মূল অংশে যান
ব্যাখ্যাসহ হাদীস

আমাদের নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম

১৪টি হাদীস

“সে সত্ত্বার কসম, যার হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ! ইয়াহুদি হোক আর খৃস্টান, যে ব্যক্তিই আমার এ রিসালাতের খবর শুনেছে; অথচ আমার রিসালাতের উপর ঈমান না এনে মারা যাবে, অবশ্যই সে জাহান্নামী হবে।”

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه عَنْ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم أنه قال: «وَالَّذِي نَفْسُ مُحَمَّدٍ بِيَدِهِ لَا يَسْمَعُ بِي أَحَدٌ مِنْ هَذِهِ الْأُمَّةِ يَهُودِيٌّ وَلَا نَصْرَانِيٌّ، ثُمَّ يَمُوتُ وَلَمْ يُؤْمِنْ بِالَّذِي أُرْسِلْتُ بِهِ إِلَّا كَانَ مِنْ أَصْحَابِ النَّارِ».
আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “সে সত্ত্বার কসম, যার হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ! ইয়াহুদি হোক আর খৃস্টান, যে ব্যক্তিই আমার এ রিসালাতের খবর শুনেছে; অথচ আমার রিসালাতের উপর ঈমান না এনে মারা যাবে, অবশ্যই সে জাহান্নামী হবে।”
ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেনমানসহীহ
ব্যাখ্যা

এ হাদীসে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম কসম করে বলেছেন, এ উম্মতের ইয়াহুদি, খৃস্টান বা অন্য যে কোন কারো কাছে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের রিসালাতের দাওয়াত পৌঁছল, অতপর সে তাতে ঈমান না এনে যদি মারা যায়, তবে অবশ্যই সে চিরস্থায়ী জাহান্নামী হবে।

শিক্ষা
  1. নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের রিসালাত বিশ্বের সকল মানুষের জন্য প্রযোজ্য এবং তাঁর অনুরসরণ করা সকলের উপর ফরয। তাছাড়া তাঁর আনিত শারী‘আহর মাধ্যমে পূর্ববর্তী সব শারী‘আহ রহিত (বাতিল) হয়ে গেছে।
  2. সুতরাং যে ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে অস্বীকার করবে, তার অন্যান্য নবী রাসূল ‘আলাইহিমুস সালামের উপর আনিত ঈমান কোন কাজে আসবে না।
  3. পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের কথা শুনেনি, তার কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছেনি, সে মূলত ওযরগ্রস্ত (ক্ষমাপ্রাপ্ত)। পরকালে তার বিষয় আল্লাহর উপর ন্যস্ত থাকবে।
  4. কেউ ইসলাম গ্রহণ করলে তার ইসলাম ‍উপকারে আসবে; যদিও সে মৃত্যুর পূর্বমুহুর্তে ইসলাম গ্রহণ করে।এমনকি যদিও সে ভীষণ অসুস্থতার সময় ইসলাম কবুল করে, যদি তার রূহ কন্ঠে না পৌঁছে।
  5. কাফিরদের ধর্মকে বিশুদ্ধ মনে করা- তন্মধ্যে ইয়াহুদি ও খৃস্টানদের ধর্ম- কুফরী।
  6. হাদীসে ইয়াহুদি ও খৃস্টান ধর্মের কথা উল্লেখ করা হয়েছে মূলত অন্যান্য ধর্ম বাতিল হওয়ার ব্যাপারে সতর্ক করার জন্যে। কেননা ইয়াহুদি ও খৃস্টানদের আসমানী কিতাব থাকা সত্ত্বেও তাদের অবস্থা যেহেতু এমন, সুতরাং যাদের আসমানী কিতাব নেই তারা বাতিল হওয়া আরো অধিক উপযুক্ত। সুতরাং তাদের সকলের উপর ফরয হলো নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের আনিত দ্বীনে প্রবেশ করা এবং তাঁর অনুসরণ করা।
সূত্র

صحيح مسلم (1/ 134) (153). شرح النووي على مسلم (2/ 186). الإفصاح عن معاني الصحاح، لابن هبيرة (8/ 192). طرح التثريب في شرح التقريب، لعبد الرحيم العراقي (7/ 159).

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

কাছে গিয়ে বললাম: আপনি হলেন আমাদের মনিব। তখন তিনি বললেন: “মনিব হলেন আল্লাহ তা‘আলা।” আমরা বললাম: আপনি হলেন আমাদের মধ্যকার শ্রেষ্ঠ ও মহান ব্যক্তি। তখন তিনি বললেন: “তোমরা এ কথা বলতে পারো বা এর কিছুটা। শয়তান যেন তোমাদের উপর সওয়ার না হতে পারে।’’

عَن عَبدِ الله بنِ الشِّخِّير رضي الله عنه قَالَ: انْطَلَقْتُ في وَفدِ بَنِي عَامِرٍ إِلى رَسُولِ الله صلى الله عليه وسلم، فَقُلنا: أَنتَ سيّدُنَا، فقال: «السَّيدُ اللهُ»، قُلنا: وَأَفْضَلُنا فَضْلاً، وأعظَمُنا طَوْلاً، فقال: «قُولُوا بِقَولِكُم، أَو بَعضِ قولِكُم، وَلَا يَسْتَجْرِيَنَّكُم الشَّيطَانُ».
আব্দুল্লাহ ইবন শিখখির রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: انْطَلَقْتُ في وَفدِ بَنِي عَامِرٍ إِلى رَسُولِ الله صلى الله عليه وسلم، فَقُلنا: أَنتَ سيّدُنَا، فقال: «السَّيدُ اللهُ»، قُلنا: وَأَفْضَلُنا فَضْلاً، وأعظَمُنا طَوْلاً، فقال: «قُولُوا بِقَولِكُم، أَو بَعضِ قولِكُم، وَلَا يَسْتَجْرِيَنَّكُم الشَّيطَانُ». একদা আমি বনু আমিরের প্রতিনিধি দলের সাথে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে গিয়ে বললাম: আপনি হলেন আমাদের মনিব। তখন তিনি বললেন: “মনিব হলেন আল্লাহ তা‘আলা।” আমরা বললাম: আপনি হলেন আমাদের মধ্যকার শ্রেষ্ঠ ও মহান ব্যক্তি। তখন তিনি বললেন: “তোমরা এ কথা বলতে পারো বা এর কিছুটা। শয়তান যেন তোমাদের উপর সওয়ার না হতে পারে।’’
এটি আবু দাউদ ও আহমাদ বর্ণনা করেছেন।মানসহীহ
ব্যাখ্যা

একদল লোক নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছে এলো। তাঁর কাছে এসে তারা –তাঁর প্রশংসা সূচক- কিছু কথা বলল, যা তিনি অপছন্দ করলেন। তারা বলল: আপনি হলেন আমাদের মনিব। তখন তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: “মনিব হলেন একমাত্র আল্লাহ।” সৃষ্টির উপর তাঁর সম্পূর্ণ কর্তৃত্ব রয়েছে এবং তারা তাঁর বান্দা। তারা আরো বলল: আপনি হলেন আমাদের মধ্যকার শ্রেষ্ঠ ও মহান ব্যক্তি এবং মর্যাদা, সম্মান ও যোগ্যতায় সর্বোচ্চ। আপনি "আমাদের মধ্যে মর্যাদায় সর্বশ্রেষ্ঠ" এবং সর্বাপেক্ষা উদার, আপনি সুউচ্চ মর্যাদা এবং সম্মানের অধিকারী। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদেরকে নির্দেশ দিলেন, তারা যেন সাধারণত প্রশংসায় যা বলে তা-ই বলে এবং শব্দচয়নে যেন কৃত্রিমতার আশ্রয় না নেয়। শয়তান যেন তাদেরকে টেনে অতিরঞ্জন ও বাড়া বাড়ি তে না নিয়ে যায়, যা তাদেরকে নিষিদ্ধ শিরক এবং এর মাধ্যমসমূহের মধ্যে ফেলবে।

শিক্ষা
  1. সাহাবীদের হৃদয়ে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর মহান মর্যাদা এবং তাঁর প্রতি তাদের গভীর শ্রদ্ধা।
  2. শব্দ ব্যবহারে আজগবি শব্দচয়ন হতে নিষেধ এবং কথায় মধ্যপন্থা অবলম্বন করার নির্দেশ।
  3. তাওহীদ সংরক্ষণ করা এমন কথা ও কাজ থেকে যা তাকে নষ্ট করে ।
  4. প্রশংসায় বাড়াবাড়ি থেকে নিষেধ করা, কারণ এটি শয়তানের অন্যতম প্রবেশদ্বার।
  5. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অবশ্য আদম সন্তানের মধ্যে শ্রেষ্ঠ ও সাইয়্যেদ তবে হাদিসে যা উল্লেখ করা হয়েছে তা বিনয় প্রকাশার্থে এবং এ আশঙ্কায় যে, তারা তাঁর ব্যাপারে বাড়াবাড়ির পর্যায়ে চলে যাবে।
সূত্র

سنن أبي داود (7/ 184) (4806). مسند أحمد (26/ 234) (16307). الملخص في شرح كتاب التوحيد، لصالح الفوزان (ص424). الجديد في شرح كتاب التوحيد، لمحمد القرعاوي (ص472). مشكاة المصابيح، للألباني مشكاة المصابيح (3/ 1373).

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

তুমি মাথা উঠাও এবং বল, তোমার কথা শোন হবে। আর তুমি চাও, তোমাকে দেওয়া হবে। আর তুমি সুপারিশ কর, তোমার সুপারিশ কবুল করা হবে।

عن أنس بن مالك رضي الله عنه مرفوعاً: أخبر النبي صلى الله عليه وسلم : "أنه يأتي فيسجد لربه ويحمده [لا يبدأ بالشفاعة أولا]، ثم يقال له: "ارفع رأسك وقل يُسمع، وسَلْ تُعط، واشفع تُشفَّع".
আনাস ইবন মালিক রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে মারফু‘ হিসেবে বর্ণিত: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সংবাদ দেন যে, তিনি উপস্থিত হবেন। তারপর তার রবের জন্য সেজদা করবেন এবং তার প্রশংসা করবেন। [তিনি প্রথমেই সুপারিশ করা আরম্ভ করবেন না] অতঃপর তাকে বলা হবে: তুমি মাথা উঠাও এবং বল, তোমার কথা শোন হবে। আর তুমি চাও, তোমাকে দেওয়া হবে। আর তুমি সুপারিশ কর, তোমার সুপারিশ কবুল করা হবে।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।মানসহীহ
ব্যাখ্যা

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিয়ামাতের দিন উপস্থিত হবেন তারপর আল্লাহর জন্য সেজদা করবেন ও তার নিকট দো‘আ করবেন। তারপর আল্লাহ তাকে মহান সুপারিশের অনুমতি দেবেন। তখন তার রব তাকে বলবেন, তুমি চাও তোমাকে দেওয়া হবে। তুমি সুপারিশ কর তোমার সুপারিশ গ্রহণ করা হবে। অর্থাৎ তোমার চাওয়া গ্রহণ করা হলো এবং তোমার সুপারিশ গ্রহণ করা হলো।

সূত্র

1- القول المفيد على كتاب التوحيد، دار ابن الجوزي، المملكة العربية السعودية، الطبعة: الثانية, محرم، 1424ه. 2- صحيح البخاري، المحقق: محمد زهير بن ناصر الناصر، الناشر: دار طوق النجاة (مصورة عن السلطانية بإضافة ترقيم ترقيم محمد فؤاد عبد الباقي)، الطبعة: الأولى، 1422هـ. 3- صحيح مسلم، المحقق: محمد فؤاد عبد الباقي، الناشر: دار إحياء التراث العربي – بيروت.

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

“আমাকে এমন পাঁচটি বিষয় দান করা হয়েছে, যা আমার পূর্বে কাউকে দেওয়া হয়নি

عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ رضي الله عنهما أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «أُعْطِيتُ خَمْسًا لَمْ يُعْطَهُنَّ أَحَدٌ قَبْلِي: نُصِرْتُ بِالرُّعْبِ مَسِيرَةَ شَهْرٍ، وَجُعِلَتْ لِي الأَرْضُ مَسْجِدًا وَطَهُورًا، فَأَيُّمَا رَجُلٍ مِنْ أُمَّتِي أَدْرَكَتْهُ الصَّلاَةُ فَلْيُصَلِّ، وَأُحِلَّتْ لِي المَغَانِمُ، وَلَمْ تَحِلَّ لِأَحَدٍ قَبْلِي، وَأُعْطِيتُ الشَّفَاعَةَ، وَكَانَ النَّبِيُّ يُبْعَثُ إِلَى قَوْمِهِ خَاصَّةً وَبُعِثْتُ إِلَى النَّاسِ عَامَّةً».
জাবির ইবনু আব্দিল্লাহ রদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “আমাকে এমন পাঁচটি বিষয় দান করা হয়েছে, যা আমার পূর্বে কাউকে দেওয়া হয়নি। আমাকে এমন প্রভাব দিয়ে সাহায্য করা হয়েছে যে, একমাস দূরত্বেও তা প্রতিফলিত হয়; সমস্ত যমীন আমার জন্য পবিত্র ও সালাত আদায়ের উপযোগী করা হয়েছে। কাজেই আমার উম্মতের যে কোন লোক ওয়াক্ত হলেই সালাত আদায় করতে পারবে; আমার জন্য গানীমাতের মাল হালাল করে দেওয়া হয়েছে, যা আমার পূর্বে আর কারো জন্য হালাল করা হয়নি; আমাকে শাফা‘আতের অধিকার দেয়া হয়েছে; সমস্ত নবী প্রেরিত হতেন কেবল তাঁদের সম্প্রদায়ের জন্য, আর আমাকে প্রেরণ করা হয়েছে সমগ্র মানব জাতির জন্য”।
সহীহ বুখারী ও মুসলিমমানসহীহ
ব্যাখ্যা

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যে, আল্লাহ তাঁকে পাঁচটি গুণ দিয়েছেন যা তার পূর্বের কোন নবীকে দেওয়া হয়নি: প্রথমত: আমাকে ভয় দ্বারা সাহায্য করা হয়েছে যা আমার শত্রুদের হৃদয়ে নিক্ষেপ করা হয়, যদিও আমার এবং তাদের মধ্যে এক মাসের দূরত্ব থাকে। দ্বিতীয়ত: পৃথিবীকে আমাদের জন্য মসজিদে পরিণত করা হয়েছে যাতে আমরা যেখানেই থাকি সালাত আদায় করতে পারি এবং পবিত্র বস্তুতে পরিণত করা হয়েছে যাতে পানি ব্যবহারের সুযোগ না থাকা অবস্থায় মাটি দিয়ে পবিত্রতা হাসিল করতে পারি। তৃতীয়ত: আমাদের জন্য যুদ্ধের গনীমতকে হালাল করা হয়েছে, যা মুসলিমগণ কাফেরদের সাথে যুদ্ধের সময় গ্রহণ করেন। চতুর্থত: কিয়ামতের দিন পরিস্থিতির ভয়াবহতা থেকে মানুষকে মুক্তি দেওয়ার জন্য আমাকে সবচেয়ে বড় সুপারিশ প্রদান করা হয়েছে। পঞ্চমত: আমি সমস্ত সৃষ্টি: তাদের মানুষ এবং তাদের জিনদের কাছে প্রেরিত হয়েছি, তার পূর্ববর্তী নবীগণের বিপরীতে, যারা কেবল তাদের সম্প্রদায়ের জন্য প্রেরিত হতেন।

শিক্ষা
  1. একজন বান্দার জন্য তার উপর আল্লাহর নেয়ামত গণনা করার বিধান, সেগুলো সম্পর্কে জানানো এবং তার জন্য আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করার স্বার্থে।
  2. মহান আল্লাহ এই জাতি এবং এর নবীকে এই গুণাবলী দ্বারা শ্রষ্ঠত্ব দান করেছেন।
  3. যে কোন পরিস্থিতিতে সময়মত সালাত আদায় করা এবং মুসল্লী সালাতের যে কয়টি শর্ত, রোকন ও ওয়াজিব পালনে সক্ষম হবে তাই আঞ্জাম দিবে।
  4. নবীগণের মধ্যে যে শাফায়াতের জন্য নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লামকে খাস করা হয়েছে, তা বিভিন্ন প্রকারের: তার একটি হল: সকল মাখলুকের মাঝে বিচার-ফয়সালা করার জন্য তার সুপারিশ। আরেকটি হল: জান্নাতীদের জান্নাতে প্রবেশের জন্য তাঁর সুপারিশ। আরেকটি হল: বিশেষ করে তাঁর চাচা আবু তালিবের জন্য তার ওপর জাহান্নামের আগুন হালকা করার সুপারিশ, তাকে জাহান্নাম থেকে বের করার জন্য নয়, কারণ সে কাফের অবস্থায় মারা গেছে।
  5. নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনেক গুণ রয়েছে, যা এই হাদীসে উল্লেখ করা হয়নি, যার মধ্যে রয়েছে: তাঁকে অল্প কথায় অনেক অর্থ সম্বলিত বাণী দেওয়া হয়েছে, তার দ্বারা নবীদের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়েছে এবং আমাদের কাতারগুলি ফেরেশতাদের কাতারের মতো করা হয়েছে এবং অন্যান্য গুণাবলী।
সূত্র

صحيح البخاري (1/ 74) (335). صحيح مسلم (1/ 370) (521). تيسير العلام شرح عمدة الأحكام، للبسام (ص74). تنبيه الأفهام شرح عمدة الأحكام، لابن عثيمين (1/ 94).

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

রাসূলল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন অবস্থায় মারা গেলেন যে, তখন একটা প্রাণীর খেয়ে বাঁচার মতো কিছু খাদ্য আমার ঘরে ছিল না, তবে আমার তাকের মধ্যে যৎসামান্য যব ছিল। এ থেকে বেশ কিছুদিন আমি খেলাম। কিন্তু যখন একদিন মেপে নিলাম, ফলে তা শেষ হয়ে গেল।’

عن عائشة رضي الله عنها قالت: تُوُفِّيَ رسول الله صلى الله عليه وسلم وما في بيتي من شيء يَأكُلُهُ ذُو كَبدٍ إلا شَطْرُ شَعير في رَفٍّ لي، فأكَلتُ منه حتى طال عليَّ، فَكِلْتُهُ فَفَنِيَ.
আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা থেকে মারফু হিসেবে বর্ণিত, “রাসূলল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন অবস্থায় মারা গেলেন যে, একটা প্রাণীর খেয়ে বাঁচার মত কিছু খাদ্য আমার ঘরে ছিল না, তবে আমার তাকের মধ্যে যৎসামান্য যব ছিল। এ থেকে বেশ কিছুদিন খেলাম, কিন্তু যখন মেপে নিলাম তখন তা শেষ হয়ে গেল।’
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।মানসহীহ
ব্যাখ্যা

আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা জানান যে, ‘রাসূলল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইন্তেকাল করলেন, অথচ তার ঘরে সামান্য যব ছাড়া আর কিছুই ছিল না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে যব রেখে গিয়েছেন তা থেকে বেশ কিছুদিন সে খেতে থাকল, কিন্তু যখন তা ওজন করল, শেষ হয়ে গেল।

সূত্র

كنوز رياض الصالحين، أ.د. حمد بن ناصر بن عبد الرحمن العمار، دار كنوز إشبيليا، الطبعة الأولى: 1430 هـ. بهجة الناظرين، الشيخ: سليم بن عيد الهلالي، دار ابن الجوزي. نزهة المتقين، د. مصطفى سعيد الخن، د. مصطفى البغا، محيي الدين مستو، علي الشرجبي، محمد أمين لطفي، مؤسسة الرسالة، بيروت، الطبعة الأولى: 1397 هـ 1977 م، الطبعة الرابعة عشرة 1407 هـ 1987م. شرح صحيح البخاري لابن بطال، المؤلف: ابن بطال أبو الحسن علي بن خلف بن عبد الملك، تحقيق: أبو تميم ياسر بن إبراهيم، دار النشر: مكتبة الرشد - السعودية، الرياض، الطبعة: الثانية، 1423هـ - 2003م. رياض الصالحين، د. ماهر بن ياسين الفحل، الناشر: دار ابن كثير للطباعة والنشر والتوزيع، دمشق - بيروت، الطبعة: الأولى، 1428 هـ - 2007 م. صحيح مسلم، المؤلف: مسلم بن الحجاج القشيري النيسابوري، المحقق: محمد فؤاد عبد الباقي، الناشر: دار إحياء التراث العربي - بيروت. صحيح البخاري، المؤلف: محمد بن إسماعيل أبو عبدالله البخاري الجعفي، المحقق: محمد زهير بن ناصر الناصر، الناشر: دار طوق النجاة (مصورة عن السلطانية بإضافة ترقيم محمد فؤاد عبد الباقي)، الطبعة: الأولى، 1422هـ. المنهاج شرح صحيح مسلم بن الحجاج، المؤلف: أبو زكريا محيي الدين يحيى بن شرف النووي، الناشر: دار إحياء التراث العربي - بيروت، الطبعة: الثانية، 1392.

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

“আমার সকল উম্মত জান্নাতে যাবে, যে অস্বীকার করবে সে ব্যতীত

عن أبي هريرة رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «كُلُّ أُمَّتِي يَدْخُلُونَ الْجَنَّةَ إِلَّا مَنْ أَبَى»، قَالُوا: يَا رَسُولَ اللهِ، وَمَنْ يَأْبَى؟ قَالَ: «مَنْ أَطَاعَنِي دَخَلَ الْجَنَّةَ، وَمَنْ عَصَانِي فَقَدْ أَبَى».
আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “আমার সকল উম্মত জান্নাতে যাবে, যে অস্বীকার করবে সে ব্যতীত।” তারা জিজ্ঞেস করলেন, কে অস্বীকার করবে? তিনি সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: “যারা আমার আনুগত্য স্বীকার করেছে তারা জান্নাতে যাবে। আর যে আমার নাফরমানী করল সেই অস্বীকার করল।”
এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন।মানসহীহ
ব্যাখ্যা

নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ হাদীসে সংবাদ দিয়েছেন, তাঁর সকল উম্মত জান্নাতে প্রবেশ করবে, তবে যে অস্বীকার করল সে ব্যতীত। সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন: হে আল্লাহর রাসূল ! অস্বীকারকারী কে? নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম উত্তর দিলেন: যে ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের আনুগত্য স্বীকার করবে এং অনুসরণ করবে সে জান্নাতে যাবে। আর যে তাঁর নাফরমানী করবে এবং শরী‘য়তের আনুগত্য করবে না,সেই তার মন্দ আমলের কারণে জান্নাতে প্রবেশে বাধাগ্রস্থ হবে।

শিক্ষা
  1. রাসূলের আনুগত্যই আল্লাহর আনুগত্য। আর তাঁর নাফরমানীই হলো আল্লাহর নাফরমানী।
  2. নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লামের আনুগত্য জান্নাতে প্রবেশের আবশ্যক হয়ে যায়। অন্যদিকে তাঁর নাফরমানী জাহান্নামে প্রবেশর আবশ্যক হয়ে যায়।
  3. এ উম্মতের আনুগত্যশীলদের জন্য রয়েছে এ হাদীসে সুসংবাদ। তারা সকলেই জান্নাতে প্রবেশ করবে, তবে যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলে নাফরমানী করবে সে ব্যতীত।
  4. উম্মতের প্রতি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লামের মমতাবোধ এবং তাদের সকলের হেদায়েতের ব্যাপারে তাঁর আগ্রহ এ হাদীসে বর্ণিত হয়েছে।
সূত্র

صحيح البخاري (9/ 92) (7280). فيض القدير شرح الجامع الصغير، للمناوي، المكتبة التجارية الكبرى – مصر، الطبعة: الأولى. بهجة الناظرين شرح رياض الصالحين لسليم الهلالي، ط1، دار ابن الجوزي، الدمام، 1415هـ. التيسير بشرح الجامع الصغير، للمناوي، مكتبة الإمام الشافعي، الرياض، ط3.

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একপাত্র পানি চাইলে একটি বড় পাত্র তাঁর নিকট আনা হলো। তাতে সামান্য পানি ছিল। তারপর তিনি এতে তাঁর আঙ্গুল রাখলেন। আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি পানির দিকে তাকালাম। তাঁর আঙ্গুলের ভেতর দিয়ে পানি উপচে পড়ছে। আমি অনুমান করলাম, তাদের সংখ্যা ছিল সত্তর থেকে আশি জনের মতো।

عن أنس بن مالك رضي الله عنه قال: حَضَرَتِ الصلاةُ فقامَ مَنْ كان قريبَ الدارِ إلى أَهْلِهِ، وبَقِيَ قَوْمٌ، فأُتِيَ رسولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم بِمِخْضَبٍ مِنْ حِجَارَةٍ، فَصَغُرَ المِخْضَبُ أَنْ يَبْسُطَ فيهِ كَفَّهُ، فتَوَضَّأَ القومُ كلهم. قالوا: كم كنتم؟ قال: ثمانينَ وزيادةً. وفي رواية: أَنَّ النبيَّ صلى الله عليه وسلم دعا بإناءٍ من مَاءٍ، فأُتِيَ بقَدَحٍ رَحْرَاحٍ فيهِ شَيْءٌ من ماءٍ، فوضعَ أَصَابِعَهُ فيهِ، قال أنس: فَجَعَلْتُ أَنْظُرُ إلى الماءِ يَنْبُعُ مِنْ بَيْنِ أَصَابِعِهِ، فَحَزَرْتُ مَنْ تَوَضَّأَ ما بَيْنَ السبعينَ إلى الثمانينَ.
আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে মারফূ হিসেবে বর্ণিত, একদা সালাতের সময় উপস্থিত হলে যাদের বাড়ি নিকটে ছিল তারা অযু করার জন্য বাড়ি চলে গেলেন। আর কিছু লোক রয়ে গেলেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্য একটি পাথরের পাত্রে পানি আনা হলো। পাত্রটি এত ছোট ছিল যে, তাতে তার কব্জি খুলে দেওয়া যাচ্ছিল না। তা থেকে সবাই অযু করলেন। তারা বলল: আপনারা কতজন ছিলেন? বললেন: আশিজন বা তারও কিছু বেশি। অন্য বর্ণনায় এসেছে: বী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একপাত্র পানি চাইলে একটি বড় পাত্র তাঁর নিকট আনা হলো। তাতে সামান্য পানি ছিল। তারপর তিনি এতে তাঁর আঙ্গুল রাখলেন। আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি পানির দিকে তাকালাম। তাঁর আঙ্গুলের ভেতর দিয়ে পানি উপচে পড়ছে। আমি অনুমান করলাম, তাদের সংখ্যা ছিল সত্তর থেকে আশি জনের মতো
বিভিন্ন বর্ণনায় মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)মানসহীহ
ব্যাখ্যা

আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, “একদা সালাতের সময় উপস্থিত হলো” অর্থাৎ একবার সাহাবায়ে কেরাম মদীনায় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে অবস্থানকালে আসরের সালাতের সময় হলো। যারা মসজিদের নিকটে ছিল তারা দাঁড়ালেন। অর্থাৎ যাদের বাড়ি উক্ত স্থান থেকে নিকটে ছিল তারা অযু করার জন্য বাড়ি চলে গেলেন। আর কিছু লোক রয়ে গেলেন অর্থাৎ যাদের বাড়ী দূরে ছিল তারা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে রয়ে গেলেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য একটি পাথরের পাত্রে পানি আনা হলো। অর্থাৎ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট পাথরের একটি ছোট পাত্র উপস্থিত করা হলো যাতে অল্প পরিমাণ পানি ছিল। কিছু কিছু বর্ণনায় পাত্রের ধরণ হিসেবে এসেছে ‘রাহরা’ (বড় পাত্র)। “পাত্রটি এত ছোট ছিল যে, তাতে তাঁর উভয় হাত মেলে দেওয়া সম্ভব ছিল না।” অর্থাৎ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন এর ছোট পাত্রের ভিতরে হাত মেলে দেওয়ার চেষ্টা করলেন তখন তা সঙ্কুচিত হয়ে গেল। আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, “তা থেকেই উপস্থিত সকল লোক অযু করলেন। আমরা জিজ্ঞেস করলাম: আপনারা কতজন ছিলেন? তিনি বললেন: আশিজন বা তারও কিছু অধিক।” অর্থাৎ আশিজন বা তার চেয়ে বেশি।

সূত্র

دليل الفالحين لطرق رياض الصالحين، لابن علان، نشر دار الكتاب العربي، بدون تاريخ. نزهة المتقين شرح رياض الصالحين، نشر: مؤسسة الرسالة، الطبعة: الرابعة عشر، 1407هـ - 1987م. بهجة الناظرين شرح رياض الصالحين، للهلالي، نشر: دار ابن الجوزي. الطبعة الأولى 1418هـ. كنوز رياض الصالحين، نشر: دار كنوز إشبيليا، الطبعة: الأولى، 1430هـ - 2009م. صحيح البخاري، نشر: دار طوق النجاة (مصورة عن السلطانية بإضافة ترقيم ترقيم محمد فؤاد عبد الباقي)، الطبعة: الأولى 1422هـ. صحيح مسلم، تحقيق: محمد فؤاد عبد الباقي، نشر: دار إحياء التراث العربي، بيروت.

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

ইসরা (মিরাজের রাতে) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের সামনে শরাব ও দুধের দু’টি পেয়ালা পেশ করা হয়েছিল।

عن أبي هريرة رضي الله عنه : أنّ النبيَّ صلى الله عليه وسلم أُتِيَ لَيْلَةَ أُسْرِيَ بِهِ بِقَدَحَيْنِ مِنْ خَمْرٍ وَلَبَنٍ، فَنَظَرَ إِلَيْهمَا فَأَخَذَ اللَّبَنَ. فَقَالَ جِبريل: الحَمْدُ للهِ الَّذِي هَدَاكَ لِلفِطْرَةِ لَوْ أخَذْتَ الخَمْرَ غَوَتْ أُمَّتُكَ.
আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, ইসরা (মিরাজের রাতে) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের সামনে শরাব ও দুধের দুটি পেয়ালা পেশ করা হয়েছিল। তিনি উভয়টির দিকে তাকালেন। এরপর দুধের পেয়ালাটি গ্রহণ করেন। তখন জিবরীল আলাইহিস সালাম বললেন, “সকল প্রশংসা সেই আল্লাহর জন্য যিনি আপনাকে স্বভাবজাত জিনিসের দিকে পথ দেখিয়েছেন; অথচ যদি আপনি শরাব গ্রহণ করতেন তাহলে আপনার উম্মত গুমরাহ হয়ে যেত।”
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।মানসহীহ
ব্যাখ্যা

ইসরা তথা মিরাজের রাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের সামনে নিয়ে আসা হয়েছিল অর্থাৎ জিবরীল আলাইহিস সালাম শারাব ও দুধের দুটি পেয়ালা পেশ করেছিলেন। অর্থাৎ পেয়ালা দুটির একটিতে মদ ও অন্যটিতে দুধ ভর্তি ছিল। তিনি উভয়টির দিকে তাকালেন অর্থাৎ তিনি কোনটি গ্রহণ করবেন সে ব্যাপারে তাকে পছন্দ করার ইখতিয়ার দেওয়া হয়েছিল। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দুধের পাত্রটি গ্রহণ করার ইলহাম করা হয়েছিল। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুধের পেয়ালাটি পছন্দ করেন ও তা গ্রহণ করেন। তখন জিবরীল আলাইহিস সালাম বললেন, “সকল প্রশংসা সেই আল্লাহর জন্য যিনি আপনাকে স্বভাবজাত জিনিসের দিকে পথ দেখিয়েছেন; অর্থাৎ আপনি ইসলাম ও দৃঢ়তার চিহ্ন গ্রহণ করতে সমর্থ হয়েছেন। দুধকে এ জন্যই স্বভাবজাত দীনের চিহ্ন হিসেবে ধরা হয়েছে কারণ তা উপাদেয়, পবিত্র, পরিচ্ছন্ন ও পান করার জন্য অধিক উপযোগী আর তা পরিণামেও নিরাপদ। “যদি আপনি শরাব গ্রহণ করতেন তাহলে আপনার উম্মত গুমরাহ হয়ে যেত।” দেখুন, দলীলুল ফালিহীন, (৭/২০৭); শরহে রিয়াদুস সালিহীন, (৫/৪৬)।

সূত্র

1-بهجة الناظرين شرح رياض الصالحين؛ تأليف سليم الهلالي، دار ابن الجوزي. 2-دليل الفالحين لطرق رياض الصالحين؛ لمحمد بن علان الشافعي، دار الكتاب العربي-بيروت. 3-رياض الصالحين من كلام سيد المرسلين؛ للإمام أبي زكريا النووي، تحقيق د. ماهر الفحل، دار ابن كثير-دمشق، الطبعة الأولى، 1428هـ. 4-شرح رياض الصالحين؛ للشيخ محمد بن صالح العثيمين، مدار الوطن، الرياض، 1426هـ. 5-صحيح البخاري –الجامع الصحيح-؛ للإمام أبي عبدالله محمد بن إسماعيل البخاري، عناية محمد زهير الناصر، دار طوق النجاة، الطبعة الأولى، 1422هـ. 6-صحيح مسلم؛ للإمام مسلم بن الحجاج، حققه ورقمه محمد فؤاد عبدالباقي، دار عالم الكتب-الرياض، الطبعة الأولى، 1417هـ. 7-كنوز رياض الصالحين؛ فريق علمي برئاسة أ.د. حمد العمار، دار كنوز إشبيليا-الرياض، الطبعة الأولى، 1430هـ. 8-نزهة المتقين شرح رياض الصالحين؛ تأليف د. مصطفى الخِن وغيره، مؤسسة الرسالة-بيروت، الطبعة الرابعة عشر، 1407هـ.

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস
১৪টির মধ্যে ৮
১৪টি হাদীস
  1. “সে সত্ত্বার কসম, যার হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ! ইয়াহুদি হোক আর খৃস্টান, যে ব্যক্তিই আমার এ রিসালাতের খবর শুনেছে; অথচ আমার রিসালাতের উপর ঈমান না এনে মারা যাবে, অবশ্যই সে জাহান্নামী হবে।”
  2. কাছে গিয়ে বললাম: আপনি হলেন আমাদের মনিব। তখন তিনি বললেন: “মনিব হলেন আল্লাহ তা‘আলা।” আমরা বললাম: আপনি হলেন আমাদের মধ্যকার শ্রেষ্ঠ ও মহান ব্যক্তি। তখন তিনি বললেন: “তোমরা এ কথা বলতে পারো বা এর কিছুটা। শয়তান যেন তোমাদের উপর সওয়ার না হতে পারে।’’
  3. তুমি মাথা উঠাও এবং বল, তোমার কথা শোন হবে। আর তুমি চাও, তোমাকে দেওয়া হবে। আর তুমি সুপারিশ কর, তোমার সুপারিশ কবুল করা হবে।
  4. “আমাকে এমন পাঁচটি বিষয় দান করা হয়েছে, যা আমার পূর্বে কাউকে দেওয়া হয়নি
  5. রাসূলল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন অবস্থায় মারা গেলেন যে, তখন একটা প্রাণীর খেয়ে বাঁচার মতো কিছু খাদ্য আমার ঘরে ছিল না, তবে আমার তাকের মধ্যে যৎসামান্য যব ছিল। এ থেকে বেশ কিছুদিন আমি খেলাম। কিন্তু যখন একদিন মেপে নিলাম, ফলে তা শেষ হয়ে গেল।’
  6. “আমার সকল উম্মত জান্নাতে যাবে, যে অস্বীকার করবে সে ব্যতীত
  7. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একপাত্র পানি চাইলে একটি বড় পাত্র তাঁর নিকট আনা হলো। তাতে সামান্য পানি ছিল। তারপর তিনি এতে তাঁর আঙ্গুল রাখলেন। আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি পানির দিকে তাকালাম। তাঁর আঙ্গুলের ভেতর দিয়ে পানি উপচে পড়ছে। আমি অনুমান করলাম, তাদের সংখ্যা ছিল সত্তর থেকে আশি জনের মতো।
  8. ইসরা (মিরাজের রাতে) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের সামনে শরাব ও দুধের দু’টি পেয়ালা পেশ করা হয়েছিল।
  9. وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ، لَيُوشِكَنَّ أَنْ يَنْزِلَ فِيكُمْ ابْنُ مَرْيَمَ حَكَمًا مُقْسِطًا، فَيَكْسِرَ الصَّلِيبَ، وَيَقْتُلَ الخِنْزِيرَ، وَيَضَعَ الجِزْيَةَ، وَيَفِيضَ المَالُ حَتَّى لاَ يَقْبَلَهُ أَحَدٌ». “শপথ সেই সত্তার, যাঁর হাতে আমার প্রাণ। অচিরেই তোমাদের মাঝে ন্যায় বিচারকরূপে মারইয়ামের পুত্র [ঈসা (আ.)] অবতরণ করবেন। তারপর তিনি ক্রুশ ভেঙ্গে ফেলবেন, শুকর হত্যা করবেন, জিযিয়া রহিত করবেন এবং ধন-সম্পদের এরূপ প্রাচুর্য হবে যে, কেউ তা গ্রহণ করবে না।”
  10. এবং আমি বনু সা‘দ ইবনু বকরের ভাই দ্বিমাম ইবনু ছা‘লাবাহ।
  11. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বয়স যখন চল্লিশ বছর, তখন তার উপরে কুরআন অবতীর্ণ হয়
  12. তুমি লিখে রাখো, সেই সত্তার শপথ, যাঁর হাতে আমার প্রাণ, এ মুখ থেকে সত্য ব্যতীত অন্য কিছু বের হয় না”।
  13. “তোমাদের চেয়ে আমিই আল্লাহকে অধিক ভয় করি ও বেশী জানি”।
  14. “প্রত্যেক নবীকে তাঁর যুগের প্রয়োজন মুতাবিক কিছু মুজিযা দান করা হয়েছে, যা দেখে লোকেরা তাঁর প্রতি ঈমান এনেছে

এখানকার প্রতিটি হাদীস, মান, ব্যাখ্যা ও শিক্ষা HadeethEnc.com যেভাবে প্রকাশ করে হুবহু সেভাবেই দেখানো, তাদের পুনঃপ্রকাশের শর্ত মেনে। মানের সঙ্গে মান-নির্ধারকের নাম নেই। অনুবাদ ও ব্যাখ্যা এর লেখকদের নিজস্ব, এবং কোনো কোনোটিতে বিধান বলা আছে; সাবীলের পর্যালোচকেরা এগুলো যাচাই করেননি। আরবি হাদীসটিই মূল পাঠ। উৎস: HadeethEnc.com