عن أبي هريرة رضي الله عنه أن أبا بكر الصديق رضي الله عنه قال: يا رسول الله مُرني بكلمات أقُولُهُنَّ إذا أصبَحتُ وإذا أمسَيتُ، قال: «قل: اللهم فاطِرَ السماوات والأرض عالم الغيبِ والشهادة، ربَّ كُلِّ شَيءٍ ومَلِيكَه، أَشْهد أن لا إله إلا أنت، أعوذ بك من شرِّ نفسي وشرِّ الشيطان وشِرْكِهِ وأن أقترف على نفسي سوءًا أو أجرُّه إلى مسلم» قال: «قلها إذا أصبحت، وإذا أمسيت، وإذا أخذْتَ مَضْجَعَك».
আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, আবূ বাকর সিদ্দীক রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বললেন, ‘হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে কিছু বাক্য বাতলে দিন, যেগুলি সকাল-সন্ধ্যায় আমি পড়তে থাকব।’ তিনি বললেন, “বল, হে আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর সৃজনকর্তা, উপস্থিত ও অনুপস্থিত পরিজ্ঞাতা, প্রত্যেক বস্তুর প্রতিপালক ও অধিপতি আল্লাহ! আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, তুমি ব্যতীত কোন সত্য উপাস্য নেই। আমি আমার আত্মার মন্দ হতে এবং শয়তানের মন্দ ও শির্ক হতে তোমার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। এটি সকাল-সন্ধ্যা ও শোবার সময় পাঠ করো।
এটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন। - এটি নাসাঈ বর্ণনা করেছেন। - এটি আবূ দাঊদ বর্ণনা করেছেন। - এটি আহমাদ বর্ণনা করেছেন।মানসহীহ
ব্যাখ্যা
এ যিকিরটি হলো সকাল-সন্ধ্যা পাঠ করার যিকিরসমূহের একটি যিকির। আর এটি এমন একটি যিকির যেটিকে রাসূলুল্লাহ সা. আবূ বকরকে শিখিয়েছেন। তিনি বলেন, আমাকে শেখান। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে এমন একটি যিকির ও দো‘আ শিখিয়ে দিলেন যার দ্বারা সে প্রত্যেক সকাল ও বিকাল দো‘আ করবেন। তাকে এ বলতে নির্দেশ দেন যে, “বল, হে আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর সৃজনকর্তা, অর্থাৎ, হে আল্লাহ আসমানসমূহ ও যমীনের সৃষ্টি কর্তা অর্থাৎ, তিনি এ দুটিকে পূর্বে অতিবাহিত কোন দৃষ্টান্ত ছাড়া সৃষ্টি করেছেন বরং আবিষ্কার করেছেন এবং অস্তিত্ব দান করেছেন পূর্বের কোন দৃষ্টান্ত ছাড়া। উপস্থিত ও অনুপস্থিতর পরিজ্ঞাতা, অর্থাৎ মাখলুক থেকে অনুপুস্থিত এবং তারা যা প্রত্যক্ষ করে তিনি সবকিছুরই পরিজ্ঞাতা। কারণ, আল্লাহ বর্তমান ভবিষ্যৎ ও অতীত সবই জানেন। প্রত্যেক বস্তুর রব ও অধিপতি আল্লাহ! অর্থাৎ হে প্রতিটি বস্তুর রব ও অধিপতি। আল্লাহ তা‘আলা প্রতিটি বস্তুর রব ও প্রতিটি বস্তুর অধিপতি। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, তুমি ব্যতীত কোন সত্য উপাস্য নেই। আমি আমার মুখ ও অন্তর দ্বারা স্বীকার করছি যে, তুমি ছাড়া আর কোন সত্যিকার উপাস্য নেই। তোমাকে বাদ দিয়ে যত উপাস্যের ইবাদত করা হয় তা বাতিল তার জন্য উবুদিয়্যাতের কোন অধিকার নেই এবং একক আল্লাহ ছাড়া আর কারো জন্য উবুদিয়্যাতের কোন হক নেই। তার বাণী: “আমি আমার আত্মার মন্দ হতে তোমার নিকট আশ্রয় চাচ্ছি” কারণ, আত্মার জন্য রয়েছে খারাবীসমূহ। যেমন, আল্লাহ তা‘আলা বলেন, “আমি আমার আত্মাকে নির্দোষ বলছি না, কারণ আত্মা অবশ্যই খারাপ কর্মের প্রতি আদেশকারী তবে যাকে আমার রব অনুগ্রহ করে”। যখন আল্লাহ তোমাকে তোমার আত্মার খারাবী থেকে রক্ষা না করবেন তখন তা অবশ্যই তোমার ক্ষতি করবে এবং তোমাকে মন্দ কাজের আদেশ দেবে। কিন্তু যখন আল্লাহ তার অনিষ্ট থেকে তোমাকে রক্ষা করবেন তোমাকে যাবতীয় কল্যাণের তাওফীক দান করবেন। আর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ বলে শেষ করলেন যে, এবং শয়তানের মন্দ ও শির্ক হতে অর্থাৎ তুমি আল্লাহর নিকট চাইবে যে, তিনি যেন তোমাকে শয়তানের অনিষ্ট হতে সাহায্য করে এবং তার শির্কের খারাবী হতে সাহায্য করে। অর্থাৎ সে তোমাকে শির্ক করার যে আদেশ দেয়। আর শারাক হলো যা দ্বারা মাছ ও পাখি শিকার করা হয়। কারণ, শয়তানের রয়েছে শারাক যা দ্বারা সে আদম সন্তানদেরকে শিকার করে। তোমার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। এটি সকাল-সন্ধ্যা ও শোবার সময় পাঠ করো। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ যিকিরটি আবূ বকরকে বলতে নির্দেশ দিয়েছেন যখন সে সকাল করে, বিকাল করে এবং যখন ঘুমাতে যায়।
সূত্র
سنن أبي داود، تحقيق: محمد محيي الدين عبد الحميد، المكتبة العصرية، صيدا – بيروت.
سلسلة الأحاديث الصحيحة، للألباني، مكتبة المعارف للنشر والتوزيع، الرياض، ط، الأولى، لمكتبة المعارف.
رياض الصالحين، للنووي، تحقيق ماهر الفحل، ط، الأولى 1428هـ، دار ابن كثير، دمشق -بيروت.
نزهة المتقين، لمجموعة من المؤلفين، مؤسسة الرسالة، ط: الرابعة عشر، 1407هـ.
بهجة الناظرين، لسليم الهلالي، دار ابن الجوزي، السعودية، ط: الثالثة 1418هـ.
جامع الترمذي، تحقيق وتعليق: أحمد محمد شاكر، وآخرون، ط2، شركة مكتبة ومطبعة مصطفى البابي الحلبي ، مصر، 1395هـ.
مسند الإمام أحمد بن حنبل، المحقق: شعيب الأرنؤوط - عادل مرشد وآخرون، إشراف: د عبد الله بن عبد المحسن التركي، مؤسسة الرسالة، الطبعة: الأولى، 1421 هـ - 2001 م.
دليل الفالحين لطرق رياض الصالحين، لمحمد علي بن محمد بن علان، ط4، اعتنى بها: خليل مأمون شيحا، دار المعرفة، بيروت، 1425هـ.
سلسلة الأحاديث الصحيحة وشيء من فقهها وفوائدها، للألباني، ط1، مكتبة المعارف للنشر والتوزيع، الرياض، 1422هـ.
HadeethEnc.com-এ এই হাদীসعن عبد الله بنِ عمر رضي الله عنهما أن عمرَ بْن الخطاب رضي الله عنه قال: ((يا رسول الله، أّيَرقُدُ أَحَدُنا وهو جُنُب؟ قال: نعم، إِذَا تَوَضَّأ أَحَدُكُم فَليَرقُد)).
আব্দুল্লাহ ইবন উমার রাদিয়াল্লাহ ‘আনহুমা থেকে বর্ণিত, উমার ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন, “হে আল্লাহর রাসূল আমাদের কারো ওপর যখন গোসল ফরয হয় সে ঘুমাতে পারে? তিনি বললেন, হ্যাঁ, যখন তোমাদের কেউ ওযূ করবে তখন সে ঘুমাবে”।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।মানসহীহ
ব্যাখ্যা
উমার ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করেন যে, যখন রাতের প্রথমাংশে কেউ অপবিত্র হয়, যেমন স্ত্রীর সাথে সহবাস করল যদিও বীর্যপাত হয়নি অথবা স্বপ্নদোষ হলো সে কি নাপাক অবস্থায় ঘুমাতে পারবে? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শর‘ঈ ওযূ করে এ নাপাকীকে হালকা করার শর্তে তাকে ঘুমানের অনুমতি দিলেন। তখন নাপাক হওয়া সত্বেও ঘুমানোতে কোন অসুবিধা নেই।
সূত্র
تيسير العلام شرح عمدة الأحكام، عبد الله بن عبد الرحمن البسام، تحقيق: محمد صبحي حلاق، مكتبة الصحابة، الإمارات، مكتبة التابعين، القاهرة، الطبعة: العاشرة 1426هـ.
تنبيه الأفهام شرح عمدة الأحكام، محمد بن صالح العثيمين، مكتبة الصحابة، الإمارات، الطبعة: الأولى 1426هـ.
الإلمام بشرح عمدة الأحكام، إسماعيل بن محمد الأنصاري، دار الفكر، دمشق، الطبعة: الأولى 1381هـ.
صحيح البخاري، محمد بن إسماعيل البخاري الجعفي، تحقيق: محمد زهير الناصر، دار طوق النجاة (مصورة عن السلطانية بإضافة ترقيم: محمد فؤاد عبد الباقي)، الطبعة: الأولى 1422هـ.
صحيح مسلم، مسلم بن الحجاج القشيري النيسابوري، تحقيق محمد فؤاد عبد الباقي، دار إحياء التراث العربي، بيروت، الطبعة: 1423هـ.
HadeethEnc.com-এ এই হাদীসعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «إِذَا تَوَضَّأَ أَحَدُكُمْ فَلْيَجْعَلْ فِي أَنْفِهِ ثُمَّ لِيَنْثُرْ، وَمَنِ اسْتَجْمَرَ فَلْيُوتِرْ، وَإِذَا اسْتَيْقَظَ أَحَدُكُمْ مِنْ نَوْمِهِ فَلْيَغْسِلْ يَدَهُ قَبْلَ أَنْ يُدْخِلَهَا فِي وَضُوئِهِ، فَإِنَّ أَحَدَكُمْ لاَ يَدْرِي أَيْنَ بَاتَتْ يَدُهُ».
ولفظ مسلم: «إِذَا اسْتَيْقَظَ أَحَدُكُمْ مِنْ نَوْمِهِ فَلَا يَغْمِسْ يَدَهُ فِي الْإِنَاءِ حَتَّى يَغْسِلَهَا ثَلَاثًا، فَإِنَّهُ لَا يَدْرِي أَيْنَ بَاتَتْ يَدُهُ».
আবূ হুরাইরাহ্ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «إِذَا تَوَضَّأَ أَحَدُكُمْ فَلْيَجْعَلْ فِي أَنْفِهِ ثُمَّ لِيَنْثُرْ، وَمَنِ اسْتَجْمَرَ فَلْيُوتِرْ، وَإِذَا اسْتَيْقَظَ أَحَدُكُمْ مِنْ نَوْمِهِ فَلْيَغْسِلْ يَدَهُ قَبْلَ أَنْ يُدْخِلَهَا فِي وَضُوئِهِ، فَإِنَّ أَحَدَكُمْ لاَ يَدْرِي أَيْنَ بَاتَتْ يَدُهُ».
“তোমাদের মধ্যে কেউ যখন অযু করে তখন সে যেন নাকে পানি দেয়, এরপর যেন নাক ঝেড়ে নেয়। আর যে ইস্তিঞ্জা করে সে যেন বেজোড় সংখ্যক ঢিলা-কুলুখ ব্যবহার করে। আর তোমাদের কেউ যখন ঘুম থেকে জাগে তখন সে যেন অযুর পানিতে হাত ঢুকানোর আগে তা ধুয়ে নেয়; কারণ তোমাদের কেউ জানে না যে, ঘুমন্ত অবস্থায় তার হাত কোথায় থাকে।”
মুসলিমের বর্ণনায় এসেছে:
«إِذَا اسْتَيْقَظَ أَحَدُكُمْ مِنْ نَوْمِهِ فَلَا يَغْمِسْ يَدَهُ فِي الْإِنَاءِ حَتَّى يَغْسِلَهَا ثَلَاثًا، فَإِنَّهُ لَا يَدْرِي أَيْنَ بَاتَتْ يَدُهُ».
“তোমাদের কেউ যখন ঘূম থেকে উঠে, তখন সে যেন তার হাত তিনবার না ধোয়া পর্যন্ত পাত্রে না ঢুকায়। কারণ সে জানেনা যে, তার হাত রাতে কোথায় ছিল।”
সহীহ বুখারী ও মুসলিমমানসহীহ
ব্যাখ্যা
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ হাদীসে তাহারাতের কতিপয় বিধান বর্ণনা করেছেন। তন্মধ্যে কয়েকটি হলো: প্রথমত: যখন কেউ অযু করবে, তখন সে শ্বাসের সাহায্যে তার নাকে পানি দিয়ে শ্বাসের সাহায্যে বেরও করে ফেলবে। দ্বিতীয়ত: যে ব্যক্তি লজ্জাস্থানের নাপাকী পানি ছাড়া পরিস্কার করতে চায়, যেমন পাথর ইত্যাদি দ্বারা, সে যেন বেজোড় সংখ্যক ঢিলা-কুলুখ ব্যবহার করে। সর্বনিম্ন তিন এবং সর্বোচ্চ সংখ্যা হলো যতক্ষণ না নির্গত ময়লা দূর হয় এবং মলদ্বার পরিপূর্ণভাবে পরিষ্কার হয়। তৃতীয়ত: যে কেউ রাতের বেলায় ঘুম থেকে জাগে, সে যেন অযুর করার জন্য পাত্রে হাত প্রবেশ না করায়। যতক্ষণ না তা পাত্রের বাহিরে তিনবার ধুয়ে নিবে। কারণ, সে তো জানে না, ঘুমন্ত অবস্থায় তার হাত কোথায় কোথায় থাকে। কেননা সে হাত যে নাপাক থেকে মুক্ত তা নিশ্চিত নয়। তাছাড়াও শয়তান হয়ত এর সাথে এমন ময়লা কিছু নিয়ে এসেছে যা মানুষের জন্য ক্ষতিকর বা পানি নষ্ট করে ফেলে।
শিক্ষা
- অযুতে নাকে পানি দেওয়া। আর তা হলো শ্বাসের সাহায্যে নাকের অভ্যন্তরে পানি প্রবেশ করানো। এমনিভাবে নাক থেকে পানি বের করে ফেলা। তাছাড়া নাক ঝেড়ে ফেলা। আর তা হলো শ্বাসের সাহায্যে নাক থেকে স্বজোরে পানি বের করে নাক ঝেড়ে ফেলা।
- বেজোড় সংখ্যক দিয়ে ঢিলা কুলুপ করা মুস্তাহাব।
- রাতে ঘুম থেকে উঠে তিনবার হাত ধৌত করা শরী‘আহসম্মত।
সূত্র
صحيح البخاري (1/ 43) (162).
صحيح مسلم (1/ 233) (278).
تيسير العلام شرح عمدة الأحكام، للبسام (ص19).
الإلمام بشرح عمدة الأحكام، لإسماعيل الأنصاري (1/ 11).
HadeethEnc.com-এ এই হাদীসعن أبي موسى الأشعري رضي الله عنه قال: احْتَرَقَ بَيْتٌ بالمَدِينَةِ عَلَى أهْلِهِ مِنَ اللَّيْلِ، فَلَمَّا حُدِّثَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم بِشَأنِهِم، قالَ: «إنَّ هذه النارَ عَدُوٌّ لَكُمْ، فَإِذَا نِمْتُم، فَأَطْفِئُوهَا عَنْكُمْ».
আবূ মূসা আশআরী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে মারফূ হিসেবে বর্ণিত, একবার রাতের বেলায় মদিনার এক ঘরে আগুন লেগে ঘরের লোকজনসহ পুড়ে গেল। এদের অবস্থা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট জানানো হলে তিনি বললেন, “এ আগুন নিঃসন্দেহে তোমাদের জন্য চরম শত্রু। সুতরাং যখন তোমরা ঘুমাতে যাবে, তখন তা নিভিয়ে দাও।”
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।মানসহীহ
ব্যাখ্যা
একবার রাতের বেলায় মদিনার এক ঘরে আগুন লেগে পুড়ে গেল। সংবাদটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট পৌঁছলে তিনি তাদের বললেন, এ আগুন নিঃসন্দেহে মানুষের চরম শত্রু; যদি না তারা এর লেলিহান শিখা ও এর জ্বালাও-পোড়াও স্বভাব থেকে বাঁচার চেষ্টা করে। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আগুন লাগার ক্ষয়-ক্ষতি থেকে বাঁচার জন্য তাদেরকে ঘুমানোর পূর্বে তা নিভিয়ে ফেলার নির্দেশ দিয়েছেন।
সূত্র
دليل الفالحين لطرق رياض الصالحين، لابن علان، نشر دار الكتاب العربي.
نزهة المتقين شرح رياض الصالحين، نشر: مؤسسة الرسالة، الطبعة: الرابعة عشر، 1407هـ - 1987م.
شرح رياض الصالحين، لابن عثيمين، نشر: دار الوطن للنشر، الرياض، الطبعة: 1426هـ.
بهجة الناظرين شرح رياض الصالحين، للهلالي، نشر: دار ابن الجوزي، الطبعة الأولى 1418هـ.
صحيح البخاري، للإمام أبي عبدالله محمد بن إسماعيل البخاري، عناية محمد زهير الناصر، دار طوق النجاة، الطبعة الأولى، 1422هـ.
صحيح مسلم، للإمام مسلم بن الحجاج، حققه ورقمه محمد فؤاد عبدالباقي، دار عالم الكتب-الرياض، الطبعة الأولى، 1417هـ.
المعجم الوسيط، مكتبة الشروق الدولية، الطبعة الرابعة، 1425هـ.
HadeethEnc.com-এ এই হাদীসعَنْ حُذَيْفَةَ بْنِ اليَمَانِ رَضيَ اللهُ عنه: أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ إِذَا أَرَادَ أَنْ يَنَامَ وَضَعَ يَدَهُ تَحْتَ رَأْسِهِ، ثُمَّ قَالَ: «اللَّهُمَّ قِنِي عَذَابَكَ يَوْمَ تَجْمَعُ أَوْ تَبْعَثُ عِبَادَكَ».
হুযাইফা ইবনুল ইয়ামান রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখনই ঘুমাতে চাইতেন, তখনই তিনি তাঁর মাথার নীচে হাত রাখতেন এবং বলতেন: "হে আল্লাহ, যেদিন আপনি আপনার বান্দাদের একত্রিত করবেন অথবা পুনরুত্থিত করবেন, সেদিন আপনার শাস্তি থেকে আমাকে রক্ষা করুন।"
এটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন।মানসহীহ
ব্যাখ্যা
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন ঘুমাতে যেতেন, তখন তিনি তাঁর ডান হাত বালিশের উপর রাখতেন এবং তার ডান গালটি হাতের উপর রাখতেন এবং বলতেন: "হে আল্লাহ," আমার রব, "আমাকে রক্ষা করুন" এবং "আপনার শাস্তি" এবং আযাব থেকে আমাকে হিফাজত করুন " যেদিন আপনি আপনার বান্দাদের একত্রিত করবেন বা পুনরুত্থিত করবেন" বিচারের দিন, পুনরুত্থানের দিন।
শিক্ষা
- এই বরকতময় দোয়ার ফযীলত এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদর্শ অনুসরণ করে এটি নিয়মিত পাঠ করা।
- ডান দিকে কাত হয়ে শোয়া মুস্তাহাব।
- আস-সিন্দি বলেন: "হে আল্লাহ, তোমার শাস্তি থেকে আমাকে রক্ষা করো" তার এই উক্তি ইঙ্গিত দেয় যে জ্ঞানী ব্যক্তির ঘুমকে মৃত্যু এবং তার পরবর্তী পুনরুত্থানের কথা স্মরণ করার উপায় হিসাবে গ্রহণ করা উচিত।
- কিয়ামতের দিন আল্লাহর শাস্তি থেকে সুরক্ষা আল্লাহর অনুগ্রহ ও দয়ার কারণে হবে। ফলে বান্দাকে সৎকর্ম করার তাওফীক দান এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে তার পাপ ক্ষমা করা আল্লাহ দয়া ও অনুগ্রহের কারণ হয়।
- নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর তাঁর রব ও মনিবের প্রতি বিনয়।
- পুনরুত্থান ও হাশরের প্রমাণ এবং মানুষ তাদের কর্মের জবাবদিহি করার জন্য তাদের রবের কাছে ফিরে যাবে। যে ভালো কিছু পাবে তার উচিত আল্লাহর প্রশংসা করা, আর যে অন্য কিছু পাবে তার উচিত নিজেকে ছাড়া অন্য কাউকে দোষারোপ না করা। এগুলো কেবল বান্দাদের কর্ম যা আল্লাহ তাদের জন্য জমা রেখেছেন।
- সাহাবাগণ রাদিয়াল্লাহু আনহুম নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ঘুমের সময় তাঁর অবস্থা ব্যাখ্যা করতে আগ্রহী ছিলেন।
- তার উক্তি: "তিনি তার ডান হাত তার গালের নীচে রাখলেন।" এটা তার অভ্যাস ছিল যে, বিপরীত করার প্রমাণ ছাড়া সবকিছুতেই ডান হাত দিয়ে শুরু করতেন।
- ডান দিকে কাত হয়ে ঘুমালে হৃদযন্ত্রের স্থিরতা না থাকার ফলে দ্রুত ঘুম ভেঙ্গে যায় এবং হৃদযন্ত্রের জন্য এটি আরও আনন্দদায়ক; কারণ এটি বাম দিকে থাকে, যদি বান্দা বাম দিকে ঘুমায়, তাহলে এটি হৃদয়ের ক্ষতি করবে কারণ অঙ্গগুলি এর দিকে ঝুঁকে পড়বে।
সূত্র
سنن الترمذي (5/ 404) (3398).
بهجة الناظرين شرح رياض الصالحين، لسليم الهلالي (2/ 533).
كنوز رياض الصالحين، لمجموعة من الباحثين (17/ 335).
نزهة المتقين شرح رياض الصالحين، لمجموعة من الباحثين (2/ 1001).
HadeethEnc.com-এ এই হাদীসعن ابن عمر رضي الله عنهما مرفوعاً: «لا تَتْرُكُوا النار في بيوتكم حين تنامون».
ইবনে উমার রাদিয়াল্লাহ আনহুমা থেকে মরফূ হিসেবে বর্ণিত, “যখন তোমরা ঘুমাবে তখন তোমাদের ঘরে আগুন রেখে ঘুমাবে না।”
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।মানসহীহ
ব্যাখ্যা
হাদীসের অর্থ হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর উম্মতকে আগুন নিভানোর আগে ঘুমাতে নিষেধ করেছেন, যা তারা প্রজ্বলিত করে থাকে। শারহু রিয়াদিস সালেহীন, ইবনে উসাইমীন (৬/৩৯০), শারহু সুনান আবি দাঊদ, আব্বাদ, ইন্টারনেট কপি।
সূত্র
نزهة المتقين، تأليف: جمعٌ من المشايخ، الناشر: مؤسسة الرسالة، الطبعة الأولى: 1397 هـ الطبعة الرابعة عشر 1407 هـ
صحيح مسلم، تأليف: مسلم بن الحجاج النيسابوري، تحقيق: محمد فؤاد عبد الباقي الناشر: دار إحياء التراث العربي – بيروت.
رياض الصالحين، تأليف : محيي الدين يحيى بن شرف النووي ، تحقيق: د. ماهر بن ياسين الفحل ، الطبعة: الأولى، 1428 هـ
صحيح البخاري، تأليف: محمد بن إسماعيل البخاري، تحقيق: محمد زهير الناصر، الناشر: دار طوق النجاة الطبعة: الأولى، 1422هـ
شرح رياض الصالحين، تأليف: محمد بن صالح العثيمين، الناشر: دار الوطن للنشر، الطبعة: 1426 هـ
شرح سنن أبي داود، تأليف: عبد المحسن بن حمد بن عبد المحسن العباد، نسخة الإلكترونية.
HadeethEnc.com-এ এই হাদীসعَنْ عَائِشَةَ رضي الله عنها: أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ إِذَا أَوَى إِلَى فِرَاشِهِ كُلَّ لَيْلَةٍ جَمَعَ كَفَّيْهِ، ثُمَّ نَفَثَ فِيهِمَا فَقَرَأَ فِيهِمَا: {قُلْ هُوَ اللهُ أَحَدٌ}، وَ{قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ الْفَلَقِ}، وَ{قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ النَّاسِ}، ثُمَّ يَمْسَحُ بِهِمَا مَا اسْتَطَاعَ مِنْ جَسَدِهِ، يَبْدَأُ بِهِمَا عَلَى رَأْسِهِ وَوَجْهِهِ وَمَا أَقْبَلَ مِنْ جَسَدِهِ، يَفْعَلُ ذَلِكَ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ.
‘আয়িশাহ রদিয়াল্লাহু ‘আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রতিদিন রাতে যখন বিছানায় যেতেন, তখন তিনি তার দু হাতের তালু একত্রিত করে সূরা ইখ্লাস {قُلْ هُوَ اللهُ أَحَدٌ}, সূরা ফালাক {قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ الْفَلَقِ} ও সূরা নাস {قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ النَّاسِ} পাঠ করে তার মধ্যে ফুঁক দিয়ে যতদূর সম্ভব শরীরে হাত বুলাতেন। মাথা ও মুখ থেকে শুরু করে তার দেহের সম্মুখ ভাগের উপর হাত বুলাতেন এবং তিনি তিনবার এ রকম করতেন।
এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন।মানসহীহ
ব্যাখ্যা
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অভ্যাস ছিল যে, তিনি যখন ঘুমানোর জন্য বিছানায় যেতেন, তখন তিনি তার দুই হাতের তালু একত্রিত করে উপরে উঠিয়ে -দু‘আকারী ব্যক্তি যেভাবে করে থাকে- তাতে অল্প করে ফুঁ দিতেন যাতে খুবই সামান্য কিছুটা থুথু থাকত, আর তিনটি সূরা পড়তেন: সূরা ইখ্লাস {قُلْ هُوَ اللهُ أَحَدٌ}, সূরা ফালাক {قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ الْفَلَقِ} ও সূরা নাস {قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ النَّاسِ}। তারপরে তিনি তার হাতের তালু দ্বারা শরীরে যতদূর সম্ভব হাত বোলাতেন, তার মাথা ও মুখমণ্ডল থেকে শুরু করতেন যাতে শরীরের সামনের অন্যান্য অংশও থাকত। এটা তিনি তিনবার করতেন।
শিক্ষা
- ঘুমের আগে সূরা ইখলাস, সূরা ফালাক্ব ও সূরা নাস পড়ে ফূঁ দিয়ে শরীরে যতদূর পরিমাণ সম্ভব মাসেহ করা মুস্তাহাব।
সূত্র
صحيح البخاري (6/ 190) (5017)، (7/ 133) (5748)، الكاشف عن حقائق السُّنن (5/1651)، عمدة القاري شرح صحيح البخاري (20/ 35)، التوضيح لشرح الجامع الصحيح ( 24/ 91)، النهاية في غريب الحديث والأثر (ص 929)، شرح سنن أبي داود لابن رسلان (19/268).
HadeethEnc.com-এ এই হাদীসএখানকার প্রতিটি হাদীস, মান, ব্যাখ্যা ও শিক্ষা HadeethEnc.com যেভাবে প্রকাশ করে হুবহু সেভাবেই দেখানো, তাদের পুনঃপ্রকাশের শর্ত মেনে। মানের সঙ্গে মান-নির্ধারকের নাম নেই। অনুবাদ ও ব্যাখ্যা এর লেখকদের নিজস্ব, এবং কোনো কোনোটিতে বিধান বলা আছে; সাবীলের পর্যালোচকেরা এগুলো যাচাই করেননি। আরবি হাদীসটিই মূল পাঠ। উৎস: HadeethEnc.com