عن ابن مسعود رضي الله عنه قال: دخلتُ على النبيِّ صلى الله عليه وسلم وهو يُوعَكُ، فَمَسَسْتُهُ، فقلتُ: إنّكَ لَتُوعَكُ وَعَكًا شَدِيدًا، فقالَ: «أجَلْ، إنِّي أُوعَكُ كما يُوعَكُ رَجُلانِ منكُم».
ইবনে মাসঊদ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট গেলাম যখন তাঁর জ্বর হয়েছিল। অতঃপর আমি তাঁকে স্পর্শ করে বললাম, ‘আপনার প্রচণ্ড জ্বর এসেছে।’ তিনি বললেন, “হ্যাঁ, তোমাদের দু’জনের সমান আমার জ্বর হয়।”
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।মানসহীহ
ব্যাখ্যা
ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু উল্লেখ করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রোগের তীব্রতার কারণে কষ্ট করছিলেন তখন তিনি তার নিকট প্রবেশ করেন। তারপর তিনি হাত প্রসারিত করলেন এবং বললেন, হে আল্লাহর রাসূল আপনি রোগের কারণে কষ্ট পাচ্ছেন। তখন তিনি সংবাদ দেন যে, আমাদের মধ্যে দুইজন লোকের মতো তিনি কষ্ট পাচ্ছেন। আর তা ছিল যাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ধৈর্যের সবোর্চ্চ উন্নত স্তর লাভ করেন।
সূত্র
بهجة الناظرين شرح رياض الصالحين، تأليف سليم الهلالي، دار ابن الجوزي.
تطريز رياض الصالحين، تأليف فيصل آل مبارك، تحقيق د. عبدالعزيز آل حمد، دار العاصمة، الرياض، الطبعة الأولى، 1423هـ.
رياض الصالحين من كلام سيد المرسلين، للإمام أبي زكريا النووي، تحقيق د. ماهر الفحل، دار ابن كثير، دمشق، الطبعة الأولى، 1428هـ.
شرح رياض الصالحين، للشيخ محمد بن صالح العثيمين، مدار الوطن - الرياض، 1426هـ.
صحيح البخاري، للإمام أبي عبدالله محمد بن إسماعيل البخاري، عناية محمد زهير الناصر، دار طوق النجاة، الطبعة الأولى، 1422هـ.
صحيح مسلم، للإمام مسلم بن الحجاج، حققه ورقمه محمد فؤاد عبدالباقي، دار عالم الكتب - الرياض، الطبعة الأولى، 1417هـ.
كنوز رياض الصالحين، فريق علمي برئاسة أ.د. حمد العمار، دار كنوز إشبيليا -الرياض، الطبعة الأولى، 1430هـ.
نزهة المتقين شرح رياض الصالحين، تأليف د. مصطفى الخِن وغيره، مؤسسة الرسالة - بيروت، الطبعة الرابعة عشر، 1407هـ.
HadeethEnc.com-এ এই হাদীসعن جابر بن عبد الله رضي الله عنهما : «أنه كان يسير على جمل فأعيا، فأراد أن يُسَيِّبَهُ. فلحقني النبي صلى الله عليه وسلم فدعا لي، وضربه، فسار سيرا لم يَسِرْ مثله. ثم قال: بِعْنِيهِ بأُوقية. قلتُ: لا. ثم قال: بِعْنِيه. فَبِعْتُهُ بأوقية، واستثنيت حُمْلَانَهُ إلى أهلي. فلما بلغت: أتيته بالجمل. فنقدني ثمنه. ثم رجعت. فأرسل في إثري. فقال: أتَرَانِي مَاكستُكَ لآخذ جملك؟ خذ جملك ودراهمك، فهو لك».
জাবির ইবন আব্দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত: তিনি একটি উটে আরোহণ করতেন। সেটি তিনি ছেড়ে দেওয়ার ইচ্ছা করলেন। (তিনি বলেন) তারপর আমার সাথে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাক্ষাৎ হলো তিনি আমার জন্য দো‘আ করলেন এবং উটটি প্রহার করলেন। তারপর তা এত দ্রুত চলল, ইতোপূর্বে কোনো দিন এত দ্রুত চলে নি। তারপর তিনি বললেন, তুমি তাকে এক উকীয়্যার বিনিময়ে আমার কাছে বিক্রি করে দাও। আমি বললাম, না। তিনি আবারো বললেন, তুমি আমার নিকট তা বিক্রি করে দাও। ফলে আমি তা এক উকিয়্যাহর বিনিময়ে বিক্রি করে দিলাম এবং আমার পরিবারের নিকট পৌঁছা পর্যন্ত আরোহণ করার শর্ত দিলামা। আমি যখন বাড়ি পৌঁছলাম তার নিকট উটটি পৌঁছে দিতে গেলাম তখন তিনি আমাকে তার মূল্য পরিশোধ করলেন। তারপর আমি বাড়িতে রওয়ানা করলাম, এমতাবস্থায় আমার পিছনে একজনকে ডেকে পাঠালেন। (আমি উপস্থিত হলে) তিনি বললেন, তুমি কি ভেবেছিলে যে, আমি তোমার উট গ্রহণ করার জন্য তোমার সাথে দর কষাকষি করেছি? তুমি তোমার উট নাও এবং দিরহামও নাও। সবই তোমার।”
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।মানসহীহ
ব্যাখ্যা
একটি যুদ্ধে জাবের রাদিয়াল্লাহ ‘আনহুমা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামেরে সাথে ছিলেন। তিনি এমন একটি উটের উপর আরোহণ করেছিলেন যে উটটি দূর্বল হয়ে গেছে এবং সে ভ্রমণ করতে ও সৈন্যদের সাথে চলতে অক্ষম হয়ে পড়েছিল। ফলে তাতে উপকার না থাকায় তিনি চাইলেন তাকে ছেড়ে দিবেন, সে যে দিকে দেখবে চলে যাবে। এদিকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সাথী ও উম্মতের প্রতি দয়ালু হওয়ার কারণে সৈন্যদলের পিছনে থাকতেন। তিনি দুর্বল, অক্ষম ও দল থেকে পিছিয়ে পড়া লোকদের দেখা শোনা করতেন। ইত্যবসরে তিনি জাবেরের দেখা পেলেন যখন সে তার দুর্বল উটের উপর আরোহী ছিল। তিনি তার জন্য দো‘আ করলেন এবং তার উটের ওপর আঘাত করলেন। তার এ আঘাত করা, অক্ষম উটটির জন্য শক্তি ও প্রেরণনা কারণ হলো। ফলে সেটি এত দ্রূত চলল, ইতোপূর্বে আর কখনো এত দ্রূত চলে নি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জাবেরের অন্তরকে খুশি করা এবং সফরের পথ চলায় সাথীর ন্যায় আলাপচারিতায় বললেন, তুমি এটিকে আমার নিকট এক উকিয়া দ্বারা বিক্রি করে দাও। তখন জাবের রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু আল্লাহর ফযলের প্রতি আগ্রহ দেখালেন। তিনি জানতেন যে, এটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট বিক্রি না করাতে ইসলামের কোনো ক্ষতি নেই। কারণ, যে বিষয়ে রাসূলের আনুগত্য করা ওয়াজিব এটি তার অন্তভুর্ক্ত নয়। এ ছাড়াও আদেশটি বাধ্যতামুলক ছিল না। তা সত্বেও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার কাছে আবারও চাইলেন। তখন তিনি এক উকীয়ার বিনিময়ে তা তার কাছে বিক্রি করে দিলেন, তবে শর্তে দিলেন মদীনায় তার পরিবারের নিকট পৌঁছা পর্যন্ত সে তাতে আরোহণ করবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার শর্ত গ্রহণ করলেন। যখন সে মদীনায় পৌঁছল তাকে উটটি হস্তান্তর করল, আর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও তাকে মূল্য প্রদান করলেন। তারপর যখন সে রওয়ানা দিল তার পিছনে একজন লোককে ডাকতে পাঠালেন, ফলে জাবের ফিরে আসলো। তখন তিনি তাকে বললেন, তুমি কি ধারণা করছিলে যে, আমি তোমার উটের প্রতি লোভ করে তা তোমার থেকে নেওয়ার জন্য তোমার সাথে এ বেচা-কেনা করেছি? তুমি তোমার উট ও দিরহাম নিয়ে যাও। উভয়টিই তোমার। তার দয়া, আখলাক ও অনুগ্রহের সামনে এ ঘটনাটি আশ্চর্য কিছু নয়, তার আরো বড় বড় কৃতিত্ব রয়েছে।
সূত্র
- صحيح البخاري –الجامع الصحيح-؛ للإمام أبي عبد الله محمد بن إسماعيل البخاري، عناية محمد زهير الناصر، دار طوق النجاة، الطبعة الأولى، 1422هـ.
- صحيح مسلم؛ للإمام مسلم بن الحجاج، حققه ورقمه محمد فؤاد عبد الباقي، دار عالم الكتب-الرياض، الطبعة الأولى، 1417هـ.
- الإلمام بشرح عمدة الأحكام للشيخ إسماعيل الأنصاري-مطبعة السعادة-الطبعة الثانية 1392ه.
- تيسير العلام شرح عمدة الأحكام-عبد الله البسام-تحقيق محمد صبحي حسن حلاق- مكتبة الصحابة- الشارقة- الطبعة العاشرة- 1426ه.
HadeethEnc.com-এ এই হাদীসعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلَّى الله عليه وسلم قال: «ما مِنْ أحَدٍ يُسلِّمُ علي إلا ردَّ اللهُ عليَّ رُوحي حتى أردَّ عليه السَّلامَ».
আবূ হুরাইরা রদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “যে কোন মুসলিম আমার উপর সালাম দিলে আল্লাহ তা‘আলা আমার নিকট আমার রূহটি ফেরত দেন যাতে আমি তার সালামের উত্তর দিতে পারি”।
এটি আবু দাউদ ও আহমাদ বর্ণনা করেছেন।মানহাদীসটির সনদ হাসান
ব্যাখ্যা
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম সংবাদ দিয়েছেন যে, তার রূহ তাকে ফেরত দেওয়া হয় যাতে দূরের বা কাছের যারাই তাকে সালাম প্রদান করেন তাদের তিনি উত্তর দেন। বারযাখ ও কবরের জীবন হল গায়েবী বিষয়, তার হাকিকত আল্লাহ ছাড়া কেউ জানে না, তিনি সব কিছুর ওপর ক্ষমতাবান।
শিক্ষা
- নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর অধিকহারে সালাত ও সালাম পাঠ করার প্রতি উদ্বুদ্ধ করা।
- নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবন তাঁর কবরে একজন মানুষ তার বরযাখের জগতে যেমন জীবনযাপন করেন তার মধ্যে সবচেয়ে পূর্ণাঙ্গ জীবন। আল্লাহ তা‘আলা ছাড়া কেউ এর হাকিকত জানে না।
- হাদীসের ভেতর যারা আমরা যেমন জীবনযাপন করি তেমন জীবনযাপনের কথা নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবনের ব্যাপারে বলেন তাদের কোনো দলিল নেই; যাতে মুশরিকরা নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে সাহায্য চাওয়ার দলিল পেশ না করেন। বস্তুত এটি হল কবরের জীবন।
সূত্র
سنن أبي داود (3/ 384) (2041).
مسند أحمد (16/ 477) (10815).
بهجة الناظرين شرح رياض الصالحين، لسليم الهلالي (2/ 486).
شرح رياض الصالحين، لابن عثيمين (5/ 477).
نزهة المتقين شرح رياض الصالحين، لمجموعة من الباحثين (2/ 964).
HadeethEnc.com-এ এই হাদীসعن أنس قال: قال أبو طَلحَة لأم سليم: قد سمعت صوت رسول الله صلى الله عليه وسلم ضعيفًا أعرف فيه الجُوع، فهل عندك من شيء؟ فقالت: نعم، فَأَخْرَجَت أَقْرَاصًا من شَعير، ثم أَخَذْتْ خِمَارًا لها، فَلفَّت الخُبْزَ بِبَعْضِه، ثم دسَّتْهُ تحت ثوبي ورَدَّتني ببعضِه، ثم أرسَلَتني إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم فَذَهَبَتُ به، فوجدت رسول الله صلى الله عليه وسلم جالسًا في المسجد، ومعه الناس، فَقُمتُ عليهم، فقال لي رسول الله صلى الله عليه وسلم : «أرسلك أبو طلحة؟» فقلت: نعم، فقال: « أَلِطَعَام؟» فقلت: نعم، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم : «قوموا» فانْطَلَقُوا وانطَلَقتُ بين أيديهم حتى جئت أبا طَلَحة فَأَخْبَرتُهُ، فقال أبو طلحة: يا أم سليم، قد جاء رسول الله صلى الله عليه وسلم بالناس وليس عندنا ما نُطعِمُهُم؟ فقالت: الله ورسوله أعلم. فانطلق أبو طلحة حتى لقي رسول الله صلى الله عليه وسلم فأقبل رسول الله صلى الله عليه وسلم معه حتى دخلا، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم : « هَلُمِّي ما عندك يا أم سليم» فأتت بذلك الخبز، فأمر به رسول الله صلى الله عليه وسلم فَفُتَّ، وَعَصَرَتْ عليه أم سليم عُكَّةً فَآدَمَتْهُ ، ثم قال فيه رسول الله صلى الله عليه وسلم ما شاء الله أن يقول، ثم قال: «ائْذن لعشرة» فَأَذِنَ لَهُم فأكلوا حتى شَبِعُوا ثم خرجوا، ثم قال: «ائْذَن لعشرة» فأذن لهم حتى أكل القُوم كلُّهم وشَبِعُوا والقوم سبعون رجلا أو ثمانون. متفق عليه. وفي رواية: فما زال يَدخُل عشرة، ويخرج عشرة حتى لم يبق منهم أحد إلا دخل، فأكل حتى شَبِع، ثم هَيَّأهَا فإذا هي مِثْلُهَا حين أكلوا منها. وفي رواية: فأكلوا عشرة عشرة، حتى فعل ذلك بثمانين رجلا، ثم أكل النبي صلى الله عليه وسلم بعد ذلك وأهل البيت، وتركوا سُؤْرَا. وفي رواية: ثم أفْضَلُوا ما بَلَغُوا جِيرانهم. وفي رواية عن أنس، قال: جئت رسول الله صلى الله عليه وسلم يوما، فوجدته جالسا مع أصحابه، وقد عَصَبَ بَطنه، بِعُصَابة، فقلت لبعض أصحابه: لِم عَصَبَ رسول الله صلى الله عليه وسلم بطنه؟ فقالوا: من الجُوع، فذهبت إلى أبي طلحة، وهو زوج أم سليم بنت مِلْحَان، فقلت: يا أبَتَاه، قد رأيت رسول الله صلى الله عليه وسلم عَصَبَ بطنه بِعِصَابَة، فسألت بعض أصحابه، فقالوا: من الجُوع. فدخل أبو طلَحَة على أمي، فقال: هل من شيء؟ قالت: نعم، عندي كِسَرٌ من خُبزٍ وتمرات، فإن جاءنا رسول الله صلى الله عليه وسلم وحده أشْبَعنَاه، وإن جاء آخر معه قَلَّ عنهم... وذكر تمام الحديث.
আনাস ইবন মালেক রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবূ তালহা (আমার মা) উম্মে সুলাইমকে বললেন, ‘আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লামের কণ্ঠ স্বরটা খুব ক্ষীণ শুনলাম। আমি বুঝতে পারলাম, তিনি ক্ষুধার্ত। তোমার নিকট কিছু আছে কি?’ উম্মে সুলাইম বললেন, ‘হ্যাঁ।’ অতঃপর তিনি কিছু যবের রুটি তার ওড়নার এক অংশ দিয়ে বেঁধে গোপনে আমার কাপড়ের নিচে গুঁজে দিলেন। আর অপর অংশ আমার গায়ে জড়িয়ে দিয়ে আমাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট পাঠালেন। আমি তা নিয়ে গেলাম এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লামকে মসজিদে বসা অবস্থায় পেলাম। তাঁর সাথে কিছু লোক ছিল। আমি তাদের নিকটে গিয়ে দাঁড়ালাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন, “তোমাকে আবূ তালহা পাঠিয়েছে?” আমি বললাম, ‘জী হ্যাঁ।’ তিনি বললেন, “খাবারের জন্যে ?” আমি বললাম, ‘জী হ্যাঁ।’ তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর (সাথীদেরকে) বললেন, “ওঠ।” সুতরাং তাঁরা রওনা হল। আমিও তাঁদের আগে আগে চলতে লাগলাম এবং আবূ তালহার নিকট এসে খবর জানালাম। তখন আবূ তালহা বললেন, ‘হে উম্মে সুলাইম! রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকদেরসহ আমাদের নিকট এসেছেন, অথচ আমাদের নিকট সবাইকে খাওয়ানোর মত খাদ্য সামগ্রী নেই (এখন কী করা যায়)?’ উম্মে সুলাইম বললেন, ‘আল্লাহ ও তাঁর রাসূল ভাল জানেন।’ অতঃপর আবূ তালহা (আগে) গিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সঙ্গে আগমন করলেন এবং উভয়ে ঘরে প্রবেশ করলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘হে উম্মে সুলাইম! তোমার নিকট যা আছে নিয়ে এসো।’ সুতরাং তিনি ঐ রুটিগুলো এনে হাজির করলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেগুলিকে টুকরা টুকরা করতে আদেশ করলেন। অতঃপর তার উপর উম্মে সুলাইম ঘিয়ের পাত্র ঢেলে তরকারি বানালেন। তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাতে আল্লাহর ইচ্ছায় যা বলার বললেন। তারপর বললেন, “দশজনকে আসতে বল।” তখন দশজনকে আসতে বলা হল। তারা এসে পরিতৃপ্তি সহকারে খেয়ে বেরিয়ে গেল। তারপর বললেন, “আরো দশজনকে আসতে বল।” তখন আরও দশজন এসে খেয়ে তৃপ্ত হল। আগত লোকদের সংখ্যা ছিল ৭০ কিংবা ৮০ জন। (সহীহ বুখারী ও মুসলিম) অন্য বর্ণনায় আছে, দশজন ক’রে প্রবেশ করতে ও বের হতে থাকল। এমনকি শেষ পর্যন্ত এমন কোন ব্যক্তি বাকী রইল না, যে প্রবেশ করে পরিতৃপ্তি সহকারে খায়নি। অতঃপর ঐ খাবার জমা ক’রে দেখা গেল যে, খাওয়ার আগের মতই বাকী রয়েছে। অন্য বর্ণনায় আছে, তারা দশ দশজন ক’রে খাবার খেল। এইভাবে শেষ পর্যন্ত ৮০ জন লোককে তিনি খাওয়ালেন। সবশেষে নবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং গৃহবাসীরা খেলেন এবং তাঁরাও কিছু (খাবার) ছেড়ে দিলেন। অন্য বর্ণনায় আছে, অতঃপর তাঁরা এত খাবার অবশিষ্ট রাখলেন যে, তা প্রতিবেশীদের নিকট পৌঁছে দিলেন। অন্য বর্ণনায় আনাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, একদা আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এলাম, তারপর দেখলাম যে, তিনি তাঁর সাথীদের সঙ্গে বসে আছেন। তখন তিনি তাঁর পেটে পট্টি বেঁধে ছিলেন। আমি তাঁর কিছু সাথীকে জিজ্ঞেস করলাম যে, ‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম কেন তাঁর পেটে পট্টি বেঁধে আছেন।’ তাঁরা বললেন, ‘ক্ষুধার কারণে।’ অতঃপর আমি (আমার মা) উম্মে সুলাইম বিনতে মিলহানের স্বামী আবূ তালহার নিকট গেলাম এবং বললাম, ‘আব্বা! আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে পেটে পট্টি বাঁধা অবস্থায় দেখলাম। আমি তাঁর কিছু সাথীকে (এর কারণ) জিজ্ঞাসা করলে তাঁরা বললেন, ক্ষুধা।’ অতঃপর আবূ তালহা আমার মায়ের নিকট গিয়ে বললেন, ‘তোমার কাছে কিছু আছে কি?’ মা বললেন, ‘হ্যাঁ, আমার কাছে কয়েক টুকরো রুটি এবং কিছু খেজুর আছে। যদি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিকট একাই আসেন, তাহলে তাঁকে পরিতৃপ্তি সহকারে খাওয়াব; আর যদি তাঁর সাথে অন্য লোকও এসে যায়, তাহলে তাঁদের জন্য এ খাবার কম হয়ে যাবে।’ অতঃপর তিনি পূর্ণ হাদীস উল্লেখ করেন।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।মানসহীহ
ব্যাখ্যা
এ হাদীসের অর্থ: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খুব ক্ষুধা পেল। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কণ্ঠ স্বরটা খুব ক্ষীণ হওয়ার কারণে তার অবস্থা সম্পর্কে আবূ তালহা অবগত হলেন। ফলে আবূ তালহা তার স্ত্রী উম্মে সুলাইম রাদিয়াল্লাহু আনহাকে রাসূলের অবস্থা জানিয়ে জিজ্ঞাসা করলেন যে তোমাদের নিকট কিছু আছে কি? উম্মে সুলাইম বললেন, ‘হ্যাঁ।’ অর্থাৎ আমাদের নিকট এ পরিমাণ খাবার আছে যা দ্বারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ক্ষুধা নিবারণ করতে পারব। অতঃপর তিনি কিছু যবের রুটি বের করলেন। তারপর তিনি তার স্বীয় ওড়না নিলেন। তারপর ওড়নার এক অংশ দিয়ে রুটি বেঁধে গোপনে আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহুর কাপড়ের নিচে গুঁজে দিলেন। আর ওড়নার অপর অংশ চাদর হিসেবে তাকে ডেকে রাখার উদ্দেশ্যে তার গায়ের ওপর জড়িয়ে দিলেন। তারপর আনাস যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট উপস্থিত হলেন, তাকে কতক সাহাবীর মাঝে পেলেন। তিনি তাদের কাছে গিয়ে দাড়ালেন। তখন আমাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “তোমাকে কি আবূ তালহা পাঠিয়েছে?” আমি বললাম, ‘জী হ্যাঁ।’ তিনি বললেন, “খাবারের জন্য নাকি?” আমি বললাম, ‘জী হ্যাঁ।’ অর্থাৎ তোমাকে খাবারের জন্য আমাদের দাওয়াত দিতে পাঠিয়েছে? আমি বললাম, হ্যাঁ। আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু রাসূলের সাথে সাহাবীদের সংখ্যা বেশি হওয়ার কারণে এবং রাসূলের অভ্যাস হলো সে তার সাহাবীগণের ওপর নিজের অধিকারকে প্রাধান্য দিতেন না, এ কথা জানা থাকার কারণে তাকে দাওয়াত প্রকাশ করার চেয়ে বেশী কিছু করতে পারলেন না, যেন তিনি একাই আবূ তালহার বাড়িতে যান এবং তখন যেন তাকে খাওয়ানোর উদ্দেশ্য হাসিল হয়। এ সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর (সাথীদেরকে) বললেন, “ওঠ।” তারা উঠল এবং রওয়ানা দিল। আনাস বলেন, ফলে আমিও তাঁদের আগে আগে চললাম। অপর এক বর্ণনায় বর্ণিত: তার সাথে লোক বেশি হওয়ার কারণে আমি চিন্তিত ছিলাম। তিনি বলেন অবশেষে আমি আবূ তালহার নিকট এসে তাকে খবর জানালাম। তখন আবূ তালহা বললেন, ‘হে উম্মে সুলাইম! রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকদের নিয়ে আসছেন, অথচ আমাদের নিকট সবাইকে খাওয়ানোর মত খাদ্য সামগ্রী নেই (এখন কী করা যায়)?’ উম্মে সুলাইম বললেন, ‘আল্লাহ ও তাঁর রাসূল ভাল জানেন।’ উম্মে সুলাইম রাদিয়াল্লাহু আনহা বিষয়টি আল্লাহ এবং আল্লাহর রাসূলের প্রতি সোপর্দ করলেন। যেন তিনি বুঝতে পারলেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এটি ইচ্ছাকৃত করেছেন যাতে খাদ্য বৃদ্ধির ক্ষেত্রে তার কারামত প্রকাশ পায়। এটি তার তীক্ষ্ন বুদ্ধি ও জ্ঞানের পরিপক্কতার প্রমাণ। অতঃপর আবূ তালহা (আগে) গিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সঙ্গে আগমন করলেন এবং উভয়ে ঘরে প্রবেশ করলেন। তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘(হে উম্মে সুলাইম!) নিকট এসো।’ অপর বর্ণনায় আছে: আবূ তালহা তাকে এস্তেকবাল করলেন এবং বললেন হে আল্লাহর রাসূল আমাদের নিকট কতক রুটি যা উম্মে সুলাইম তৈরি করেছে তা ছাড়া আর কিছু নাই। অপর বর্ণনায় আছে : আবূ তালহা বলল, এ তো শুধু কয়েকটি রুটি। তিনি বললেন, নিশ্চয় আল্লাহ তাতে বরকত দেবেন। অপর বর্ণনায় আছে, আবূ তালহা বলল, হে আল্লাহর রাসূল আমি আপনার নিকট আনাসকে পাঠিয়েছি যাতে শুধু আপনাকে ডেকে আনে। আমাদের নিকট যাদের দেখছি তাদের ক্ষুধা নিবারণের পরিমাণ খাদ্য নেই। তিনি বললেন, তুমি প্রবেশ কর, কারণ, আল্লাহ তোমার কাছে যা আছে তাতে বরকত দান করবেন। তারপর যখন রাসূলুল্লাহ আবূ তালহার ঘরে প্রবেশ করলেন, তিনি বললেন, হে উম্মে সুলাইম! তোমার কাছে যা আছে তা নিয়ে আসো। সুতরাং তিনি ঐ রুটিগুলো এনে হাজির করলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেগুলিকে টুকরা টুকরা করতে আদেশ করলেন। অতঃপর রুটির টুকরোগুলো তরকারি বানাতে তার উপর উম্মে সুলাইম ঘিয়ের পাত্র ঢেলে দিলেন। তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাতে আল্লাহর ইচ্ছায় যা বলার বললেন। অর্থাৎ তিনি দো‘আ করলেন যেন আল্লাহ এই সামান্য খাবারে বরকত দান করেন। অপর বর্ণনায় আছে, ফলে আমি তা নিয়ে আসলাম আর তিনি তার বাঁধন খুললেন ও বললেন, বিসমিল্লাহ, হে আল্লাহ তাতে তুমি মহা বরকত দান কর। তারপর বললেন, “দশজনকে আসার অনুমতি দাও। তখন দশজনকে আসতে বলা হল। তারা এসে তৃপ্তিসহ খেয়ে বেরিয়ে গেল। তারপর বললেন, “আরো দশজনকে আসতে বল।” তখন তাদেরকে আসতে বলা হল, এভাবে সবাই খেল ও পরিতৃপ্ত হল। তারা সংখ্যায় ৭০ কিংবা ৮০ জন ছিল। (সহীহ বুখারী ও মুসলিম) অন্য বর্ণনায় আছে, দশজন ক’রে প্রবেশ করতে ও বের হতে থাকল। এমনকি শেষ পর্যন্ত কেউ প্রবেশ করে তৃপ্তিসহ খাওয়া ছাড়া বাকী রইল না। অতঃপর ঐ খাবার জমা ক’রে দেখা গেল যে, খাওয়ার আগের মতই বাকী রয়েছে। অন্য বর্ণনায় আছে, তারা দশ দশজন ক’রে খাবার খেল। এইভাবে শেষ পর্যন্ত ৮০ জন লোককে তিনি খাওয়ালেন। সবশেষে নবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং গৃহবাসীরা খেলেন এবং তাঁরাও কিছু (খাবার) ছেড়ে দিলেন। অন্য এক বর্ণনায় আছে, অতঃপর তাঁরা এত খাবার অবশিষ্ট রাখলেন যে, তা প্রতিবেশীদের জন্যেও যথেষ্ট হলো।
সূত্র
بهجة الناظرين، تأليف: سليم بن عيد الهلالي، الناشر: دار ابن الجوزي، سنة النشر: 1418 هـ- 1997م.
كنوز رياض الصالحين، تأليف: حمد بن ناصر بن العمار، الناشر: دار كنوز أشبيليا، الطبعة الأولى: 1430 هـ.
نزهة المتقين، تأليف: جمعٌ من المشايخ، الناشر: مؤسسة الرسالة، الطبعة الأولى: 1397 هـ الطبعة الرابعة عشر 1407 هـ.
صحيح البخاري، تأليف: محمد بن إسماعيل البخاري، تحقيق: محمد زهير الناصر، الناشر: دار طوق النجاة الطبعة: الأولى، 1422ه.ـ
صحيح مسلم، تأليف: مسلم بن الحجاج النيسابوري، تحقيق: محمد فؤاد عبد الباقي الناشر: دار إحياء التراث العربي – بيروت.
رياض الصالحين، تأليف: محيي الدين يحيى بن شرف النووي، تحقيق: د. ماهر بن ياسين الفحل، الطبعة: الأولى، 1428 هـ.
دليل الفالحين، تأليف: محمد بن علان، الناشر: دار الكتاب العربي، نسخة الكترونية، لا يوجد بها بيانات نشر.
HadeethEnc.com-এ এই হাদীসعن عبد الله بن مسعود رضي الله عنه مرفوعاً: انشقَّ القمر على عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم فِلْقَتين، فستر الجبل فِلْقَة، وكانت فِلْقَة فوق الجبل، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم : «اللهمَّ اشهَدْ».
আব্দুল্লাহ ইবন মাসউদ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে মারফূ‘ হিসেবে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে চাঁদ দ্বিখণ্ডিত হলো। একটি খণ্ড পাহাড়কে ডেকে ফেলল, অপর একটি খণ্ড পাহাড়ের উপর ছিল। তখন রাসলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে আল্লাহ তুমি সাক্ষ্য থাক।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।মানসহীহ
ব্যাখ্যা
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে চাঁদ ফেঁটে দু’টি আলাদা টুকরায় পরিণত হলো। প্রতিটি টুকরা আলাদা আলাদা স্থানে অবস্থান করছিল। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “হে আল্লাহ তুমি সাক্ষী থাক।” অর্থাৎ হে আল্লাহ তুমি তাদের বিপক্ষে সাক্ষী থাক। আমি তাদের আমার নবুওয়াত ও মুজিযার ওপর প্রমাণ দেখিয়ে দিয়েছি।
সূত্র
صحيح البخاري، نشر: دار طوق النجاة (مصورة عن السلطانية بإضافة ترقيم محمد فؤاد عبد الباقي)، الطبعة: الأولى، 1422ه.
صحيح مسلم، تحقيق: محمد فؤاد عبد الباقي، نشر: دار إحياء التراث العربي – بيروت.
كشف المشكل من حديث الصحيحين، لجمال الدين أبي الفرج عبد الرحمن بن علي بن محمد الجوزي، المحقق: علي حسين البواب، الناشر: دار الوطن – الرياض.
مرقاة المفاتيح شرح مشكاة المصابيح، لعلي بن سلطان الملا الهروي القاري، الناشر: دار الفكر، بيروت – لبنان، الطبعة: الأولى، 1422هـ - 2002م.
HadeethEnc.com-এ এই হাদীসعن أنس بن مالك رضي الله عنه قال: جاء زيدُ بنُ حارثة يشكو، فجعل النبيُّ صلى الله عليه وسلم يقول: «اتَّقِ اللهَ، وأمسِكْ عليك زوجَك»، قال أنس: لو كان رسولُ الله صلى الله عليه وسلم كاتمًا شيئًا لكتم هذه، قال: فكانت زينبُ تَفْخرُ على أزواج النبي صلى الله عليه وسلم تقول: زوَّجَكنَّ أهاليكنَّ، وزوَّجني اللهُ تعالى من فوق سبع سموات، وعن ثابت: {وتُخفي في نفسِك ما اللهُ مُبْدِيهِ وتخشى الناسَ} [الأحزاب: 37]، «نزلت في شأن زينبَ وزيد بن حارثة».
আনাস ইবন মালিক রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, যায়েদ ইবন হারিসাহ অভিযোগ নিয়ে আসলে তাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আল্লাহকে ভয় কর এবং তোমার স্ত্রীকে তোমার কাছে রেখে দাও। আনাস বলল, যদি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোনো কিছু গোপন করতেন, তবে এ বিষয়টি গোপন করতেন। তিনি বলেন, যয়নব রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা রাসূলের অন্যান্য স্ত্রীর ওপর এ বলে অহংকার করতেন যে, তোমাদেরকে বিবাহ দিয়েছেন তোমাদের পরিবার, আর আমাকে সাত আসমানের উপর আমার আল্লাহ বিবাহ দিয়েছেন। আর সাবেত থেকে বর্ণিত, আল্লাহ বলেন, “আল্লাহ যে বিষয়টি প্রকাশকারী তুমি তা তোমার অন্তরে গোপন করছ।” [সূরা আল-আহযাব, আয়াত: ৩৭] “যয়নব ও যায়েদ ইবন হারিসাহ সম্পর্কে নাযিল হয়েছে।”
এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন।মানসহীহ
ব্যাখ্যা
যায়েদ ইবন হারিসাহ তার স্ত্রী যয়নব বিনতে জাহাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহার অভিযোগ নিয়ে রাসূলের কাছে তাকে তালাক দেওয়া বিষয়ে পরামর্শ করতে আসলেন। এদিকে যায়েদের তালাক দেওয়ার পূর্বেই আল্লাহ তা‘আলা রাসূলুল্লাহর নিকট ওহী প্রেরণ করলেন যে, তিনি অচিরেই যয়নবকে বিবাহ করবেন। যখন তিনি তাঁর নিকট অভিযোগ নিয়ে আসলেন এবং তালাকের ব্যাপারে পরার্মশ চাইলেন, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, “আল্লাহকে ভয় কর এবং তোমার স্ত্রীকে তোমার কাছে রেখে দাও।” তখন তাকে আল্লাহ এ কথাটি “আর স্মরণ কর, আল্লাহ যার ওপর নি‘আমত দিয়েছিলেন এবং তুমিও যার প্রতি অনুগ্রহ করেছিলে, তুমি যখন তাকে বলেছিলে ‘তোমার স্ত্রীকে নিজের কাছে রেখে দাও এবং আল্লাহকে ভয় কর’। আর তুমি অন্তরে যা গোপন রাখছ আল্লাহ তা প্রকাশকারী এবং তুমি মানুষকে ভয় করছ অথচ আল্লাহই অধিকতর হকদার যে, তুমি তাকে ভয় করবে। অতঃপর যায়েদ যখন তার স্ত্রীর সাথে বিবাহ সম্পর্ক ছিন্ন করল তখন আমি তাকে তোমার সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ করলাম।” বলে ভৎসনা করল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে বিষয়টি গোপন করতেন, তা হলো মানুষের সমালোচনার ভয়ে তাকে বিবাহ করাকে অপছন্দ করা। কারণ, লোকেরা বলবে সে তার পালক পুত্রবধুকে বিবাহ করেছে। তাঁর বাণী, আনাস বলল, যদি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোনো কিছু গোপন করতেন, তবে এ বিষয়টি গোপন করতেন, অর্থ হচ্ছে: যদি শরঈভাবে নিষিদ্ধ কোনো অসম্ভবকে ধরে নেওয়া হয় যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওহীর কোনো অংশকে গোপন করেছেন, তাহলে তিনি এ আয়াতের বর্ণনাকে গোপন করতেন। কিন্তু বাস্তবতা হলো তা ঘটে নি; বরং শরী‘আতের ক্ষেত্রে এরূপ ঘটা সম্পূর্ণ অসম্ভব। যে ব্যক্তি এ আয়াতের মধ্যে গভীরভাবে চিন্তা করবে তার জন্য এ আয়াতটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সততার ওপর মহা প্রমাণসমূহের একটি অন্যতম প্রমান হবে। মানুষের ভয়ে তার অন্তরের যে ভয় দেখা দিয়েছিল, আল্লাহ তা জানিয়ে দেন এবং আয়াতটিতে তাঁর ওপর তিরস্কার থাকার পরও তিনি আল্লাহ যেভাবে বলেছেন সেভাবে তা পৌছিয়ে দেন। মিথ্যাবাদীর অবস্থা সম্পূর্ণ এর বিপরীত। কারণ, যে কর্মে তার অবমূল্যায়ন থাকবে তা বলার থেকে সে বিরত থাকবে। এ ধরনের আরেকটি আয়াত হলো, আল্লাহর বাণী, “ভ্রু-কুঞ্চিত করলেন ও মুখ ফিরিয়ে নিলেন।” আয়াতের শেষ পর্যন্ত। এ ধরনের দৃষ্টান্ত কুরআনে অনেক রয়েছে। আর তার বাণী: “যয়নব রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা রাসূলের অন্যান্য স্ত্রীর ওপর এ বলে অহংকার করতেন” অর্থাৎ যয়নব রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা হিসাব করতেন যে, রাসূলুল্লাহর সাথে তার বিবাহ আল্লাহর নির্দেশে হয়েছে। এটি তার জন্য মহা সৌভাগ্য। তার স্ত্রীদের মধ্যে কেউ এ বিষয়ে তার সমকক্ষ নয়। তাই তিনি বলতেন, তোমাদেরকে বিবাহ দিয়েছেন তোমাদের পরিবার, আর আমাকে সাত আসমানের উপর আমার আল্লাহ বিবাহ দিয়েছেন।” হাদীসের এ অংশটুকুর মধ্যে আল্লাহর উপরে হওয়া প্রমাণিত এবং মুমিনদের নিকট বিষয়টি মীমাংশিত। সুতরাং এটি সাধারণ মুসলিমের স্বীকৃত। বরং যাদের স্বভাব বিকৃত তাদের ছাড়া সমগ্র মাখলুকের নিকট এটি স্বীকৃত। এটি এমন একটি সিফাত যা দলীল, প্রমাণ, জ্ঞান ও স্বভাব দ্বারা বিকৃত স্বভাবের অধিকারী ছাড়া প্রতিটি মানুষেরই জানা। আর তার কথা, (আল্লাহ আমাকে বিবাহ দিয়েছেন) এর অর্থ, স্বীয় রাসূলকে এ কথা দ্বারা “অতঃপর যায়েদ যখন তার স্ত্রীর সাথে বিবাহ সম্পর্ক ছিন্ন করল” তাকে বিবাহ করার নির্দেশ দেন। আল্লাহ নিজেই তার বিবাহের অভিভাবকত্ব করেন।
সূত্র
صحيح البخاري، نشر: دار طوق النجاة (مصورة عن السلطانية بإضافة ترقيم محمد فؤاد عبد الباقي)، الطبعة: الأولى، 1422ه.
شرح كتاب التوحيد من صحيح البخاري، لعبد الله بن محمد الغنيمان، الناشر: مكتبة الدار، المدينة المنورة، الطبعة: الأولى، 1405 هـ.
HadeethEnc.com-এ এই হাদীসعن عمران بن حصين رضي الله عنهما قال: كنا في سفر مع النبي صلى الله عليه وسلم، وإنا أَسْرَيْنا حتى كنا في آخر الليل، وَقَعْنا وَقْعَة، ولا وَقْعَة أحلى عند المسافر منها، فما أيقظنا إلا حَرُّ الشمس، وكان أول من استيقظ فلان، ثم فلان، ثم فلان، ثم عمر بن الخطاب، وكان النبي صلى الله عليه وسلم إذا نام لم يوقظ حتى يكون هو يستيقظ، لأنا لا ندري ما يحدث له في نومه، فلما استيقظ عمر ورأى ما أصاب الناس وكان رجلا جليدا، فكبَّر ورفع صوته بالتكبير، فما زال يكبر ويرفع صوته بالتكبير حتى استيقظ بصوته النبي صلى الله عليه وسلم، فلما استيقظ شكوا إليه الذي أصابهم، قال: «لا ضير -أو لا يضير- ارتحلوا». فارتحل، فسار غير بعيد، ثم نزل فدعا بالوَضوء، فتوضأ، ونُودِيَ بالصلاة، فصلَّى بالناس، فلما انفتل من صلاته إذا هو برجل معتزل لم يُصَلِّ مع القوم، قال: «ما منعك يا فلان أن تصلي مع القوم؟». قال: أصابتني جنابة ولا ماء، قال: «عليك بالصعيد، فإنه يكفيك». ثم سار النبي صلى الله عليه وسلم، فاشتكى إليه الناس من العطش، فنزل فدعا فلانا، ودعا عَلِيًّا فقال: «اذهبا، فابتغيا الماء». فانطلقا، فتلقيا امرأة بين مزادتين -أو سطيحتين- من ماء على بعير لها، فقالا لها: أين الماء؟ قالت: عهدي بالماء أمسِ هذه الساعةَ، ونَفَرُنا خُلُوف. قالا لها: انطلقي. إذًا قالت: إلى أين؟ قالا: إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم. قالت: الذي يقال له: الصابئ؟ قالا: هو الذي تَعْنين، فانطلقي، فجاءا بها إلى النبي صلى الله عليه وسلم، وحدثاه الحديث، قال: فاستَنْزَلوها عن بعيرها، ودعا النبي صلى الله عليه وسلم بإناء، ففرَّغ فيه من أفواه المزادتين -أو سطيحتين- وأَوْكَأ أفواههما وأطلق العَزَالِيَ، ونودي في الناس: اسقوا واستقوا، فسقى مَن شاء واستقى مَن شاء، وكان آخر ذاك أن أعطى الذي أصابته الجنابة إناء من ماء، قال: «اذهب فأفرغه عليك». وهي قائمة تنظر إلى ما يُفْعَل بمائها، وايمُ الله لقد أقلع عنها، وإنه ليُخَيَّل إلينا أنها أشد مَلَأَة منها حين ابتدأ فيها، فقال النبي صلى الله عليه وسلم: «اجمعوا لها». فجمعوا لها من بين عَجْوة ودقيقة وسويقة حتى جمعوا لها طعاما، فجعلوها في ثوب وحملوها على بعيرها، ووضعوا الثوب بين يديها، قال لها: «تعلمين، ما رزئنا من مائك شيئا، ولكنَّ الله هو الذي أسقانا». فأتت أهلها وقد احتبست عنهم، قالوا: ما حبسك يا فلانة؟ قالت: العجب، لقيني رجلان، فذهبا بي إلى هذا الذي يقال له الصابئ، ففعل كذا وكذا، فوالله إنه لأسحر الناس من بين هذه وهذه، وقالت بإصبعيها الوسطى والسبابة، فرفعتهما إلى السماء –تعني: السماء والأرض- أو إنه لرسول الله حقا، فكان المسلمون بعد ذلك يَغِيرون على من حولها من المشركين، ولا يصيبون الصِّرْم الذي هي منه، فقالت يوما لقومها: ما أرى أن هؤلاء القوم يدعونكم عمدا، فهل لكم في الإسلام؟ فأطاعوها، فدخلوا في الإسلام.
‘ইমরান ইবন হুসাইন রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা নবীসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে এক সফরে ছিলাম। আমরা রাতে চলতে চলতে শেষরাতে এক স্থানে ঘুমিয়ে পড়লাম। মুসাফিরের জন্যে এর চেয়ে মধুর ঘুম আর হতে পারে না। (আমরা এমন ঘোর নিদ্রায় নিমগ্ন ছিলাম যে,) সূর্যের উত্তাপ ছাড়া অন্য কিছু আমাদের জাগাতে পারেনি। সর্বপ্রথম জাগলেন অমুক, তারপর অমুক, তারপর অমুক।(রাবী) আবূ রাজা‘ (রহ.) তাঁদের সবার নাম নিয়েছিলেন কিন্তু ‘আওফ (রহ.) তাঁদের নাম মনে রাখতে পারেন নি। চতুর্থবারের জেগে উঠা ব্যক্তি ছিলেন ‘উমার ইব্নুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহ আনহু)। নবীসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘুমালে আমরা কেউ তাঁকে জাগাতাম না, যতক্ষণ না তিনি নিজেই জেগে উঠতেন। কারণ নিদ্রাবস্থায় তাঁর উপর কী অবতীর্ণ হচ্ছে তা তো আমাদের জানা নেই। ‘উমার (রাদিয়াল্লাহ আনহু) জেগে মানুষের অবস্থা দেখলেন, আর তিনি ছিলেন দৃঢ়চিত্ত ব্যক্তি উচ্চৈঃস্বরে তাকবীর বলতে আরম্ভ করলেন। তিনি ক্রমাগত উচ্চৈঃস্বরে তাকবীর বলতে থাকলেন।এমনকি তাঁর শব্দে নবীসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জেগে উঠলেন। তখন লোকেরা তাঁর নিকট ওজর পেশ করলো। তিনি বললেন, কোন ক্ষতি নেই বা বললেন, কোন ক্ষতি হবে না। এখান হতে চল। তিনি চলতে লাগলেন। কিছু দূর গিয়ে থামলেন। উযূর পানি আনালেন এবং উযূ করলেন। সলাতের আযান দেয়া হলো। তিনি লোকদের নিয়ে সলাত আদায় করলেন। সলাত শেষে দেখলেন, এক ব্যক্তি আলাদা দাঁড়িয়ে আছেন। তিনি লোকদের সাথে সলাত আদায় করেন নি। নবীসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে জিজ্ঞেস করলেন, হে অমুক! তোমাকে লোকদের সাথে সলাত আদায় করতে কিসে বিরত রাখলো? তিনি বললেন, আমার উপর গোসল র্ফায হয়েছে। অথচ পানি নেই। তিনি বললেন, পবিত্র মাটি নাও (তায়াম্মুম কর), এটাই তোমার জন্য যথেষ্ট।নবীসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পুনরায় সফর শুরু করলেন। লোকেরা তাঁকে পিপাসার কষ্ট জানালো। তিনি অবতরণ করলেন, তারপর অমুক ব্যক্তিকে ডাকলেন। (রাবী) আবূ রাজা‘ (রহ.) তাঁর নাম উল্লেখ করেছিলেন কিন্তু ‘আওফ (রহ.) তা ভুলে গেছেন। তিনি ‘আলী (রাদিয়াল্লাহ আনহু)-কেও ডাকলেন। তারপর উভয়কেই পানি খুঁজে আনতে বললেন। তাঁরা পানির খোঁজে বের হলেন। তাঁরা পথে এক মহিলাকে দুই মশক পানি উটের উপর করে নিতে দেখলেন। তাঁরা তাকে জিজ্ঞেস করলেন, পানি কোথায়? সে বললো, গতকাল এ সময়ে আমি পানির নিকটে ছিলাম। আমার গোত্র পেছনে রয়ে গেছে। তাঁরা বললেন, এখন আমাদের সঙ্গে চলো। সে বললো, কোথায়? তাঁরা বললেন, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট। সে বললো, সেই লোকটির নিকট যাকে সাবি’ (ধর্ম পরিবর্তনকারী) বলা হয়? তাঁরা বললেন, হ্যাঁ, তোমরা যাকে এই বলে থাক। আচ্ছা, এখন চল। তাঁরা তাকে নিয়ে আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এলেন এবং সমস্ত ঘটনা খুলে বললেন। ‘ইমরান (রাযি.) বলেন, লোকেরা স্ত্রীলোকটিকে তার উট হতে নামালেন। তারপর নবীসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি পাত্র আনতে বললেন এবং উভয় মশকের মুখ খুলে তাতে পানি ঢাললেন এবং সেগুলোর মুখ বন্ধ করে দিলেন। তারপর সে মশকের নীচের মুখ খুলে দিয়ে লোকদের মধ্যে পানি পান করার ও জন্তু-জানোয়ারকে পানি পান করানোর ঘোষণা দিয়ে দিলেন। তাঁদের মধ্যে যার ইচ্ছা পানি পান করলেন ও জন্তুকে পান করালেন। অবশেষে যে ব্যক্তির গোসলের দরকার ছিল, তাকেও এক পাত্র পানি দিয়ে নবীসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এ পানি নিয়ে যাও এবং গোসল সার। ঐ মহিলা দাঁড়িয়ে দেখছিল যে, তার পানি নিয়ে কী করা হচ্ছে। আল্লাহ্র কসম! যখন তার হতে পানি নেয়া শেষ হ’ল তখন আমাদের মনে হ’ল, মশকগুলো পূর্বাপেক্ষা অধিক ভর্তি। তারপর নবীসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, মহিলার জন্যে কিছু একত্র কর। লোকেরা মহিলার জন্যে আজওয়া (বিশেষ খেজুর), আটা ও ছাতু এনে একত্র করলেন। যখন তাঁরা উল্লেখযোগ্য পরিমাণ খাদ্যসামগ্রী জমা করলেন, তখন তা একটা কাপড়ে বেঁধে মহিলাকে উটের উপর সওয়ার করালেন এবং তার সামনে কাপড়ে বাঁধা গাঁঠরিটি রেখে দিলেন। আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি জান যে, আমরা তোমার পানি মোটেই কম করিনি ; বরং আল্লাহ তা‘আলাই আমাদের পানি পান করিয়েছেন। অতঃপর সে তার পরিজনের নিকট ফিরে গেল। তার বেশ দেরী হয়েছিল। পরিবারের লোকজন তাকে জিজ্ঞেস করলো, হে অমুক! তোমার এত দেরী হল কেন? উত্তরে সে বলল, একটি আশ্চর্যজনক ঘটনা! দু’জন লোকের সাথে আমার দেখা হয়েছিল। তারা আমাকে সেই লোকটির নিকট নিয়ে গিয়েছিল, যাকে সাবি‘ বলা হয়। আর সেখানে সে এসব করল। এ বলে সে মধ্যমা ও তর্জনী আঙুল দিয়ে আসমান ও যমীনের দিকে ইঙ্গিত করে বলল, আল্লাহ্র কসম! সে এ দু’টির মধ্যে সবচেয়ে বড় জাদুকর, নয় তো সে বাস্তবিকই আল্লাহ্র রসূল। এ ঘটনার পর মুসলিমরা ঐ মহিলার গোত্রের আশপাশের মুশরিকদের উপর হামলা করতেন কিন্তু মহিলার সাথে সম্পর্কযুক্ত গোত্রের কোন ক্ষতি করতেন না। একদা মহিলা নিজের গোত্রকে বলল, আমার মনে হয়, তারা ইচ্ছা করে তোমাদের নিস্কৃতি দিচ্ছে। এ সব দেখে কি তোমরা ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট হবে না? তারা সবাই মহিলাটির কথা মেনে নিল এবং ইসলামে দাখিল হয়ে গেল।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।মানসহীহ
ব্যাখ্যা
এ হাদীসে ইসলামী শরী‘আতের কতিপয় বিধি-বিধান ও সাহাবীদের জন্য নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কয়েকটি মু‘জিযা প্রকাশিত হয়েছে। কারণ, তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সঙ্গে এক সফরে ছিলেন। রাতে তাদের ঘুম প্রবল হয়েছিল, ফলে ফজরের ওয়াক্ত চলে গেলো। সে পরিস্থিতিতে সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের করণীয় বিষয় সম্পর্কে বর্ণনা করলেন। আর তা হলো ফজরের সালাত দ্রুত কাযা করা।
আরেকটি বিষয় ছিলো, তা হলো কতিপয় সাহাবী সে রাতে জুনুবী ছিলো (যাদের উপর গোসল ফরয); অথচ তাদের কাছে গোসল করার মতো কোন পানি ছিলো না। তখন সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে তায়াম্মুম করতে নির্দেশ দিলেন। এতে স্পষ্ট হল যে, পানি পাওয়া না গেলে তায়াম্মুমই গোসলের পক্ষে যথেষ্ট হবে।
তৃতীয় ব্যাপার ছিলো নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের একটি মু‘জিযা। আর তা হলো, লোকজন নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে তৃষ্ণা ও পানি না পাওয়ার অভিযোগ করলে তিনি পানির খোঁজে লোক পাঠালেন। কিন্তু তারা কোথাও কোন পানির সন্ধান পান নি। তবে তারা এক মহিলাকে দু’মশক পানিসহ পেলো। তারা তাকে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে নিয়ে গেলেন। তিনি পানির মশকে হাত দিয়ে আল্লাহর কাছে দু‘আ করলেন, অমনি পানি প্রবাহিত হতে লাগল। সাহাবীগণ সে পানি থেকে নিজেরা পানি পান করলেন, জন্তু-জানোয়ারগুলোকেও পানি পান করালেন। এমনকি যাদের গোসল ফরয ছিলো তারাও সে পানি দ্বারা গোসল করল। অতপর মহিলা তার মশক দু’টি নিয়ে গেলো আর যেতে যেতে বলতে লাগল, তা যেন পূর্বাপেক্ষা অধিকতর ভর্তি ছিলো। তাছাড়া নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার জন্য হাদিয়া স্বরূপ কিছু সামগ্রী একত্রিত করতে নির্দেশ দিলেন। এ ঘটনা পরবর্তীতে উক্ত মহিলা ও তার সম্প্রদায়ের ইসলাম গ্রহণের কারণ হয়ে ছিলো।
সূত্র
صحيح البخاري، أبو عبد الله محمد بن إسماعيل بن إبراهيم الجعفي البخاري, تحقيق محمد زهير بن ناصر الناصر - الناشر: دار طوق النجاة - الطبعة: الأولى 1422هـ.
توضيح الأحكام من بلوغ المرام، عبدالله بن عبد الرحمن البسام، مكتبة الأسدي، مكة، ط الخامسة، 1423هـ.
منحة العلام في شرح بلوغ المرام، تأليف : عبد الله بن صالح الفوزان، ط 1، 1427هـ، دار ابن الجوزي.
صحيح مسلم؛ للإمام مسلم بن الحجاج، حققه ورقمه محمد فؤاد عبدالباقي، دار عالم الكتب-الرياض، الطبعة الأولى، 1417هـ.
عمدة القاري شرح صحيح البخاري؛ تأليف بدر الدين العيني الحنفي، طبعة إحياء التراث العربي، بيروت، بدون تاريخ.
HadeethEnc.com-এ এই হাদীসএখানকার প্রতিটি হাদীস, মান, ব্যাখ্যা ও শিক্ষা HadeethEnc.com যেভাবে প্রকাশ করে হুবহু সেভাবেই দেখানো, তাদের পুনঃপ্রকাশের শর্ত মেনে। মানের সঙ্গে মান-নির্ধারকের নাম নেই। অনুবাদ ও ব্যাখ্যা এর লেখকদের নিজস্ব, এবং কোনো কোনোটিতে বিধান বলা আছে; সাবীলের পর্যালোচকেরা এগুলো যাচাই করেননি। আরবি হাদীসটিই মূল পাঠ। উৎস: HadeethEnc.com