মূল অংশে যান
ব্যাখ্যাসহ হাদীস

সালাত ওয়াজিব হওয়া এবং তা পরিত্যাগকারীর বিধান

১১টি হাদীস

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এমন এক লোকের ব্যাপারে উল্লেখ করা হল, যে সারা রাত এমনকি ভোর পর্যন্ত ঘুমিয়ে ছিল। তখন তিনি বললেন, “সে এমন লোক যার উভয় কানে অথবা তিনি বললেন, তার কানে শয়তান পেশাব করেছে”।

عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بنِ مسعُودٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: ذُكِرَ عِنْدَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَجُلٌ نَامَ لَيْلَهُ حَتَّى أَصْبَحَ، قَالَ: «ذَاكَ رَجُلٌ بَالَ الشَّيْطَانُ فِي أُذُنَيْهِ، أَوْ قَالَ: فِي أُذُنِهِ».
আব্দুল্লাহ ইবনু মাস‘ঊদ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এমন এক লোকের ব্যাপারে উল্লেখ করা হল, যে সারা রাত এমনকি ভোর পর্যন্ত ঘুমিয়ে ছিল। তখন তিনি বললেন, “সে এমন লোক যার উভয় কানে অথবা তিনি বললেন, তার কানে শয়তান পেশাব করেছে”।
সহীহ বুখারী ও মুসলিমমানসহীহ
ব্যাখ্যা

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এমন এক লোকের ব্যাপারে উল্লেখ করা হল, যে ভোর পর্যন্ত ঘুমালো এবং সূর্য উদিত হল কিন্তু ফরয সালাত আদায় করেনি। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, সে এমন লোক যার কানে শয়তান পেশাব করেছে।

শিক্ষা
  1. কিয়ামুল লাইল ত্যাগ করা মাকরূহ এবং এটি শয়তানের কারণে হয়।
  2. শয়তান থেকে সতর্ক করা যে, প্রত্যেক রাস্তায় মানুষের জন্য বসে যায়, যেন তার ও আল্লাহর আনুগত্যের মাঝে প্রতিবন্ধক হতে পারে।
  3. ইবনু হাজার বলেন, তার বাণী (সালাতে দাঁড়ায়নি) দ্বারা উদ্দেশ্য হল সকল সালাত; আবার নির্দিষ্ট সালাতও হতে পারে, তখন তার দ্বারা উদ্দেশ্য হবে রাতের সালাত অথবা ফরয সালাত।
  4. তিবী বলেন, যদিও ঘুমের সাথে চোখ বেশী সামঞ্জস্যশীল, কিন্তু গভীর ঘুমের প্রতি ঈঙ্গিত করে বিশেষভাবে কান উল্লেখ করা হয়েছে; কারণ শ্রবণ ইন্দ্রিয়ই হল জাগ্রত হওয়ার কেন্দ্র। আর পেশাবকে উল্লেখ করার কারণ হল, এটি দ্রুত পেটে প্রবেশ করে এবং দ্রুত রগের ভেতর ঢুকে যায়, ফলে শরীরের সর্বত্র অলসতা তৈরি করে।
সূত্র

صحيح البخاري (4/ 122) (3270). صحيح مسلم (1/ 537) (774). بهجة الناظرين، لسليم الهلالي (2/ 328). نزهة المتقين، لمجموعة من الباحثين (2/ 834). فتح الباري شرح صحيح البخاري، لأحمد العسقلاني (3/ 28). شرح رياض الصالحين، لابن عثيمين (5/ 193). المنهاج شرح صحيح مسلم بن الحجاج، النووي (6/ 64).

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

“তোমরা নিজেদের সন্তান-সন্ততিদেরকে সালাতের আদেশ দাও; যখন তারা সাত বছরের হবে। আর তারা যখন দশ বছরের সন্তান হবে, তখন তাদেরকে সালাতের জন্য প্রহার কর এবং তাদের বিছানা পৃথক করে দাও।”

عن عمرو بن شُعيب عن أبيه عن جدِّه قال: قال رسولُ الله صلى الله عليه وسلم: «مُرُوا أولادكمِ بالصلاةِ وهم أبناءُ سبعِ سِنينَ، واضرِبوهم عليها وهم أبناءُ عَشرٍ، وفرِّقوا بينهم في المَضاجِعِ».
‘আমর ইবন শু‘আইব, তার পিতা হতে, তিনি তার দাদা হতে বর্ণনা করে বলেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “তোমরা নিজেদের সন্তান-সন্ততিদেরকে সালাতের আদেশ দাও; যখন তারা সাত বছরের হবে। আর তারা যখন দশ বছরের সন্তান হবে, তখন তাদেরকে সালাতের জন্য প্রহার কর এবং তাদের বিছানা পৃথক করে দাও।”
আবু দাউদ এটি বর্ণনা করেছেনমানহাসান
ব্যাখ্যা

নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ হাদীসে বর্ণনা করেছেন যে, পিতার উচিত তার সন্তানদেরকে-ছেলে বা মেয়ে- সাত বছর বয়সে সালাতের আদেশ দেওয়া, তাদেরকে সালাত আদায়ের প্রয়োজনীয় শিক্ষা দেওয়া। আর যখন তারা দশ বছর বয়সে উপনীত হবে, তখন তাদেরকে সালাতের ব্যাপারে আরো বেশি নির্দেশ দিতে হবে। সালাত আদায়ে অলসতা করলে তাকে প্রহার করতে হবে এবং তাদেরকে পিতামাতার ও তাদের পরস্পর বিছানা থেকে আলাদা করে দিতে হবে।

শিক্ষা
  1. বাচ্চারা বালিগ হওয়ার আগেই দ্বীনের বিষয়সমূহ-বিশেষ করে সালাত শিক্ষা দেওয়া উচিত।
  2. আদব শিক্ষা দিতে প্রহার করা; তবে শাস্তি দেওয়া জন্যে প্রহার করা নয়। সুতরাং তাদের অবস্থা অনুযায়ী প্রহার করতে হবে।
  3. ইসলামী শরী‘আহ মানুষের সম্মান রক্ষার ব্যাপারে গুরুত্বারোপ করেছে এবং যেসব কারণে মানুষের সম্মান বিনষ্ট হয়, সেগুলোকে বন্ধ করেছে।
সূত্র

سنن أبي داود (1/ 367) (495، 496). نزهة المتقين شرح رياض الصالحين، مجموعة من الباحثين (1/ 299). بهجة الناظرين شرح رياض الصالحين، لسليم الهلالي (1/ 382).

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

যে ব্যক্তি ‘আসরের সালাত ছেড়ে দেয় তার ‘আমল বিনষ্ট হয়ে যায়।”

عن بريدة بن الحصيب رضي الله عنه أنه قال: بَكِّرُوا بِصَلَاةِ الْعَصْرِ، فَإِنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «مَنْ تَرَكَ صَلَاةَ الْعَصْرِ فَقَدْ حَبِطَ عَمَلُهُ».
বুরাইদাহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: শীঘ্র ‘আসরের সালাত আদায় করে নাও। কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “যে ব্যক্তি ‘আসরের সালাত ছেড়ে দেয় তার ‘আমল বিনষ্ট হয়ে যায়।”
এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন।মানসহীহ
ব্যাখ্যা

এ হাদীসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইচ্ছাকৃতভাবে আসরের সালাত সময় মতো আদায় না করে বিলম্বে আদায় করা থেকে সতর্ক করেছেন। আর যে ব্যক্তি আসরের সালাত বিলম্বে পড়ে বা ছেড়ে দেয় তার আমল বিনষ্ট হয় এবং সে খালি হয়ে যায়।

শিক্ষা
  1. আসরের সালাত প্রথম ওয়াক্তে ও দ্রুত আদায় করতে এবং এ সালাতের প্রতি যত্নবান হতে উৎসাহিত করা হয়েছে।
  2. যে ব্যক্তি আসরের সালাত ত্যাগ করে, তার ব্যাপারে রয়েছে কঠোর হুশিয়ারী। এ সালাত কে তার সময় থেকে পিছিয়ে দেয়া, তা ছাড়া যে কোন জিনিস হাত ছাড়া করার চেয়ে মারাত্মক।কেননা এটি হলো সেই সর্বোত্তম-মধ্যবর্তী সালাত, যে সালাতের ব্যাপারে আল্লাহ তা‘আলা তাঁর বাণীতে বিশেষ নির্দেশ দিয়েছেন: حَافِظُواْ عَلَى الصَّلَوَاتِ والصَّلاَةِ الْوُسْطَى “তোমরা সালাতের প্রতি যত্নবান হও, বিশেষত সর্বশ্রেষ্ট-মধ্যবর্তী সালাতের।” [সূরা আল-বাক্বারাহ, ২৩৮]
সূত্র

صحيح البخاري (1/ 115) (553). مسند أحمد (38/ 152) (23045). شرح رياض الصالحين، لابن عثيمين (5/ 56). نزهة المتقين شرح رياض الصالحين، لمصطفى الخِن وغيره (2/ 777). فيض القدير شرح الجامع الصغير (3/ 206). بهجة الناظرين، لسليم الهلالي (2/ 260). تطريز رياض الصالحين، لفيصل آل مبارك (ص614).

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

بُنِيَ الإِسْلاَمُ عَلَى خَمْسٍ: شَهَادَةِ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ، وَإِقَامِ الصَّلاَةِ، وَإِيتَاءِ الزَّكَاةِ، وَالحَجِّ، وَصَوْمِ رَمَضَانَ» “ইসলামের ভিত্তি পাঁচটি।

عَنْ عَبْدِ اللهِ بنِ عُمَر رضي الله عنهما قال: قال رسولُ الله صلى الله عليه وسلم: «بُنِيَ الْإِسْلَامُ عَلَى خَمْسٍ: شَهَادَةِ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ، وَأَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ، وَإِقَامِ الصَّلَاةِ، وَإِيتَاءِ الزَّكَاةِ، وَحَجِّ الْبَيْتِ، وَصَوْمِ رَمَضَانَ».
ইবন `উমার রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «بُنِيَ الإِسْلاَمُ عَلَى خَمْسٍ: شَهَادَةِ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ، وَإِقَامِ الصَّلاَةِ، وَإِيتَاءِ الزَّكَاةِ، وَالحَجِّ، وَصَوْمِ رَمَضَانَ» “ইসলামের ভিত্তি পাঁচটি। -এ কথার সাক্ষ্য দেয়া যে, আল্লাহ ছাড়া সত্য কোনো মাবূদ নেই এবং নিশ্চয় মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর রাসূল। সালাত কায়েম করা, যাকাত দেয়া, হজ করা এবং রমযানের সাওম পালন করা।”
সহীহ বুখারী ও মুসলিমমানসহীহ
ব্যাখ্যা

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইসলামকে সুদৃঢ় পাঁচটি ভিত্তির উপর তুলনা করেছেন, যা উক্ত ভিত্তির উপর দাঁড়িয়ে আছে। ইসলামের অন্যান্য বিধানগুলো যেন উক্ত ভিত্তির পরিপূরক ও পূর্ণতাদানকারী। এসব রুকনের প্রথমটি হলো: দুটি সাক্ষ্য: আল্লাহ ছাড়া সত্য কোনো মাবূদ নেই এবং নিশ্চয় মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর রাসূল -এ কথার সাক্ষ্য দান করা। এ দুটি কালিমার সাক্ষ্য দেওয়া মূলত একটি রুকন। একাংশ আরেক অংশ থেকে আলাদা হয় না। আল্লাহর তাওহীদের-একত্বের স্বীকৃতি ও তিনি একমাত্র ইবাদতের উপযুক্ত ।এ স্বীকৃতি সহকারে বান্দাহ এ কালিমা তার মুখে উচ্চারণ করবে, এর দাবি অনুযায়ী আমল করবে এবং মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের নবুওয়াতের উপর ঈমান আনায়ন ও তাঁর আনুসরণ করবে । দ্বিতীয় রুকন: সালাত কায়েম করা। আর তা হলো দিনে রাতে পাঁচ ওয়াক্ত ফরয সালাত তার শর্তাবলি, রুকন ও ওয়াজিবসমূহ সহকারে আদায় করা। সেগুলো হলো: ফজর, যোহর, আসর, মাগরিব ও ইশা। তৃতীয় রুকন: ফরয যাকাত দেয়া। এটি মূলত ধন-সম্পদের উপর ফরযকৃতএকটি ইবাদত।শরী‘আহ নির্দিষ্ট নিসাব পরিমাণ সম্পদ কারো কাছে থাকলে,যাকাত পাওয়ার হকদারদেরকে প্রদান করা ফরয করেছে। চতুর্থ রুকন: হজ করা। তা হলো আল্লাহর ইবাদতের উদ্দেশ্যে হজের কার্যাবলি পালনের জন্যে মক্কায় গমন করা। পঞ্চম রুকন: রমযানের সাওম পালন করা। আর তা হলো ইবাদতের নিয়তে রমযান মাসে ফজরের শুরু থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত খাদ্য, পানীয় ও অন্যান্য সাওম ভঙ্গকারী বিষয়সমূহ থেকে বিরত থাকা।

শিক্ষা
  1. দু’টি কালিমার সাক্ষ্য একত্রে দেওয়া আবশ্যক। সুতরাং একটি বাদে অপরটি বিশুদ্ধ হবে না। এ কারণে দু’টি কালিমার সাক্ষ্যকে একটি রুকন হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।
  2. দু’টি কালিমার সাক্ষ্য দ্বীনের মূল। সুতরাং কারো কোন কথা ও আমল এ দু’টি কালিমার সাক্ষ্য দেওয়া ব্যতীত গ্রহণ করা হবে না।
সূত্র

صحيح البخاري (1/ 11) (8)، صحيح مسلم (1/ 45) (16)، و(1/ 88) (82)، فتح الباري لابن رجب (1/ 22)، جامع العلوم والحكم (1/147)، شرح الأربعين لابن العطّار (ص 62)، شرح الأربعين النووية لعبد الكريم الخضير (ص 87)، فتح القوي المتين في شرح الأربعين للعباد (ص 29)، شرح الأربعين النووية لصالح آل الشيخ (ص 91 - 95)، التحفة الربانية لإسماعيل الأنصاري (ص 12).

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

এবং আমি বনু সা‘দ ইবনু বকরের ভাই দ্বিমাম ইবনু ছা‘লাবাহ।

عن أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ رضي الله عنه قال: بينما نحن جلوس مع النبي صلى الله عليه وسلم في المسجد دخل رجل على جمل، فأناخه في المسجد ثم عقله، ثم قال لهم: أيكم محمد؟ والنبي صلى الله عليه وسلم متكئ بين ظهرانيهم، فقلنا: هذا الرجل الأبيض المتكئ. فقال له الرجل: يا ابن عبد المطلب فقال له النبي صلى الله عليه وسلم: «قد أجبتك». فقال الرجل للنبي صلى الله عليه وسلم: إني سائلك فمشدد عليك في المسألة، فلا تجد علي في نفسك؟ فقال: «سل عما بدا لك» فقال: أسألك بربك ورب من قبلك، آلله أرسلك إلى الناس كلهم؟ فقال: «اللهم نعم». قال: أنشدك بالله، آلله أمرك أن نصلي الصلوات الخمس في اليوم والليلة؟ قال: «اللهم نعم». قال: أنشدك بالله، آلله أمرك أن نصوم هذا الشهر من السنة؟ قال: «اللهم نعم». قال: أنشدك بالله، آلله أمرك أن تأخذ هذه الصدقة من أغنيائنا فتقسمها على فقرائنا؟ فقال النبي صلى الله عليه وسلم: «اللهم نعم». فقال الرجل: آمنت بما جئت به، وأنا رسول من ورائي من قومي، وأنا ضمام بن ثعلبة أخو بني سعد بن بكر.
আনাস ইবনু মালিক রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: একদা আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে মসজিদে বসা ছিলাম, এক ব্যক্তি উটের পিঠে সওয়ার হয়ে সেখানে এসে তার উটকে মসজিদে বসিয়ে বাঁধলেন। তারপর সাহাবীদেরকে বললেন: “তোমাদের মধ্যে মুহাম্মাদ কে?” নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তখন তাদের মধ্যেই হেলান দেওয়া অবস্থাতে ছিলেন, আমরা বললাম: হেলান দেওয়া এই সাদা ব্যক্তিটি। তখন সে বলল: হে আব্দুল মুত্তালিবের সন্তান! নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে বললেন: “আমি তোমার জবাব দিয়েছি।” তখন সে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে উদ্দেশ্য করে বলল: আমি আপনাকে কিছু বিষয় কঠিনভাবে জিজ্ঞাসা করছি, হয়ত তা আপনাকে কষ্ট দেবে, তবে আপনি আমার ব্যাপারে আপনার অন্তরে কোন কষ্ট নেবেন না। তখন তিনি বললেন: “তুমি জিজ্ঞাসা কর যা জানতে চাও।” তখন সে বলল: আমি আপনার রব এবং আপনার পূর্ববর্তীদের রবের কসম করে জিজ্ঞাসা করছি, আল্লাহ কী আপনাকে সমগ্র মানব জাতীর কাছে প্রেরণ করেছেন? তিনি বললেন: “আল্লাহুম্মা (হে আল্লাহ!), অবশ্যই।” তারপর সে বলল: আমি আপনাকে আল্লাহর কসম দিয়ে জিজ্ঞাসা করছি, আল্লাহ কী আপনাকে আদেশ করেছেন যে, আমরা রাতে-দিনে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করব? তিনি বললেন: “আল্লাহুম্মা (হে আল্লাহ!), অবশ্যই।” তারপর সে বলল: আমি আপনাকে আল্লাহর কসম দিয়ে জিজ্ঞাসা করছি, আল্লাহ কী আপনাকে আদেশ করেছেন যে, আমরা বছরের এই মাসে সিয়াম পালন করব? তিনি বললেন: “আল্লাহুম্মা (হে আল্লাহ!), অবশ্যই।” তারপর সে বলল: আমি আপনাকে আল্লাহর কসম দিয়ে জিজ্ঞাসা করছি, আল্লাহ কী আপনাকে আদেশ করেছেন যে, আপনি আমাদের ধনী ব্যক্তিদের থেকে এই সদাকাহ (যাকাত) গ্রহণ করে তা আমাদের দরিদ্রদের মাঝে বণ্টন করে দিবেন? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: “আল্লাহুম্মা (হে আল্লাহ!), অবশ্যই।” তারপর লোকটি বলল: আপনি যা নিয়ে আগমন করেছেন তার উপরে আমি ঈমান আনলাম আর আমি হচ্ছি আমার পিছনে থাকা কওমের প্রতিনিধি, এবং আমি বনু সা‘দ ইবনু বকরের ভাই দ্বিমাম ইবনু ছা‘লাবাহ।
সহীহ বুখারী ও মুসলিমমানসহীহ
ব্যাখ্যা

আনাস ইবনু মালিক রদিয়াল্লাহু ‘আনহু বর্ণনা করছেন, সাহাবীগণ একদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে মসজিদে বসে ছিলেন, তখন উটের পিঠে করে একজন ব্যক্তি তার কাছে এসে উটকে বসিয়ে তা বেঁধে রাখল। তারপর সে জিজ্ঞাসা করল: তোমাদের মধ্যে মুহাম্মাদ কে? সবার মাঝে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন হেলান দেওয়া অবস্থায় ছিলেন। আমরা বললাম: এই সাদা পোষাক পরিহিত হেলান দেওয়া ব্যক্তি। তখন লোকটি বলল: হে আব্দুল মুত্তালিবের সন্তান! নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে বললেন: আমি তোমার কথা শুনেছি, তুমি প্রশ্ন কর, আমি উত্তর দেব। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে উদ্দেশ্য করে লোকটি বলল: আমি আপনাকে কঠোর ভাষায় জিজ্ঞাসা করছি, তাই আপনি আমার ওপর অসন্তুষ্ট হবেন না। তথা: আমার উপরে রাগ করবেন না এবং আমার ব্যাপারে সংকীর্ণ মনোভাব পোষণ করবেন না। তিনি বললেন: তুমি যা ইচ্ছা জিজ্ঞাসা কর। তখন সে বলল: আমি আপনাকে আপনার রব ও আপনার আগে গত হওয়া ব্যক্তিদের রবের কসম দিয়ে জিজ্ঞাসা করছি, আল্লাহ কী আপনাকে মানুষের কাছে প্রেরণ করেছেন? তখন তিনি তার সত্যতা নিশ্চিত করে বললেন: “হে আল্লাহ!১ হ্যাঁ। তখন লোকটি বলল: আমি আপনাকে আল্লাহর কসম দিচ্ছি, তথা: আল্লাহর নামে আপনাকে জিজ্ঞাসা করছি, আল্লাহ কী আপনাকে আদেশ করেছেন যে, আমরা যেন দিনে-রাতে পাঁচবার সালাত আদায় করি? এগুলো হচ্ছে ফরয সালাতসমূহ। তিনি বললেন: “হে আল্লাহ! হ্যাঁ।” তখন লোকটি বলল: আমি আপনাকে কসম দিচ্ছি, আল্লাহ কী আপনাকে আদেশ করেছেন যে, আমরা বছরের এ মাস তথা রমাদান মাসে সিয়াম পালন করব? তিনি বললেন: “হে আল্লাহ ! হ্যাঁ।” তখন লোকটি বলল: আমি আপনাকে কসম দিচ্ছি, আল্লাহ কী আপনাকে আদেশ করেছেন যে, আপনি আমাদের ধনী ব্যক্তিদের কাছ থেকে সদাকা গ্রহণ করে আমাদের দরিদ্রদের মাঝে তা বণ্টন করে দেবেন? আর তা হল: যাকাত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: “হে আল্লাহ ! হ্যাঁ।” তরাপর দ্বিমাম ইসলাম গ্রহণ করেন এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সংবাদ দিলেন যে, তিনি অচিরেই তার জাতিকে ইসলামের দিকে আহবান জানাবেন। আর এরপরে তিনি তার নিজের পরিচয় প্রদান করে বললেন: তিনি হচ্ছেন বনু সা‘দ ইবনু বাকরের অন্তর্ভুক্ত দ্বিমাম ইবনু ছা‘লাবাহ।

শিক্ষা
  1. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বিনয় প্রকাশ: যেহেতু সাহাবীদের থেকে এ লোকটি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে পৃথক করতে পারছিলেন না।
  2. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্দর আচরণ: এবং প্রশ্নকারীর জবাবে তার কোমলতা ফুটে উঠেছে। আর সুন্দরভাবে উত্তর প্রদান করা দাও‘আত গ্রহণ করার মাধ্যম।
  3. কোন ব্যক্তিকে তার বৈশিষ্ট্য দ্বারা পরিচয় দেওয়া যেমন: লাল, সাদা, লম্বা, খাটো বা এরকম অন্যান্য বৈশিষ্ট্য, যার মাধ্যমে ত্রুটি বর্ণনা উদ্দেশ্য না, তা দ্বারা পরিচয় প্রদান করা জায়েয, যদি উক্ত ব্যক্তি তা অপছন্দ না করে।
  4. প্রয়োজন সাপেক্ষে কাফিরের মসজিদে প্রবেশ করা জায়েয।
  5. রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাদীসে হজ্জের উল্লেখ করেননি, হতে পারে উক্ত ব্যক্তি আগমনের সময় পর্যন্ত হজ্জ ফরয হয়নি।
  6. হাদীসটিতে সাহাবীদের মানুষকে ইসলামের দিকে আহবানের আগ্রহের কথা ফুটে উঠেছে। কারণ তার শুধুমাত্র ইসলাম গ্রহণের পরপরই তিনি তার জাতিকে দাও‘আত দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
সূত্র

صحيح البخاري (1/ 23) (63)، صحيح مسلم (1/ 41) (12)، شرح ابن بطال (1/145)، عمدة القاري شرح صحيح البخاري (2/ 22).

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

“যদি কেউ কোনো সালাত ভুলে যায়, তাহলে যখন তা স্মরণ করবে, তখনই তা আদায় করবে। এ ছাড়া সালাতের অন্য কোনো কাফ্ফারা নেই

عن أنس بن مالك رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «مَنْ نَسِيَ صَلَاةً فَلْيُصَلِّ إِذَا ذَكَرَهَا، لَا كَفَّارَةَ لَهَا إِلَّا ذَلِكَ: {وَأَقِمِ الصَّلاةَ لِذِكْرِي} [طه: 14]».
আনাস ইবনু মালিক রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “যদি কেউ কোনো সালাত ভুলে যায়, তাহলে যখন তা স্মরণ করবে, তখনই তা আদায় করবে। এ ছাড়া সালাতের অন্য কোনো কাফ্ফারা নেই। (কেননা, আল্লাহ্ তা‘আলা বলেছেন) ‘‘আমাকে স্মরণের উদ্দেশে সালাত কায়িম কর’’- (সূরাহ্ ত্বা-হা ১৪)”।
সহীহ বুখারী ও মুসলিমমানসহীহ
ব্যাখ্যা

নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বর্ণনা করেন, যে ব্যক্তি কোনো ফরয সালাত আদায় করতে ভুলে যায় ও সময় শেষ হয়ে গেল। তখন তার কর্তব্য হলো স্মরণ হওয়া মাত্রই তা দ্রুত ও তাড়াতাড়ি আদায় করে নেওয়া; কেননা মুসলিম তা স্মরণ হওয়া মাত্রই আদায় করা ছাড়া তার পাপের ক্ষমা মোচন নেই। আল্লাহ তা‘আলা তার সম্মানিত কিতাবে বলেন, ‘‘আমাকে স্মরণের উদ্দেশে সালাত কায়িম কর’’- (সূরাহ্ ত্বা-হা ১৪)”। অর্থাৎ ভুলে যাওয়া সালাত যখন স্মরণ করবে তখনই তা আদায় কর।

শিক্ষা
  1. সালাতের গুরুত্ব বর্ণনা এবং তা আদায় ও কাযা করার ক্ষেত্রে কোনো শিথিলতা না করা।
  2. কোনো ওযর ছাড়া ইচ্ছাকৃতভাবে সালাতকে তার সময় থেকে বিলম্ব করা বৈধ নয়।
  3. ভুলে যাওয়া ব্যক্তি যখন স্মরণ করবে এবং ঘুমন্ত ব্যক্তি যখন জাগ্রত হবে তখনই সালাত কাযা করা ওয়াজিব।
  4. নিষিদ্ধ সময় হলেও সাথে সাথে সালাত কাযা করা ওয়াজিব।
সূত্র

صحيح البخاري (1/ 122) (597)، صحيح مسلم (1/ 477) (684)، فتح الباري لابن حجر (2/ 71)، البحر المحيط الثجاج في شرح صحيح الإمام مسلم بن الحجاج (14/ 612).

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

“বান্দা এবং শিরক ও কুফরের মধ্যে পার্থক্য হচ্ছে সালাত ছেড়ে দেয়া”।

عن جابرٍ رضي الله عنه قال: سمعت النبي صلى الله عليه وسلم يقول: «إِنَّ بَيْنَ الرَّجُلِ وَبَيْنَ الشِّرْكِ وَالْكُفْرِ تَرْكَ الصَّلَاةِ».
জাবির রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি, “বান্দা এবং শিরক ও কুফরের মধ্যে পার্থক্য হচ্ছে সালাত ছেড়ে দেয়া”।
ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেনমানসহীহ
ব্যাখ্যা

নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফরয সালাত ত্যাগ করা থেকে সতর্ক করেছেন এবং তিনি সংবাদ দিয়েছেন, বান্দা এবং শিরক ও কুফরের মধ্যে পতিত হওয়ার মাঝে পার্থক্য হচ্ছে সালাত ছেড়ে দেয়া। কারণ, সালাত হলো ইসলামের দ্বিতীয় রোকন আর ইসলামে তার গুরুত্ব অনেক বেশী। অতএব যে সালাত ওয়াজিব হওয়াকে অস্বীকার করে ত্যাগ করবে সে সকল মুসলিমের নিকট কাফির। আর যদি শিথিলতা ও অলসতাবশত একেবারেই তা ত্যাগ করে সেও কাফির। এই মাসআলার ওপর সাহাবীদের ঐক্যমত্য বর্ণনা করা হয়েছে। আর যদি কখনো ছাড়ে কখনো পড়ে সেও এই কঠিন হুশিয়ারির সম্মুখীন।

শিক্ষা
  1. সালাত ও সালাতের প্রতি যত্নশীল থাকার গুরুত্ব। কারণ তা কুফর ও ঈমানের মাঝে পার্থক্যকারী।
  2. সালাত ত্যাগ ও নষ্ট করা বিষয়ে কঠিন সতর্ক বাণী।
সূত্র

صحيح مسلم (1/ 88) (82)، المفهم لما أشكل من تلخيص كتاب مسلم (1/ 271)، البحر المحيط الثجاج في شرح صحيح الإمام مسلم بن الحجاج (2/ 622).

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

“আমাদের ও তাদের মধ্যে প্রতিশ্রুতি হচ্ছে সালাত। যে তা পরিত্যাগ করল সে কুফুরী করল।”

عن بريدة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «إِنَّ الْعَهْدَ الَّذِي بَيْنَنَا وَبَيْنَهُمُ الصَّلَاةُ، فَمَنْ تَرَكَهَا فَقَدْ كَفَرَ».
বুরায়দাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “আমাদের ও তাদের মধ্যে প্রতিশ্রুতি হচ্ছে সালাত। যে তা পরিত্যাগ করল সে কুফুরী করল।”
এটি তিরমিযী, নাসায়ী, ইবনে মাজাহ ও আহমাদ বর্ণনা করেছেন।মানসহীহ
ব্যাখ্যা

নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুসলিম ও অমুসলিম কাফির, মুনাফিকদের মাঝে প্রতিশ্রুতি ও অঙ্গীকারের কথা বর্ণনা করেছেন। কাজেই যে তা পরিত্যাগ করল সে কুফুরী করল।

শিক্ষা
  1. সালাতের বিষয়টি এতই গুরুত্বপূর্ণ যে, তা মুমিন ও কাফিরের মাঝে পার্থক্যকারী।
  2. ব্যক্তির বাহ্যিক অবস্থা দ্বারা ইসলামের বিধান সাব্যস্ত হবে, তার অভ্যন্তরীণ অবস্থা দ্বারা নয়।
সূত্র

سنن النسائي (1/ 231) (463)، سنن الترمذي (4/ 365) (2621)، سنن ابن ماجه (2/ 181) (1079)، مسند أحمد (38/ 20) (22937)، فيض القدير (4/ 395)، ذخيرة العقبى في شرح المجتبى (6/ 192) (6/ 193).

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস
১১টির মধ্যে ৮
১১টি হাদীস
  1. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এমন এক লোকের ব্যাপারে উল্লেখ করা হল, যে সারা রাত এমনকি ভোর পর্যন্ত ঘুমিয়ে ছিল। তখন তিনি বললেন, “সে এমন লোক যার উভয় কানে অথবা তিনি বললেন, তার কানে শয়তান পেশাব করেছে”।
  2. “তোমরা নিজেদের সন্তান-সন্ততিদেরকে সালাতের আদেশ দাও; যখন তারা সাত বছরের হবে। আর তারা যখন দশ বছরের সন্তান হবে, তখন তাদেরকে সালাতের জন্য প্রহার কর এবং তাদের বিছানা পৃথক করে দাও।”
  3. যে ব্যক্তি ‘আসরের সালাত ছেড়ে দেয় তার ‘আমল বিনষ্ট হয়ে যায়।”
  4. بُنِيَ الإِسْلاَمُ عَلَى خَمْسٍ: شَهَادَةِ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ، وَإِقَامِ الصَّلاَةِ، وَإِيتَاءِ الزَّكَاةِ، وَالحَجِّ، وَصَوْمِ رَمَضَانَ» “ইসলামের ভিত্তি পাঁচটি।
  5. এবং আমি বনু সা‘দ ইবনু বকরের ভাই দ্বিমাম ইবনু ছা‘লাবাহ।
  6. “যদি কেউ কোনো সালাত ভুলে যায়, তাহলে যখন তা স্মরণ করবে, তখনই তা আদায় করবে। এ ছাড়া সালাতের অন্য কোনো কাফ্ফারা নেই
  7. “বান্দা এবং শিরক ও কুফরের মধ্যে পার্থক্য হচ্ছে সালাত ছেড়ে দেয়া”।
  8. “আমাদের ও তাদের মধ্যে প্রতিশ্রুতি হচ্ছে সালাত। যে তা পরিত্যাগ করল সে কুফুরী করল।”
  9. “যে ব্যক্তি আমাদের ন্যায় সালাত আদায় করে, আমাদের ক্বিবলা মুখী হয় আর আমাদের যবেহ করা প্রাণী খায়, সে-ই মুসলিম, যার জন্য আল্লাহ ও তাঁর রাসূল যিম্মাদার। সুতরাং তোমরা আল্লাহর যিম্মাদারীতে বিশ্বাসঘাতকতা করো না।
  10. সালাত পড়বে এবং তোমাদের অধীনস্থ দাস-দাসীর সাথে সদ্ব্যবহার করবে।
  11. بُنِيَ الإِسْلاَمُ عَلَى خَمْسٍ: شَهَادَةِ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ، وَإِقَامِ الصَّلاَةِ، وَإِيتَاءِ الزَّكَاةِ، وَالحَجِّ، وَصَوْمِ رَمَضَانَ» “ইসলামের ভিত্তি পাঁচটি।

এখানকার প্রতিটি হাদীস, মান, ব্যাখ্যা ও শিক্ষা HadeethEnc.com যেভাবে প্রকাশ করে হুবহু সেভাবেই দেখানো, তাদের পুনঃপ্রকাশের শর্ত মেনে। মানের সঙ্গে মান-নির্ধারকের নাম নেই। অনুবাদ ও ব্যাখ্যা এর লেখকদের নিজস্ব, এবং কোনো কোনোটিতে বিধান বলা আছে; সাবীলের পর্যালোচকেরা এগুলো যাচাই করেননি। আরবি হাদীসটিই মূল পাঠ। উৎস: HadeethEnc.com