ফা, ক্বাফ, কাফ আর লাম
ছোট গোল ঘরের দুটি অক্ষর, এক বিন্দু না দুই বিন্দু দিয়ে আলাদা; আর লম্বা দুটি অক্ষর, যেগুলো পরের অক্ষরের সঙ্গে জোড়ে, আলিফের সঙ্গে এখানেই এদের তফাত।
এআই-এর লেখা ও যাচাই করা
এই পাঠগুলো এআই লিখেছে এবং এআই-ই যাচাই করেছে; আরবির কোনো শিক্ষক এখনও এগুলো পড়েননি। আয়াত, সেগুলোর অর্থ ও প্রতিটি শব্দের বিশ্লেষণ নিজ নিজ উৎস থেকে নেওয়া, আর যেখানে দেখানো হয় সেখানে উৎসের নাম দেওয়া আছে।
এই পাঠে চারটি অক্ষর। এদের দুটি, ফা আর ক্বাফ, একই দেহের, আর আগের তিন পাঠের জোড়াগুলোর মতোই বিন্দু দিয়ে আলাদা হয়। বাকি দুটি, কাফ আর লাম, লম্বা অক্ষর; এদের বেলায় শেখার কথা হলো আলিফ থেকে এদের কীভাবে আলাদা করে চিনবেন।
অক্ষরগুলো
- ফাف
- فএকা
- فশব্দের শুরুতে
- فশব্দের মাঝে
- فশব্দের শেষে
- ক্বাফق
- قএকা
- قশব্দের শুরুতে
- قশব্দের মাঝে
- قশব্দের শেষে
- কাফك
- كএকা
- كশব্দের শুরুতে
- كশব্দের মাঝে
- كশব্দের শেষে
- লামل
- لএকা
- لশব্দের শুরুতে
- لশব্দের মাঝে
- لশব্দের শেষে
ফা আর ক্বাফ
দুটিরই শুরু একটি ছোট গোল বন্ধ ঘর দিয়ে, যা লাইনের ওপর বসে। ফা-এর ঘরের ওপরে একটি বিন্দু; ক্বাফের দুটি।
শব্দের শুরুতে আর মাঝে থাকে শুধু ঘর আর তার বিন্দু, আর তখন দুটি অক্ষরের তফাত কেবল বিন্দুর সংখ্যায়। একা আর শব্দের শেষে প্রতিটির সঙ্গে একটি লেজ যোগ হয়, আর লেজ দুটি আলাদা: ফা-এর লেজ লাইন বরাবর চ্যাপ্টা হয়ে চলে, বা-এর বাটির মতো; ক্বাফের লেজ একটি গভীর গোল বাটি, যা লাইনের নিচে নেমে যায়।
ক্বাফ আর কাফ দুটি আলাদা অক্ষর, বাংলায় নাম কাছাকাছি শোনালেও। এদের চিনুন আকৃতি দেখে: ক্বাফের ছোট গোল ঘর আর তার ওপরে দুটি বিন্দু; কাফের ঘরও নেই, বিন্দুও নেই।
কাফ
একা আর শব্দের শেষে কাফ হলো লাইন বরাবর একটি চ্যাপ্টা টান, যার ডান প্রান্ত থেকে একটি খাড়া দাগ ওপরে উঠে যায়, আর সেই কোণের ভেতরে একটি ছোট তেরছা দাগ আঁকা থাকে। শব্দের শুরুতে আর মাঝে এটি একটি লম্বা তেরছা দাগ, যা লাইনে নেমে এসে পরের অক্ষরের সঙ্গে জুড়ে যায়, আর তখন ছোট দাগটি আঁকা হয় না।
লাম
লাম একটি লম্বা খাড়া দাগ। শব্দের শুরুতে আর মাঝে এটি লাইনের ওপর দাঁড়ায় আর পরের অক্ষরের সঙ্গে জুড়ে যায়। একা আর শব্দের শেষে এর শেষে থাকে একটি গভীর গোল বাটি, যা লাইনের নিচে নেমে যায়।
লাম আর আলিফ দুটিই লম্বা খাড়া দাগ, আর শব্দের মাঝে এদের একই রকম দেখাতে পারে। আলাদা করে চেনার উপায় প্রথম পাঠেই দেওয়া আছে: আলিফ পরের অক্ষরের সঙ্গে কখনো জোড়ে না। যে লম্বা দাগ তার বাঁ দিকের অক্ষরের সঙ্গে জোড়া, সেটি লাম। শব্দের শেষে, নিচে বাটিসহ লম্বা দাগ হলো লাম, আর শুধু লম্বা দাগ হলো আলিফ।
কুরআনে
সূরা আল-ফালাকের প্রথম আয়াত শুরু হয়েছে ক্বাফ দিয়ে, আর শেষও হয়েছে ক্বাফ দিয়ে। এর প্রথম শব্দটি হলো ক্বাফ, লামের সঙ্গে জোড়া। শেষ শব্দে লাম আছে দুবার, মাঝে ফা, আর শেষে ক্বাফ, তার বাটি লাইনের নিচে।
এই পাঠে যে অক্ষর ও চিহ্নগুলোর নাম বলা হয়েছে, সেগুলো আয়াতে চিহ্নিত করা হয়েছে।
বলুন [১], ‘আমি আশ্রয় প্রার্থনা করছি [২] ঊষার রবের [৩]
Bengali Translation - Abu Bakr Zakaria · QuranEnc.com · version 1.1.1- ٱআলিফ ওয়াসলাহ
- لْলাম+ সুকূন (জযম)
- فَফা+ ফাতহাহ (যবর)
- لَলাম+ ফাতহাহ (যবর)
- قِক্বাফ+ কাসরাহ (যের)
সূরা আল-কাফিরূনের প্রথম আয়াতে চারটি অক্ষরই আছে। এর প্রথম শব্দটি ওপরেরটিই। মাঝের শব্দে এই চারটির কোনোটি নেই। শেষ শব্দের শুরুর দিকে লাম, তারপর শব্দের মাঝে কাফ আর ফা, প্রতিটি লেজ ছাড়া আঁকা। কাফ আর ফা-এর মাঝে মুসহাফে একটি ছোট চ্যাপ্টা রেখা টানা আছে, যা একটি চিহ্ন বহন করে; রেখাটির কথা অষ্টম পাঠে।
এই পাঠে যে অক্ষর ও চিহ্নগুলোর নাম বলা হয়েছে, সেগুলো আয়াতে চিহ্নিত করা হয়েছে।
বলুন, ‘হে কাফিররা!
Bengali Translation - Abu Bakr Zakaria · QuranEnc.com · version 1.1.1- ٱআলিফ ওয়াসলাহ
- لْলাম+ সুকূন (জযম)
- كَকাফ+ ফাতহাহ (যবর)
- ـٰটানা রেখা (তাতবীল)+ খাড়া যবর (ছোট আলিফ)
- فِফা+ কাসরাহ (যের)
- رُরা+ দাম্মাহ (পেশ)
- وওয়াও
- نَনূন+ ফাতহাহ (যবর)
মনে করুন
- ফা আর ক্বাফকে কীভাবে আলাদা করে চিনবেন?
- শব্দের শুরুতে কাফ দেখতে কেমন?
- শব্দের মাঝে লাম আর আলিফকে কীভাবে আলাদা করে চিনবেন?
উত্তর: ফা-এর ঘরের ওপরে একটি বিন্দু আর ক্বাফের দুটি, আর শব্দের শেষে ফা-এর লেজ চ্যাপ্টা হয়ে চলে, ক্বাফের লেজ লাইনের নিচে নেমে যায়; একটি লম্বা তেরছা দাগ, যা পরের অক্ষরের সঙ্গে জুড়ে যায়; লাম পরের অক্ষরের সঙ্গে জোড়ে, আলিফ কখনো জোড়ে না।
পরের পাঠ
পরের পাঠে মীম, নূন, ছোট হা আর ইয়া, আর একা দাঁড়ানো হামযাহ।
শব্দ বিশ্লেষণ: Quranic Arabic Corpus 0.4 (Kais Dukes)