عن أنس رضي الله عنه قال: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يُفْطِرُ من الشهر حتى نظن أن لا يصوم منه، ويصوم حتى نظن أن لا يُفْطِرَ منه شيئا، وكان لا تَشَاءُ أن تراه من الليل مُصَلِيًا إلا رأيتَه، ولا نائما إلا رأيتَه.
আনাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘কোন কোন মাসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমনভাবে রোযা ত্যাগ করতেন যে, মনে হত তিনি উক্ত মাসে আর রোযা রাখবেন না। অনুরূপভাবে কোন মাসে এমনভাবে রোযা রাখতেন যে, মনে হত তিনি ঐ মাসে আর রোযা ত্যাগই করবেন না। (তাঁর অবস্থা এরূপ ছিল যে,) যদি তুমি না চাও যে, তাকে সালাত রত অবস্থায় দেখবে, তবে অবশ্যই তাকে সেরূপ দেখতে পাবে, আর যদি তুমি না চাও যে, তাকে ঘুমন্ত অবস্থায় দেখবে, তবে অবশ্যই তাকে সেরূপ দেখতে পাবে।
এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন।মানসহীহ
ব্যাখ্যা
হাদীসটির অর্থ: আনাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু সাওম পালন ও কিয়ামুল লাইল সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অবস্থা সম্পর্কে সংবাদ দেন। তিনি বলেন, ‘কোন কোন মাসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমনভাবে সাওম ত্যাগ করতেন যে, মনে হত তিনি উক্ত মাসে আর সাওম পালন করবেন না। ঐ মাসে অধিক সাওম ত্যাগ করার কারণে এমন মনে হতো। অনুরূপভাবে কোন মাসে এমনভাবে সাওম পালন করতেন যে, মনে হত তিনি ঐ মাসে আর সাওম ত্যাগ করবেন না। অনুরূপভাবে কিয়ামুল লাইলের সালাতে নির্দিষ্ট কোন সময়কে নির্ধারণ করতেন না। কখনো তিনি প্রথম রাতে আবার কখনো তিনি মাঝ রাতে আর কখনো তিনি শেষ রাতে কিয়ামুল লাইল করতেন। এমনভাবে যে, যদি তুমি পছন্দ না কর তাকে সালাত রত অবস্থায় দেখবে, তবে অবশ্যই সেরূপ তাকে দেখতে পাবে। আর যদি তুমি পছন্দ না কর যে, তাকে ঘুমন্ত অবস্থায় দেখবে, তবে অবশ্যই সেরূপ তাকে দেখতে পাবে। বস্তুত তার আমল ছিল বাড়াবাড়ি ও শীথিলতার মাঝামাঝি।
সূত্র
- رياض الصالحين من كلام سيد المرسلين، أبو زكريا محيي الدين النووي، تحقيق ماهر الفحل، دار ابن كثير، دمشق، بيروت، الطبعة: الأولى 1428هـ.
- بهجة الناظرين شرح رياض الصالحين، سليم بن عيد الهلالي، دار ابن الجوزي، الدمام، الطبعة: الأولى 1415هـ.
- نزهة المتقين شرح رياض الصالحين، مجموعة من الباحثين، مؤسسة الرسالة، بيروت، الطبعة: الرابعة عشر 1407هـ.
- صحيح البخاري، محمد بن إسماعيل البخاري الجعفي، تحقيق: محمد زهير الناصر، دار طوق النجاة (مصورة عن السلطانية بإضافة ترقيم: محمد فؤاد عبد الباقي)، الطبعة: الأولى 1422هـ.
আবূ সা‘ঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি: “যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় এক দিনও সিয়াম পালন করে, আল্লাহ্ তার মুখমণ্ডলকে জাহান্নামের আগুন থেকে সত্তর বছরের দূরত্বে সরিয়ে নেন”।
সহীহ বুখারী ও মুসলিমমানসহীহ
ব্যাখ্যা
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি জিহাদে এক দিন সিয়াম রাখবে। কেউ বলেছেন: জিহাদ ও অন্যান্য সময় সাওয়াব ও আল্লাহর প্রতিদানের আশায় একমাত্র আল্লাহর জন্য সিয়াম রাখবে; আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তার ও জাহান্নামের মাঝে সত্তর বছরের দূরত্ব তৈরি করবেন।
শিক্ষা
আন-নববী বলেন, আল্লাহর রাস্তায় সিয়ামের ফযীলত। এটি তার জন্য প্রযোজ্য হবে যে সিয়ামের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হবে না এবং এর কারণে কোনও হক ছাড়বে না এবং এর দ্বারা জিহাদ ও জিহাদের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ক্ষতিগ্রস্ত হবে না।
নফল সিয়ামের প্রতি উদ্বুদ্ধ করণ ও উৎসাহ প্রদান।
ইখলাস ও আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা ওয়াজিব এবং লোক দেখানো, সুখ্যাতি ও অন্য কোনো উদ্দেশ্যে সিয়াম রাখবে না।
আস-সিন্দি বলেন, তার বাণী ( আল্লাহর রাস্তা), হতে পারে এর উদ্দেশ্য শুধুই নিয়ত সহীহ করা, আবার হতে পারে সে জিহাদ করা অবস্থায় সিয়াম রেখেছে, দ্বিতীয়টি বেশী সম্ভাবনাময়।
ইবনু হাজার বলেন: তার বক্তব্য: (সত্তরটি শরৎ) শরৎ হল বছরের একটি পরিচিত সময় এবং এখানে যা বোঝানো হয়েছে তা হল বছর। শরৎকে বাকি ঋতু - গ্রীষ্ম, শীত এবং বসন্ত- ছাড়া উল্লেখ করা হয়েছে; কারণ শরৎ হল সবচেয়ে শুদ্ধতম ঋতু; কারণ এতে ফল পাওয়া যায়।
সূত্র
صحيح البخاري (4/ 26) (2840).
صحيح مسلم (2/ 808) (1153).
تيسير العلام، لعبد الله البسام (ص346).
تنبيه الأفهام شرح عمدة الإحكام، لابن عثيمين (3/ 465).
الإفهام في شرح عمدة الأحكام، لابن باز (ص426).
خلاصة الكلام على عمدة الأحكام، لفيصل آل مبارك (ص162).
عن أبي هريرة رضي الله عنه قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: «لا يَصُومَنَّ أحدكم يوم الجمعة، إلا أن يصومَ يومًا قبله أو بعده».
আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি, তোমাদের কেউ যেন শুধু জুমআর দিন সাওম পালন না করে। কিন্তু তার পূর্বে অথবা তার পরে একদিন পালন করবে।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।মানসহীহ
ব্যাখ্যা
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শুধু জুমআর দিন একটি সাওম পালন করতে নিষেধ করেছেন। তবে তার সাথে পূর্বে অথবা পরে একদিন মিলিয়ে সিয়াম পালন করা যাবে অথবা জুমআর দিন অভ্যাসের সাওম হলে রাখা যাবে।
সূত্র
تأسيس الأحكام للنجمي، ط2، دار علماء السلف، 1414ه.
تيسير العلام شرح عمدة الأحكام للبسام، حققه وعلق عليه وخرج أحاديثه وصنع فهارسه: محمد صبحي بن حسن حلاق، ط10، مكتبة الصحابة، الإمارات - مكتبة التابعين، القاهرة، 1426 هـ
تنبيه الأفهام شرح عمدة لأحكام لابن عثيمين، ط1، مكتبة الصحابة، الإمارات، 1426ه
عمدة الأحكام من كلام خير الأنام صلى الله عليه وسلم لعبد الغني المقدسي، دراسة وتحقيق: محمود الأرناؤوط، مراجعة وتقديم: عبد القادر الأرناؤوط، ط2، دار الثقافة العربية، دمشق ، بيروت، مؤسسة قرطبة، 1408 هـ
صحيح البخاري، تحقيق: محمد زهير بن ناصر الناصر، ط1، دار طوق النجاة (مصورة عن السلطانية بإضافة ترقيم: محمد فؤاد عبد الباقي)، 1422ه.
صحيح مسلم، تحقيق: محمد فؤاد عبد الباقي، دار إحياء التراث العربي، بيروت، 1423 هـ.
আবূ হুরাইরাহ্ রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত; তিনি বলেন, আমার বন্ধু সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে তিনটি বিষয়ে নির্দেশ দিয়েছেন: প্রতি মাসে তিন দিন করে সওম পালন করা এবং দু‘রাক‘আত সালাতুয-যুহা(চাশতের নামাজ) এবং ঘুমানোর পূর্বে বিতর সালাত আদায় করা।
সহীহ বুখারী ও মুসলিমমানসহীহ
ব্যাখ্যা
আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন যে, তাঁর প্রিয় সঙ্গী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে উপদেশ দেন এবং তাঁকে তিনটি অসিয়ত করেন:
প্রথমটি: প্রতি মাসে তিন দিন সিয়াম রাখা।
দ্বিতীয়: প্রতিদিন দুই রাকাত দুহার সালাত(চাশতের নামাজ)।
তৃতীয়: ঘুমের আগে বিতর সালাত । এটি তার জন্য যে রাতের শেষভাগে জেগে না উঠার ভয় করেন।
শিক্ষা
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের প্রতি অসিয়তের ভিন্নতা: এটি তাঁর সাহাবীদের অবস্থা এবং তাদের প্রত্যেকে কীসের জন্য উপযুক্ত সে সম্পর্কে তাঁর জ্ঞানের উপর ভিত্তি করে। শক্তিশালী জিহাদের জন্য উপযুক্ত,আবেদের জন্য ইবাদত উপযুক্ত এবং আলিমের জন্য ইলম উপযুক্ত ইত্যাদি।
ইবনু হাজার আসকালানী তার বক্তব্যে বলেছেন: প্রতি মাসে তিন দিন সিয়াম রাখা, যার অর্থ আল বীজের দিনগুলো মনে হয়; এগুলো হলোঃ হিজরী মাসের তেরো, চৌদ্দ ও পনেরো তারিখ।
ইবনু হাজার আসকালানী বলেন: এতে ঘুমের পূর্বে বিতর পড়ার গুরুত্বকে নির্দেশ করে। এটি তার জন্য প্রযোজ্য যে জাগ্রত হওয়ার বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী নয়।
এই তিনটি আমলের গুরুত্ব: কারণ, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর অনেক সাহাবীকে এই অসিয়ত করেছেন।
ইবনু দাকীক আল-ঈদ তার বক্তব্যে বলেছেন: (দুহার দুই রাকাত): সম্ভবত তিনি সবচেয়ে কম সংখ্যা উল্লেখ করেছেন, যার দ্বারা দোহার সালাত সম্পন্ন হয়। এটি দুহার সালাত মুস্তাহাব হওয়ার প্রমাণ এবং তার সর্বনিম্ন দুই রাকাত।
দুহা সালাতের সময়: সূর্যোদয়ের পর প্রায় এক ঘন্টার এক চতুর্থাংশ(15মিনিট ) থেকে শুরু হয় এবং এর সময় দুপুরের আনুমানিক দশ মিনিট আগে পর্যন্ত প্রসারিত হয়। এর রাকাত সংখ্যা: সর্বনিম্ন দুই রাকাত, তবে সর্বাধিক রাকাত সম্পর্কে মতভেদ রয়েছে; কেউ বলেছেন: আট রাকাত এবং কেউ বলেছেন: তার অধিক রাকাতের কোন সীমা নেই।
বিতরের সময়: এশার সালাতের পর থেকে ফজর উদয় পর্যন্ত এবং তার সর্বনিম্ন এক রাকাত ও সর্বোচ্চ এগার রাকাত।
সূত্র
صحيح البخاري (3/ 41) (1981).
صحيح مسلم (1/ 499) (721).
تيسير العلام، للبسام (ص342).
تنبيه الأفهام شرح عمدة الأحكام، لابن عثيمين (3/ 456).
خلاصة الكلام على عمدة الأحكام، لفيصل آل مبارك (ص159).
عن عبد الله بن عمرو بن العاص رضي الله عنهما قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم : «إن أَحَبَّ الصيام إلى الله صِيَامُ داود، وأحب الصلاة إلى الله صلاة داود، كان يَنَامُ نِصْفَ اللَّيْلِ، وَيَقُومُ ثُلُثَهُ، وَيَنَامُ سُدُسَهُ، وكان يصوم يومًا ويُفطِرُ يومًا».
আবদুল্লাহ বিন আমর ইবনুল আস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে মারফূ হিসেবে বর্ণিত, “আল্লাহর নিকট অধিক পছন্দনীয় সাওম হলো দাঊদ আলাইহিস সালামের সিয়াম। আর আল্লাহর নিকট অধিক পছন্দনীয় সালাত হলো দাঊদ আলাইহিস সালামের সালাত। তিনি রাতের অর্ধাংশ ঘুমাতেন,এক-তৃতীয়াংশ সালাতে কাটাতেন।আর বাকী ষষ্ঠাংশ ঘুমাতেন। তিনি একদিন সাওম পালন করতেন আর একদিন ইফতার করতেন।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।মানসহীহ
ব্যাখ্যা
এ হাদীছে আব্দুল্লাহ ইবন আমর ইবনুল আস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে সংবাদ দিচ্ছেন যে, আল্লাহর নিকট অধিক পছন্দনীয় সিয়াম ও কিয়াম তাঁর নবী দাঊদ আলাইহিস সালামের সিয়াম ও কিয়াম। এটা এজন্য যে, দাঊদ আলাইহিস সালাম একদিন সাওম পালন করতেন, আরেকদিন সাওম ভঙ্গ করতেন। এর মাধ্যমে ইবাদত হয়ে যেত আবার শরীরের হকও প্রদান করা হতো। আর তিনি রাতের প্রথম অর্ধাংশ ঘুমাতেন। যাতে ইবাদতের জন্য প্রফুল্ল বোধ করেন। অতঃপর রাতের এক তৃতীয়াংশ সালাত আদায় করতেন। এরপর বাকী এক ষষ্ঠাংশ ঘুমাতেন। যাতে দিনের প্রথমাংশে ইবাদত করায় প্রফুল্ল থাকেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট পছন্দনীয়। তাই তিনি এ পদ্ধতিটির প্রতি উৎসাহ দিয়েছেন।
সূত্র
عمدة الأحكام، تأليف: عبد الغني بن عبد الواحد المقدسي، تحقيق: محمود الأرناؤوط، دار الثقافة العربية ومؤسسة قرطبة، الطبعة الثانية، 1408هـ.
تيسير العلام، تأليف: عبد الله بن عبد الرحمن البسام، تحقيق محمد صبحي بن حسن حلاق، مكتبة الصحابة ومكتبة التابعين، الطبعة العاشرة، 1426 هـ.
تأسيس الأحكام شرح عمدة الأحكام، تأليف: أحمد بن يحي النجمي: نسخة إلكترونية لا يوجد بها بيانات نشر.
تنبيه الأفهام شرح عمدة الإحكام، تأليف: محمد بن صالح العثيمين، مكتبة الصحابة ومكتبة التابعين، الطبعة الأولى: 1426هـ.
خلاصة الكلام على عمدة الأحكام، تأليف: فيصل بن عبد العزيز آل مبارك، الطبعة الثانية، 1412هـ.
صحيح البخاري، تأليف: محمد بن إسماعيل البخاري، تحقيق: محمد زهير الناصر، الناشر: دار طوق النجاة الطبعة: الأولى 1422هـ.
صحيح مسلم، تأليف: مسلم بن الحجاج النيسابوري، تحقيق: محمد فؤاد عبد الباقي، الناشر: دار إحياء التراث العربي، بيروت.
عن أبي هريرة رضي الله عنه مرفوعًا: «تُعْرَضُ الأعمالُ يومَ الاثنين والخميس، فَأُحِبُّ أَنْ يُعْرَضَ عَملي وأنا صائم».
وفي رواية: «تُفْتَحُ أبوابُ الجَنَّةِ يومَ الاثنين والخميس، فَيُغْفَرُ لكلِّ عبد لا يُشْرِكُ بالله شيئا، إِلا رجلا كان بينه وبين أخيه شَحْنَاءُ، فَيُقَالُ: أَنظِروا هذيْن حتى يَصْطَلِحَا، أنظروا هذين حتى يصطلحا».
وفي رواية: «تُعْرَضُ الأَعْمَالُ في كلِّ اثْنَيْنِ وَخَميسٍ، فَيَغْفِرُ اللهُ لِكُلِّ امْرِئٍ لا يُشْرِكُ بالله شيئاً، إِلاَّ امْرَءاً كانت بينه وبين أخِيهِ شَحْنَاءُ، فيقول: اتْرُكُوا هذَيْنِ حتى يَصْطَلِحَا».
আবূ হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “সোম ও বৃহস্পতিবার বান্দার আমলসমূহ উপস্থাপন করা হয়। আমি পছন্দ করি যে, আমার আমলসমূহ আমার সিয়াম অবস্থায় তুলে ধরা হোক।”
অপর বর্ণনায় বর্ণিত: “সোম ও বৃহস্পতিবার জান্নাতের দ্বারসমূহ খুলে দেওয়া হয়। [ঐ দিনে] প্রত্যেক সেই বান্দাকে ক্ষমা করে দেওয়া হয়, যে আল্লাহর সাথে কোন কিছুকে অংশীদার স্থাপন করেনি। কিন্তু সেই ব্যক্তিকে নয়, যার সাথে তার মুসলিম ভাইয়ের শত্রুতা থাকে। [তাদের সম্পর্কে] বলা হয়, এদের দু’জনকে সন্ধি হওয়া পর্যন্ত অবকাশ দাও, এদের দু’জনকে সন্ধি হওয়া পর্যন্ত অবকাশ দাও।”
অন্য বর্ণনায় আছে, “প্রত্যেক বৃহস্পতি ও সোমবারে আমলসমূহ উপস্থাপন করা হয় এবং আল্লাহর সাথে শিরক করে না এমন সকল ব্যক্তিকে ক্ষমা করে দেওয়া হয়, কিন্তু সেই ব্যক্তিকে নয়, যার সাথে তার মুসলিম ভাইয়ের শত্রুতা থাকে। [তাদের সম্পর্কে] বলেন, এদের দু’জনকে সন্ধি হওয়া পর্যন্ত অবকাশ দাও।”
এটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন। - এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।মানসহীহ
ব্যাখ্যা
“সোম ও বৃহস্পতিবার বান্দার আমলসমূহ আল্লাহর সামনে উপস্থাপন করা হয়।” আমি পছন্দ করি যে, আমার আমলসমূহ আমার সিয়াম রাখা অবস্থায় তুলে ধরা হোক। অর্থাৎ অধিক মর্যাদা বৃদ্ধি এবং অধিক সাওয়াবের আশায়।
অপর বর্ণনায় বর্ণিত শব্দ: “সোম ও বৃহস্পতিবার জান্নাতের দ্বারসমূহ খুলে দেওয়া হয়।” এটিই বাস্তবভাবে। কারণ, জান্নাত সৃষ্ট। ঐ দিনে প্রত্যেক সেই বান্দাকে ক্ষমা করে দেওয়া হয়, যে আল্লাহর সাথে কোন কিছুকে অংশীদার স্থাপন করেনি। অর্থাৎ তার ছোটগুনাহসমূহকে ক্ষমা করে দেওয়া হয়। আর কবীরা গুনাহ ক্ষমার জন্য অবশ্যই তাওবা করতে হবে। তার বাণী “কিন্তু সেই ব্যক্তিকে নয়, যার সাথে তার মুসলিম ভাইয়ের ইসলামের মধ্যে শত্রুতা থাকে। তাদেরকে বলা হবে, তোমরা দেখো। অর্থাৎ আল্লাহ ফিরিশতাদের বলবেন। এদের দু’জনকে সুযোগ দাও, অবকাশ দাও। সেই দুইজন লোক যাদের মধ্যে দুশমনি বিদ্যমান। একে অপরের সাথে কথা না বলার গুনাহের শাস্তি হিসেবে। যাতে তাদের বিদ্বেষ দুর হয় এবং তারা দুইজন একে অপরের সাথে মীমাংশা করে নেয়। এটি প্রমাণ করে যে, একজন মানুষের ওপর ওয়াজিব হলো পরস্পর হিংসা, বিদ্বেষ ও দুশমনি খুব তাড়াতাড়ি দুর করা। এমনকি যদিও দুশমনি দুর করাতে মনের মধ্যে সংকোচ ও কষ্ট অনুভব হয়। সুতরাং সে যেন ধৈর্য ধারণ করে এবং সাওয়াবের আশা করে। কারণ, এর পরিণতি খুব ভালো। একজন মানুষ যখন কোন কর্মে সাওয়াব, বিনিময় ও কল্যাণ দেখে তার জন্য সে কাজ করা সহজ হয়। অনুরূপভাবে যখন কোন কর্ম ছাড়ার ওপর হুমকি দেখতে পায় তবে তার জন্য তা করা সহজ হয়।
সূত্র
شرح رياض الصالحين، لابن عثيمين، نشر: دار الوطن للنشر، الرياض، الطبعة: 1426هـ.
رياض الصالحين، للنووي، تحقيق: ماهر الفحل، دار ابن كثير - بيروت، الطبعة الأولى 1428هـ - 2007م.
صحيح مسلم, ترقيم محمد فؤاد عبد الباقي, دار إحياء التراث العربي, بيروت.
نزهة المتقين شرح رياض الصالحين، لمجموعة من الباحثين, مؤسسة الرسالة, الطبعة الرابعة عشر, 1407هـ.
إرواء الغليل في تخريج أحاديث منار السبيل، للشيخ الألباني، الناشر: المكتب الإسلامي – بيروت، الطبعة الثانية 1405 هـ - 1985م.
كنوز رياض الصالحين، نشر: دار كنوز إشبيليا، الطبعة الأولى، 1430هـ - 2009م.
سنن الترمذي، تحقيق بشار عواد، دار الغرب الإسلامي – بيروت، 1998م.
تحفة الأحوذي بشرح جامع الترمذي، للمباركفورى، الناشر: دار الكتب العلمية – بيروت.
مرقاة المفاتيح شرح مشكاة المصابيح، لعلي القاري، الناشر:دار الفكر، بيروت - لبنان، الطبعة الأولى، 1422هـ - 2002م.
فيض القدير شرح الجامع الصغير، للمناوي، الناشر: المكتبة التجارية الكبرى - مصر، الطبعة الأولى، 1356.
‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর ইবনুল ‘আস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞেস করলেনঃ “তুমি কি সব সময় সওম পালন কর এবং রাতভর সালাত আদায় করে থাক”? আমি বললাম, জী হাঁ। তিনি বললেনঃ “তুমি এরূপ করলে চোখ বসে যাবে এবং শরীর দুর্বল হয়ে পড়বে, যে সারা বছর সওম পালন করে সে যেন সওম পালন করে না। মাসে তিন দিন করে সওম পালন করা সারা বছর সওম পালনের সমতুল্য”। আমি বললাম, আমি এর চেয়ে বেশি করার সামর্থ্য রাখি। তিনি বললেনঃ “তাহলে তুমি দাঊদ আলাইহিস সালামের সওম পালন কর, তিনি একদিন সওম পালন করতেন আর একদিন ছেড়ে দিতেন এবং যখন শত্রুর সম্মুখীন হতেন তখন পলায়ন করতেন না”।
সহীহ বুখারী ও মুসলিমমানসহীহ
ব্যাখ্যা
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জানানো হয়েছিল যে, আব্দুল্লাহ ইবনু আমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা সারা বছর ধরে একটানা রোজা রাখতেন এবং রোজা ভাঙতেন না এবং তিনি সারা রাত সালাত পড়তেন এবং ঘুমাতেন না। তাই তিনি তাকে তা করতে নিষেধ করলেন এবং বললেন: সিয়াম রাখো, সিয়াম ভাঙো আর দাঁড়াও (সালাত আদায় কর) ও ঘুমাও। তিনি তাকে লাগাতার সিয়াম ও সারা রাত ধরে সালাত পড়তে নিষেধ করলেন এবং বললেন: যদি তুমি এটা করো, তাহলে তোমার চোখ দুর্বল হয়ে যাবে, ডুবে যাবে এবং পানি ঝরবে এবং তোমার আত্মা ক্লান্ত, দুর্বল এবং শ্রান্ত হয়ে পড়বে। যে ব্যক্তি সারা বছর সিয়াম রাখে সে সিয়াম রাখল না, যেহেতু সে নিষেধ অমান্য করার কারণে সিয়ামের সওয়াব পায়নি এবং সে বিরত থাকার কারণে সিয়াম ভাঙেনি। তারপর তিনি তাকে প্রতি মাসে তিন দিন সিয়াম রাখার পরামর্শ দিলেন, যা সারা বছরের সিয়াম। কারণ প্রতিটি দিন দশ দিনের সমান, যা একটি সৎকর্মের সর্বনিম্ন গুণ। আবদুল্লাহ বললেন: আমি এর চেয়েও বেশির সক্ষমতা রাখি। তিনি সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: তাহলে দাউদ আলাইহিস সালামের সিয়াম রাখো, যা সর্বোত্তম সিয়াম। তিনি একদিন সিয়াম রাখতেন এবং পরের দিন সিয়াম ভাঙতেন; যদি তিনি শত্রুর মুখোমুখি হতেন তবে তিনি পালিয়ে যেতেন না। কারণ তার সিয়াম পদ্ধতি তার শরীরকে দুর্বল করেনি।
শিক্ষা
প্রতি মাসে তিন দিন সিয়াম রাখা পুরো বছর সিয়াম রাখার মতো, কারণ একটি নেকির দশগুণ সওয়াব পাওয়া যায়, তাই তিন দিন ত্রিশ দিন হবে। সুতরাং যদি সে প্রতি মাসে তিন দিন সিয়াম রাখে, তাহলে সে যেন পুরো বছর সিয়াম রেখেছে।
আল্লাহর দিকে আহ্বানের একটি পদ্ধতি হলো মানুষকে আমল করার জন্য উৎসাহিত করা এবং এর প্রতিদান এবং এতে অধ্যবসায়ের প্রতিদানের কথা উল্লেখ করা।
আল-খাত্তাবি বলেন: আবদুল্লাহ ইবন আমরের গল্পের সারমর্ম হলো, আল্লাহ তাঁর বান্দাকে নির্দিষ্টভাবে কেবল সিয়াম রাখার নির্দেশ দেননি। বরং, তোমরা বিভিন্ন ধরণের ইবাদত দিয়ে তাঁর উপাসনা করো। যদি সে তার সিয়ামে প্রচেষ্টা শেষ করে দিত, তাহলে অন্যান্য বিষয়ে সে পিছিয়ে পড়ত। এতে মিতব্যয়ী হওয়া ভালো, যাতে অন্যান্য ইবাদতের জন্য কিছু শক্তি সংরক্ষণ করা যায়। দাউদ আলাইহিস সালাম সম্পর্কে তাঁর উক্তিটি এই ইঙ্গিত দেয়: "তিনি যখন শত্রুর মুখোমুখি হন তখন পালিয়ে যাননি"; কারণ সে জিহাদের জন্য সিয়াম ভাঙার মাধ্যমে নিজেকে শক্তিশালী করেছেন।
ইবাদতের ক্ষেত্রে গভীরতা এবং বনিতা নিষেধ। সর্বোত্তম কাজ হল সুন্নাহ মেনে চলা।
অধিকাংশ আলেম বিশ্বাস করেন যে সারা বছর সিয়াম রাখা অপছন্দনীয়। যদি এটি তার নিজের উপর খুব বেশি কষ্টকর হয়, নিজের ক্ষতি করে, নিজের উপর অতিরিক্ত বোঝা চাপিয়ে দেয় এবং তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ থেকে বিমুখ হয় এবং বিশ্বাস করে যে তার সুন্নাহ ব্যতীত অন্য কিছু এর চেয়ে উত্তম।
সূত্র
صحيح البخاري (3/ 40) (1979).
صحيح مسلم (2/ 812) (1159).
شرح رياض الصالحين، لابن عثيمين (2/ 214).
كنوز رياض الصالحين، لمجموعة من الباحثين (3/ 297).
عن عائشة رضي الله عنها قالت: كانَ رسولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَتَحرّى صومَ الإثنينِ والخميسِ.
আয়েশা রাদিয়াল্লাহ আনহা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সোম ও বৃহস্পতিবারে সিয়াম রাখার জন্য সমধিক সচেষ্ট থাকতেন।’
এটি ইবন মাজাহ বর্ণনা করেছেন। - এটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন। - এটি নাসাঈ বর্ণনা করেছেন। - এটি আহমাদ বর্ণনা করেছেন।মানসহীহ
ব্যাখ্যা
উম্মুল মু‘মিন আয়েশা রাদিয়াল্লাহ আনহা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে সংবাদ দেন, তিনি সোম ও বৃহস্পতিবারে সিয়াম রাখার জন্য সমধিক সচেষ্ট থাকতেন।’ কারণ, এ দুই দিনে আমলসমূহ আল্লাহর কাছে তুলে ধরা হয়। তাই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পছন্দ করেন যে, তার আমলকে সিয়াম রাখা অবস্থায় তুলে ধরা হোক। এ ছাড়াও আল্লাহ তা‘আলা এ দুনি দিনে পরস্পর বিদ্বেষ পোষণকারী ছাড়া প্রতিটি মুসলিমকে ক্ষমা করে দেন। যেমনটি অন্যান্য হাদীসসমূহে এর বর্ণনা এসেছে।
সূত্র
بهجة الناظرين، تأليف: سليم بن عيد الهلالي، الناشر: دار ابن الجوزي ، سنة النشر: 1418 هـ - 1997م.
كنوز رياض الصالحين, مجموعة من الباحثين برئاسة حمد بن ناصر العمار، دار كنوز إشبيليا, السعودية, الطبعة الأولى, 1430هـ.
سنن الترمذي، تأليف: محمد بن عيسى الترمذي، تحقيق أحمد شاكر وغيره، الناشر: شركة مكتبة ومطبعة مصطفى البابي الحلبي، الطبعة: الثانية، 1395هـ.
سنن ابن ماجه, ابن ماجة أبو عبد الله محمد بن يزيد القزويني، تحقيق: محمد فؤاد عبد الباقي, الناشر: دار إحياء الكتب العربية - فيصل عيسى البابي الحلبي.
مسند الإمام أحمد بن حنبل، تحقيق: شعيب الأرنؤوط - عادل مرشد، وآخرون، نشر: مؤسسة الرسالة، الطبعة: الأولى، 1421هـ - 2001م.
السنن الصغرى للنسائي "المجتبى"، تحقيق: عبد الفتاح أبو غدة، نشر: مكتب المطبوعات الإسلامية – حلب، الطبعة: الثانية، 1406هـ – 1986م.
إرواء الغليل في تخريج أحاديث منار السبيل, محمد ناصر الدين الألباني, إشراف: زهير الشاويش, المكتب الإسلامي – بيروت, الطبعة: الثانية 1405 هـ - 1985م.
فيض القدير شرح الجامع الصغير, زين الدين محمد المدعو بعبد الرؤوف بن تاج العارفين بن علي بن زين العابدين الحدادي ثم المناوي القاهري, الناشر: المكتبة التجارية الكبرى - مصر, الطبعة: الأولى، 1356.
এখানকার প্রতিটি হাদীস, মান, ব্যাখ্যা ও শিক্ষা HadeethEnc.com যেভাবে প্রকাশ করে হুবহু সেভাবেই দেখানো, তাদের পুনঃপ্রকাশের শর্ত মেনে। মানের সঙ্গে মান-নির্ধারকের নাম নেই। অনুবাদ ও ব্যাখ্যা এর লেখকদের নিজস্ব, এবং কোনো কোনোটিতে বিধান বলা আছে; সাবীলের পর্যালোচকেরা এগুলো যাচাই করেননি। আরবি হাদীসটিই মূল পাঠ। উৎস: HadeethEnc.com