মূল অংশে যান
ব্যাখ্যাসহ হাদীস

হাঁচি ও হাই তোলার আদব

৪টি হাদীস

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন হাঁচি দিতেন, তখন তিনি তাঁর হাত অথবা কাপড় মুখের উপরে রাখতেন এবং তিনি তাঁর আওয়াজকে নিচু অথবা নমনীয় করতেন।

عن أبي هريرة رضي الله عنه قال: كان رسولُ الله صلى الله عليه وسلم إذا عَطَس وضَعَ يَدَه -أو ثوبَهُ- على فيهِ، وخَفَضَ -أو غضَّ- بها صوتَهُ.
আবূ হুরাইরা রদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন হাঁচি দিতেন, তখন তিনি তাঁর হাত অথবা কাপড় মুখের উপরে রাখতেন এবং তিনি তাঁর আওয়াজকে নিচু অথবা নমনীয় করতেন।
এটি আবূ দাউদ, তিরমিযী ও আহমাদ বর্ণনা করেছেন।মানসহীহ
ব্যাখ্যা

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন হাঁচি দিতেন, তখন: প্রথমত: তাঁর হাত অথবা কাপড় মুখের উপরে দিতেন; যাতে তার মুখ অথবা নাক থেকে এমন কোন কিছু বের না হয়, যা পাশে থাকা ব্যক্তিকে কষ্ট দেয়। দ্বিতীয়ত: তিনি তাঁর আওয়াজকে উঁচু না করে নিচু করতেন।

শিক্ষা
  1. হাঁচি দেওয়ার ক্ষেত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহর বর্ণনা এবং সেক্ষেত্রে তার অনুসরণ করা।
  2. মুখ অথবা নাক থেকে বের হওয়া কোন বস্তু যেন পাশে থাকা ব্যক্তিকে কষ্ট না দেয়, এ জন্য মুখ ও নাকের উপরে কাপড় অথবা রুমাল রাখা মুস্তাহাব।
  3. হাঁচির শব্দ অনুচ্চ স্বরে হওয়া উচিত। এটি পূর্ণ আদব (শিষ্টাচার) ও উত্তম আখলাকের পরিচায়ক।
সূত্র

سنن أبي داود (7/ 375) (5029). سنن الترمذي (4/ 461) (2745). مسند أحمد (15/ 412) 9662). شرح رياض الصالحين، لابن عثيمين (4/ 440). تطريز رياض الصالحين، لفيصل آل مبارك (ص528). بهجة الناظرين، لسليم الهلالي (2/ 149). نزهة المتقين شرح رياض الصالحين، لمجموعة من الباحثين (1/ 678). كنوز رياض الصالحين لمجموعة من الباحثين (11/ 432).

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

“এক মুসলিমের প্রতি অপর মুসলিমের হক পাঁচটি: ১. সালামের জবাব দেয়া, ২. অসুস্থ ব্যক্তির খোঁজ-খবর নেয়া, ৩. জানাযায় গিয়ে শরীক হওয়া, ৪. দা’ওয়াত কবুল করা এবং ৫. হাঁচিদাতার জবাব দেয়া।”১

عن أبي هريرة رضي الله عنه قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: «حَقُّ الْمُسْلِمِ عَلَى الْمُسْلِمِ خَمْسٌ: رَدُّ السَّلَامِ، وَعِيَادَةُ الْمَرِيضِ، وَاتِّبَاعُ الْجَنَائِزِ، وَإِجَابَةُ الدَّعْوَةِ، وَتَشْمِيتُ الْعَاطِسِ».
আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন: “এক মুসলিমের প্রতি অপর মুসলিমের হক পাঁচটি: ১. সালামের জবাব দেয়া, ২. অসুস্থ ব্যক্তির খোঁজ-খবর নেয়া, ৩. জানাযায় গিয়ে শরীক হওয়া, ৪. দা’ওয়াত কবুল করা এবং ৫. হাঁচিদাতার জবাব দেয়া।”১
সহীহ বুখারী ও মুসলিমমানসহীহ
ব্যাখ্যা

নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ হাদীসে একজন মুসলিমের প্রতি অপর মুসলিমের কতিপয় অধিকার বর্ণনা করেছেন। প্রথম অধিকার: কেউ সালাম দিলে সালামের জবাব দেয়া। দ্বিতীয় অধিকার: অসুস্থ ব্যক্তির সেবা শুশ্রূষা করা, তার সাথে দেখা করা ও খোঁজ-খবর নেয়া। তৃতীয় অধিকার: মৃতব্যক্তির গৃহ থেকে জানাযার সালাতে এবং সেখান থেকে কবরস্থানে গিয়ে শরীক হওয়া। চতুর্থ অধিকার: বিয়ের ওয়ালিমা ইত্যাদিতে কেউ দাওয়াত দিলে তা কবুল করা। পঞ্চম অধিকার: হাঁচিদাতার হাঁচিতে জবাব দেওয়া। হাঁচিদাতা ‘আল-হামদু লিল্লাহ’ (সকল প্রশংসা আল্লাহর) বললে, তার জবাবে ‘ইয়ারহামুকাল্লাহ’ (আল্লাহ তোমার উপর রহম করুন) বলা। অতপর হাঁচিদাতা বলবে: ‘ইয়াহদীকুমুল্লাহ ওয়া ইউসলিহ বালাকুম’ (আল্লাহ তোমাদেরকে সুপথ দেখান ও তোমাদের অন্তর সংশোধন করে দেন)।

শিক্ষা
  1. মুসলিমদের মধ্যকার অধিকারসমূহ নিশ্চিত করতে এবং তাদের পরস্পরের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব ও ভালোবাসা সুদৃঢ়করণে ইসলামের মহানুভবতা এ হাদীসে বর্ণিত হয়েছে।
সূত্র

صحيح البخاري (2/ 71) (1240). صحيح مسلم (4/ 1704) (2162). كنوز رياض الصالحين، لمجموعة من الباحثين (4/ 512). بهجة الناظرين شرح رياض الصالحين، لسليم الهلالي (1/ 327). نزهة المتقين شرح رياض الصالحين، مجموعة من الباحثين (1/ 253). شرح رياض الصالحين، لابن عثيمين (2/ 591). بهجة قلوب الأبرار، لابن سعدي (ص81).

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

যখন তোমাদের কেউ হাই তোলে, তখন সে যেন তার হাত দিয়ে মুখ ঢেকে রাখে, অন্যথায় শয়তান প্রবেশ করবে।

عَن أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِذَا تَثَاءَبَ أَحَدُكُمْ فَلْيُمْسِكْ بِيَدِهِ عَلَى فِيهِ، فَإِنَّ الشَّيْطَانَ يَدْخُلُ».
আবু সাঈদ আল-খুদরী রদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "যখন তোমাদের কেউ হাই তোলে, তখন সে যেন তার হাত দিয়ে মুখ ঢেকে রাখে, অন্যথায় শয়তান প্রবেশ করবে।"
ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেনমানসহীহ
ব্যাখ্যা

যে হাই তুলল, যেমন অলসতা, উদর পূর্ণতা ইত্যাদি কারণে মুখ খুলে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে উপদেশ দিয়েছেন: সে তার মুখে হাত রেখে তা দিয়ে তা বন্ধ করবে; কারণ এটি খোলা রাখলে শয়তান এতে প্রবেশ করে, তাই এতে হাত রাখলে তার প্রবেশে বাধা হয়।

শিক্ষা
  1. যদি কেউ হাই তুলতে চায়, তখন তার উচিত যতটা সম্ভব মুখ বন্ধ করে রাখা যাতে তা খুলে না যায়, যদি সে মুখ বন্ধ রাখতে না পারে, তাহলে তার উচিত হাত মুখের উপর রাখা এবং হাত দিয়ে মুখ ঢেকে রাখা।
  2. সকল পরিস্থিতিতে ইসলামী শিষ্টাচার মেনে চলা; কারণ এটি পরিপূর্ণতা এবং নৈতিকতার চিহ্ন।
  3. মানুষের উপর শয়তানের সকল ফাঁদ থেকে সাবধান থাকা।
সূত্র

صحيح مسلم (4/ 2293) (2995). بهجة الناظرين شرح رياض الصالحين، لسليم الهلالي (2/ 151). شرح رياض الصالحين، لابن عثيمين (4/ 436). تطريز رياض الصالحين، لفيصل آل مبارك (ص529). نزهة المتقين شرح رياض الصالحين، مجموعة من الباحثين (1/ 679).

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

“মুসলিমের ওপর অপর মুসলিমের অধিকার ছয়টি”: বলা হলো, হে আল্লাহর রাসূল সেগুলো কী? তিনি বললেন, “তুমি তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করলে তাকে সালাম দাও, সে তোমাকে দাওয়াত দিলে তার দাওয়াত গ্রহণ কর, সে তোমার কাছে উপদেশ চাইলে তুমি তাকে উপদেশ দাও, সে হাঁচি দিয়ে ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বললে তার জবাব দাও, সে অসুস্থ হলে তাকে দেখতে যাও এবং সে মারা গেলে তার জানাযায় অংশ গ্রহণ কর।”

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «حَقُّ الْمُسْلِمِ عَلَى الْمُسْلِمِ سِتٌّ» قِيلَ: مَا هُنَّ يَا رَسُولَ اللهِ؟، قَالَ: «إِذَا لَقِيتَهُ فَسَلِّمْ عَلَيْهِ، وَإِذَا دَعَاكَ فَأَجِبْهُ، وَإِذَا اسْتَنْصَحَكَ فَانْصَحْ لَهُ، وَإِذَا عَطَسَ فَحَمِدَ اللهَ فَسَمِّتْهُ، وَإِذَا مَرِضَ فَعُدْهُ وَإِذَا مَاتَ فَاتَّبِعْهُ».
আবূ হুরাইরা রদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “মুসলিমের ওপর অপর মুসলিমের অধিকার ছয়টি”: বলা হলো, হে আল্লাহর রাসূল সেগুলো কী? তিনি বললেন, “তুমি তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করলে তাকে সালাম দাও, সে তোমাকে দাওয়াত দিলে তার দাওয়াত গ্রহণ কর, সে তোমার কাছে উপদেশ চাইলে তুমি তাকে উপদেশ দাও, সে হাঁচি দিয়ে ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বললে তার জবাব দাও, সে অসুস্থ হলে তাকে দেখতে যাও এবং সে মারা গেলে তার জানাযায় অংশ গ্রহণ কর।”
ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেনমানসহীহ
ব্যাখ্যা

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ব্যাখ্যা করেছেন যে, একজন মুসলিমের তার মুসলিম ভাইয়ের উপর ছয়টি অধিকার রয়েছে: প্রথমত: যখন সে তার সাথে দেখা করে তখন সে তাকে বলবে: السلام عليكم এবং সে সালামের জবাব দেয়: وعليكم السلام দ্বিতীয়ত: যদি সে তাকে অলিমা বা অন্য কিছুতে আমন্ত্রণ জানায়, তাহলে তার আমন্ত্রণে সাড়া দেওয়া। তৃতীয়ত: যদি সে পরামর্শ চায় তাহলে তাকে পরামর্শ দাও এবং তাকে তোষামোদ করো না বা প্রতারণা করো না। চতুর্থত: যদি সে হাঁচি দেয় এবং বলে: الحمد لله তাহলে তাকে এই বলে উত্তর করো: يرحمك الله এবং সে উত্তরে বলবে: يَهديكم الله ويُصلح بالكم "আল্লাহ তোমাকে হেদায়েত দিন এবং তোমার কাজ ঠিক করে দিন।" পঞ্চম: অসুস্থ হলে তাকে দেখতে যায়। ষষ্ঠত: যদি সে মারা যায়, তাহলে সে তার জানাযার সালাত পড়বে এবং তাকে দাফন না করা পর্যন্ত তার জানাযার সাথে থাকবে।

শিক্ষা
  1. আল-শাওকানী বলেন: তাঁর কথা حق المسلم (মুসলিমের অধিকার) এর অর্থ হল: এটি পরিত্যাগ করা উচিত নয় এবং এটি পালন করা হয় বাধ্যতামূলক অথবা দৃঢ়ভাবে মুস্তাহাব, সেই ওয়াজিবের মত যা ত্যাগ করা উচিত নয়।
  2. যদি সালাম গ্রহণকারী ব্যক্তি একজন হন, তাহলে সালামের জবাব দেওয়া ব্যক্তিগত ওয়াজিব এবং একটি দলের জন্য তাদের মধ্যে একজনের উত্তর যথেষ্ট হবে, তবে সালাম শুরু করার ক্ষেত্রে মূল নীতি হল এটি একটি সুন্নাত।
  3. অসুস্থদের দেখতে যাওয়া তার মুসলিম ভাইদের উপর তার অধিকারের মধ্যে একটি। কারণ এটি তার হৃদয়ে আনন্দ ও সুখ নিয়ে আসে এবং এটি একটি ফারযে কিফায়া।
  4. দাওয়াতে সাড়া দেওয়া ওয়াজিব, যদি না তাতে পাপ হয়। যদি এটি অলিমার (বিবাহভোজের) জন্য হয়, তাহলে অধিকাংশ আলেমের অভিমত হলো, শরয়ী ওজর না থাকলে তা গ্রহণ করা ওয়াজিব। তবে যদি এটি বিবাহভোজের জন্য না হয়, তাহলে অধিকাংশ আলেমের মতামত যে এটি মুস্তাহাব।
  5. যে ব্যক্তি হাঁচিদাতার আল-হামদুলিল্লাহ শুনতে পায়, তার উপর হাঁচিদাতার উত্তর দেওয়া ওয়াজিব।
  6. সমাজ, ঈমান এবং এর সদস্যদের মধ্যে ভালোবাসার বন্ধনকে শক্তিশালী করার ভেতর শরীয়তের পরিপূর্ণতা ও তার আগ্রহ।
  7. (فَسَمِّتْهُ) এবং কিছু সংস্করণে: "فشمّته" রয়েছে: মঙ্গল ও কল্যাণের জন্য প্রার্থনা করা। বলা হয় যে এর অর্থ: আল্লাহ আপনাকে তিরস্কার থেকে দূরে রাখুন এবং আপনার শত্রু যা নিয়ে আনন্দ করে তা থেকে আপনাকে রক্ষা করুন। التسميت এর অর্থ হল: আল্লাহ আপনাকে সরল পথে পরিচালিত করুন।
সূত্র

صحيح مسلم (4/ 1705) (2162). منحة العلام في شرح بلوغ المرام، لعبد الله الفوزان (10/ 7). توضيح الأحكام من بلوغ المرام، للبسام (3/ 128). بهجة الناظرين شرح رياض الصالحين، لسليم الهلالي (1/ 327).

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

এখানকার প্রতিটি হাদীস, মান, ব্যাখ্যা ও শিক্ষা HadeethEnc.com যেভাবে প্রকাশ করে হুবহু সেভাবেই দেখানো, তাদের পুনঃপ্রকাশের শর্ত মেনে। মানের সঙ্গে মান-নির্ধারকের নাম নেই। অনুবাদ ও ব্যাখ্যা এর লেখকদের নিজস্ব, এবং কোনো কোনোটিতে বিধান বলা আছে; সাবীলের পর্যালোচকেরা এগুলো যাচাই করেননি। আরবি হাদীসটিই মূল পাঠ। উৎস: HadeethEnc.com