মূল অংশে যান
ব্যাখ্যাসহ হাদীস

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সহনশীলতা

৩টি হাদীস

তাকে ছেড়ে দাও এবং তার পেশাবের উপর এক কলস অথবা এক বালতি পানি ঢেলে দাও। কেননা তোমাদেরকে সহজ করার জন্য পাঠানো হয়েছে, কঠোরতা করার জন্য পাঠানো হয় নি।

عن أبي هريرة رضي الله عنه قال: بال أعرابي في المسجد، فقام الناس إليه لِيَقَعُوا فيه، فقال النبي صلى الله عليه وسلم : «دعوه وأريقوا على بوله سَجْلاً من ماء، أو ذَنُوبًا من ماء، فإنما بُعِثْتُمْ مُيَسِّرِينَ، ولم تُبْعَثُوا مُعَسِّرِينَ».
আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, জনৈক বেদুঈন মসজিদে পেশাব করে দিল। ফলে লোকেরা তাকে শাসানোর জন্য উঠে দাঁড়াল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওসাল্লাম বললেন, “তাকে ছাড় এবং তার পেশাবের উপর এক কলস অথবা এক বালতি পানি ঢেলে দাও। কেননা তোমাদেরকে সহজ করার জন্য পাঠানো হয়েছে, কঠোরতা করার জন্য পাঠানো হয় নি।”
মুত্তাফাকুন আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম), তবে শব্দ সহীহ বুখারীর।মানসহীহ
ব্যাখ্যা

জনৈক বেদুঈন মসজিদে নববীতে দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করা আরম্ভ করল। লোকেরা তাকে মুখে বকাঝকা করল, হাতে কিছু করে নি। অর্থাৎ চিৎকার করে শাসালো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের বললেন, তাকে ছেড়ে দাও, যখন সে পেশাব করা শেষ করলো, তিনি তাদের বললেন, যে জায়গায় সে পেশাব করেছে সেখানে এক বালতি পানি ঢেলে দাও। আর তাদেরকে বুঝিয়ে বললেন, তোমরা সহজের দিকে আহ্বানকারী, মানুষকে তাড়াতে ও হিদায়াত থেকে দূরে সরানোর জন্যে নয়।

সূত্র

الجامع المسند الصحيح (صحيح البخاري), تأليف: محمد بن إسماعيل البخاري, تحقيق: محمد زهير بن ناصر الناصر, دار طوق النجاة ترقيم محمد فؤاد عبدالباقي, ط 1422. رياض الصالحين-النووي-تعليق وتحقيق: الدكتور ماهر ياسين الفحل الناشر: دار ابن كثير للطباعة والنشر والتوزيع، دمشق - بيروت-الطبعة: الأولى، 1428 هـ - 2007 م. بهجة الناظرين شرح رياض الصالحين, تأليف: سليم بن عيد الهلالي, دار ابن الجوزي. إرشاد الساري لشرح صحيح البخاري, تأليف: أبو العباس أحمد بن محمد القسطلاني, الناشر: المطبعة الكبرى الأميرية, ط7 عام 1323.

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে যখনই দু’টি জিনিসের একটি গ্রহণের ইখতিয়ার দেওয়া হতো, তখন তিনি অধিকতর সহজ সরলটি গ্রহণ করতেন যদি তা গোনাহ না হতো। যদি গোনাহ হতো তবে তা থেকে তিনি অনেক দূরে সরে থাকতেন

عَنْ عَائِشَةَ أُمِّ المُؤْمِنينَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا أَنَّهَا قَالَتْ: مَا خُيِّرَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَيْنَ أَمْرَيْنِ إِلَّا أَخَذَ أَيْسَرَهُمَا، مَا لَمْ يَكُنْ إِثْمًا، فَإِنْ كَانَ إِثْمًا كَانَ أَبْعَدَ النَّاسِ مِنْهُ، وَمَا انْتَقَمَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِنَفْسِهِ إِلَّا أَنْ تُنْتَهَكَ حُرْمَةُ اللَّهِ، فَيَنْتَقِمَ لِلَّهِ بِهَا.
উম্মুল মু’মিনীন ‘আয়িশাহ রদিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে যখনই দু’টি জিনিসের একটি গ্রহণের ইখতিয়ার দেওয়া হতো, তখন তিনি অধিকতর সহজ সরলটি গ্রহণ করতেন যদি তা গোনাহ না হতো। যদি গোনাহ হতো তবে তা থেকে তিনি অনেক দূরে সরে থাকতেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ব্যক্তিগত কারণে কারো থেকে কখনো প্রতিশোধ গ্রহণ করেন নি। তবে আল্লাহর নির্ধারিত সীমারেখা লঙ্ঘন করা হলে তখন আল্লাহ তা‘আলার জন্যে প্রতিশোধ নিতেন।”
সহীহ বুখারী ও মুসলিমমানসহীহ
ব্যাখ্যা

মুমিনদের মা আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কিছু নীতি-নৈতিকতার কথা বর্ণনা করেছেন। তিনি যা উল্লেখ করেছিলেন তার মধ্যে ছিল যে, তাকে কখনও দু’টি জিনিসের মাঝে স্বাধীনতা দেওয়া হয়নি যার সহজটা তিনি গ্রহণ করননি, যদি সহজটি পাপ না হত, পাপ হলে তিনি তা থেকে সবচেয়ে দূরে থাকতেন তারপর গুরুতরটা বেছে নিতেন। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের জন্য প্রতিশোধ নিতেন না, বরং তিনি তার অধিকার ক্ষমা করে দিতেন, যদি না আল্লাহর সীমা লঙ্ঘিত হয়, তখন তিনি আল্লাহর জন্য প্রতিশোধ নিতেন। তিনি আল্লাহর জন্য সবচেয়ে বেশি গোস্বাকারী ছিলেন।

শিক্ষা
  1. পাপ না হলে বিষয়গুলিতে সহজ পথ অবলম্বন করা মুস্তাহাব।
  2. ইসলামের সহজতা।
  3. আল্লাহর জন্য রাগ করার বৈধতা।
  4. তিনি সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম ধৈর্য, ​​সহনশীল এবং আল্লাহর সীমা প্রতিষ্ঠায় সত্যের সাথে অবিচল ছিলেন।
  5. ইবনু হাজার বলেন: এর মধ্যে রয়েছে কঠিন কাজ ত্যাগ করা, সহজ কাজ নিয়ে সন্তুষ্ট থাকা এবং যা করতে বাধ্য করা হয় না তার উপর জেদ ত্যাগ করা।
  6. আল্লাহর অধিকার ব্যতীত ক্ষমার প্রতি উৎসাহী করা।
সূত্র

صحيح البخاري (4/ 189) (3560). صحيح مسلم (4/ 1813) (2327). فتح الباري لابن حجر (575/6). شرح صحيح مسلم (83/15). كنوز رياض الصالحين، لمجموعة من الباحثين (601/9). شرح رياض الصالحين لابن عثيمين (587/3).

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

ইয়াহূদীরা ঋতুবতী মহিলাদের সাথে ঘরে একত্রে খেত না এবং তাদের সাথে মেলামেশা করত না। তখন রাসূলের সাহাবীগণ নবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বিষয়টি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। তখন আল্লাহ তা‘আলা এ আয়াত নাযিল করেন, “লোকে আপনাকে ঋতুস্রাব সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে। আপনি বলুন, তা অশুচি। অতএব, তোমরা ঋতুস্রাবকালে স্ত্রীসঙ্গ ত্যাগ করো” [সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ২২২]

عن أنس رضي الله عنه : أن اليَهُود كانوا إذا حَاضَت المرأة فيهم لم يؤَاكِلُوها، ولم يُجَامِعُوهُن في البيوت فسأل أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم النبي صلى الله عليه وسلم فأنزل الله تعالى: {ويسألونك عن المحيض قل هو أذى فاعتزلوا النساء في المحيض} [البقرة: 222] إلى آخر الآية، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم : «اصْنَعُوا كلَّ شيء إلا النكاح». فَبَلغ ذلك اليهود، فقالوا: ما يُريد هذا الرَّجُل أن يَدع من أمْرِنا شيئا إلا خَالفَنَا فيه، فجاء أُسَيْدُ بن حُضَيْر، وعَبَّاد بن بِشْر فقالا يا رسول الله، إن اليهود تقول: كذا وكذا، فلا نُجَامِعُهُن؟ فَتغيَّر وجه رسول الله صلى الله عليه وسلم حتى ظَنَنَا أن قد وجَد عليهما، فخرجا فَاسْتَقْبَلَهُمَا هَدِيَّة من لَبَنٍ إلى النبي صلى الله عليه وسلم ، فأَرسَل في آثَارِهِما فَسَقَاهُمَا، فَعَرَفَا أن لم يَجِد عليهما.
আনাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, ইয়াহূদীরা ঋতুবর্তী মহিলাদের সাথে ঘরে একত্রে খেত না এবং তাদের সাথে মেলামেশা করত না। তখন রাসূলের সাহাবীগণ নবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বিষয়টি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। তখন আল্লাহ তা‘আলা এ আয়াত নাযিল করেন, “লোকে আপনাকে ঋতুস্রাব সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে। আপনি বলুন, তা অশুচি। অতএব, তোমরা ঋতুস্রাবকালে স্ত্রীসঙ্গ ত্যাগ করো”। [সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ২২২] তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “তোমরা তাদের সাথে সঙ্গম ব্যতীত আর সবকিছুই করতে পারো।” বিষয়টি ইয়াহূদীদের কাছে পৌঁছলে তারা বলল, এই লোকটি আমাদের দীনের কোনো বিষয়কেই বিরোধিতা করা ছাড়া ছাড়ছে না। উসাইদ ইবন হুদাইর ও আব্বাদ ইবন বিশর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল ইয়াহূদীরা এমন এমন কথা বলে আমরা কি তাদের সাথে মেলা মেশা করব না? এ কথা শোনে রাসূলের চেহারা পরিবর্তন হয়ে গেল। এমনকি আমরা ধারণা করলাম তাদের থেকে তিনি কষ্ট পেয়েছেন। তারপর তারা দুইজন বের হলো এ অবস্থায় রাসূলের জন্য প্রেরিত দুধের হাদিয়া তাদের সামনে পড়ল। তারপর তিনি তাদের পিছনে লোক পাঠালেন এবং তাদেরকে পান করালেন। ফলে তারা জানলেন যে, তাদের ওপর তিনি ক্ষুব্ধ হন নি।
এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।মানসহীহ
ব্যাখ্যা

আনাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু সংবাদ দেন যে, ইয়াহূদীরা ঋতুবতী মহিলাদের সাথে ঘরের মধ্যে কোনো ধরনের মেলামেশা করত না এবং তাদের সাথে পানাহার করত না।” অর্থাৎ ইয়াহূদীরা ঋতুবর্তী নারীদের সাথে পানাহার থেকে বিরত থাকত। তাদের বানানো কোন খাদ্য ও ঝুটা গ্রহণ করত না। কারণ, তারা বিশ্বাস করত যে, তারা অপবিত্র এবং তাদের ঘাম অপবিত্র। “তাদের সাথে ঘরের মধ্যে মেলামেশা করত না।” এখানে মেলামেশা দ্বারা উদ্দেশ্য বসবাস ও উঠবস করা। যখন নারীদের মাসিক হতো তখন ইয়াহূদীরা তাদের সাথে উঠবস করত না বরং তাদের ঘর থেকে বের করে দিত। যেমনটি আনাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত আবূ দাউদের হাদীসে রয়েছে: “ইয়াহূদী নারীদের যখন হায়েয আরম্ভ হতো। তারা তাদেরকে ঘর থেকে বের করে দিত। তারা তাদের সাথে পানাহার করত না তাদের সাথে এক ঘরে থাকত না।” অর্থাৎ যখন তারা মাসিকের সময় নারীদের দূরে রাখা বিষয়ে ইয়াহূদীদের অবস্থা জানতে পারলেন, তখন নবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বিষয়টি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। তখন আল্লাহ তা‘আলা এ আয়াত নাযিল করেন, “লোকে আপনাকে ঋতুস্রাব সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে। আপনি বলুন, তা অশুচি। অতএব, তোমরা ঋতুস্রাবকালে স্ত্রীসঙ্গ ত্যাগ করো”। [সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ২২২] তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “তোমরা তাদের সাথে সঙ্গম ব্যতীত আর সবকিছুই করতে পারো।” সুতরাং তাদের সাথে মেলামেশা, পানাহার, উঠবস করা এবং একই বিছানায় ঘুমানো সবই বৈধ করেছেন। শুধুমাত্র লজ্জাস্থানে সঙ্গম করা ছাড়া। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী, “তোমরা সঙ্গম ব্যতীত সবকিছুই কর।” এতে রয়েছে আয়াতের সংক্ষিপ্তের বর্ণনা। কারণ, আল্লাহর বাণী “তোমরা নারীদের থেকে দূরে থাক।” নারীদের সাথে খাওয়া, পানাহার, মেলামেশা, উঠবস চলাফেরা করা সবকিছুকেই অন্তভুর্ক্ত করে। তাই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দূরে রাখা দ্বারা উদ্দেশ্য বর্ণনা করে দিয়েছেন। আর তা হলো শুধু সহবাস ত্যাগ করা অন্য কিছু নয়। “বিষয়টি ইয়াহূদীদের কাছে পৌঁছলো” অর্থাৎ ইয়াহূদীদের নিকট খবর পৌঁছল যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সাহাবীদের হায়েয চলাকালে নারীদের সাথে সহবাস করা ছাড়া সবকিছুর অনুমতি দিয়েছেন। “তখন তারা বলল, এই লোকটি আমাদের দীনের কোনো বিষয়কেই বিরোধিতা করা ছাড়া ছাড়ছে না।” অর্থাৎ যখন দেখে আমরা কোনো কিছুর ওপর আমাল করছি তখন সে আমাদের বিরোধিতা করেন এবং তার বিপরীত নির্দেশ দেন। সে প্রতিটি বিষয়ে আমাদের বিরোধিতা করতে আগ্রহী। “তখন উসাইদ ইবন হুদাইর ও আব্বাদ ইবন বিশর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা রাসূলুল্লাহর নিকট আসলেন। তারা দুইজন এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল ইয়াহূদীরা এমন এমন কথা বলে আমরা কি তাদের সাথে সহবাস করব না।?” অর্থাৎ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন ইয়াহুদীদের বিরোধিতা করলেন, তখন তা শোনে তারা যা বলল তা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট উসাইদ ইবন হুদাইর ও আব্বাদ ইবন বিশর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা তুলে ধরলেন। অতঃপর প্রতিটি বিষয়ে ইয়াহুদীদের বিরোধিতা বাস্তবায়নের জন্য তারা দু’জন সহবাস করার বৈধতাও প্রার্থনা করলেন। অর্থাৎ আমরা যেহেতু নারীদের সাথে মেলামেশার ক্ষেত্রে তাদের বিরোধিতা করলাম, যেমন তারা তাদের সাথে মেলামেশা করে না, আর আমরা মেলামেশা করি, ঘুমাই, পানাহার করি সবই করি কেবল সহবাস ছাড়া। তাহলে আমরা কি তাদের সাথে সহবাস করব না যাতের সববিষয়ে তাদের বিরোধিতা করা সাব্যস্ত হয়। “এ কথা শোনে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চেহারা পরিবর্তন হয়ে গেল।” অর্থাৎ আল্লাহর রাসূল তাদের দু’জনকে তাদের ইজতিহাদের ওপর সমর্থন দেন নি; বরং তিনি ক্ষুব্ধ হলেন এবং তাঁর ক্ষুব্ধতার নিদর্শন তার চেহারায় ফুটে উঠল। কারণ, তাদের দু’জনের কথাটি ছিল শরী‘আতের পরিপন্থী। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, “আপনি বলুন, তা অশুচি। অতএব, তোমরা ঋতুস্রাবকালে স্ত্রীসঙ্গ ত্যাগ করো” রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আয়াতে উল্লিখিত দূরে রাখা দ্বারা কী উদ্দেশ্য তা স্পষ্ট করেন। আর তা হলো মাসিকের সময় তাদের সাথে সহবাস করা তোমাদের জন্য বৈধ নয়। “এমনকি আমরা ধারণা করলাম তাদের ওপর তিনি ক্ষেপেছেন।” অর্থাৎ তাদের দু’জনের কথার কারণে তাদের ওপর ক্ষুব্ধ হয়েছেন। “তারপর তারা দু’জন বের হলো এ অবস্থায় রাসূলের জন্য প্রেরিত দুধের হাদিয়া তাদের সামনে পড়ল। তারপর তিনি তাদের পিছনে লোক ডেকে পাঠালেন এবং তাদের দু’জনকে পান করালেন।” তারা দু’জন তার নিকট থেকে বের হয়ে পড়লেন। আর তাদের বের হওয়ার সময় এক লোক তাদের সামনে পড়ল, তার সাথে ছিল দুধ। সে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তা হাদীয়া দেন। যখন হাদিয়া দাতা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট প্রবেশ করেন তখন আল্লাহর রাসূল এক লোককে তাদের ডেকে আনার জন্য পাঠালেন। তারপর যখন তারা দু’জন আসল, তাদের প্রতি করুণা ও সন্তুষ্টি প্রকাশ করে তাদেরকে এ দুধ থেকে পান করালেন। “ফলে তারা জানলেন যে, তাদের ওপর তিনি ক্ষুব্ধ হন নি।” অর্থাৎ ক্ষুব্ধ হন নি। কারণ, তারা দু’জন যে বিষয়ে কথা বলেছেন, সে ব্যাপারে তাদের নিয়ত সুন্দর হওয়ার কারণে তারা ছিল মার্যনীয় অথবা তার ক্ষোভ তাদের প্রতি স্থায়ী হয় নি, বরং সাথে সাথে তা দূর হয়ে গেছে। এটি তার উত্তম চরিত্র ও সাহাবীদের প্রতি নমনীয়তার বহিঃপ্রকাশ।

সূত্র

صحيح مسلم، تأليف: مسلم بن الحجاج النيسابوري، تحقيق: محمد فؤاد عبد الباقي الناشر: دار إحياء التراث العربي – بيروت. تسهيل الإلمام بفقه الأحاديث من بلوغ المرام، تأليف: صالح بن فوزان بن عبد الله الفوزان، الطبعة: الأولى، 1427 هـ _ 2006 م. توضيح الأحكام مِن بلوغ المرام، تأليف: عبد الله بن عبد الرحمن بن صالح البسام، الناشر: مكتبة الأسدي، مكة المكرّمة الطبعة: الخامِسَة، 1423 هـ - 2003 م. فتح ذي الجلال والإكرام، شرح بلوغ المرام، تأليف: محمد بن صالح بن محمد العثيمين، الناشر: المكتبة الإسلامية، تحقيق: صبحي بن محمد رمضان، وأُم إسراء بنت عرفة. المنهاج شرح صحيح مسلم، تأليف: محيي الدين يحيى بن شرف النووي، الناشر: دار إحياء التراث العربي، الطبعة: الثانية 1392هـ. مرقاة المفاتيح شرح مشكاة المصابيح، تأليف: علي بن سلطان القاري، الناشر: دار الفكر، الطبعة: الأولى، 1422هـ. عون المعبود شرح سنن أبي داود، تأليف: محمد شمس الحق العظيم آبادي، الناشر: دار الكتب العلمية، الطبعة: الثانية، 1415هـ. شرح سنن أبي داود، تأليف: عبد المحسن بن حمد بن عبد المحسن العباد، نسخة الإلكترونية.

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

এখানকার প্রতিটি হাদীস, মান, ব্যাখ্যা ও শিক্ষা HadeethEnc.com যেভাবে প্রকাশ করে হুবহু সেভাবেই দেখানো, তাদের পুনঃপ্রকাশের শর্ত মেনে। মানের সঙ্গে মান-নির্ধারকের নাম নেই। অনুবাদ ও ব্যাখ্যা এর লেখকদের নিজস্ব, এবং কোনো কোনোটিতে বিধান বলা আছে; সাবীলের পর্যালোচকেরা এগুলো যাচাই করেননি। আরবি হাদীসটিই মূল পাঠ। উৎস: HadeethEnc.com