মূল অংশে যান
ব্যাখ্যাসহ হাদীস

কুরবানী

৩টি হাদীস

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু’টি সাদা-কালো রং এর শিং ওয়ালা ভেড়া কুরবানী করেন। তিনি ভেড়া দু’টির পার্শ্বে তাঁর পা রেখে ’বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার’ বলে স্বহস্তেই দু’টিকে যবেহ করেন।

عَنْ أَنَسٍ رَضيَ اللهُ عنهُ قَالَ: ضَحَّى النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِكَبْشَيْنِ أَمْلَحَيْنِ أَقْرَنَيْنِ، ذَبَحَهُمَا بِيَدِهِ، وَسَمَّى وَكَبَّرَ، وَوَضَعَ رِجْلَهُ عَلَى صِفَاحِهِمَا.
আনাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু’টি সাদা-কালো রং এর শিং ওয়ালা ভেড়া কুরবানী করেন। তিনি ভেড়া দু’টির পার্শ্বে তাঁর পা রেখে ’বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার’ বলে স্বহস্তেই দু’টিকে যবেহ করেন।
সহীহ বুখারী ও মুসলিমমানসহীহ
ব্যাখ্যা

আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদুল আযহার দিনে নিজের হাতে শিংওয়ালা সাদা-কালো দুটি পুরুষ ভেড়াকে জবাই করলেন এবং তিনি বললেন: বিসমিল্লাহ আল্লাহু আকবার এবং তিনি তার ঘাড়ের উপর স্বীয় পা রাখলেন।

শিক্ষা
  1. কুরবানির বিধান এবং মুসলিমরা সর্বসম্মতিক্রমে এতে একমত।
  2. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে প্রকার প্রাণী কুরবানী করেছেন সে প্রকার হল কুরবানির জন্য উত্তম। কারণ এর চেহারা সুন্দর এবং এর চর্বি ও মাংস ভালো।
  3. নাওয়াবী বলেন: এটি ইঙ্গিত করে যে ব্যক্তির জন্য তার নিজের কুরবানী স্বহস্তে জবাই করা মুস্তাহাব। অজুহাত ব্যতীত এটি জবাই করার জন্য কাউকে দায়িত্ব দিবে না, সে ক্ষেত্রে তার যবেহ প্রত্যক্ষ করা মুস্তাহাব, যদি সে এর জন্য একজন মুসলিমকে দায়িত্ব দেয় তাহলে বিনা দ্বিমতে তা জায়েজ।
  4. ইবনু হাজার বলেন: এতে যবেহ করার সময় ‘বিসমিল্লাহ”র সাথে ‘আল্লাহু আকবার’ বলা এবং কুরবানীর ঘাড়ের ডান কাঁধের উপর পা রাখা মুস্তাহাব প্রমাণিত হয়। আর তারা একমত হয়েছেন যে এটিকে বাম পাশে শোয়াবে এবং তার পা ডান পাশে রাখবে, যাতে জবাইকারীর পক্ষে ডান হাতে ছুরি নেওয়া এবং তার বাম হাত দিয়ে তার মাথা ধরে রাখা সহজ হয়।
  5. শিংওয়ালা পশু কুরবানী করা মুস্তাহাব, তবে শিং ছাড়াও জায়েয।
সূত্র

صحيح البخاري (7/ 102) (5565). صحيح مسلم (3/ 1556) (1966). تيسير العلام شرح عمدة الأحكام، لعبد الله البسام (ص724). الإعلام بفوائد عمدة الأحكام، لابن الملقن (10/ 179).

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরবানীর দিন সালাত আদায় করেন, অতঃপর খুতবাহ দেন। অতঃপর যবেহ্ করেন এবং তিনি বলেন, সালাতের পূর্বে যে ব্যক্তি যবেহ্ করবে তাকে তার স্থলে আর একটি যবহ্ করতে হবে এবং যে যবেহ্ করেনি, আল্লাহর নামে তার যবেহ্ করা উচিত।

عن جُنْدُب بن عَبْدِ الله البجَليِّ رضي الله عنه قال: «صلى النبي صلى الله عليه وسلم يوم النَّحر، ثم خطب، ثم ذبح، وقال: من ذبح قبل أن يُصَلِّيَ فَلْيَذْبَحْ أُخرى مكانها، ومن لم يذبح فَلْيَذْبَحْ باسم الله».
জুনদুব ইব্নু ‘আব্দুল্লাহ্ বাজালী রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরবানীর দিন সালাত আদায় করেন, অতঃপর খুতবাহ দেন। অতঃপর যবেহ্ করেন এবং তিনি বলেন, সালাতের পূর্বে যে ব্যক্তি যবেহ্ করবে তাকে তার স্থলে আরেকটি যবহ্ করতে হবে এবং যে যবেহ্ করেনি, আল্লাহর নামে তার যবেহ্ করা উচিত।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।মানসহীহ
ব্যাখ্যা

কুরবানীর দিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রথমে সালাত তারপর খুতবা তারপর জবেহ করেন। ইসলামের নিদর্শনগুলো তুলে ধরা, উম্মতকে শেখানো এবং উপকারিতাকে সবার কাছে পৌঁছানোর লক্ষ্যে তিনি তার কুরবানির পশুকে ঈদগাহে নিয়ে যেতেন। আর তিনি কুরবানীর শর্ত ও বিধানকে স্পষ্ট করতে গিয়ে তাদের বলেন, যে ব্যক্তি সালাতের আগে জবেহ করে তার জবেহ করা যথেষ্ট হবে না। সে যেন তার জায়গায় আরেকটি পশু জবেহ করে। আর যে জবেহ করেনি সে যেন আল্লাহর নাম নিয়ে জবেহ করে যাতে জবেহ করা শুদ্ধ হয় এবং তা হালাল হয়। হাদীসটি উল্লিখিত ধারাবাহিকতার প্রমাণ স্বরূপ। এর বিপরীত গ্রহণ যোগ্য হবে না। আর হাদীসটি প্রমাণ করে যে, কুরবানীর সময় ঈদের সালাত শেষ হওয়ার সাথে সাথে আরম্ভ হয় সালাতের ওয়াক্ত প্রবেশ করার সাথে নয় এবং ইমামের কুরবানীর সাথেও নয়। তবে যার ওপর ঈদের সালাত ওয়াজিব নয় যেমন মুসাফির, তার বিষয়টি ভিন্ন। তাইসীরুল আল্লাম তাম্বীহুল আফহাম তা’সীসুল আহকাম।

সূত্র

تيسير العلام شرح عمدة الأحكام، عبد الله بن عبد الرحمن البسام، تحقيق: محمد صبحي حلاق، مكتبة الصحابة، الأمارات، مكتبة التابعين، القاهرة، الطبعة: العاشرة 1426هـ. تنبيه الأفهام شرح عمدة الأحكام، محمد بن صالح العثيمين، مكتبة الصحابة، الإمارات، الطبعة: الأولى 1426هـ، 2005م. الإفهام في شرح عمدة الأحكام لابن باز، تحقيق: سعيد القحطاني، مؤسسة عبد العزيز بن باز الخيرية، الرياض، الطبعة: الأولى 1435هـ. العمدة في الأحكام، عبد الغني بن عبد الواحد المقدسي الجماعيلي، تحقيق: سمير بن أمين الزهيري، الناشر: مكتبة المعارف للنشر والتوزيع، الرياض، المملكة العربية السعودية، الطبعة: الأولى 1419هـ، 1998م. صحيح البخاري، محمد بن إسماعيل البخاري الجعفي، تحقيق: محمد زهير الناصر، دار طوق النجاة (مصورة عن السلطانية بإضافة ترقيم: محمد فؤاد عبد الباقي)، الطبعة: الأولى 1422هـ. صحيح مسلم، مسلم بن الحجاج القشيري النيسابوري، تحقيق محمد فؤاد عبد الباقي، دار إحياء التراث العربي، بيروت، الطبعة: 1423هـ. تأسيس الأحكام، أحمد بن يحيى النجمي، دار المنهاج، القاهرة، الطبعة: الأولى 1427هـ.

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

যার কাছে এমন কুরবানীর পশু আছে যাকে যবেহ করার ইচ্ছা রাখে, সে যেন যুলহিজ্জার চন্দ্রোদয়ের পর থেকে কুরবানী যবেহ না করা পর্যন্ত নিজ চুল, নখ কিছু অবশ্যই না কাটে।

عَن أُمِّ سَلَمَةَ أُمِّ المُؤْمِنينَ زَوْجِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رضي الله عنها قَالت: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ كَانَ لَهُ ذِبْحٌ يَذْبَحُهُ فَإِذَا أُهِلَّ هِلَالُ ذِي الْحِجَّةِ، فَلَا يَأْخُذَنَّ مِنْ شَعْرِهِ، وَلَا مِنْ أَظْفَارِهِ شَيْئًا حَتَّى يُضَحِّيَ».
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর স্ত্রী উম্মু সালামাহ্ রাদিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যার কাছে এমন কুরবানীর পশু আছে যাকে যবেহ করার ইচ্ছা রাখে, সে যেন যুলহিজ্জার চন্দ্রোদয়ের পর থেকে কুরবানী যবেহ না করা পর্যন্ত নিজ চুল, নখ কিছু অবশ্যই না কাটে।
ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেনমানসহীহ
ব্যাখ্যা

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নির্দেশ দিয়েছেন যে, যে কেউ কুরবানী করতে চায় সে যেন তার মাথার চুল, বগল, গোঁফ বা অন্য কিছু হতে গ্রহণ না করে এবং তার হাত বা পায়ের নখও গ্রহণ করবে না, যখন যিলহজ্জ মাসের অর্ধচন্দ্র দেখা যায়, যতক্ষণ না তিনি কুরবানী করবেন।

শিক্ষা
  1. যে ব্যক্তি জিলহজ্জ মাসের দশ দিন শুরুর পর কুরবানী করার ইচ্ছা করে, তার নিয়তের সময় থেকে কুরবানী না করা পর্যন্ত উপরোক্ত বস্তু হতে বিরত থাকবে।
  2. যদি সে প্রথম দিনে কুরবানী না করে, তাহলে তাশরিকের যেকোনো দিনে কুরবানী না করা পর্যন্ত তাকে বিরত থাকতে হবে।
সূত্র

صحيح مسلم (3/ 1566) (1977). بهجة الناظرين شرح رياض الصالحين، لسليم الهلالي (3/ 199). شرح رياض الصالحين، لابن عثيمين (6/ 450). نزهة المتقين شرح رياض الصالحين، لمجموعة من الباحثين (2/ 1165).

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

এখানকার প্রতিটি হাদীস, মান, ব্যাখ্যা ও শিক্ষা HadeethEnc.com যেভাবে প্রকাশ করে হুবহু সেভাবেই দেখানো, তাদের পুনঃপ্রকাশের শর্ত মেনে। মানের সঙ্গে মান-নির্ধারকের নাম নেই। অনুবাদ ও ব্যাখ্যা এর লেখকদের নিজস্ব, এবং কোনো কোনোটিতে বিধান বলা আছে; সাবীলের পর্যালোচকেরা এগুলো যাচাই করেননি। আরবি হাদীসটিই মূল পাঠ। উৎস: HadeethEnc.com