প্রতিটি বর্ণনার নিচে ডেটাসেটের নিজস্ব অনুবাদ হুবহু দেখানো হয়েছে। এতে অনুবাদকের নাম নেই, এর স্বত্ব যাচাই হয়নি, এবং কেউ এটি আরবির সঙ্গে মিলিয়ে দেখেননি; কিছু বর্ণনার অনুবাদ নেই। মূল পাঠ আরবি।
অনূদিত নববী হাদীসের বিশ্বকোষে (HadeethEnc.com) কোনো বর্ণনার হুবহু পাঠ থাকলে, তার অনুবাদ সেই বর্ণনার নিচে উৎসের নামসহ দেখানো হয়েছে। দুটিকে প্রোগ্রামের সাহায্যে, কেবল আরবি পাঠ দেখে মেলানো হয়েছে: বিশ্বকোষের হাদীসের পুরো পাঠ, তাতে উল্লেখিত সাহাবীর নামসহ, বর্ণনাটির শেষ অংশের সঙ্গে অক্ষরে অক্ষরে এক। এই মিল কেউ যাচাই করেননি, এবং সাবীলের পর্যালোচকেরা অনুবাদটি পরীক্ষা করেননি। মূল পাঠ আরবি।
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، قَالَ قَرَأْتُ عَلَى مَالِكٍ عَنْ نَافِعٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيقِ، عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ، زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " الَّذِي يَشْرَبُ فِي آنِيَةِ الْفِضَّةِ إِنَّمَا يُجَرْجِرُ فِي بَطْنِهِ نَارَ جَهَنَّمَ " .
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর স্ত্রী উম্মু সালামাহ্ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে লোক রৌপ্যের বাসনে পান করে সে যেন তার পেটের ভিতরে জাহান্নামের আগুন প্রবেশ করায়। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫২১২, ইসলামিক সেন্টার)
কুতাইবাহ, মুহাম্মাদ ইবনু রুমূহ, ‘আলী ইবনু হুজ্র সা'দী, ইবনু নুমায়র, ইবনুল মুসান্না, আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ, মুহাম্মাদ ইবনু আবূ বাকর মুকাদ্দামী ও শাইবান ইবনু ফাররূখ (রহঃ) তারা সকলেই নাফি (রহঃ) হতে মালিক ইবনু আনাস (রাযিঃ) এর সূত্রে নাফি’ (রহঃ) হতে বর্ণিত হাদীসের হুবহু বর্ণনা করেছেন। তবে উবাইদুল্লাহ (রহঃ) এর সানাদে আলী ইবনু মুসহির (রহঃ) বর্ণিত হাদীসে বাড়তি আছে, যে ব্যক্তি রৌপ্য ও স্বর্ণের পাত্রে খাবে অথবা পান করবে। ইবনু মুসহির (রহঃ) এর হাদীস ব্যতীত অন্য কারো হাদীসে স্বর্ণের পাত্রে আহার করার কথা বর্ণিত নেই। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫২১৩, ইসলামিক সেন্টার)
যায়দ ইবনু ইয়াযীদ আবূ মা'ন রুক্কাশী (রহঃ) ..... উম্মু সালামাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে লোক স্বর্ণ বা রৌপ্য দ্বারা নির্মিত বাসনে পান করে সে শুধু তার পেটে জাহান্নামের অগ্নি প্রবেশ করায়। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫২১৪, ইসলামিক সেন্টার)
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া ও আহমাদ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু ইউনুস (রহঃ) ..... মু'আবিয়াহ ইবনু সুওয়াইদ ইবনু মুকাররিন (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বারা ইবনু আযিব (রাযিঃ) এর নিকটে গমন করেছিলাম। সে সময় আমি তাকে বলতে শুনেছি যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের সাতটি জিনিসের আদেশ করেছেন এবং সাতটি জিনিস হতে বারণ করেছেন। তিনি আমাদের অসুস্থ ব্যক্তির খোজ-খবর নেয়া, জানাযায় শরীক হওয়া, হাঁচিদাতার উত্তর দেয়া, শপথ পূরণ করা কিংবা বলেছেন শপথকারীর শপথ পূরণ করা, নির্যাতিতের সাহায্য করা, দাওয়াতকারীর ডাকে (দাওয়াতে) সাড়া দেয়া এবং সালামের প্রসার করার নির্দেশ দিয়েছেন এবং তিনি আমাদেরকে সোনার আংটি পরিধান করা, রূপার বাসনে পান করা, মায়াসির (এক প্রকার তুলতুলে রেশমী কাপড়) ও কাস্সী (রেশম সংমিশ্রিত এক রকম মিসরী কাপড়) পরিধান করা এবং মিহি রেশমী কাপড়, মোটা রেশমী কাপড় ও খাটি রেশমী কাপড় ব্যবহার করতে বারণ করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫২১৫, ইসলামিক সেন্টার)
আবূ রাবী' আতাকী (রহঃ) ..... আশ'আস ইবনু সুলায়ম (রহঃ) হতে উপরোক্ত সূত্রে অবিকল রিওয়ায়াত করেছেন। শুধু শপথ বা শপথকারীর শপথ পূরণ করার কথাটি ব্যতীত। তিনি তার হাদীসে এ কথাটি উল্লেখ করেননি। এর স্থানে তিনি 'হারানো জিনিস পেয়ে বিজ্ঞাপন দেয়ার' কথা বর্ণনা করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫২১৬, ইসলামিক সেন্টার)
(…/...) আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ্ ও উসমান ইবনু আবূ শাইবাহ্ (রহঃ) ..... আশ'আস ইবনু আবূ শা'সা (রহঃ) হতে উল্লেখিত সানাদে যুহায়র (রহঃ) এর হাদীসের হুবহু রিওয়ায়াত করেছেন। তবে তিনি সন্দেহ ছাড়াই কসম পূর্ণ করার কথা উল্লেখ করেছেন। আর তিনি তার হাদীসে বাড়তি বলেছেন যে, তিনি রূপার বাসনে পান করতে বারণ করেছেন। কারণ পার্থিব জীবনে যারা এতে পান করে পরকালে এতে তারা পান করতে সক্ষম হবে না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫২১৭. ইসলামিক সেন্টার)
আবূ কুরায়ব (রহঃ) ..... আশ'আসা ইবনু আবূ শা'সা (রহঃ) হতে উপরোক্ত সানাদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তবে রাবী ইবনু ইদরীস (রহঃ) জারীর ও ইবনু মুসহির (রহঃ) এর অতিরিক্ত অংশ বর্ণনা করেননি। মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না, ইবনু বাশশার, উবাইদুল্লাহ ইবনু মু'আয, ইসহাক ইবনু ইবরাহীম ও আবদুর রহমান ইবনু বিশর (রহঃ) আশ'আসা ইবনু সুলায়ম (রহঃ) হতে তাদের সূত্রে, তাদের হাদীসের অনুরূপ অর্থবোধক হাদীস বর্ণনা করেছেন। তবে রাবী [শু'বাহ (রহঃ)] সালামের প্রসার করার কথাটি বর্ণনা করেননি। এর বিপরীতে তিনি সালামের জবাব দেয়ার কথা বলেছেন। তিনি আরো বলেছেন, আমাদেরকে সোনার আংটি অথবা সোনার রিং ব্যবহার করতে তিনি বারণ করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫২১৮, ইসলামিক সেন্টার)
ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ..... আশ'আসা ইবনু আবূ শা'সা (রহঃ) হতে উল্লেখিত সূত্রে হাদীসটি বর্ণিত আছে। তিনিও (সুফইয়ান) সালামের প্রসারের কথা এবং সন্দেহ ব্যতীতই স্বর্ণের আংটির কথা বর্ণনা করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫২১৯, ইসলামিক সেন্টার)
সাঈদ ইবনু আমর ইবনু সাহল ইবনু ইসহাক ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু আশ'আস ইবনু কায়স (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু উকায়ম (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা হুযাইফাহ (রাযিঃ) এর সাথে মাদায়িনে ছিলাম। হুযাইফাহ্ (রাযিঃ) পানি পান করতে ইচ্ছা করলে গ্রাম্য এক পণ্ডিত তার কাছে রূপার বাসনে পানি নিয়ে আসলো। তিনি তা ফেলে দিয়ে বললেন, আমি তোমাদেরকে (এটি ফেলে দেয়ার কারণ) অবগত করছি। তাকে আমি বারণ করেছিলাম, সে যেন এর মধ্যে আমাকে পানি পান না করায়। কারণ রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা সোনা ও রূপার বাসনে পান করবে না এবং মোটা রেশমী কাপড় ও মিহি রেশমী কাপড় ব্যবহার করবে না। কারণ ইহকালে এগুলো হলো কাফিরদের জন্য। আর তোমাদের জন্য এগুলো হবে পরকালে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫২২০, ইসলামিক সেন্টার)
ইবনু আবূ 'উমার (রহঃ) ..... আবূ ফারওয়াহ সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবদুল্লাহ ইবনু উকায়ম (রহঃ) কে বলতে শুনেছি যে, আমরা হুযাইফাহ্ (রাযিঃ) এর সঙ্গে মাদায়িনে ছিলাম। অতঃপর রাবী উল্লেখিত বর্ণনায় হুবহু রিওয়ায়াত করেছেন। কিন্তু তিনি তার হাদীসে 'কিয়ামত দিবসে' কথাটি উল্লেখ করেননি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫২২১, ইসলামিক সেন্টার)
(…/…) আবদুল জাব্বার ইবনু 'আলা (রহঃ) ..... ইবনু উকায়ম (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা হুযাইফাহ্ (রাযিঃ) এর সঙ্গে মাদায়িনে ছিলাম। অতঃপর রাবী উল্লেখিত বর্ণনার হুবহু উল্লেখ করেন। কিন্তু তিনি 'কিয়ামত দিবসে' কথাটি বর্ণনা করেননি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫২২২, ইসলামিক সেন্টার)
উবাইদুল্লাহ ইবনু মু’আয আম্বারী (রহঃ) ..... আবদুর রহমান ইবনু আবূ লায়লা (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি মাদায়িনে হুযাইফাহ্ (রাযিঃ) এর সঙ্গে ছিলাম। তিনি পানি পান করতে ইচ্ছা করলে জনৈক লোক রূপার বাসনে পানি নিয়ে আসলো। অতঃপর রাবী হুযাইফাহ্ (রাযিঃ) এর সানাদে ইবনু উকায়ম (রহঃ) এর হাদীসের অনুরূপ অর্থবোধক হাদীস বর্ণনা করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫২২৩, ইসলামিক সেন্টার)
আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ, ইবনুল মুসান্না, ইবনু বাশশার মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না ও 'আবদুর রহমান ইবনু বিশর (রহঃ) বাহয (রহঃ) হতে, তারা সকলে শু'বাহ (রহঃ) হতে মু'আয (রহঃ) এর হাদীস ও সানাদের হুবহু বর্ণনা করেছেন। কিন্তু শুধু মু'আয (রহঃ) ব্যতীত তাদের মাঝে অপর কেউ তার হাদীসে 'আমি হুযাইফাহর সঙ্গে উপস্থিত ছিলাম' কথাটি বর্ণনা করেননি। তারা শুধু বলেছেন, হুযাইফাহ (রাযিঃ) পানি পান করতে চাইলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫২২৪, ইসলামিক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু নুমায়র (রহঃ) ..... 'আবদুর রহমান ইবনু আবূ লায়লা (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, হুযাইফাহ্ (রাযিঃ) পানি পান করার ইচ্ছা করলে এক অগ্নিপূজারী একটি রূপার বাসনে তাকে পানি পান করতে দিল। সে সময় তিনি বললেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি যে, তোমরা পাতলা রেশমী বস্ত্র ও মোটা রেশমী বস্ত্র ব্যবহার করবে না, সোনা ও রূপার বাসনে পান করবে না এবং সোনা রূপার থালায় খাবেও না। কেননা পৃথিবীতে এগুলো তাদের (কাফিরদের) জন্য। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫২২৬, ইসলামিক সেন্টার)
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، قَالَ قَرَأْتُ عَلَى مَالِكٍ عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ عُمَرَ، بْنَ الْخَطَّابِ رَأَى حُلَّةً سِيَرَاءَ عِنْدَ بَابِ الْمَسْجِدِ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ لَوِ اشْتَرَيْتَ هَذِهِ فَلَبِسْتَهَا لِلنَّاسِ يَوْمَ الْجُمُعَةِ وَلِلْوَفْدِ إِذَا قَدِمُوا عَلَيْكَ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّمَا يَلْبَسُ هَذِهِ مَنْ لاَ خَلاَقَ لَهُ فِي الآخِرَةِ " . ثُمَّ جَاءَتْ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنْهَا حُلَلٌ فَأَعْطَى عُمَرَ مِنْهَا حُلَّةً فَقَالَ عُمَرُ يَا رَسُولَ اللَّهِ كَسَوْتَنِيهَا وَقَدْ قُلْتَ فِي حُلَّةِ عُطَارِدٍ مَا قُلْتَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنِّي لَمْ أَكْسُكَهَا لِتَلْبَسَهَا " . فَكَسَاهَا عُمَرُ أَخًا لَهُ مُشْرِكًا بِمَكَّةَ .
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... ইবনু উমার (রাযিঃ) হতে বর্ণিত যে, (একদা) উমার ইবনু খাত্তাব (রাযিঃ) মসজিদের ফটকের পাশে লাল রংয়ের "হুল্লা" (রেশম মিশ্রিত চাদর) প্রত্যক্ষ করে বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আপনি যদি এটি ক্রয় করে জুমু'আর দিন এবং যখন কোন নেতৃস্থানীয় দল আপনার কাছে আসে তখন ব্যবহার করতেন (তবে কতই না উত্তম হতো)। সে সময় রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এটি সে লোকই পরিধান করবে আখিরাতে যার সামান্য অংশও নেই। অতঃপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এ রকম কয়েকটি হুল্লা আসলে তিনি সেগুলো থেকে একটি হুল্লা উমার (রাযিঃ) কে দিলেন। উমার (রাযিঃ) বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আপনি এটি অধমকে পরতে দিলেন? অথচ আপনিই উতারিদ এর (এক ব্যক্তি) হুল্লা সম্বন্ধে কত কিছু বলেছেন? তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমি এটি তোমাকে ব্যবহার করতে দেইনি। অতঃপর উমার (রাযিঃ) সেটি তার মাক্কার এক মুশরিক ভাইকে পরিধান করতে দিলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫২২৭, ইসলামিক সেন্টার)
শাইবান ইবনু ফাররূখ (রহঃ) ..... ইবনু উমার (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, (একবার) উমার (রাযিঃ) উতারিদ তামীমীকে বাজারে লাল রং-এর হুল্লা বিক্রি করতে লক্ষ্য করলেন। ব্যক্তিটি রাজা বাদশাহদের কাছে যেত এবং তাদের নিকট হতে প্রচুর অর্থ উপার্জন করতো। উমার (রাযিঃ) বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আমি উতারিদকে বাজারে লাল রং-এর হুল্লা বেচতে দেখলাম। যদি আপনি এটি ক্রয় করতেন আর আরবের কোন নেতৃস্থানীয় দল আপনার কাছে আগমনকালে পরতেন। আমার ধারণা হয় তিনি আরো বলেছেন, এবং জুমু’আর দিবসেও পরতেন, তবে কতই না ভাল হতো! সে সময় রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেনঃ রেশমী কাপড় সে ব্যক্তিই পৃথিবীতে পরবে, আখিরাতে যার কোন অংশ নেই। এর একদিন পর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট কিছু লাল রং-এর হুল্লা আসলে তিনি তার একটি উমার (রাযিঃ) এর নিকট, একটি উসামাহ ইবনু যায়দ (রাযিঃ) এর নিকট প্রেরণ করলেন। আলী ইবনু আবূ তালিব (রাযিঃ)-কেও তিনি একটি হুল্লা দিয়ে বললেন, এটি ছিড়ে ওড়না তৈরি করে তোমরা মহিলাদের মধ্যে বিতরণ করে দাও। ইবনু উমার (রাযিঃ) বলেন, অতঃপর উমার (রাযিঃ) তার হুল্লাটি নিয়ে এসে বললেন, হে আল্লাহর রসূল! এটি আপনি আমার নিকট পাঠিয়ে দিলেন অথচ গতকাল উতারিদ-এর হুল্লা সম্বন্ধে আপনি কত কিছু বলেছিলেন? তিনি বললেন, ব্যবহার করার জন্য সেটি আমি তোমার নিকটে প্রেরণ করিনি বরং আমি সেটি তোমার নিকটে পাঠিয়েছি যেন তুমি এটি বিক্রি করে লাভবান হতে পারো। অপরদিকে উসামাহ (রাযিঃ) বিকাল বেলা তার হুল্লাটি পরিধান করে বের হলে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার দিকে এমনভাবে দৃষ্টি নিক্ষেপ করলেন যে, তিনি অনুধাবন করলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার এহেন কর্মকে পছন্দ করেননি। সে সময় তিনি বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আপনি এভাবে আমার দিকে তাকিয়ে আছেন কেন? আপনিই তো এটি আমার কাছে প্রেরণ করেছেন। তিনি বললেন, আমি তোমার নিকট এজন্য প্রেরণ করিনি যে, তুমি এটি ব্যবহার করবে বরং এজন্য এটি পাঠিয়েছি যে, তুমি এটি ছিড়ে ওড়না তৈরি করে তোমাদের মহিলাদেরকে দিবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫২২৯, ইসলামিক সেন্টার)
وَحَدَّثَنِي أَبُو الطَّاهِرِ، وَحَرْمَلَةُ بْنُ يَحْيَى، - وَاللَّفْظُ لِحَرْمَلَةَ - قَالاَ أَخْبَرَنَا ابْنُ، وَهْبٍ أَخْبَرَنِي يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، حَدَّثَنِي سَالِمُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ، قَالَ وَجَدَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ حُلَّةً مِنْ إِسْتَبْرَقٍ تُبَاعُ بِالسُّوقِ فَأَخَذَهَا فَأَتَى بِهَا رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ ابْتَعْ هَذِهِ فَتَجَمَّلْ بِهَا لِلْعِيدِ وَلِلْوَفْدِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّمَا هَذِهِ لِبَاسُ مَنْ لاَ خَلاَقَ لَهُ " . قَالَ فَلَبِثَ عُمَرُ مَا شَاءَ اللَّهُ . ثُمَّ أَرْسَلَ إِلَيْهِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِجُبَّةِ دِيبَاجٍ فَأَقْبَلَ بِهَا عُمَرُ حَتَّى أَتَى بِهَا رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ قُلْتَ " إِنَّمَا هَذِهِ لِبَاسُ مَنْ لاَ خَلاَقَ لَهُ " . أَوْ " إِنَّمَا يَلْبَسُ هَذِهِ مَنْ لاَ خَلاَقَ لَهُ " . ثُمَّ أَرْسَلْتَ إِلَىَّ بِهَذِهِ فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " تَبِيعُهَا وَتُصِيبُ بِهَا حَاجَتَكَ " .
আবূ তাহির ও হারমালাহ ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... সালিম ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) হতে বর্ণিত যে, আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাযিঃ) বলেছেন, উমার ইবনু খাত্তাব (রাযিঃ) একদিন বাজারে মোটা রেশমের প্রস্তুত একটি হুল্লা বিক্রি হতে দেখে তা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে নিয়ে এসে বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আপনি এটি ক্রয় করুন। তাহলে ঈদের দিন ও প্রতিনিধি দল আসলে এটির মাধ্যমে আপনি সুসজ্জিত হতে পারবেন। সে সময় রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এটি কেবল সে লোকেরই বস্ত্র, যার (পরকালে) কোন অংশ নেই। ইবনু 'উমার (রাযিঃ) বলেন, অতঃপর উমার (রাযিঃ) আল্লাহর ইচ্ছানুযায়ী কিছুক্ষণ পার করলেন। অতঃপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার নিকট একটি খাটি রেশমের আলখাল্লা প্রেরণ করলেন। উমার (রাযিঃ) তা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট নিয়ে এসে বললেন, হে আল্লাহর রসূল! এটি ঐ লোকেরই বস্ত্র (আখিরাতে) যার কোন অংশ নেই, পুনরায় আপনি তা আমার নিকট প্রেরণ করলেন, সে সময় রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেনঃ (আমি এজন্য পাঠিয়েছি) যেন তুমি এটি বিক্রি করে আপন প্রয়োজন সারতে পারো। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫২৩০, ইসলামিক সেন্টার)
(…/...) যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... ইবনু উমার (রাযিঃ) হতে বর্ণিত যে, উমার (রাযিঃ) উতারিদ পরিবারের এক লোকের কাছে একটি রেশমী কাবা’ (বড় জামা) দেখতে পেয়ে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বললেন, আপনি যদি এটি ক্রয় করতেন। সে সময় তিনি বললেন, এটি শুধু সে লোকই পরিধান করবে (আখিরাতে) যার কোন অংশ নেই। অতঃপর লাল রং-এর একটি কুর্তা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে উপঢৌকন প্রেরণ করা হলে তিনি তা আমার নিকট প্রেরণ করলেন। তিনি [উমার (রাযিঃ)] বলেন, আমি বললাম, আপনি এটি আমার নিকট পাঠালেন কেন? অথচ এ ধরনের বস্ত্র সম্পর্কে আপনার কথা আমার কর্ণপাত হয়েছে। তিনি বললেনঃ আমি কেবল এজন্য এটি তোমার নিকট পাঠিয়েছি যাতে তুমি এর মাধ্যমে (বিক্রি করে) উপকার হাসিল করতে পারো। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫২৩২, ইসলামিক সেন্টার)
(…/...) ইবনু নুমায়র (রহঃ) ..... ইবনু উমার (রাযিঃ) হতে বর্ণিত যে, উমার (রাযিঃ) উতারিদ পরিবারের এক লোকের নিকট (একটি কাবা) লক্ষ্য করলেন। অতঃপর রাবী ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ (রহঃ) এর হাদীসের অবিকল বর্ণনা করেন। কিন্তু তিনি বর্ণনা করেছেন, আমি এটি তোমার নিকট পাঠিয়েছি যাতে তুমি এর মাধ্যমে উপকার লাভ করতে পারো। পরিধান করার জন্য এটি তোমার নিকট পাঠাইনি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫২৩৩, ইসলামিক সেন্টার)
(…/...) ইবনুল মুসান্না (রহঃ) ..... ইয়াহইয়া ইবনু আবূ ইসহাক (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, সালিম ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) আমাকে বললেন, ইসতাবরাক কি? আমি বললাম, মোটা ও খসখসে রেশমী বস্ত্র। তিনি বললেনঃ আমি আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাযিঃ) কে বলতে শুনেছি, উমার (রাযিঃ) জনৈক লোকের নিকট ইস্তাব্রাকের প্রস্তুত হুল্লা লক্ষ্য করে সেটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে নিয়ে এলেন। অতঃপর রাবী ইয়াহইয়া (রহঃ) উপরোল্লিখিত রাবীগণের অবিকল বর্ণনা করেন। কিন্তু তিনি বলেছেন, তারপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমি এটি তোমার নিকট শুধু এজন্য পাঠিয়েছি যে, তুমি এর মাধ্যমে কিছু সম্পদ জোগাড় করতে পারবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫২৩৪, ইসলামিক সেন্টার)
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... আসমা বিনতু আবূ বাকর (রাযিঃ) এর মুক্ত দাস আবদুল্লাহ (রহঃ) [তিনি আতা (রহঃ)-এর বাচ্চাদের মামাও হতেন] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আসমা (রাযিঃ) আমাকে আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাযিঃ) এর কাছে এ বলে প্রেরণ করলেন যে, আমি অবগত হয়েছি তুমি নাকি তিনটি বস্তুকে নিষিদ্ধ মনে করো। কাপড়ে (রেশমের) নকশা, গাঢ় লাল রং-এর মীসারাহ (এক জাতীয় রেশমী বস্ত্র) ও রজবের গোটা মাস সাওম পালন করা। সে সময় আবদুল্লাহ (রাযিঃ) আমায় বললেন, আপনি যে রজব মাসের সাওম হারামের কথা বললেন এটা ঐ লোকের ক্ষেত্রে কিভাবে সম্ভব যিনি সবসময় সাওম পালন করেন? আর আপনি যে বস্ত্রের (রেশমের) ডিজাইনের কথা বললেন, এ সম্পর্কে আমি 'উমার ইবনু খাত্তাব (রাযিঃ) কে বলতে শুনেছি যে, তিনি বলেছেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, রেশমী কাপড় কেবল সে ব্যক্তিই পরবে (আখিরাতে) যার কোন অংশ নেই। তাই আমার সন্দেহ হলো নকশাও এর অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। আর গাঢ় লাল রং-এর মীসারাহ সে তো আবদুল্লাহরই মীসারাহ। লক্ষ্য করলাম, আসলেই সেটিই গাঢ় লাল রং-এর। অতঃপর আমি আসমা (রাযিঃ) এর কাছে ফিরে গেলাম এবং তাকে এ ব্যাপারে সংবাদ দিলাম। তখন তিনি বললেন, এটি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জুব্বা। এ বলে তিনি কিসরাওয়ানী (ইরানী সম্রাট কিসরার প্রতি সম্পৰ্কীয়) সবুজ রং-এর একটি জুব্বা বের করলেন যার পকেটটি ছিল খাঁটি রেশমের প্রস্তুত এবং এর (হাতার) ছিদ্রদ্বয় ছিল খাটি রেশমের টুকরা দিয়ে ঢাকা। তিনি বললেন, এটি আয়িশাহর মৃত্যু পর্যন্ত তার নিকটেই ছিল। তার ওফাতের পর আমি এটি নিয়েছি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এটি ব্যবহার করতেন। তাই আমরা অসুস্থদের আরোগ্য লাভের জন্য এটি ধৌত করি এবং তাদেরকে সে পানি পান করিয়ে থাকি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫২৩৫, ইসলামিক সেন্টার)
আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ্ (রহঃ) ..... খলীফা ইবনু কা'ব আবূ যুবয়্যান (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবদুল্লাহ ইবনু যুবায়রকে খুতবায় এ কথা বলতে শুনেছি যে, হুশিয়ার! তোমরা তোমাদের মহিলাদেরকে রেশমী বস্তু পরাবে না। কেননা আমি উমার ইবনুল খাত্তাব (রাযিঃ) কে বলতে শুনেছি যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা রেশমী কাপড় পরিধান করো না। কারণ পৃথিবীতে যে লোক তা পরিধান করবে, আখিরাতে সে তা পরিধান করতে পারবে না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫২৩৬, ইসলামিক সেন্টার)
আহমাদ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু ইউনুস (রহঃ) ..... আবূ উসমান (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা আজারবাইজান এ ছিলাম। এ সময় উমার (রাযিঃ) আমাদের (দলনেতার) কাছে চিঠি লিখলেন, হে উতবাহ ইবনু ফারকাদ! এ ধন-সম্পদ তোমার কষ্টার্জিত নয়, তোমার বাবা-মায়েরও কষ্টার্জিত নয়। তাই তুমি যেরূপে নিজ বাড়িতে পেটপুরে ভক্ষণ করো, তেমনিভাবে মুসলিমদের বাড়িতে পৌছে দিয়ে তাদেরকেও পেটপুরে ভক্ষণ করাও। আর সাবধান, মুশরিকদের ভোগ-বিলাস বেশভূষণ এবং রেশমী কাপড় পরিধান করা থেকে বিরত থাকবে। কেননা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রেশমী কাপড় পরতে বারণ করেছেন। তিনি বলেছেন, তবে এ পরিমাণ বৈধ রয়েছে। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার শাহাদাত ও মধ্যমা আঙ্গুলদ্বয় একসাথে করে আমাদের সম্মুখে তুলে ধরলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫২৩৭, ইসলামিক সেন্টার)
حَدَّثَنِي زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا جَرِيرُ بْنُ عَبْدُ الْحَمِيدِ، ح وَحَدَّثَنَا ابْنُ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ غِيَاثٍ، كِلاَهُمَا عَنْ عَاصِمٍ، بِهَذَا الإِسْنَادِ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي الْحَرِيرِ بِمِثْلِهِ .
যুহায়র ও ইবনু নুমায়র (রহঃ) ..... আসিম (রহঃ) হতে উপরোল্লিখিত সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে রেশমী বস্ত্র সম্পর্কে হুবহু বর্ণনা করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫২৩৮, ইসলামিক সেন্টার)
(…/...) ইবনু আবূ শাইবাহ (রহঃ) ও ইসহাক ইবনু ইবরাহীম হানযালী (রহঃ) ..... আবূ উসমান (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা উতবাহ ইবনু ফারকাদ (রহঃ) এর সঙ্গে ছিলাম। তখন আমাদের নিকট উমার (রাযিঃ) এর চিঠি আসলো। উক্ত চিঠিতে ছিল যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ রেশমী বস্ত্র শুধু সে ব্যক্তিই পরবে, আখিরাতে যার কোন অংশ নেই। তবে এ পরিমাণ বৈধ রয়েছে। আবূ উসমান (রহঃ) তার বৃদ্ধাঙ্গুল সংলগ্ন দুটি আঙ্গুল দিয়ে ইঙ্গিত করলেন। আমি সে দুটোতে তায়ালিসার বোতাম লক্ষ্য করলাম। এমন কি আমি তায়ালিসাহও (সবুজ রং এর চাদর) দেখলাম। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫২৩৯, ইসলামিক সেন্টার)
(…) মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল আ'লা (রহঃ) ..... আবূ উসমান (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা উতবাহ ইবনু ফারকাদ (রহঃ) এর সঙ্গে ছিলাম। রাবী পরের অংশ জারীরের হাদীসের হুবহু বর্ণনা করেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫২৪০, ইসলামিক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না ও ইবনু বাশশার (রহঃ) ..... আবূ উসমান (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা উতবাহ ইবনু ফারকাদ (রহঃ) এর সঙ্গে আজারবাইজান কিংবা সিরিয়ায় ছিলাম। তখন আমাদের নিকট উমার (রাযিঃ) এর কাছ থেকে এ মর্মে একটি চিঠি এলো যে, আম্মা বা'দ, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রেশমী বস্ত্র পরিধান করতে বারণ করেছেন, তবে দু' আঙ্গুল পরিমাণ হলে বৈধ হবে। আবূ উসমান (রহঃ) বলেন, আমাদের বুঝতে দেরী হলো না যে, তিনি (এ দ্বারা) নকশী ও নকশার দিকে ইশারা করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫২৪১, ইসলামিক সেন্টার)
(…/...) আবূ গাসসান মিসমা’ঈ ও মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না (রহঃ) ...... কাতাদাহ (রহঃ) হতে উপরোক্ত সূত্রে অবিকল বর্ণিত আছে। কিন্তু তিনি আবূ উসমান (রহঃ) এর কথাটি বর্ণনা করেননি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫২৪২, ইসলামিক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু নুমায়র, ইসহাক ইবনু ইবরাহীম হান্যালী, ইয়াহইয়া ইবনু হাবীব ও হাজ্জাজ ইবনু শা'ইর (রহঃ) ..... জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খাটি রেশমের প্রস্তুতকৃত একটি কাবা গায়ে দিলেন, যা তাকে হাদিয়া (উপঢৌকন) দেয়া হয়েছিল। তারপর তিনি সেটি দ্রুত খুলে ফেললেন। অতঃপর সেটি উমার ইবনুল খাত্তাবের কাছে প্রেরণ করলেন। তাকে বলা হলো, হে আল্লাহর রসূল! আপনি দ্রুত এটি খুলে ফেললেন যে? তিনি বললেন জিবরীল (আঃ) আমাকে এটি পরিধান করতে বারণ করেছেন। এরপর উমার (রাযিঃ) ক্ৰন্দনরত অবস্থায় তার নিকটে এসে বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আপনি যে জিনিস পছন্দ করলেন না তা আমাকে দিলেন, আমার উপায় কি? সে সময় তিনি বললেন, আমি তোমাকে এটি পরিধান করতে দেইনি। আমি শুধু তোমাকে বিক্রয় করার জন্য দিয়েছি। পরে উমর (রাযিঃ) সেটি দু'হাজার দিরহামে বেচে দিলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫২৪৫, ইসলামিক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না (রহঃ) ..... আলী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে একটি লাল রংয়ের হুল্লা উপঢৌকন দেয়া হলো। অতঃপর তিনি তা আমার নিকট প্রেরণ করলেন। আমি সেটি পরিধান করলে তার মুখমণ্ডলে ক্রোধ দর্শন করলাম। তিনি বললেন, আমি এটি পরিধান করার জন্য তোমার নিকট পাঠাইনি। পাঠিয়েছি শুধু এজন্য যে, তুমি এটি কেটে ওড়না হিসেবে (তোমার) স্ত্রীদের মধ্যে ভাগ করে দেবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫২৪৬, ইসলামিক সেন্টার)
(…/...) উবাইদুল্লাহ ইবনু মু'আয ও মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার (রহঃ) ..... আবূ ‘আওন (রহঃ) হতে উপরোক্ত সূত্রে হাদীসটি বর্ণিত রয়েছে। কিন্তু মু'আয (রহঃ) এর হাদীসে আছে, তারপর তার নির্দেশে আমি তা আমার স্ত্রীদের মধ্যে বণ্টন করে দিলাম। আর মুহাম্মাদ ইবনু জাফার (রহঃ) এর হাদীসে আছে, পরে আমি আমার মহিলাদের মধ্যে সেটি বণ্টন করে দিলাম’। তিনি রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নির্দেশ দেয়ার কথা বর্ণনা করেননি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫২৪৭, ইসলামিক সেন্টার)
(…) আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ আবূ কুরায়ব ও যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... আলী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত যে, দুমাহ নিবাসী উকাইদির নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে একটি রেশম বস্ত্র উপহার দিলে তিনি তা আলী (রাযিঃ) কে দিয়ে বললেন, তুমি এটি কেটে ফাতিমাদের মধ্যে বণ্টন করে দাও। আবূ বাকর ও আবূ কুরায়ব (রহঃ) এর বর্ণনায় 'ফাতিমাদের' স্থলে 'মহিলাদের' কথা উল্লেখ করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫২৪৮, ইসলামিক সেন্টার)
আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ্ (রহঃ) .....আলী ইবনু আবূ তালিব (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে একটি লাল রংয়ের হুল্লা দিলেন। আমি তা পরিধান করে বের হলে তার চেহারা ভীষণ রাগাম্বিত দেখলাম। তিনি বলেন, পরে আমি তা ছিড়ে আমার স্ত্রীদের মধ্যে বণ্টন করে দিলাম। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫২৪৯, ইসলামিক সেন্টার)
শাইবান ইবনু ফাররূখ ও আবূ কামিল (রহঃ) ..... আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উমার (রাযিঃ) এর কাছে একটি রেশমী আলখাল্লা প্রেরণ করলে উমার (রাযিঃ) বললেন, আপনি এটি আমার নিকটে প্রেরণ করলেন, অথচ আপনি এটি সম্পর্কে কত কিছু না বলেছেন? তিনি বললেনঃ আমি সেটা এজন্য পাঠাইনি যে, তুমি তা ব্যবহার করবে। আমি শুধু এজন্য প্রেরণ করেছি যে, তুমি এর ক্রয়কৃত অর্থ দিয়ে লাভবান হবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫২৫০, ইসলামিক সেন্টার)
আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ্ (রহঃ) ও যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... আনাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে লোক ইহকালে রেশম জাতীয় বস্ত্র পরে, আখিরাতে সে তা পরিধান করতে পারবে না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫২৫১, ইসলামিক সেন্টার)
وَحَدَّثَنِي إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُوسَى الرَّازِيُّ، أَخْبَرَنَا شُعَيْبُ بْنُ إِسْحَاقَ الدِّمَشْقِيُّ، عَنِ الأَوْزَاعِيِّ، حَدَّثَنِي شَدَّادٌ أَبُو عَمَّارٍ، حَدَّثَنِي أَبُو أُمَامَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنْ لَبِسَ الْحَرِيرَ فِي الدُّنْيَا لَمْ يَلْبَسْهُ فِي الآخِرَةِ " .
ইবরাহীম ইবনু মূসা আর রাযী (রহঃ) …. আবূ উমামাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে লোক পৃথিবীতে রেশম জাতীয় বস্ত্র পরে আখিরাতে সে তা পরিধান করতে পারবে না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫২৫২, ইসলামিক সেন্টার)
কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... উকবাহ ইবনু আমির (রাযিঃ) হতে বর্ণিত যে, তিনি বলেছেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে রেশমের তৈরি একটি শেরওয়ানী উপহার দেয়া হলে তিনি তা পরলেন। অতঃপর তাতেই তিনি সালাত (সালাত/নামাজ/নামায) আদায় করলেন। যখন সালাত (সালাত/নামাজ/নামায) শেষ করলেন, তখন সেটি খুব তাড়াতাড়ি খুলে ফেললেন। তিনি যেন ওটা অপছন্দ করেছেন। অতঃপর তিনি বললেন, মুত্তাকীদের জন্য এটা ব্যবহার করা অনুচিত। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫২৫৩, ইসলামিক সেন্টার)
আবূ কুরায়ব মুহাম্মাদ ইবনু 'আলা (রহঃ) ..... আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আব্দুর রহমান ইবনু আওফ ও যুবায়র ইবনু আওওয়াম (রাযিঃ) কে তাদের চর্ম বা এলাৰ্জি জাতীয় রোগ বা অন্য কোন রোগের দরুন সফরে রেশমী পোশাক পরিধানের অনুমতি দিয়েছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫২৫৫, ইসলামিক সেন্টার)
وَحَدَّثَنَاهُ أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ رَخَّصَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم - أَوْ رُخِّصَ - لِلزُّبَيْرِ بْنِ الْعَوَّامِ وَعَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ فِي لُبْسِ الْحَرِيرِ لِحِكَّةٍ كَانَتْ بِهِمَا .
আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ্ (রহঃ) ..... আনাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুবায়র ইবনু আওওয়াম ও আবদুর রহমান ইবনু আওফ (রাযিঃ) কে তাদের চর্ম (এলাৰ্জি) রোগের দরুন রেশমী বস্ত্র ব্যবহারের সুযোগ দিয়েছেন। কিংবা তিনি বলেন, তাদের অনুমতি দেয়া হয়েছিল। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫২৫৭, ইসলামিক সেন্টার)
وَحَدَّثَنِي زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا عَفَّانُ، حَدَّثَنَا هَمَّامٌ، حَدَّثَنَا قَتَادَةُ، أَنَّ أَنَسًا، أَخْبَرَهُ أَنَّ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ عَوْفٍ وَالزُّبَيْرَ بْنَ الْعَوَّامِ شَكَوَا إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْقَمْلَ فَرَخَّصَ لَهُمَا فِي قُمُصِ الْحَرِيرِ فِي غَزَاةٍ لَهُمَا .
যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... আনাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত যে, আবদুর রহমান ইবনু আওফ ও যুবায়র ইবনু আওওয়াম (রাযিঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে (শরীরে) উকুনের অভিযোগ করলে তিনি তাদেরকে এক যুদ্ধে রেশমী কামিস (জামা) পরার অনুমতি দিয়েছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫২৫৯, ইসলামিক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না (রহঃ) ..... 'আবদুল্লাহ ইবনু আমর ইবনুল ‘আস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার পরিধানে হলুদ রংয়ের দুটি বস্ত্র দেখে বললেন, এগুলো কাফিরদের বস্ত্র। অতএব তুমি এসব পরবে না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫২৬০, ইসলামিক সেন্টার)
যুহায়র ইবনু হারব ও আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ (রহঃ) ইয়াহইয়া ইবনু আবূ কাসীর (রহঃ) হতে উপরোল্লিখিত সূত্রে হাদীসটি বর্ণনা করেন। কিন্তু তারা উভয়ে খালিদ ইবনু মা'দান (রহঃ) এর থেকে বর্ণনা করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫২৬১, ইসলামিক সেন্টার)
এই বর্ণনার কোনো মান উৎসে উল্লেখ নেই।
১৮৪টির মধ্যে ৫০
১৮৪টি বর্ণনা · নম্বর ৫৩৮৫–৫৫৮৫
আরবি পাঠ, নম্বর, অধ্যায়ের নাম ও মান — সবই একটি উন্মুক্ত ডেটাসেটে (hadith-api) যেমন আছে হুবহু তেমন দেখানো হয়েছে। সাবীল এখনও এর নির্ভুলতা বা স্বত্ব যাচাই করেনি, আর আলেমদের পর্যালোচনাও শুরু হয়নি। ততদিন কোনো বর্ণনার ওপর নির্ভর করার আগে ছাপা সংস্করণের সাথে মিলিয়ে নিন।