মূল অংশে যান
ব্যাখ্যাসহ হাদীস

অযুর সুন্নত ও আদব

১০টি হাদীস

যখন তোমরা কাপড় পরিধান করবে ও ওযূ করবে তখন তোমরা তোমাদের ডান দিক থেকে আর‎ম্ভ করবে।

عن أبي هريرة رضي الله عنه مرفوعًا: «إِذَا لَبِسْتُم، وَإِذَا تَوَضَّأتُم، فَابْدَأُوا بَأَيَامِنُكُم».
আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যখন তোমরা কাপড় পরিধান করবে ও ওযূ করবে তখন তোমরা তোমাদের ডান দিক থেকে আর‎ম্ভ করবে।”
এটি ইবন মাজাহ বর্ণনা করেছেন। - এটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন। - এটি আবূ দাঊদ বর্ণনা করেছেন। - এটি আহমাদ বর্ণনা করেছেন।মানসহীহ
ব্যাখ্যা

আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুর হাদীসটি যাবতীয় ভালো কর্মে ডান দিক মুস্তাহাব হওয়ার বিষয়টিকে গুরুত্ব দেয়। তাই তিনি বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “যখন তোমরা পরিধান কর” অর্থাৎ তোমরা পরিধান করার ইচ্ছা কর। “এবং যখন তোমরা ওযু কর” অর্থাৎ ওযু করার ইচ্ছা কর, “তখন তোমরা তোমাদের ডান দিক থেকে শুরু কর”। ‘আয়ামান’ আইমান এর বহুবচন অর্থ বামের বিপরীত। সুতরাং জামার পরিধানে তোমরা বামের পূর্বে ডান হাতকে আগে বাড়াবে এবং ওযুর সময় হাত ও পায়ের ক্ষেত্রে ডানকে আগে বাড়াবে। বিকলাঙ্গ ব্যক্তি ওযূর সব আমলে ডানকে গ্রহন করবে। অতঃপর যেনে রাখা ভালো যে, ওযূর কতক অঙ্গ আছে যাতে ডান দিক মুস্তাহাব নয়। আর তা হলো দুই কান, কব্জি, চেহারা। বরং তা একবারেই করবে। যদি তা কষ্টকর হয়, যেমন বিকলাঙ্গের ইত্যাদির ক্ষেত্রে তখন ডানকে আগে বাড়াবে।

সূত্র

بهجة الناظرين شرح رياض الصالحين، لسليم الهلالي، ط1، دار ابن الجوزي، الدمام، 1415هـ. تطريز رياض الصالحين، للشيخ فيصل المبارك، ط1، تحقيق: عبد العزيز بن عبد الله آل حمد، دار العاصمة، الرياض، 1423هـ. جامع الترمذي، تحقيق وتعليق: أحمد محمد شاكر وآخرون، ط2، شركة مكتبة ومطبعة مصطفى البابي الحلبي ، مصر، 1395هـ. دليل الفالحين لطرق رياض الصالحين لمحمد علي بن محمد بن علان، ط4، اعتنى بها: خليل مأمون شيحا، دار المعرفة، بيروت، 1425هـ. رياض الصالحين للنووي، ط1، تحقيق: ماهر ياسين الفحل، دار ابن كثير، دمشق، بيروت، 1428هـ. رياض الصالحين، ط4، تحقيق: عصام هادي، وزارة الأوقاف والشؤون الإسلامية القطرية، دار الريان، بيروت، 1428هـ. سنن أبي داود ،تحقيق: محمد محيي الدين عبد الحميد، المكتبة العصرية، بيروت. سنن ابن ماجه، تحقيق: محمد فؤاد عبد الباقي، دار إحياء الكتب العربية، فيصل عيسى البابي الحلبي. الشرح الممتع على زاد المستقنع، لمحمد بن صالح بن محمد العثيمين، ط1، دار ابن الجوزي، 1422 - 1428هـ. كنوز رياض الصالحين، مجموعة من الباحثين برئاسة حمد بن ناصر العمار، ط1، كنوز إشبيليا، الرياض، 1430هـ. مسند الإمام أحمد بن حنبل، تحقيق: شعيب الأرنؤوط و عادل مرشد، وآخرون، تحت إشراف: د عبد الله بن عبد المحسن التركي، ط1، مؤسسة الرسالة، 1421هـ. مشكاة المصابيح للتبريزي، تحقيق: محمد ناصر الدين الألباني، ط3، المكتب الإسلامي، بيروت، 1985م. المنهاج شرح صحيح مسلم بن الحجاج، للنووي، ط2، دار إحياء التراث العربي - بيروت، 1392هـ. شرح رياض الصالحين، للشيخ ابن عثيمين، دار الوطن للنشر، الرياض، 1426هـ. نزهة المتقين شرح رياض الصالحين، لمجموعة من الباحثين، ط14، مؤسسة الرسالة، 1407هـ.

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য দাঁতন ও ওযূর পানি প্রস্তুত করে রাখতাম। অতঃপর আল্লাহর যখন রাতে তাঁকে জাগাবার ইচ্ছা হত, তখন তিনি জেগে উঠতেন। তারপর দাঁতন করতেন, ওযূ ক’রতেন ও সালাত আদায় করতেন।

عن عائشة رضي الله عنها ، قالت: كُنَّا نُعِدُّ لرسول الله صلى الله عليه وسلم سِوَاكَهُ وَطَهُورَهُ، فَيَبْعَثُهُ الله ما شاء أن يَبْعَثَهُ من الليل، فَيَتَسَوَّكُ، ويتوضَّأ ويُصلي.
আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য দাঁতন ও ওযূর পানি প্রস্তুত করে রাখতাম। অতঃপর আল্লাহর যখন রাতে তাঁকে জাগাবার ইচ্ছা হত, তখন তিনি জেগে উঠতেন। তারপর দাঁতন করতেন, ওযূ ক’রতেন ও সালাত আদায় করতেন।
এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।মানসহীহ
ব্যাখ্যা

আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা সংবাদ দেন যে, তিনি রাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য দাঁতন ও ওযূর পানি প্রস্তুত করে রাখতেন। অতঃপর রাতের যে কোন অংশে আল্লাহ তাঁকে জাগাতো, তখন জেগে উঠে তিনি মিসওয়াক দ্বারা দাঁত মাঝা আরম্ভ করতেন, যাতে সাধারণত ঘুমের কারণে মুখে যে দুর্গন্ধ তৈরি হয় তা দূর হয়ে যায়। তারপর তিনি সালাতের জন্য যেভাবে ওযূ করতেন সেভাবে ওযূ করতেন এবং রাতের সালাত আদায় করতেন।’

সূত্র

بهجة الناظرين شرح رياض الصالحين، سليم بن عيد الهلالي، دار ابن الجوزي، الدمام، الطبعة: الأولى 1415هـ. رياض الصالحين من كلام سيد المرسلين، أبو زكريا محيي الدين النووي، تحقيق ماهر الفحل، دار ابن كثير، دمشق، بيروت، الطبعة: الأولى 1428هـ. صحيح مسلم، مسلم بن الحجاج القشيري النيسابوري، تحقيق محمد فؤاد عبد الباقي، دار إحياء التراث العربي، بيروت، الطبعة: 1423 هـ. نزهة المتقين شرح رياض الصالحين، مجموعة من الباحثين، مؤسسة الرسالة، بيروت، الطبعة: الرابعة عشر 1407هـ.

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে তো আমরা এরূপ খাদ্য খুব কমই পেতাম। আর যখন আমরা তা পেতাম, তখন আমাদের হতের কব্জি, হাতের বাহু ও পা ছাড়া কোনো রুমাল ছিল না। তারপর (নতুন) অযু না করেই আমরা সালাত আদায় করতাম।

عن سعيد بن الحارث: أنه سأل جابرا رضي الله عنه عن الوضوء مما مَسَّتِ النارُ، فقال: لا، قد كنا زمن النبي - صلى الله عليه وسلم - لا نجد مثل ذلك الطعام إلا قليلا، فإذا نحن وجدناه، لم يكن لنا مَنَادِيلُ إلا أَكُفَّنَا، وسَوَاعِدَنَا، وأَقْدَامَنَا، ثم نصلي ولا نتوضأ.
সা‘ঈদ ইবনুল হারেস কর্তৃক বর্ণিত, তিনি জাবের রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুকে আগুনে স্পর্শ করা বস্তু খাওয়ার পর অযু করা সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করলেন। তিনি বললেন, ‘না। (অযু করতে হবে না।) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে তো আমরা এরূপ খাদ্য খুব কমই পেতাম। আর যখন আমরা তা পেতাম, তখন আমাদের হতের কব্জি, হাতের বাহু ও পা ছাড়া কোনো রুমাল ছিল না। তারপর (নতুন) অযু না করেই আমরা সালাত আদায় করতাম।’
এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন।মানসহীহ
ব্যাখ্যা

সা‘ঈদ ইবনুল হারেস তিনি জাবের রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুকে রান্না করতে গিয়ে অথবা ভুনা করতে গিয়ে অথবা অন্য কোনোভাবে আগুনে স্পর্শ করা বস্তু খাওয়ার পর অযু করা সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করলেন। তাতে অযু আবশ্যক কি না? জাবের বললেন, এর দ্বারা অযু ওয়াজিব হবে না। অতঃপর এর দলীল বর্ণনা করে বললেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে তো আমরা এরূপ খাদ্য খুব কমই পেতাম। আর যখন আমরা তা পেতাম, তখন আমাদের তো খাবারের তৈলাক্ত মুছার জন্যে কোনো রুমাল ছিল না, তবে আমাদের আঙ্গুলগুলো চাটার পর হাতের কব্জি, বাহু ও পা দ্বারা মুছে ফেলতাম। তারপর (নতুন) অযু না করেই আমরা সালাত আদায় করতাম।

সূত্র

.دليل الفالحين لطرق رياض الصالحين، لابن علان، نشر دار الكتاب العربي. نزهة المتقين شرح رياض الصالحين، نشر: مؤسسة الرسالة، الطبعة: الرابعة عشر، 1407ه 1987م. بهجة الناظرين شرح رياض الصالحين، للهلالي، نشر: دار ابن الجوزي. صحيح البخاري، نشر: دار طوق النجاة (مصورة عن السلطانية بإضافة ترقيم ترقيم محمد فؤاد عبد الباقي)، الطبعة: الأولى، 1422ه.

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

“পরিপূর্ণরূপে অযু করবে, অঙ্গুলিসমূহ খিলাল করবে এবং নাকে উত্তমরূপে পানি পৌঁছাবে, তবে সিয়াম রত অবস্থায় নয়”।

عَنْ لَقِيطِ بْنِ صَبِرَةَ رَضيَ اللهُ عنه قَالَ: كُنْتُ وَافِدَ بَنِي الْمُنْتَفِقِ -أَوْ فِي وَفْدِ بَنِي الْمُنْتَفِقِ- إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: فَلَمَّا قَدِمْنَا عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَلَمْ نُصَادِفْهُ فِي مَنْزِلِهِ، وَصَادَفْنَا عَائِشَةَ أُمَّ الْمُؤْمِنِينَ، قَالَ: فَأَمَرَتْ لَنَا بِخَزِيرَةٍ، فَصُنِعَتْ لَنَا، قَالَ: وَأُتِينَا بِقِنَاعٍ -وَالْقِنَاعُ: الطَّبَقُ فِيهِ تَمْرٌ- ثُمَّ جَاءَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ: «هَلْ أَصَبْتُمْ شَيْئًا؟ أَوْ أُمِرَ لَكُمْ بِشَيْءٍ؟» قَالَ: قُلْنَا: نَعَمْ، يَا رَسُولَ اللَّهِ، قَالَ: فَبَيْنَا نَحْنُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ جُلُوسٌ، إِذْ دَفَعَ الرَّاعِي غَنَمَهُ إِلَى الْمُرَاحِ، وَمَعَهُ سَخْلَةٌ تَيْعَرُ، فَقَالَ: «مَا وَلَّدْتَ يَا فُلَانُ؟»، قَالَ: بَهْمَةً، قَالَ: «فَاذْبَحْ لَنَا مَكَانَهَا شَاةً»، ثُمَّ قَالَ: «لَا تَحْسِبَنَّ» وَلَمْ يَقُلْ: لَا تَحْسَبَنَّ «أَنَّا مِنْ أَجْلِكَ ذَبَحْنَاهَا، لَنَا غَنَمٌ مِائَةٌ لَا نُرِيدُ أَنْ تَزِيدَ، فَإِذَا وَلَّدَ الرَّاعِي بَهْمَةً، ذَبَحْنَا مَكَانَهَا شَاةً» قَالَ: قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، إِنَّ لِي امْرَأَةً وَإِنَّ فِي لِسَانِهَا شَيْئًا -يَعْنِي الْبَذَاءَ- قَالَ: «فَطَلِّقْهَا إِذن»، قَالَ: قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ لَهَا صُحْبَةً، وَلِي مِنْهَا وَلَدٌ، قَالَ: «فَمُرْهَا» يَقُولُ: عِظْهَا، «فَإِنْ يَكُ فِيهَا خَيْرٌ فَسَتَفْعَلْ، وَلَا تَضْرِبْ ظَعِينَتَكَ كَضَرْبِكَ أُمَيَّتَكَ» فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، أَخْبِرْنِي عَنِ الْوُضُوءِ، قَالَ: «أَسْبِغِ الْوُضُوءَ، وَخَلِّلْ بَيْنَ الْأَصَابِعِ، وَبَالِغْ فِي الِاسْتِنْشَاقِ إِلَّا أَنْ تَكُونَ صَائِمًا».
লাকীত ইবন সাবুরাহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট আগত বনু মুনতাফিক্ব গোত্রের প্রতিনিধি দলটির নেতা ছিলাম আমি অথবা বলেছেন, আমি তাঁদের মধ্যেই ছিলাম। আমরা যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে পৌঁছলাম তখন তাঁকে তাঁর ঘরে উপস্থিত পেলাম না, অবশ্য উম্মুল মু’মিনীন ’আয়িশাহ্-কে পেলাম। তিনি আমাদের জন্য ’খাযিরাহ’ (এক প্রকার খাদ্য) তৈরীর আদেশ দিলেন। অতঃপর আমাদের জন্য তা তৈরী করা হলো এবং আমাদের সম্মুখে ক্বিনা’ (অর্থাৎ খেজুর ভর্তি একটি পাত্র) পেশ করা হলো। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এসে বললেনঃ “তোমরা কিছু খেয়েছো কি? অথবা তিনি বললেন, তোমাদের আপ্যায়নের ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে কি?” আমরা বললাম, হ্যাঁ, হে আল্লাহর রসূল! লাক্বীত্ব বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট বসা ছিলাম। এমন সময় এক রাখাল তাঁর মেষপাল খোঁয়াড়ে নিয়ে এলেন। আর সাথে একটি ছাগলের বাচ্চা ছিল, সেটি চিৎকার করছিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞেস করলেনঃ “হে উমুক! কি বাচ্চা জন্ম হয়েছে?” সে বলল, মাদী। তিনি বলেন, “সেটির পরিবর্তে আমাদের জন্য একটি বকরী যাবাহ্ কর”। অতঃপর (প্রতিনিধি দলের নেতাকে উদ্দেশ্য করে) বললেনঃ “এমনটি মনে করো না যে, বকরীটি তোমার জন্যই যাবাহ্ করছি। বরং আমাদের কাছে একশ’টি বকরী আছে। তাই আমরা এর সংখ্যা আর বাড়াতে চাই না। সেজন্যই কোন বাচ্চা জন্ম হলে আমরা সেটির পরিবর্তে একটি বকরী যাবাহ্ করি”। তিনি বলেন, আমি বললামঃ হে আল্লাহর রসূল! আমার একজন স্ত্রী আছে। সে অশ্লীলভাষী। তিনি বললেনঃ “তাহলে তাকে ত্বালাক দাও”। তিনি বলেন, আমার সাহচর্যে সে দীর্ঘ দিন অতিবাহিত করেছে এবং তার গর্ভজাত আমার একটি সন্তানও রয়েছে। তিনি বললেনঃ “তবে তাকে উপদেশ দাও। তার মাঝে কল্যাণ থাকলে সে উপদেশ গ্রহণ করবে। জেনে রাখ, নিজের জীবন সঙ্গিনীকে ক্রীতদাসীদের মত প্রহার করবে না”। অতঃপর আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আমাকে অযু সম্পর্কে অবহিত করুন। তিনি বলেনঃ “পরিপূর্ণরূপে অযু করবে, অঙ্গুলিসমূহ খিলাল করবে এবং নাকে উত্তমরূপে পানি পৌঁছাবে, তবে সিয়াম রত অবস্থায় নয়”।
এটি আবূ দাউদ, তিরমিযী, নাসায়ী ও ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন।মানসহীহ
ব্যাখ্যা

লাকিত ইবনু সাবরা রাবরাহ রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে তাঁর গোত্র বনু মুন্তাফিকের অন্যান্যদের সাথে এসেছিলেন। তিনি বললেন: আমরা তাকে তার বাড়িতে পাইনি, কিন্তু আমরা মুমিনদের মা আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহাকে পেয়েছি। তিনি আমাদের জন্য ময়দা এবং চর্বি দিয়ে তৈরি একটি স্যুপ তৈরি করার নির্দেশ দিলেন এবং আমাদের এক প্লেট খেজুরের টুকরো পরিবেশন করা হল। তারপর তিনি সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এসে বললেন: তোমাদেরকে কি কোন খাবার পরিবেশন করা হয়েছে? আমরা বললাম: হ্যাঁ, লাকিত বলেন: আমরা যখন তাঁর সাথে বসে ছিলাম, তখন নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ভেড়ার রাখাল এসে ভেড়াগুলো তাদের ঘুমানোর জায়গায় নিয়ে গেল, তার সাথে একটি ছাগলের বাচ্চা ছিল যা চিৎকার করছিল। তিনি বললেন: কী বাচ্চার জন্ম হয়েছে? তিনি বললেন: মাদি। তিনি বললেন: তাহলে আমাদের জন্য তার পরিবর্তে একটি পূর্ণবয়স্ক বকরী জবাই করো। তারপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: ভাবো না যে আমরা তোমার জন্য ওদের যবেহ করার চেষ্টা করেছি; বস্তুত আমাদের কাছে একশোটি ভেড়া আছে এবং আমরা চাই না যে তারা এই সংখ্যার বেশি হোক। তাই যদি একটি নতুন বাচ্চা জন্মগ্রহণ করে, আমরা তার জায়গায় আরেকটি জবাই করি। লাকিত বললেন: আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, আমার স্ত্রীর জিহ্বা লম্বা এবং নোংরা, আমি তাকে নিয়ে কী করব? তিনি বললেন: তাহলে তাকে তালাক দাও। লাকিত বললেন: আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, সে দীর্ঘদিন ধরে আমার সঙ্গী এবং তার থেকে আমার সন্তান রয়েছে। তিনি বললেন: তাকে উপদেশ দাও, যদি তার মধ্যে কোন কল্যাণ থাকে, তাহলে সে তোমার উপদেশে সাড়া দেবে। যদি সে সাড়া না দেয়, তাহলে তাকে আঘাত করো, কিন্তু তীব্রভাবে নয়। আর তোমার দাসদের মতো তাকে আঘাত করো না। তখন লাকিত বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, আমাকে ওযু সম্পর্কে বলুন। তিনি বললেন: ওযুর সময় পানি তার যথাস্থানে পৌঁছাবে, প্রতিটি অঙ্গের হক আদায় করবে এবং এর কোন ফরয ও সুন্নত কাজ বাদ দেবে না। হাত ও পায়ের আঙ্গুলগুলো ধোয়ার সময় পৃথক কর এবং অযু করার সময় নাকে পানি টেনে বের করে দাও, যদি না তুমি রোজা রাখার সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকো, যেন পানি পেটে প্রবেশ না করে।

শিক্ষা
  1. অতিথিকে সম্মান জানানোর বৈধতা।
  2. পূর্ণতা দুই প্রকার: ১. ফরজ পূর্ণতা, যা ছাড়া অযু সম্পূর্ণ হয় না। এর অর্থ হল পুরো স্থান ধৌত করা। ২. মুস্তাহাব পূর্ণতা, যা ছাড়া অযু সম্পূর্ণ হয় এবং এর অর্থ হল দ্বিতীয় ও তৃতীয়বার ধৌত করা, যা করা মুস্তাহাব।
  3. ধোয়ার সময় হাতের আঙুল এবং পায়ের আঙুল খেলাল করা মুস্তাহাব এবং খেলাল করার অর্থ হল তাদের মধ্যে পানি পৌঁছতে দেওয়া।
  4. আত-তীবী বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওযুর কিছু সুন্নত সম্পর্কে উত্তর দিয়েছিলেন। কারণ প্রশ্নকর্তা মূল অযু সম্পর্কে অবগত ছিলেন।
  5. নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর একটি ভালো গুণ হলো, অন্যদের অনুভূতির প্রতি তার যত্ন এবং তাদের মনস্তত্ত্বের প্রতি তার খেয়াল রাখা।
  6. এই হাদীসটি ওযুর সময় কুলি করা ওয়াজিব হওয়ার প্রমাণ।
  7. এই হাদীসটি প্রমাণ করে যে রোযাদার ব্যতীত অন্যদের জন্য নাকে পানি দেওয়ার ক্ষেত্রে অতিরঞ্জিত করা মুস্তাহাব, রোযাদারের ক্ষেত্রে এটি মুস্তাহাব নয়। যাতে অতিরিক্ত এর ফলে নাক ও গলায় পানি প্রবেশ না করে, ফলে রোযা ভেঙ্গে যাবে।
  8. এটা প্রমাণ করে যে ইসলাম গ্রহণকারী সকলকে হিজরত করতে হবে না। কারণ বনু মুন্তাফিক এবং অন্যান্যরা হিজরত করেনি, বরং তাদের প্রতিনিধিদল পাঠিয়েছিল। কারণ তারা এমন জায়গায় থাকতেন যেখানে তারা ধর্ম প্রকাশ করতে পারতেন।
সূত্র

سنن أبي داود (1/ 99) (142). سنن الترمذي (2/ 146) (788). سنن النسائي (1/ 66) (87). سنن ابن ماجه (1/ 262) (407). توضيح الأحكام من بلوغ المرام، للبسام (1/ 217). سُبل السلام، للصنعاني (1/ 66 ). فتح ذي الجلال والإكرام بشرح بلوغ المرام، لابن عثيمين (1/ 183). منحة العلَّام، لعبد الله الفوزان (1/ 174).

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

আম্মার ইবন ইয়াসিরকে আমি ওযূ করতে দেখেছি, তিনি তা দাড়ি খেলাল করলেন। তখন তাকে বলা হল বা তিনি বললেন, আমি তাকে বললাম আপনি আপনার দাড়ি খিলাল করলেন? তিনি বললেন, কেন করব না? আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তার দাড়ি খিলাল করতে দেখিছি।

عن حسان بن بلال قال: رأيت عمار بن ياسر رضي الله عنه توضأ فخَلَّلَ لِحْيَتَهُ، فقيل له: -أو قال: فقلت له:- أَتُخَلِّلُ لِحْيَتَك؟ قال: «وما يمنعُني؟ ولقد رأيت رسول الله صلى الله عليه وسلم يُخَلِّلُ لِحْيَتَه».
হাস্সান ইবন বিলাল থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আম্মার ইবন ইয়াসিরকে আমি ওযূ করতে দেখেছি, তিনি তা দাড়ি খেলাল করলেন। তখন তাকে বলা হল বা তিনি বললেন, আমি তাকে বললাম আপনি আপনার দাড়ি খিলাল করলেন? তিনি বললেন, “কেন করব না? আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তার দাড়ি খিলাল করতে দেখিছি”।
এটি ইবন মাজাহ বর্ণনা করেছেন। - এটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন।মানসহীহ
ব্যাখ্যা

হাস্সান ইবন বিলাল আম্মার ইবন ইয়াসিরকে ওযূতে তার দাড়ি খেলাল করতে দেখেন। তিনি তাকে ওযূতে দাড়ি খেলার করা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। তিনি আম্মার ইবনে ইয়াসারকে এরূপ করতে দেখে যেন আশ্চর্য হলেন যা তিনি ইতিপূর্বে জানতেন না। “কেন করব না?” আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তার দাড়ি খিলাল করতে দেখেছি। আম্মার রাদিয়াল্লাহু আনহু তাকে উত্তর দিলেন এখানে এমন কিছু নাই যা দাড়ি খেলাল করতে বাধা দিবে। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এরূপ করতে দেখেছি। দাড়ি খেলাল করার দুটি পদ্ধতি: এক, এক কোষ পানি নিবে এবং তা দাড়ির নিচে দিয়ে প্রবেশ করাবে যাতে খেলাল হয়ে যায়। দুই- এক কোষ পানি নিবে এবং দাড়িকে আঙ্গুল দিয়ে চিরনীর মতো খেলাল করবে।

সূত্র

سنن الترمذي، محمد بن عيسى الترمذي، تحقيق وتعليق: أحمد محمد شاكر، ومحمد فؤاد عبد الباقي، وإبراهيم عطوة عوض، شركة مكتبة ومطبعة مصطفى البابي الحلبي، مصر، الطبعة: الثانية: 1395هـ، 1975م. سنن ابن ماجه، ابن ماجه محمد بن يزيد القزويني، تحقيق: محمد فؤاد عبد الباقي، دار إحياء الكتب العربية، فيصل عيسى البابي الحلبي. النهاية في غريب الحديث والأثر، مجد الدين أبو السعادات المبارك بن الأثير، تحقيق: طاهر أحمد الزاوى، محمود محمد الطناحي، نشر: المكتبة العلمية، بيروت، الطبعة: 1399هـ، 1979م. الشرح الممتع على زاد المستقنع، محمد بن صالح العثيمين، دار ابن الجوزي، الطبعة: الأولى 1422، 1428هـ. تسهيل الإلمام بفقه الأحاديث من بلوغ المرام، صالح بن فوزان بن عبد الله الفوزان، اعتنى بإخراجه عبدالسلام بن عبد الله السليمان، الرسالة، بيروت، الطبعة: الأولى 1427هـ، 2006م. توضيح الأحكام شرح بلوغ المرام، عبد الله بن عبد الرحمن البسام، مكتبة الأسدي، مكة المكرمة، الطبعة الخامِسَة، 1423هـ، 2003 م. صحيح وضعيف سنن الترمذي، محمد ناصر الدين الألباني، مصدر الكتاب: برنامج منظومة التحقيقات الحديثية -المجاني- من إنتاج مركز نور الإسلام لأبحاث القرآن والسنة بالإسكندرية.

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক সা‘ (৩লিটার)থেকে পাঁচ মুদ পর্যন্ত পানি দিয়ে গোসল করতেন এবং এক মুদ (750মিলিলিটার)পানি দিয়ে ওযু করতেন।

عَنْ أَنَسٍ رضي الله عنه قَالَ: كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَغْسِلُ، أَوْ كَانَ يَغْتَسِلُ، بِالصَّاعِ إِلَى خَمْسَةِ أَمْدَادٍ، وَيَتَوَضَّأُ بِالْمُدِّ.
আনাস রদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক সা‘ (৩লিটার)থেকে পাঁচ মুদ পর্যন্ত পানি দিয়ে গোসল করতেন এবং এক মুদ (750মিলিলিটার)পানি দিয়ে ওযু করতেন।
সহীহ বুখারী ও মুসলিমমানসহীহ
ব্যাখ্যা

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নাপাকের কারণে এক সা’ থেকে পাঁচ মুদ পর্যন্ত পানি দিয়ে গোসল করতেন এবং তিনি এক মুদ দিয়ে ওযু করতেন। ‘সা’ হল চার ‘মুদ’ এবং এক মুদ হলো: স্বাভাবিক গঠনের একজন ব্যক্তির দুই হাতের অঞ্জলি ভর্তি সমপরিমাণ পানি।

শিক্ষা
  1. ওযু ও গোসলের পানিতে সাশ্রয়ী হওয়া এবং পানি পাওয়া সহজ হলেও অপচয় না করা।
  2. প্রয়োজন মোতাবেক অযু ও গোসলের পানিতে মিতব্যয়িতা মুস্তাহাব এবং এটিই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নির্দেশনা।
  3. ওযু ও গোসলে সুন্নত ও আদব মেনে এমনভাবে সম্পন্ন করা, যাতে কোনো বাড়াবাড়ি বা কমতি না হয়, এবং সময় ও পানির কম ও বেশী হওয়া ইত্যাদির দিকেও লক্ষ্য রাখতে হবে।
  4. "জানাবাহ" বলতে তাকেই বোঝায় যে বীর্যপাত ঘটায় বা সহবাস করে। একে জানাবাহ বলা হয় কারণ জানাবাহর কারণে ব্যক্তি সালাত ও অন্যান্য ইবাদত এড়িয়ে চলে যতক্ষণ না সে তার থেকে পবিত্র হয়।
  5. সা': একটি পরিচিত পরিমাপ এবং এর দ্বারা নববী সা' বোঝানো হয়েছে এবং এর ওজন হল (480) মিসকাল ভাল গম এবং লিটারে এক সা (৩লিটার) সমপরিমাণ।
  6. মুদ: শরয়ী পরিমাপের একক; তা হলো একজন মধ্যম গঠনের ব্যক্তির দুই হাতের তালুতে ভরাট করা পানি; যখন দুই তালু প্রসারিত করে পানিতে পূর্ণ করা হয়। মুদ হলো ফকীহদের ঐক্যমতে এক সা'র এক চতুর্থাংশ এবং এর পরিমাণ (750) মিলিলিটার।
সূত্র

صحيح البخاري (1/ 51) (201). صحيح مسلم (1/ 258) (325). توضيح الأحكام، للبسام (1/ 250). سُبل السلام، للصنعاني (1/ 79 ). فتح ذي الجلال والإكرام، لابن عثيمين (1/ 212). منحة العلَّام، لعبد الله الفوزان (1/ 186). منار القاري شرح مختصر صحيح البخاري، لحمزة قاسم (1/ 272). تحقيق مقدار المد والصاع النبوي، للدكتور عبدالمحسن القاسم

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

যে মুসলিম সুন্দরভাবে ওযু করে তারপর দাঁড়িয়ে দেহ ও মনকে পুরোপুরি আল্লাহর প্রতি নিবদ্ধ রেখে দু’ রাকাআত সালাত আদায় করে সে অবশ্যই জান্নাতে যাবে”

عَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ رضي الله عنه قَالَ: كَانَتْ عَلَيْنَا رِعَايَةُ الْإِبِلِ فَجَاءَتْ نَوْبَتِي فَرَوَّحْتُهَا بِعَشِيٍّ فَأَدْرَكْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَائِمًا يُحَدِّثُ النَّاسَ فَأَدْرَكْتُ مِنْ قَوْلِهِ: «مَا مِنْ مُسْلِمٍ يَتَوَضَّأُ فَيُحْسِنُ وُضُوءَهُ، ثُمَّ يَقُومُ فَيُصَلِّي رَكْعَتَيْنِ، مُقْبِلٌ عَلَيْهِمَا بِقَلْبِهِ وَوَجْهِهِ، إِلَّا وَجَبَتْ لَهُ الْجَنَّةُ» قَالَ فَقُلْتُ: مَا أَجْوَدَ هَذِهِ، فَإِذَا قَائِلٌ بَيْنَ يَدَيَّ يَقُولُ: الَّتِي قَبْلَهَا أَجْوَدُ، فَنَظَرْتُ فَإِذَا عُمَرُ قَالَ: إِنِّي قَدْ رَأَيْتُكَ جِئْتَ آنِفًا، قَالَ: «مَا مِنْكُمْ مِنْ أَحَدٍ يَتَوَضَّأُ فَيُبْلِغُ - أَوْ فَيُسْبِغُ - الْوَضُوءَ ثُمَّ يَقُولُ: أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُ اللهِ وَرَسُولُهُ إِلَّا فُتِحَتْ لَهُ أَبْوَابُ الْجَنَّةِ الثَّمَانِيَةُ يَدْخُلُ مِنْ أَيِّهَا شَاءَ».
উকবাহ ইবনু আমির রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমাদের ওপর উট চরানোর দায়িত্ব ছিল। আমার পালা এলে আমি উট চরিয়ে বিকেলে ফিরিয়ে নিয়ে এলাম। তারপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে পেলাম, তিনি দাঁড়িয়ে লোকেদের সঙ্গে কথা বলছেন। তখন আমি তার এ কথা শুনতে পেলাম: "যে মুসলিম সুন্দরভাবে ওযু করে তারপর দাঁড়িয়ে দেহ ও মনকে পুরোপুরি আল্লাহর প্রতি নিবদ্ধ রেখে দু’ রাকাআত সালাত আদায় করে সে অবশ্যই জান্নাতে যাবে” উকবাহ বলেন, কথাটি শুনে আমি বলে উঠলামঃ বাহ! হাদীসটি কত চমৎকার! তখন আমার সামনের একজন বলতে লাগলেন, আগের কথাটি আরো উত্তম। আমি সে দিকে তাকিয়ে দেখলাম তিনি ’উমার। তিনি আমাকে বললেন, তোমাকে দেখেছি, এ মাত্র এসেছো। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (এর আগে) বলেছেন, “তোমাদের মধ্য থেকে যে ব্যক্তি উত্তম- অথবা পূর্ণরূপে- ওযু করে এ দু’আ পড়বে- أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُ اللهِ وَرَسُولُهُ তার জন্যে জান্নাতের আটটি দরজা খুলে যাবে এবং যে দরজা দিয়ে ইচ্ছা সে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে”।
ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেনমানসহীহ
ব্যাখ্যা

লোকদের সাথে কথা বলার সময় নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুটি মহান ফযীলত বর্ণনা করেছেন: প্রথমটি: যে ব্যক্তি সুন্দরভাবে ওযু করল, পরিপূর্ণ ও যথাযথভাবে তা সম্পাদন করল, সুন্নাত পদ্ধতিতে তা সম্পন্ন করল এবং প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে উপযুক্ত পরিমাণ পানি ব্যবহার করল , অতঃপর বলল: أشهد أن لا إله إلا الله، وأن محمدًا عبد الله ورسوله “আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত সত্য কোন ইলাহ নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল”; অবশ্যই তার জন্য জান্নাতের আটটি দরজা খুলে দেওয়া হয়, সে যেটি দিয়ে ইচ্ছা প্রবেশ করতে পারবে। দ্বিতীয়: যে ব্যক্তি এভাবে পরিপূর্ণ পূর্ণাঙ্গ ওযু করবে, তারপর ওযু করে উঠে দাঁড়াবে এবং দুই রাকাত সালাত আদায় করবে এবং তার প্রতি বিনয়াবনতা ও আন্তরিকতাসহ মনোযোগ দিবে এবং তার মুখমণ্ডল ও শরীরের সমস্ত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে আল্লাহর কাছে অবনত করবে, তার জন্য অবশ্যই জান্নাত ওয়াজিব হয়ে যাবে।

শিক্ষা
  1. অল্প আমলের ওপর অনেক প্রতিদান দেওয়ার ফলে মহান আল্লাহ তা‘আলার মহান অনুগ্রহ প্রমাণিত হয়।
  2. পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে ওযু করা এবং তা সম্পূর্ণ করার বিধান এবং তার পরে বিনয়ের সাথে দুই রাকাত সালাত পড়া সুন্নাতসম্মত হওয়া এবং এর মাধ্যমে যে মহান সওয়াব পাওয়া যায় তার দলিল।
  3. পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে ওযু করা এবং তার পরে এই যিকির পাঠ করা জান্নাতে প্রবেশের অন্যতম কারণ।
  4. গোসলকারীরও এই যিকিরটি বলা মুস্তাহাব।
  5. সাহাবীগণ ভাল কাজ করতে আগ্রহী ছিলেন, যেমন ইলম শেখা ও প্রচার করা এবং এতে ও তাদের জীবিকা নির্বাহের ক্ষেত্রে তাদের পরস্পরকে সহযোগিতা করা।
  6. অযুর পর যিকির অন্তরকে খালিস করে এবং শিরক থেকে পবিত্র করে, যেভাবে অযু শরীরকে পবিত্র করে এবং ময়লা থেকে পরিস্কার করে।
সূত্র

صحيح مسلم (1/ 209) (234). توضيح الأحكام، للبسام (1/ 251). المنهاج شرح صحيح مسلم بن الحجاج، للنووي (3/ 120).

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার একবার উযূ করেছেন।

عَنِ ‌ابْنِ عَبَّاسٍ رضي الله عنهما قَالَ: تَوَضَّأَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَرَّةً مَرَّةً.
ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার একবার উযূ করেছেন।
এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন।মানসহীহ
ব্যাখ্যা

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনো কখনো যখন উযূ করতেন তখন উযূর অঙ্গসমূহের প্রত্যেকটি অঙ্গ একবার করে ধৌত করতেন। যেমন তিনি একবার চেহারা ধৌত করতেন—কুলি করা ও নাকে পানি দেওয়া চেহারারই অন্তর্ভুক্ত—, এবং দুই হাত ও দুই পা একবার করে ধৌত করতেন। এটা হলো ওয়াজিব পরিমাণ।

শিক্ষা
  1. উযূর অঙ্গগুলো ধোয়ার ক্ষেত্রে ওয়াজিব হলো একবার। আর যা বেশী হবে তা মুস্তাহাব।
  2. কোন কোন সময় একবার একবার ধৌত করা বৈধ।
  3. মাথা মাসেহ করার ক্ষেত্রে বৈধ হলো একবার।
সূত্র

صحيح البخاري (1/ 43) (157)، إرشاد الساري لشرح صحيح البخاري (1/ 244).

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস
১০টির মধ্যে ৮
১০টি হাদীস
  1. যখন তোমরা কাপড় পরিধান করবে ও ওযূ করবে তখন তোমরা তোমাদের ডান দিক থেকে আর‎ম্ভ করবে।
  2. আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য দাঁতন ও ওযূর পানি প্রস্তুত করে রাখতাম। অতঃপর আল্লাহর যখন রাতে তাঁকে জাগাবার ইচ্ছা হত, তখন তিনি জেগে উঠতেন। তারপর দাঁতন করতেন, ওযূ ক’রতেন ও সালাত আদায় করতেন।
  3. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে তো আমরা এরূপ খাদ্য খুব কমই পেতাম। আর যখন আমরা তা পেতাম, তখন আমাদের হতের কব্জি, হাতের বাহু ও পা ছাড়া কোনো রুমাল ছিল না। তারপর (নতুন) অযু না করেই আমরা সালাত আদায় করতাম।
  4. “পরিপূর্ণরূপে অযু করবে, অঙ্গুলিসমূহ খিলাল করবে এবং নাকে উত্তমরূপে পানি পৌঁছাবে, তবে সিয়াম রত অবস্থায় নয়”।
  5. আম্মার ইবন ইয়াসিরকে আমি ওযূ করতে দেখেছি, তিনি তা দাড়ি খেলাল করলেন। তখন তাকে বলা হল বা তিনি বললেন, আমি তাকে বললাম আপনি আপনার দাড়ি খিলাল করলেন? তিনি বললেন, কেন করব না? আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তার দাড়ি খিলাল করতে দেখিছি।
  6. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক সা‘ (৩লিটার)থেকে পাঁচ মুদ পর্যন্ত পানি দিয়ে গোসল করতেন এবং এক মুদ (750মিলিলিটার)পানি দিয়ে ওযু করতেন।
  7. যে মুসলিম সুন্দরভাবে ওযু করে তারপর দাঁড়িয়ে দেহ ও মনকে পুরোপুরি আল্লাহর প্রতি নিবদ্ধ রেখে দু’ রাকাআত সালাত আদায় করে সে অবশ্যই জান্নাতে যাবে”
  8. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার একবার উযূ করেছেন।
  9. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উযূতে দু’বার দু’বার করে ধুয়েছেন।
  10. এক সা পানিতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর অপবিত্রতার গোসল সম্পন্ন হয়ে যেত এবং এক মুদ্ পানিতে ওযু হয়ে যেত।

এখানকার প্রতিটি হাদীস, মান, ব্যাখ্যা ও শিক্ষা HadeethEnc.com যেভাবে প্রকাশ করে হুবহু সেভাবেই দেখানো, তাদের পুনঃপ্রকাশের শর্ত মেনে। মানের সঙ্গে মান-নির্ধারকের নাম নেই। অনুবাদ ও ব্যাখ্যা এর লেখকদের নিজস্ব, এবং কোনো কোনোটিতে বিধান বলা আছে; সাবীলের পর্যালোচকেরা এগুলো যাচাই করেননি। আরবি হাদীসটিই মূল পাঠ। উৎস: HadeethEnc.com