মূল অংশে যান
ব্যাখ্যাসহ হাদীস

জামাতের সালাতের ফযীলত ও এর বিধান

১৬টি হাদীস

তোমরা তোমাদের পরবিারের কাছে ফিরে যাও এবং তাদের মাঝেই বসবাস কর । তাদেরকে শিক্ষা দান কর এবং তাদেরকে (ভাল কাজের) আদেশ দাও। অমুক সালাত অমুক সময়ে পড়। অমুক সালাত অমুক সময়ে পড়। সুতরাং যখন সালাতের সময় হবে তখন তোমাদের মধ্যে কেউ একজন আযান দিবে এবং তোমাদের মধ্যে যে বড় সে ইমামতি করবে।

عن أبي سليمان مالك بن الحويرث رضي الله عنه قال: أَتَينَا رسُول الله -صلَّى الله عليه وسلَّم- ونَحنُ شَبَبَةٌ مُتَقَارِبُون، فَأَقَمْنَا عِندَهُ عِشْرِينَ لَيلَةً، وَكَان رَسُولُ الله -صلَّى الله عليه وسلَّم- رَحِيمًا رَفِيقًا، فَظَنَّ أَنَّا قَدْ اشْتَقْنَا أَهْلَنَا، فَسَألَنا عمَّنْ تَرَكْنا مِنْ أَهلِنا، فأَخبَرنَاه، فقال: «ارْجِعُوا إلى أَهْلِيكُم، فَأَقِيمُوا فيهم، وَعَلِّمُوهُم وَمُرُوهُم، وَصَلُّوا صَلاَةَ كَذَا في حِينِ كذَا، وصَلُّوا كَذَا في حِينِ كَذَا، فَإِذا حَضَرَتِ الصلاةُ فَلْيُؤذِّن لكم أَحَدُكُم وَلْيَؤُمَّكُم أكبركم». زاد البخاري في رواية له: «وصَلُّوا كَمَا رَأَيتُمُونِي أُصَلِّي».
আবূ সুলায়মান মালেক ইবনে হুওয়াইরিস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে রর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা প্রায় সমবয়স্ক কতিপয় নব যুবক রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে বেশি দিন অবস্থান করলাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম অত্যন্ত দয়ালু ও স্নেহ পরবশ ছিলেন। তাই তিনি ধারণা করলেন যে, আমরা আমাদের পরবিারের কাছে ফিরিয়ে যাবার জন্য উদ্গ্রীব হয়ে উঠেছি সেহেতু তিনি আমাদেরকে প্রশ্ন করলেন যে, আমরা আমাদের পরিবারের কাকে ছেড়ে এসেছি? সুতরাং আমরা তাঁকে জানালে তিনি বললনে, “তোমরা তোমাদের পরবিারের কাছে ফিরে যাও এবং তাদের মাঝেই বসবাস কর । তাদেরকে শিক্ষা দান কর এবং তাদেরকে (ভাল কাজের) আদেশ দাও। অমুক সালাত অমুক সময়ে পড়। অমুক সালাত অমুক সময়ে পড়। সুতরাং যখন সালাতের সময় হবে তখন তোমাদের মধ্যে কেউ একজন আযান দিবে এবং তোমাদের মধ্যে যে বড় সে ইমামতি করবে।” বুখারীর বর্ণনায় এরূপ বাড়তি আছে যে, “আমাকে তোমরা যেভাবে নামায পড়তে দেখেছ, ঠিক সেইভাবেই নামায পড়।”
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।মানসহীহ
ব্যাখ্যা

মালেক রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন, আমরা প্রায় সমবয়স্ক কতিপয় নব যুবক দীন জানার জন্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট আসলাম। এটি ছিল নবম হিজরী ওয়াফদের বছর। তারা সবাই যুবক ছিল। তারা বিশ দিন অবস্থান করল। মালেক বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দয়াপরবশ ও নম্র। তাই তিনি ধারণা করলেন যে, আমরা আমাদের পরবিারের কাছে ফিরে যাবার জন্য উদ্গ্রীব হয়ে উঠেছি সেহেতু তিনি আমাদেরকে প্রশ্ন করলেন যে, আমরা আমাদের পরিবারে কাকে ছেড়ে এসেছি? সুতরাং আমরা তাঁকে জানালে তিনি বললনে, “তোমরা তোমাদের পরবিারের কাছে ফিরে যাও এবং তাদের মাঝেই বসবাস কর । তাদেরকে শিক্ষা দান কর এবং তাদেরকে (ভাল কাজের) আদেশ দাও। অমুক সালাত অমুক সময়ে পড়। অমুক সালাত অমুক সময়ে পড়। সুতরাং যখন সালাতের সময় হবে তখন তোমাদের মধ্যে কেউ একজন আযান দিবে এবং তোমাদের মধ্যে যে বড় সে ইমামতি করবে”। ইমাম বুখারী এ কথা বাড়ান যে, আর তোমরা আমাকে যেভাবে সালাত আদায় করতে দেখেছ সেভাবে সালাত আদায় কর। এ হাদীসটি প্রমান করে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রহমত ও নম্রতায় প্রসিদ্ধ ছিলেন। তিনি মানুষের প্রতি সবচেয়ে বেশি দয়ালু ও নমনীয় ছিলেন। তাই তিনি যখন দেখতে পেলেন যে, তারা তাদের পরিবারের প্রতি উদগ্রীব হয়ে আছেন, তাই তিনি বাড়িতে তারা কাদেরকে রেখে এসেছেন তাদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন এবং তারা তাকে সে সম্পর্কে অবহিত করলে তিনি তাদের নির্দেশ দেন যে, তারা যেন তাদের পরিবারে ফিরে যায়। “আর তোমাদের মধ্যে যিনি বড় তিনি যেন তোমাদের ইমামতি করেন”। এতে প্রমাণিত হয় যে, বয়সে যারা বড় তারা ইমামতিতে প্রাধান্য পাবে। এটি রাসূলের বাণী—আল্লাহর কিতাবের কারীগণ কাওমের ইমামতি করবেন—এর পরিপন্থী নয়। কারণ, এ যুবকগুলো সবাই রাসূলের নিকট একই সময় উপস্থিত হয়েছিল। ফলে স্পষ্টত বুঝা যাচ্ছে যে, কুরআনের কারী হওয়ার ব্যাপারে তাদের মধ্যে স্পষ্ট কোন প্রার্থক্য ছিল না। তারা সবাই সম পর্যায়ের ছিল। তাদের কেউ অপরের চেয়ে অধিক কুরআন ওয়ালা ছিল না। এ কারণেই তিনি বলেছেন, তোমাদের মধ্যে যিনি বড় তিনি তোমাদের ইমামতি করবেন। কারণ তারা কুরআনের ব্যাপারে সবাই সমান বা কাছাকাছি। অনুরূপভাবে তারা সবাই যদি ক্বিরাত, সুন্নাহ ও হিজরত বিষয়ে সমান হয়, তাহলে বয়সের দিক দেখবে এবং যিনি বয়স্ক তাকে অগ্রাধিকার দেবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী—“তোমরা আমাকে যেভাবে সালাত আদায় করতে দেখেছ, সেভাবে সালাত আদায় কর।” এটি রাসূলের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য যে, তিনি মানুষকে কথা ও কর্ম উভয়ের মাধ্যমে শিক্ষা দান করতেন। তাই তিনি যে ব্যক্তি স্থীরতা ছাড়া সালাত আদায় করল, তাকে মৌখিকভাবে শিক্ষা দিলেন, বললেন, যখন তুমি সালাতে দাঁড়াও তুমি পরিপূর্ণ ওযূ কর। অতঃপর তুমি কিবলা মুখী হও, তাকবীর বল, তারপর তুমি তোমার নিকট যে কুরআন রয়েছে তা থেকে যা তোমার জন্য সহজ হয় পড়, অতঃপর তুমি রুকু কর...। আর এ সব যুবকদেরকে তিনি কর্মের মাধ্যমে বাস্তবিক শিক্ষা দান করেন।

সূত্র

رياض الصالحين من كلام سيد المرسلين، للإمام أبي زكريا النووي، تحقيق د. ماهر الفحل، دار ابن كثير-دمشق، الطبعة الأولى، 1428هـ. دليل الفالحين لطرق رياض الصالحين، لمحمد بن علان الشافعي، دار الكتاب العربي- بيروت - بدون تاريخ. بهجة الناظرين شرح رياض الصالحين، تأليف سليم الهلالي، دار ابن الجوزي- الطبعة الأولى1418ه نزهة المتقين شرح رياض الصالحين، تأليف د. مصطفى الخِن وغيره، مؤسسة الرسالة - بيروت، الطبعة الرابعة عشر، 1407هـ. صحيح البخاري، للإمام أبي عبد الله محمد بن إسماعيل البخاري، عناية محمد زهير الناصر، دار طوق النجاة، الطبعة الأولى، 1422هـ. صحيح مسلم، للإمام مسلم بن الحجاج، حققه ورقمه محمد فؤاد عبد الباقي، دار عالم الكتب - الرياض، الطبعة الأولى، 1417هـ. كنوز رياض الصالحين، لحمد بن ناصر العمار، دار كنوز إشبيليا - الطبعة الأولى 1430هـ. شرح رياض الصالحين، للشيخ محمد بن صالح العثيمين، مدار الوطن، الرياض، 1426هـ.

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

যখন কোন নারী মসজিদে যাওয়ার জন্য অনুমতি চায় তাকে যেন বাধা না দেয়। তিনি বলেন, এ কথা শোনে বিলাল ইবন আব্দুল্লাহ বলল, আল্লাহর কসম আমি তাদের বারণ করব। তিনি বলেন, তারপর আব্দুল্লাহ তার সামনে আসলেন এবং তাকে খুব খারাপ ভাষায় গালি দিলেন। আমি তাকে আর কখনো এ ধরনের গাল দিতে শুনিনি। তিনি বললেন, আমি তোমাকে রাসূলুল্লাহুর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পক্ষ থেকে সংবাদ দিচ্ছি আর তুমি বলছো আল্লাহর কসম আমি তাদের বারণ করব।

عن عبد الله بن عمر رضي الله عنهما عَنِ النَّبيِّ - صلى الله عليه وسلم - قَالَ: «إذا اسْتَأذَنَت أَحَدَكُم امرَأَتُه إلى المسجِد فَلا يَمنَعهَا، قال: فقال بلال بن عبد الله: والله لَنَمنَعُهُنَّ، قال: فَأَقبَلَ عليه عبد الله، فَسَبَّهُ سَبًّا سَيِّئًا، ما سَمِعتُه سَبَّهُ مِثلَهُ قَطُّ، وقال: أُخبِرُك عن رسول الله صلى الله عليه وسلم وتقول: والله لَنَمنَعُهُنَّ؟». وفي لفظ: «لا تَمنَعُوا إِمَاء الله مسَاجِد الله...».
আব্দুল্লাহ ইবন উমার রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে মারফূ‘ হিসেবে বর্ণিত: “যখন কোন নারী মসজিদে যাওয়ার জন্য অনুমতি চায় তাকে যেন বাধা না দেয়। তিনি বলেন, এ কথা শোনে বিলাল ইবন আব্দুল্লাহ বলল, আল্লাহর কসম আমি তাদের বারণ করব। তিনি বলেন, তারপর আব্দুল্লাহ তার সামনে আসলেন এবং তাকে খুব খারাপ ভাষায় গালি দিলেন। আমি তাকে আর কখনো এ ধরনের গাল দিতে শুনিনি। তিনি বললেন, আমি তোমাকে রাসূলুল্লাহুর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পক্ষ থেকে সংবাদ দিচ্ছি আর তুমি বলছো আল্লাহর কসম আমি তাদের বারণ করব?” অপর শব্দে বর্ণিত: “তোমরা আল্লাহর বাঁদীদেরকে আল্লাহর মসজিদসমূহে গমনে বাঁধা দিবে না।”
উভয় বর্ণনা মুত্তাফাকুন আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।মানসহীহ
ব্যাখ্যা

ইবন উমার রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বর্ণনা করেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যখন কোন নারী তোমাদের নিকট মসজিদে যাওয়ার জন্য অনুমতি চায় তাকে যেন বাধা না দেয়। যাতে সে মসজিদে সালাত আদায়ের কারণে জামা‘আতের ফযীলত থেকে বঞ্চিত না হয়। এতে সালাত আদায়ের জন্য নারীদের মসজিদে যাওয়ার বিধানের আলোচনা করা হয়েছে। আর এটি বৈধ। এ হাদীসটি বলার সময় আব্দুল্লাহ ইবন উমারের ছেলেদের থেকে কোন একজন সেখানে উপস্থিত ছিল। সে দেখল যে, নারীগণ অধিক সাজ-সজ্জা অবলম্বন করার কারণে রাসূলের যুগের যামানাহ থেকে বর্তমান যামানার অবনতি হয়েছে। এটি তাকে নারীগণের সুরাক্ষার প্রতি উদ্বুদ্ধ করল। তাই শরীয়ত প্রণেতার ওপর আপত্তি করার ইচ্ছা ছাড়া সে বলল, আল্লাহর কসম আমি তাদের বারণ করব। তার কথা থেকে তার পিতা বুঝতে পারল যে, এভাবে প্রতিউত্তর করে সে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাতের ওপর আপত্তি তুলছে। তাই তার কথা তাকে আল্লাহর ও তার রাসূলের জন্য সংক্ষুব্ধ করে তুলল। তাই তিনি তাকে খুব খারাপ ভাষায় গালি দিলেন। আর বললেন, আমি তোমাকে রাসূলুল্লাহু সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পক্ষ থেকে সংবাদ দিচ্ছি আর তুমি বলছো আল্লাহর কসম আমি তাদের বারণ করব।?

সূত্র

تيسير العلام شرح عمدة الأحكام، للبسام، حققه وعلق عليه وخرج أحاديثه وصنع فهارسه: محمد صبحي بن حسن حلاق، ط10، مكتبة الصحابة، الإمارات - مكتبة التابعين، القاهرة، 1426هـ. تنبيه الأفهام شرح عمدة لأحكام، لابن عثيمين، ط1، مكتبة الصحابة، الإمارات، 1426هـ. عمدة الأحكام من كلام خير الأنام صلى الله عليه وسلم لعبد الغني المقدسي، دراسة وتحقيق: محمود الأرناؤوط، مراجعة وتقديم: عبد القادر الأرناؤوط، ط2، دار الثقافة العربية، دمشق، بيروت، مؤسسة قرطبة، 1408 هـ. صحيح البخاري، تحقيق: محمد زهير بن ناصر الناصر، ط1، دار طوق النجاة (مصورة عن السلطانية بإضافة ترقيم: محمد فؤاد عبد الباقي)، 1422هـ. صحيح مسلم، تحقيق: محمد فؤاد عبد الباقي، دار إحياء التراث العربي، بيروت، 1423هـ.

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

কোনো ব্যক্তির জামা‘আতের সাথে সলাতের সওয়াব, তার নিজের ঘরে ও বাজারে আদায়কৃত সালাতের সওয়াবের চেয়ে পঁচিশ গুণ বাড়িয়ে দেয়া হয়।

عن أبي هريرة رضي الله عنه مرفوعًا: «صلاة الرجل في جماعة تَضعُفُ على صلاته في بيته وفِي سُوقِه خمسا وعشرين ضِعفًا، وذلك: أَنَّه إِذَا تَوَضَّأ، فَأَحسَن الوُضُوء، ثمَّ خرج إلى المسجد لاَ يُخرِجُهُ إلاَّ الصلاة؛ لَم يَخْطُ خُطوَةً إِلاَّ رُفِعَت له بِها درجة، وَحُطَّ عَنهُ بها خطيئة، فإذا صلَّى لم تزل الملائكة تُصَلِّي عليه، ما دام في مُصَلاَّه: اللهُمَّ صَلِّ عليه، اللهم اغفِر له، اللهم ارْحَمه، ولا يزال في صلاة ما انتظر الصلاة».
আবূ হুরাইরাহ্ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে মারফু হিসেবে বর্ণিত, কোনো ব্যক্তির জামা‘আতের সাথে সলাতের সওয়াব, তার নিজের ঘরে ও বাজারে আদায়কৃত সালাতের সওয়াবের চেয়ে পঁচিশ গুণ বাড়িয়ে দেয়া হয়। এর কারণ এই যে, সে যখন উত্তমরূপে উযূ করলো, অতঃপর একমাত্র সালাতের উদ্দেশে মাসজিদে রওয়ানা করল তখন তার প্রতি কদমের বিনিময়ে একটি মর্তবা বৃদ্ধি করা হয় এবং একটি গুনাহ মাফ করা হয়। সালাত আদায়ের পর সে যতক্ষণ নিজ সালাতের স্থানে থাকে, মালাকগণ তার জন্য এ বলে দু‘আ করতে থাকেন - “হে আল্লাহ! আপনি তার উপর রহমত বর্ষণ করুন এবং তার প্রতি অনুগ্রহ করুন।” আর তোমাদের কেউ যতক্ষণ সালাতের অপেক্ষায় থাকে ততক্ষণ পর্যন্ত সে সালাতে রত বলে গণ্য হয়”।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।মানসহীহ
ব্যাখ্যা

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সংবাদ দেন যে, নিজ ঘরে বা বাজারে সালাত আদায় করা অপেক্ষা জামা‘আতে সালাত আদায় করার সাওয়াব ও বিনিময় অনেক বেশি। অর্থাৎ একা সালাত, যেমনটি বুঝে আসে তার বিপরীতে জামাতের সালাত উল্লেখ করায়। এ ছাড়াও সাধারণত ঘরে বা বাজারে সালাত আদায় একাই হয়ে থাকে। অধিকের পরিমাণ হলো পঁচিশ গুণ। আর তার বাণী: “এবং উহা” যদি উহা দ্বারা উদ্দেশ্য হয় একা সালাতের ওপর জামা‘আতে আদায় করা সালাতের ফযীলত, তাহলে তা মসজিদের জামা‘আতের সাথে খাস হওয়াকে দাবি করে। আর তার বাণী: ‘অবশ্যই তা’ বিষয়টি হলো যখন কোন ব্যক্তি ওযূ করে এবং ওযূকে সে সুন্দরভাবে করে। অর্থাৎ সুন্নাত ও আদাবসহ ওযূকে পূর্ণ করে। তারপর সে মসজিদের দিকে সালাতের উদ্দেশ্যে রওয়ানা করে। তাকে কেবল সালাতই বের করল। তবে যদি তাকে সালাত ছাড়া অন্য কিছু বের করল বা সালাতের সাথে অন্য কোন উদ্দেশ্য থাকে তাহলে আগত সাওয়াব সে পাবে না। তখন তার প্রতি কদমের বিনিময়ে একটি মর্তবা বৃদ্ধি করা হয় এবং একটি গুনাহ মাফ করা হয়। অর্থাৎ, ছোট গুনাহ যা আল্লাহর হকের সাথে সম্পৃক্ত। সালাত আদায়ের পর সে যতক্ষণ নিজ সালাতের স্থানে থাকে, মালাকগণ তার জন্য রহমাত ও মাগফিরাতের দু‘আ করতে থাকেন। অর্থাৎ যতক্ষণ তাতে বসে থাকে। অথবা এর অর্থ যতক্ষণ সেখানে অবস্থান করে যদিও কাত হয়। যতক্ষণ পর্যন্ত ওযূ না ভেঙ্গে যায় ততক্ষণ পর্যন্ত মালাকগণ বলে “হে আল্লাহ! আপনি তার উপর রহমত বর্ষণ করুন এবং তার প্রতি অনুগ্রহ করুন।” আর তোমাদের কেউ যতক্ষণ সালাতের অপেক্ষায় থাকে ততক্ষণ পর্যন্ত সে সালাতে রত বলে গণ্য হয়। অর্থাৎ, যত সময় তার অপেক্ষা করতে থাকে।

সূত্র

الإلمام بشرح عمدة الأحكام، إسماعيل بن محمد الأنصاري، دار الفكر، دمشق، الطبعة: الأولى، 1381هـ. تيسير العلام شرح عمدة الأحكام، عبد الله بن عبد الرحمن البسام، تحقيق: محمد صبحي حلاق، مكتبة الصحابة، الأمارات، مكتبة التابعين، القاهرة، الطبعة: العاشرة، 1426هـ. تنبيه الأفهام شرح عمدة الأحكام، محمد بن صالح العثيمين، مكتبة الصحابة، الإمارات، الطبعة: الأولى، 1426هـ. عمدة الأحكام من كلام خير الأنام -صلى الله عليه وسلم-، لعبد الغني المقدسي، دراسة وتحقيق: محمود الأرناؤوط، مراجعة وتقديم: عبد القادر الأرناؤوط، دار الثقافة العربية، دمشق، بيروت، مؤسسة قرطبة، الطبعة: الثانية، 1408هـ. صحيح البخاري، محمد بن إسماعيل البخاري الجعفي، تحقيق: محمد زهير الناصر، دار طوق النجاة (مصورة عن السلطانية بإضافة ترقيم: محمد فؤاد عبد الباقي)، الطبعة: الأولى، 1422هـ. صحيح مسلم، مسلم بن الحجاج القشيري النيسابوري، تحقيق محمد فؤاد عبد الباقي، دار إحياء التراث العربي، بيروت، الطبعة: 1423هـ.

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

একাকীর সালাত অপেক্ষা জামা‘আতের সালাত সাতাশ গুণ উত্তম।

عن عبد الله بن عمر رضي الله عنهما أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «صلاةُ الجَمَاعَة أَفضَلُ من صَلاَة الفَذِّ بِسَبعٍ وعِشرِين دَرَجَة».
আব্দুল্লাহ ইবনে উমার রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে মারফু হিসেবে বর্ণিত, “একাকীর সালাত অপেক্ষা জামা‘আতের সালাত সাতাশ গুণ উত্তম।”
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।মানসহীহ
ব্যাখ্যা

এ হাদীসটিতে একা সালাত আদায়ের ওপর জামা‘আতে সালাত আদায়ের ফযীলত বর্ণনা করা হয়েছে। কেননা, জামা‘আতের সালাত অনেক উপকারিতা ও মহান কল্যাণের কারণে একা সালাতের ওপর সাতাশ গুণ সাওয়াব বেশি রাখে। কারণ, উদ্দেশ্য হাসিল ও কল্যাণ সাধনে দুটি আমলের মাঝখানে রয়েছে বিশাল ব্যবধান। যে ব্যক্তি এত বড় লাভকে নষ্ট করবে সে অবশ্যই বঞ্চিত।

সূত্র

تيسير العلام شرح عمدة الأحكام، عبد الله بن عبد الرحمن البسام، تحقيق: محمد صبحي حلاق، مكتبة الصحابة، الإمارات، مكتبة التابعين، القاهرة، الطبعة: العاشرة، 1426هـ. تنبيه الأفهام شرح عمدة الأحكام، محمد بن صالح العثيمين، مكتبة الصحابة، الإمارات، الطبعة: الأولى، 1426هـ. عمدة الأحكام من كلام خير الأنام صلى الله عليه وسلم، لعبد الغني المقدسي، دراسة وتحقيق: محمود الأرناؤوط، مراجعة وتقديم: عبد القادر الأرناؤوط، دار الثقافة العربية، دمشق، بيروت، مؤسسة قرطبة، الطبعة: الثانية، 1408هـ. صحيح البخاري، محمد بن إسماعيل البخاري الجعفي، تحقيق: محمد زهير الناصر، دار طوق النجاة (مصورة عن السلطانية بإضافة ترقيم: محمد فؤاد عبد الباقي)، الطبعة: الأولى، 1422هـ. صحيح مسلم، مسلم بن الحجاج القشيري النيسابوري، تحقيق محمد فؤاد عبد الباقي، دار إحياء التراث العربي، بيروت، الطبعة: 1423هـ.

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

হে বনু সালেমা! তোমরা তোমাদের বাড়ীতেই থাক। কারণ, তোমাদের সালাতের জন্য মসজিদে আসার প্রতিটি পদক্ষেপ লিপিবদ্ধ করা হয়। তোমরা তোমাদের বাড়ীতেই থাক। কারণ তোমাদের সালাতের জন্য মসজিদে আসার প্রতিটি পদক্ষেপ লিপিবদ্ধ করা হয়।

عن جابر رضي الله عنه قال: أراد بنو سلمة أن ينتقلوا للسكن قرب المسجد فبلغ ذلك رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال لهم: «إنه قد بلغني أنكم تُريدون أن تنتقلوا قُرب المسجد؟» فقالوا: نعم، يا رسول الله قد أردنا ذلك، فقال: «بَنِي سَلِمَة، دِيارَكُم، تُكتب آثارُكُم، ديارَكُم تُكتب آثاركُم». وفي رواية: «إن بكلِّ خَطْوَة درجة».
জাবির রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে মারফু‘ সূত্রে বর্ণিত, (মসজিদে নববীর পাশে কিছু জায়গা খালি হলে) সালেমাহ গোত্র সেখানে এসে বসতি স্থাপন করতে মনস্থ করলো। বিষয়টি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে পৌঁছলে তিনি তাদের (সালামাহ গোত্রের লোকদের) উদ্দেশ্যে বললেন, আমি জানতে পেরেছি যে, তোমরা মসজিদের কাছে চলে আসতে চাও। তারা বললো, হে আল্লাহর রাসূল, আমরা তাই মনস্থ করেছি। একথা শুনে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “হে বনু সালেমাহ! তোমরা তোমাদের বাড়ীতেই থাক। কারণ, তোমাদের সালাতের জন্য মসজিদে আসার প্রতিটি পদক্ষেপ লিপিবদ্ধ করা হয়।তোমরা তোমাদের বাড়ীতেই থাক। কারণ, তোমাদের সালাতের জন্য মসজিদে আসার প্রতিটি পদক্ষেপ লিপিবদ্ধ করা হয়”। অন্য বর্ণনায় এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “মসজিদে আসার প্রতিটি পদক্ষেপে তোমাদের জন্য রয়েছে সাওয়াব।”
তার মতই এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন। - এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।মানসহীহ
ব্যাখ্যা

এ হাদীসের অর্থ: সালেমাহ গোত্র মসজিদে নববী থেকে দূরে অবস্থিত তাদের ঘর-বাড়ি থেকে কাছে চলে আসতে চাইল। কিন্তু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদীনাকে শূণ্য রেখে মসজিদে নববীর আশেপাশে সবার চলে আসা পছন্দ করলেন না; যেমনটি বুখারীর এক বর্ণনায় এসেছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে সেখানেই বসতি স্থাপনে উৎসাহিত করলেন যাতে বিস্তৃত বসতির কারণে মুনাফিক ও মুশরিকদের কাছে মুসলিমদের সংখ্যা অধিক মনে হয়। অতঃপর তিনি তাদেরকে জিজ্ঞাসা করলেন, আমি জানতে পেরেছি যে, তোমরা মসজিদের কাছে চলে আসতে চাও। তারা বলল, হে আল্লাহর রাসূল, আমরা তাই মনস্থ করেছি। একথা শুনে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “তোমরা তোমাদের বাড়ীতেই থাক। তোমাদের সালাতের জন্য মসজিদে আসার প্রতিটি পদক্ষেপ লিপিবদ্ধ করা হয়”। তিনি এ কথা দু’বার বলেছেন। তিনি তাদের সেখানে থাকার কারণ বর্ণনা করে বলেন, “সালাতের জন্য মসজিদে আসার প্রতিটি পদক্ষেপে তোমাদের জন্য সাওয়াব বা মর্যাদা রয়েছে। আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে মাওকূফ সূত্রে বর্ণিত, “তোমাদের মধ্যে সর্বাধিক সাওয়াবের অধিকারী তারা যাদের ঘর-বাড়ি মসজিদ থেকে সবচেয়ে বেশি দূরে। তাকে জিজ্ঞেস করা হলো, কেন? তিনি বললেন, অধিক পদক্ষেপের কারণে। মুয়াত্তা মালিক, হাদীস নং ৩৩। সুতরাং মসজিদ থেকে যার ঘর যত বেশি দূরে তার সাওয়াবও তত বেশি এবং গুনাহও ততবেশি মাফ হবে। ব্যক্তি এ মর্যাদার অধিকারী তখনই হবে যখন সে বাড়ি থেকে উত্তমরূপে অযু করে পায়ে হেঁটে মসজিদে যাবে। মসজিদের দূরত্ব অনুসারে তার পদক্ষেপ কম হোক বা বেশি হোক। তার প্রতিটি পদক্ষেপে দু’টি জিনিস লেখা হয়। তার মর্যাদা বৃদ্ধি পায় এবং তার গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়। রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের একজন সাহাবী থেকে মারফু‘ সূত্রে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, তোমাদের কেউ যখন ভালোভাবে অযু করে সালাতের জন্য রওনা হয়, তখন সে তার ডান পা উঠানোর সাথে সাথেই তার আমলনামায় একটি সাওয়াব লিপিবদ্ধ হয়। অতঃপর তার বাম পা ফেলার সাথে সাথেই তার একটি গুনাহ মার্জনা করা হয়। এখন যে ব্যক্তি ইচ্ছা করে, সে তার আবাসস্থান মসজিদের নিকটে রাখতে পারে অথবা দূরে করতে পারে। এটি আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন, হাদীস নং ৫৬৩। আলবানী রহ. হাদীসটিকে সহীহ আবু দাউদে (৩/৯৭) হাদীস নং (৫৭২) সহীহ বলেছেন। ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,“গত রাতে আমার সুমহান রব আমার কাছে সুন্দরতম রূপে এসেছিলেন। (বর্ণনাকারী বলেন, আমার মনে হয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘স্বপ্নে’ কথাটি উল্লেখ করেছিলেন।) তিনি বললেন: হে মুহাম্মাদ! আপনি কি জানেন, কী নিয়ে মালা’-এ-‘আলা তথা (ফিরিশতাদের) সর্বোচ্চ পরিষদে বিতর্ক হচ্ছে? আমি বললাম: হ্যাঁ, গুনাহের কাফফারা ও সাওয়াবের মর্যাদা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। তিনি বললেন: গুনাহের কাফফারা ও সাওয়াবের মর্যাদাটি কী? এরপর বললেন, তা হলো সালাতের পর মসজিদে অবস্থান করা, জামা‘আতে সালাতের উদ্দেশ্যে পাঁয়ে হেঁটে যাওয়া এবং কষ্টের সময় পরিপূর্ণভাবে অযু করা...। মুসনাদ আহমাদ, হাদীস নং (৩৪৮৪), আলবানী রহ. হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। সহীহ জামে‘উস সগীর ওয়াযিয়াদাতুহু (১/৭২)। সুতরাং উপরোক্ত হাদীস দ্বারা প্রমাণিত হয়ে যে, নিম্নোক্ত বিষয়গুলো পরিপূর্ণ হলে সাওয়াব অর্জিত হবে: ১- পবিত্র অবস্থায় মসজিদে গমন করা। ২- সাওয়াবের নিয়াত করা; কেননা হাদীসে রয়েছে, “প্রত্যেক কাজ নিয়তের ওপর নির্ভরশীল। আর মানুষ তার নিয়ত অনুযায়ী ফল পাবে”। মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (সহীহ বুখারী ও মুসলিম)। ৩- বাড়ি থেকে শুধু মসজিদের উদ্দেশ্যেই বের হতে হবে। ৪- পায়ে হেঁটে যেতে হবে। কোনো আরোহণে নয়, তবে ওযর থাকলে ভিন্ন কথা। তবে কারো ওযর থাকলে সে গাড়িতে চড়ে মসজিদে আসতে কোনো অসুবিধে নেই। গাড়ির চাকার প্রতিবার ঘুরার দ্বারা সে প্রতিটি পদক্ষেপের সাওয়াব পাবে। কেননা গাড়ির চাকা একবার ঘুরলে মাটিতে একবার পদক্ষেপ ফেলানোর মতো হিসেব হয়। অতঃএব কেউ অসুস্থ বা অক্ষম হলে গাড়ি বা অন্য কোনো যানবাহনে আসতে অসুবিধে নেই। এভাবে আসলেও পায়ে হেঁটে আসার সমপরিমাণ সাওয়াবের অধিকারী হবে।

সূত্র

كنوز رياض الصالحين، أ. د. حمد بن ناصر بن عبد الرحمن العمار، دار كنوز اشبيليا، الطبعة الأولى، 1430هـ. بهجة الناظرين، الشيخ: سليم بن عيد الهلالي، دار ابن الجوزي، الكتاب غير نازل في الشاملة وحملته من المكتبة الوقفية، ولم أجد بيانات غير ما ذكرنا. نزهة المتقين، د. مصطفى سعيد الخن، د. مصطفى البغا، محي الدين مستو، علي الشرجبي، محمد أمين لطفي، مؤسسة الرسالة، بيروت، الطبعة الأولى. 1397هـ - 1977م. شرح رياض الصالحين، الشيخ: محمد بن صالح العثيمين، مدار الوطن للنشر، طبع عام 1426هـ. رياض الصالحين، د. ماهر بن ياسين الفحل، الناشر: دار ابن كثير للطباعة والنشر والتوزيع، دمشق - بيروت، الطبعة: الأولى، 1428هـ - 2007م. صحيح البخاري، محمد بن اسماعيل البخاري، دار طوق النجاة، الطبعة الأولى، 1422هـ. صحيح مسلم، المؤلف: مسلم بن الحجاج أبو الحسن القشيري، المحقق: محمد فؤاد عبد الباقي، الناشر: دار إحياء التراث العربي - بيروت. شرح الزرقاني على موطأ الإمام مالك، المؤلف: محمد بن عبد الباقي بن يوسف الزرقاني، تحقيق: طه عبد الرءوف سعد، الناشر: مكتبة الثقافة الدينية - القاهرة، الطبعة: الأولى، 1424هـ - 2003م. موطأ الإمام مالك، المؤلف: مالك بن أنس بن مالك الأصبحي، صححه ورقمه وخرج أحاديثه وعلق عليه: محمد فؤاد عبد الباقي، الناشر: دار إحياء التراث العربي، بيروت - لبنان، عام النشر: 1406هـ - 1985م. سنن أبي داود، المؤلف: أبو داود سليمان بن الأشعث الأزدي، المحقق: محمد محيي الدين عبد الحميد، الناشر: المكتبة العصرية، صيدا - بيروت. صحيح أبي داود - الأم، المؤلف: محمد ناصر الدين الألباني، الناشر: مؤسسة غراس للنشر والتوزيع، الكويت، الطبعة الأولى، 1423هـ - 2002م. مسند الإمام أحمد بن حنبل، المؤلف: أبو عبد الله أحمد بن محمد بن حنبل الشيباني، المحقق: شعيب الأرناؤوط - عادل مرشد، وآخرون، إشراف: د عبد الله بن عبد المحسن التركي، الناشر: مؤسسة الرسالة، الطبعة الأولى، 1421هـ - 2001م.

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

“পরুষের জামা‘আতের সঙ্গে সালাত পড়ার নেকী, তার বাজারে ও বাড়িতে সালাত আদায়ের চেয়ে বিশেরও বেশি গুণ নেকী।

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «صَلَاةُ الرَّجُلِ فِي جَمَاعَةٍ تَزِيدُ عَلَى صَلَاتِهِ فِي بَيْتِهِ وَصَلَاتِهِ فِي سُوقِهِ بِضْعًا وَعِشْرِينَ دَرَجَةً، وَذَلِكَ أَنَّ أَحَدَهُمْ إِذَا تَوَضَّأَ فَأَحْسَنَ الْوُضُوءَ، ثُمَّ أَتَى الْمَسْجِدَ لَا يَنْهَزُهُ إِلَّا الصَّلَاةُ، لَا يُرِيدُ إِلَّا الصَّلَاةَ، فَلَمْ يَخْطُ خَطْوَةً إِلَّا رُفِعَ لَهُ بِهَا دَرَجَةٌ، وَحُطَّ عَنْهُ بِهَا خَطِيئَةٌ، حَتَّى يَدْخُلَ الْمَسْجِدَ، فَإِذَا دَخَلَ الْمَسْجِدَ كَانَ فِي الصَّلَاةِ مَا كَانَتِ الصَّلَاةُ هِيَ تَحْبِسُهُ، وَالْمَلَائِكَةُ يُصَلُّونَ عَلَى أَحَدِكُمْ مَا دَامَ فِي مَجْلِسِهِ الَّذِي صَلَّى فِيهِ، يَقُولُونَ: اللهُمَّ ارْحَمْهُ، اللهُمَّ اغْفِرْ لَهُ، اللهُمَّ تُبْ عَلَيْهِ، مَا لَمْ يُؤْذِ فِيهِ، مَا لَمْ يُحْدِثْ فِيهِ».
আবূ হুরাইরা রদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “পরুষের জামা‘আতের সঙ্গে সালাত পড়ার নেকী, তার বাজারে ও বাড়িতে সালাত আদায়ের চেয়ে বিশেরও বেশি গুণ নেকী। তার ধরন, যখন কোনো ব্যক্তি উত্তমরূপে অযু করে সালাত আদায়ের উদ্দেশ্যে মসজিদে আসে এবং সালাতই তাকে মসজিদে নিয়ে যায়, তখন তার মসজিদে প্রবেশ করা পর্যন্ত প্রত্যেক পদক্ষেপের বিনিময়ে একটি মর্যাদা উন্নত হয় ও একটি পাপ মোচন করা হয়। অতঃপর যখন সে মসজিদে প্রবেশ করে, যে পর্যন্ত সালাত তাকে (মসজিদে) আটকে রাখে, তখন পর্যন্ত সে যেন সালাতের মধ্যেই থাকে। আর ফিরিশতারা তোমাদের সেই ব্যক্তির জন্য সে পর্যন্ত রহমতের দো‘আ করতে থাকেন -যে পর্যন্ত সে ঐ স্থানে বসে থাকে, যে স্থানে সে সালাত আদায় করেছে। তারা বলেন, ‘হে আল্লাহ! এর প্রতি দয়া কর, হে আল্লাহ! একে ক্ষমা কর, হে আল্লাহ! এর তাওবাহ কবুল কর।’ (ফিরিশতাদের এই দো‘আ সে পর্যন্ত চলতে থাকে) যে পর্যন্ত সেখানে কাউকে সে কষ্ট না দেয়, যে পর্যন্ত সেখানে সে ওযু না ভাঙ্গে ।”
সহীহ বুখারী ও মুসলিমমানসহীহ
ব্যাখ্যা

এ হাদীসে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বর্ণনা করেছেন, যখন কোন মুসলিম জামা‘আতের সাথে সালাত আদায় করে, তখন তার সে সালাত তার ঘরে বা তার বাজারে বিশ বার সালাত আদায়ের চেয়ে উত্তম হয়। অতপর নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ ভাবে তার কারণ উল্লেখ করেন, যখন কোনো ব্যক্তি উত্তমরূপে অযু করে শুধু সালাত আদায়ের উদ্দেশ্যেই মসজিদে গমন করে, তখন তার মসজিদে প্রবেশ করা পর্যন্ত প্রত্যেক পদক্ষেপের বিনিময়ে একটি মর্যাদা উন্নত হয় ও একটি পাপ মোচন করা হয়। অতঃপর সে যখন মসজিদে প্রবেশ করে এবং সালাত শুরু হওয়া পর্যন্ত বসে অপেক্ষা করে, তখন সে সালাত আদায়েরই সাওয়াব এবং সালাতের জন্যে অপেক্ষার সাওয়াব পাবে। আর যেখানে সে সালাত আদায় করেছে সেখানে যতক্ষণ অপেক্ষা করে ততক্ষণ পর্যন্ত ফিরিশতারা তার জন্যে রহমতের দো‘আ করতে থাকেন এবং তারা বলেন: ‘হে আল্লাহ! একে ক্ষমা কর, হে আল্লাহ! এর প্রতি দয়া কর, হে আল্লাহ! এর তাওবাহ কবুল কর।’ ফিরিশতাদের এই দো‘আ সে পর্যন্ত চলতে থাকে, যে পর্যন্ত তার অযু নষ্ট হয় না অথবা এমন কাজ করে না যা মানুষ বা ফিরিশতাদেরকে কষ্ট দেয়।

শিক্ষা
  1. একাকী ব্যক্তির ঘরে বা বাজারে আদায়কৃত সালাত বিশুদ্ধ হবে; তবে ওযর ব্যতীত জামা‘আতে শরীক না হওয়ার কারণে গুনাহগার হবে।
  2. মসজিদের জামা‘আতে সালাত আদায় একাকী ব্যক্তির সালাত আদায়ের চেয়ে পঁচিশ বা ছাব্বিশ বা সাতাশ গুণ সাওয়াব বেশি।
  3. ফিরিশতাদের একটি কাজ হলো মুমিনদের জন্যে দু‘আ করা।
  4. অযুসহকারে মসজিদে গমন করার ফযীলত হাদীসে বর্ণিত হয়েছে।
সূত্র

صحيح البخاري (1/ 103) (477). صحيح مسلم (1/ 459) (649). نزهة المتقين شرح رياض الصالحين، مجموعة من الباحثين (1/ 26). كنوز رياض الصالحين، لمجموعة من الباحثين (1/ 178). شرح رياض الصالحين، لابن عثيمين (1/ 72). تطريز رياض الصالحين، لفيصل آل مبارك (ص15). بهجة الناظرين شرح رياض الصالحين، لسليم الهلالي (1/ 43). المعجم الوسيط (1/ 60).

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

“যে ব্যক্তি রসুন বা পিঁয়াজ খায় সে যেন আমাদের হতে দূরে থাকে অথবা বলেছেন, সে যেন আমাদের মাসজিদ হতে দূরে থাকে আর নিজ ঘরে বসে থাকে”

عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ رضي الله عنهما أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «مَنْ أَكَلَ ثُومًا أَوْ بَصَلًا، فَلْيَعْتَزِلْنَا -أَوْ قَالَ: فَلْيَعْتَزِلْ- مَسْجِدَنَا، وَلْيَقْعُدْ فِي بَيْتِهِ»، وَأَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أُتِيَ بِقِدْرٍ فِيهِ خَضِرَاتٌ مِنْ بُقُولٍ، فَوَجَدَ لَهَا رِيحًا، فَسَأَلَ فَأُخْبِرَ بِمَا فِيهَا مِنَ البُقُولِ، فَقَالَ قَرِّبُوهَا إِلَى بَعْضِ أَصْحَابِهِ كَانَ مَعَهُ، فَلَمَّا رَآهُ كَرِهَ أَكْلَهَا، قَالَ: «كُلْ فَإِنِّي أُنَاجِي مَنْ لاَ تُنَاجِي». ولِمُسْلِمٍ عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «مَنْ أَكَلَ مِنْ هَذِهِ الْبَقْلَةِ، الثُّومِ - وقَالَ مَرَّةً: مَنْ أَكَلَ الْبَصَلَ وَالثُّومَ وَالْكُرَّاثَ فَلَا يَقْرَبَنَّ مَسْجِدَنَا، فَإِنَّ الْمَلَائِكَةَ تَتَأَذَّى مِمَّا يَتَأَذَّى مِنْهُ بَنُو آدَمَ».
জাবির ইবনু আব্দিল্লাহ রদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “যে ব্যক্তি রসুন বা পিঁয়াজ খায় সে যেন আমাদের হতে দূরে থাকে অথবা বলেছেন, সে যেন আমাদের মাসজিদ হতে দূরে থাকে আর নিজ ঘরে বসে থাকে”। (উক্ত সানাদে আরো বর্ণিত আছে যে,) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট একটি পাত্র যার মধ্যে শাক-সবজি ছিল আনা হলো। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর গন্ধ পেলেন এবং এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলেন, তখন তাঁকে সে পাত্রে রক্ষিত শাক-সবজি সম্পর্কে জানানো হলো, তখন একজন সাহাবী [আবূ আইয়ুব]-কে উদ্দেশ্য করে বললেন, তাঁর নিকট এগুলো পৌঁছে দাও। কিন্তু তিনি তা খেতে অপছন্দ করলেন, এ দেখে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি খাও। আমি যাঁর সাথে গোপনে আলাপ করি তাঁর সাথে তুমি আলাপ কর না (ফেরেশ্তাদের সাথে আমার আলাপ হয়, তাঁরা দুর্গন্ধকে অপছন্দ করেন)। আর মুসলিমের বর্ণনায় জাবির ইবনু আবদুল্লাহ থেকে বর্ণিত; রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “যে এ রসুন জাতীয় উদ্ভিদ খাবে- আবার কখনো বলেছেনঃ যে ব্যক্তি পিয়াজ, রসুন বা রসুন জাতীয় এমন কিছু খাবে সে যেন আমার মসজিদের কাছেও না আসে। কেননা মানুষ যেসব জিনিস দ্বারা কষ্ট পায় ফেরেশ্তাগণও সেসব জিনিস দ্বারা কষ্ট পায়”।
সহীহ বুখারী ও মুসলিমমানসহীহ
ব্যাখ্যা

নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে কেউ রসুন বা পেঁয়াজ খেয়েছে তাকে মসজিদে আসতে নিষেধ করেছেন, যাতে তার ভাইদের থেকে যারা জামাতের সালাতে উপস্থিত হয় তারা তার গন্ধে কষ্ট না পায়। এটি খাবার থেকে নিষেধ করা নয়, বরং মসজিদে আসতে অপছন্দ করা মাত্র। কারণ এ দু’টি শষ্য খাওয়া বৈধ। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট একটি পাত্র আনা হল যার মধ্যে শাক-সবজি ছিল, যখন তিনি তার গন্ধ পেলেন এবং তাকে তার সবজি সম্পর্কে সংবাদ দেওয়া হল তিনি তা খাওয়া থেকে বিরত থাকলেন এবং তা তার কিছু সাহাবীর নিকট করে দিলেন, যেন সে তা খায়; কিন্তু সেও তাঁর অনুসরণ করে খাওয়া অপছন্দ করলেন, তখন তিনি বললেন: খাও; কারণ, আমি ওহীর সময় ফেরেশ্তাদের সাথে গোপনে কথা বলি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ফেরেশ্তাগণ অপ্রীতিকর গন্ধ দ্বারা কষ্ট পায়, যেমন মানুষ তার দ্বারা কষ্ট পায়।

শিক্ষা
  1. যে কেউ রসুন, পেঁয়াজ বা রসুন জাতীয় এমন কিছু খেল তার জন্য মসজিদে প্রবেশ করা নিষেধ।
  2. এই জিনিসগুলির সাথে প্রত্যেক অপ্রীতিকর গন্ধ যুক্ত হবে যার থেকে মুসল্লিগণ কষ্ট পায়, যেমন ধুমপান, তামাক এবং এর মতো গন্ধ।
  3. নিষেধের কারণ হল গন্ধ, যদি তা দীর্ঘ রান্নার মাধ্যমে বা অন্য উপায়ে দূর হয়ে যায়; মসজিদে আসার নিষেধাজ্ঞাও চলে যাবে।
  4. যার জন্য মসজিদে সালাতের জামাতে উপস্থিত হওয়া জরুরি তার এসব খাওয়া অপছন্দনীয়; যাতে তিনি মসজিদে জামাত মিস না করেন, আর মসজিদে উপস্থিতি হওয়া রোধ করার জন্য তা খেলে হারাম হবে।
  5. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রসুন এবং এ জাতীয় খাবার খাওয়া থেকে বিরত ছিলেন তা হারাম হওয়ার কারণে নয়, বরং জিব্রাইল আলাইহিস সালামের সাথে কথোপকথনের কারণে।
  6. নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের শিক্ষার সৌন্দর্য যে, তিনি বিধানের সাথে তার কারণও বর্ণনা করেছেন; যাতে শ্রোতা বিধান জেনে প্রশান্ত হয়।
  7. কাজী বলেছেন: আলেমগণ এটির উপর মসজিদ ব্যতীত সালাতের অন্যান্য জামাত যেমন ঈদ ও জানাজার সালাত এবং অনুরূপ ইবাদতের জামাতগুলোকে তুলনা করেছেন, সেই সাথে ইলম, যিকির ও অলীমা প্রভৃতির মজলিস যুক্ত হবে, তবে তার সাথে বাজার এবং তার মত মজলিস যুক্ত হবে না।
  8. আলেমগণ বলেছেন: এই হাদীসটি প্রমাণ করে যে, রসুন ও এই জাতীয় খাবার খাওয়া মসজিদে প্রবেশ করার প্রতিবন্ধক- যদিও মসজিদ খালি হয়- কারণ এটি ফেরেশ্তাদের স্থান এবং হাদীসগুলো ব্যাপক।
সূত্র

صحيح البخاري (1/ 170) (855). صحيح مسلم (1/ 394) (564)، (1/ 395) (564). تيسير العلام شرح عمدة الأحكام، للبسام (ص204). تنبيه الأفهام شرح عمدة الأحكام، لابن عثيمين (2/ 260). تاج العروس من جواهر القاموس، للزَّبيدي (5/ 332).

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

যে ব্যক্তি সকাল অথবা সন্ধ্যায় মসজিদে গমন করে, আল্লাহ তার জন্য আপ্যায়নস্থল জান্নাতে প্রস্তুত করেন। সে যতবার সকাল অথবা সন্ধ্যায় গমনাগমন করে।

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ غَدَا إِلَى الْمَسْجِدِ أَوْ رَاحَ أَعَدَّ اللهُ لَهُ فِي الْجَنَّةِ نُزُلًا، كُلَّمَا غَدَا أَوْ رَاحَ».
আবূ হুরাইরাহ্ রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: যে ব্যক্তি সকাল অথবা সন্ধ্যায় মসজিদে গমন করে, আল্লাহ তার জন্য আপ্যায়নস্থল জান্নাতে প্রস্তুত করেন। সে যতবার সকাল অথবা সন্ধ্যায় গমনাগমন করে।
সহীহ বুখারী ও মুসলিমমানসহীহ
ব্যাখ্যা

নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে কেউ ইবাদত, ইলম বা অন্যান্য ভাল উদ্দেশ্যে যে কোন সময় দিনের শুরুতে বা শেষে মসজিদে আসেন তাকে সুসংবাদ দিয়েছেন যে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতে একটি জায়গা এবং আতিথেয়তা প্রস্তুত করেছেন, যখনই তিনি দিন বা রাতে মসজিদে আসেন।

শিক্ষা
  1. মসজিদে যাওয়ার ফযীলত এবং সেখানে জামাতে সালাত আদায় করার প্রতি উৎসাহ রয়েছে।যে মসজিদ থেকে পশ্চাৎপদ ব্যক্তি কতটা কল্যাণ, ফযীলত, সাওয়াব এবং আতিথেয়তা থেকে বঞ্চিত হয়। যা আল্লাহ তা‘আলা যারা তার ঘরে যান তাদের জন্য প্রস্তুত করে রেখে দিয়েছেন।
  2. মানুষ যদি তাদের বাড়িতে যারা আসে তাদের সম্মান করেন এবং তাদের খাবার দেন , তবে মহান ও পরম আল্লাহ তাঁর সৃষ্টির চেয়েও বেশী মেহমানদার উদার! যে তার ঘরে যাবে, তিনি তাকে সম্মান করবেন এবং আল্লাহ তার জন্য একটি বড় ও মহান আতিথেয়তা প্রস্তুত করবেন।
  3. মসজিদে যাওয়ার আনন্দ ও উল্লাস; কারণ তার যাওয়ার সংখ্যার উপর নির্ভর করে প্রতিদিন সকালে বা সন্ধ্যায় তার জন্য একটি আতিথেয়তা প্রস্তুত করা হয়।
সূত্র

صحيح البخاري (1/ 133) (662). صحيح مسلم (1/ 463) (669). نزهة المتقين شرح رياض الصالحين، لمجموعة من الباحثين (1/ 153). شرح رياض الصالحين، لابن عثيمين (2/ 166). بهجة الناظرين شرح رياض الصالحين، لسليم الهلالي (1/ 204).

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস
১৬টির মধ্যে ৮
১৬টি হাদীস
  1. তোমরা তোমাদের পরবিারের কাছে ফিরে যাও এবং তাদের মাঝেই বসবাস কর । তাদেরকে শিক্ষা দান কর এবং তাদেরকে (ভাল কাজের) আদেশ দাও। অমুক সালাত অমুক সময়ে পড়। অমুক সালাত অমুক সময়ে পড়। সুতরাং যখন সালাতের সময় হবে তখন তোমাদের মধ্যে কেউ একজন আযান দিবে এবং তোমাদের মধ্যে যে বড় সে ইমামতি করবে।
  2. যখন কোন নারী মসজিদে যাওয়ার জন্য অনুমতি চায় তাকে যেন বাধা না দেয়। তিনি বলেন, এ কথা শোনে বিলাল ইবন আব্দুল্লাহ বলল, আল্লাহর কসম আমি তাদের বারণ করব। তিনি বলেন, তারপর আব্দুল্লাহ তার সামনে আসলেন এবং তাকে খুব খারাপ ভাষায় গালি দিলেন। আমি তাকে আর কখনো এ ধরনের গাল দিতে শুনিনি। তিনি বললেন, আমি তোমাকে রাসূলুল্লাহুর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পক্ষ থেকে সংবাদ দিচ্ছি আর তুমি বলছো আল্লাহর কসম আমি তাদের বারণ করব।
  3. কোনো ব্যক্তির জামা‘আতের সাথে সলাতের সওয়াব, তার নিজের ঘরে ও বাজারে আদায়কৃত সালাতের সওয়াবের চেয়ে পঁচিশ গুণ বাড়িয়ে দেয়া হয়।
  4. একাকীর সালাত অপেক্ষা জামা‘আতের সালাত সাতাশ গুণ উত্তম।
  5. হে বনু সালেমা! তোমরা তোমাদের বাড়ীতেই থাক। কারণ, তোমাদের সালাতের জন্য মসজিদে আসার প্রতিটি পদক্ষেপ লিপিবদ্ধ করা হয়। তোমরা তোমাদের বাড়ীতেই থাক। কারণ তোমাদের সালাতের জন্য মসজিদে আসার প্রতিটি পদক্ষেপ লিপিবদ্ধ করা হয়।
  6. “পরুষের জামা‘আতের সঙ্গে সালাত পড়ার নেকী, তার বাজারে ও বাড়িতে সালাত আদায়ের চেয়ে বিশেরও বেশি গুণ নেকী।
  7. “যে ব্যক্তি রসুন বা পিঁয়াজ খায় সে যেন আমাদের হতে দূরে থাকে অথবা বলেছেন, সে যেন আমাদের মাসজিদ হতে দূরে থাকে আর নিজ ঘরে বসে থাকে”
  8. যে ব্যক্তি সকাল অথবা সন্ধ্যায় মসজিদে গমন করে, আল্লাহ তার জন্য আপ্যায়নস্থল জান্নাতে প্রস্তুত করেন। সে যতবার সকাল অথবা সন্ধ্যায় গমনাগমন করে।
  9. হে লোক সকল! তোমরা দুই শ্রেণির এমন গাছ (সবজি) খেয়ে থাক; যা আমি (কাঁচা অবস্থায় খাওয়া) অনুপযুক্ত মনে করি; পিঁয়াজ ও রসুন।
  10. তোমাদের একজনের একাকী সালাতের চেয়ে জামাতের সালাত পঁচিশ গুণ উত্তম। আর রাতের ফেরেশতা এবং দিনের ফেরেশতারা ফজরের সালাতে একত্রিত হন।
  11. তুমি কি সালাতের আযান শুনতে পাও?” তিনি বললেন, হ্যাঁ। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “তবে তুমি (জামা’আতে) উপস্থিত হবে।”
  12. যে ব্যক্তি আযান শুনলো এবং তার কোন ওযর না থাকা সত্ত্বওে জামাআতে উপস্থতি হলো না, তার সালাত নাই।
  13. “পুরুষদের জন্য প্রথম লাইন উত্তম এবং শেষের লাইন মন্দ। মহিলাদের জন্য শেষের লাইন উত্তম এবং প্রথম লাইন মন্দ”।
  14. “এ দুটি সালাত মুনাফিকদের ওপর অন্যান্য সালাতের তুলনায় কঠিন। যদি তোমরা জানতে তাতে কত ফযীলত রয়েছে তাহলে তোমরা হাঁটুর ওপর হামাগুড়ি দিয়ে হলেও তাতে উপস্থিত হবে
  15. “তোমরা সর্বাগ্রে প্রথম কাতার পূর্ণ করবে, তারপর তার পরবর্তী কাতার পূর্ণ করবে। এরপর কোন কাতার অসম্পূর্ণ থাকলে তা যেন শেষ কাতারে হয়”।
  16. “ফরয সালাতের ইকামাত দেয়া হলে তখন উক্ত ফরয ব্যতীত অন্য কোন সালাত আদায় করা যাবে না”।

এখানকার প্রতিটি হাদীস, মান, ব্যাখ্যা ও শিক্ষা HadeethEnc.com যেভাবে প্রকাশ করে হুবহু সেভাবেই দেখানো, তাদের পুনঃপ্রকাশের শর্ত মেনে। মানের সঙ্গে মান-নির্ধারকের নাম নেই। অনুবাদ ও ব্যাখ্যা এর লেখকদের নিজস্ব, এবং কোনো কোনোটিতে বিধান বলা আছে; সাবীলের পর্যালোচকেরা এগুলো যাচাই করেননি। আরবি হাদীসটিই মূল পাঠ। উৎস: HadeethEnc.com