عَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضيَ اللهُ عنهما قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِذَا جَمَعَ اللهُ الْأَوَّلِينَ وَالْآخِرِينَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ يُرْفَعُ لِكُلِّ غَادِرٍ لِوَاءٌ، فَقِيلَ: هَذِهِ غَدْرَةُ فُلَانِ بْنِ فُلَانٍ».
ইবনু ‘উমার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যখন আল্লাহ কিয়ামতের দিন প্রথম ও শেষ সকলকে একত্রিত করবেন, তখন প্রতিটি বিশ্বাসঘাতকের জন্য একটি পতাকা উত্তোলন করা হবে এবং বলা হবে: 'এটি অমুকের পুত্র অমুকের বিশ্বাসঘাতকতা।'"
সহীহ বুখারী ও মুসলিমমানসহীহ
ব্যাখ্যা
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের জানান যে, যখন আল্লাহ তা‘আলা কিয়ামতের দিন প্রথম ও শেষ সকলকে হিসাব গ্রহণের জন্য একত্রিত করবেন, তখন তিনি প্রতিটি বিশ্বাসঘাতকের জন্য একটি নিদর্শন স্থাপন করবেন যারা আল্লাহর সাথে বা মানুষের সাথে করা তার প্রতিশ্রুতি পূরণ করেনি, যা তার বিশ্বাসঘাতকতা প্রকাশ করবে এবং সেই দিন তাকে ডাকা হবে: এটা অমুক ব্যক্তির বিশ্বাসঘাতকতা; সমবেত লোকদের কাছে তার খারাপ কাজগুলো প্রকাশের জন্য।
শিক্ষা
- বিশ্বাসঘাতকতা হারাম করা এবং এটি একটি কবীরা পাপ; কারণ এতে এই গুরুতর হুমকি রয়েছে।
- যে বিশ্বাসঘাতকতা সম্পর্কে শাসানো হয়েছে তার মধ্যে এমন সবাই অন্তর্ভুক্ত, যে তোমাকে রক্ত, সম্মান, গোপন তথ্য বা অর্থের ব্যাপারে আস্থাশীল করেছে, কিন্তু তুমি তার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছো এবং তোমার আমানতের ব্যাপারে তার বিশ্বাস ভঙ্গ করেছো।
- আল্লামা কুরতুবী বলেন: এটি আরবদের প্রতি তাঁর একটি সম্বোধন, যা তারা যা করত তার অনুরূপ। কারণ তারা বিশ্বাসঘাতককে তিরস্কার ও বদনাম করার জন্য আস্থার একটি সাদা পতাকা আর বিশ্বাসঘাতকতার একটি কালো পতাকা উত্তোলন করতেন, তাই হাদীস বিশ্বাসঘাতকের সাথেও একই ঘটনা ঘটার দাবি করল; যাতে কিয়ামতের দিন নিজ বদনামে সে বিখ্যাত হয় এবং সমবেত লোকেরা তার নিন্দা করে।
- ইবনু হাজার বলেন: এতে বলা হয়েছে যে, কিয়ামতের দিন মানুষকে তাদের পিতার নামে ডাকা হবে। কারণ তিনি এ সম্পর্কে বলেছেন: "এটি অমুকের পুত্র অমুকের বিশ্বাসঘাতকতা।"
সূত্র
صحيح البخاري (4/ 104) (3188)
صحيح مسلم (3/ 1359) (1735).
تيسير العلام شرح عمدة الأحكام، للبسام (ص745).
الإلمام بشرح عمدة الأحكام، لإسماعيل الأنصاري (2/ 188).
HadeethEnc.com-এ এই হাদীসعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بنِ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُما: أَنَّ امْرَأَةً وُجِدَتْ فِي بَعْضِ مَغَازِي النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَقْتُولَةً، فَأَنْكَرَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَتْلَ النِّسَاءِ وَالصِّبْيَانِ.
আব্দুল্লাহ ইবনু ‘উমার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা থেকে বর্ণিত: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কোন এক যুদ্ধে জনৈক মহিলাকে নিহত অবস্থায় পাওয়া যায়। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মহিলা ও শিশুদের হত্যা করতে নিষেধ করেন।
সহীহ বুখারী ও মুসলিমমানসহীহ
ব্যাখ্যা
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোনো এক যুদ্ধে একজন নিহত নারীকে দেখলেন। তখন তিনি নারী ও ছোট বালক যারা সাবালক হয়নি তাদের হত্যা করাকে নিষিদ্ধ করলেন।
শিক্ষা
- নারী ও বালক এবং যারা তাদের মত দুর্বল অবস্থাপন্ন যেমন অতি বৃদ্ধ ও পাদরি যারা যুদ্ধ করে না , এমনকি তারা মুসলিমদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে পরামর্শদাতা ও সাহায্যকারীও নয়,তাদেরকে হত্যা করা হবে না। এ ছাড়া অন্যদের কে হত্যা করা হবে।
- নারী ও বাচ্চাদের হত্যা করা নিষেধ; কারণ তারা মুসলিমদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে না, প্রকৃতপক্ষে আল্লাহর রাস্তায় জিহাদের উদ্দেশ্য হলো শুধু বিরোধী যোদ্ধাদের শক্তিকে ভেঙ্গে ফেলা, যাতে হকের দাওয়াত সবার নিকট পৌঁছে যায়।
- এখানে যুদ্ধ ও লড়াইতেও নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের দয়ার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে।
সূত্র
صحيح البخاري (4/ 61) (3014).
صحيح مسلم (3/ 1364) (1744).
الإلمام بشرح عمدة الأحكام، لإسماعيل الأنصاري (2/ 189).
تيسير العلام شرح عمدة الأحكام، للبسام (ص746).
HadeethEnc.com-এ এই হাদীসعَنْ أَبِي مُوسَى رضي الله عنه قَالَ: سُئِلَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنِ الرَّجُلِ يُقَاتِلُ شَجَاعَةً، وَيُقَاتِلُ حَمِيَّةً، وَيُقَاتِلُ رِيَاءً، أَيُّ ذَلِكَ فِي سَبِيلِ اللهِ؟ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ قَاتَلَ لِتَكُونَ كَلِمَةُ اللهِ هِيَ الْعُلْيَا، فَهُوَ فِي سَبِيلِ اللهِ».
আবূ মূসা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এমন এক লোক সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, যে বীরত্ব প্রদর্শনের জন্য যুদ্ধ করে থাকে, আবার কেউ বংশ কৌলিন্যের কারণে যুদ্ধ করে আবার কেউ মানুষ দেখানোর জন্য যুদ্ধ করে থাকে, এদের মধ্যে কোনটি আল্লাহর রাস্তায় হয়েছে? আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: “যে ব্যক্তি শুধুমাত্র আল্লাহর কালিমাকেই উঁচু রাখার জন্য যুদ্ধ করবে, তার যুদ্ধই শুধু আল্লাহর রাস্তায় হবে।”
সহীহ বুখারী ও মুসলিমমানসহীহ
ব্যাখ্যা
আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে যোদ্ধাদের মধ্যে বিদ্যমান ভিন্ন ভিন্ন উদ্দেশ্য সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল; যে ব্যক্তি বীরত্ব প্রদর্শনের জন্য লড়াই করে, অথবা বংশ মর্যাদা রক্ষার জন্য লড়াই করে, অথবা মানুষের মধ্যে তার অবস্থান দেখানোর জন্য বা অন্যান্য কারণে লড়াই করে, তাদের মধ্যে কোনটি আল্লাহর রাস্তায় (জিহাদ) হয়েছে বলে ধরা হবে? তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সংবাদ দিলেন, আল্লাহর রাস্তায় লড়াইকারী তো শুধু ঐ ব্যক্তি, যে আল্লাহর কালিমা উঁচু হোক, শুধুমাত্র এ কারণেই লড়াই করে।
শিক্ষা
- আমলের বিশুদ্ধতা এবং বাতিলর ক্ষেত্রে মূলনীতি হচ্ছে, নিয়ত এবং ইখলাস-আমলটিকে শুধুমাত্র আল্লাহর জন্য খালিস করা।
- যখন জিহাদের মূল উদ্দেশ্য হবে আল্লাহর কালিমাকে উঁচু করা এবং এর সাথে অন্য কোন বৈধ উদ্দেশ্য যুক্ত হয়, যেমন: গণীমত হাসিল করা, তাহলে এতে মূল নিয়তের ক্ষেত্রে কোন প্রভাব পড়বে না।
- স্বদেশ রক্ষার্থে এবং সম্মান-মর্যাদা রক্ষার্থে শত্রুদেরকে প্রতিহত করা আল্লাহর রাস্তায় যুদ্ধ করার অন্তর্ভুক্ত।
- মুজাহিদদের ব্যাপারে বর্ণিত ফযীলত শুধুমাত্র তাদের জন্য নির্দিষ্ট, যারা আল্লাহর কালিমাকে উঁচু রাখার জন্য যুদ্ধ করেন।
সূত্র
صحيح البخاري (9/ 136) (7458).
صحيح مسلم (3/ 1513) (1904).
تيسير العلام شرح عمدة الأحكام، لعبد الله البسام (ص753).
الإعلام بفوائد عمدة الأحكام، لابن الملقن (10/ 380).
HadeethEnc.com-এ এই হাদীসعن أبي هريرة رضي الله عنه قال: بَعَثَنَا رسول الله صلى الله عليه وسلم في بَعْثٍ، فقال: «إن وجَدْتُم فُلانا وفُلانا» لرجلين من قُرَيْش سَمَّاهُما «فأَحْرِقُوهُمَا بالنَّار» ثم قال رسول الله صلى الله عليه وسلم حين أردنا الخروج: «إني كنت أَمَرْتُكُمْ أن تُحْرِقُوا فلانًا وفلانًا، وإن النَّار لا يُعَذِّبُ بها إلا الله، فإن وجَدْتُمُوهُما فاقْتُلُوهُما».
আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার আমাদেরকে একটি অভিযানে পাঠালেন এবং কুরাইশ বংশীয় দুই ব্যক্তির নাম নিয়ে আদেশ দিলেন যে, ‘তোমরা যদি অমুক ও অমুককে পাও, তাহলে তাদেরকে আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দিও।’ অতঃপর যখন যাত্রা শুরু করলাম, তখন তিনি বললেন, “আমি তোমাদেরকে অমুক অমুককে আগুন দিয়ে জ্বালাতে বলেছিলাম। কিন্তু আগুন দিয়ে জ্বালানোর শাস্তি কেবল আল্লাহই দেন। বিধায় তোমরা যদি তাদেরকে পাও, তাহলে তাদেরকে হত্যা ক’রে দিও।”
এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন।মানসহীহ
ব্যাখ্যা
আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু এ হাদীসটিতে সংবাদ দেন যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার তাদেরকে একটি অভিযানে পাঠালেন দুশমনদের সাথে যদ্ধ করার জন্য এবং তাদের নির্দেশ দিলেন যদি তারা কুরাইশ বংশীয় দুইজন নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে দেখে তারা যেন তাদের আগুন দিয়ে জালিয়ে দেয়। অতঃপর যখন তারা যাত্রা শুরু করল এবং তারা তাদের সফরের পূর্বে তার কাছ থেকে বিদায় আনতে গেলেন, তখন তিনি বললেন, “আমি তোমাদেরকে অমুক অমুককে আগুন দিয়ে জ্বালানোর নির্দেশ দিয়েছিলাম। কিন্তু আগুন দিয়ে জ্বালানোর শাস্তি কেবল আল্লাহই দেন। বিধায় তোমরা যদি তাদেরকে পাও, তাহলে তাদেরকে হত্যা ক’রে দিও”।
সূত্র
نزهة المتقين، تأليف: جمعٌ من المشايخ، الناشر: مؤسسة الرسالة، الطبعة الأولى: 1397 هـ الطبعة الرابعة عشر 1407 هـ.
كنوز رياض الصالحين، تأليف: حمد بن ناصر بن العمار ، الناشر: دار كنوز أشبيليا، الطبعة الأولى: 1430 هـ.
بهجة الناظرين، تأليف: سليم بن عيد الهلالي، الناشر: دار ابن الجوزي ، سنة النشر: 1418 هـ- 1997م.
رياض الصالحين، تأليف: محيي الدين يحيى بن شرف النووي ، تحقيق: د. ماهر بن ياسين الفحل ، الطبعة: الأولى، 1428 هـ.
صحيح البخاري، تأليف: محمد بن إسماعيل البخاري، تحقيق: محمد زهير الناصر، الناشر: دار طوق النجاة الطبعة: الأولى، 1422هـ.
دليل الفالحين، تأليف: محمد بن علان، الناشر: دار الكتاب العربي، نسخة الكترونية ، لا يوجد بها بيانات نشر.
شرح رياض الصالحين، تأليف: محمد بن صالح العثيمين، الناشر: دار الوطن للنشر، الطبعة: 1426 ه.
HadeethEnc.com-এ এই হাদীসعنْ ابنِ مَسْعُودٍ رَضيَ اللهُ عنهُ قَالَ: كُنَّا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي سَفَرٍ، فَانْطَلَقَ لِحَاجَتِهِ، فَرَأَيْنَا حُمَّرَةً مَعَهَا فَرْخَانِ، فَأَخَذْنَا فَرْخَيْهَا، فَجَاءَتِ الْحُمَرَةُ فَجَعَلَتْ تَفْرِشُ، فَجَاءَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ: «مَنْ فَجَعَ هَذِهِ بِوَلَدِهَا؟ رُدُّوا وَلَدَهَا إِلَيْهَا»، وَرَأَى قَرْيَةَ نَمْلٍ قَدْ حَرَّقْنَاهَا، فَقَالَ: «مَنْ حَرَّقَ هَذِهِ؟» قُلْنَا: نَحْنُ. قَالَ: «إِنَّهُ لَا يَنْبَغِي أَنْ يُعَذِّبَ بِالنَّارِ إِلَّا رَبُّ النَّارِ».
ইবনু মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা ’আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সফর সঙ্গী ছিলাম। তিনি তাঁর প্রয়োজনে অন্যত্র গেলেন। ’আমরা দু’টি বাচ্চাসহ একটি পাখি দেখতে পেয়ে বাচ্চা দুটোকে ধরে নিলাম। মা পাখিটা সাথে সাথে আসলো এবং পাখা ঝাঁপটিয়ে বাচ্চার জন্য অস্থিরতা প্রকাশ করতে লাগলো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফিরে এসে বললেনঃ “কে এর বাচ্চা নিয়ে এসে একে অস্থিরতায় ফেলেছে? বাচ্চাগুলো এদের মায়ের কাছে ফিরিয়ে দাও”। তিনি আমাদের পুড়িয়ে দেয়া একটা পিঁপড়ার টিবি দেখতে পেয়ে বললেনঃ “কে এগুলো পুড়িয়েছে?” ’আমরা বললাম, ’আমরা। তিনি বললেনঃ “আগুনের রব ব্যতীত আগুন দিয়ে কিছুকে শাস্তি দেয়ার কারো অধিকার নেই”।
আবু দাউদ এটি বর্ণনা করেছেনমানসহীহ
ব্যাখ্যা
আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, তারা নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে এক সফরে ছিলেন, তিনি সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম মলত্যাগ করতে বেরিয়ে পড়লেন এবং তার সঙ্গীরা দুটি ছানাসহ একটি লাল পাখি দেখতে পেলেন, তাই তারা তাদের ধরলেন। লাল পাখিটি তার ছানা হারানোর ভয়ে আতঙ্কিত হয়ে তার ডানা মেলে দিতে শুরু করল এবং ডানা খুলতে শুরু করল। তারপর তিনি সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এসে বললেন: তার সন্তানদের কেড়ে নিয়ে কে তাকে দুঃখিত এবং ভীত করেছে?! তারপর তিনি তাকে তা ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দিলেন। তারপর তিনি একটি পিঁপড়ার গ্রাম দেখতে পেলেন যা আগুনে পুড়া হয়েছিল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: কে এটা পুড়িয়ে দিয়েছে? তার কিছু সাহাবী বললেন: আমরা। তিনি তাদের বললেন: কাউকে আগুন দিয়ে জীবন্ত যন্ত্রণা দেওয়া স্রষ্টা ছাড়া কারও পক্ষে জায়েয নয়।
শিক্ষা
- প্রয়োজন পূরণ করার জন্য নিজেকে লুকানোর বৈধতা।
- পশুদের বাচ্চা কেড়ে নিয়ে তাদের উপর নির্যাতন করা নিষেধ।
- আগুনে পিঁপড়া এবং পোকামাকড় পোড়ানো নিষেধ।
- প্রাণীদের প্রতি করুণা ও দয়া করার তাগিদ দেওয়া এবং ইসলামই প্রথম তা করেছিল।
- পশুদের প্রতি তাঁর করুণা।
- আগুনের দ্বারা শাস্তি দেওয়া এমন একটি কাজ যা আল্লাহ তা‘আলার একচেটিয়া অধিকার।
সূত্র
سنن أبي داود (4/ 309) (2675).
نزهة المتقين، لمجموعة من الباحثين (2/ 1105).
كنوز رياض الصالحين، لمجموعة من الباحثين (19/ 150).
بهجة الناظرين، لسليم الهلالي (3/ 120).
شرح رياض الصالحين، لابن عثيمين (6/ 300).
HadeethEnc.com-এ এই হাদীসএখানকার প্রতিটি হাদীস, মান, ব্যাখ্যা ও শিক্ষা HadeethEnc.com যেভাবে প্রকাশ করে হুবহু সেভাবেই দেখানো, তাদের পুনঃপ্রকাশের শর্ত মেনে। মানের সঙ্গে মান-নির্ধারকের নাম নেই। অনুবাদ ও ব্যাখ্যা এর লেখকদের নিজস্ব, এবং কোনো কোনোটিতে বিধান বলা আছে; সাবীলের পর্যালোচকেরা এগুলো যাচাই করেননি। আরবি হাদীসটিই মূল পাঠ। উৎস: HadeethEnc.com