মূল অংশে যান
ব্যাখ্যাসহ হাদীস

মুসল্লিদের বিবিধ ভুল

১১টি হাদীস

“খাবারের উপস্থিতিতে ও দু’টি খারাপ বস্তু আটকে রেখে কোনো সালাত নেই।”

عن عَائِشَةَ رضيَ الله عنها قالت: إِنِّي سمعْتُ رسولَ الله صلى الله عليه وسلم يقول: «لَا صَلَاةَ بِحَضْرَةِ الطَّعَامِ، وَلَا هُوَ يُدَافِعُهُ الْأَخْبَثَانِ».
‘আয়িশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: “খাবারের উপস্থিতিতে ও দু’টি খারাপ বস্তু আটকে রেখে কোনো সালাত নেই।”
ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেনমানসহীহ
ব্যাখ্যা

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খাবারের উপস্থিতিতে সালাত আদায় করা থেকে নিষেধ করেছেন, যা মুসল্লির নফস কামনা করে এবং যার সাথে তার অন্তর সংযুক্ত থাকে। অনুরূপভাবে তিনি দু’টি খারাপ বস্তু—পেশাব ও পায়খানা—আটকে রেখে সালাত আদায় করতে নিষেধ করেছেন, কারণ সে তা আটকে রাখতে ব্যস্ত থাকবে।

শিক্ষা
  1. মুসল্লির জন্য উচিত হলো সালাতে প্রবেশ করার আগেই যা কিছু তাকে সালাত থেকে অমনোযোগী করবে তা সব দূরে সরিয়ে রাখা।
সূত্র

صحيح مسلم (1/ 393) (560). شرح النووي على مسلم (5/ 46). تيسير العلام شرح عمدة الأحكام، للبسام (ص96). تنبيه الأفهام شرح عمدة الأحكام، لابن عثيمين (1/ 123).

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

এই সালাত এমন তাতে লোকেদের কোনো কথা যথাযথ নয়। (এতে যা বলতে হয়,) তা হল তাসবীহ, তাকবীর ও কুরআন পাঠ।”

عن معاوية بن الحَكم السُّلَمي رضي الله عنه قال: بَيْنَا أنا أُصلِّي مع رسول الله صلى الله عليه وسلم ، إذ عَطَس رجُل من القوم، فقلت: يَرْحَمُكَ الله، فَرَمَانِي القوم بأبْصَارهم، فقلت: وَاثُكْلَ أُمِّيَاهْ، ما شَأنُكُم تنظرون إليَّ؟، فجعلوا يضربون بأيْدِيهم على أفْخَاذِهم، فلما رأيتهم يُصَمِّتُونَنِي لكنِّي سَكَتُّ، فلما صلَّى رسول الله صلى الله عليه وسلم ، فَبِأَبِي هو وأمِّي، ما رأيت معَلِّما قَبْلَه ولا بَعده أحْسَن تَعليما منه، فوالله، ما كَهَرَنِي وَلَا ضَرَبني وَلَا شَتَمَنِي، قال: «إن هذه الصلاة لا يَصلح فيها شيء من كلام الناس، إنما هو التَّسبيح والتَّكبير وقراءة القرآن»، أو كما قال رسول الله صلى الله عليه وسلم قلت: يا رسول الله، إنِّي حديث عَهد بِجَاهلية، وقد جاء الله بالإسلام، وإن مِنَّا رجَالا يَأتون الكُهَّان، قال: «فلا تَأْتِهِم» قال: ومِنَّا رجَال يَتَطَيَّرُونَ، قال: ذَاك شَيء يَجِدونه في صُدورهم، فلا يَصُدَّنَّهُمْ -قال ابن الصَّبَّاحِ: فلا يَصُدَّنَّكُم- قال قلت: ومِنَّا رجال يَخُطُّونَ، قال: «كان نَبِي من الأنبياء يَخُطُّ، فمن وافق خَطَه فَذَاك»، قال: وكانت لي جَارية تَرعى غَنَما لي قِبَل أُحُدٍ والْجَوَّانِيَّةِ، فَاطَّلَعْتُ ذات يوم فإذا الذِّيب قد ذهب بِشَاة من غَنَمِهَا، وأنا رجُلٌ من بَني آدم، آسَف كما يَأْسَفُونَ؛ لكني صَكَكْتُهَا صَكَّة، فَأَتَيْت رسول الله صلى الله عليه وسلم فَعظَّم ذلك عليَّ، قلت: يا رسول الله أفلا أُعْتِقُهَا؟ قال: «ائْتِنِي بها»، فَأَتَيْتُهُ بها، فقال لها: «أَيْن الله؟» قالت: في السَّماء، قال: «من أنا؟»، قالت: أنت رسول الله، قال: «أَعْتِقْهَا، فَإِنها مُؤْمِنَةٌ».
মুআবিয়া ইবনে হাকাম সুলামী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি (একবার) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে সালাত আদায় করছিলাম। ইত্যবসরে হঠাৎ একজন মুক্তাদীর ছিঁক (হাঁচি) হলে আমি (তার জবাবে) ‘য়্যারহামুকাল্লাহ’ (আল্লাহ তোমাকে রহম করুন) বললাম। তখন অন্য মুক্তাদীরা আমার দিকে দৃষ্টি নিক্ষেপ করতে লাগল। আমি বললাম, ‘হায়! হায়! আমার মা আমাকে হারিয়ে ফেলুক! তোমাদের কী হয়েছে যে, তোমরা আমার দিকে তাকিয়ে দেখছো?’ (এ কথা শুনে) তারা তাদের নিজ নিজ হাত দিয়ে নিজ নিজ উরুতে আঘাত করতে লাগল। তাদেরকে যখন দেখলাম যে, তারা আমাকে চুপ করাতে চাচ্ছে; তাই আমি চুপ হয়ে গেলাম। অতঃপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসল্লাম যখন সালাত সমাপ্ত করলেন---আমার পিতা-মাতা তাঁর জন্য কুরবান হোক, আমি তাঁর চেয়ে উত্তম শিক্ষাদাতা না আগে দেখেছি আর না এর পরে। আল্লাহর শপথ! তিনি না আমাকে তিরস্কার করলেন, আর না আমাকে মারধর করলেন, আর না আমাকে গালি দিলেন —তখন তিনি বললেন, “এই সালাতে লোকেদের কোন কথা বলা বৈধ নয়। (এতে যা বলতে হয়,) তা হল তাসবীহ, তাকবীর ও কুরআন পাঠ।” অথবা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই ধরনের কোন কথা বললেন। আমি বললাম, ‘ইয়া রালুলুল্লাহ! আমি জাহেলিয়াতের লাগোয়া সময়ের (নও মুসলিম)। আল্লাহ ইসলাম আনয়ন করেছেন। আমাদের মধ্যে কিছু লোক গণকের কাছে (অদৃষ্ট ও ভবিষ্যৎ জানতে) যায়।’ তিনি বললেন, “তুমি তাদের কাছে যাবে না।” আমি বললাম, ‘আমাদের মধ্যে কিছু লোক অশুভ লক্ষণ গ্রহণ ক’রে থাকে।’ তিনি বললেন, “এটা এমন একটি অনুভূতি যা লোকে তাদের অন্তরে উপলব্ধি ক’রে থাকে। সুতরাং এই অনুভূতি তাদেরকে যেন (বাঞ্ছিত কর্ম সম্পাদনে) বাধা না দেয়।” ইবন সাব্বাহ বলেন: “তোমাদেরকে যেন বাঁধা না দেয়”। আমি বললাম আমাদের মধ্যে কিছু লোক দাগ টানে। তিনি বললেন, প্রচীন যুগে একজন নবী ছিলেন, তিনি দাগ টানতেন। সুতরাং যার দাগ টানা সে নবীর দাগ টানার পদ্ধতিরি সাথে মিলবে তার দাগ টানা শুদ্ধ হবে। তিনি বললেন, আমার একজন বাঁদী ছিল, উহুদ পাহাড় ও জাওয়ানিয়ার কাছে ছাগল চরাতো। একদিন আমি জানতে পারলাম যে, নেঁকড়ে আমার ছাগলগুলো থেকে একটি ছাগল নিয়ে গেছে। আমি একজন আদম সন্তান তারা যেমন কষ্ট পায় আমিও কষ্ট পেয়েছি। কিন্তু আমি তাকে একটি চড় মারলাম। তারপর রাসূলুল্লাহর নিকট এসে বিষয়টি তাকে জানালে বিষয়টি আমার কাছে বড় মনে হলো। আমি বললাম হে আল্লাহর রাসূল আমি কি তাকে আযাদ করে দেব না? তিনি বললেন, তুমি তাকে আমার কাছে নিয়ে আসো। আমি তাকে তার কাছে নিয়ে আসলাম। তিনি তাকে বললেন, আল্লাহ কোথায়? সে বলল, আকাশে। আবার বললেন, আমি কে? সে বলল, আপনি আল্লাহর রাসূল। বলল, তাকে তুমি আযাদ করে দাও কারণ, সে মু’মিন।
এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।মানসহীহ
ব্যাখ্যা

মুআবিয়া ইবনে হাকাম সুলামী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে কোনো এক জামাতের সালাতের সংঘটিত বিষয় সম্পর্কে সংবাদ দেন। তিনি একজন মুক্তাদীকে (হাঁচি দিয়ে আলহামদু লিল্লাহ বলতে শুনেছেন। তার জবাবে তিনি হাড়াহুড়া করে নিয়ম অনুযায়ী ‘য়্যারহামুকাল্লাহ’ (আল্লাহ তোমাকে রহম করুন) বললেন। কারণ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যখন তোমাদরে কেউ হাঁচি দেয় সে যেন আলহামদু লিল্লাহ বলে। তারপর তার ভাই বা সাথী যেন বলে, ইয়ার হামুকাল্লাহ। কিন্তু তিনি জানতেন না যে, হাঁচির উত্তর দেওয়া মুস্তাহাব হওয়া সালাতের বাইরে। তখন অন্য মুক্তাদীরা আমার দিকে দৃষ্টি নিক্ষেপ করতে লাগল। অর্থাৎ, কোন কথা-বার্তা ছাড়া তার দিকে চোখ দিয়ে ইশারা করা আরম্ভ করল এবং তার দিকে ধমকের দৃষ্টিতে দৃষ্টি দিতে লাগল। কিন্তু তিনি তাদের হুমকির কোন কারণ বুঝতে পারলেন না। তাই তিনি তাদের এ বলা ছাড়া আর কোন পথ দেখলেন না। তিনি বললেন, ‘হায়! হায়! আমার মা আমাকে হারিয়ে ফেলুক! কারণ, আমি ধ্বংস হয়ে গেছি। তোমাদের কী হয়েছে? অর্থাৎ তোমাদের কি অবস্থা? তোমরা কেন আমার দিকে তাকিয়ে দেখছো?’ অর্থাৎ তোমরা কেন আমার দিকে ক্ষুব্ধ হয়ে তাকাচ্ছ? (এ কথা শুনে) তারা তাদের নিজ নিজ হাত দিয়ে নিজ নিজ উরুতে আঘাত করতে লাগল। অর্থাৎ তারা তাদের হাতগুলো উরুতে মেরে তাকে কথা না বলতে আরও বেশি বারণ করতে লাগল। তখন সে বুঝতে পারল যে, তারা তাকে চুপ করাতে চাচ্ছে এবং কথা বলা থেকে বিরত রাখতে চাচ্ছে, ফলে আমি চুপ হয়ে গেলাম। আমি তাদেরকে যখন দেখলাম যে, তারা আমাকে চুপ করাতে চাচ্ছে (তখন তো আমার অত্যন্ত রাগ হয়েছিল); কিন্তু আমি চুপ হয়ে গেলাম। অর্থাৎ, যখন আমি বুঝতে পারলাম যে, তারা আমাকে কথা না বলার নির্দেশ দিচ্ছেন তখন আমি যা করেছি তার খারাবী না জানার কারণে ও তাদের কঠোরভাবে বাঁধা প্রদানে আশ্চর্য হলাম এবং আমি চাইলাম তাদের সাথে বিতর্ক করি। কিন্তু আমি তাদের সম্মানে চুপ হয়ে গেলাম। কারণ, তারা আমার চেয়ে জ্ঞানী। ফলে আমি আমার ক্ষোভ অনুযায়ী আমল করলাম না এবং কারণ সম্পকেও জিজ্ঞাসা করলাম না। অতঃপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসল্লাম যখন সালাত সমাপ্ত করলেন অর্থাৎ সালাত থেকে অবসর হলেন এবং সালাত শেষ করলেন।--আমার পিতা-মাতা তাঁর জন্য কুরবান হোক। আমার মাতা-পিতা কুরবান হোক এটি শপথ নয়, এটি শুধু মাতা-পিতার দ্বারা উৎসর্গিত হওয়া। আমি তাঁর চেয়ে উত্তম শিক্ষাদাতা না আগে দেখেছি আর না এর পরে। কারণ, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে ধমক দেননি এবং মন্দ বলেননি। বরং তিনি তাকে শরী‘আতের বিধান এমনভাবে বলেন, যা বিশ্বাসযোগ্য ও গ্রহণযোগ্য হয়। আল্লাহর শপথ! তিনি না আমাকে তিরস্কার করলেন। অর্থাৎ, কোন কটু বাক্য বলেননি। আর না আমাকে মারধর করলেন। আমি যে মুখালাফাত করেছি তার ওপর মারধর করে আমাকে আদব শিক্ষা দেননি। আর না আমাকে গালি দিলেন” অর্থাৎ, কথা দ্বারা আমার ওপর কোন কঠোরতা করেননি। বরং তিনি আমার জন্য শরী‘আতের বিধান নম্রভাবে বর্ণনা করেন। তখন তিনি বললেন, “এই সালাতে লোকেদের কোন কথা বলা বৈধ নয়। (এতে যা বলতে হয়,) তা হল তাসবীহ, তাকবীর ও কুরআন পাঠ।” অর্থাৎ, সালাতে মানুষের কথার মতো কথা বলা যাবে না যা পরস্পরের মাঝে সম্বোধক বাচক হয়। ইসলামে প্রথম যুগে এর অবকাশ ছিল তারপর তা রহিত হয়ে গেছে। এখন সালাতে আছে শুধু তাসবীহ, তাকবীর ও কুরআনের তিলাওয়াত। আমি বললাম, ‘ইয়া রালুলুল্লাহ! আমি জাহেলিয়াতের লাগোয়া সময়ের (নও মুসলিম)। অর্থাৎ জাহিলিয়্যাতের যুগের কাছাকাছি। শরী‘আত অবতীর্ণের পূর্বের যুগকে জাহিলিয়্যাতের যুগ বলে। তারা জাহিলিয়্যাত বলে নাম রেখেছেন তাদের অজ্ঞতা, মুর্খতা ও অশ্লিলতা বেশি হওয়ার কারণে। “আল্লাহ ইসলাম আনয়ন করেছেন।” অর্থাৎ, কুফর থেকে ইসলামে পত্যাবর্তন করি। আমি দীনের বিধান কি জানি না। আমাদের মধ্যে কিছু লোক গণকের কাছে (অদৃষ্ট ও ভবিষ্যৎ জানতে) যায়।’ অর্থাৎ, তার সাথীদের মধ্যে কতক গণকের কাছে যায় এবং তাদের কাছে ভবিষ্যতে সংঘটিত হবে এমন গাইবী বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। তিনি বললেন, “তুমি তাদের কাছে যাবে না।” গণকের কাছে যেতে নিষেধ করেছেন কারণ, তারা অদৃশ্য বিষয় সম্পর্কে কথা বলে যাতে কতক কথা সঠিক হয়, ফলে তার কারণে মানুষের মধ্যে ফিতনার আশঙ্কা থাকে। কারণ, তারা শরী‘আতের অনেক বিষয়কে মানুষের জন্য এলোমেলো করে দেয়। গণকের কাছে যাওয়া, তারা যা বলে তা বিশ্বাস করা এবং তাদের যে বিনিময় দেওয়া হয় তা নিষিদ্ধ হওয়া সম্পর্কে একাধিক স্পষ্ট বিশুদ্ধ হদীস রয়েছে। সে বলল, ‘আমাদের মধ্যে কিছু লোক অশুভ লক্ষণ গ্রহণ ক’রে থাকে।’ অশুভ লক্ষণ গ্রহণ দেখা, শোনা, স্থান বা সময় দ্বারা হয়ে থাকে। আরবরা অশুভ লক্ষণে বিশ্বাস করার ক্ষেত্রে ছিল প্রসিদ্ধ। ফলে তাদের কেউ যখন ভালো কাজ করার ইচ্ছা করত অতঃপর যখন দেখতো পাখি তাদের রীতি অনুযায়ী ডানে বা বামে গেছে তখন তুমি তাকে দেখবে সে তার ইচ্ছা থেকে ফিরে গেছে। আবার তাদের কতক আছে যখন কোন আওয়ায শোনে বা কাউকে দেখে তাকে অশুভ লক্ষণ বলে গণ্য করে। আর কতক আছে সাওয়াল মাসে বিবাহ করা আবার কেউ আছে বুধবার বা সফর মাসকে কুলক্ষণ মনে করে। মানুষের চিন্তা, চেতনা ও চলার পথে ক্ষতিকর হওয়াতে এগুলোকে ইসলাম বাতিল করেছে। মানুষ এ সবের প্রতি কোন ভ্রক্ষেপ করবে না। আর এটিই হলো আল্লাহর ওপর ভরসা। তিনি বললেন, “এটা এমন একটি অনুভূতি যা লোকে তাদের অন্তরে উপলব্ধি ক’রে থাকে। সুতরাং এই অনুভূতি তাদেরকে যেন (বাঞ্ছিত কর্ম সম্পাদনে) বাধা না দেয়।” অর্থাৎ, অসুভ লক্ষণ হলো এমন একটি বিষয় যা তারা তাদের অন্তরে বাধ্য হয়ে অনুভব করে, এতে তাদের কোন দোষ নেই কারণ এটি তাদের কামাই নয় যার ওপর তাদের পাকড়াও করা হবে। কিন্তু তারা এ কারণে তাদের যাবতীয় বিষয়ে অগ্রসর হওয়া থেকে বিরত থাকবে না। আর বিরত না থাকতে অর্থাৎ কর্ম চালিয়ে যেতে তারা সক্ষম এবং তাদের কামাই। অতএব অশুভ লক্ষণ গ্রহণ করলে তাদের পাকড়াও করা হবে। তাই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের অসুভ লক্ষণ অনুযায়ী আমল করতে এবং তার কারণে তাদের কর্ম থেকে বিরত থাকতে নিষেধ করেছেন। অসুভ লক্ষণ থেকে নিষেধাজ্ঞা একাধিক বিশুদ্ধ হাসীসে স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে। এখানে অসুভ লক্ষণ দ্বারা উদ্দেশ্য সে অণুযায়ী আমল করা। আর যদি মানুষ তার অন্তরে খারাপ কিছু অনুভব করে কিন্তু তার দাবী অনুযায়ী আমল না করে তাহলে সেটা অশুভ লক্ষণ হবে না। “তিনি বলেন, আমি বললাম আমাদের মধ্যে কিছু লোক দাগ টানে।” আরবদের নিকট দাগ হলো, কোন লোক ভাগ্য গণনাকারীর নিকট আসবে তার সামনে একজন বালক থাকে তখন সে তাকে বালুর মধ্যে অসংখ্য দাগ টানার আদেশ করে। তারপর দুটি করে দাগ মুচে ফেলার নির্দেশ দেয়। অতঃপর তারা লক্ষ্য রাখে এ দাগগুলো থেকে অবশিষ্ট দাগগুলো জোড় নাকি বেজোড়। যদি জোড় হয়, তা হলো সফলতা ও কামিয়াবীর আলামত। আর যদি বেজোড় হয় তবে তা হবে হতাশা ও নৈরাশ্যের আলামত। তিনি বললেন, প্রচীন যুগে একজন নবী ছিলেন, তিনি দাগ টানতেন। বালুতে দাগ টানার মতো এ রকম অসংখ্য দাগ টানতেন। এ সব দাগ টানার মাধ্যমে তিনি যাবতীয় বিষয়গুলো তীক্ষ্মতার মাধ্যমে জানতে পারতেন। বলা হয়ে থাকে তিনি হলেন ইদরীস বা দানইয়াল আলাইহিমাস সালাম। সুতরাং যার দাগ টানা সে নবীর দাগ টানার পদ্ধতির সাথে মিলবে তার দাগ টানা শুদ্ধ হবে। অর্থাৎ যার দাগ ঐ নবীর সাথে মিলবে তা তার জন্য বৈধ। কিন্তু তার দাগের সাথে মিলবে কি মিলবে না তা নিশ্চিতভাবে জানার কোন উপায় জানা নেই। সুতরাং তা বৈধ হবে না। উদ্দেশ্য হলো তা হারাম। কারণ, মিলে যাওয়ার নিশ্চিত ইলম ছাড়া তা হালাল হবে না। আর আমাদের কোন নিশ্চিত জ্ঞান নেই। হতে পারে এটি আমাদের শরী‘আতে রহিত। অথবা হতে পারে দাগ টানা বৈধ হওয়া ঐ নবীর নবুওয়তের আলামত। আর তা বন্ধ হয়ে যাওয়াতে এরূপ করতে আমাদের নিষেধ করা হয়েছে। হাদীসটি রেখা জ্ঞান অনুযায়ী আমল করা হারামের দলিল, তার বৈধতার দলিল নয়। যেমনিভাবে হাদীসটি বালিতে দাগ টানার পদ্ধতিকে বাতিল প্রমাণ করে। কারণ মিল হওয়ার জন্য ইলম জরুরি। আর ইলম দুইভাবে হয়। এক—এ ইলমের পদ্ধতি সম্পর্কে সুস্পষ্ট বিশুদ্ধ নস থাকা। দুই—ঐ নবীর যুগ থেকে আমাদের নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগ পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে চলে আসা আর দুটিই এখানে অনুপুস্থিত। এখানে একটি বিষয় জানা থাকা দরকার যে, নবীগণ কখনো গাইবী জানেন বলে দাবী করেন না এবং তারা মানুষকে এ সংবাদ দেন না যে তারা গায়েব জানেন। তারা যে সব গাইবী বিষয়ে সংবাদ দেন তা আল্লাহর পক্ষ থেকে তাদের প্রতি ওহী মাত্র তারা তা নিজেরা জানেন বলে দাবি করেন না। যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন, “তিনি গায়েবের আলিম তার গায়েবের ওপর তিনি কাউকে অবগত করান না, তবে রাসূলদের থেকে যার প্রতি তিনি সস্তুষ্টি প্রকাশ করেন, তখন তার সামনে ও পশ্চাতে পাহাড়াদার নিয়োজিত থাকে”। (সূরা জিন:২৬—২৭) কারণ, গাইবী ইলম কেবল আল্লাহর সাথেই খাস। তাই কেউ তার নিজের ব্যাপারে তা দাবি করতে পারে না। যদি কেউ তা দাবি করে তবে সে হবে রবের কতক বৈশিষ্টের দাবীদার। আর এটি তারাই করে যারা এ ধরনের পেশার সাথে যুক্ত। এ দ্বারা তাদের দাবি এসব বিদ্যা নবীই তাদের শিক্ষা দিয়েছেন মিথ্যা প্রমাণিত হল। “তিনি বললেন, আমার একজন বাঁদী ছিল, উহুদ পাহাড় ও জুওয়ানিয়ার সন্নিকটে ছাগল চরাতো। অর্থাৎ, আমার একটি বাঁদি ছিল উহুদ পাহাড়ের নিকটে একটি জায়গায় ছাগল চরাতো। একদিন আমি জানতে পারলাম যে, নেঁকড়ে আমার ছাগলগুলো থেকে একটি ছাগল নিয়ে গেছে। অর্থাৎ জানলো যে, একটি বাঘ তার ছাগলগুলো থেকে একটি ছাগল ছিনিয়ে নিয়ে গেছে। ছাগল তার কিন্তু বাঁদীর বলার কারণ হলো সে দেখা শোনা করত। “আমি একজন আদম সন্তান তারা যেমন ক্ষুব্ধ হয় আমিও ক্ষুব্ধ হয়েছি।” অর্থাৎ, ছাগলগুলো থেকে একটি ছাগল নেঁকড়ে খেয়ে ফেলাতে আমি তার ওপর ক্ষুব্ধ হয়েছি। তাই ক্ষোভের দাবি অনুযায়ী আমি তাকে কঠিন মার দেওয়ার ইচ্ছা করলাম। “কিন্তু আমি তাকে একটি চড় মারলাম” অর্থাৎ আমি তাকে কঠিন মার দিলাম না, তবে তাকে একটি চড় মারার ওপর সীমাবদ্ধ থাকলাম। তারপর রাসূলুল্লাহর নিকট এসে বিষয়টি তাকে জানালে বিষয়টি আমার কাছে বড় মনে হলো। অর্থাৎ তাকে চড় মারার পর রাসূলুল্লাহর নিকট আসল এবং ঘটনাটি বর্ণনা করল। তখন তিনি তার চড় মারাকে বড় করে দেখল। যখন মুআবিয়াহ ইবন হাকাম আস-সুলামী দেখতে পেলেন যে, নবী সাল্লাল্লাহ আলাইহ ওয়াসাল্লাম তার এ কর্মে প্রভাবিত হলেন এবং কষ্ট পেলেন, তাই তিনি বললেন, হে আল্লাহর রাসূল আমি কি তাকে আযাদ করে দেব না? অর্থাৎ আমি যে তাকে মারছি তার বিনিময়ে আমি তাকে আযাদ করে দেব? তিনি বললেন, তুমি তাকে আমার কাছে নিয়ে আসো। আমি তাকে তার কাছে নিয়ে আসলাম। তিনি তাকে বললেন, আল্লাহ কোথায়? ইবাদতের হকদার যিনি সিফাতে কামালের সাথে গুনান্বিত তিনি কোথায়? অপর বর্ণনায় বর্ণিত, তোমার রব কোথায়? এ প্রশ্ন দ্বারা সে যে তাওহীদে বিশ্বাসী সে বিষয়ে নিশ্চিত হতে চাইলেন। তাই তিনি তাকে এমন বিষয় দিয়ে সম্বোধন করলেন যার দ্বারা তার উদ্দেশ্য স্পষ্ট হয়। কারণ, তাওহীদ পন্থীদের আকীদা হলো আল্লাহ আসমানে। সে বলল, আকাশে। আকাশে অর্থ উপর। আল্লাহ তা‘আলা সবকিছুর উপর। তার আরশেরও উপর যে আরশ হলো সমস্ত সৃষ্টির ছাদ। বলল, আমি কে? সে বলল, আপনি আল্লাহর রাসূল। বলল, তাকে তুমি আযাদ করে দাও কারণ, সে মু’মিন। যখন সে আল্লাহ উপরে হওয়া এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রিসালাতের সাক্ষী দিল তিনি তাকে আযাদ করে দেওয়ার নির্দেশ দিলেন। কারণ এতে তার ঈমানের ওপর এবং তার আকীদার বিশুদ্ধতার প্রমাণ রয়েছে।

সূত্র

صحيح مسلم، مسلم بن الحجاج القشيري النيسابوري، تحقيق محمد فؤاد عبد الباقي، دار إحياء التراث العربي، بيروت، الطبعة: 1423هـ. معالم السنن (شرح سنن أبي داود)، أبو سليمان حمد بن محمد المعروف بالخطابي، الناشر: المطبعة العلمية، حلب، الطبعة: الأولى 1351هـ، 1932م. إكمال المعلم بفوائد مسلم، عياض بن موسى اليحصبي السبتي، المحقق: يحيى إسماعيل، الناشر: دار الوفاء للطباعة والنشر والتوزيع، مصر، الطبعة: الأولى، 1419هـ، 1998م. المنهاج شرح صحيح مسلم بن الحجاج، أبو زكريا محيي الدين النووي، دار إحياء التراث العربي، بيروت، الطبعة: الثانية 1392هـ. شرح سنن أبي داود، محمود بن أحمد بدر الدين العيني، تحقيق: خالد بن إبراهيم المصري، الناشر: مكتبة الرشد، الرياض، الطبعة: الأولى، 1420 هـ،1999م. مرقاة المفاتيح، علي بن سلطان القاري ، دار الفكر، بيروت، لبنان، الطبعة: الأولى 1422هـ، 2002م. شرح سنن أبي داود، عبد المحسن بن حمد بن عبد المحسن العباد، نسخة الإلكترونية. كنوز رياض الصالحين، مجموعة من الباحثين برئاسة حمد بن ناصر العمار، كنوز إشبيليا، الرياض، الطبعة: الأولى1430هـ، 2009م. التنجيم والمنجمون وحكم ذلك في الإسلام، عبد المجيد بن سالم المشعبي، الناشر: أضواء السلف، الرياض، المملكة العربية السعودية، الطبعة: الطبعة: الثانية 1419هـ، 1998م. توضيح الأحكام شرح بلوغ المرام، عبد الله بن عبد الرحمن البسام، مكتبة الأسدي، مكة المكرمة، الطبعة الخامِسَة، 1423هـ، 2003 م. تسهيل الإلمام بفقه الأحاديث من بلوغ المرام، صالح بن فوزان بن عبد الله الفوزان، اعتنى بإخراجه عبدالسلام بن عبد الله السليمان، الرسالة، بيروت، الطبعة: الأولى 1427هـ، 2006م. فتح ذي الجلال والإكرام شرح بلوغ المرام، محمد بن صالح العثيمين، تحقيق: صبحي بن محمد رمضان، وأم إسراء بنت عرفة، المكتبة الإسلامية، الطبعة: الأولى 1427هـ. القول المفيد على كتاب التوحيد، محمد بن صالح العثيمين، دار ابن الجوزي، المملكة العربية السعودية, الطبعة: الثانية 1424هـ. رياض الصالحين، للنووي، تحقيق: ماهر ياسين الفحل، دار ابن كثير، دمشق، بيروت، الطبعة: الأولى 1428هـ. معجم اللغة العربية المعاصرة، أحمد مختار عبد الحميد عمر بمساعدة فريق عمل، الناشر: عالم الكتب، الطبعة: الأولى 1429هـ، 2008م.

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

মুসল্লীর সালাতে কোমরে হাত রাখাকে আয়েশা অপছন্দ করতেন। আর তিনি বলতেন এটি ইয়াহুদীরা করে।

عن عائشة رضي الله عنها أنها كانت تكره أن يجعل يده في خَاصِرَتِهِ، وتقول: إن اليهود تفعله.
আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা থেকে বর্ণিত: “তিনি মুসল্লীর সালাতে কোমরে হাত রাখাকে অপছন্দ করতেন। আর তিনি বলতেন এটি ইয়াহুদীরা করে”।
এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন।মানসহীহ
ব্যাখ্যা

হাদীস শরীফটি স্পষ্ট করে যে, একজন মুসল্লীর সালাতে কোমরে হাত রাখাকে আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা অপছন্দ করতেন। আর তিনি এর কারণ বর্ণনা করে বলেন এটি ইয়াহুদীদের কর্ম।

সূত্র

توضيح الأحكام شرح بلوغ المرام، عبد الله بن عبد الرحمن البسام، مكتبة الأسدي، مكة المكرمة، الطبعة الخامِسَة، 1423هـ، 2003م. منحة العلام في شرح بلوغ المرام، عبد الله صالح الفوزان، دار ابن الجوزي، الطبعة: الأولى 1428هـ، 1432هـ. صحيح البخاري، محمد بن إسماعيل البخاري الجعفي، تحقيق: محمد زهير الناصر، دار طوق النجاة (مصورة عن السلطانية بإضافة ترقيم: محمد فؤاد عبد الباقي)، الطبعة: الأولى 1422هـ.

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

যখন তোমাদের কেউ সালাতে দাড়ায়, অবশ্যই রহমত তার সম্মূখীন হয়। সতুরাং সে যেন পাথর দূর না করে।

عن أبي ذر رضي الله عنه مرفوعًا: «إذا قام أَحَدُكُمْ إلى الصلاة؛ فإنَّ الرَّحمة تُوَاجِهُهُ، فلا يَمْسَح الحَصَى». وعن معيقيب رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: في الرجل يُسَوِّي التُّراب حيث يسجُد، قال: «إِنْ كُنْت فاعِلا فَوَاحِدة».
আবূ যার রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে মারফূ হিসেবে বর্নিত: যখন তোমাদের কেউ সালাতে দাড়ায়, অবশ্যই রহমত তার সম্মূখীন হয়। সতুরাং সে যেন পাথর দূর না করে। আর মুয়াইকীব রাদিয়াল্লাহ আনহু থেকে বর্ণিত, যে লোকটি সেজদার স্থানে মাটি সমান করে তার সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যদি করতেই তবে যেন একবার করে।
এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন।মানসহীহ
ব্যাখ্যা

আবূ যার রাদিয়াল্লাহু আনহুর হাদীসে: যখন তোমাদের কেউ সালাতে দাড়ায়, অর্থাৎ যখন সালাতে প্রবেশ করে এবং তাকবীরে তাহরীমাহ বাঁধে তাকে যেন নিষেধ করা না হয়। তার বাণীতে নিষেধের অর্থ: সামান্য কারণে সালাত থেকে যে বিমুখ না থাকে। কারণ, তাতে সালাতের মনোযোগ নষ্ট হয়। তখন সালাতের মনোযোগী হওয়া যা রহমতের কারণ তা ছুটে যাবে। আর এটি তখন যখন তা সেজদার স্থান পরিস্কার করার জন্য না হবে। অন্যথায় প্রয়োজন অনুযায়ী একবার করাতে কোন অসুবিধা নেই। আর এ কথা অজানা নয় যে, এখানে পাথর দ্বারা ছোট পাথর উদ্দেশ্য। আর পাথরের কথা উল্লেখ করা অভ্যাগত। কারণ, তখন তাদের মসজিদসমূহের বিছানায় পাথরই হতো। সুতরাং এ মাসআলার ক্ষেত্রে মাটি বালি ও পাথরের মধ্যে কোন প্রার্থক্য নেই। আর মুয়াইকীব রাদিয়াল্লাহ আনহু থেকে বর্ণিত হাদীসে যে লোকটি সেজদার স্থানে মাটি সমান করে তার সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যদি করতেই হয় তবে যেন একবার করে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকটি সম্পর্কে বলেন, অর্থাৎ সে লোকটির অবস্থা সম্পর্কে যে তার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে যে, সে তার সেজদা করার স্থানে তার ওপর সেজদা করার জন্য মাটি দূর করে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে উত্তর দেন যে, যদি তোমার করতেই হয়, অর্থাৎ প্রয়োজন দেখা দেয়, তাহলে তুমি একবার করো তার বেশি নয়। পাথর সরানো মাকরূহ। কিন্তু যদি পাথরের কারণে সেজদা করতে অসুবিধা হয় যেমন, উচা নিচা বেশি হয়ে থাকার কারণে তার ওপর ফরয আদায় করা পর্যন্ত কপাল রাখা যাচ্ছে না, তখন একবার বা দুইবার পাথর দূর করবে। কারণ, কতবার করবে সে বিষয়ে দুটি বর্ণনা আছে কোন বর্ণনায় একবার আবার কোন বর্ণনায় দুইবার। তবে দুই বর্ণনার মধ্যে সর্বাধিক স্পষ্ট হলো একবার তার বেশি নয়। নিষেধ করার কারণ তাঁরই বাণী “কারণ, রহমত তার মুখোমুখি” অর্থাৎ, তার ওপর রহমত নাযিল হয় এবং তার দিকে রহমত অগ্রসর হয়। এটিই নিষেধের কারণ। সুতরাং কোন জ্ঞানী লোকের জন্য উচিত হবে না যে, এ নিকৃষ্ট কাজের মাধ্যমে এ মহান নি‘আমাতের শুকরিয়া আদায় করা ছেড়ে দেওয়া। এটি বলেছেন আল্লামা তীবী রহ। আর আল্লাম শাওকানী রহ. বলেন, এটিকে কারণ সাব্যস্ত করা দ্বারা প্রমাণিত হয়, পাথর সরানো নিষিদ্ধ হওয়ার হিকমত হলো যাতে তার অন্তর এমন কোন বিষয় নিয়ে ব্যস্ত না হয়, যা তাকে তার সামনে আগত রহমত থেকে অমনোযোগী করে; যার ফলে তা থেকে তার পাওনা ছুটে যায়।

সূত্র

سنن أبي داود، سليمان بن الأشعث أبوداود، دار الفكر، تحقيق : محمد محيي الدين عبد الحميد. سنن ابن ماجه، ابن ماجه محمد بن يزيد القزويني، تعليق: محمود خليل، مكتبة أبي المعاطي. المجتبى من السنن ( السنن الصغرى )، أحمد بن شعيب النسائي، تحقيق: عبد الفتاح أبو غدة، مكتب المطبوعات الإسلامية، حلب، الطبعة: الثانية 1406هـ، 1986م. سنن الدارمي، تحقيق: حسين سليم أسد الداراني، دار المغني للنشر والتوزيع، المملكة العربية السعودية، الطبعة: الأولى 1412هـ، 2000م. سنن الترمذي، محمد بن عيسى الترمذي، تحقيق: بشار عواد معروف، دار الغرب الإسلامي، بيروت. صحيح البخاري، محمد بن إسماعيل البخاري الجعفي، تحقيق: محمد زهير الناصر، دار طوق النجاة (مصورة عن السلطانية بإضافة ترقيم: محمد فؤاد عبد الباقي)، الطبعة: الأولى 1422هـ. صحيح مسلم، مسلم بن الحجاج القشيري النيسابوري، تحقيق محمد فؤاد عبد الباقي، دار إحياء التراث العربي، بيروت، الطبعة: 1423هـ. مسند الإمام أحمد بن حنبل، أحمد بن حنبل أبو عبدالله الشيباني، تحقيق أبو المعاطي النوري، عالم الكتب. توضيح الأحكام شرح بلوغ المرام، عبد الله بن عبد الرحمن البسام، مكتبة الأسدي، مكة المكرمة، الطبعة الخامِسَة، 1423هـ، 2003 م. منحة العلام في شرح بلوغ المرام، عبد الله صالح الفوزان، دار ابن الجوزي، الطبعة: الأولى 1428هـ، 1432هـ.

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সালাতে এদিক ওদিক তাকানো সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, এটা এক ধরনের ছিনতাই, যার মাধ্যমে শয়তান বান্দার সালাত হতে অংশ বিশেষ ছিনিয়ে নেয়।

عن عائشة رضي الله عنها قالت: سَألتُ رسول الله صلى الله عليه وسلم عن الالتِفَات في الصلاة؟ فقال: «هو اخْتِلاس يَختَلِسُهُ الشَّيطان من صلاة العَبْد».
‘আয়িশাহ্ রাদয়িাল্লাহু ‘আনহা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সালাতে এদিক ওদিক তাকানো সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, এটা এক ধরনের ছিনতাই, যার মাধ্যমে শয়তান বান্দার সালাত হতে অংশ বিশেষ ছিনিয়ে নেয়।
এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন।মানসহীহ
ব্যাখ্যা

আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সালাতে এদিক সেদিক থাকানো সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন যে, এতে সালাতের ক্ষতি হয় কিনা এবং তাতে কোন প্রভাব পড়ে কিনা? তিনি তাকে জানালেন যে, এ ধরনের তাকানো হলো ছিনতাই। শয়তান গোপনে বা দ্রুততার সাথে বান্দার সালাতের অংশ বিশেষ ছিনিয়ে নেয় যাতে তার সালাত ত্রুটিপূর্ণ হয় ও তার সাওয়াব কমে যায়। আল-মুগনী, কাশশাফুল কানা‘ সুবুলুস সালাম তাওযীহুল আহকাম, তাসহীলুল ইলমাম মিনহাতুল আল্লাম।

সূত্র

صحيح البخاري، تأليف: محمد بن إسماعيل البخاري، تحقيق: محمد زهير الناصر، الناشر: دار طوق النجاة الطبعة: الأولى، 1422هـ. سبل السلام شرح بلوغ المرام، تأليف: محمد بن إسماعيل بن صلاح الصنعاني، الناشر: دار الحديث الطبعة: بدون طبعة وبدون تاريخ. المغني، تأليف: أبي محمد موفق الدين عبد الله بن أحمد بن محمد، الشهير بابن قدامة المقدسي، الناشر: مكتبة القاهرة، الطبعة: بدون طبعة. كشاف القناع عن متن الإقناع، تأليف: منصور بن يونس بن صلاح الدين البهوتي الحنبلي، الناشر: دار الكتب العلمية. توضيح الأحكام مِن بلوغ المرام، تأليف: عبد الله بن عبد الرحمن بن صالح البسام، الناشر: مكتبة الأسدي، مكة المكرّمة الطبعة: الخامِسَة، 1423 هـ - 2003 م. تسهيل الإلمام بفقه الأحاديث من بلوغ المرام، تأليف: صالح بن فوزان بن عبد الله الفوزان، الطبعة: الأولى، 1427هـ -2006 م. فتح ذي الجلال والإكرام، شرح بلوغ المرام، تأليف: محمد بن صالح بن محمد العثيمين، الناشر: المكتبة الإسلامية، تحقيق: صبحي بن محمد رمضان، وأُم إسراء بنت عرفة. منحة العلام في شرح بلوغ المرام، تأليف: عبد الله بن صالح الفوزان، الناشر: دار ابن الجوزي، الطبعة: الأولى، 1427 هــ 1431هـ.

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

“তোমাদের কেউ যখন সালাতে দাঁড়ায়, তখন সে তার রবের সাথে কানে কানে (ফিসফিস ক’রে কথা) বলে। আর তার রব তার ও কেবলার মধ্যস্থলে থাকেন। সুতরাং তোমাদের কেউ যেন কেবলার দিকে থুথু না ফেলে; বরং তার বামে অথবা পদতলে ফেলে। অতঃপর তিনি তাঁর চাদরের এক প্রান্ত ধরে তাতে থুথু নিক্ষেপ করলেন। তারপর তিনি তার এক অংশকে আর এক অংশের সাথে রগড়ে দিয়ে বললেন, কিংবা এইরূপ করে।”

عن أنس بن مالك رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم رأى نُخْامَة في القِبْلَة، فَشَقَّ ذلك عليه حتى رُئِي في وجْهِه، فقام فَحَكَّه بِيَده، فقال: «إن أحدكم إذا قام في صلاته فإنه يُنَاجِي رَبَّه، أو إن رَبَّه بينه وبين القِبْلَة، فلا يَبْزُقَنَّ أحدُكم قِبَل قِبْلتِه، ولكن عن يَسَاره أو تحت قَدَمَيه» ثم أخذ طَرف رِدَائِه، فَبَصَقَ فيه ثم ردَّ بَعْضَهُ على بعض، فقال: «أو يفعل هكذا».
আনাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিবলার (দিকের দেওয়ালে) থুথু দেখতে পেলেন এটা তাঁর প্রতি খুব ভারী মনে হল; এমনকি তাঁর চেহারায় সে চিহজ্ঞ দেখা গেল। ফলে দাঁড়ালেন এবং তিনি তা নিজ হাত দ্বারা ঘষে তুলে ফেললেন। তারপর বললেন, “তোমাদের কেউ যখন সালাতে দাঁড়ায়, তখন সে তার রবের সাথে কানে কানে (ফিসফিস ক’রে কথা) বলে। আর তার রব তার ও কেবলার মধ্যস্থলে থাকেন। সুতরাং তোমাদের কেউ যেন কেবলার দিকে থুথু না ফেলে; বরং তার বামে অথবা পদতলে ফেলে। অতঃপর তিনি তাঁর চাদরের এক প্রান্ত ধরে তাতে থুথু নিক্ষেপ করলেন। তারপর তিনি তার এক অংশকে আর এক অংশের সাথে রগড়ে দিয়ে বললেন, কিংবা এইরূপ করে।”
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।মানসহীহ
ব্যাখ্যা

নবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিবলার দিকের দেওয়ালে থুথু দেখতে পেলেন। এটা তাঁর প্রতি খুব ভারী মনে হল; এমনকি তাঁর চেহারায় সে চিহজ্ঞ দেখা গেল। ফলে তিনি নিজেই দাঁড়ালেন এবং উম্মাতকে শিক্ষা দেয়া, স্বীয় রবের বিনয়ে এবং আল্লাহর ঘরের তিনি তার মুবারক হাত দ্বারা তা ঘষে তুলে ফেললেন। তারপর বললেন, “যখন কোন বান্দা সালাতে দাঁড়ায়, তখন সে অবশ্যই যিকির, দো‘আ এবং তার আয়াতসমূহের তিলাওয়াতের মাধ্যমে তার স্বীয় রবের সাথে কানে কানে (ফিসফিস ক’রে কথা) বলে। সুতরাং এ স্থানে উচিত হলো, সে তার সালাতে বিনয়ী হবে, যার সাথে কানে কানে কথা বলছে তার বড়ত্বকে স্মরণ করবে, অন্তর দিয়ে তার প্রতি মনোযোগ দেবে এবং আল্লাহর সাথে কোন প্রকার বে-আদবী করা থেকে দূরে থাকবে। সুতরাং তার কিবালার দিকে থুথু ফেলবে না। তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ অবস্থায় একজন মুসল্লির করনীয় সম্পর্কে দিক নির্দেশনা দেন। আর তা হলো এ অবস্থায় সে তার বামে অথবা তার বাম পদতলে থুথু ফেলবে। অথবা সে তার রুমালে থুথু ফেলবে। তারপর তার এক অংশকে আর এক অংশের সাথে রগড়ে দিয়ে নিবে। একজন মুসল্লীর জন্য জরুরী হলো, এ অনুভব করা যে সে আল্লাহর সামনে, এবং তার প্রতি মনোযোগ দিয়ে ঝুঁকা। যদিও আল্লাহ আসমানে স্বীয় আরশের উপর। কিন্তু সে ইলম ও কুদরত দ্বারা সে একজন মুসল্লীরই সামনে। কারণ, তার ইলম ও কুদরত প্রতিটি বস্তুকে আয়ত্বকারী। কোন কিছুই তার তুলনা হয় না, তিনি সর্ব শ্রোতা ও সর্ব দ্রষ্টা। [সূরা শোরা, আয়াত: ১১] এর অর্থ এ নয় যে, আল্লাহ মানুষের সাথে মিশে আছে অথবা যে স্থানে একজন মুসল্লী সালাত আদায় করে সেখানে আল্লাহ আছে। এ থেকে আল্লাহ উর্ধ্বে ও মহান। সুতরাং তিনি তার শান অনুযায়ী একজন মুসল্লী এবং একজন দো‘আকারীর নিকটেই রয়েছেন। এক সৃষ্টি অপর সৃষ্টি নিকট হওয়া নয়। বরং তা হলো স্রষ্টা তার সৃষ্টির নিকট হওয়া। এর দৃষ্টান্ত তার সৃষ্টির মধ্যেই রয়েছে। আর আল্লাহর জন্যই হলো উন্নত দৃষ্টান্ত। যেমন, সূর্য্য তোমার অনেক উপরে। তারপরও দেখা যায়, সূর্য ডোবা বা উদয়ের সময় তোমার সামনেই থাকে।

সূত্র

صحيح البخاري، تأليف: محمد بن إسماعيل البخاري، تحقيق: محمد زهير الناصر، الناشر: دار طوق النجاة الطبعة: الأولى، 1422هـ. صحيح مسلم، تأليف: مسلم بن الحجاج النيسابوري، تحقيق: محمد فؤاد عبد الباقي الناشر: دار إحياء التراث العربي – بيروت. معجم لغة الفقهاء، تأليف: محمد رواس قلعجي - حامد صادق قنيبي، الناشر: دار النفائس للطباعة والنشر والتوزيع، الطبعة: الثانية، 1408 هـ - 1988م. مرقاة المفاتيح شرح مشكاة المصابيح، تأليف: علي بن سلطان القاري، الناشر: دار الفكر، الطبعة: الأولى، 1422هـ. سبل السلام شرح بلوغ المرام، تأليف: محمد بن إسماعيل بن صلاح الصنعاني، الناشر: دار الحديث الطبعة: بدون طبعة وبدون تاريخ. مرعاة المفاتيح شرح مشكاة المصابيح، تأليف: عبيد الله بن محمد المباركفوري، الناشر: إدارة البحوث العلمية والدعوة والإفتاء، الطبعة: الثالثة - 1404 هـ. توضيح الأحكام مِن بلوغ المرام، تأليف: عبد الله بن عبد الرحمن بن صالح البسام، الناشر: مكتبة الأسدي، مكة المكرّمة الطبعة: الخامِسَة، 1423 هـ - 2003 م. تسهيل الإلمام بفقه الأحاديث من بلوغ المرام، تأليف: صالح بن فوزان بن عبد الله الفوزان، الطبعة: الأولى، 1427 هـ _ 2006 م. فتح ذي الجلال والإكرام، شرح بلوغ المرام، تأليف: محمد بن صالح بن محمد العثيمين، الناشر: المكتبة الإسلامية، تحقيق: صبحي بن محمد رمضان، وأُم إسراء بنت عرفة. شرح رياض الصالحين، تأليف: محمد بن صالح العثيمين، الناشر: دار الوطن للنشر، الطبعة: 1426هـ. منحة العلام في شرح بلوغ المرام، تأليف: عبد الله بن صالح الفوزان، الناشر: دار ابن الجوزي، الطبعة الأولى ، 1427 هـ ـ 1431هـ. بهجة الناظرين، تأليف: سليم بن عيد الهلالي، الناشر: دار ابن الجوزي، سنة النشر: 1418 هـ- 1997م.

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

“লোকদের কী হয়েছে যে, তারা তাদের সালাতে আকাশের দিকে দৃষ্টি তুলছে?” এ ব্যাপারে তিনি কঠোর বক্তব্য রাখলেন; এমনকি তিনি বললেন, “তারা যেন অবশ্যই এ কাজ হতে বিরত থাকে; নচেৎ অবশ্যই তাদের দৃষ্টি কেড়ে নেওয়া হবে।”

عَن أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رضي الله عنه قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَا بَالُ أَقْوَامٍ يَرْفَعُونَ أَبْصَارَهُمْ إِلَى السَّمَاءِ فِي صَلاَتِهِمْ»، فَاشْتَدَّ قَوْلُهُ فِي ذَلِكَ، حَتَّى قَالَ: «لَيَنْتَهُنَّ عَنْ ذَلِكَ أَوْ لَتُخْطَفَنَّ أَبْصَارُهُمْ».
আনাস ইবনু মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “লোকদের কী হয়েছে যে, তারা তাদের সালাতে আকাশের দিকে দৃষ্টি তুলছে?” এ ব্যাপারে তিনি কঠোর বক্তব্য রাখলেন; এমনকি তিনি বললেন, “তারা যেন অবশ্যই এ কাজ হতে বিরত থাকে; নচেৎ অবশ্যই তাদের দৃষ্টি কেড়ে নেওয়া হবে।”
এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন।মানসহীহ
ব্যাখ্যা

নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের সতর্ক করে দিয়েছেন যারা সালাতে দোআ বা অন্যায় কর্মে আকাশের দিকে চোখ তুলে তাকায়। তারপর তিনি সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম যারা এটি করে তাদের বিরুদ্ধে তার তিরস্কার এবং হুমকি আরও তীব্র করে বলেছেন যে তিনি আশঙ্কা করেন যে তাদের দৃষ্টিশক্তি তাদের কাছ থেকে কেড়ে নেওয়া হবে এবং এত তাড়াতাড়ি কেড়ে নেওয়া হবে যে তারা দৃষ্টিশক্তি হারানো পর্যন্ত বুঝতে পারবে না।

শিক্ষা
  1. নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের দাওয়াত এবং সত্য স্পষ্টীকরণের সৌন্দর্য; কারণ তিনি লঙ্ঘনকারীকে প্রকাশ করেননি, যেহেতু উদ্দেশ্য হলো সত্য প্রকাশ করা এবং তা অর্জিত হয়েছে; অধিকন্তু এতে লঙ্ঘনকারীকে আড়াল করা রয়েছে এবং এটি গ্রহণযোগ্য হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
  2. সালাতের সময় আকাশের দিকে তাকানো ব্যক্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা এবং কঠোর হুমকি।
  3. তিনি আউনুল মা'বুদ গ্রন্থে বলেন: এর কারণ হলো, যদি সে আকাশের দিকে তার দৃষ্টি তুলে, তাহলে সে কিবলার দিক থেকে বিচ্যুত হবে এবং তার থেকে ও সালাতের অবস্থা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে।
  4. সালাতে চোখ তুলে তাকানো বিনয়ের সাথে সাংঘর্ষিক।
  5. সালাতের গুরুত্ব এবং সালাতরত ব্যক্তিকে আল্লাহর প্রতি নিখুঁত শিষ্টাচারের সাথে থাকতে হবে।
সূত্র

صحيح البخاري (1/ 150) (750). كشاف القناع عن متن الإقناع، لمنصور بن يونس البهوتي (2/ 404). توضيح الأحكام شرح بلوغ المرام، لعبد الله البسام (2/ 101). فتح ذي الجلال والإكرام شرح بلوغ المرام، لابن عثيمين (1/ 587). منار القاري شرح مختصر صحيح البخاري، لحمزة قاسم (2/ 159).

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকবীর (আল্লাহু আকবার) বলে সালাত শুরু করতেন এবং সূরাহ আল ফা-তিহাহ দিয়ে কিরাআত পাঠ শুরু করতেন

عَنْ عَائِشَةَ أُمِّ المُؤْمِنين رَضيَ اللهُ عنها قَالَتْ: كَانَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَسْتَفْتِحُ الصَّلَاةَ بِالتَّكْبِيرِ، وَالقِرَاءَةِ، بِـ الحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ العَالَمِينَ، وَكَانَ إِذَا رَكَعَ لَمْ يُشْخِصْ رَأْسَهُ وَلَمْ يُصَوِّبْهُ، وَلَكِنْ بَيْنَ ذَلِكَ، وَكَانَ إِذَا رَفَعَ رَأْسَهُ مِنَ الرُّكُوعِ لَمْ يَسْجُدْ حَتَّى يَسْتَوِيَ قَائِمًا، وَكَانَ إِذَا رَفَعَ رَأْسَهُ مِنَ السَّجْدَةِ لَمْ يَسْجُدْ حَتَّى يَسْتَوِيَ جَالِسًا، وَكَانَ يَقُولُ فِي كُلِّ رَكْعَتَيْنِ التَّحِيَّةَ، وَكَانَ يَفْرِشُ رِجْلَهُ اليُسْرَى وَيَنْصِبُ رِجْلَهُ اليُمْنَى، وَكَانَ يَنْهَى عَنْ عُقْبَةِ الشَّيْطَانِ، وَيَنْهَى أَنْ يَفْتَرِشَ الرَّجُلُ ذِرَاعَيْهِ افْتِرَاشَ السَّبُعِ، وَكَانَ يَخْتِمُ الصَّلَاةَ بِالتَّسْلِيمِ.
উম্মুল মু’মিনীন ‘আয়িশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকবীর (আল্লাহু আকবার) বলে সালাত শুরু করতেন এবং সূরাহ আল ফা-তিহাহ দিয়ে কিরাআত পাঠ শুরু করতেন। তিনি যখন রুকু করতেন, ঘাড় থেকে মাথা নীচুও করতেন না, উপরেও উচু করে রাখতেন না বরং একই সমতলে রাখতেন। তিনি যখন রুকূ’ থেকে মাথা উঠাতেন, সোজা হয়ে না দাঁড়িয়ে সিজদা করতেন না। তিনি (প্রথম) সিজদা থেকে মাথা তুলে সোজা হয়ে না বসা পর্যন্ত (দ্বিতীয়) সাজদায় যেতেন না। তিনি প্রতি দুরাকাআত অন্তর "আত্তাহিয়াতু" পাঠ করতেন। তিনি বসার সময় বাম পা বিছিয়ে দিতেন এবং ডান পা দাঁড় করিয়ে রাখতেন। তিনি শয়তানের বসা থেকে নিষেধ করতেন। তিনি পুরুষ লোকেদেরকে হিংস্র জন্তুর ন্যায় দু’হাত মাটিতে ছড়িয়ে দিতে নিষেধ করতেন। তিনি সালামের মাধ্যমে সালাতের সমাপ্তি ঘোষণা করতেন।
ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেনমানসহীহ
ব্যাখ্যা

মুমিনদের মা আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা উল্লেখ করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সালাত শুরু করতেন আল্লাহু আকবার বলে তাকবীর দিয়ে আর সূরা আল-ফাতিহা দিয়ে তেলাওয়াত শুরু করতেন: «الحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ العَالَمِينَ...» সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি সৃষ্টিকুলের রব। যখন তিনি দাঁড়ানোর পর রুকু করতেন, তখন রুকু করার সময় মাথা উঁচু করতেন না বা নিচু করতেন না, বরং তা সোজা এবং সমান রাখতেন। রুকু থেকে মাথা উঠানোর সময়, সিজদার আগে সোজা হয়ে দাঁড়াতেন। যখন তিনি প্রথম সাজদা থেকে মাথা তুলতেন, তখন স্থিরভাবে বসে না যাওয়া পর্যন্ত দ্বিতীয়বার সাজদা করতেন না। তিনি প্রতি দুই রাকআতের পর তাশাহহুদের জন্য বসতেন এবং বলতেন: ‘সকল ধরনের সালাম, সালাত ও পবিত্রতা শুধু আল্লাহর জন্য...’। তিনি যখন দুই সাজদার মাঝখানে অথবা তাশাহহুদের জন্য বসতেন, তখন তিনি তাঁর বাম পা বিছিয়ে তার ওপর বসতেন এবং ডান পা খাড়া করে রাখতেন। তিনি সালাতে শয়তানের মতো বসতে নিষেধ করেছেন। যেমন—নিজের পা দুটো মাটিতে বিছিয়ে দিয়ে, গোড়ালির উপর বসা; অথবা পশ্চাদ্দেশ মাটিতে লাগিয়ে পা দুটো সোজা করে বসা এবং কুকুরের মতো দুই হাত মাটিতে রাখা। আবার সাজদার সময় হাত দুটোকে মাটিতে বিছিয়ে দিয়ে শিকারি জন্তুর ভঙ্গিতে বসতেও নিষেধ করেছেন। তিনি সালাম দিয়ে সালাত শেষ করতেন—ডানে একবার এবং বামে আরেকবার: ‘আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ’ বলতেন।

শিক্ষা
  1. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সালাতের প্রদ্ধতি সম্পর্কে কিছু বর্ণনা।
  2. তাকবিরে তাহরিমা বলা ফরয, যা সালাত বিষয়ক কথা ও কাজ অন্য সব কথা ও কাজকে হারাম করে দেয় এবং এই নির্দিষ্ট বাক্য ছাড়া অন্য কোনো বাক্য সালাত শুরু করার জন্য যথেষ্ট নয়।
  3. সুরা ফাতিহা পড়া ওয়াজিব।
  4. রুকু করা ফরয এবং এতে উত্তম হলো — পিঠ সোজা রাখা, না খুব বেশি উপরে তোলা, না নিচে নামানো।
  5. রুকু থেকে ওঠা ফরয এবং রুকু থেকে উঠার পর সোজা হয়ে (সম্পূর্ণভাবে দাঁড়িয়ে) স্থির হওয়াও ফরয।
  6. সাজদা করা ফরয, সাজদা থেকে ওঠাও ফরয এবং সাজদার পর বসে সোজা হয়ে স্থির থাকা ফরয।
  7. সালাতে বসার সময় ডান পা খাড়া করে এবং বাম পা বিছিয়ে তার উপর বসা সুন্নাত। তবে যেসব সালাতে দুটি তাশাহহুদ থাকে — যেমন মাগরিব ও এশার সালাত — সেগুলোর শেষ তাশাহহুদের সময় তাওয়াররুক (বাম পা বের করে বসা) করা সুন্নাত। এ সম্পর্কে আরও হাদীস এসেছে।
  8. শয়তানের মতো বসার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আছে, যেমন গোড়ালির ওপর বসা ও পা মাটিতে বিছিয়ে রাখা, অথবা পা সোজা করে দুটির মাঝখানে বসা।
  9. শিকারি জন্তুর মতো হাত মাটিতে বিছিয়ে বসার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আছে, কারণ এটি অলসতা ও দুর্বলতার প্রতীক।
  10. শয়তান ও পশুদের কার্যকলাপের সাথে সাদৃশ্য বা অনুরূপতা করা নিষিদ্ধ।
  11. সালাত শেষ করার জন্য সালাম দেওয়া ফরজ, যা মুসল্লি উপস্থিত এবং অনুপস্থিত সকল ভালো লোকের জন্য সমস্ত ক্ষতি ও অপকর্ম থেকে নিরাপত্তার দোয়া করে।
  12. সালাতে স্থিরতা থাকা ফরয।
সূত্র

صحيح مسلم (1/ 357) (498). شرح النووي على مسلم (4/ 213). سبل السلام، لمحمد الصنعاني (1/ 248 ). توضيح الأحكام مِن بلوغ المرام، لعبد الله البسام (2/ 172). فتح ذي الجلال والإكرام شرح بلوغ المرام، لابن عثيمين (2/ 51). تنبيه الأفهام شرح عمدة الأحكام، لابن عثيمين (2/ 189). تيسير العلام شرح عمدة الأحكام، لعبد الله البسام (ص145).

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস
১১টির মধ্যে ৮
১১টি হাদীস
  1. “খাবারের উপস্থিতিতে ও দু’টি খারাপ বস্তু আটকে রেখে কোনো সালাত নেই।”
  2. এই সালাত এমন তাতে লোকেদের কোনো কথা যথাযথ নয়। (এতে যা বলতে হয়,) তা হল তাসবীহ, তাকবীর ও কুরআন পাঠ।”
  3. মুসল্লীর সালাতে কোমরে হাত রাখাকে আয়েশা অপছন্দ করতেন। আর তিনি বলতেন এটি ইয়াহুদীরা করে।
  4. যখন তোমাদের কেউ সালাতে দাড়ায়, অবশ্যই রহমত তার সম্মূখীন হয়। সতুরাং সে যেন পাথর দূর না করে।
  5. আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সালাতে এদিক ওদিক তাকানো সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, এটা এক ধরনের ছিনতাই, যার মাধ্যমে শয়তান বান্দার সালাত হতে অংশ বিশেষ ছিনিয়ে নেয়।
  6. “তোমাদের কেউ যখন সালাতে দাঁড়ায়, তখন সে তার রবের সাথে কানে কানে (ফিসফিস ক’রে কথা) বলে। আর তার রব তার ও কেবলার মধ্যস্থলে থাকেন। সুতরাং তোমাদের কেউ যেন কেবলার দিকে থুথু না ফেলে; বরং তার বামে অথবা পদতলে ফেলে। অতঃপর তিনি তাঁর চাদরের এক প্রান্ত ধরে তাতে থুথু নিক্ষেপ করলেন। তারপর তিনি তার এক অংশকে আর এক অংশের সাথে রগড়ে দিয়ে বললেন, কিংবা এইরূপ করে।”
  7. “লোকদের কী হয়েছে যে, তারা তাদের সালাতে আকাশের দিকে দৃষ্টি তুলছে?” এ ব্যাপারে তিনি কঠোর বক্তব্য রাখলেন; এমনকি তিনি বললেন, “তারা যেন অবশ্যই এ কাজ হতে বিরত থাকে; নচেৎ অবশ্যই তাদের দৃষ্টি কেড়ে নেওয়া হবে।”
  8. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকবীর (আল্লাহু আকবার) বলে সালাত শুরু করতেন এবং সূরাহ আল ফা-তিহাহ দিয়ে কিরাআত পাঠ শুরু করতেন
  9. এক রাতে দুইবার বিতির নাই।
  10. “যদি কেউ কোনো সালাত ভুলে যায়, তাহলে যখন তা স্মরণ করবে, তখনই তা আদায় করবে। এ ছাড়া সালাতের অন্য কোনো কাফ্ফারা নেই
  11. “মানুষের মাঝে সবচেয়ে খারাপ চোর হলো যে তার সালাতে চুরি করে”। তিনি বলেন, সালাতে কিভাবে চুরি করে? তিনি বললেন, “সে তার রুকু ও সাজদাহ পূর্ণ করে না”।

এখানকার প্রতিটি হাদীস, মান, ব্যাখ্যা ও শিক্ষা HadeethEnc.com যেভাবে প্রকাশ করে হুবহু সেভাবেই দেখানো, তাদের পুনঃপ্রকাশের শর্ত মেনে। মানের সঙ্গে মান-নির্ধারকের নাম নেই। অনুবাদ ও ব্যাখ্যা এর লেখকদের নিজস্ব, এবং কোনো কোনোটিতে বিধান বলা আছে; সাবীলের পর্যালোচকেরা এগুলো যাচাই করেননি। আরবি হাদীসটিই মূল পাঠ। উৎস: HadeethEnc.com