নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এখানে কবীরা গুনাহর বর্ণনা করেছেন, আর তা হলো সেসব গুনাহর কারণে তাতে ব্যক্তিকে দুনিয়া ও আখিরাতের কঠিন শাস্তির ধমক শোনানো হয়েছে। সর্বপ্রথম কবীরা গুনাহ হলো “আল্লাহর সাথে শরীক করা”: আর তা হলো কোনো প্রকার ইবাদতকে আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো জন্য সাব্যস্ত করা এবং আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে তাঁর ইবাদতের একত্বে, তাঁর একক প্রভুত্বে এবং নাম ও সিফাতসমূহে তাঁর সমকক্ষ করা। দ্বিতীয় কবীরা গুনাহ হলো “পিতা-মাতার নাফরমানী করা”: আর তা হলো প্রত্যেক এমন বিষয় যা পিতা-মাতার কষ্টের কারণ হয়। সেটা কথা হোক অথবা কর্ম হোক, এবং তাদের প্রতি অনুগ্রহ করা থেকে বিরত থাকা। তৃতীয় কবীরা গুনা হলো অন্যায়ভাবে “কাউকে হত্যা করা”, যেমন জুলম ও সীমালঙ্ঘন করে হত্যা করা। চতুর্থ কবীরা গুনাহ হলো “মিথ্যা কসম খাওয়া”: আর তা হলো নিজ থেকে মিথ্যা জানার পরও মিথ্যা কসম করা। মিথ্যা কসমকে গামুস (ডুবিয়ে দেওয়া) নামকরণ করার কারণ হলো: এই কসম ব্যক্তিকে পাপে অথবা আগুনে ডুবিয়ে দেয়।
- মিথ্যা কসম করা এতো বড় ও ভয়ঙ্কর অপরাধ যে, তার কোনো কাফফারা নেই, তার জন্য জরুরী উপায় হলো তাওবাহ।
- এই চারটি পাপ বড় ও ভয়ঙ্কর বুঝানোর জন্য উল্লেখ করা হয়েছে, কবীরা গুনাহকে সীমাবদ্ধ করার জন্যে নয়।
- গুনাহসমূহ সগিরা ও কবিরা দু’ভাগে ভাগ হয়: কবিরা হলো সেসব গুনাহ যার ব্যাপারে দুনিয়াবী শাস্তি রয়েছে, যেমন দন্ডাদেশ-সাজা ও লানত; অথবা পরকালীন কঠোর হুশিয়ারী রয়েছে, যেমন জান্নামে প্রবেশ করার হুশিয়ারী। কবিরা গুনাহসমূহের অনেক স্তর রয়েছে। হারাম হওয়ার ক্ষেত্রে কতক গুনাহ কতক গুনাহ থেকে গুরুতর। কবিরা গুনাহসমূহ ছাড়া বাকি সব গুনাহ সগিরা।
صحيح البخاري (8/ 137) (6675). بهجة الناظرين شرح رياض الصالحين، لسليم الهلالي (1/ 408). رياض الصالحين للنووي (ص125) (337). كنوز رياض الصالحين، لمجموعة من الباحثين (5/ 610). تطريز رياض الصالحين، لفيصل آل مبارك (ص964).