রমাদানের শেষ দশ রাত ও লাইলাতুল কদর
রমাদানের শেষ দশ রাতের জন্য সাবীল লাইব্রেরিতে যা আছে — ই‘তিকাফ ও লাইলাতুল কদর নিয়ে কার্ডের কথা, আর সেই রাতের জন্য লাইব্রেরির দেওয়া দু‘আ — প্রতিটির সূত্র ও মানসহ।
এআই-এর লেখা · আলেমদের পর্যালোচনা বাকি আছে
এই প্রবন্ধের কথাগুলো সাবীল লাইব্রেরি ও তার উৎসগুলো থেকে এআই লিখেছে, এবং এআই-ই সেগুলোর সাথে মিলিয়ে তা যাচাই করেছে। কোনো আলেম এখনও এটি পর্যালোচনা করেননি। আরবি পাঠ, সেগুলোর অর্থ ও সেগুলোর সূত্র লাইব্রেরি ও কুরআনের নিজস্ব, সেখানে যেমন আছে হুবহু তেমনই দেখানো। নিজের অবস্থার ব্যাপারে ফতোয়ার জন্য একজন যোগ্য আলেমকে জিজ্ঞেস করুন।
প্রকাশিত ৩ অক্টোবর, ২০২৬পড়তে ৬ মিনিট
রমাদানের শেষ দশ রাতের জন্য সাবীল লাইব্রেরিতে যা আছে, এই পাতায় তা একত্র করা হয়েছে: ই‘তিকাফ নিয়ে কার্ডের কথা, লাইলাতুল কদর নিয়ে কার্ডের লাইন, আর সেই রাতের জন্য লাইব্রেরি যে দু‘আ দিয়েছে। উদ্ধৃত প্রতিটি অংশ লাইব্রেরিতে যেভাবে আছে সেভাবেই দেখানো হয়েছে, লাইব্রেরির দেওয়া সূত্র ও মানসহ।
এই পাতা কোনো বিধান দেয় না, এই রাতগুলোর জন্য ইবাদতের কোনো কর্মসূচিও সাজিয়ে দেয় না। নিজের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিদান, সংখ্যা বা তারিখের কথাও যোগ করে না; যেখানে তেমন কিছু আছে, তা এখানে দেখানো অংশেরই কথা। ই‘তিকাফ নিয়ে, বা নিজের অবস্থা নিয়ে কোনো প্রশ্ন থাকলে একজন আলেমকে জিজ্ঞেস করুন।
রমাদান কার্ডের “শেষ দশ”
লাইব্রেরির রমাদান কার্ডগুলোর একটির শিরোনাম “শেষ দশ”। কার্ডে দুটি অংশ, দুটি লেবেলের নিচে: “I‘tikāf” (ই‘তিকাফ) ও “Laylat al-Qadr” (লাইলাতুল কদর)। লেবেল ও সূত্রের লাইনগুলো কার্ডে ইংরেজিতে ছাপা। লাইব্রেরিতে কার্ডটি দুই ভাগে আছে; এই পাতায় প্রতিটি ভাগ তার নিজের অংশের শেষে দেখানো হয়েছে।
ই‘তিকাফ
প্রথম ভাগ পুরোটাই ই‘তিকাফ নিয়ে। কার্ড ই‘তিকাফকে বলেছে ইবাদতের জন্য মসজিদে নির্জনবাস। এই ভাগের লাইনগুলো যা নিয়ে: নবী ﷺ কী করতেন, কখন প্রবেশ ও কখন বের হওয়া, ই‘তিকাফের সময় বের হওয়া, রোযা, আর নারীর ই‘তিকাফ। লাইনগুলো নিচে কার্ডেই পড়া যায়; একটি ছাড়া বাকিগুলো এখানে আবার বলা হয়নি।
সেই একটি হলো রোযার লাইন, কারণ তাতে কার্ড মাযহাবগুলোর নাম নিয়েছে। কার্ডের ভাষায়: “হানাফি ও মালিকি মতে সাথে রোযা শর্ত; শাফি‘ঈ ও হাম্বলি মতে নয়।” আপনার বেলায় কোনটি প্রযোজ্য, তা একজন আলেমের কাছে জানার বিষয়।
এই পাতা কার্ডের বাইরে কিছু বলছে না। কে ই‘তিকাফ করতে পারেন ও কোথায়, তা কখন শুরু ও কখন শেষ হয়, কীসে তা ভেঙে যায়, আর তা কত দীর্ঘ বা কত সংক্ষিপ্ত হতে পারে: এগুলো একজন আলেমের কাছে জানার প্রশ্ন।
লাইলাতুল কদর ও তার দু‘আ
দ্বিতীয় ভাগের শুরুতে আছে ই‘তিকাফ অংশের সূত্রের লাইন: বুখারি ও মুসলিম, মান সহীহ।
তারপর “Laylat al-Qadr” লেবেলের নিচে একটি লাইন ও একটি দু‘আ। লাইনটি কার্ডের নিজের কথা: রাতটি নিয়ে, আর কোন কোন রাতে তা খোঁজা হয় তা নিয়ে। লাইনটি নিচে কার্ডেই পড়া যায়; এই পাতা তা আবার বলছে না, তাতে কিছু যোগও করছে না। এর সূত্রের লাইনে আছে কুরআন ৯৭:৩, তারপর বুখারি ও মুসলিম, মান সহীহ।
লাইনটির নিচে কার্ডে দু‘আটি আছে: এর আরবি, উচ্চারণ ও অর্থ। লাইব্রেরি এর সূত্র দিয়েছে তিরমিযি ও ইবনে মাজাহ, মান সহীহ। সূত্রের লাইনে ইংরেজিতে আরও একটি কথা আছে, যার অর্থ: আয়িশা যখন জিজ্ঞেস করেছিলেন তা পেলে কী বলবেন, তখন তাঁকে এটি শেখানো হয়েছিল।
কার্ডের সূত্রের লাইনে যে আয়াতের নম্বর আছে, অর্থসহ সেটি:
‘লাইলাতুল-কদর’ হাজার মাসের চেয়ে শ্রেষ্ঠ [১]।
[১] মুফাসসিরগণ এর অর্থ করেছেন, এ রাতের সৎকাজ কদরের রাত নেই এমন হাজার মাসের সৎকাজের চেয়ে ভালো। [মুয়াসসার] এ শ্রেষ্ঠত্ব সম্পর্কে বিভিন্ন হাদীসেও বিস্তারিত বলা হয়েছে। হাদীসে এসেছে, রামাদান আগমন কালে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “তোমাদের নিকট রামাদান আসন্ন। মুবারক মাস। আল্লাহ্ এর সাওম ফরয করেছেন। এতে জান্নাতের দরজাসমূহ খোলা হয়ে থাকে এবং জাহান্নামের দরজাসমূহ বন্ধ করে দেয়া হয়। শয়তানদেরকে বেঁধে রাখা হয়। এতে এমন এক রাত রয়েছে যা হাজার মাস থেকেও উত্তম। যে ব্যক্তি এ রাত্রির কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হয়েছে সে তো যাবতীয় কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হলো।” [নাসায়ী ৪/১২৯, মুসনাদে আহমাদ ২/২৩০, ৪২৫] অন্য হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যে কেউ ঈমান ও সওয়াবের আশায় লাইলাতুল কদর রাত্রিতে সালাত আদায় করতে দাঁড়াবে তার পূর্ববর্তী সমস্ত গোনাহ ক্ষমা করে দেয়া হবে।” [বুখারী ১০৯১, মুসলিম ৭৬০, আবুদাউদ ১৩৭২, নাসায়ী ৮/১১২, তিরমিয়ী ৮০৮, মুসনাদে আহমাদ ২/৫২৯]
লাইব্রেরির আর যেখানে দু‘আটি আছে
লাইব্রেরির আরও দুই জায়গায় এই দু‘আ আছে। সেগুলো এখানে আবার দেখানো হয়নি; ঠিকানা দেওয়া হলো।
রমাদান পোস্টারে এটি আছে “শেষ দশ রাত” সারিতে। দু‘আর অর্থের পরে সেখানে আরও দুটি বাক্য আছে: একটি লাইলাতুল কদর খোঁজা নিয়ে, অন্যটি তিনি ﷺ কী করতেন তা নিয়ে। বাক্য দুটি সেখানেই পড়া যায়; এখানে আবার বলা হয়নি। সারিটির সূত্রের লাইন একটিই; তাতে আছে তিরমিযি, মান সহীহ, এবং কুরআন ৯৭:৩।
পকেট সঙ্গীর “হিজরি সঙ্গী” সেটে আছে “রমযান” শিরোনামের একটি কার্ড। এর প্রথম লাইনে, “The month” (মাস) লেবেলের নিচে, মাসের অন্য বিষয়ের সাথে লাইলাতুল কদর খোঁজা ও ই‘তিকাফের উল্লেখ আছে; লাইব্রেরি এই লাইনের সূত্র দিয়েছে বুখারি ও মুসলিম, মান সহীহ। “Laylat al-Qadr” লেবেলের নিচে দু‘আটি আবার এসেছে, উচ্চারণ ও অর্থসহ। সেখানে লাইব্রেরি এর সূত্র দিয়েছে তিরমিযি ও ইবনে মাজাহ, মান সহীহ; সূত্রের লাইনে ইংরেজিতে আরও একটি কথা আছে, যার অর্থ: সেই রাতের জন্য এটি আয়িশাকে শেখানো হয়েছিল।
পোস্টারে ই‘তিকাফ
একই পোস্টারে ই‘তিকাফের নিজস্ব একটি সারি আছে, শিরোনাম “ই‘তিকাফ — মসজিদে নির্জনবাস”। সারিটি এখানে পোস্টারে যেমন আছে তেমনই দেখানো হয়েছে।
সারির কথাগুলো যা নিয়ে: তিনি ﷺ কী করতেন, আর কখন প্রবেশ ও কখন বের হওয়া। সেগুলো নিচে সারিতেই পড়া যায়; এখানে আবার বলা হয়নি। লাইব্রেরি এই সারির সূত্র দিয়েছে বুখারি ও মুসলিম, মান সহীহ। নিজের ই‘তিকাফের বেলায় কী প্রযোজ্য, তা একজন আলেমের কাছে জানার বিষয়।
এরপর কোথায় যাবেন
- অ্যাপের রমাদান পাতার “ত্রিশ দিন” ছকে পুরো মাসের সাহরি ও ইফতারের সময় আর ত্রিশ দিনের খাতা একসাথে আছে। শেষ দশকের বিজোড় রাতগুলো সেখানে মোটা দাগে ও “বিজোড় রাত” লেখা দিয়ে চিহ্নিত। রাতগুলো অ্যাপের হিসাব করা তারিখ ধরে গোনা; পাতাটি নিজেই জানায় যে আসল দিনটি আপনার এলাকার চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে। ছকের নিচে “শেষ দশ” কার্ডটি দেখানো হয়।
- ওই ছকে দিনের কুরআন পাঠের একটি ঘর আছে; খতম পরিকল্পনা আপনার বেছে নেওয়া দিনে মুসহাফ ভাগ করে দেয়। কার্ডের সূত্রের লাইনে যে আয়াতের নম্বর আছে, সেটি কুরআনের ৯৭ নম্বর সূরার আয়াত।
- রমাদান কার্ড ও রমাদান পোস্টার প্রিন্ট করা যায়।
- রমাদান নিয়ে আরও দুটি লেখা: ইফতারের দু‘আ এবং রমাদান ২০২৭।