মূল অংশে যান
ব্যাখ্যাসহ হাদীস

কসম ও মান্নত

১৪টি হাদীস

সা‘দ ইবনু উবাদা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে তার মায়ের একটি মান্নত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেন, যা পূর্ণ করার আগেই তার মা মারা যান। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তুমি তার পক্ষ থেকে তা পূর্ণ করো।

عن عَبْدُ الله بْنُ عَبَّاسٍ رضي الله عنه قال: «استَفْتَى سعد بن عُبَادَةَ رسول الله في نَذْرٍ كان على أمِّه، تُوُفِّيَتْ قبل أَنْ تقضيَهُ، قال رسول الله صلى الله عليه وسلم : فاقْضِهِ عنها».
ইবনু ‘আব্বাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত। সা‘দ ইবনু উবাদা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে তার মায়ের একটি মান্নত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেন, যা পূর্ণ করার আগেই তার মা মারা যান। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তুমি তার পক্ষ থেকে তা পূর্ণ করো।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।মানসহীহ
ব্যাখ্যা

সা‘আদের মা মারা গেল, অথচ তার ওপর থাকা মান্নত সে পুরো করতে পারেনি, তাই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার ছেলে সা‘আদ ইবন উবাদাহকে নির্দেশ দিলেন সে যেন তার মায়ের পক্ষ থেকে তা পূরণ করে দেয়।

সূত্র

صحيح البخاري، تحقيق: محمد زهير بن ناصر الناصر، ط1، دار طوق النجاة (مصورة عن السلطانية بإضافة ترقيم: محمد فؤاد عبد الباقي)، 1422هـ. صحيح مسلم، تحقيق: محمد فؤاد عبد الباقي، دار إحياء التراث العربي، بيروت، 1423هـ. الإلمام بشرح عمدة الأحكام، لإسماعيل الأنصاري، ط1، دار الفكر، دمشق، 1381هـ. عمدة الأحكام من كلام خير الأنام صلى الله عليه وسلم لعبد الغني المقدسي، دراسة وتحقيق: محمود الأرناؤوط، مراجعة وتقديم: عبد القادر الأرناؤوط، ط2، دار الثقافة العربية، دمشق، بيروت، مؤسسة قرطبة، 1408هـ. تيسير العلام شرح عمدة الأحكام، للبسام، حققه وعلق عليه وخرج أحاديثه وصنع فهارسه: محمد صبحي بن حسن حلاق، ط10، مكتبة الصحابة، الأمارات - مكتبة التابعين، القاهرة، 1426هـ. تأسيس الأحكام للنجمي، ط2، دار علماء السلف، 1414ه.

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

মানত করতে নিষেধ করেছেন। তিনি বলেন, “তা কোন রকম কল্যাণ বয়ে আনে না। তবে এর মাধ্যমে কৃপণ লোকের থেকে কিছু বের করা হয়”।

عَنِ ابْنِ عُمَرَ رضي الله عنهما: عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ نَهَى عَنِ النَّذْرِ، وَقَالَ: «إِنَّهُ لَا يَأْتِي بِخَيْرٍ، وَإِنَّمَا يُسْتَخْرَجُ بِهِ مِنَ الْبَخِيلِ».
ইবনু উমার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা সূত্রে: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত, তিনি মানত করতে নিষেধ করেছেন। তিনি বলেন, “তা কোন রকম কল্যাণ বয়ে আনে না। তবে এর মাধ্যমে কৃপণ লোকের থেকে কিছু বের করা হয়”।
সহীহ বুখারী ও মুসলিমমানসহীহ
ব্যাখ্যা

নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম মান্নত করতে নিষেধ করেছেন। আর মান্নত হলো শরীয়তদাতা মানুষের ওপর যা আবশ্যক করেননি তাই তার নিজের ওপর আবশ্যক করা। তিনি বলেন, মান্নত কোনো জিনিস এগিয়ে আনতে বা পিছিয়ে দিতে পারে না, তবে তার দ্বারা কৃপণ থেকে কিছু বের করা হয়, যে ওয়াজিব কর্ম ছাড়া কিছু করে না। বস্তুত মান্নত যা তাকদীরে নির্ধারণ করা হয়নি তা নিয়ে আসতে পারে না।

শিক্ষা
  1. মান্নত করা শরীয়তসম্মত নয়, তবে মান্নত করলে তাকে অবশ্যই তা পূরণ করতে হবে, যদি তা পাপ না হয়।
  2. নিষেধের কারণ (এটি কোন কল্যাণ বয়ে আনে না); এটি আল্লাহর নির্ধারিত ফয়সালা থেকে কিছুই ফিরাতে পারে না। আর যাতে মান্নতকারী মনে না করে যে তার উদ্দেশ্য হাসিল মান্নতের কারণে হয়েছে। বস্তুত আল্লাহই এর প্রয়োজন থেকে মুক্ত।
  3. কুরতুবী বলেছেন: এই নিষেধাজ্ঞার অস্থান হলো যেমন বলা: যদি আল্লাহ আমার অসুস্থ ব্যক্তিকে সুস্থ করে দেন, তাহলে অমুক জিনিস দান করা আমার ওপর ওয়াজিব। এটি অপছন্দ করার কারণ হল: যখন সে উল্লিখিত সাওয়াবের কাজটি উল্লিখিত উদ্দেশ্য হাসিলের ওপর নির্ধারণ করল, তখন স্পষ্ট হল, তার থেকে যে কাজটি প্রকাশ পেল তার দ্বারা নিরেট আল্লাহর নৈকট্য হাসিল করা উদ্দেশ্য নয়, বরং সে তাতে বদলা-বদলী পদ্ধতি গ্রহণ করেছে। এই বিষয়টি আরো স্পষ্ট হয়, যদি তার অসুস্থ ব্যক্তি সুস্থ না হয়, তাহলে সে তার সুস্থতার ওপর যা যুক্ত করেছিল তা দান করবে না। এটিই কৃপণদের অবস্থা। কারণ সাধারণত সে যা খরচ করে, শর্ত করে বেশী বিনিময় দিয়ে নগদ পরিস্থিতির মোকাবালা করতে চায়।
সূত্র

صحيح البخاري (8/ 124) (6608). صحيح مسلم (3/ 1261) (1639). خلاصة الكلام شرح عمدة الأحكام، لفيصل آل مبارك (ص353). تيسير العلام شرح عمدة الأحكام، لعبد الله البسام (ص693).

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

আল্লাহর শপথ! -ইনশাআল্লাহ্- আমি যখন কোন ব্যাপারে শপথ করি আর তার উল্টোটির মাঝে কল্যাণ দেখতে পাই তখন কসমের কাফ্ফারা আদায় করি। আর যেটি কল্যাণকর সেটিই করি”।

عَنْ أَبِي مُوسَى الأَشْعَرِيِّ رضي الله عنه قَالَ: أَتَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي رَهْطٍ مِنَ الأَشْعَرِيِّينَ أَسْتَحْمِلُهُ، فَقَالَ: «وَاللَّهِ لاَ أَحْمِلُكُمْ، مَا عِنْدِي مَا أَحْمِلُكُمْ» ثُمَّ لَبِثْنَا مَا شَاءَ اللَّهُ فَأُتِيَ بِإِبِلٍ، فَأَمَرَ لَنَا بِثَلاَثَةِ ذَوْدٍ، فَلَمَّا انْطَلَقْنَا قَالَ بَعْضُنَا لِبَعْضٍ: لاَ يُبَارِكُ اللَّهُ لَنَا، أَتَيْنَا رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَسْتَحْمِلُهُ فَحَلَفَ أَنْ لاَ يَحْمِلَنَا فَحَمَلَنَا، فَقَالَ أَبُو مُوسَى: فَأَتَيْنَا النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَذَكَرْنَا ذَلِكَ لَهُ، فَقَالَ: «مَا أَنَا حَمَلْتُكُمْ، بَلِ اللَّهُ حَمَلَكُمْ، إِنِّي وَاللَّهِ -إِنْ شَاءَ اللَّهُ- لا أَحْلِفُ عَلَى يَمِينٍ، فَأَرَى غَيْرَهَا خَيْرًا مِنْهَا، إِلَّا كَفَّرْتُ عَنْ يَمِينِي، وَأَتَيْتُ الَّذِي هُوَ خَيْرٌ».
আবূ মূসা আল-আশ’আরী রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি একবার কতক আশ’আরী (গোত্রের) লোকের সাথে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে একটি বাহন চাওয়ার জন্য এলাম। তিনি বললেনঃ “আল্লাহর কসম! আমি তোমাদেরকে বাহন দিতে পারব না। আমার কাছে কিছু নেই যা বাহন হিসাবে তোমাদেরকে দিতে পারি। অতঃপর আল্লাহ্ যতক্ষণ চাইলেন আমরা অবস্থান করলাম। এমন সময় তাঁর কাছে কিছু উট আনা হল। তখন তিনি আমাদেরকে তিনটি উট দেয়ার নির্দেশ দিলেন। আমরা যখন রওনা দিলাম, তখন আমরা বলাবলি করলাম যে, আল্লাহ্ আমাদের বরকত দেবেন না। আমরা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে বাহন চাওয়ার জন্য যখন এলাম তখন তিনি আমাদেরকে বাহন দেবেন না বলে শপথ করলেন। তারপরেও আমাদেরকে বাহন দিলেন। আবূ মূসা বলেন, আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে আসলাম এবং বিষয়টি তাঁর কাছে উল্লেখ করলাম। তখন তিনি বললেনঃ আমি তো তোমাদেরকে বাহন দেইনি; বরং আল্লাহ্ দিয়েছেন। আল্লাহর শপথ! -ইনশাআল্লাহ্- আমি যখন কোন ব্যাপারে শপথ করি আর তার উল্টোটির মাঝে কল্যাণ দেখতে পাই তখন কসমের কাফ্ফারা আদায় করি। আর যেটি কল্যাণকর সেটিই করি”।
সহীহ বুখারী ও মুসলিমমানসহীহ
ব্যাখ্যা

আবূ মূসা আল-আশআরী রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন যে, তিনি তাঁর গোত্রের একটি দল নিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসেছিলেন এবং তাদের উদ্দেশ্য ছিল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের সাওয়ার হতে উট দিবেন, যাতে জিহাদে অংশগ্রহণ করতে সক্ষম হয়। তখন তিনি শপথ করলেন যে, তাদের তিনি উট দিবেন না কেননা তার কাছে তাদেরকে সওয়ারি দেওয়ার মত কিছুই নেই। তারা ফিরে গেলেন এবং কিছু সময় অবস্থান করলেন। তারপর নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে তিনটি উট আসল। তিনি সেগুলো তাদের কাছে পাঠিয়ে দিলেন। তখন তারা পরস্পর বলাবলি করল: এই উটসমূহে আল্লাহ আমাদের বরকত দিবেন না। কারণ, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে উট না দেওয়ার কসম করেছেন। কাজেই তারা তাঁর কাছে আসলেন এবং তাকে জিজ্ঞেস করলেন। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমাদেরকে যিনি উট দিয়েছেন তিনি হলেন আল্লাহ তা‘আলা। কারণ, তিনিই তাওফিক প্রদান করেছেন ও রিযিক দিয়েছেন। বস্তুত আমি হলাম উপায়, সেটি আমার হাতে বাস্তবায়িত হয়েছে। তারপর নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আল্লাহর কসম, আমি - ইনশাআল্লাহ- যখন কোনো জিনিস করা অথবা ছেড়ে দেওয়ার কসম করি এবং কসমের বিপরীত জিনিস উত্তম ও ভালো দেখি, তখন উত্তম কাজটি করে ফেলি এবং কসম ছেড়ে দেই আর কসমের কাফফারা আদায় করি।

শিক্ষা
  1. সংবাদ পাকাপোক্ত করার জন্য কসম তলব করা ছাড়াই কসম করা বৈধ, যদিও সেটি ভবিষ্যতের হয়।
  2. কসম করার পর -ইনশাআল্লাহ- বলা বৈধ। আর যদি কসমের সাথে ইনশাল্লাহর নিয়ত করে এবং সেটি কসমের সাথে সাথেই হয়, তাহলে সেই কসম ভঙ্গ করার ফলে কাফফারা ওয়াজিব হবে না।
  3. যদি কসমের বিপরীত জিনিস ভালো দেখে, তাহলে কসম ভেঙ্গে ফেলার প্রতি উৎসাহ প্রদান করা এবং তার কসমের কাফফার দিবে।
সূত্র

صحيح البخاري (8/ 146) (6718). صحيح مسلم (3/ 1268) (1649). خلاصة الكلام شرح عمدة الأحكام، لفيصل آل مبارك (ص345). تيسير العلام شرح عمدة الأحكام، للبسام (ص682).

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

“কোন ব্যক্তি যদি কোন মুসলিমের অর্থ সম্পদ আত্মসাৎ করার উদ্দেশে মিথ্যা শপথ করে, তা হলে সে আল্লাহর সমীপে এমন অবস্থায় হাযির হবে যে, আল্লাহ তার উপর রাগান্বিত থাকবেন”

عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بنِ مَسْعُودٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ حَلَفَ عَلَى يَمِينٍ وَهُوَ فِيهَا فَاجِرٌ لِيَقْتَطِعَ بِهَا مَالَ امْرِئٍ مُسْلِمٍ، لَقِيَ اللَّهَ وَهُوَ عَلَيْهِ غَضْبَانُ». قَالَ: فَقَالَ الْأَشْعَثُ: فِيَّ وَاللَّهِ كَانَ ذَلِكَ؛ كَانَ بَيْنِي وَبَيْنَ رَجُلٍ مِنَ الْيَهُودِ أَرْضٌ، فَجَحَدَنِي، فَقَدَّمْتُهُ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَلَكَ بَيِّنَةٌ؟» قُلْتُ: لَا. قَالَ: فَقَالَ لِلْيَهُودِيِّ: «احْلِفْ». قَالَ: قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، إِذَنْ يَحْلِفَ وَيَذْهَبَ بِمَالِي. فَأَنْزَلَ اللَّهُ تَعَالَى: {إِنَّ الَّذِينَ يَشْتَرُونَ بِعَهْدِ اللَّهِ وَأَيْمَانِهِمْ ثَمَنًا قَلِيلًا}. إِلَى آخِرِ الْآيَةِ.
আব্দুল্লাহ ইবন মাস‘ঊদ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “কোন ব্যক্তি যদি কোন মুসলিমের অর্থ সম্পদ আত্মসাৎ করার উদ্দেশে মিথ্যা শপথ করে, তা হলে সে আল্লাহর সমীপে এমন অবস্থায় হাযির হবে যে, আল্লাহ তার উপর রাগান্বিত থাকবেন”। তিনি বলেন, আশ‘আস বললেন, আল্লাহর কসম! এটা আমার সম্পর্কেই ছিল, আমার ও এক ইয়াহূদী ব্যক্তির সাথে যৌথ মালিকানায় এক খন্ড জমি ছিল। সে আমার মালিকানার অংশ অস্বীকার করে বসল। আমি তাকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কাছে নিয়ে গেলাম। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন, “তোমার কোন সাক্ষী আছে কি?” আমি বললাম, না। তিনি বলেন, তখন তিনি ইয়াহূদীকে বললেন, “তুমি কসম কর”। তিনি বলেন, আমি তখন বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! সে তো কসম করবে এবং আমার সম্পত্তি নিয়ে নেবে। তখন আল্লাহ তা‘আলা (এ আয়াত) নাযিল করেনঃ {إِنَّ الَّذِينَ يَشْتَرُونَ بِعَهْدِ اللَّهِ وَأَيْمَانِهِمْ ثَمَنًا قَلِيلًا}. إِلَى آخِرِ الْآيَةِ. ‘‘যারা আল্লাহর সঙ্গে কৃত প্রতিশ্রুতি এবং নিজেদের শপথকে স্বল্পমূল্যে বিক্রি করে ....... আয়াতের শেষ পর্যন্ত’’- (আলে ইমরান ৭৭)।
সহীহ বুখারী ও মুসলিমমানসহীহ
ব্যাখ্যা

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অন্য কারো অর্থ আত্মসাতের জন্য শপথকারী নিজে মিথ্যা বলছেন জেনেও আল্লাহর নামে শপথ না করার ব্যাপারে সতর্ক করে দিয়েছেন। সে আল্লাহর সাথে এমন অবস্থায় দেখা করবে যখন তিনি তার উপর রাগান্বিত থাকবেন। আশ'আশ ইবনু কায়স রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই কথা এক ইহুদি ব্যক্তির সাথে তার জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধের সময় বলেছেন। তারা তাদের মামলা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে নিয়ে যান। তখন তিনি আশ'আশকে বলেন: আপনার দাবির প্রমাণ হিসেবে আপনাকে অবশ্যই সাক্ষী উপস্থাপন করতে হবে। যদি আপনি তা প্রদান করতে অক্ষম হন, তাহলে আপনার জন্য আপনার বিবাদীর শপথ ছাড়া আর কিছুই নেই। আশ’আশ বলেন: হে আল্লাহর রাসূল, তাহলে তো ইহুদি লোকটি শপথ করবে এবং দ্বিধা না করে আমার সম্পদ নিয়ে নিবে, তাই আল্লাহ তাআলা কুরআনে এর সত্যতা প্রকাশ করলেন তাঁর বাণীতে: {নিশ্চয় যারা আল্লাহ্‌র সাথে করা প্রতিশ্রুতি} এবং মুমিনদের জন্য আমানত ফিরিয়ে দেওয়ার তার অসিয়ত পরিবর্তন করে {এবং নিজেদের শপথের বিনিময়ে} অর্থাৎ আল্লাহর নামে মিথ্যা শপথের বিনিময়ে পৃথিবীর ধ্বংসাবশেষ {তুচ্ছ মূল্য খরিদ করে, আখেরাতে তাদের কোনো অংশ নেই। আর আল্লাহ্‌ তাদের সাথে কথা বলবেন না} এমন কথা যা তাদের খুশি করবে এবং তাদের উপকার করবে, বরং তাদের উপর গোস্বা করবেন। {এবং তাদের দিকে তাকাবেন না কেয়ামতের দিন।} রহমত ও অনুগ্রহের দৃষ্টি দিবেন না। {আর তাদেরকে পরিশুদ্ধও করবেন না}; ভালো প্রশংসার মাধ্যমে এবং মাখফিরাত করে তাদের পাপ ও নাপাকি থেকে পবিত্র করবেন না। {এবং তাদের জন্য রয়েছে মর্মন্তুদ শাস্তি} তাদের কর্মের ফল স্বরূপ কষ্টদায়ক শাস্তি।

শিক্ষা
  1. জনগণের অর্থ অবৈধভাবে গ্রহণ করা নিষিদ্ধ।
  2. মুসলিমদের ছোট-বড় সকল অধিকার খুব বড়।
  3. সাক্ষীর ভার বাদীর উপর এবং যদি বিবাদী অস্বীকার করে তবে শপথ তার উপর।
  4. দুইজন সাক্ষীর দ্বারা অধিকার প্রমাণ হয়। যদি বাদীর কাছে প্রমাণ না থাকে, তাহলে বিবাদীকে শপথ করতে হবে।
  5. (আল-গুমুস) হারাম কসম, যা একটি মিথ্যা শপথ যার মাধ্যমে শপথকারী অন্যের অধিকার হরণ করে। এটি এমন একটি বড় পাপ যা ব্যক্তিকে আল্লাহর ক্রোধ এবং শাস্তির মুখোমুখি করে।
  6. শাসকের বিরোধীদের প্রতি ধর্মোপদেশ, বিশেষ করে যখন তিনি শপথ নিতে চান।
সূত্র

صحيح البخاري (3/ 121) (2416). صحيح مسلم (1/ 123) (138). الإلمام بشرح عمدة الأحكام، لإسماعيل الأنصاري (2/ 136). تيسير العلام شرح عمدة الأحكام، للبسام (ص687). فتاوى اللجنة الدائمة - اللجنة الدائمة للبحوث العلمية والإفتاء (23/ 513).

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

যে ব্যক্তি কোন মুসলমান ব্যক্তির মাল নাহক আত্মসাৎ করার জন্য মিথ্যা কসম খাবে, সে আল্লাহর সাথে এমন অবস্থায় সাক্ষাৎ করবে, যখন তিনি তার উপর ক্রোধান্বিত থাকবেন।

عن عبد الله بن مسعودٍ رضي الله عنه مرفوعًا: (من حلف على يَمِينِ صَبْرٍ يَقْتَطِعُ بها مال امرئ مسلم، هو فيها فاجر، لقي الله وهو عليه غضبان)، ونزلت: (إن الذين يشترون بعهد الله وأيمانهم ثمنا قليلا) إلى آخر الآية".
আব্দুল্লাহ ইবনে মাসঊদ রাদিয়াল্লাহু থেকে মারফূ‘ হিসেবে বর্ণিত: “যে ব্যক্তি কোন মুসলমান ব্যক্তির মাল নাহক আত্মসাৎ করার জন্য মিথ্যা কসম খাবে, সে আল্লাহর সাথে এমন অবস্থায় সাক্ষাৎ করবে, যখন তিনি তার উপর ক্রোধান্বিত থাকবেন। অতঃপর নাযিল হল: যার অর্থ, ‘যারা আল্লাহর প্রতিশ্রুতি ও নিজেদের শপথ স্বল্প মূল্যে বিক্রয় করে, পরকালে তাদের কোন অংশ নেই”। আয়াতের শেষ পর্যন্ত।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।মানসহীহ
ব্যাখ্যা

যে ব্যক্তি অন্যায়ভাবে অপরের সম্পদকে হনন করে তার জন্য হাদীসটিতে রয়েছে কঠিন হুমকি ও শাস্তি। সে অবশ্যই মিথ্যা ও অসৎ শপথ এবং অন্যায় যুক্তি দিয়ে অপরের সম্পদ ছিনিয়ে নিয়েছে। কিয়ামতের দিন এ লোক আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করবে যে অবস্থায় আল্লাহ তার ওপর ক্ষুব্ধ। আর যার ওপর আল্লাহ ক্ষুব্ধ হবেন সে অবশ্যই ধ্বংস হবে। তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ কঠিন হুমকির প্রমাণ স্বরূপ কুরআনের এ আয়াতটি তিলাওয়াত করেন।

সূত্র

- صحيح البخاري، محمد بن إسماعيل البخاري الجعفي، تحقيق: محمد زهير الناصر، دار طوق النجاة (مصورة عن السلطانية بإضافة ترقيم: محمد فؤاد عبد الباقي)، الطبعة: الأولى 1422هـ. - صحيح مسلم، مسلم بن الحجاج القشيري النيسابوري، تحقيق محمد فؤاد عبد الباقي، دار إحياء التراث العربي، بيروت، الطبعة: 1423هـ. - الإلمام بشرح عمدة الأحكام، إسماعيل بن محمد الأنصاري، دار الفكر، دمشق، الطبعة: الأولى 1381هـ. - تيسير العلام شرح عمدة الأحكام، عبد الله بن عبد الرحمن البسام، تحقيق: محمد صبحي حلاق، مكتبة الصحابة، الأمارات، مكتبة التابعين، القاهرة، الطبعة: العاشرة 1426هـ. - تأسيس الأحكام، أحمد بن يحيى النجمي، دار المنهاج، القاهرة، الطبعة: الأولى 1427هـ.

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

আমার বোন পায়ে হেঁটে হাজ্জ করার মানত করেছিল। আমাকে এ বিষয়ে নবী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে ফাতাওয়া আনার নির্দেশ করলে আমি নবী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বিষয়টি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, পায়ে হেঁটেও চলুক, সাওয়ারও হোক।

عن عُقْبَة بْن عَامِرٍ رضي الله عنه قال: «نَذَرَتْ أُخْتِي أَنْ تَمْشِيَ إلَى بَيْتِ الله الْحَرَامِ حَافِيَةً، فَأَمَرَتْنِي أَنْ أَسْتَفْتِيَ لَهَا رَسُولَ الله صلى الله عليه وسلم فَاسْتَفْتَيْتُهُ، فَقَالَ: لِتَمْشِ وَلْتَرْكَبْ».
‘উকবাহ ইব্নু ‘আমির রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, “আমার বোন পায়ে হেঁটে হাজ্জ করার মানত করেছিল। আমাকে এ বিষয়ে নবী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে ফাতাওয়া আনার নির্দেশ করলে আমি নবী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বিষয়টি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, পায়ে হেঁটেও চলুক, সাওয়ারও হোক”।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।মানসহীহ
ব্যাখ্যা

মানুষের স্বভাব হলো কখনো কখনো সে আবেগ প্রবণ হয়ে তার নিজের ওপর এমন কিছু ওয়াজিব করে যা তার ওপর কষ্টকর হয়, অথচ আমাদের শরী‘আত এসেছে মধ্যমপন্থা ও ইবাদত করতে গিয়ে আত্মাকে কষ্ট না দেওয়ার নীতি নিয়ে যেন তা (কিয়ামত পর্যন্ত) অব্যাহত থাকে। এ হাদীসটিতে উকবা ইবন আমেরের বোন তার কাছে চাইল, সে যেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করে যে, তিনি বাইতুল্লায় খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার মান্নত করেছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দেখলেন এ মহিলা কিছু পথ হাঁটতে পারবে। তাই তিনি তাকে যতক্ষণ হাঁটতে সক্ষম ততক্ষণ হাঁটা এবং যখন অক্ষম হবে তখন সাওয়ার হওয়ার নির্দেশ দিলেন।

সূত্র

1- صحيح البخاري، محمد بن إسماعيل البخاري الجعفي، تحقيق: محمد زهير الناصر، دار طوق النجاة (مصورة عن السلطانية بإضافة ترقيم: محمد فؤاد عبد الباقي)، الطبعة: الأولى 1422هـ. 2- صحيح مسلم، مسلم بن الحجاج القشيري النيسابوري، تحقيق محمد فؤاد عبد الباقي، دار إحياء التراث العربي، بيروت، الطبعة: 1423هـ. 3- خلاصة الكلام شرح عمدة الأحكام، فيصل بن عبد العزيز المبارك، الطبعة: الثانية 1412هـ، 1992م. 4- الإفهام في شرح عمدة الأحكام، لابن باز، تحقيق: سعيد القحطاني، مؤسسة عبد العزيز بن باز الخيرية، الرياض، الطبعة: الأولى 1435هـ. 5- الإلمام بشرح عمدة الأحكام، إسماعيل بن محمد الأنصاري، دار الفكر، دمشق، الطبعة: الأولى 1381هـ. 6- تيسير العلام شرح عمدة الأحكام، عبد الله بن عبد الرحمن البسام، دار الميمان، الطبعة: الأولى 1426هـ، 2005م. 7- تأسيس الأحكام، أحمد بن يحيى النجمي، دار المنهاج، الطبعة: 1427هـ.

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

হে আব্দুর রহমান ইবন সামুরাহ! তুমি সরকারী পদ চেয়ো না। কারণ যদি তুমি তা চাওয়ার কারণে পাও, তাহলে তার প্রতি তোমাকে সঁপে দেওয়া হবে।

عن عَبْد الرَّحْمَنِ بْن سَمُرَةَ رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال له: «يا عبد الرحمن بن سَمُرَة، لا تَسْأَلِ الإِمَارَةَ؛ فإنك إن أُعْطِيتَها عن مَسْأَلَةٍ وُكِلْتَ إليها، وإن أُعْطِيتَهَا عن غير مَسْأَلَةٍ أُعِنْتَ عليها، وإذا حَلَفْتَ على يمينٍ فرأيتَ غيرها خيرًا منها، فَكَفِّرْ عن يمينك، وَأْتِ الذي هو خير».
আব্দুর রহমান ইবনে সামুরাহ —রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু— বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন, “হে আব্দুর রহমান ইবন সামুরাহ! তুমি সরকারী পদ চেয়ো না। কারণ যদি তুমি তা চাওয়ার কারণে পাও, তাহলে তার প্রতি তোমাকে সঁপে দেওয়া হবে। (এবং তাতে আল্লাহর সাহায্য পাবে না।) আর যদি তা তোমাকে চাওয়া ব্যতিরেকে দেওয়া হয় তাহলে তাতে তোমাকে সাহায্য করা হবে। আর যখন তুমি কোন কসম খাবে, অতঃপর তা থেকে অন্য কাজ উত্তম মনে করবে, তখন উত্তম কাজটা কর এবং তোমার কসমের কাফ্ফারা দিয়ে দাও”।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।মানসহীহ
ব্যাখ্যা

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সরকারী পদ চেয়ে নেওয়া থেকে নিষেধ করেছেন। কারণ, যাকে পদ চাওয়ার কারণে তা দেওয়া হয়, লাঞ্চিত হয় এবং দুনিয়ার প্রতি আগ্রহী হওয়া এবং আখিরাতের ওপর তাকে প্রাধান্য দেওয়ার কারণে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। আর যদি না চাওয়া সত্বেও তা দেওয়া হয় আল্লাহ তার ওপর তাকে সাহায্য করেন। কোন কিছুর ওপর সপথ করা কোনো কল্যাণকর কাজের জন্য বাধা হবে না। যদি কোন ব্যক্তি সপথ ভিন্ন অন্য কিছুতে কল্যাণ দেখে, তখন সে কাফফারা আদায়ের মাধ্যমে সপথ থেকে রেহাই নিবে এবং কল্যাণকর কাজটি করবে।

সূত্র

1- صحيح البخاري، محمد بن إسماعيل البخاري الجعفي، تحقيق: محمد زهير الناصر، دار طوق النجاة (مصورة عن السلطانية بإضافة ترقيم: محمد فؤاد عبد الباقي)، الطبعة: الأولى 1422هـ. 2- صحيح مسلم، مسلم بن الحجاج القشيري النيسابوري، تحقيق محمد فؤاد عبد الباقي، دار إحياء التراث العربي، بيروت، الطبعة: 1423هـ. 3- الإلمام بشرح عمدة الأحكام، إسماعيل بن محمد الأنصاري، دار الفكر، دمشق، الطبعة: الأولى 1381 هـ. 4- تيسير العلام شرح عمدة الأحكام، عبد الله بن عبد الرحمن البسام، تحقيق: محمد صبحي حلاق، مكتبة الصحابة، الأمارات، مكتبة التابعين، القاهرة، الطبعة: العاشرة 1426 هـ. 5- تأسيس الأحكام، أحمد بن يحيى النجمي، دار المنهاج، القاهرة، الطبعة: الأولى 1427هـ.

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

যে ব্যক্তি কোন বিষয়ের উপর কসম খেল অতঃপর তার চেয়ে বেশী তাকওয়ার বিষয় দেখল (কসম ভঙ্গ করাতে), তার উচিত তাকওয়ার বিষয় গ্রহণ করা।”

عن أبي طَرِيف عدي بن حاتم رضي الله عنه مرفوعاً: «مَن حَلَف على يَمِين ثم رأى أَتقَى لله مِنها فَلْيَأت التَّقوَى».
আবূ তারীফ আদী ইবনে হাতেম রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু কর্তৃক মারফূ‘ হিসেবে বর্ণিত: “যে ব্যক্তি কোন বিষয়ের উপর কসম খেল অতঃপর তার চেয়ে বেশী তাকওয়ার বিষয় দেখল (কসম ভঙ্গ করাতে), তার উচিত তাকওয়ার বিষয় গ্রহণ করা।”
এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।মানসহীহ
ব্যাখ্যা

যে ব্যক্তি কোন কর্ম করা বা ছাড়ার শপথ করল। তারপর সে দেখল, তার বিপরীত করা শপথের ওপর অনড় থাকা অপেক্ষা উত্তম ও তাকওয়া। তখন তার মুস্তাহাব ও উত্তম হলো, শপথ ছাড়া এবং যে কর্মটি উত্তম তাই করা। যদি যার ওপর শপথ করেছে তা যদি এমন হয় যে, তা করা অথবা ছাড়া ওয়াজিব যেমন শপথ করল, সালাত ছাড়বে অথবা মদ পান করবে, তখন তার ওপর ওয়াজিব হলো শপথ ভঙ্গ করা এবং যে সব কর্ম করতে এবং ছাড়তে আদিষ্ট তাই পালন করা।

সূত্র

بهجة الناظرين شرح رياض الصالحين لسليم الهلالي، ط1، دار ابن الجوزي، الدمام، 1415هـ. دليل الفالحين لطرق رياض الصالحين، لابن علان، نشر دار الكتاب العربي. رياض الصالحين للنووي، ط1، تحقيق: ماهر ياسين الفحل، دار ابن كثير، دمشق، بيروت، 1428هـ. شرح رياض الصالحين للشيخ ابن عثيمين، دار الوطن للنشر، الرياض، 1426هـ. صحيح مسلم، تحقيق: محمد فؤاد عبد الباقي، دار إحياء التراث العربي، بيروت. نزهة المتقين شرح رياض الصالحين لمجموعة من الباحثين، ط14، مؤسسة الرسالة، 1407هـ.

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস
১২টির মধ্যে ৮
১২টি হাদীস
  1. সা‘দ ইবনু উবাদা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে তার মায়ের একটি মান্নত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেন, যা পূর্ণ করার আগেই তার মা মারা যান। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তুমি তার পক্ষ থেকে তা পূর্ণ করো।
  2. মানত করতে নিষেধ করেছেন। তিনি বলেন, “তা কোন রকম কল্যাণ বয়ে আনে না। তবে এর মাধ্যমে কৃপণ লোকের থেকে কিছু বের করা হয়”।
  3. আল্লাহর শপথ! -ইনশাআল্লাহ্- আমি যখন কোন ব্যাপারে শপথ করি আর তার উল্টোটির মাঝে কল্যাণ দেখতে পাই তখন কসমের কাফ্ফারা আদায় করি। আর যেটি কল্যাণকর সেটিই করি”।
  4. “কোন ব্যক্তি যদি কোন মুসলিমের অর্থ সম্পদ আত্মসাৎ করার উদ্দেশে মিথ্যা শপথ করে, তা হলে সে আল্লাহর সমীপে এমন অবস্থায় হাযির হবে যে, আল্লাহ তার উপর রাগান্বিত থাকবেন”
  5. যে ব্যক্তি কোন মুসলমান ব্যক্তির মাল নাহক আত্মসাৎ করার জন্য মিথ্যা কসম খাবে, সে আল্লাহর সাথে এমন অবস্থায় সাক্ষাৎ করবে, যখন তিনি তার উপর ক্রোধান্বিত থাকবেন।
  6. আমার বোন পায়ে হেঁটে হাজ্জ করার মানত করেছিল। আমাকে এ বিষয়ে নবী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে ফাতাওয়া আনার নির্দেশ করলে আমি নবী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বিষয়টি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, পায়ে হেঁটেও চলুক, সাওয়ারও হোক।
  7. হে আব্দুর রহমান ইবন সামুরাহ! তুমি সরকারী পদ চেয়ো না। কারণ যদি তুমি তা চাওয়ার কারণে পাও, তাহলে তার প্রতি তোমাকে সঁপে দেওয়া হবে।
  8. যে ব্যক্তি কোন বিষয়ের উপর কসম খেল অতঃপর তার চেয়ে বেশী তাকওয়ার বিষয় দেখল (কসম ভঙ্গ করাতে), তার উচিত তাকওয়ার বিষয় গ্রহণ করা।”
  9. সাবালক হওয়ার পর ইয়াতীম বলা যাবে না এবং কোনো দিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বাক বন্ধ রাখা যাবে না।
  10. কায়েস ইবন আবূ হাযেম রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবূ বাকর সিদ্দীক রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু আহমাস গোত্রের যয়নাব নামক এক মহিলার নিকট এসে দেখলেন যে, সে কথা বলে না। তিনি বললেন, ‘ওর কী হয়েছে যে, কথা বলে না?’ তারা বলল, ‘ও নীরব থেকে হজ্জ করার সংকল্প করেছে।’ তিনি বললেন, ‘কথা বল। কারণ, এ (নীরবতা) বৈধ নয়। এ হল জাহেলী যুগের কাজ।’ সুতরাং সে কথা বলল।” এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন।
  11. যে ব্যক্তি কসম খেয়ে বলল যে, ‘আমি ইসলাম হতে (দায়) মুক্ত।’ অতঃপর যদি (তাতে) সে মিথ্যাবাদী হয়, তাহলে তেমনি হবে, যেমন সে বলেছে। আর যদি সে (তাতে) সত্যবাদী হয়, তাহলে নিখুঁতভাবে ইসলামে কখনোই ফিরতে পারবে না।
  12. “মান্নতের কাফফারা হলো কসমের কাফফারার মতো।”

এখানকার প্রতিটি হাদীস, মান, ব্যাখ্যা ও শিক্ষা HadeethEnc.com যেভাবে প্রকাশ করে হুবহু সেভাবেই দেখানো, তাদের পুনঃপ্রকাশের শর্ত মেনে। মানের সঙ্গে মান-নির্ধারকের নাম নেই। অনুবাদ ও ব্যাখ্যা এর লেখকদের নিজস্ব, এবং কোনো কোনোটিতে বিধান বলা আছে; সাবীলের পর্যালোচকেরা এগুলো যাচাই করেননি। আরবি হাদীসটিই মূল পাঠ। উৎস: HadeethEnc.com