মূল অংশে যান
ব্যাখ্যাসহ হাদীস

সিয়ামের ফযীলত

৬টি হাদীস

“আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন, সওম ব্যতীত আদম সন্তানের প্রতিটি কাজই তার নিজের জন্য, কিন্তু সিয়াম আমার জন্য। তাই আমি এর প্রতিদান দেব

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «قَالَ اللَّهُ: كُلُّ عَمَلِ ابْنِ آدَمَ لَهُ، إِلَّا الصِّيَامَ، فَإِنَّهُ لِي وَأَنَا أَجْزِي بِهِ، وَالصِّيَامُ جُنَّةٌ، وَإِذَا كَانَ يَوْمُ صَوْمِ أَحَدِكُمْ فَلاَ يَرْفُثْ وَلاَ يَصْخَبْ، فَإِنْ سَابَّهُ أَحَدٌ أَوْ قَاتَلَهُ، فَلْيَقُلْ إِنِّي امْرُؤٌ صَائِمٌ، وَالَّذِي نَفْسُ مُحَمَّدٍ بِيَدِهِ، لَخُلُوفُ فَمِ الصَّائِمِ أَطْيَبُ عِنْدَ اللَّهِ مِنْ رِيحِ المِسْكِ، لِلصَّائِمِ فَرْحَتَانِ يَفْرَحُهُمَا: إِذَا أَفْطَرَ فَرِحَ، وَإِذَا لَقِيَ رَبَّهُ فَرِحَ بِصَوْمِهِ».
আবূ হুরায়রা রদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন, সওম ব্যতীত আদম সন্তানের প্রতিটি কাজই তার নিজের জন্য, কিন্তু সিয়াম আমার জন্য। তাই আমি এর প্রতিদান দেব। সিয়াম ঢাল স্বরূপ। তোমাদের কেউ যেন সিয়াম পালনের দিন অশ্লীলতায় লিপ্ত না হয় এবং ঝগড়া-বিবাদ না করে। যদি কেউ তাকে গালি দেয় অথবা তার সঙ্গে ঝগড়া করে, তাহলে সে যেন বলে, আমি একজন সায়িম। যাঁর কবজায় মুহাম্মাদের প্রাণ, তাঁর শপথ! অবশ্যই সায়িমের মুখের গন্ধ আল্লাহর নিকট মিস্কের গন্ধের চাইতেও সুগন্ধি। সায়িমের জন্য রয়েছে দু’টি খুশী যা তাকে খুশী করে। যখন সে ইফতার করে, সে খুশী হয় এবং যখন সে তার রবের সাথে সাক্ষাৎ করবে, তখন সওমের বিনিময়ে আনন্দিত হবে”।
সহীহ বুখারী ও মুসলিমমানসহীহ
ব্যাখ্যা

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন যে, আল্লাহ তা‘আলা হাদীসে কুদসিতে বলেছেন: সিয়াম ব্যতীত আদম সন্তানের প্রতিটি নেক আমল দশগুণ থেকে সাতশত গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়। কেননা এটা আমার জন্য যেখানে রিয়া (লোক দেখানো) হয় না এবং আমিই এর প্রতিদান দিব এবং আমি একাই এর সওয়াবের পরিমাণ এবং এর নেক আমলের বহুগুণ বৃদ্ধির বিষয়টি জানি। তারপর তিনি বললেন: (সিয়াম একটি ঢাল) এবং একটি সুরক্ষা, একটি আবরণ আর জাহান্নাম থেকে একটি শক্তিশালী দুর্গ। কেননা এটি প্রবৃত্তি এবং পাপ করা থেকে বিরত রাখে; যেখানে জাহান্নাম প্রবৃত্তি দ্বারা পরিপূর্ণ। (সুতরাং তোমাদের কারো সিয়াম রাখার দিন হলে সে যেন অশ্লীল কাজ না করে) সহবাস ও তার প্রারম্ভিক আচরণ দিয়ে এবং অশ্লীল কথা বলেও নয়। (এবং গলা ফাটাবে না) ঝগড়া ও চিৎকার দিয়ে। রমযান মাসে (যদি কেউ তাকে গালি দেয় বা তার সাথে মারামারি করে) সে যেন বলে: আমি একজন রোজাদার। এর কারণ হলো: সম্ভবত এর ফলে গালি দেওয়া বা মারামারি করতে আসা ব্যক্তি বিরত হবে।তবে, যদি সে প্রকৃত মারামারির জন্য জেদ করে, তাহলে রোজাদার তাকে হালকাভাবে প্রতিহত করবে—প্রথমে হালকাভাবে, এরপর আরও হালকাভাবে,যেমনটা আক্রমণকারীর ক্ষেত্রে করা হয়। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে সত্ত্বার হাতে তাঁর প্রাণ তাঁর নামে শপথ করেন যে, সিয়াম রাখার কারণে রোজাদারের মুখের গন্ধের যে পরিবর্তন হয় তা কিয়ামতের দিন আল্লাহর কাছে তোমাদের নিকট কস্তুরীর ঘ্রাণের চেয়ে অধিক পছন্দনীয়। জুমার সালাত ও জিকিরের মজলিসে যে কস্তুরীর প্রতি উৎসাহ প্রদান করা হয়েছে তার চেয়ে বেশি সাওয়াবের কারণ। রোজাদারের দুটি আনন্দ রয়েছে: যখন সে তার রোজা ভাঙ্গে তখন সে তার ক্ষুধা ও তৃষ্ণা নিঃশেষ হওয়ায় আনন্দিত হয়, যেমন তাকে খাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে এবং সে তার রোজা শেষ হওয়া, তার ইবাদত সমাপ্তিত হওয়া, তার রবের কাছ থেকে সহজিকরণ এবং তার ভবিষ্যতের সিয়ামের প্রতি সাহায্য করায় আনন্দিত হয়। (এবং যখন সে তার রবের সাথে সাক্ষাত করবে তখন সে তার সিয়ামের) সওয়াব ও প্রতিদানে আনন্দিত হবে।

শিক্ষা
  1. সিয়ামের ফযীলত হল যে, এটি সিয়াম পালনকারীকে দুনিয়াতে প্রবৃত্তি থেকে এবং পরকালে জাহান্নামের আযাব থেকে রক্ষা করে।
  2. অশ্লীল ও ফালতু কথাবার্তা পরিহার করা এবং মানুষের কষ্টে ধৈর্য্য ধারণ করা এবং তাদের অসদাচারণের জবাব ধৈর্য্য ও দয়ার সাথে দেওয়া সিয়ামের অন্যতম শিষ্টাচার।
  3. যদি রোযাদার বা ইবাদতকারী তার ইবাদত শেষ হওয়ার কারণে খুশি হয়, তবে এটি তার পরকালের সওয়াব থেকে হ্রাস পাবে না।
  4. আল্লাহ তা‘আলার সাথে সাক্ষাতের মধ্যে সম্পূর্ণ আনন্দ, যখন ধৈর্যশীল এবং রোযাদারদের হিসাব ছাড়াই তাদের প্রতিদান দেওয়া হবে।
  5. প্রয়োজনের সময় এবং কোনো সুবিধার স্বার্থে মানুষকে ইবাদতের কথা জানানো লৌকিকতা নয়, কারণ তিনি বলেছেন: (আমি রোযাদার)।
  6. পরিপূর্ণ সিয়ামের অধিকারী হলেন তিনি, যার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ গুনাহ থেকে বিরত থাকল, যার জিহ্বা মিথ্যা, অশ্লীলতা ও অসৎ কথা থেকে নিরব থাকল এবং যার পাকস্থলী পানাহার থেকে নীরব থাকল।
  7. রোযা থাকা অবস্থায় উঁচু আওয়াজ, ঝগড়া, চেঁচামেচি থেকে কঠিন নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, অন্যথায় রোযাহীন ব্যক্তির জন্যও তা নিষেধ।
  8. এই হাদীসটি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর রবের পক্ষ থেকে যা বর্ণনা করেন তার অন্তর্ভুক্ত এবং এটিকে কুদসী বা ইলাহী হাদীস বলা হয়। এর শব্দ ও অর্থ আল্লাহর পক্ষ থেকে, তবে তাতে আল-কুরআনুল কারীমের এমন বৈশিষ্ট্য নেই, যে কারণে তা অন্য যেকোন কিছু থেকে বৈশিষ্ট্যমন্ডিত, যেমন এর তেলাওয়াতের মাধ্যমে ইবাদত আঞ্জাম দেওয়া হয় এবং এর জন্য পবিত্র হতে হয় এবং এর দ্বারা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেওয়া হয় এবং তা মোজেযা প্রভৃতি।
সূত্র

صحيح البخاري (3/ 26) (1904). صحيح مسلم (2/ 807) (1151). بهجة الناظرين شرح رياض الصالحين، لسليم الهلالي (2/ 357). نزهة المتقين شرح رياض الصالحين، لمجموعة من الباحثين (2/ 866). كنوز رياض الصالحين، لمجموعة من الباحثين (15/ 5). شرح رياض الصالحين، لابن عثيمين (5/ 265).

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

“জান্নাতের মধ্যে এমন একটি দরজা আছে, যার নাম হল ‘রাইয়ান’; যার মধ্য দিয়ে কেবলমাত্র সিয়াম পালনকারীগণই কিয়ামাতের দিনে প্রবেশ করবে। তারা ছাড়া আর কেউ সে দরজা দিয়ে প্রবেশ করতে পারবে না

عَنْ ‌سَهْلٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «إِنَّ فِي الْجَنَّةِ بَابًا يُقَالُ لَهُ الرَّيَّانُ، يَدْخُلُ مِنْهُ الصَّائِمُونَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ، لَا يَدْخُلُ مِنْهُ أَحَدٌ غَيْرُهُمْ، يُقَالُ: أَيْنَ الصَّائِمُونَ، فَيَقُومُونَ لَا يَدْخُلُ مِنْهُ أَحَدٌ غَيْرُهُمْ، فَإِذَا دَخَلُوا أُغْلِقَ، فَلَمْ يَدْخُلْ مِنْهُ أَحَدٌ».
সাহল রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: “জান্নাতের মধ্যে এমন একটি দরজা আছে, যার নাম হল ‘রাইয়ান’; যার মধ্য দিয়ে কেবলমাত্র সিয়াম পালনকারীগণই কিয়ামাতের দিনে প্রবেশ করবে। তারা ছাড়া আর কেউ সে দরজা দিয়ে প্রবেশ করতে পারবে না। ঘোষণা করা হবে: ‘সিয়াম পালনকারীগণ কোথায়?’ তখন তারা দাঁড়িয়ে যাবে এবং ঐ দরজা দিয়ে তারা ব্যতীত অন্য কেউ প্রবেশ করবে না। তারপর যখন তারা প্রবেশ করবে, তখন দরজাটি বন্ধ করে দেওয়া হবে। সেখান থেকে আর কেউ প্রবেশ করতে পারবে না”।
সহীহ বুখারী ও মুসলিমমানসহীহ
ব্যাখ্যা

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যে, জান্নাতের একটি দরজা আছে যার নাম রাইয়ান দরজা। কিয়ামতের দিন রোজাদাররা সে দরজা দিয়ে প্রবেশ করবে, তারা ছাড়া আর কেউ প্রবেশ করবে না। ডাকা হবে: রোজাদাররা কোথায়? তারা দাঁড়িয়ে প্রবেশ করবে, তারা ব্যতীত আর কেউ প্রবেশ করবে না। যখন তাদের শেষ ব্যক্তি প্রবেশ করবে, তখন তা বন্ধ করে দেওয়া হবে, তার পরে আর কেউ প্রবেশ করবে না।

শিক্ষা
  1. আন-নওয়াবী বলেন: এই হাদীসটি সিয়ামের ফজিলত এবং রোজাদারদের মর্যাদা সম্পর্কে আলোকপাত করে।
  2. আল্লাহ্‌ জান্নাতের আটটি দরজার মধ্যে একটি রোজাদারদের জন্য বরাদ্দ করেছেন, যখন তারা তাতে প্রবেশ করবে, তখন তা বন্ধ করে দেওয়া হবে।
  3. জান্নাতের অনেক দরজা আছে বলে বিবৃতি।
  4. আস-সিন্দি বলেন: তাঁর উক্তি: (রোজাদাররা কোথায়), যার অর্থ যারা প্রচুর রোজা রাখে, যেমন ন্যায়পরায়ণ এবং অন্যায়কারী এমন কাউকে বলা হয় যে এতে অভ্যস্ত, এমন কাউকে বলা হয় না যে একবার রোজা রাখে।
  5. (আর-রাইয়ান) অর্থ যিনি তৃঞ্চা মিঠান; কারণ রোজাদাররা তৃষ্ণার্ত হয়, বিশেষ করে দীর্ঘ গরমের দিনে। তাদের সাথে খাস এই দরজার মাধ্যমে তাদেরকে বিনিময় প্রদান করা হবে। অর্থাৎ "রাইয়ান" দরজা। বলা হয় যে "রাইয়ান" فعلان এর গঠনে একটি শব্দ যার অর্থ প্রচুর পান করা, যা তৃষ্ণার বিপরীত। কারণ এটি রোযা রাখা ব্যক্তিদের তৃষ্ণা ও ক্ষুধার জন্য প্রতিদান।
সূত্র

صحيح البخاري (3/ 25) (1896). صحيح مسلم (2/ 808) (1152). بهجة الناظرين شرح رياض الصالحين، لسليم الهلالي (2/ 360). نزهة المتقين شرح رياض الصالحين، لمجموعة من الباحثين (2/ 868). شرح رياض الصالحين، لابن عثيمين (5/ 270).

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

“যে ব্যক্তি রমযানে ঈমানের সাথে ও সাওয়াব লাভের আশায় সাওম পালন করে, তার পূর্ববর্তী গুনাহসমূহ মাফ করে দেয়া হয়।”

عن أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «مَنْ صَامَ رَمَضَانَ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ»
আবূ হুরায়রা রদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “যে ব্যক্তি রমযানে ঈমানের সাথে ও সাওয়াব লাভের আশায় সাওম পালন করে, তার পূর্ববর্তী গুনাহসমূহ মাফ করে দেয়া হয়।”
সহীহ বুখারী ও মুসলিমমানসহীহ
ব্যাখ্যা

নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বর্ণনা করেছেন যে, যে ব্যক্তি রমযান মাসে আল্লাহর উপর ঈমানের সাথে, সাওম ফরয হওয়া স্বীকার করে, সাওম পালনকারীর জন্য আল্লাহ যেসব সাওয়াব ও প্রতিদান প্রস্তুত করে রেখেছেন, সেগুলো লাভের আশায় এবং এর দ্বারা একমাত্র মহান আল্লাহর চেহারা (দর্শন) কামনা করে, যাতে কোন লৌকিকতা ও সুনাম-সুখ্যাতি অর্জনের উদ্দেশ্য থাকে না, তার পূর্ববর্তী গুনাহসমূহ মাফ করে দেয়া হয়।

শিক্ষা
  1. রমযানের সাওম পালন ও অন্যান্য নেক আমলের ক্ষেত্রে ইখলাস তথা একনিষ্ঠতার ফযিলত ও এর গুরুত্ব বর্ণিত হয়েছে।
সূত্র

صحيح البخاري (1/ 16) (38). صحيح مسلم (1/ 523) (760). بهجة الناظرين شرح رياض الصالحين، لسليم الهلالي (2/ 361). نزهة المتقين شرح رياض الصالحين، لمصطفى الخِن وغيره (2/ 868). كنوز رياض الصالحين، لمجموعة من الباحثين (15/ 40). شرح رياض الصالحين، لابن عثيمين (5/ 270).

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

“যে ব্যক্তির সামর্থ্য আছে, সে যেন বিয়ে করে নেয়। কেননা বিয়ে চোখকে অবনত রাখে এবং লজ্জাস্থানকে সংযত করে। আর যার সামর্থ্য নেই, সে যেন সওম পালন করে। সওম তার প্রবৃত্তিকে দমন করে”।

عَن عَبْدِ اللَّهِ بنِ مَسْعُودٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: كُنَّا مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ: «مَنِ اسْتَطَاعَ البَاءَةَ فَلْيَتَزَوَّجْ، فَإِنَّهُ أَغَضُّ لِلْبَصَرِ، وَأَحْصَنُ لِلْفَرْجِ، وَمَنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَعَلَيْهِ بِالصَّوْمِ، فَإِنَّهُ لَهُ وِجَاءٌ».
‘আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ রাদিয়াল্লাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সাথে ছিলাম, তিনি বললেন, “যে ব্যক্তির সামর্থ্য আছে, সে যেন বিয়ে করে নেয়। কেননা বিয়ে চোখকে অবনত রাখে এবং লজ্জাস্থানকে সংযত করে। আর যার সামর্থ্য নেই, সে যেন সওম পালন করে। সওম তার প্রবৃত্তিকে দমন করে”।
সহীহ বুখারী ও মুসলিমমানসহীহ
ব্যাখ্যা

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যারা বিবাহের খরচ বহন ও যৌন মিলন করতে সক্ষম তাদের বিয়ে করার জন্য উদ্বুদ্ধ করেছেন; এটা তার দৃষ্টিকে হারাম জিনিস থেকে রক্ষাকারী, তার সতীত্বকে হিফাজতকারী এবং তাকে অনৈতিকতায় পতিত হওয়া থেকে বাধা দানকারী। যে ব্যক্তি সহবাস করতে সক্ষম কিন্তু বিবাহের খরচ বহন করতে সক্ষম নয়, তাকে অবশ্যই সিয়াম রাখতে হবে। কারণ এটি যৌন কামনার প্রবৃত্তি নিঃশেষ করে এবং বীর্যের অনিষ্টতা দূর করে।

শিক্ষা
  1. ইসলাম পবিত্রতা এবং অনৈতিকতা থেকে সুরক্ষার উপায়গুলোর প্রতি আগ্রহী।
  2. যারা বিয়ের খরচ বহন করতে সক্ষম নয় তাদের প্রতি সিয়াম রাখার নির্দেশ; কারণ এটি যৌন ইচ্ছাকে দুর্বল করে দেয়।
  3. ( 'وجاء' )যৌন চাহিদা দমনকারীর সাথে সাওমের সাদৃশ্যর কারণ, যৌন চাহিদা দমন(খাসী) করা মানে অণ্ডকোষের শিরাগুলো বিচ্ছিন্ন করা, ফলে অণ্ডকোষের সাথে সহবাসের চাহিদাও দূর হয়ে যায়। অনুরূপ সাওম। এটিও সহবাসের ইচ্ছাকে দুর্বল করে।
সূত্র

صحيح البخاري (3/ 26) (1905). صحيح مسلم (2/ 1018) (1400). الإلمام بشرح عمدة الأحكام للشيخ ،لإسماعيل الأنصاري (2/ 57). تيسير العلام شرح عمدة الأحكام، لعبد الله البسام (ص565). خلاصة الكلام شرح عمدة الأحكام، لفيصل آل مبارك (ص281).

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

“যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় একদিন সাওম পালন করবে, আল্লাহ তার ও জাহান্নামের মধ্যে আকাশ ও পৃথিবীর মধ্যেকার দূরত্বসম একটি গর্ত খনন করে দিবেন।”

عن أبي أمامة رضي الله عنه مرفوعاً: «من صام يوماً في سبيل الله جعل الله بينه وبين النار خَنْدَقًا كما بين السماء والأرض».
আবূ উমামাহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে মারফু‘ হিসেবে বর্ণিত, “যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় একদিন সাওম পালন করবে, আল্লাহ তার ও জাহান্নামের মধ্যে আকাশ ও পৃথিবীর মধ্যেকার দূরত্বসম একটি গর্ত খনন করে দিবেন।”
এটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন।মানহাসান
ব্যাখ্যা

যে ব্যক্তি নিরেট আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে একদিন সাওম পালন করে তার ফযীলত সম্পর্কে হাদীসটি বর্ণিত। আল্লাহ তাকে জাহান্নাম থেকে নাজাত দেবেন এবং তাকে জাহান্নাম থেকে আসমান ও যমীনের দূরত্বের সমপরিমাণ দূরে রাখবেন।

সূত্র

سنن الترمذي، تحقيق بشار عواد، دار الغرب الإسلامي – بيروت، 1998 م. نزهة المتقين شرح رياض الصالحين، لمجموعة من الباحثين, مؤسسة الرسالة, الطبعة الرابعة عشر, 1407ه. بهجة الناظرين شرح رياض الصالحين، لسليم الهلالي, دار ابن الجوزي. دليل الفالحين لطرق رياض الصالحين لمحمد بن علان الصديقي, دار الكتاب العربي. كنوز رياض الصالحين بإشراف حمد العمار, دار كنوز إشبيليا, الطبعة الأولى, 1430ه. سلسلة الأحاديث الصحيحة، محمد ناصر الدين الألباني، دار المعارف، 1415ه. شرح الأربعين النووية، لعطية بن محمد سالم. مصابيح التنوير على صحيح الجامع الصغير، تأليف الألباني، إعداد معتز أحمد. تأسيس الأحكام بشرح عمدة الأحكام، أحمد النجمي، دار علماء السلف.

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

“যখন রমযান আসে তখন জান্নাতের দরজাসমূহ উন্মুক্ত করে দেওয়া হয় আর জাহান্নামের দরজাসমূহ বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং শয়তানগুলোকে শিকলে বন্দী করা হয়।”

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: «إِذَا جَاءَ رَمَضَانُ فُتِّحَتْ أَبْوَابُ الْجَنَّةِ، وَغُلِّقَتْ أَبْوَابُ النَّارِ، وَصُفِّدَتِ الشَّيَاطِينُ».
আবূ হুরাইরাহ্ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “যখন রমযান আসে তখন জান্নাতের দরজাসমূহ উন্মুক্ত করে দেওয়া হয় আর জাহান্নামের দরজাসমূহ বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং শয়তানগুলোকে শিকলে বন্দী করা হয়।”
সহীহ বুখারী ও মুসলিমমানসহীহ
ব্যাখ্যা

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জানিয়েছেন যে যখন রমযান মাস আসে, তখন তিনটি ঘটনা ঘটে: প্রথমত: জান্নাতের দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয় এবং সেগুলোর কোনটি বন্ধ করা হয় না। দ্বিতীয়ত: জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং সেগুলোর কোনটি খোলা হয় না। তৃতীয়ত: শয়তান ও দুষ্ট জিনদের শৃঙ্খলিত করা হয়, ফলে তারা রমযান ছাড়া অন্য সময়ে যা করতে পারত, তা করতে পারে না। এ সবই করা হয়, এই মাসকে মর্যাদাবান করার জন্য এবং ইবাদতকারীদেরকে বেশি বেশি নেক আমল, যেমন নামাজ, সদকা, জিকির, কুরআন তিলাওয়াত ইত্যাদি নেক কাজ করতে উৎসাহিত করার জন্য। পাশাপাশি গুনাহ ও পাপ থেকে দূরে থাকার জন্য।

শিক্ষা
  1. এতে প্রতীয়মান হয়, রমযান মাসের ফযীলত।
  2. এতে রয়েছে, সাওম পালনকারীর জন্য এই সুসংবাদ যে, এই বরকতময় মাস ইবাদত ও ভালো কাজের মৌসুম।
  3. রমযানে শয়তানদের শৃঙ্খলিত করার মধ্যে ইঙ্গিত রয়েছে যে বান্দাহর অজুহাত দূর করা হয়েছে। যেন তাকে বলা হয়: শয়তানদেরকে তোমার থেকে দূরে রাখা হয়েছে, তাই ইবাদত ত্যাগ করা বা গুনাহ করার ক্ষেত্রে তাদেরকে অজুহাত হিসেবে দেখাবে না।
  4. ইমাম কুরতুবী (রহ.) বলেছেন: যদি বলা হয়, আমরা দেখি যে রমযান মাসেও অনেক খারাপ কাজ ও গুনাহ সংঘটিত হয়। যদি শয়তানরা শৃঙ্খলিত হয়, তাহলে এগুলো কীভাবে ঘটে? এর উত্তরে বলা হবে: এটি সেসব সাওম পালনকারীর ক্ষেত্রে কম হয়, যারা সাওমের শর্তাবলি ও আদবসমূহ যথাযথভাবে পালন করে। অথবা শুধু কিছু দুষ্ট শয়তানকে শৃঙ্খলিত করা হয়েছে, যেমন কিছু বর্ণনায় এসেছে, তাদের সবাইকে নয়। অথবা এর উদ্দেশ্য হলো রমযানে খারাপ কাজ কমিয়ে আনা, যা আমরা দেখতে পাই। কারণ রমযানে অন্যান্য সময়ের তুলনায় গুনাহ কম হয়। তবে শয়তানদের শৃঙ্খলিত করার অর্থ এই নয় যে কোনো খারাপ কাজ বা গুনাহই ঘটবে না, কারণ এর অন্যান্য কারণও রয়েছে, যেমন নফসের কুপ্রবৃত্তি, খারাপ অভ্যাস এবং মানুষের মধ্যে শয়তান স্বভাবের লোকেরা।
সূত্র

صحيح البخاري (3/ 25) (1899). صحيح مسلم (2/ 758) (1079). بهجة الناظرين شرح رياض الصالحين، لسليم الهلالي (2/ 362). شرح رياض الصالحين، لابن عثيمين (5/ 273). كنوز رياض الصالحين، لمجموعة من الباحثين (15/ 46). نزهة المتقين شرح رياض الصالحين، لمجموعة من الباحثين (1/ 869).

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

এখানকার প্রতিটি হাদীস, মান, ব্যাখ্যা ও শিক্ষা HadeethEnc.com যেভাবে প্রকাশ করে হুবহু সেভাবেই দেখানো, তাদের পুনঃপ্রকাশের শর্ত মেনে। মানের সঙ্গে মান-নির্ধারকের নাম নেই। অনুবাদ ও ব্যাখ্যা এর লেখকদের নিজস্ব, এবং কোনো কোনোটিতে বিধান বলা আছে; সাবীলের পর্যালোচকেরা এগুলো যাচাই করেননি। আরবি হাদীসটিই মূল পাঠ। উৎস: HadeethEnc.com