা সম্পর্কে সংবাদ দেয়া বৈধ। এটি অবস্থার বাস্তবতা তুলে ধরার অংশ। এটি অধৈর্যতা বা বিরক্তির প্রকাশ হিসেবে নয়।
- নিম্নলিখিত শর্তে রুকিয়াহ জায়েয: ১- এটি কুরআন, আল্লাহর যিকির অথবা বৈধ দোআর মাধ্যমে হওয়া উচিত। ২- এটি অবশ্যই আরবি, অথবা অন্য কোন ভাষায় হতে হবে যার অর্থ জানা আছে। ৩- রুকিয়াহর নিজের কোন প্রভাব নেই বলে বিশ্বাস করা; এটি একটি উপায় মাত্র যার কোন প্রভাব নেই আল্লাহর অনুমতি ছাড়া। ৪- এটি অবশ্যই শিরক, নিষিদ্ধ জিনিস, বিদআত অথবা এর দিকে পরিচালিত করে এমন যেকোনো কিছু থেকে মুক্ত থাকতে হবে।
- বদ নজরের ক্ষতির প্রমাণ এবং এটি সত্য, তাই এর থেকে সুরক্ষা চাওয়া উচিত।
- হাদীসে বর্ণিত যিকির দ্বারা রুকিয়াহ করা মুস্তাহাব।
- নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম অন্যান্য মানুষের মতোই মানুষ। অন্যদের যেমন রোগ হয় তারও তেমন রোগ হয়।
- আল্লাহর তাঁর নবীর প্রতি যত্নশীল, তাঁর সুরক্ষার জিম্মাদার এবং তিনি তাঁর ফেরেশতাদের উপর এই দায়িত্ব পালনের ভার সমর্পনকারী।
সূত্র
صحيح مسلم (4/ 1718) (2186).
بهجة الناظرين شرح رياض الصالحين، لسليم الهلالي (2/ 164).
تطريز رياض الصالحين، لفيصل آل مبارك (ص538).
شرح رياض الصالحين، لابن عثيمين (4/ 485).
كنوز رياض الصالحين، لمجموعة من الباحثين (11/ 568).
نزهة المتقين شرح رياض الصالحين، لمجموعة من الباحثين (1/ 690).
HadeethEnc.com-এ এই হাদীসعَنْ عُثْمَانَ بْنِ أَبِي الْعَاصِ الثَّقَفِيِّ رضي الله عنه أَنَّهُ شَكَا إِلَى رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَجَعًا يَجِدُهُ فِي جَسَدِهِ مُنْذُ أَسْلَمَ، فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «ضَعْ يَدَكَ عَلَى الَّذِي تَأَلَّمَ مِنْ جَسَدِكَ، وَقُلْ بِاسْمِ اللهِ ثَلَاثًا، وَقُلْ سَبْعَ مَرَّاتٍ أَعُوذُ بِاللهِ وَقُدْرَتِهِ مِنْ شَرِّ مَا أَجِدُ وَأُحَاذِرُ».
উসমান ইবনু আবূল আস-সাকাফী রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণনা করেন যে, তিনি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট একটি ব্যথার অভিযোগ করলেন, যা তিনি ইসলাম গ্রহণের পর থেকে তার দেহে অনুভব করছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, “তোমার শরীরের যে অংশ ব্যথাযুক্ত হয়, তার উপরে তোমার হাত রেখে তিনবার ’বিসমিল্লা-হ’ বলবে এবং সাতবার বলবে-أَعُوذُ بِاللَّهِ وَقُدْرَتِهِ مِنْ شَرِّ مَا أَجِدُ وَأُحَاذِرُ "আল্লাহ এবং তার ক্ষমতার আশ্রয় প্রার্থনা করছি- যা আমি অনুভব করি এবং যা থেকে ভয় করি তার অনিষ্ট হতে।"
ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেনমানসহীহ
ব্যাখ্যা
উসমান ইবনু আবি আল-আস রাদিয়াল্লাহু আনহু এমন ব্যথায় ভুগছিলেন যা তাকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে ছিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে দেখতে গেলেন এবং তাকে এমন একটি দোয়া শিখিয়ে দিলেন যার মাধ্যমে আল্লাহ তাকে যে রোগে আক্রান্ত করেছেন তা থেকে নিরাময় করবেন। তা হল তিনি যে অংশে ব্যথা অনুভব করেন সেখানে তার হাত রাখবেন এবং বলবেন: (بسم الله) তিনবার, তারপর সাতবার বলতে: (أعوذ) আশ্রয়, সুরক্ষা এবং নিরাপত্তা চাই (بالله وقدرته من شر ما أجد) বর্তমান সময়কার ব্যথা (وأُحاذِر) এবং ভয় পাই ভবিষ্যতে দুঃখ ও ভয়ে আক্রান্ত হওয়ার বা এই অসুস্থতার ধারাবাহিকতা এবং শরীরে ব্যথার বিস্তার থেকে আশ্রয় চাই।
শিক্ষা
- হাদীসে যেমন এসেছে তার আলোকে মানুষের নিজের নফসকে ঝাঁড়-ফুক করা মুস্তাহাব।
- অস্থিরতা ও আপত্তি ছাড়া অভিযোগ জানানো সবর ও তাওয়াক্কুলের পরিপন্থ নয়।
- দোয়া একটি উপকরণ গ্রহণ করার মতো। এ জন্যই তার শব্দ ও সংখ্যা ব্যবহার ব্যাপারে সজাগ থাকা।
- এই দোয়াটি প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের ব্যথার জন্য।
- এই দোয়ার মাধ্যমে ঝাড়ফুঁক করার সময় ব্যথার জায়গায় হাত রাখা।
সূত্র
صحيح مسلم (4/ 1728) (2202).
بهجة الناظرين شرح رياض الصالحين، لسليم الهلالي (2/ 163).
شرح رياض الصالحين، لابن عثيمين (4/ 481).
فيض القدير شرح الجامع الصغير، لعبدالرؤوف المناوي (1/ 284).
نزهة المتقين شرح رياض الصالحين، لمجموعة من الباحثين (1/ 689).
HadeethEnc.com-এ এই হাদীসعن عائشة رضي الله عنها : أنَّ النَّبيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ إِذَا اشْتَكى الإنْسَانُ الشَّيْءَ مِنْهُ، أَوْ كَانَتْ بِهِ قَرْحَةٌ أَوْ جُرْح، قالَ النبيُّ صلى الله عليه وسلم بأُصبعِهِ هكذا - ووضع سفيان بن عيينة الراوي سبابته بالأرض ثم رفعها- وقالَ: «بِسمِ اللهِ، تُرْبَةُ أرْضِنَا، بِرِيقَةِ بَعْضِنَا، يُشْفَى بِهِ سَقِيمُنَا، بإذْنِ رَبِّنَا».
আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা থেকে বর্ণিত, যখন কোনো ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট নিজের অসুস্থতার অভিযোগ করত অথবা (তার দেহে) কোনো ফোঁড়া কিংবা ক্ষত হত, তখন নবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজ আঙ্গুল নিয়ে এরূপ বলতেন, হাদীসের বর্ণনাকারী সুফইয়ান ইবনে ‘উয়াইনাহ তাঁর শাহাদত আঙ্গুলটিকে যমীনের উপর রাখলেন ও উঠালেন। অতঃপর বললেন, (যার বাংলা অর্থ) “আল্লাহর নামের সঙ্গে আমাদের যমীনের মাটি এবং আমাদের কিছু লোকের থুতু মিশ্রিত করে (ফোঁড়াতে) লাগালাম। আমাদের রবের আদেশে তার দ্বারা আমাদের রুগীকে সুস্থতা দেওয়া হবে।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।মানসহীহ
ব্যাখ্যা
কোনো ব্যক্তি অসুস্থ হলে বা আঘাত পেলে বা কোনো কিছু হলে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার থুতু তর্জনীতে নিয়ে মাটির উপর রাখতেন, ফলে কিছু মাটি তার সাথে লাগত, তারপর সেটা দিয়ে জখমের স্থানে বা আক্রান্ত জায়গায় মাসেহ করতেন এবং বলতেন, (বাংলা অর্থ) “আল্লাহর নামের সঙ্গে আমাদের যমীনের মাটি এবং আমাদের কিছু লোকের থুতু মিশ্রিত করে লাগালাম। আমাদের রবের আদেশে এর দ্বারা আমাদের রুগীকে সুস্থতা দান করা হবে।”
সূত্র
بهجة الناظرين شرح رياض الصالحين، تأليف سليم الهلالي، دار ابن الجوزي.
رياض الصالحين من كلام سيد المرسلين، للإمام أبي زكريا النووي، تحقيق د. ماهر الفحل، دار ابن كثير - دمشق، الطبعة الأولى، 1428هـ.
شرح رياض الصالحين، للشيخ محمد بن صالح العثيمين، مدار الوطن - الرياض، 1426هـ.
شرح صحيح مسلم، للإمام محي الدين النووي، دار الريان للتراث - القاهرة، الطبعة الأولى، 1407هـ.
صحيح البخاري، للإمام أبي عبدالله محمد بن إسماعيل البخاري، عناية محمد زهير الناصر، دار طوق النجاة، الطبعة الأولى، 1422هـ.
صحيح مسلم، للإمام مسلم بن الحجاج، حققه ورقمه محمد فؤاد عبدالباقي، دار عالم الكتب - الرياض، الطبعة الأولى، 1417هـ.
كنوز رياض الصالحين، فريق علمي برئاسة أ.د. حمد العمار، دار كنوز إشبيليا - الرياض، الطبعة الأولى، 1430هـ.
نزهة المتقين شرح رياض الصالحين، تأليف د. مصطفى الخِن وغيره، مؤسسة الرسالة - بيروت، الطبعة الرابعة عشر، 1407هـ.
HadeethEnc.com-এ এই হাদীসعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رضي الله عنهما عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «مَنْ عَادَ مَرِيضًا، لَمْ يَحْضُرْ أَجَلُهُ فَقَالَ عِنْدَهُ سَبْعَ مِرَارٍ: أَسْأَلُ اللَّهَ الْعَظِيمَ رَبَّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ أَنْ يَشْفِيَكَ، إِلَّا عَافَاهُ اللَّهُ مِنْ ذَلِكَ الْمَرَضِ».
ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, “যে ব্যক্তি এমন কোনো রোগীকে দেখতে যায়, যার মৃত্যুর সময় উপস্থিত হয় নি, সে যেন তার নিকট বসে এ দু‘আটি সাতবার পাঠ করে, “أسأل الله العظيم، ربَّ العرشِ العظيم، أن يَشفيك” অর্থাৎ আমি মহান আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করছি, যিনি মহান আরশের অধিপতি, যেন তিনি তোমাকে রোগমুক্ত করেন। এ দো‘আর ফলে অবশ্যই আল্লাহ তাকে রোগমুক্ত করবেন”।
এটি আবূ দাউদ, তিরমিযী ও আহমাদ বর্ণনা করেছেন।মানসহীহ
ব্যাখ্যা
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন যে, কোন মুসলিম অপর মুসলিমকে তার এমন অসুস্থতার সময় যখন তার মৃত্যুর সময় উপস্থিত হয়নি দেখা করতে যায়। তারপর সাক্ষাতকারী রোগীর জন্য এই বলে প্রার্থনা করেন: (أسأل الله العظيم) (আমি মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি) তিনি তাঁর সত্ত্বায়, গুণাবলী ও কর্মে মহান। (رب العرش العظيم أن يشفيك) (মহান আরশের মালিক, তোমাকে সুস্থ করে দিন) এবং তিনি এটি সাতবার পুনরাবৃত্তি করেন, আল্লাহ তাকে সেই রোগ থেকে অবশ্যই আরোগ্য দিবেন।
শিক্ষা
- অসুস্থ ব্যক্তির জন্য এই দোয়াটি সাতবার পুনরাবৃত্তি করা মুস্তাহাব।
- যার নিকট এই দোয়াটি পাঠ করা হবে, আল্লাহর ইচ্ছায় সে সুস্থ হবে, যদি এটি আন্তরিকভাবে ও সৎভাবে বলা হয়।
- তিনি এই দোয়াটি নীরবে ও সরবে বলবেন, কারণ এর সবই জায়েয, কিন্তু যদি রোগী তা শুনতে পান, তাহলে সেটাই উত্তম এবং পছন্দনীয়। কারণ এর দ্বারা তাকে আনন্দিত করা হয়।
সূত্র
سنن أبي داود (5/ 22) (3106).
سنن الترمذي (3/ 593) (2083).
السنن الكبرى للنسائي (9/ 385) (10820).
مسند أحمد (4/ 40) (2137).
بهجة الناظرين شرح رياض الصالحين، لسليم الهلالي (2/ 163).
تطريز رياض الصالحين، لفيصل آل مبارك (ص537).
شرح رياض الصالحين، لابن عثيمين (4/ 483).
كنوز رياض الصالحين، لمجموعة من الباحثين (11/ 559).
نزهة المتقين شرح رياض الصالحين، لمجموعة من الباحثين (1/ 689).
HadeethEnc.com-এ এই হাদীসএখানকার প্রতিটি হাদীস, মান, ব্যাখ্যা ও শিক্ষা HadeethEnc.com যেভাবে প্রকাশ করে হুবহু সেভাবেই দেখানো, তাদের পুনঃপ্রকাশের শর্ত মেনে। মানের সঙ্গে মান-নির্ধারকের নাম নেই। অনুবাদ ও ব্যাখ্যা এর লেখকদের নিজস্ব, এবং কোনো কোনোটিতে বিধান বলা আছে; সাবীলের পর্যালোচকেরা এগুলো যাচাই করেননি। আরবি হাদীসটিই মূল পাঠ। উৎস: HadeethEnc.com