আলিফ-লাম, আর সূর্য ও চন্দ্র অক্ষর
বিশেষ্যের সামনে লেখা আলিফ আর লাম, আর তা লেখার দুটি ধরন, যা নির্ভর করে পরের অক্ষরটির ওপর।
এআই-এর লেখা ও যাচাই করা
এই পাঠগুলো এআই লিখেছে এবং এআই-ই যাচাই করেছে; আরবির কোনো শিক্ষক এখনও এগুলো পড়েননি। আয়াত, সেগুলোর অর্থ ও প্রতিটি শব্দের বিশ্লেষণ নিজ নিজ উৎস থেকে নেওয়া, আর যেখানে দেখানো হয় সেখানে উৎসের নাম দেওয়া আছে।
এই পাঠে নতুন কোনো অক্ষর নেই। এতে শেখানো হবে এমন একটি জিনিস, যা প্রতিটি পাতায় শব্দের সামনে দেখবেন: আলিফ-লাম, কায়দায় যাকে বলা হয় আল; বিশেষ্যের সঙ্গে জোড়া লেখা একটি আলিফ আর একটি লাম। এই লেখায় আলিফটি হলো আলিফ ওয়াসলাহ, যা পরের পাঠে শেখানো হবে, আর লামটি লেখা হয় দুই ধরনের একটিতে, তার পরে কোন অক্ষর আসছে সেই অনুযায়ী।
আলিফ-লাম
আলিফ-লাম দুটি অক্ষর, আলিফ ওয়াসলাহ আর লাম, বিশেষ্যের সামনে তার সঙ্গে জোড়া লেখা। সূরা আল-ফাতিহার দ্বিতীয় আয়াতের প্রথম শব্দটি এটি দিয়ে শুরু, আর চতুর্থ আয়াতের শেষ শব্দটিও। নিচে দুটিরই বানান দেওয়া আছে।
- ٱআলিফ ওয়াসলাহ
- لْলাম+ সুকূন (জযম)
- حَহা (বড় হা)+ ফাতহাহ (যবর)
- مْমীম+ সুকূন (জযম)
- دُদাল+ দাম্মাহ (পেশ)
- ٱআলিফ ওয়াসলাহ
- لলাম
- دِّদাল+ শাদ্দাহ (তাশদীদ)+ কাসরাহ (যের)
- يইয়া
- نِনূন+ কাসরাহ (যের)
প্রতিটির লামটি দেখুন। প্রথম শব্দে তাতে জযম, আর তার পরের বড় হা-তে শুধু তার যবর। দ্বিতীয়টিতে লামে কোনো চিহ্নই নেই, আর তার পরের দালে শাদ্দাহ। আলিফ-লাম কোন ধরনে লেখা হবে, তা নির্ভর করে লামের পরের অক্ষরটির ওপর, আর অক্ষরগুলো ভাগ হয় চৌদ্দটি করে দুই দলে।
চন্দ্র অক্ষর
এই চৌদ্দটি অক্ষরের আগে আলিফ-লামের লামে থাকে জযম: হামযাহ, যে আসনেই লেখা হোক; বা, জীম, বড় হা, খা, আইন, গাইন, ফা, ক্বাফ, কাফ, মীম, ছোট হা, ওয়াও আর ইয়া। এদের বলা হয় চন্দ্র অক্ষর, কায়দায় কামারী হরফ, কারণ চাঁদের আরবি শব্দটি শুরু হয় ক্বাফ দিয়ে, যা এদের একটি।
সূর্য অক্ষর
এই চৌদ্দটির আগে লামে কোনো চিহ্ন থাকে না, আর তার পরের অক্ষরে থাকে শাদ্দাহ: তা, ছা, দাল, যাল, রা, যা, সীন, শীন, সোয়াদ, দোয়াদ, ত্বোয়া, যোয়া, লাম আর নূন। এদের বলা হয় সূর্য অক্ষর, কায়দায় শামসী হরফ, কারণ সূর্যের আরবি শব্দটি শুরু হয় শীন দিয়ে।
এই পাঠ এটুকুই বলে। সূর্য অক্ষরের শাদ্দাহ লেখার একটি ঘটনা, পাতাতেই আছে; সেটি পাঠকের কাছে কী চায়, তা লাইব্রেরির তাজবীদ বইয়ের।
লক্ষ করার দুটি কথা
কিছু শব্দ শুরু হয় আলিফ ওয়াসলাহ আর এমন একটি লাম দিয়ে, যাতে নিজেই শাদ্দাহ আছে, যেমন সূরা আল-ফাতিহার সপ্তম আয়াতের দ্বিতীয় শব্দে আর ৯২:১ আয়াতের প্রথম শব্দে। সেখানে লামটিই দ্বিগুণ অক্ষর। সূরা আল-ফাতিহার প্রথম আয়াতের দ্বিতীয় শব্দটি লেখা হয়েছে আলিফ ওয়াসলাহর পরে দুটি লাম দিয়ে, যার দ্বিতীয়টিতে শাদ্দাহ।
এক অক্ষরের একটি শব্দ, যেমন ওয়াও কিংবা বা, আলিফ-লামের সামনে জোড়া লেখা হতে পারে; তখন আলিফ ওয়াসলাহ লেখা শব্দটির ভেতরে দাঁড়ায়, যেমন ৯৫:১ আয়াতের দুটি শব্দেই।
আরও দুটি বিরল কথা জানা ভালো। একবার, ৪৯:১১ আয়াতের ত্রিশতম শব্দে, আলিফ-লামের লামে আছে যের, কারণ তার পরের বিশেষ্যটি নিজেই আলিফ ওয়াসলাহ দিয়ে শুরু। আর দশটি ক্রিয়াপদ শুরু হয় আলিফ ওয়াসলাহ, জযমওয়ালা একটি লাম আর তারপর একটি তা দিয়ে, যেমন ৭৫:২৯ আয়াতের প্রথম শব্দটি: সেখানে আলিফ আর লাম ক্রিয়াপদটির নিজের অক্ষর, আলিফ-লাম নয়; তাই সূর্য অক্ষরের আগে জযমওয়ালা একটি লাম সব সময় চন্দ্র ধরনে লেখা আলিফ-লাম নয়।
কুরআনে
নিচের প্রতিটি আয়াতে প্রতিটি আলিফ ওয়াসলাহ আর প্রতিটি লাম চিহ্নিত করা আছে। সূরা আল-ফাতিহার দ্বিতীয় আয়াতে আলিফ-লাম দুবার, বড় হা-এর আগে আর আইনের আগে, দুটিই চন্দ্র অক্ষর: দুটি লামেই জযম। অন্য লামগুলোও চিহ্নিত হয়েছে, দ্বিতীয় শব্দে দুটি আর চতুর্থ শব্দের ভেতরে একটি: সেগুলো ওই শব্দগুলোর লাম অক্ষর, আলিফ-লাম নয়।
এই পাঠে যে অক্ষর ও চিহ্নগুলোর নাম বলা হয়েছে, সেগুলো আয়াতে চিহ্নিত করা হয়েছে।
সকল ‘হাম্দ’ [১] আল্লাহ্র [২] , যিনি সৃষ্টিকুলের [৩] রব [৪],
Bengali Translation - Abu Bakr Zakaria · QuranEnc.com · version 1.1.1তৃতীয় আয়াতে এটি দুবার, রা-এর আগে, যা সূর্য অক্ষর: লামে কোনো চিহ্ন নেই, আর রা-তে শাদ্দাহ।
এই পাঠে যে অক্ষর ও চিহ্নগুলোর নাম বলা হয়েছে, সেগুলো আয়াতে চিহ্নিত করা হয়েছে।
দয়াময়, পরম দয়ালু [১],
Bengali Translation - Abu Bakr Zakaria · QuranEnc.com · version 1.1.1ষষ্ঠ আয়াতে প্রথম শব্দটিও আলিফ ওয়াসলাহ দিয়ে শুরু, কিন্তু তার পরে কোনো লাম নেই: এটি আলিফ-লাম নয়, আর পরের পাঠে এতে ফিরে আসা হবে। দ্বিতীয় শব্দে আলিফ-লাম সোয়াদের আগে, যা সূর্য অক্ষর, আর তৃতীয় শব্দে মীমের আগে, যা চন্দ্র অক্ষর।
এই পাঠে যে অক্ষর ও চিহ্নগুলোর নাম বলা হয়েছে, সেগুলো আয়াতে চিহ্নিত করা হয়েছে।
আমাদেরকে সরল পথের হিদায়াত দিন [১]
Bengali Translation - Abu Bakr Zakaria · QuranEnc.com · version 1.1.1- ٱআলিফ ওয়াসলাহ
- لলাম
- صِّসোয়াদ+ শাদ্দাহ (তাশদীদ)+ কাসরাহ (যের)
- رَٰরা+ ফাতহাহ (যবর)+ খাড়া যবর (ছোট আলিফ)
- طَত্বোয়া+ ফাতহাহ (যবর)
এখানে আলিফ-লাম দুবার, প্রতিবার তার সামনে জোড়া লেখা একটি ওয়াওয়ের পরে; তা-এর আগে আর যা-এর আগে, দুটিই সূর্য অক্ষর।
এই পাঠে যে অক্ষর ও চিহ্নগুলোর নাম বলা হয়েছে, সেগুলো আয়াতে চিহ্নিত করা হয়েছে।
শপথ ‘তীন’ ও ‘যায়তুন” [১] – এর,
Bengali Translation - Abu Bakr Zakaria · QuranEnc.com · version 1.1.1মনে করুন
- আলিফ-লাম কোন দুটি অক্ষর দিয়ে লেখা হয়?
- চন্দ্র অক্ষরের আগে আলিফ-লামের লামে কী থাকে?
- লেখা দেখে কীভাবে বুঝবেন যে আলিফ-লামের পরের অক্ষরটি সূর্য অক্ষর?
উত্তর: আলিফ ওয়াসলাহ আর লাম; জযম; লামে কোনো চিহ্ন থাকে না, আর তার পরের অক্ষরে শাদ্দাহ থাকে।
পরের পাঠ
পরের পাঠে আলিফ ওয়াসলাহ: মাথায় ছোট চিহ্নওয়ালা সেই আলিফ, যা দিয়ে এই লেখায় আলিফ-লাম আর আরও কিছু শব্দ শুরু হয়।
শব্দ বিশ্লেষণ: Quranic Arabic Corpus 0.4 (Kais Dukes)