মূল অংশে যান
কুরআনের আরবি · সব পাঠ
ধাপ ০ · পাঠ ১

লিপি কীভাবে লেখা হয়, আর প্রথম চারটি অক্ষর

আরবি লেখা হয় ডান থেকে বাঁয়ে, অক্ষরগুলো একটির সঙ্গে আরেকটি জুড়ে যায়, আর বিন্দু দিয়ে অনেক অক্ষরকে আলাদা করে চেনা যায়। প্রথম চারটি অক্ষরেই এই তিনটি দেখা যায়।

এআই-এর লেখা ও যাচাই করা

এই পাঠগুলো এআই লিখেছে এবং এআই-ই যাচাই করেছে; আরবির কোনো শিক্ষক এখনও এগুলো পড়েননি। আয়াত, সেগুলোর অর্থ ও প্রতিটি শব্দের বিশ্লেষণ নিজ নিজ উৎস থেকে নেওয়া, আর যেখানে দেখানো হয় সেখানে উৎসের নাম দেওয়া আছে।

এই ধাপে আরবি লিপি অক্ষরে অক্ষরে পড়তে শেখানো হবে, মুসহাফে যেভাবে লেখা আছে ঠিক সেভাবে। প্রথমে অক্ষর (হরফ), তারপর অক্ষরের ওপরে ও নিচে লেখা চিহ্নগুলো, তারপর মুসহাফের নিজস্ব ছোট চিহ্নগুলো, আর শেষে সূরা আল-ফাতিহা এক এক অক্ষর করে পড়া।

এই পাঠে লিপি সম্পর্কে তিনটি কথা, আর সেই তিনটি কথা দেখিয়ে দেয় এমন চারটি অক্ষর।

লিপি সম্পর্কে তিনটি কথা

  • আরবি লেখা ও পড়া হয় ডান থেকে বাঁয়ে। লাইন শুরু হয় পাতার ডান কিনারা থেকে, আর বই খোলে সেই দিক থেকে, বাংলা বইয়ের যেটি শেষের দিক।
  • একটি শব্দের অক্ষরগুলো হাতের লেখার মতো একটির সঙ্গে আরেকটি জুড়ে থাকে। শব্দে অক্ষরটি কোথায় আছে, সেই অনুযায়ী তার আকৃতি একটু বদলায়: একা, শব্দের শুরুতে, মাঝে, কিংবা শেষে।
  • অনেক অক্ষরের আকৃতি একই, তফাত শুধু বিন্দুতে: কয়টি বিন্দু, আর সেগুলো অক্ষরের ওপরে না নিচে।

এই লিপিতে আটাশটি অক্ষর, আর আছে হামযাহ, যা লেখা হয় নিজস্ব নিয়মে এবং যার জন্য পরে আলাদা একটি পাঠ আছে। বেশির ভাগ অক্ষর ব্যঞ্জনবর্ণ। এর মধ্যে তিনটি, আলিফ, ওয়াও আর ইয়া, দীর্ঘ স্বরও বোঝায়। হ্রস্ব স্বরগুলো অক্ষরই নয়: সেগুলো অক্ষরের ওপরে বা নিচে লেখা ছোট চিহ্ন (হরকত), আর নবম পাঠ থেকে সেগুলো শেখানো হবে।

অক্ষরগুলো

  • আলিফ
    ا
    1. اএকা
    2. ‍اশব্দের শেষে
  • বা
    ب
    1. بএকা
    2. ب‍শব্দের শুরুতে
    3. ‍ب‍শব্দের মাঝে
    4. ‍بশব্দের শেষে
  • তা
    ت
    1. تএকা
    2. ت‍শব্দের শুরুতে
    3. ‍ت‍শব্দের মাঝে
    4. ‍تশব্দের শেষে
  • ছা
    ث
    1. ثএকা
    2. ث‍শব্দের শুরুতে
    3. ‍ث‍শব্দের মাঝে
    4. ‍ثশব্দের শেষে

প্রতিটি কার্ডে অক্ষরের নাম আর তার আকৃতিগুলো দেওয়া আছে। উচ্চারণ বাংলা অক্ষরে লিখে দেওয়া হয়নি, কারণ বাংলা অক্ষরে লিখলে আরবির কয়েকটি আলাদা অক্ষর একই রকম হয়ে যায়। তাই প্রতিটি অক্ষর চিনুন তার নাম আর আকৃতি দিয়ে।

আলিফ

আলিফ একটি সোজা খাড়া দাগ। এটি আগের অক্ষরের সঙ্গে জোড়ে, কিন্তু পরের অক্ষরের সঙ্গে কখনো জোড়ে না; তাই এর আকৃতি মাত্র দুটি: একা, আর শব্দের শেষে। আলিফ প্রায়ই দীর্ঘ আ বোঝায়, আর হামযাহকেও বহন করে, পরের পাঠগুলোতে যেমন দেখবেন।

বা, তা আর ছা

এই তিনটি অক্ষরের দেহ একই: ওপরের দিকে খোলা একটি অগভীর বাটি। শুধু বিন্দুই এদের আলাদা করে।

  • বা-এর নিচে একটি বিন্দু।
  • তা-এর ওপরে দুটি বিন্দু।
  • ছা-এর ওপরে তিনটি বিন্দু।

শব্দের শুরুতে আর মাঝে বাটিটি ছোট হয়ে একটি খাটো দাঁতের মতো টানে পরিণত হয়, তখন চিনতে হয় বিন্দু দেখে। শব্দের শেষে আর একা থাকলে পুরো বাটিটি আঁকা হয়।

কুরআনে

সূরা আল-ফাতিহার প্রথম শব্দটি শুরু হয়েছে বা দিয়ে। নিচে শব্দটি দেওয়া হলো, আর তার নিচে সেই শব্দই অক্ষরে অক্ষরে। প্রতিটি অক্ষরের ওপরের ও নিচের ছোট চিহ্নগুলোর নামও দেওয়া আছে; সেগুলো পরের পাঠগুলোতে শিখবেন।

بِسْمِ
অক্ষরে অক্ষরে
  1. بِবা+ কাসরাহ (যের)
  2. سْসীন+ সুকূন (জযম)
  3. مِমীম+ কাসরাহ (যের)
কুরআন ১:১

এই আয়াতে প্রতিটি বা, তা আর ছা চিহ্নিত করা আছে, আর প্রথম শব্দের শেষের সাধারণ আলিফটি। আলিফের মতো দেখতে আরও দুটি অক্ষর চিহ্নিত করা হয়নি: সেই প্রথম শব্দের দ্বিতীয় অক্ষরটি, যার নিচে একটি হামযাহ আছে, আর দ্বিতীয় শব্দের প্রথম অক্ষরটি, যার ওপরে একটি ছোট চিহ্ন আছে। দুটিই আলাদা রূপ, যা পঞ্চদশ ও অষ্টাদশ পাঠে শেখানো হবে। চিহ্নিত প্রতিটি অক্ষরের দিকে তাকিয়ে তার নাম বলুন। এখানে বা খাটো দাঁতের মতো টান হয়ে এসেছে, একটি শব্দের শুরুতে আর আরেকটি শব্দের মাঝে। শেষ শব্দের শেষ অক্ষরটি তা, পুরো বাটিসহ আঁকা।

এই পাঠে যে অক্ষর ও চিহ্নগুলোর নাম বলা হয়েছে, সেগুলো আয়াতে চিহ্নিত করা হয়েছে।

وَإِذَا ٱلْقُبُورُ بُعْثِرَتْ

আর যখন কবরসমূহ উন্মোচিত হবে,

Bengali Translation - Abu Bakr Zakaria · QuranEnc.com · version 1.1.1
কুরআন ৮২:৪
بُعْثِرَتْ
অক্ষরে অক্ষরে
  1. بُবা+ দাম্মাহ (পেশ)
  2. عْআইন+ সুকূন (জযম)
  3. ثِছা+ কাসরাহ (যের)
  4. رَরা+ ফাতহাহ (যবর)
  5. تْতা+ সুকূন (জযম)
কুরআন ৮২:৪

অক্ষরগুলো কীভাবে উচ্চারিত হয়

এই কোর্সে অক্ষর আর তাদের নাম শেখানো হয়। প্রতিটি অক্ষর কীভাবে উচ্চারিত হয়, মুখ ও কণ্ঠের কোন জায়গা থেকে, তা শেখানো হয় লাইব্রেরির তাজবীদ বইয়ে, মাখারিজ অংশে। উচ্চারণ শেখার সবচেয়ে নিশ্চিত উপায় হলো এমন একজন শিক্ষক, যিনি তিলাওয়াত করে শোনান।

মনে করুন

  • আরবি কোন দিক থেকে পড়া হয়?
  • এই পাঠের কোন অক্ষরটি পরের অক্ষরের সঙ্গে কখনো জোড়ে না?
  • বা, তা আর ছা-কে কীভাবে আলাদা করে চিনবেন?

উত্তর: ডান থেকে বাঁয়ে; আলিফ; বিন্দু দেখে: বা-এর নিচে একটি, তা-এর ওপরে দুটি, ছা-এর ওপরে তিনটি।

পরের পাঠ

পরের পাঠে আরও তিনটি অক্ষর, যাদের দেহ একই: জীম, বড় হা আর খা।