মূল অংশে যান
ব্যাখ্যাসহ হাদীস

শির্ক

১১টি হাদীস

আল্লাহ তা‘আলার বাণী : তোমরা জেনে শোনে আল্লাহর জন্য শরীক সাব্যস্ত করো না। ইবন আব্বাস আয়াত বিষয়ে বলেন, আল-আনদাদ: অর্থ হলো শির্ক। আর শির্ক হলো গভীর অন্ধকার রাতে কালো পাথরের ওপর পিপড়ার গুণগুণ শব্দ থেকেও সুক্ষ্ম।

قول الله تعالى : {فَلا تَجْعَلُوا لِلَّهِ أَنْدَادًا وَأَنْتُمْ تَعْلَمُونَ}. قال ابن عباس في الآية: "الأنداد: هو الشرك، أخفى من دَبِيبِ النمل على صَفَاةٍ سوداء في ظلمة الليل". وهو أن تقول: والله وحياتك يا فلان، وحياتي، وتقول: لولا كُلَيْبَةُ هذا لأتانا اللصوص، ولولا البط في الدار لأتانا اللصوص، وقول الرجل لصاحبه: ما شاء الله وشئت، وقول الرجل: لولا الله وفلان، لا تجعل فيها فلانا؛ هذا كله به شرك".
আল্লাহ তা‘আলার বাণী: “তোমরা জেনে শোনে আল্লাহর জন্য শরীক সাব্যস্ত করো না”। ইবন আব্বাস আয়াত বিষয়ে বলেন, আল-আনদাদ: অর্থ হলো শির্ক। আর শির্ক হলো গভীর অন্ধকার রাতে কালো পাথরের ওপর পিপড়ার গুণগুণ শব্দ থেকেও সুক্ষ্ম। আর তা হলো তোমার বলা : আল্লাহর কসম এবং তোমার জীবনের কসম হে অমুক এবং আমার জীবনের কসম। এবং তোমার বলা: যদি এ কুকুর না হতো তাহলে আমাদের কাছে ডাকাত আসতো। যদি ঘরের মধ্যে হাঁস না হতো তা হলে ডাকাত আসতো। কোনো ব্যক্তির কথা তার সাথীকে উদ্দেশ্যে করে, আল্লাহ যা চেয়েছেন এবং তুমি যা চেয়েছো। এবং কোন ব্যক্তির কথা : যদি আল্লাহ না হতো এবং অমুক না হতো। তাতে (অর্থাৎ এসব কথায়) তুমি অমুককে সাব্যস্ত করো না। এগুলো সবই হলো তার সাথে শির্ক।
এটি ইবন আবী হাতিম বর্ণনা করেছেন।মানসহীহ
ব্যাখ্যা

আল্লাহ তা‘আলা বলেন, তোমরা জেনে শুনে আল্লাহর জন্য শরীক সাব্যস্ত করো না। তিনি মানুষকে আল্লাহর জন্য এমন দৃষ্টান্ত এবং নজীর স্থাপন করতে নিষেধ করেছেন যাদের জন্য তারা তাদের ইবাদতের কিছু অংশ সমর্পন করবে। অথচ তারা জানে নিশ্চয় এক আল্লাহই হলেন স্রষ্টা, রিযিকদাতা। আর এ সব শরীক অক্ষম ও মুখাপেক্ষী তার জন্য কোন বিষয়ে কোন ক্ষমতা নেই। ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু আনদাদকে শরীকসমূহ দ্বারা সংজ্ঞায়িত করেন। আর তাদেরকে শরীক সাব্যস্ত করার বিভিন্ন দৃষ্টান্ত তুলে ধরেন। শির্ক অন্ধকার রাতে কালো মশ্রিণ পাথরের ওপর পিপড়ার চলার শব্দ থেকেও অধিক গোপন। তারপর তিনি এর ওপর আরও বিভিন্ন দৃষ্টান্ত তুলে ধরেন। যেমন, তুমি গাইরুল্লাহর নামে সপথ করলে, এর চেয়েও বড় অন্যায় হলো তুমি গাইরুল্লাহকে আল্লাহর সমান সাব্যস্ত করলে। তুমি বললে, আল্লাহর কসম এবং আমার জীবনের কসম। অথবা তুমি কারণের দিকে দেখলে কিন্তু কারণের মালিকের দিকে দেখলে না এবং বিষয়কে আল্লাহর দিকে ফেরালে না। যেমন তুমি বললে, যদি এ কুকুর আমাদের পাহারা না দিত, তাহলে আমাদের ঘরে ডাকাত আসত। অথবা সে বলে, ঘরের মধ্যে হাঁস যদি আমাদের সতর্ক না করত, যদি কোন অপরিচিত লোক প্রবেশ করত, তাহলে ডাকাত আসত। আর শির্কের আরও দৃষ্টান্ত হলো, কোন লোক তার সাথীকে বলল, আল্লাহ যা চাইল এবং তুমি যা চাইলে। এবং কোন মানুষ বলল, যদি আল্লাহ এবং অমুক না হতো। তুমি এসব কথায় অমুককে সাব্যস্ত করো না। তারপর তিনি গুরুত্ব দিয়ে বলেন যে, এ গুলো সবই ছোট শির্ক। তবে এ সব কথা যে বলে, সে যদি এ কথা বিশ্বাস করে যে, লোকটি, বা হাঁসটি, বা কুকুরটিই আল্লাহ ছাড়াই সত্বাগতভাবে প্রভাব সৃষ্টিকারী বা ক্ষমতাশীল তাহলে তা হবে বড় শির্ক।

সূত্র

الملخص في شرح كتاب التوحيد، صالح بن فوزان بن عبد الله الفوزان، دار العاصمة، الرياض، الطبعة: الأولى، 1422هـ - 2001م. تفسير القرآن العظيم، عبد الرحمن بن محمد بن إدريس ابن أبي حاتم، تحقيق: أسعد محمد الطيب، نشر: مكتبة نزار مصطفى الباز، المملكة العربية السعودية، الطبعة: الثالثة، 1419هـ.

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

“হে আল্লাহ! আমার কবরকে পূজনীয় মূর্তি বানিয়ে দিওনা।

عن أبي هريرة رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم: «اللهُمَّ لَا تَجْعَلْ قَبْرِي وَثَنًا، لَعَنَ اللهُ قَوْمًا اتَّخَذُوا قُبُورَ أَنْبِيَائِهِمْ مَسَاجِدَ».
আবূ হুরায়রা রদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “হে আল্লাহ! আমার কবরকে পূজনীয় মূর্তি বানিয়ে দিওনা। সেই সম্প্রদায়ের উপর আল্লাহ লা‘নত বর্ষণ করেছেন, যে সম্প্রদায় তাদের নবীগণের কবরকে মসজিদ তথা সিজদার জায়গায় পরিণত করেছে।”
এটি আহমাদ বর্ণনা করেছেন।মানসহীহ
ব্যাখ্যা

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর রবের কাছে দু‘আ করেছেন , তিনি যেন তার কবরকে মূর্তির মত না বানান, যাকে সম্মান করে মানুষ ইবাদাত করে এবং একে কিবলা বানিয়ে সিজদা করে। অতপর তিনি (নবী) সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম সংবাদ দিয়েছেন যে, আল্লাহ তা‘আলা তাঁর রহমত থেকে তাদেরকে বিতাড়িত ও দূরে সরিয়ে দিয়েছেন যারা তাদের নবীদের কবরসমূহকে মসজিদ তথা সিজদার জায়গা বানিয়েছে। কেননা নবীদের কবরসমূহকে মসজিদ বানানো এগুলোর ইবাদাত করা ও তাতে দৃঢ় বিশ্বাস রাখার প্রতি ধাবিত করে।

শিক্ষা
  1. নবী ও সালেহীনদের কবরের ব্যাপারে শরী‘আতের সীমা অতিক্রম করলে, তা আল্লাহ ব্যতীত অন্যের ইবাদাতে পরিণত হয়। সুতরাং শিরকের এসব উপায় থেকে মানুষকে সতর্ক করা ওয়াজিব।
  2. কবরকে সম্মান ও এর নিকটে ইবাদাত করার উদ্দেশ্যে কবর যিয়ারত করা জায়েয নেই; কবরবাসী যতই আল্লাহ তা‘আলার নিকটবর্তী হোক না কেন।
  3. কবরের উপরে মসজিদ বানানো হারাম।
  4. কবরের কাছে সালাত আদায় করা হারাম; যদিও সেখানে মসজিদ না বানায়; তবে সালাতুল জানাযার ব্যাপার ভিন্ন, যদি আগে সালাতুল জানাযা পড়া না হয় তবে কবরের পাশে তা আদায় করা যাবে।
সূত্র

مسند أحمد (12/ 314) (7358). فتح المجيد شرح كتاب التوحيد، لعبد الرحمن التميمي (1/ 434). القول المفيد على كتاب التوحيد، لمحمد بن عثيمين (1/ 434). الملخص في شرح كتاب التوحيد، لصالح الفوزان (ص178). الجديد في شرح كتاب التوحيد، لمحمد القرعاوي (ص194). التمهيد لشرح كتاب التوحيد، لصالح آل الشيخ (ص51). مشكاة المصابيح، للتبريزي (1/ 234).

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

“যে ব্যক্তি আল্লাহর নাম ব্যতীত অন্য কিছুর নামে শপথ করল সে কুফরী করল অথবা শিরক করল।”

عن ابْنِ عُمَرَ رضي الله عنهما أنه سَمِعَ رَجُلًا يَقُولُ: لَا وَالْكَعْبَةِ، فَقَالَ ابْنُ عُمَرَ: لَا يُحْلَفُ بِغَيْرِ اللَّهِ، فَإِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «مَنْ حَلَفَ بِغَيْرِ اللهِ فَقَدْ كَفَرَ أَوْ أَشْرَكَ».
ইবনু ‘উমার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি একজন লোককে বলতে শুনলেন: না, কাবার শপথ! ইবনু উমার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বললেন, আল্লাহ তা‘আলার নাম ব্যতীত অন্য কিছুর নামে শপথ করা যাবে না। কেননা আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: “যে ব্যক্তি আল্লাহর নাম ব্যতীত অন্য কিছুর নামে শপথ করল সে কুফরী করল অথবা শিরক করল।”
এটি আবূ দাউদ, তিরমিযী ও আহমাদ বর্ণনা করেছেন।মানসহীহ
ব্যাখ্যা

নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ হাদীসে বর্ণনা করেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর নাম ও তাঁর সিফাত ব্যতীত অন্য কিছুর নামে শপথ করল, সে আল্লাহর সাথে কুফরী অথবা শিরক করল। কেননা শপথের দাবি হলো শপথকৃত বস্তুর বড়ত্ব ও সম্মান হওয়া। অথচ এধরনের বড়ত্ব ও সম্মান একমাত্র মহান আল্লাহর। সুতরাং আল্লাহর নাম ও তাঁর সিফাত ব্যতীত অন্য কিছুর নামে শপথ করা যাবে না। শপথের এ শিরকটি ছোট শিরক। তবে শপথকারী যদি শপথকৃত বস্তুকে আল্লাহর সম্মানের মতো সম্মানিত মনে করে অথবা তার চেয়েও বেশি, তবে তখন তা বড় শিরক হিসেবে গণ্য হবে।

শিক্ষা
  1. শপথের মাধ্যমে কোন কিছুকে সম্মান করা শুধু আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতা‘আলার প্রাপ্য অধিকার। সুতরাং আল্লাহ, তাঁর নামসমূহ ও সিফাত ব্যতীত অন্য কিছু দ্বারা শপথ করা যাবে না।
  2. হাদীসে সাহাবীদের সৎকাজে আদেশ ও অসৎকাজ থেকে নিষেধ করার ব্যাপারে আগ্রহ বর্ণিত হয়েছে; বিশেষ করে অসৎ কাজটি যখন শিরক অথবা কুফরের মতো জঘন্য হয়।
সূত্র

سنن الترمذي (3/ 194) (1535). سنن أبي داود (5/ 154- 155) (3251). مسند أحمد (9/ 249) (5346)، (9/ 275) (5375)، (10/ 249) (6072). فتح المجيد شرح كتاب التوحيد، لعبد الرحمن التميمي (ص413). القول المفيد على كتاب التوحيد، لابن عثيمين (2/ 214). الملخص في شرح كتاب التوحيد، لصالح الفوزان (ص326). الجديد في شرح كتاب التوحيد، لمحمد القرعاوي (ص365). التمهيد لشرح كتاب التوحيد، لصالح آل الشيخ (ص452). فتاوى اللجنة الدائمة، (1/ 343).

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

“আমি তোমাদের ওপর যে বিষয়ে সবচেয়ে বেশি ভয় করি তা হচ্ছে ছোট শির্ক।” সাহাবীগণ বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! ছোট শির্ক কী? তিনি বলেন: রিয়া (লোক দেখানো)

عَنْ مَحْمُودِ بْنِ لَبِيدٍ رضي الله عنه أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «إِنَّ أَخْوَفَ مَا أَخَافُ عَلَيْكُمُ الشِّرْكُ الْأَصْغَرُ» قَالُوا: وَمَا الشِّرْكُ الْأَصْغَرُ يَا رَسُولَ اللهِ؟ قَالَ: «الرِّيَاءُ، يَقُولُ اللهُ عز وجل لَهُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ إِذَا جُزِيَ النَّاسُ بِأَعْمَالِهِمْ: اذْهَبُوا إِلَى الَّذِينَ كُنْتُمْ تُرَاؤُونَ فِي الدُّنْيَا، فَانْظُرُوا هَلْ تَجِدُونَ عِنْدَهُمْ جَزَاءً؟».
মাহমূদ বিন লাবীদ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “আমি তোমাদের ওপর যে বিষয়ে সবচেয়ে বেশি ভয় করি তা হচ্ছে ছোট শির্ক।” সাহাবীগণ বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! ছোট শির্ক কী? তিনি বলেন: রিয়া (লোক দেখানো)। যে দিন মহান আল্লাহ বান্দাদেরকে তাদের আমল অনুযায়ী বিনিময় দিবেন। সেদিন তিনি বলবেন: দুনিয়ায় যাদেরকে দেখানোর উদ্দেশ্যে তোমরা আমল করতে তাদের কাছে যাও। দেখো, তাদের কাছে কোন প্রতিদান পাও কি না?’’
এটি আহমাদ বর্ণনা করেছেন।মানহাসান
ব্যাখ্যা

নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ হাদীসে তাঁর উম্মতের ওপর সবচেয়ে ভীতিকর বিষয় সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন: তা হচ্ছে ছোট শির্ক। আর ছোট শির্ক হলো রিয়া তথা লৌকিকতা। অর্থাৎ লোক দেখানোর উদ্দেশ্যে কোন আমল করা। অতপর তিনি কিয়ামতের দিন লোক দেখানো উদ্দেশ্যে ইবাদতকারীর শাস্তি সম্পর্কে বর্ণনা করেন। সেদিন তাদেরকে বলা হবে: দুনিয়ায় যাদেরকে দেখানোর উদ্দেশ্যে তোমরা আমল করতে তাদের কাছে যাও। দেখো, তাদের কাছে তোমাদের আমলের কোন সাওয়াব ও পুরস্কার পাও কি না?’

শিক্ষা
  1. এ হাদীসে একমাত্র আল্লাহ তা‘আলার জন্যে ইবাদত করা এবং রিয়া থেকে বেচে থাকাকে ওয়াজিব করা হয়েছে।
  2. উম্মতের প্রতি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের গভীর ভালোবাসা এবং তাদের হিদায়েত ও উপদেশের ব্যাপারে তাঁর ব্যাকুলতা ফুটে উঠেছে।
  3. নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই আশঙ্কা যদি সাহাবীদের সম্মুখে হয়, যারা সর্বাধিক নেককার ও পরহেযগার মানুষ ছিলেন, তাহলে তাদের পরে যারা দুনিয়াতে আগমন করেছে তাদের ব্যাপারে কতটা বেশি আশঙ্কা হতে পারে!
সূত্র

مسند أحمد (39/ 39) (23630). الجديد في شرح كتاب التوحيد، لمحمد القرعاوي (ص57). الملخص في شرح كتاب التوحيد، لصالح الفوزان (ص45).

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

الطِّيَرَةُ شِرْكٌ، الطِّيَرَةُ شِرْكٌ، الطِّيَرَةُ شِرْكٌ، -ثلاثًا-»، وَمَا مِنَّا إِلَّا، وَلَكِنَّ اللهَ عَزَّ وَجَلَّ يُذْهِبُهُ بِالتَّوَكُّلِ ‘ শুভাশুভ নির্ণয় করা শির্ক।শুভাশুভ নির্ণয় করা শির্ক। শুভাশুভ নির্ণয় করা শির্ক।” একথা তিনি তিনবার বললেন। (বর্ণনাকারী বলেন) এমন কিছু আমাদের অনেকের মনে সৃষ্টি হতেই পারে, তবে তা মহান আল্লাহ তাঁর প্রতি তাওয়াক্কুল-ভরসা দ্বারা দূর করে দিবেন।’

عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ مَسعودٍ رضي الله عنه عن رَسولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم قال: «الطِّيَرَةُ شِرْكٌ، الطِّيَرَةُ شِرْكٌ، الطِّيَرَةُ شِرْكٌ، -ثلاثًا-»، وَمَا مِنَّا إِلَّا، وَلَكِنَّ اللهَ عَزَّ وَجَلَّ يُذْهِبُهُ بِالتَّوَكُّلِ.
আব্দুল্লাহ ইবন মাস‘ঊদ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: الطِّيَرَةُ شِرْكٌ، الطِّيَرَةُ شِرْكٌ، الطِّيَرَةُ شِرْكٌ، -ثلاثًا-»، وَمَا مِنَّا إِلَّا، وَلَكِنَّ اللهَ عَزَّ وَجَلَّ يُذْهِبُهُ بِالتَّوَكُّلِ ‘ শুভাশুভ নির্ণয় করা শির্ক।শুভাশুভ নির্ণয় করা শির্ক। শুভাশুভ নির্ণয় করা শির্ক।” একথা তিনি তিনবার বললেন। (বর্ণনাকারী বলেন) এমন কিছু আমাদের অনেকের মনে সৃষ্টি হতেই পারে, তবে তা মহান আল্লাহ তাঁর প্রতি তাওয়াক্কুল-ভরসা দ্বারা দূর করে দিবেন।’
এটি আবূ দাউদ, তিরমিযী, ইবনে মাজাহ ও আহমাদ বর্ণনা করেছেন।মানসহীহ
ব্যাখ্যা

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শুভাশুভ নির্ণয় করা থেকে সাবধান করেছেন। আর তা হলো শ্রুত বা দৃশ্যমান কোন কিছু দ্বারা অশুভকর মনে করা। যেমন: পাখি, পশু, বিকলাঙ্গ ব্যক্তি বা সংখ্যা বা দিন বা অন্য কিছুর মাধ্যমে অশুভ নির্ণয় করা। হাদীসে পাখির দ্বারা শুভাশুভ নির্ণয় করার ব্যাপারে বলা হয়েছে; কেননা এটি দ্বারা শুভাশুভ নির্ণয় করা জাহেলি যুগে প্রসিদ্ধ ছিলো। এর পদ্ধতি হলো: কোন সফর বা ব্যবসা বা অন্য কোন কাজ শুরু করার আগে একটি পাখি উড়িয়ে দেওয়া হতো। পাখিটি যদি ডান দিকে উড়ে যেতো তবে তারা সেটিকে শুভ মনে করতো এবং তাদের ইচ্ছাকৃত কাজটি সম্পন্ন করতো। আর পাখিটি যদি বাম দিকে উড়ে যেতো তবে সেটিকে তারা অশুভ মনে করতো এবং ইচ্ছাকৃত কাজটি করা থেকে বিরত থাকত। তিনি খবর দিয়েছেন যে, এটি সম্পূর্ণ শির্ক। অশুভ নির্ণয় শির্ক হওয়ার কারণ হলো, আল্লাহ ব্যতীত আর কেউ কোন কল্যাণ দিতে পারে না। অন্যদিকে অকল্যাণ ও ক্ষতিও একমাত্র আল্লাহ ছাড়া আর কেউ প্রতিহত করতে পারে না। ইবনু মাস‘ঊদ রাদিয়াল্লাহু উল্লেখ করেন যে, কখনো কখনো মুসলিমের অন্তরে অশুভ হওয়ার ব্যাপারে কিছু উদয় হতে পারে। সেক্ষেত্রে তাকে কাজের উপকরণ গ্রহণ করে আল্লাহর প্রতি তাওয়াক্কুলের মাধ্যমে তার প্রতিহত করা উচিত।

শিক্ষা
  1. কুলক্ষণ নির্ণয় করা শির্ক। কেননা তাতে আল্লাহ ব্যতীত অন্যের সাথে অন্তর সম্পৃক্ত হয়।
  2. গুরুত্বপূর্ণ মাসআলা বারবার উল্লেখ করার গুরুত্ব বুঝানো হয়েছে, যাতে বিষয়টি মুখস্থ হয়ে যায় এবং হৃদয়ে গেঁথে যায়।
  3. আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল কুলক্ষণ ধারণা দূর করে দেয়।
  4. একমাত্র আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল করতে আদেশ করা হয়েছে এবং হৃদয়কে শুধু আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতা‘আলার সাথে সম্পৃক্ত করতে হবে।
সূত্র

سنن أبي داود (6/ 54) (3915). سنن ابن ماجه (4/ 560) (3538). سنن الترمذي (3/ 258) (1614). مسند أحمد (6/ 213) (3687). الجديد في شرح كتاب التوحيد، لمحمد القرعاوي (ص259). الملخص في شرح كتاب التوحيد، لصالح الفوزان (ص233).

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

তারা কি তা হারাম করে না আল্লাহ যা হালাল করেছেন এবং তারা কি হালাল করে না আল্লাহ যা হারাম করেছেন? আমি বললাম হ্যাঁ। তিনি বললেন, এটিই তাদের ইবাদত।

عن عدي بن حاتم رضي الله عنه : "أنه سمع النبي صلى الله عليه وسلم يقرأ هذه الآية: "اتَّخَذُوا أَحْبَارَهُمْ وَرُهْبَانَهُمْ أَرْبَابًا مِنْ دُونِ اللَّهِ وَالْمَسِيحَ ابْنَ مَرْيَمَ وَمَا أُمِرُوا إِلاَّ لِيَعْبُدُوا إِلَهًا وَاحِدًا لا إِلَهَ إِلاَّ هُوَ سُبْحَانَهُ عَمَّا يُشْرِكُونَ" فقلت له: إنا لسنا نعبدهم، قال: أليس يُحَرِّمُونَ ما أحل الله فتُحَرِّمُونَهُ؟ ويُحِلُّونَ ما حَرَّمَ الله فتُحِلُّونَهُ؟ فقلت: بلى، قال: فتلك عبادتهم".
আদী ইবন হাতিম রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এ আয়াত “তারা আল্লাহকে ছেড়ে তাদের পণ্ডিত ও সংসার বিরাগীদের রব হিসেবে গ্রহণ করেছে এবং মারইয়ামপুত্র মাসীহকেও। অথচ তারা এক ইলাহের ইবাদত করার জন্যই আদিষ্ট হয়েছে, তিনি ছাড়া কোনো (সত্য) ইলাহ নেই। তারা যে শরীক করে তিনি তা থেকে পবিত্র” [সূরা আত-তাওবাহ, আয়াত: 31] পড়তে শুনেছেন। তারপর তিনি তাকে বললেন, আমরা তো তাদের ইবাদত করি না। তিনি বললেন, এমন কি নয় যে, আল্লাহ যা হালাল করেছেন তা তারা হারাম করে, ফলে তোমরাও তা হারাম করো? এবং আল্লাহ যা হারাম করেছেন তারা তা হালাল করে, ফলে তোমরাও তা হালাল করো? আমি বললাম হ্যাঁ। তিনি বললেন, এটিই তাদের ইবাদত করা।
এটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন।মানসহীহ
ব্যাখ্যা

যখন এ বিশিষ্ট সাহাবী রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মুখে এমন একটি আয়াতের তিলাওয়াত শুনলেন যে আয়াতে ইয়াহূদী ও খৃষ্টানদের সম্পর্কে আলোচনা রয়েছে যে, তারা তাদের পাদ্রীদের এবং আলেমদের ইলাহ সাব্যস্ত করেছে, তারা তাদের জন্য আল্লাহর বিধানের পরিপন্থী বিধান দেন যার অনুকরণ তারা করে থাকেন, তখন তার জন্য আয়াতের ব্যাখ্যাটি কঠিন হয়। কারণ, তিনি ধারণা করতেন যে, ইবাদত শুধু সাজদা করা ইত্যাদির মধ্যে সীমাবদ্ধ। তাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জানিয়ে দেন যে, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিধানের বিপরীতে হালালকে হারাম এবং হারামকে হালাল সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে আলেম ও পাদ্রীদের অনুকরণ করাও তাদের ইবাদত করা।

শিক্ষা
  1. আল্লাহর বিধানসমূহের বিকৃতিতে আলেমগণ ও অন্যান্য মাখলুকের আনুগত্য করা বড় শিরক, যদি সে জানে যে তারা আল্লাহর বিধানের বিরোধিতা করছে।
  2. হারাম ও হালাল সাব্যস্ত করা আল্লাহর হক।
  3. শির্কের প্রকারসমূহ হতে কতক শির্কের বিবরণ: আর তা হলো আনুগত্যের শিরক।
  4. জাহেল-অজ্ঞকে শিক্ষা দেওয়ার বৈধতা।
  5. ইবাদতের অর্থ ব্যাপক। আল্লাহ যে সব জাহেরী ও বাতেনী কথা ও কর্ম পছন্দ করেন এবং ভালোবাসেন তা সবই তার অর্ন্তভুক্ত।
  6. আহবার ও পাদ্রীদের গোমরাহীর বর্ণনা।
  7. ইয়াহুদী ও খৃষ্টানদের শির্ক প্রমাণ করা।
  8. রাসূলগণের দীনের মূল এক। আর তা হলো তাওহীদ।
  9. আল্লাহর নাফরমানিতে মাখলুকের আনুগত্য করা তার (মাখলুকের) ইবাদত করার শামিল।
  10. যে বিষয়গুলো অস্পষ্ট সে বিষয়ে জ্ঞানীদের কাছে জিজ্ঞাসা করা ওয়াজিব।
  11. ইলমের প্রতি সাহাবীগণের আগ্রহ।
সূত্র

كتاب التوحيد، للإمام محمد بن عبد الوهاب، ت: د. دغش العجمي. مكتبة أهل الأثر, الطبعة الخامسة, 1435ه. الجديد في شرح كتاب التوحيد، لمحمد بن عبد العزيز السليمان القرعاوي, ت: محمد بن أحمد سيد, مكتبة السوادي، الطبعة: الخامسة، 1424ه. الملخص في شرح كتاب التوحيد، للشيخ صالح الفوزان, دار العاصمة, الطبعة الأولى، 1422ه. سلسلة الأحاديث الصحيحة، للألباني, مكتبة المعارف, الطبعة الأولى, 1415ه. جامع الترمذي, ت: أحمد شاكر, مكتبة ومطبعة مصطفى البابي, الطبعة: الثانية، 1395ه.

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে (জাহিলিয়্যাতের যুগে যাদু নষ্ট করার একটি পদ্ধতি) নুশরাহ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলো? তিনি বললেন, তা শয়তানের কাজ।

عن جابر رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم سئل عن النُّشْرَةِ؟ فقال: هي من عمل الشيطان.
জাবের রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত: “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে (জাহিলিয়্যাতের যুগে যাদু নষ্ট করার একটি পদ্ধতি) নুশরাহ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলো? তিনি বললেন, তা শয়তানের কাজ”।
এটি আবূ দাঊদ বর্ণনা করেছেন। - এটি আহমাদ বর্ণনা করেছেন।মানসহীহ
ব্যাখ্যা

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে যাদুগ্রস্থ ব্যক্তির চিকিৎসা জাহিলিয়্যাতের যুগে যেভাবে করা হতো যেমন যাদুকে যাদু দ্বারা চিকিৎসা করা ইত্যাদির বিধান সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি উত্তরে বলেন, এটি শয়তানের কর্ম বা তার মাধ্যমে সংগঠিত হয়। কারণ, তা সাধারণত বিভিন্ন প্রকার যাদু এবং শয়তানী কর্ম দ্বারা হয়ে থাকে। এ গুলো সবই হলো শির্ক এবং হারাম। আর বৈধ নুসরাহ হলো ঝার-ফুঁক দ্বারা অথবা যাদু অনুসন্ধান করে তা কুরআন পড়তে পড়তে হাত দ্বারা নষ্ট করা অথবা বৈধ ঔষুধ দ্বারা যাদুর চিকিৎসা করা।

শিক্ষা
  1. কোনো ক্ষতিতে পড়া হতে বেঁচে থাকার জন্য অজানা বিষয়ে আলেমদের কাছে জিজ্ঞাসা করা।
  2. জাহিলিয়্যাতের যুগের লোকেরা যেভাবে ঝাড়ফুঁক করত, সেভাবে ঝাড়ফুঁক করা নিষিদ্ধ। কারণ, এটি যাদু এবং যাদু কুফর।
  3. শয়তানের যাবতীয় কর্মই হারাম।
সূত্র

1- الملخص في شرح كتاب التوحيد، صالح بن فوزان بن عبد الله الفوزان، دار العاصمة، الرياض، الطبعة: الأولى، 1422هـ - 2001م. 2- الجديد في شرح كتاب التوحيد، محمد بن عبد العزيز السليمان القرعاوي، تحقيق: محمد بن أحمد سيد، مكتبة السوادي، الطبعة: الخامسة، 1424هـ - 2003م. 3- سنن أبي داود، سليمان بن الأشعث أبوداود، تحقيق: محمد محيي الدين عبد الحميد، المكتبة العصرية، صيدا، بيروت. 4- مسند الإمام أحمد بن حنبل، أحمد بن حنبل أبو عبدالله الشيباني، تحقيق: شعيب الأرنؤوط و عادل مرشد، وآخرون، تحت إشراف: عبد الله بن عبد المحسن التركي، مؤسسة الرسالة، الطبعة: الأولى، 1421هـ - 2001م. 5- سلسلة الأحاديث الصحيحة وشيء من فقهها وفوائدها، محمد ناصر الدين الألباني، مكتبة المعارف للنشر والتوزيع، الرياض.

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

কুলক্ষণ যাকে তার প্রয়োজন থেকে ফিরিয়ে রাখল সে শির্ক করল। সাহাবীগণ বললেন, তার কাফ্ফারা কী? তিনি বললেন, এ কথা বলা: হে আল্লাহ আপনার কল্যাণ ছাড়া কোনো কল্যাণ নেই, আপনার অকল্যাণ ছাড়া কোনো অকল্যাণ নেই এবং আপনি ছাড়া কোনো সত্যিকার ইলাহ নেই।

عن عبد الله بن عمرو بن العاص - رضي الله عنه- مرفوعاً: "مَن ردته الطِّيَرَة عن حاجته فقد أشرك، قالوا: فما كفارة ذلك؟ قال: أن تقول: اللهم لا خير إلا خيرك، ولا طَيْرَ إِلَّا طَيْرُكَ ولا إله غيرك".
আব্দুল্লাহ ইবন আমর ইবন ‘আস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে মারফু‘ হিসেবে বর্ণিত, “কুলক্ষণ যাকে তার জরুরী কর্ম থেকে ফিরিয়ে দিল, সে শির্ক করল। সাহাবীগণ বললেন, তার কাফ্ফারা কী? তিনি বললেন, এ কথা বলা: হে আল্লাহ আপনার কল্যাণ ছাড়া কোনো কল্যাণ নেই, আপনার অকল্যাণ ছাড়া কোনো অকল্যাণ নেই এবং আপনি ছাড়া কোনো সত্যিকার ইলাহ নেই।”
এটি আহমাদ বর্ণনা করেছেন।মানসহীহ
ব্যাখ্যা

এ হাদীসটিতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আমাদের জানাচ্ছেন যে, যাকে অশুভ লক্ষণ তার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন থেকে বিরত রাখল, সে এক ধরনের শির্কে লিপ্ত হলো। যখন সাহাবীগণ এ কবীরাহ গুনাহের কাফ্ফারা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন, তখন তিনি তাদের হাদীসে বর্ণিত বাক্যগুলো বলার নির্দেশনা দিলেন, যাতে রয়েছে, যাবতীয় কর্ম আল্লাহর নিকট সোপর্দ করা এবং তিনি ছাড়া অন্য কিছু থেকে ক্ষমতাকে অস্বীকার করা।

শিক্ষা
  1. অশুভ লক্ষণ যাকে তার প্রয়োজন থেকে বিরত রাথে তার শির্ক সাব্যস্ত।
  2. মুশরিকের তাওবা গ্রহণযোগ্য
  3. যে ব্যক্তি অশুভ লক্ষণে পতিত হলো সে কি বলবে তার প্রতি দিক নির্দেশনা।
  4. ভালো ও মন্দ আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত।
সূত্র

1- فتح المجيد شرح كتاب التوحيد، مطبعة السنة المحمدية، القاهرة، مصر، الطبعة: السابعة، 1377هـ - 1957م. 2- القول المفيد على كتاب التوحيد، دار ابن الجوزي، المملكة العربية السعودية، الطبعة: الثانية, محرم، 1424ه. 3- الملخص في شرح كتاب التوحيد، دار العاصمة الرياض، الطبعة: الأولى 1422هـ - 2001م. 4- الجديد في شرح كتاب التوحيد، مكتبة السوادي، جدة، المملكة العربية السعودية، الطبعة: الخامسة، 1424هـ - 2003م. 5- التمهيد لشرح كتاب التوحيد، دار التوحيد، تاريخ النشر: 1424هـ. 6- مسند الإمام أحمد بن حنبل، المحقق: شعيب الأرنؤوط - عادل مرشد، وآخرون، إشراف: د عبد الله بن عبد المحسن التركي، الناشر: مؤسسة الرسالة-الطبعة: الأولى، 1421هـ - 2001م. 7- السلسلة الصحيحة، مكتبة المعارف للنشر والتوزيع، الرياض، الطبعة: الأولى.

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস
১১টির মধ্যে ৮
১১টি হাদীস
  1. আল্লাহ তা‘আলার বাণী : তোমরা জেনে শোনে আল্লাহর জন্য শরীক সাব্যস্ত করো না। ইবন আব্বাস আয়াত বিষয়ে বলেন, আল-আনদাদ: অর্থ হলো শির্ক। আর শির্ক হলো গভীর অন্ধকার রাতে কালো পাথরের ওপর পিপড়ার গুণগুণ শব্দ থেকেও সুক্ষ্ম।
  2. “হে আল্লাহ! আমার কবরকে পূজনীয় মূর্তি বানিয়ে দিওনা।
  3. “যে ব্যক্তি আল্লাহর নাম ব্যতীত অন্য কিছুর নামে শপথ করল সে কুফরী করল অথবা শিরক করল।”
  4. “আমি তোমাদের ওপর যে বিষয়ে সবচেয়ে বেশি ভয় করি তা হচ্ছে ছোট শির্ক।” সাহাবীগণ বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! ছোট শির্ক কী? তিনি বলেন: রিয়া (লোক দেখানো)
  5. الطِّيَرَةُ شِرْكٌ، الطِّيَرَةُ شِرْكٌ، الطِّيَرَةُ شِرْكٌ، -ثلاثًا-»، وَمَا مِنَّا إِلَّا، وَلَكِنَّ اللهَ عَزَّ وَجَلَّ يُذْهِبُهُ بِالتَّوَكُّلِ ‘ শুভাশুভ নির্ণয় করা শির্ক।শুভাশুভ নির্ণয় করা শির্ক। শুভাশুভ নির্ণয় করা শির্ক।” একথা তিনি তিনবার বললেন। (বর্ণনাকারী বলেন) এমন কিছু আমাদের অনেকের মনে সৃষ্টি হতেই পারে, তবে তা মহান আল্লাহ তাঁর প্রতি তাওয়াক্কুল-ভরসা দ্বারা দূর করে দিবেন।’
  6. তারা কি তা হারাম করে না আল্লাহ যা হালাল করেছেন এবং তারা কি হালাল করে না আল্লাহ যা হারাম করেছেন? আমি বললাম হ্যাঁ। তিনি বললেন, এটিই তাদের ইবাদত।
  7. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে (জাহিলিয়্যাতের যুগে যাদু নষ্ট করার একটি পদ্ধতি) নুশরাহ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলো? তিনি বললেন, তা শয়তানের কাজ।
  8. কুলক্ষণ যাকে তার প্রয়োজন থেকে ফিরিয়ে রাখল সে শির্ক করল। সাহাবীগণ বললেন, তার কাফ্ফারা কী? তিনি বললেন, এ কথা বলা: হে আল্লাহ আপনার কল্যাণ ছাড়া কোনো কল্যাণ নেই, আপনার অকল্যাণ ছাড়া কোনো অকল্যাণ নেই এবং আপনি ছাড়া কোনো সত্যিকার ইলাহ নেই।
  9. “যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে কাউকেও শরীক না করে সাক্ষাত করবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। আর যে ব্যক্তি এমন অবস্থায় তাঁর সাথে সাক্ষাত করবে যে, সে তাঁর সাথে শরীক স্থির করেছে, তাহলে সে জাহান্নামে প্রবেশ করবে।”
  10. আল্লাহর বাণী: (অর্থ) “তোমরা তোমাদের ইলাহগুলোকে ছেড়ো না এবং তোমরা ছেড়ো না উদ, সুয়া‘, ইয়াঘূস, ইয়াউক ও নাসরকে”। ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু এ সম্পর্কে বলেন, এরা হলো নূহ সম্প্রদায়ের নেককার লোকদের নাম।
  11. “যে ব্যক্তি আমানতের ওপর কসম খাবে, সে আমাদের দলভুক্ত নয়”।

এখানকার প্রতিটি হাদীস, মান, ব্যাখ্যা ও শিক্ষা HadeethEnc.com যেভাবে প্রকাশ করে হুবহু সেভাবেই দেখানো, তাদের পুনঃপ্রকাশের শর্ত মেনে। মানের সঙ্গে মান-নির্ধারকের নাম নেই। অনুবাদ ও ব্যাখ্যা এর লেখকদের নিজস্ব, এবং কোনো কোনোটিতে বিধান বলা আছে; সাবীলের পর্যালোচকেরা এগুলো যাচাই করেননি। আরবি হাদীসটিই মূল পাঠ। উৎস: HadeethEnc.com