প্রতিটি বর্ণনার নিচে ডেটাসেটের নিজস্ব অনুবাদ হুবহু দেখানো হয়েছে। এতে অনুবাদকের নাম নেই, এর স্বত্ব যাচাই হয়নি, এবং কেউ এটি আরবির সঙ্গে মিলিয়ে দেখেননি; কিছু বর্ণনার অনুবাদ নেই। মূল পাঠ আরবি।
অনূদিত নববী হাদীসের বিশ্বকোষে (HadeethEnc.com) কোনো বর্ণনার হুবহু পাঠ থাকলে, তার অনুবাদ সেই বর্ণনার নিচে উৎসের নামসহ দেখানো হয়েছে। দুটিকে প্রোগ্রামের সাহায্যে, কেবল আরবি পাঠ দেখে মেলানো হয়েছে: বিশ্বকোষের হাদীসের পুরো পাঠ, তাতে উল্লেখিত সাহাবীর নামসহ, বর্ণনাটির শেষ অংশের সঙ্গে অক্ষরে অক্ষরে এক। এই মিল কেউ যাচাই করেননি, এবং সাবীলের পর্যালোচকেরা অনুবাদটি পরীক্ষা করেননি। মূল পাঠ আরবি।
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া তামীমী (রহঃ) ... আলী ইবনু আবূ তালিব (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে বাদর দিবসে আমি গনীমাত (যুদ্ধলব্ধ মাল) হতে একটি বয়স্ক উট পেয়েছিলাম। আর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে আর একটি বয়স্ক উট দিয়েছিলেন। একদিন আমি জনৈক আনসারী ব্যক্তির দরজার সামনে সে দুটি বেঁধে রাখলাম। আমার আকাঙ্ক্ষা ছিল, সে দুটির পিঠে করে কিছু ইযখির ঘাস বয়ে আনবো, আর তা বিক্রয় করে ফাতিমাহ (রাযিঃ) এর ওয়ালীমায় সাহায্য নিব। আমার সঙ্গে ছিল বানু কাইনুকা গোত্রের জনৈক স্বর্ণকার। হামযাহ ইবনু আবদুল মুত্তালিব (রাযিঃ) সে বাড়িতেই মদ পান করছিল। তার সাথে ছিল একজন গায়িকা। সে (তার গানের মধ্যে) বললঃأَلاَ يَا حَمْزَ لِلشُّرُفِ অর্থাৎ- হে হামযাহ! হৃষ্টপুষ্ট উট দু'টির কাছে যাও এবং তোমার মেহমানদের জন্য তা যাবাহ করো। তারপর হামযাহ ও দুটির নিকট ছুটে গেল। পরে দুটিরই কুঁজ* কেটে ফেললো এবং তাদের পেট ফেড়ে দিল। তারপর সে এ দু'টির কলিজা বের করে নিল। আমি ইবনু শিহাবকে বললাম, তিনি কুঁজ দুটি কি করলেন? তিনি বললেন, কুঁজ দুটি কেটে সাথে নিয়ে চললেন। ইবনু শিহাব বলেন, আলী (রাযিঃ) বলেছেন, এ মর্মান্তিক দৃশ্য দেখে আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে গেলাম। তার নিকট ছিল যায়দ ইবনু হারিসাহ (রাযিঃ)। এরপর আমি তাকে পুরো ঘটনা জানালাম। তিনি যায়দ (রাযিঃ) কে সঙ্গে নিয়ে বের হলেন। আমিও তার সাথে চললাম। হামযাহ (রাযিঃ) এর নিকট গিয়ে তিনি তাকে কিছু কঠিন কথা বললেন। হামযাহ (রাযিঃ) চোখ তুলে বলল, তোমরা তো আমার বাবার ক্রীতদাস ছাড়া কিছু নও। এরপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পিছন দিকে ফিরে আসলেন। এমনকি তিনি তাদের নিকট থেকে বেরিয়ে চলে এলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬ষ্ঠ খণ্ড-৪৯৬৪, ইসলামিক সেন্টার ৪৯৭১) [বিঃদ্রঃ ৪৯৬৪ নম্বরটি ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ' ভুলক্রমে দুইবার দিয়েছে।]
وَحَدَّثَنِي أَبُو بَكْرِ بْنُ إِسْحَاقَ، أَخْبَرَنَا سَعِيدُ بْنُ كَثِيرِ بْنِ عُفَيْرٍ أَبُو عُثْمَانَ الْمِصْرِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، حَدَّثَنِي يُونُسُ بْنُ يَزِيدَ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، أَخْبَرَنِي عَلِيُّ بْنُ حُسَيْنِ، بْنِ عَلِيٍّ أَنَّ حُسَيْنَ بْنَ عَلِيٍّ، أَخْبَرَهُ أَنَّ عَلِيًّا قَالَ كَانَتْ لِي شَارِفٌ مِنْ نَصِيبِي مِنَ الْمَغْنَمِ يَوْمَ بَدْرٍ وَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَعْطَانِي شَارِفًا مِنَ الْخُمُسِ يَوْمَئِذٍ فَلَمَّا أَرَدْتُ أَنْ أَبْتَنِيَ بِفَاطِمَةَ بِنْتِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَاعَدْتُ رَجُلاً صَوَّاغًا مِنْ بَنِي قَيْنُقَاعَ يَرْتَحِلُ مَعِيَ فَنَأْتِي بِإِذْخِرٍ أَرَدْتُ أَنْ أَبِيعَهُ مِنَ الصَّوَّاغِينَ فَأَسْتَعِينَ بِهِ فِي وَلِيمَةِ عُرْسِي فَبَيْنَا أَنَا أَجْمَعُ لِشَارِفَىَّ مَتَاعًا مِنَ الأَقْتَابِ وَالْغَرَائِرِ وَالْحِبَالِ وَشَارِفَاىَ مُنَاخَانِ إِلَى جَنْبِ حُجْرَةِ رَجُلٍ مِنَ الأَنْصَارِ وَجَمَعْتُ حِينَ جَمَعْتُ مَا جَمَعْتُ فَإِذَا شَارِفَاىَ قَدِ اجْتُبَّتْ أَسْنِمَتُهُمَا وَبُقِرَتْ خَوَاصِرُهُمَا وَأُخِذَ مِنْ أَكْبَادِهِمَا فَلَمْ أَمْلِكْ عَيْنَىَّ حِينَ رَأَيْتُ ذَلِكَ الْمَنْظَرَ مِنْهُمَا قُلْتُ مَنْ فَعَلَ هَذَا قَالُوا فَعَلَهُ حَمْزَةُ بْنُ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ وَهُوَ فِي هَذَا الْبَيْتِ فِي شَرْبٍ مِنَ الأَنْصَارِ غَنَّتْهُ قَيْنَةٌ وَأَصْحَابَهُ فَقَالَتْ فِي غِنَائِهَا أَلاَ يَا حَمْزَ لِلشُّرُفِ النِّوَاءِ فَقَامَ حَمْزَةُ بِالسَّيْفِ فَاجْتَبَّ أَسْنِمَتَهُمَا وَبَقَرَ خَوَاصِرَهُمَا فَأَخَذَ مِنْ أَكْبَادِهِمَا قَالَ عَلِيٌّ فَانْطَلَقْتُ حَتَّى أَدْخُلَ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَعِنْدَهُ زَيْدُ بْنُ حَارِثَةَ - قَالَ - فَعَرَفَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي وَجْهِيَ الَّذِي لَقِيتُ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَا لَكَ " قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ وَاللَّهِ مَا رَأَيْتُ كَالْيَوْمِ قَطُّ عَدَا حَمْزَةُ عَلَى نَاقَتَىَّ فَاجْتَبَّ أَسْنِمَتَهُمَا وَبَقَرَ خَوَاصِرَهُمَا وَهَا هُوَ ذَا فِي بَيْتٍ مَعَهُ شَرْبٌ - قَالَ - فَدَعَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِرِدَائِهِ فَارْتَدَاهُ ثُمَّ انْطَلَقَ يَمْشِي وَاتَّبَعْتُهُ أَنَا وَزَيْدُ بْنُ حَارِثَةَ حَتَّى جَاءَ الْبَابَ الَّذِي فِيهِ حَمْزَةُ فَاسْتَأْذَنَ فَأَذِنُوا لَهُ فَإِذَا هُمْ شَرْبٌ فَطَفِقَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَلُومُ حَمْزَةَ فِيمَا فَعَلَ فَإِذَا حَمْزَةُ مُحْمَرَّةٌ عَيْنَاهُ فَنَظَرَ حَمْزَةُ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ صَعَّدَ النَّظَرَ إِلَى رُكْبَتَيْهِ ثُمَّ صَعَّدَ النَّظَرَ فَنَظَرَ إِلَى سُرَّتِهِ ثُمَّ صَعَّدَ النَّظَرَ فَنَظَرَ إِلَى وَجْهِهِ فَقَالَ حَمْزَةُ وَهَلْ أَنْتُمْ إِلاَّ عَبِيدٌ لأَبِي فَعَرَفَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ ثَمِلٌ فَنَكَصَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى عَقِبَيْهِ الْقَهْقَرَى وَخَرَجَ وَخَرَجْنَا مَعَهُ .
আবূ বাকর ইবনু ইসহাক (রহঃ) ..... আলী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, বদরের দিন আমি গনীমাত থেকে আমার ভাগে একটি বয়স্ক উট পেয়েছিলাম। আর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেদিন এক পঞ্চমাংশ থেকে আমাকে আর একটি উট দিয়েছিলেন। আমি যখন রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তনয়া ফাতিমাহ এর সাথে বাসর যাপনের আকাজক্ষা করলাম, তখন বানু কাইনুকা গোত্রের জনৈক স্বর্ণকার ও আমি উভয়ে অঙ্গীকারাবদ্ধ হলাম। সে আমার সাথে যাবে আর আমরা (দু’জনে) ইযখির (ঘাস) নিয়ে আসবো। আমি ইচ্ছা করলাম, এগুলো স্বর্ণকারদের কাছে বিক্রি করে তা দিয়ে আমার বিয়ের ওয়ালীমার বিষয়ে সাহায্য নিব। আমি উট দু'টির জন্য বসার গদি, থলে এবং রশি ইত্যাদি জিনিস সংগ্রহ করছিলাম। আর আমার উট দুটি একজন আনসার লোকের গৃহের পাশে বাধা ছিল। আমিও যা সংগ্রহ করার সংগ্রহ করলাম। এমন সময় অকস্মাৎ লক্ষ্য করি সে দু'টি (উটের) কুঁজ কেটে ফেলা হয়েছে, পেটের দিক কেটে ফেলা হয়েছে এবং উভয়ের কলিজা বের করে নেয়া হয়েছে। আমার দু’ নয়ন এ দৃশ্য সহ্য করতে পারল না। আমি বলে উঠলাম, এ কাজ কোন্ লোক করল? লোকেরা, বলল হামযাহ্ ইবনু আবদুল মুত্তালিব। সে এ বাড়িতে আনসারদের একদল মদ্যপায়ীকারীদের মাঝে আছে। তাকে ও তার সঙ্গীদেরকে গান শুনাচ্ছিল এক গায়িকা। সে তার গানে বললঃأَلاَ يَا حَمْزَ لِلشُّرُفِ النِّوَاءِ অর্থাৎ- হে হামযাহ! তুমি হৃষ্টপুষ্ট উট দুটির সম্মুখে যাবে কি? পরে হামযাহ্ তরবারি নিয়ে উঠলো, উট দু'টির কুঁজ কেটে ফেললো, পশ্চাৎদিক চিড়ে ফেললো। অতঃপর ও দু’টোর কলিজা নিয়ে গেল। আলী (রাযিঃ) বলেন, সরাসরি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকটে গিয়ে উপস্থিত হলাম, তখন তার কাছে ছিল যায়দ ইবনু হারিসাহ (রাযিঃ)। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার অবয়ব দেখে বুঝতে পারলেন। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমার কি হয়েছে? আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আল্লাহর কসম, আজকের দিনের মতো আমি আর কখনও দেখিনি। হামযাহ আমার উট দুটির উপর ক্ষিপ্ত হয়ে উভয়ের কুঁজ দুটি কেটে ফেলেছে, পিছনের দিক কেটে ফেলেছে এবং কলিজা খুলে নিয়েছে। সে ঐ গৃহে আছে আর তার সাথে আছে মদ্যপায়ীদের কিছু লোক। তিনি বলেন, তারপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার চাদর নিয়ে আসতে বললেন। অতঃপর তা পরিধান করে হাটতে লাগলেন। আমি এবং যায়দ ইবনু হারিসাহ তার পিছনে পিছনে অনুকরণ করলাম। পরিশেষে তিনি সে ঘরের দরজায় এসে অনুমতি চাইলেন যে ঘরে হামযাহ ছিল। তারা তাকে অনুমতি দিল। তিনি প্রবেশ করেই লক্ষ্য করলেন মদ্যপায়ীর দল। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হামযার অপকর্মের জন্য তাকে শাসন ও নিন্দা করতে লাগলেন। এমতাবস্থায় হামযার চোখ দুটি লাল হয়ে গেল। সে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দিকে দৃষ্টি নিক্ষেপ করলো। এরপর সে তার হাটুর দিকে তাকালো, তারপর আরো উচুতে দৃষ্টি নিবদ্ধ করল তার নাভীর দিকে, এরপর দৃষ্টি উঠালো তার চেহারার দিকে। এরপর হামযাহ বলল, তোমরা তো আমার পিতার গোলাম ছাড়া কিছুই নও। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন বুঝতে পারলেন সে নেশাগ্রস্ত, তখন তিনি পিছনে হেঁটে বের হয়ে পড়লেন। আমরাও তার সাথে বের হলাম। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৯৬৬, ইসলামিক সেন্টার)
আবূ রাবী' সুলাইমান ইবনু দাউদ আতাকী (রহঃ) ..... আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, মদ হারাম হওয়ার দিন আমি আবূ তালহার ঘরে লোকদের মদ পান করাচ্ছিলাম। তারা শুকনো ও কাঁচা খেজুরের মদ পান করতো (অর্থাৎ শুকনো ও কাঁচা খেজুর দ্বারা তৈরি ঘন তৈলাক্ত ও সিরকা পান করতো)। হঠাৎ শুনা গেল জনৈক লোক ঘোষণা দিচ্ছে। তিনি বললেন, বের হয়ে দেখো। আমি বের হয়ে দেখলাম, এক লোক ঘোষণা দিচ্ছেঃ শুনে রাখো, মদ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তিনি বলেন, অতঃপর মাদীনার চারপাশে ও অলিগলি দিয়ে মদের ঢল প্রবাহিত বইতে থাকে। আবূ তালহাহ আমাকে বললেন, বের হও এবং এগুলো ঢেলে দিয়ে আসো। অতঃপর আমি সেগুলো ঢেলে দেই। তারা সবাই বা তাদের কেউ কেউ বললেন, অমুকে নিহত হয়েছে। অমুকে নিহত হয়েছে! অথচ তাদের উদরে মদ আছে। রাবী বলেন, আমি জ্ঞাত নই যে, এ কথাও আনাস (রাযিঃ) এর হাদীসের অন্তর্ভুক্ত কি-না। এরপর আল্লাহ তা'আলা নাযিল করেনঃ “যারা ঈমান এনেছে ও সৎকর্ম করেছে তারা পূর্বে যা খেয়েছে তাতে তাদের কোন গুনাহ নেই, যদি তারা সতর্ক হয় এবং ঈমান আনে ও সৎকাজ করে"- (সূরা আল-মায়িদাহ্ ৫ঃ ৯৩)। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৯৬৭, ইসলামিক সেন্টার)
(…) ইয়াহইয়া ইবনু আইয়্যুব (রহঃ) ..... আবদুল আযীয ইবনু সুহায়ব (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, মানুষেরা আনাস (রাযিঃ)-কে প্রশ্ন করল 'ফাযীখ’ (খেজুরের তৈরি মদ) সম্পর্কে। তিনি বললেন, তোমরা যাকে ‘ফাযীখ’ বলে সম্বোধন কর, তোমাদের এ ফাযীখ ব্যতীত আমাদের আর কোন মদ-ই ছিল না। আমি আমাদের ঘরে আবূ তালহা, আবূ আইয়্যুব (রাযিঃ) এবং রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আরো কতিপয় সাহাবীকে মদপান করাতে মত্ত ছিলাম। এমন সময় এক লোক এসে বলল, তোমাদের নিকট কি কোন সংবাদ এসেছে? আমরা বললাম, না। সে বলল, মদ তো সম্পূর্ণরূপে নিষেধ করা হয়েছে। তিনি (আবূ তালহা) বললেন, হে আনাস! এ মদের কলসগুলো ঢেলে দাও। তিনি বলেন, তারা উক্ত ব্যক্তির সংবাদের পর কোন খোঁজখবরও করেননি। এ সম্পর্কে কোন জিজ্ঞাসাবাদও করেননি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৯৬৮, ইসলামিক সেন্টার)
ইয়াহইয়া ইবনু আইয়্যুব (রহঃ) ..... আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আমার সম্প্রদায়ের লোকদের মধ্যখানে দাঁড়িয়ে আমার চাচাদের 'ফাযীখ' পান করাচ্ছিলাম। আর বয়সে আমি তাদের সবার ছোট ছিলাম। এ সময় এক লোক এসে বলল, মদ তো হারাম করা হয়েছে। তারা সবাই বললেন, হে আনাস! এ হাড়িগুলো উল্টিয়ে দাও। আমি সেগুলো উপুড় করে ফেলে দিলাম। সুলাইমান বলেন, আমি আনাসকে বললাম, ফাযীখ কি জিনিস? তিনি বললেন, কাঁচা-পাকা খেজুর দ্বারা তৈরিকৃত মদ। তিনি বলেন, আবূ বাকর ইবনু আনাস বলেছেন, তখন এটাই ছিল তাদের একমাত্র নেশাজাতীয় দ্রব্য। সুলাইমান বলেন, আমার নিকটে জনৈক লোক আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) হতে রিওয়ায়াত করেছেন যে, তিনিও (আনাস) এ কথা বলেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৯৬৯, ইসলামিক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল আ'লা (রহঃ) ..... আনাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি সম্প্রদায়ের মাঝে দাঁড়িয়ে তাদের মদপান করাচ্ছিলাম। এরপর বর্ণনাকারী ইবনু উলাইয়্যার মতো বর্ণনা করেন। তবে তিনি বলেন, তারপর আবূ বাকর ইবনু আনাস বললেন, সেকালে ওটাই ছিল তাদের মদ। আনাস (রাযিঃ) তথায় উপস্থিত ছিলেন, তিনি এ কথা অস্বীকার করেননি। ইবনু আবদুল আ'লা মু'তামির এর সূত্রে তার বাবা হতে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেনঃ যারা তার সাথে ছিল তাদের একজন আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি আনাস (রাযিঃ) কে বলতে শুনেছেন, "তৎকালীন সময়ে সেটাই ছিল তাদের মদ।" (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৯৭০, ইসলামিক সেন্টার)
ইয়াহইয়া ইবনু আইয়্যুব (রহঃ) ..... আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবূ তালহাহ, আবূ দুজানাহ ও মু'আয ইবনু জাবাল (রাযিঃ) কে আনসারীদের একদল মানুষের মাঝে মদপান করাচ্ছিলাম। তখন এক লোক আমাদের নিকট এসে বলল, একটি নতুন ব্যাপার ঘটেছে, মদ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। অতঃপর আমরা তখন পাত্রগুলো উপুড় করে ঢেলে দিয়েছিলাম। সে মদ ছিল কাঁচা-পাকা মিশ্ৰিত খেজুরের বানানো। কাতাদাহ্ বলেন, আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) বলেছেন, মদকে হারাম করা হয়েছে। সেকালে তাদের সাধারণ মদ ছিল কাঁচা-পাকায় সংমিশ্রিত খেজুরের তৈরি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৯৭১, ইসলামিক সেন্টার)
(…/...) আবূ গাসসান আল-মিসমাঈ, মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না ও ইবনু বাশশার (রহঃ) ..... আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি এমন একটি মদপাত্র হতে আবূ তালহাহ, আবূ দুজানাহ ও সুহায়ল ইবনু বাইযা (রাযিঃ) কে মদপান করাচ্ছিলাম যার মধ্যে কাঁচা-পাকা খেজুরের মদ ছিল। অতঃপর বর্ণনাকারী সাঈদ (রহঃ) এর হাদীসের হুবহু রিওয়ায়াত করেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৯৭২, ইসলামিক সেন্টার)
আবূ তাহির আহমাদ ইবনু আমর ইবনু সারহ (রহঃ) ..... আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাঁচা-পাকা খেজুর দিয়ে মদ তৈরি করা এবং তা পান করা থেকে বারণ করেছেন। সেদিন তাই ছিল তাদের সাধারণ নেশাজাতীয় দ্রব্য যেদিন মদ হারাম করা হয়। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৯৭৩, ইসলামিক সেন্টার)
আবূ তাহির (রহঃ) ..... আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবূ উবাইদাহ্ ইবনু জাররাহ, আবূ তালহাহ উবাই ইবনু কা'ব (রাযিঃ) কে মদপান করাচ্ছিলাম, যা কাঁচা ও শুকনো খেজুর দিয়ে তৈরি ছিল। অতঃপর জনৈক আগত ব্যক্তি এসে বলল, মদ তো হারাম ঘোষণা করা হয়েছে। আবূ তালহাহ্ (রাযিঃ) বললেন, হে আনাস! তুমি সে কলসটির কাছে গিয়ে তা ভেঙ্গে ফেল। আমি আমাদের মিহ্রাসটির (ছিদ্রযুক্ত পাথর) নিকট গেলাম এবং কলসের নিম্নাংশে আঘাত করলাম। যার দরুন সেটি ভেঙ্গে টুকরো টুকরো হয়ে গেল। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৯৭৪, ইসলামিক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না (রহঃ) ..... জা'ফার (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) কে বলতে শুনেছেন যে, আল্লাহ তা'আলা যে আয়াতে মদ নিষিদ্ধ করেছেন, সেটি এমন সময় তৈরি করেছেন, যখন মাদীনায় শুধুমাত্র খেজুরের তৈরি মদপান করা হত। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৯৭৫, ইসলামিক সেন্টার)
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া ‘আবদুর রহমান ইবনু মাহদী ও যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ... আনাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে মদ দিয়ে সিরকা তৈরি করা সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তিনি বললেন, না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৯৭৬, ইসলামিক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না ও মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার (রহঃ) ..... ওয়ায়িল আল-হাযরামী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, তারিক ইবনু সুওয়াইদ জুকী (রাযিঃ) রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে মদ সম্পর্কে প্রশ্ন করলেন। তিনি তাকে বারণ করলেন, কিংবা মদ প্রস্তুত করাকে খুব জঘন্য মনে করলেন। তিনি [তারিক (রাযিঃ)] বললেন, আমি তো শুধু ঔষধ তৈরি করার জন্য মদ প্রস্তুত করি। তিনি বললেনঃ এটি তো (ব্যাধি নিরামক) ঔষধ নয়, বরং এটি নিজেই ব্যাধি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৯৭৭, ইসলামিক সেন্টার)
যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মদ তৈরি হয় দুটি গাছ (এর ফল) হতে, তা হলো- খেজুর ও আঙ্গুর গাছ (এর ফল)। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৯৭৮, ইসলামিক সেন্টার)
وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا الأَوْزَاعِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو كَثِيرٍ، قَالَ سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ، يَقُولُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " الْخَمْرُ مِنْ هَاتَيْنِ الشَّجَرَتَيْنِ النَّخْلَةِ وَالْعِنَبَةِ " .
মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু নুমায়র (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ্ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি যে, মদ তৈরি হয় ঐ দুটি গাছ (এর ফল) থেকে, তা হলো খেজুর ও আঙ্গুর গাছ (এর ফল)। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৯৭৯, ইসলামিক সেন্টার)
যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ও আবূ কুরায়ব (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মদ তৈরি হয় ঐ দুটি গাছ (এর ফল) থেকে, তা হলো- আঙ্গুর ও খেজুর গাছ (এর ফল)। আবূ কুরায়ব (রহঃ) এর বর্ণনায় আঙ্গুরকে খেজুর বলা হয়েছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৯৮০, ইসলামিক সেন্টার)
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا لَيْثٌ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ أَبِي رَبَاحٍ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ، اللَّهِ الأَنْصَارِيِّ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ نَهَى أَنْ يُنْبَذَ التَّمْرُ وَالزَّبِيبُ جَمِيعًا وَنَهَى أَنْ يُنْبَذَ الرُّطَبُ وَالْبُسْرُ جَمِيعًا .
কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... জাবির ইবনু আবদুল্লাহ আনসারী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শুকনো খেজুর ও কিসমিস একত্র করে নবীয তৈরি করতে নিষেধ করেছেন। তিনি আরও নিষেধ করেছেন কাঁচা-পাকা খেজুর একত্র মিশিয়ে নবীয বানানো থেকে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৯৮২, ইসলামিক সেন্টার)
মুহাম্মদ ইবনু হাতিম, ইসহাক ইবনু ইবরাহীম ও মুহাম্মদ ইবনু রাফি (রহঃ) ...... জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা কাঁচা-পাকা খর্জুর (খেজুর) এবং কিসমিস ও খোরমা মিশ্রণ করে নবীয বানিও না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৯৮৩, ইসলামিক সেন্টার)
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ، عَنِ التَّيْمِيِّ، عَنْ أَبِي نَضْرَةَ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم نَهَى عَنِ التَّمْرِ وَالزَّبِيبِ أَنْ يُخْلَطَ بَيْنَهُمَا وَعَنِ التَّمْرِ وَالْبُسْرِ أَنْ يُخْلَطَ بَيْنَهُمَا .
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... আবূ সাঈদ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খোরমা ও কিসমিস একসঙ্গে মিশ্রণ (করে নবীয তৈরি) করতে বারণ করেছেন এবং কাঁচা-পাকা খেজুর একত্র (করে নবীব তৈরি) করতে নিষেধ করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৯৮৫, ইসলামিক সেন্টার)
কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... আবূ সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি নবীয (খেজুর বা আঙ্গুর ভেজানো পানি) পান করতে ইচ্ছা পোষণ করে, সে যেন কিসমিস বা শুকনো খেজুর অথবা কাঁচা খেজুর দ্বারা আলাদাভাবে নবীয তৈরি করে তা পান করে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৯৮৮, ইসলামিক সেন্টার)
আবূ বাকর ইবনু ইসহাক (রহঃ) ..... ইসমাঈল ইবনু মুসলিম আবদী (রহঃ) হতে উল্লেখিত সানাদে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে বারণ করেছেন, যেন আমরা কাঁচা খেজুর শুকনো খেজুরের সঙ্গে না মেশাই অথবা কিসমিস খোরমার সঙ্গে না মেশাই অথবা কিসমিস কাঁচা খেজুরের সাথে না মেশাই। তিনি আরও বলেন, তোমাদের মাঝে যে তা পান করতে আগ্রহী। অতঃপর বর্ণনাকারী ওয়াকী' (রহঃ) এর হাদীসের অবিকল বর্ণনা করেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৯৮৮, ইসলামিক সেন্টার)
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ عُمَرَ، أَخْبَرَنَا عَلِيٌّ، - وَهُوَ ابْنُ الْمُبَارَكِ - عَنْ يَحْيَى، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي قَتَادَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ تَنْتَبِذُوا الزَّهْوَ وَالرُّطَبَ جَمِيعًا وَلاَ تَنْتَبِذُوا الرُّطَبَ وَالزَّبِيبَ جَمِيعًا وَلَكِنِ انْتَبِذُوا كُلَّ وَاحِدٍ عَلَى حِدَتِهِ " . وَزَعَمَ يَحْيَى أَنَّهُ لَقِيَ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ أَبِي قَتَادَةَ فَحَدَّثَهُ عَنْ أَبِيهِ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِمِثْلِ هَذَا .
মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না (রহঃ) ..... আবূ কাতাদাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা কাঁচা-পাকা খেজুর একসাথে মিশিয়ে নবীয বানাবে না এবং কাঁচা খেজুর ও কিসমিস একত্রে মিশিয়ে নবীয বানাবে না বরং একেকটি দ্বারা আলাদাভাবে নবীয বানাবে। ইয়াহইয়া ধারণা করেন যে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনু আবূ কাতাদার সঙ্গে দেখা করলে তিনি তার পিতার সানাদে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে অনুরূপ হাদীস তার নিকটে রিওয়ায়াত করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৯৯১, ইসলামিক সেন্টার)
(…) আবূ বাকর ইবনু ইসহাক (রহঃ) ..... আবূ কাতাদাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাঁচা ও শুকনো খেজুর একত্র সংমিশ্রণ করা হতে এবং কিসমিস ও শুকনো খেজুর সংমিশ্রণ করা থেকে এবং কাঁচা পাকা খেজুর সংমিশ্রণ করা হতে বারণ করেছেন। তিনি বলেছেন, প্রত্যেকটি দিয়ে আলাদাভাবে নবীয বানাও। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৯৯২, ইসলামিক সেন্টার)
যুহায়র ইবনু হারব ও আবূ কুরায়ব (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ্ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিসমিস ও শুকনো খেজুর (একত্রে মিশিয়ে নবীয প্রস্তুত করা) হতে নিষেধ করেছেন। তিনি বলেছেন, প্রত্যেকটি দিয়ে পৃথকভাবে নবীয বানানো যেতে পারে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৯৯৪ ইসলামিক সেন্টার)
আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ্ (রহঃ) ..... ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শুকনো খেজুর ও কিসমিস সংমিশ্রণে এবং কাঁচা ও শুকনো খেজুর মিশিয়ে নবীয প্রস্তুত করতে বারণ করেছেন। তিনি জুরাশ (ইয়ামানের একটি শহর) অধিবাসীদের চিঠি লিখে তাদেরকে শুকনো খেজুর ও কিসমিসের মিশ্রণে নবীয প্রস্তুত করতে বারণ করেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৯৯৫, ইসলামিক সেন্টার)
(…/...) বর্ণনাকারী বলেন, আমাকে ওয়াহব ইবনু বাকিয়্যাহ খালিদ তাহহান (রহঃ) এর সানাদে শাইবানী (রহঃ) হতে উল্লেখিত সূত্রে শুকনো খেজুর ও কিসমিসের কথা বর্ণনা করেছেন। তবে তিনি (ওয়াহব) কাঁচা ও শুকনো খেজুরের কথা বর্ণনা করেননি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৯৯৫, ইসলামিক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনু রাফি’ (রহঃ) ..... ইবনু উমার (রাযিঃ) হতে বর্ণিত যে, তিনি বলতেন, কাঁচা-পাকা খেজুর একসাথে এবং শুকনো খেজুর ও কিসমিস একত্রে মিশিয়ে নবীয তৈরি করতে বারণ করা হয়েছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৯৯৬, ইসলামিক সেন্টার)
আবূ বাকর ইবনু ইসহাক (রহঃ) ..... ইবনু উমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, কাঁচা-পাকা খেজুর মিশিয়ে এবং শুকনো খেজুর ও কিসমিস মিশ্রণে নবীয তৈরি করতে বারণ করা হয়েছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৯৯৭, ইসলামিক সেন্টার)
قَالَ وَأَخْبَرَهُ أَبُو سَلَمَةَ، أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا هُرَيْرَةَ، يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ تَنْتَبِذُوا فِي الدُّبَّاءِ وَلاَ فِي الْمُزَفَّتِ " . ثُمَّ يَقُولُ أَبُو هُرَيْرَةَ وَاجْتَنِبُوا الْحَنَاتِمَ .
বর্ণনাকারী বলেন, আবূ সালামাহ্ (রহঃ)-ও তাকে অবহিত করেছেন, তিনি আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) কে বলতে শুনেছেন যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা দুব্বা ও মুযাফফাতে নবীয বানিও না। অতঃপর আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) বলেন, হানতাম ব্যবহার করা থেকেও তোমরা সরে (বেঁচে) থাকো। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৯৯৯, ইসলামিক সেন্টার)
حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ حَاتِمٍ، حَدَّثَنَا بَهْزٌ، حَدَّثَنَا وُهَيْبٌ، عَنْ سُهَيْلٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي، هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ نَهَى عَنِ الْمُزَفَّتِ وَالْحَنْتَمِ وَالنَّقِيرِ . قَالَ قِيلَ لأَبِي هُرَيْرَةَ مَا الْحَنْتَمُ قَالَ الْجِرَارُ الْخُضْرُ .
মুহাম্মাদ ইবনু হাতিম (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুযাফফাত, হানতাম ও নাকীর (ইত্যাদিতে নবীয প্রস্তুত করা) হতে বারণ করেছেন। রাবী বলেন, আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) কে প্রশ্ন করা হলো, হানতাম কি জিনিস? তিনি বললেন, সবুজ রং-এর কলসী। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫০০০, ইসলামিক সেন্টার)
নাস্র ইবনু আলী জাহযামী (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবদুল কায়সের প্রতিনিধি দলকে বলেছেন, আমি তোমাদেরকে দুব্বা, হানতাম, নাকীর ও মুকাইয়্যার হতে বারণ করছি। হানতাম হল মাথা কাটা চামড়ার বাসন হতে। আর তুমি তোমার চামড়ার বানানো মশক হতে নবীয পান করো এবং এর প্রবেশ মুখ আটকে রাখো (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫০০১, ইসলামিক সেন্টার)
حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ عَمْرٍو الأَشْعَثِيُّ، أَخْبَرَنَا عَبْثَرٌ، ح وَحَدَّثَنِي زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، ح وَحَدَّثَنِي بِشْرُ بْنُ خَالِدٍ، أَخْبَرَنَا مُحَمَّدٌ، - يَعْنِي ابْنَ جَعْفَرٍ - عَنْ شُعْبَةَ، كُلُّهُمْ عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ التَّيْمِيِّ، عَنِ الْحَارِثِ بْنِ سُوَيْدٍ، عَنْ عَلِيٍّ، قَالَ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ يُنْتَبَذَ فِي الدُّبَّاءِ وَالْمُزَفَّتِ . هَذَا حَدِيثُ جَرِيرٍ . وَفِي حَدِيثِ عَبْثَرٍ وَشُعْبَةَ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم نَهَى عَنِ الدُّبَّاءِ وَالْمُزَفَّتِ .
সাঈদ ইবনু আমর আশ'আসী, যুহায়র ইবনু হারব ও বিশর ইবনু খালিদ (রহঃ) ..... ‘আলী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুব্বা ও মুযাফফাতে নবীয প্রস্তুত করতে বারণ করেছেন। এ হলো জারীর (রহঃ) এর বর্ণিত হাদীস। আবসার ও শুবাহ্ (রহঃ) এর হাদীসে উল্লেখ আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুব্বা ও মুযাফফাত হতে বারণ করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫০০২, ইসলামিক সেন্টার)
যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... ইবরাহীম (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আসওয়াদ (রহঃ) কে বললাম, আপনি কি উম্মুল মুমিনীন আয়িশাহ (রাযিঃ) কে প্রশ্ন করেছিলেন- কোন জিনিসে নবীয প্রস্তুত করা মাকরূহ? তিনি বললেন, হ্যাঁ। আমি তখন বলেছিলাম, হে উম্মুল মু'মিনীন! আমাকে বলুন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন জিনিসে নবীয প্রস্তুত করতে বারণ করেছেন। তিনি বললেন, তিনি আমাদের পরিবারের সকলকে বারণ করেছেন, আমরা যেন দুব্বা ও মুযাফফাতে নবীয প্রস্তুত না করি। ইবরাহীম (রহঃ) বলেন, আমি আসওয়াদকে বললাম, তিনি [আয়িশাহ্ (রাযিঃ)] কি হানতাম ও কলসীর কথা বর্ণনা করেননি? তিনি বললেন, আমি যা শুনেছি, তাই তোমার কাছে বলছি। সেটিও কি তোমার কাছে বলতে হবে যা আমি শুনিনি? (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫০০৩, ইসলামিক সেন্টার)
وَحَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ حَاتِمٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، - وَهُوَ الْقَطَّانُ - حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، وَشُعْبَةُ، قَالاَ حَدَّثَنَا مَنْصُورٌ، وَسُلَيْمَانُ، وَحَمَّادٌ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنِ الأَسْوَدِ، عَنْ عَائِشَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِمِثْلِهِ .
(…/...) মুহাম্মাদ ইবনু হাতিম (রহঃ) ..... আয়িশাহ (রাযিঃ) এর সানাদে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে হুবহু বর্ণনা করা হয়েছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫০০৫, ইসলামিক সেন্টার)
حَدَّثَنَا شَيْبَانُ بْنُ فَرُّوخَ، حَدَّثَنَا الْقَاسِمُ، - يَعْنِي ابْنَ الْفَضْلِ - حَدَّثَنَا ثُمَامَةُ بْنُ، حَزْنٍ الْقُشَيْرِيُّ قَالَ لَقِيتُ عَائِشَةَ فَسَأَلْتُهَا عَنِ النَّبِيذِ، فَحَدَّثَتْنِي أَنَّ وَفْدَ عَبْدِ الْقَيْسِ قَدِمُوا عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَسَأَلُوا النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم عَنِ النَّبِيذِ فَنَهَاهُمْ أَنْ يَنْتَبِذُوا فِي الدُّبَّاءِ وَالنَّقِيرِ وَالْمُزَفَّتِ وَالْحَنْتَمِ .
শাইবান ইবনু ফাররূখ (রহঃ) ..... সুমামাহ ইবনু হাযন কুশাইরী (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আয়িশাহ (রাযিঃ) এর সাথে দেখা করে তাকে নবীয সম্বন্ধে প্রশ্ন করলাম। তিনি আমার কাছে উল্লেখ করলেন যে, আবদুল কায়সের প্রতিনিধি দল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে আসল এবং তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে নবীয সম্পর্কে প্রশ্ন করল। তিনি দুব্বা, নাকীর, মুযাফফাত ও হানতাম-এ তাদেরকে নবীয প্রস্তুত করতে বারণ করলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫০০৬, ইসলামিক সেন্টার)
وَحَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا ابْنُ عُلَيَّةَ، حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ سُوَيْدٍ، عَنْ مُعَاذَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنِ الدُّبَّاءِ وَالْحَنْتَمِ وَالنَّقِيرِ وَالْمُزَفَّتِ .
ইয়াকুব ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ..... আয়িশাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুব্বা, হানতাম, নাকীর ও মুযাফফাত হতে বারণ করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫০০৭, ইসলামিক সেন্টার)
এই বর্ণনার কোনো মান উৎসে উল্লেখ নেই।
২৫৩টির মধ্যে ৫০
২৫৩টি বর্ণনা · নম্বর ৫১২৭–৫৩৮৩
আরবি পাঠ, নম্বর, অধ্যায়ের নাম ও মান — সবই একটি উন্মুক্ত ডেটাসেটে (hadith-api) যেমন আছে হুবহু তেমন দেখানো হয়েছে। সাবীল এখনও এর নির্ভুলতা বা স্বত্ব যাচাই করেনি, আর আলেমদের পর্যালোচনাও শুরু হয়নি। ততদিন কোনো বর্ণনার ওপর নির্ভর করার আগে ছাপা সংস্করণের সাথে মিলিয়ে নিন।