عن أبِي هُرَيرةَ رضي الله عنه أنَّ رسول الله صلى الله عليه وسلمَ قال: «إذا قُلْتَ لِصَاحِبِكَ: أَنْصِتْ، يومَ الجمعةِ، والْإِمامُ يَخْطُبُ، فَقَدْ لَغَوْتَ».
আবূ হুরাইরাহ্ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “জুমু‘আর দিন ইমামের খুতবাহ দেওয়ার সময় যখন তুমি তোমার পাশের মুসল্লীকে বললে, ‘চুপ করো’, তখন তুমি অনর্থক কাজ করলে।”
সহীহ বুখারী ও মুসলিমমানসহীহ
ব্যাখ্যা
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বর্ণনা করছেন যে, যিনি জুমা‘আর খুতবাতে হাজির হবেন তার অবশ্য পালনীয় (ওয়াজিব) আদব হলো: (জুমআর) উপদেশসমূহে মনোযোগ দিয়ে খতীবের জন্যে চুপ করা; আর যে ব্যক্তি ইমামের খুতবাহ দেওয়ার সময়—অল্প কথাতেও বলল, ‘চুপ করো’ ও ‘শ্রবণ করো’, তার থেকে জুমআর সালাতের ফজিলত ছুটে গেল।
শিক্ষা
- খুতবাহ শোনার সময় কথা বলা হারাম, যদিও তা হয় অন্যায় থেকে নিষেধ করা অথবা সালামের উত্তর দেওয়া ও হাঁচি দাতাকে يرحمك الله (আল্লাহ তোমাকে রহম করুন) বলা।
- তবে যিনি ইমামকে সম্বোধন করে কথা বলবেন অথবা ইমাম যাকে সম্বোধন করে কথা বলবেন তিনি এই নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্ত থাকবেন।
- প্রয়োজন হলে দুই খুতবার মাঝে কথা বলা বৈধ।
- ইমামের খুতবাহ দেওয়ার সময় যখন নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের নাম উল্লেখ করা হবে তখন আপনি নিরবে তার ওপর সালাত দরূদ ও সালাম পাঠ করবেন, অনুরূপভাবে দোয়ার সময় আমীন বলবেন।
সূত্র
صحيح البخاري (2/ 13) (934).
صحيح مسلم (2/ 583) (851).
تيسير العلام شرح عمدة الأحكام، للبسام (ص244).
تنبيه الأفهام، للعثيمين (2/ 307).
الإلمام بشرح عمدة الأحكام، لإسماعيل الأنصاري (1/ 195).
فتح الباري، لابن حجر (2/ 409).
تاج العروس من جواهر القاموس، لمحمّد الحسيني الزَّبيدي (39/ 463).
HadeethEnc.com-এ এই হাদীসعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «مَنِ اغْتَسَلَ يَوْمَ الجُمُعَةِ غُسْلَ الجَنَابَةِ ثُمَّ رَاحَ، فَكَأَنَّمَا قَرَّبَ بَدَنَةً، وَمَنْ رَاحَ فِي السَّاعَةِ الثَّانِيَةِ، فَكَأَنَّمَا قَرَّبَ بَقَرَةً، وَمَنْ رَاحَ فِي السَّاعَةِ الثَّالِثَةِ، فَكَأَنَّمَا قَرَّبَ كَبْشًا أَقْرَنَ، وَمَنْ رَاحَ فِي السَّاعَةِ الرَّابِعَةِ، فَكَأَنَّمَا قَرَّبَ دَجَاجَةً، وَمَنْ رَاحَ فِي السَّاعَةِ الخَامِسَةِ، فَكَأَنَّمَا قَرَّبَ بَيْضَةً، فَإِذَا خَرَجَ الإِمَامُ حَضَرَتِ المَلاَئِكَةُ يَسْتَمِعُونَ الذِّكْرَ».
আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “যে ব্যক্তি জুমু‘আর দিন নাপাকী থেকে ফরজ গোসলের ন্যায় গোসল করে এবং প্রথম প্রহরে মসজিদে গমন করে সে যেন একটি উট কুরবানী করল। আর যে ব্যক্তি দ্বিতীয় প্রহরে গমন করে সে যেন একটি গাভী কুরবানী করল। আর যে ব্যক্তি তৃতীয় প্রহরে গমন করে সে যেন একটি শিং বিশিষ্ট দুম্বা কুরবানী করল। আর যে ব্যক্তি চতুর্থ প্রহরে গমন করল সে যেন একটি মুরগী সাদকাহ করল। আর যে ব্যক্তি পঞ্চম প্রহরে গমন করল সে যেন একটি ডিম সাদকাহ পেশ করল। পরে ইমাম যখন বের হন তখন ফিরেশ্তারা খুৎবা শ্রবণের জন্য উপস্থিত হন”।
সহীহ বুখারী ও মুসলিমমানসহীহ
ব্যাখ্যা
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুমার সালাতে আগে আগে যাওয়ার ফযীলত সম্পর্কে বলছেন। সূর্যোদয়ের পর থেকে শুরু হয়ে ইমামের খুতবার জন্য আসা পর্যন্ত আগে আগে মসজিদে আগমনের ফজিলত পর্যায়ক্রমে অবশিষ্ট থাকে।এটি হল পাঁচটি ঘন্টা: সূর্যোদয় থেকে ইমামের খুতবা দেওয়ার জন্য প্রবেশ ও মিম্বারে আরোহণ করা পর্যন্ত মধ্যবর্তী সময়কে পাঁচটি ভাগ করা হবে:
প্রথমটি: যে ব্যক্তি সম্পূর্ণরূপে গোসল করল, যেমনভাবে নাপাক থেকে গোসল করা হয়। অতঃপর প্রথম প্রহরে জুমার মসজিদে গেল,সে যেন একটি উট সদকা করল।
দ্বিতীয়: যে দ্বিতীয় ঘন্টায় গেল, সে যেন একটি গরু সাদকা করে।
তৃতীয়: যে তৃতীয় ঘন্টায় গেল, সে যেন একটি মেষ সাদকা করল - তা হল একটি পুরুষ ভেড়া - যার শিং রয়েছে।
চতুর্থ: যে ব্যক্তি চতুর্থ প্রহরে গেল, সে যেন একটি মুরগি সাদকা করল।
পঞ্চম: যে পঞ্চম ঘন্টায় গেল, সে যেন একটি ডিম সাদকা করল।
আর যখন ইমাম খুতবা দিতে বের হয়; প্রথমে মসজিদে প্রবেশকারী ও পরস্পর প্রবেশকারীদের সাওয়াব লেখার জন্য দরজায় বসা ফেরেশতারা লেখা বন্ধ করে দেন এবং খুতবা ও আল্লাহর যিকির শুনতে চলে আসেন।
শিক্ষা
- এখানে জুমার দিনে সালাতে যাওয়ার আগে গোসল করার জন্য উৎসাহিত করা হয়েছে।
- এতে দিনের প্রথম প্রহর থেকে জুমার সালাতে আগে আগে পৌঁছানোর ফজিলত রয়েছে।
- ভালো কাজে দ্রুতগামী হওয়ার প্রতি উৎসাহ প্রদান।
- ফেরেশতারা জুমার সালাতে উপস্থিত হন এবং খুতবা শোনেন।
- মসজিদের দরজায় ফেরেশতারা অবস্থান করেন এবং জুমার সালাতে আগমনকারীদের নাম লিপিবদ্ধ করেন, আগে আগমনকারী তারপর আগে আগমনকারী এভাবে পর্যায়ক্রমে তারা লিখতে থাকেন।
- ইবন রজব বলেন: তাঁর উক্তি: "যে ব্যক্তি জুমার দিন গোসল করল তারপর বের হল” নির্দেশ করে যে জুমার জন্য মুস্তাহাব গোসলের প্রথম প্রহর হল ফজরের উদয় আর তার শেষ প্রহর হল জুমার জন্য রওয়ানা করার পূর্বে।
সূত্র
صحيح البخاري (2/ 3) (881).
صحيح مسلم (2/ 582) (850).
تيسير العلام شرح عمدة الأحكام، عبد الله البسام (ص244).
تنبيه الأفهام شرح عمدة الأحكام، لابن عثيمين (2/ 308).
الإلمام بشرح عمدة الأحكام، إسماعيل الأنصاري (1/ 196).
معالم السنن (شرح سنن أبي داود)، أبو سليمان الخطابي (1/ 109).
تهذيب اللغة، محمد الأزهري (14/ 102).
HadeethEnc.com-এ এই হাদীসعن عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ رضي الله عنهما قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: «مَنْ جَاءَ مِنْكُمُ الْجُمُعَةَ فَلْيَغْتَسِلْ».
ইবন `উমার রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: “তোমাদের মধ্যে যে জুমু‘আয় উপস্থিত হয় সে যেন গোসল করে”।
সহীহ বুখারী ও মুসলিমমানসহীহ
ব্যাখ্যা
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে ব্যক্তি জুমআর সালাতের জন্য আসার ইচ্ছে করে তার প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন যে, তার ফরয গোসলের মতই গোসল করা মুস্তাহাব।
শিক্ষা
- জুমার গোসলের গুরুত্ব এবং এটি জুমার দিন মুমিনের জন্য সুন্নাত। আর এটি সালাতের জন্য যাওয়ার সময় উত্তম।
- পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং সুগন্ধি নিশ্চিত করা একজন মুসলিমের নৈতিকতা এবং শিষ্টাচারের মধ্যে রয়েছে। লোকদের সাথে দেখা করা, তাদের সাথে মজলিসে বসা, বিশেষত জুমুআ ও জমায়েতের সময় এটি নিশ্চিত করা জরুরি।
- হাদীসের বক্তব্যটি তার জন্য যার ওপর জুমুআ ওয়াজিব। কারণ তিনিই তো জুমুআতে আসবেন।
- যে ব্যক্তি জুম‘আয় আসে তার জন্য পরিচ্ছন্ন হওয়া ওয়াজিব; তার শরীর থেকে দুর্গন্ধ দূর করার জন্য গোসল করবে এবং সুগন্ধি ব্যবহার করবে, যদি সে শুধু অযু করে তাও যথেষ্ট হবে।
সূত্র
صحيح البخاري (2/ 81) (1294).
صحيح مسلم (1/ 99) (103).
تيسير العلام شرح عمدة الأحكام، لعبد الله البسام (ص239).
تنبيه الأفهام شرح عمدة الأحكام، لابن عثيمين (2/ 302).
الإلمام بشرح عمدة الأحكام، لإسماعيل الأنصاري (1/ 192).
HadeethEnc.com-এ এই হাদীসعن سَلَمَةَ بْنِ الأَكْوَعِ رضي الله عنه وكان من أصحاب الشجرة قال: «كنا نُصَلِّي مع رسول الله صلى الله عليه وسلم الْجُمُعَةَ، ثم نَنْصَرِفُ، وليس للحيطان ظِلٌّ نستظِلّ به».
وفي لفظ: «كنا نُجَمِّعُ مع رسول الله صلى الله عليه وسلم إذا زالت الشمس، ثم نرجع فَنَتَتَبَّعُ الْفَيْءَ».
সালামাহ ইবনুল আকওয়া রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি ছিলেন গাছের লোকদের একজন। তিনি বলেন, “আমরা নবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সাথে জুমু‘আহর সালাত আদায় করতাম। অতঃপর আমরা ফিরে আসতাম। তখন দেয়ালের একটু ছায়াও দেখতাম না যার ছায়া দ্বারা আমরা ছায়া গ্রহণ করতে পারি”।
অপর শব্দে বর্ণিত: “আমরা রাসূলের সাথে জুমুআর সালাত আদায় করতাম যখন সূর্য্য ডলে যেতো। তারপর আমার ফেরার পথে ছায়া তালাশ করতাম”।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।মানসহীহ
ব্যাখ্যা
সালামাহ ইবনুল আকওয়া রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বর্ণনা করেন যে, তারা নবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সাথে জুমু‘আহর সালাত আদায় করতে উপস্থিত হতেন এবং তারা সকাল সকাল সালাত আদায় করতেন। ফলে তারা দুই খুতবা এবং সালাত আদায় থেকে ফারেগ হয়ে তাদের নিজেদের ঘরে ফিরে যেতেন। তখন দেয়ালের এমন একটু ছায়া দেখতেন না যার ছায়া দ্বারা তারা ছায়া গ্রহণ করবেন। অপর শব্দে বর্ণিত: তারা রাসূলের সাথে জুমুআর সালাত আদায় করতেন যখন সূর্য্য ডলে যেতো। তারপর তার বাড়িতে ফিরে যেতেন। উলামাগণ এ বিষয়ে একমত যে, জুমু‘আর সালাতের শেষ সময় হলো যোহরের সালাতের শেষ সময়। আর উত্তম হলো সুর্য্য ডলে যাওয়ার পর সালাত আদায় করা। কারণ, রাসূলের কর্ম অধিকাংশ সময় এমনই হতো। এ ছাড়াও এটি হল এমন সময় যার ওপর উলামাগণ একমত। তবে যদি কোন প্রয়োজন থাকে যেমন কঠিন গরম অথচ তাদের কাছে এমন কিছু নাই যা দ্বারা তারা ছায়া গ্রহণ করবে অথবা তারা সুর্য্য ডলার পূর্বে জিহাদে বের হতে চায় তখন সূর্য্য ডলার কিছু সময় আগে সালাত আদায় করাতে কোন অসুবিধা নেই।
সূত্র
تيسير العلام شرح عمدة الأحكام، عبد الله بن عبد الرحمن البسام، تحقيق: محمد صبحي حلاق، مكتبة الصحابة، الإمارات، مكتبة التابعين، القاهرة، الطبعة: العاشرة 1426هـ، 2006م.
تنبيه الأفهام شرح عمدة الأحكام، محمد بن صالح العثيمين، مكتبة الصحابة، الإمارات، الطبعة: الأولى 1426هـ، 2005م.
عمدة الأحكام من كلام خير الأنام -صلى الله عليه وسلم- لعبد الغني المقدسي، دراسة وتحقيق: محمود الأرناؤوط، مراجعة وتقديم: عبد القادر الأرناؤوط، دار الثقافة العربية، دمشق، بيروت، مؤسسة قرطبة، الطبعة: الثانية 1408هـ، 1988م.
صحيح البخاري، محمد بن إسماعيل البخاري الجعفي، تحقيق: محمد زهير الناصر، دار طوق النجاة (مصورة عن السلطانية بإضافة ترقيم: محمد فؤاد عبد الباقي)، الطبعة: الأولى 1422هـ.
صحيح مسلم، مسلم بن الحجاج القشيري النيسابوري، تحقيق محمد فؤاد عبد الباقي، دار إحياء التراث العربي، بيروت، الطبعة: 1423هـ.
فتح الباري شرح صحيح البخاري، زين الدين عبد الرحمن بن رجب البغدادي، تحقيق: محمود بن شعبان بن عبد المقصود ومجدي بن عبد الخالق الشافعي وغيرهم، الناشر: مكتبة الغرباء الأثرية، المدينة النبوية، الحقوق: مكتب تحقيق دار الحرمين، القاهرة الطبعة: الأولى 1417هـ، 1996م.
HadeethEnc.com-এ এই হাদীসعن عبد الله بن عُمر بن الخطاب رضي الله عنهما قال: «كان النبي صلى الله عليه وسلم يخطب خطبتين يقعد بينهما» وفي رواية لجابر - رضي الله عنه-: «كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يَخْطُبُ خُطْبَتَيْنِ وهو قائم، يفصل بينهما بجلوس».
‘আবদুল্লাহ্ ইবন ‘উমার ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত: তিনি বলেন, “নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুই খুতবাহ দিতেন আর দুই খুতবাহর মধ্যখানে বসতেন”। জাবের রাদিয়াল্লাহু আনহু অপর একটি বর্ণনায় বর্ণিত, “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়িয়ে দুই খুতবাহ দিতেন। আর তিনি উভয় খুতবার মাঝখানে বসার মাধ্যমে ব্যবধান করতেন”।
এটি বাইহাকী বর্ণনা করেছেন। - মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।মানউভয় বর্ণনাসহ সহীহ
ব্যাখ্যা
শহরের সব অধিবাসীর জন্য জুমু‘আর দিন একটি বড় ধরনের মিলন মেলা। এ কারণেই রাসূলের হিকমত হলো সে মানুষকে দুটি খুতবাহ প্রদান করতেন। উভয় খুতবায় তাদের কল্যাণের দিক নির্দেশনা দেন এবং খারাবী থেকে সতর্ক করেন। উভয় খুতবা মিম্বারের উপর দাঁড়িয়ে দিতেন যাতে শ্রোতাদের শিক্ষা দেওয়া ও নসিহত করা গুরুত্ব সহকারে হয়। এ ছাড়াও দাঁড়ানোর মধ্যে রয়েছে ইসলামের শক্তি ও সৌর্ন্দয্য। প্রথম খুতবাহ শেষ করা পর বিশ্রামের জন্য সংক্ষিপ্ত সময় বসেতেন। ফলে দুটির মাঝে প্রার্থক্য হতো। অতঃপর দ্বিতীয় খুতবা প্রদান করতেন যাতে খতীব ক্লান্ত এবং শ্রোতা বিরক্ত না হয়।
সূত্র
تيسير العلام شرح عمدة الأحكام، عبد الله بن عبد الرحمن البسام، تحقيق: محمد صبحي حلاق، مكتبة الصحابة، الإمارات، مكتبة التابعين، القاهرة، الطبعة: العاشرة 1426هـ، 2006م.
تنبيه الأفهام شرح عمدة الأحكام، محمد بن صالح العثيمين، مكتبة الصحابة، الإمارات، الطبعة: الأولى 1426هـ، 2005م.
الإفهام في شرح عمدة الأحكام لابن باز، تحقيق: سعيد القحطاني، مؤسسة عبد العزيز بن باز الخيرية، الرياض، الطبعة: الأولى 1435هـ.
الإلمام بشرح عمدة الأحكام، إسماعيل بن محمد الأنصاري، دار الفكر، دمشق، الطبعة: الأولى 1381هـ.
خلاصة الكلام –فيصل المبارك الحريملي -الطبعة: الثانية، 1412 هـ - 1992 م.
تأسيس الأحكام، أحمد بن يحيى النجمي، دار المنهاج، القاهرة، الطبعة: الأولى 1427هـ.
صحيح البخاري، محمد بن إسماعيل البخاري الجعفي، تحقيق: محمد زهير الناصر، دار طوق النجاة (مصورة عن السلطانية بإضافة ترقيم: محمد فؤاد عبد الباقي)، الطبعة: الأولى 1422هـ.
صحيح مسلم، مسلم بن الحجاج القشيري النيسابوري، تحقيق محمد فؤاد عبد الباقي، دار إحياء التراث العربي، بيروت، الطبعة: 1423هـ.
المجتبى من السنن ( السنن الصغرى )، أحمد بن شعيب النسائي، تحقيق: عبد الفتاح أبو غدة، مكتب المطبوعات الإسلامية، حلب، الطبعة: الثانية 1406هـ، 1986م.
سنن الدارمي، تحقيق: حسين سليم أسد الداراني، دار المغني للنشر والتوزيع، المملكة العربية السعودية، الطبعة: الأولى 1412هـ، 2000م.
تهذيب اللغة، محمد بن أحمد الأزهري أبو منصور، تحقيق: محمد عوض مرعب، الناشر: دار إحياء التراث العربي، بيروت، الطبعة: الأولى، 2001م.
إرواء الغليل في تخريج أحاديث منار السبيل - محمد ناصر الدين الألباني إشراف: زهير الشاويش-المكتب الإسلامي – بيروت-الطبعة: الثانية 1405 هـ - 1985م.
HadeethEnc.com-এ এই হাদীসعن أبي عبد الله جابر بن سمرة رضي الله عنهما قال: كنت أصلي مع النبي صلى الله عليه وسلم الصلوات، فكانت صلاته قَصْدًا وخطبته قَصْدًا.
আবূ আব্দুল্লাহ জাবের ইবন সামুরাহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন যে, ‘আমি নবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লামের সঙ্গে সালাত আদায় করতাম। তাঁর সালাতও মধ্যম ধরনের হতো এবং তাঁর খুৎবাও মধ্যম ধরনের হতো।’
এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।মানসহীহ
ব্যাখ্যা
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়সাল্লামের খুৎবা ও সালাত ছিল মধ্যম ধরনের। অধিক লম্বাও নয় আবার একেবারে সংক্ষিপ্তও নয়। মুসলিমদের জন্য সাধারণভাবে এবং ইমাম ও খতীবদের জন্য বিশেষভাবে এটি একটি অনুকরনীয় আদর্শ।
সূত্র
المسند الصحيح (صحيح مسلم), تأليف: مسلم بن حجاج النيسابوري, تحقيق: محمد فؤاد عبدالباقي, دار إحياء التراث العربي.
بهجة الناظرين شرح رياض الصالحين, تأليف: سليم بن عيد الهلالي, دار ابن الجوزي.
HadeethEnc.com-এ এই হাদীসعن معاذ بن أنس الجهني رضي الله عنه : أن النبي صلى الله عليه وسلم نَهى عن الحِبْوَةِ يوم الجمعة والإمام يخطب.
মু‘আয ইবন আনাস আল-জুহানী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুমু‘আর দিনে ইমামের খুৎবা চলা অবস্থায় দুই হাঁটুকে পেটে লাগিয়ে বসতে নিষেধ করেছেন।
এটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন। - এটি আবূ দাঊদ বর্ণনা করেছেন। - এটি আহমাদ বর্ণনা করেছেন।মানহাসান
ব্যাখ্যা
এ হাদীসটি রহিত। পূর্বের হাদীসটির পর এমনটিই ইঙ্গিত করেছেন ইমাম আবূ দাউদ। তার কথার মর্ম হলো, মু‘আয ইবন আনাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু সংবাদ দেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুমু‘আর দিনে ইমামের খুৎবা চলা অবস্থায় দুই হাঁটুকে পেটে লাগিয়ে বসতে নিষেধ করেছেন। আর ‘হিবওয়া’ অর্থ: দুই উরুকে পেটের সাথে মিলানো এবং দুই নলাকে উরুর সাথে মিলানো। তারপর দেহকে গামছা, পাগড়ী বা এ ধরনের কোনো কিছু দিয়ে পেঁচানো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুমু‘আর দিনে ইমামের খুৎবা চলা অবস্থায় এ থেকে দু’টি কারণে নিষেধ করেছেন। এক: অনেক সময় এ ধরনের বসা ঘুমকে টেনে আনার কারণ হয়। ফলে খুতবা না শোনে ঘুমিয়ে পড়তে পারে। দুই: এতে সতর খুলে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। কারণ, সাধারণত আরবরা এক কাপড়ের উপর থাকতেই অভ্যস্ত। যখন সে এভাবে কাপড় পেঁচাবে তাতে সতর খুলে যাওয়ার অধিক সম্ভাবনা থাকে। এ কারণেই এ বিষয়টি সম্পর্কে পুরো নিষেধাজ্ঞা এসেছে। যেমন সহীহ মুসলিমে বর্ণিত: “লজ্জাস্থান খোলা রেখে এক কাপড়ে শরীর পেঁচানো থেকে নিষেধ করেছেন।” ইমাম নববী রহ. বলেন, আরবরা তাদের মজলিসে এ ধরনের কাপড় পরিধান করতে অভ্যস্ত ছিল। যদি তার সতর থেকে কিছু অংশ খুলে যায়, তা সম্পূর্ণ হারাম। আর যদি এ থেকে নিরাপদ হয়, তাতে এ ধরনের পরিধানে কোনো অসুবিধা নেই। কারণ, নিষেধ করা যৌক্তিক কারণে, এখানে কারণ অনুপস্থিত তাই নিষেধটিও থাকবে না। বরং সহীহ বুখারী ও মুসলিমে ‘আব্বাদ ইবন তামীম থেকে, তিনি তার চাচা থেকে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে হাদীস বর্ণনা করেন যে, “তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে মসজিদে একটি পা অপর পায়ের উপর রেখে চিত হয়ে শুয়ে থাকতে দেখেছেন।” ইমাম নাওয়াওয়ীর শারহু মুসলিম (১৪/৭৭) রিয়াদুস সালেহীন (/৪৪৯৬)
সূত্র
نزهة المتقين، تأليف: جمعٌ من المشايخ، الناشر: مؤسسة الرسالة، الطبعة الأولى: 1397 هـ الطبعة الرابعة عشر 1407 هـ
كنوز رياض الصالحين، تأليف: حمد بن ناصر بن العمار ، الناشر: دار كنوز أشبيليا، الطبعة الأولى: 1430 هـ
سنن أبي داود، تأليف: سليمان بن الأشعث السِّجِسْتاني، تحقيق: محمد محيي الدين عبد الحميد، الناشر: المكتبة العصرية، صيدا.
مسند الإمام أحمد، تأليف: أحمد بن محمد بن حنبل، تحقيق: شعيب الأرناؤوط وغيره، الناشر: الناشر: مؤسسة الرسالة ، الطبعة: الأولى، 1421 هـ
رياض الصالحين، تأليف : محيي الدين يحيى بن شرف النووي ، تحقيق: د. ماهر بن ياسين الفحل ، الطبعة: الأولى، 1428 هـ
شرح رياض الصالحين، تأليف: محمد بن صالح العثيمين، الناشر: دار الوطن للنشر، الطبعة: 1426 هـ
سنن الترمذي، تأليف: محمد بن عيسى الترمذي، تحقيق أحمد شاكر وغيره ، الناشر: شركة مكتبة ومطبعة مصطفى البابي الحلبي، الطبعة: الثانية، 1395 هـ
المنهاج شرح صحيح مسلم، تأليف: محيي الدين يحيى بن شرف النووي، الناشر: دار إحياء التراث العربي، الطبعة: الثانية 1392 هـ.
HadeethEnc.com-এ এই হাদীসعن سمرة رضي الله عنه مرفوعاً: «من توضَّأَ يوم الجُمعة فَبِهَا ونِعْمَتْ، ومن اغْتَسَل فهو أفْضَل».
সামুরাহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে মারফূ‘ হিসেবে বর্ণিত, “যে ব্যক্তি জুমু‘আর দিন অযু করল সে যথেষ্ট করল ও ভালো করল, আর যে গোলস করল সে অধিক উত্তম।”
এটি ইবন মাজাহ বর্ণনা করেছেন। - এটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন। - এটি নাসাঈ বর্ণনা করেছেন। - এটি আবূ দাঊদ বর্ণনা করেছেন। - এটি আহমাদ বর্ণনা করেছেন। - এটি দারিমী বর্ণনা করেছেনমানহাসান
ব্যাখ্যা
“যে ব্যক্তি জুমু‘আর দিন ওযূ করল।” অর্থাৎ জুমু‘আর সালাতের অযু “সে যথেষ্ট করল” অর্থাৎ সে সুন্নাত পালন করল এবং অনুমোদিত আমল করল। “এবং ভালো করল” অর্থাৎ সুন্নাত পালনের কারণে সে ভালো কর্ম করল। এটি তার জন্য প্রসংশা। “আর যে ব্যক্তি জুমু‘আর দিন গোসল করল সে অধিক উত্তম।” অর্থাৎ যে ব্যক্তি জুমু‘আর দিন অযুর সাথে গোসল করল, তা গোসল ছাড়া শুধু অযু করা অপেক্ষা অধিক উত্তম। অধিকাংশ আলেম এ পদ্ধতিকে গ্রহণ করেছেন। তাদের মধ্যে রয়েছে চার ইমাম। তাদের মতের পক্ষে আরও প্রমাণ, সহীহ মুসলিমে বর্ণিত হাদীস: যে ব্যক্তি সুন্দরভাবে অযু করে জুমু‘আর সালাতে উপস্থিত হয়ে মনোযোগ দিয়ে খুতবা শুনলো এবং চুপ থাকলো তার এক জুমু‘আ থেকে অপর জুমু‘আর মাঝখানের এবং আরও অতিরিক্ত তিন দিনের গুনাহগুলো ক্ষমা করে দেওয়া হবে।
সূত্র
سنن أبي داود، سليمان بن الأشعث السِّجِسْتاني، تحقيق: محمد محيي الدين عبد الحميد: المكتبة العصرية، صيدا - بيروت.
سنن الترمذي، لمحمد بن عيسى الترمذي، تحقيق وتعليق:أحمد محمد شاكر ومحمد فؤاد عبد الباقي وإبراهيم عطوة عوض، شركة مكتبة ومطبعة مصطفى البابي الحلبي، مصر، الطبعة الثانية، 1395 هـ - 1975م.
سنن ابن ماجه: لابن ماجه أبو عبد الله محمد بن يزيد القزويني، تحقيق: محمد فؤاد عبد الباقي، دار إحياء الكتب العربية - فيصل عيسى البابي الحلبي.
مسند الإمام أحمد بن حنبل، المحقق: شعيب الأرنؤوط - عادل مرشد، وآخرون إشراف: د عبد الله بن عبد المحسن التركي، مؤسسة الرسالة، الطبعة: الأولى، 1421 هـ - 2001 م.
السنن الكبرى للنسائي، حققه وخرج أحاديثه: حسن عبد المنعم شلبي، أشرف عليه: شعيب الأرناءوط، مؤسسة الرسالة، بيروت، الطبعة: الأولى، 1421 هـ - 2001 م.
سنن الدارمي، لعبد الله بن عبد الرحمن الدارمي، التميمي تحقيق: حسين سليم أسد الداراني، دار المغني للنشر والتوزيع، المملكة العربية السعودية، الطبعة: الأولى، 1412 هـ - 2000 م.
توضيح الأحكام شرح بلوغ المرام، تأليف عبد الله البسام، مكتبة الأسدي، مكة المكرمة، الطبعة:الخامِسَة، 1423 هـ - 2003 م.
تسهيل الإلمام بفقه الأحاديث من بلوغ المرام، تأليف: الشيخ صالح الفوزان، عناية عبد السلام السليمان، مؤسسة الرسالة الطبعة الأولى.
HadeethEnc.com-এ এই হাদীসএখানকার প্রতিটি হাদীস, মান, ব্যাখ্যা ও শিক্ষা HadeethEnc.com যেভাবে প্রকাশ করে হুবহু সেভাবেই দেখানো, তাদের পুনঃপ্রকাশের শর্ত মেনে। মানের সঙ্গে মান-নির্ধারকের নাম নেই। অনুবাদ ও ব্যাখ্যা এর লেখকদের নিজস্ব, এবং কোনো কোনোটিতে বিধান বলা আছে; সাবীলের পর্যালোচকেরা এগুলো যাচাই করেননি। আরবি হাদীসটিই মূল পাঠ। উৎস: HadeethEnc.com