নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্ত্রী মুমিনদের মা আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “হে আয়িশাহ্! আল্লাহ তা’আলা নম্র ব্যবহারকারী। তিনি নম্রতাকে পছন্দ করেন। তিনি নম্রতার ওপর যা দান করেন তা কঠোরতা ও অন্য কোনো কিছুর ওপর দান করেন না।”
ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেনমানসহীহ
ব্যাখ্যা
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুমিনদের মা আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহাকে সদয় হতে উদ্বুদ্ধ করেছেন। আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের প্রতি দয়ালু এবং কোমল। তিনি তাদের জন্য স্বাচ্ছন্দ্য চান, তাদের জন্য কষ্ট চান না। তিনি তাদের উপর তাদের সামর্থ্যের অতিরিক্ত বোঝা চাপান না। তিনি ভালোবাসেন যে তার বান্দা কোমল হোক এবং সবকিছু সহজভাবে গ্রহণ করুক। তাই তার অভদ্র বা কঠোর হওয়া উচিত নয়। আল্লাহ তা‘আলা এই পৃথিবীতে দয়া ও কোমলতার উপর সুন্দর প্রশংসা, উদ্দেশ্য হাসিল এবং লক্ষ্য অর্জন সহজ করেন। আর পরকালে প্রচুর পুরষ্কার প্রদান করেন, যা সহিংসতা, তীব্রতা এবং কঠোরতার উপর প্রদান করা বস্তুর চেয়ে অনেক বেশি। তাই দয়ার সাথে এমন কিছু আসে যা অন্য কিছুর সাথে আসে না।
শিক্ষা
দয়ার উপর উৎসাহিত করা এবং সহিংসতা থেকে নিষেধ করা।
মহৎ আখলাকের মধ্যে নম্রতার মর্যাদা সুউচ্চ।
নম্র আচরণকারী আল্লাহর কাছ থেকে সুন্দর প্রশংসা এবং মহান পুরষ্কারের যোগ্য।
আস-সিন্দি বলেন: কঠোরতা হলো নম্রতার বিপরীত, অর্থাৎ যে ব্যক্তি নম্রতা ও ভদ্রতার সাথে মানুষকে হেদায়েতের দিকে ডাকে সে যে কঠোরতা ও তীব্রতার সাথে ডাকে তার চেয়ে উত্তম, যদি পরিস্থিতি উভয়কেই মেনে নেয়। অন্যথায় পরিস্থিতি যা গ্রহণ করে তা নির্দিষ্ট হয়ে যায় আর বাস্তব পরিস্থিতি আল্লাহই ভালো জানেন।
সূত্র
صحيح مسلم (4/ 2003) (2593).
بهجة الناظرين شرح رياض الصالحين، لسليم الهلالي (1/ 683).
المنهاج شرح صحيح مسلم بن الحجاج، للنووي (16/ 145).
এখানকার প্রতিটি হাদীস, মান, ব্যাখ্যা ও শিক্ষা HadeethEnc.com যেভাবে প্রকাশ করে হুবহু সেভাবেই দেখানো, তাদের পুনঃপ্রকাশের শর্ত মেনে। মানের সঙ্গে মান-নির্ধারকের নাম নেই। অনুবাদ ও ব্যাখ্যা এর লেখকদের নিজস্ব, এবং কোনো কোনোটিতে বিধান বলা আছে; সাবীলের পর্যালোচকেরা এগুলো যাচাই করেননি। আরবি হাদীসটিই মূল পাঠ। উৎস: HadeethEnc.com