নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ হাদীসে সংবাদ দিয়েছেন, আমাদের উপর একদল শাসক শাসন করবেন। আমরা তাদের (কিছু) ভালো কাজ পছন্দ করবো; কেননা সেগুলো শরী‘আহ অনুযায়ী তারা করে থাকবে এবং তাদের (কিছু) মন্দ কাজ অপছন্দ করবো; কেননা সেগুলো শরী‘আহ পরিপন্থী হবে। সুতরাং যে ব্যক্তি তার অন্তর থেকে তাদের মন্দকাজকে অপছন্দ ও ঘৃণা করলো, যেহেতু সে তাদের মন্দ কাজের প্রতিবাদ করতে সক্ষম নয়; তাহলে সে গুনাহ ও নিফাকী থেকে মুক্ত থাকলো। আর যে ব্যক্তি হাত ও জবানের দ্বারা তাদের মন্দ কাজের প্রতিবাদ করতে সক্ষম এবং সে তার প্রতিবাদ করলো, সেও গুনাহ ও তাতে অংশগ্রহণ করা থেকে নিরাপদ রইল। কিন্তু যে ব্যক্তি তাদের মন্দ কাজ পছন্দ করলো এবং তা অনুরসরণ করলো, তবে সে তেমনি ধ্বংস হবে যেমনিভাবে মন্দকাজ সম্পন্নকারীরা ধ্বংস হয়েছে । সাহাবীগণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে জানতে চাইলেন: আমাদের যেসব শাসকগণ উপরোক্ত দোষে দোষী, আমরা কি তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করব না? তিনি তাদেরকে লড়াই করতে নিষেধ করলেন। তিনি বললেন: “না, যতক্ষণ তারা সালাত আদায়কারী থাকবে।”
- নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নবুওয়াতের একটি নিদর্শন হলো ভবিষ্যতে যেসব ঘটনা সংঘটিত হবে, সে সম্পর্কে সংবাদ দেওয়া এবং তিনি যেভাবে সংবাদ দিয়েছেন, তা সেভাবেই সংঘটিত হয়েছে।
- খারাপ কাজ পছন্দ করা ও তাতে শরীক হওয়া জায়েয নেই; বরং তা অপছন্দ ও প্রতিবাদ করা ওয়াজিব।
- যখন কোন শাসক শরী‘আহ বিরোধী কোন কাজ করে, তখন তার আনুগত্য করা জায়েয নেই।
- মুসলিম শাসকের বিরুদ্ধে বের হওয়া জায়েয নেই; যেহেতু এতে আরো বেশি ফাসাদ ছড়িয়ে পড়বে, রক্তপাত ঘটবে, নিরাপত্তা বিঘ্নিত হবে। সুতরাং অত্যাচারী ও পাপীষ্ট শাসকের অপছন্দনীয় কাজ সহ্য করা, তাদের অত্যাচারে ধৈর্যধারণ করা উপরোক্ত রক্তপাত ও বিশৃঙ্লার চেয়ে বেশি সহজ।
- সালাতের গুরুত্ব ও মর্যাদা অপরিসীম। এটি কুফর ও ইসলামের মাঝে পার্থক্যকারী।
صحيح مسلم (3/ 1480) (1854). المفهم لما أشكل من تلخيص كتاب مسلم (4/ 64). البحر المحيط الثجاج في شرح صحيح الإمام مسلم بن الحجاج (32/ 206). بهجة الناظرين شرح رياض الصالحين، لسليم الهلالي (1/ 279). تطريز رياض الصالحين، لفيصل بن عبد العزيز المبارك (ص150). الشرح الممتع على زاد المستقنع، لابن عثيمين (11/ 323). شرح رياض الصالحين، لابن عثيمين (2/ 435). نزهة المتقين شرح رياض الصالحين، مجموعة من الباحثين (1/ 211).