عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «السَّاعِي عَلَى الأَرْمَلَةِ وَالمِسْكِينِ، كَالْمُجَاهِدِ فِي سَبِيلِ اللَّهِ، أَوِ القَائِمِ اللَّيْلَ الصَّائِمِ النَّهَارَ».
আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “বিধবা ও মিসকীন-এর জন্য (খাদ্য জোগাড়) চেষ্টারত ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তার মুজাহিদের মতো অথবা রাতে সালাত আদায়কারী ও দিনে সিয়াম পালকারীর মতো।”
সহীহ বুখারী ও মুসলিমমানসহীহ
ব্যাখ্যা
এ হাদীসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জানিয়েছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর কাছে সাওয়াব পাওয়ার আশায় এমন বিধবা নারীর অভাব অনটন মিটাতে সাহায্য করে, যার দেখভাল করার মতো কেউ নেই এবং অভাবী মিসকীনের জন্য খাদ্য জোগাড় ও অভাব পূরণের কাজে নিয়োজিত থাকে, সে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় মুজাহিদের মতো অথবা রাতে ক্লান্তিহীনভাবে তাহাজ্জুদ সালাত আদায়কারী ও দিনে অবিরত সিয়াম পালকারীর মতো সাওয়াব পাবে।
শিক্ষা
- পারস্পরিক সাহায্য-সহযোগিতা, দায়ভার গ্রহণ এবং অসহায় ও দুর্বল মানুষের অভাব পূরণের ব্যাপারে হাদীসে উৎসাহ প্রদান করা হয়েছে।
- সকল নেককাজই ইবাদতের অন্তর্ভুক্ত। আর বিধবা ও মিসকীন-এর জন্য (খাদ্য জোগাড়) চেষ্টা করাও ইবাদত।
- ইবন হুবাইরাহ রহ. বলেন: এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: আল্লাহ তা‘আলা তার জন্যে সাওম পালনকারী, সালাত আদায়কারী ও আল্লাহর রাস্তায় জিহাদকারীর সাওয়াব একত্রিত করেছেন। কারণ সে বিধবার জন্যে তার স্বামীর স্থলাভিষিক্ত কাজগুলো করেছে। তাছাড়া সে মিসকীনের দায়িত্ব নিয়েছে, যে মিসকীন নিজের ব্যয়ভার বহনে অক্ষম। ফলে সে তার অতিরিক্ত খাদ্য তাদের জন্যে ব্যয় করেছে ও তাদের জন্যে দান করেছে। সুতরাং এর উপকারিতা সাওম পালনকারী, রাতে সালাত আদায়কারী এবং জিহাদকারীর সাওয়াবের অনুরূপ হবে।
সূত্র
صحيح البخاري (7/ 62) (5353).
صحيح مسلم (4/ 2286) (2982).
بهجة الناظرين شرح رياض الصالحين، لسليم بن عيد الهلالي (1/ 351).
تطريز رياض الصالحين، لفيصل بن عبد العزيز المبارك (ص198).
رياض الصالحين (ص107) (265).
شرح رياض الصالحين، لابن عثيمين (3/ 99).
نزهة المتقين شرح رياض الصالحين، لمجموعة من الباحثين (275).
HadeethEnc.com-এ এই হাদীসعَنْ ثَوْبَانَ رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَفْضَلُ دِينَارٍ يُنْفِقُهُ الرَّجُلُ، دِينَارٌ يُنْفِقُهُ عَلَى عِيَالِهِ، وَدِينَارٌ يُنْفِقُهُ الرَّجُلُ عَلَى دَابَّتِهِ فِي سَبِيلِ اللهِ، وَدِينَارٌ يُنْفِقُهُ عَلَى أَصْحَابِهِ فِي سَبِيلِ اللهِ» قَالَ أَبُو قِلَابَةَ: وَبَدَأَ بِالْعِيَالِ، ثُمَّ قَالَ أَبُو قِلَابَةَ: وَأَيُّ رَجُلٍ أَعْظَمُ أَجْرًا مِنْ رَجُلٍ يُنْفِقُ عَلَى عِيَالٍ صِغَارٍ، يُعِفُّهُمْ أَوْ يَنْفَعُهُمُ اللهُ بِهِ وَيُغْنِيهِمْ.
ছাওবান রদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “সর্বোত্তম দীনার (টাকা-পয়সা) যা ব্যক্তি খরচ করে: এমন দীনার যা সে তার পরিবার-পরিজনের ওপর খরচ করে এবং এমন দীনার যা সে আল্লাহর পথে (অর্থাৎ জিহাদের উদ্দেশে) তার বাহনের জন্য খরচ করে এবং এমন দীনার যা সে আল্লাহর পথে তার সঙ্গীসাথীদের ওপর খরচ করে। আবূ কিলাবাহ বলেন, তিনি পরিবারের লোকজন দিয়ে শুরু করেছেন। অতঃপর আবূ কিলাবাহ বলেন, ঐ ব্যক্তির চেয়ে আর কে বেশী সাওয়াবের অধিকারী যে তার ছোট সন্তানদের জন্য খরচ করে এবং আল্লাহ তা'আলা এর বিনিময়ে তাদেরকে পবিত্র রাখেন, উপকৃত করেন এবং অভাব মুক্ত রাখেন।”
ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেনমানসহীহ
ব্যাখ্যা
নবী সাল্লাল্লাহু আ্লাইহি ওয়াসাল্লাম ব্যয়ের অনেকগুলো ধরন ব্যাখ্যা করেছেন: যখন ব্যয়ের অনেকগুলি খাত সামনে আসে, তখন তাকে সবচেয়ে আবশ্যক কাজটির ভিত্তিতে বিন্যস্ত করেছেন, যাতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজটি দিয়ে শুরু করা যায় এবং এরপরে যেটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ সেটি করা যায়। তিনি সংবাদ দিয়েছেন যে, সম্পদের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশী সওয়াব হচ্ছে সেই অর্থের মধ্যে, যা কোন মুসলিম ব্যক্তি তার উপরে দায়িত্বভার অর্পিত ব্যক্তির ক্ষেত্রে খরচ করে; যেমন স্ত্রী ও সন্তান। এরপরে আল্লাহর রাস্তায় যুদ্ধ করার ক্ষেত্রে বাহন প্রস্তুত করতে যা ব্যয় করা হয়। এরপরে তার প্রিয়মানুষ ও সহচরদের মধ্যে যারা আল্লাহর রাস্তায় জিহাদে রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে যা ব্যয় করা হয়।
শিক্ষা
- উল্লেখিত দিকসমূহের প্রাধান্যের ভিত্তিতে ব্যয়ের বিন্যাস করতে হবে, সুতরাং অনেক বিষয় সামনে আসলে তখন এগুলিকে খেয়াল রাখতে হবে।
- পরিবারের জন্য ব্যয় করা অন্যান্য স্থানে ব্যয় করার উপরে প্রাধান্য পাওয়া সংক্রান্ত বর্ণনা।
- আল্লাহর পথে জিহাদে অর্থ ব্যয় করা উত্তম খাতসমূহের অন্যতম, যেমন: জিহাদের জন্য অস্ত্র ও সৈন্যপ্রস্তুতকরণ।
- বলা হয়ে থাকে: ‘আল্লাহর পথ’ এর অর্থ হচ্ছে: প্রতিটি আনুগত্যের কাজ, যেমন হজ্জ।
সূত্র
صحيح مسلم (2/ 691) (994).
كنوز رياض الصالحين، لمجموعة من الباحثين (5/ 315).
شرح رياض الصالحين، لابن عثيمين (3/ 156).
نزهة المتقين شرح رياض الصالحين، لمجموعة من الباحثين (1/ 291).
بهجة الناظرين شرح رياض الصالحين، لسليم الهلالي (1/ 374).
HadeethEnc.com-এ এই হাদীসعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضيَ اللهُ عنهُ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «إِذَا تَوَضَّأَ الْعَبْدُ الْمُسْلِمُ -أَوِ الْمُؤْمِنُ- فَغَسَلَ وَجْهَهُ خَرَجَ مِنْ وَجْهِهِ كُلُّ خَطِيئَةٍ نَظَرَ إِلَيْهَا بِعَيْنَيْهِ مَعَ الْمَاءِ -أَوْ مَعَ آخِرِ قَطْرِ الْمَاءِ-، فَإِذَا غَسَلَ يَدَيْهِ خَرَجَ مِنْ يَدَيْهِ كُلُّ خَطِيئَةٍ كَانَ بَطَشَتْهَا يَدَاهُ مَعَ الْمَاءِ -أَوْ مَعَ آخِرِ قَطْرِ الْمَاءِ-، فَإِذَا غَسَلَ رِجْلَيْهِ خَرَجَتْ كُلُّ خَطِيئَةٍ مَشَتْهَا رِجْلَاهُ مَعَ الْمَاءِ -أَوْ مَعَ آخِرِ قَطْرِ الْمَاءِ- حَتَّى يَخْرُجَ نَقِيًّا مِنَ الذُّنُوبِ».
আবূ হুরাইরা রদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “যখন কোনো মুসলিম কিংবা কোনো মুমিন বান্দা অযু করে অতঃপর সে তার চেহারা ধৌত করে, তখন তার চেহারা হতে পানির সাথে অথবা পানির শেষ বিন্দুর সাথে সে সকল গুনাহ বের হয়ে যায় যার দিকে তার দু’চোখের দৃষ্টি পড়েছিল। আর যখন সে তার দু’হাত ধৌত করে, তখন দু’হাত থেকে পানির সাথে অথবা পানির শেষ বিন্দুর সাথে সেসব গুনাহ বের হয়ে যায়, যেগুলো তার দু’হাত করেছিল। অতঃপর যখন সে তার দু’পা ধৌত করে তখন তার দু’পা থেকে পানির সাথে অথবা পানির শেষ বিন্দুর সাথে সেসব গুনাহ বের হয়ে যায়, যেগুলোর দিকে তার দু’পা অগ্রসর হয়েছিল। ফলে (অযুর শেষে) লোকটি সমুদয় গুনাহ থেকে সম্পূর্ণভাবে মুক্ত হয়ে যায়।”
ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেনমানসহীহ
ব্যাখ্যা
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বর্ণনা করেছেন যে, যখন কোনো মুসলিম বা মুমিন ব্যক্তি ওযু করার সময় মুখ ধৌত করে, তখন তার চোখ দিয়ে দেখা সব ছোট গুনাহ ধোয়ার পর পড়া পানির সাথে বা পানির শেষ ফোঁটার সাথে বের হয়ে যায়। যখন সে তার হাত ধৌত করে, তখন তার হাত দ্বারা সংঘটিত সব ছোট গুনাহ পানির সাথে বা পানির শেষ ফোঁটার সাথে বের হয়ে যায়। আর যখন সে তার পা ধৌত করে, তখন তার পা দ্বারা হাঁটার মাধ্যমে সংঘটিত সব ছোট গুনাহ পানির সাথে বা পানির শেষ ফোঁটার সাথে বের হয়ে যায়। এভাবে ওযু শেষ করার মাধ্যমে সে সব ছোট গুনাহ থেকে পবিত্র হয়ে যায়।
শিক্ষা
- ওযুর প্রতি যত্নবান হওয়ার ফযীলত এবং এটি গুনাহ মোচন করে।
- নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পদ্ধতি ছিল যে তিনি লোকদেরকে ইবাদত ও আনুগত্যের প্রতি উৎসাহিত করতেন সেগুলোর বিনিময় ও প্রতিদানের কথা উল্লেখ করে।
- মানুষের প্রতিটি অঙ্গ কিছু না কিছু পাপে জড়িয়ে পড়ে। তাই গুনাহগুলো সেই সব অঙ্গের সাথে সম্পর্কিত হয়, যেগুলো দ্বারা তা সংঘটিত হয়েছে। আর যখন তাওবা করা হয়, তখন সেই সব অঙ্গ থেকে গুনাহ বের হয়ে যায়।
- ওযুতে দু্ই ধরনের পবিত্রতা রয়েছে: বাহ্যিক পবিত্রতা: এটি অর্জিত হয় ওযুর অঙ্গগুলো ধৌত করার মাধ্যমে। আধ্যাত্মিক পবিত্রতা: এটি অর্জিত হয় সেই সব গুনাহ থেকে, যা ওযুর অঙ্গগুলো দ্বারা সংঘটিত হয়েছে।
সূত্র
صحيح مسلم (1/ 215) (244).
كنوز رياض الصالحين، لمجموعة من الباحثين (3/ 108).
شرح رياض الصالحين، لابن عثيمين (2/ 181).
بهجة الناظرين شرح رياض الصالحين، لسليم الهلالي (1/ 208).
نزهة المتقين شرح رياض الصالحين، لمجموعة من الباحثين (1/ 157).
HadeethEnc.com-এ এই হাদীসعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَا تَدْخُلُونَ الْجَنَّةَ حَتَّى تُؤْمِنُوا، وَلَا تُؤْمِنُوا حَتَّى تَحَابُّوا، أَوَلَا أَدُلُّكُمْ عَلَى شَيْءٍ إِذَا فَعَلْتُمُوهُ تَحَابَبْتُمْ؟ أَفْشُوا السَّلَامَ بَيْنَكُمْ».
আবূ হুরাইরা রদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: لَا تَدْخُلُونَ الْجَنَّةَ حَتَّى تُؤْمِنُوا، وَلَا تُؤْمِنُوا حَتَّى تَحَابُّوا، أَوَلَا أَدُلُّكُمْ عَلَى شَيْءٍ إِذَا فَعَلْتُمُوهُ تَحَابَبْتُمْ؟ أَفْشُوا السَّلَامَ بَيْنَكُمْ
“তোমরা ঈমান না আনা পর্যন্ত জান্নাতে প্রবেশ করবে না। আর তোমাদের ঈমান পরিপূর্ণ হবে না যতক্ষণ না তোমরা একে অপরকে ভালোবাসবে। আমি কি তোমাদেরকে এমন কোন জিনিস বলে দিব না, যার মাধ্যমে তোমরা পরস্পরকে ভালোবাসবে? (তা হলো) তোমরা পরস্পরের মাঝে সালামের ব্যাপক প্রসার করো।”
ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেনমানসহীহ
ব্যাখ্যা
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বর্ণনা করেছেন যে, মুমিন ব্যতীত কেউ জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না। আর মুমিনগণ একে অপরকে ভালো না বাসলে ঈমান পরিপূর্ণ হবে না এবং মুসলিম সমাজ সংশোধন হবে না। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সর্বোত্তম পথ দেখিয়ে দিয়েছেন, যে কাজ করলে মুমিনদের মধ্যে পরস্পরে ভালোবাসা বৃদ্ধি পাবে। আর তা হলো মুসলিমদের মধ্যে পরস্পরে সালামের ব্যাপক প্রসার করা, যাকে আল্লাহ বান্দাহদের জন্যে অভিবাদন বানিয়েছেন।
শিক্ষা
- ঈমান ব্যতীত জান্নাতে প্রবেশ করা যাবে না।
- ঈমানের পূর্ণতা হলো একজন মুসলিম নিজের জন্যে যা ভালোবাসবে, অন্য মুসলিম ভাইয়ের জন্যেও তা ভালোবাসবে।
- মুসলিমদের মাঝে ব্যাপাকভাবে সালামের প্রচলন করা সুন্নাত। কেননা এতে মানুষের মাঝে ভালোবাসা ও নিরাপত্তা বিস্তার লাভ করে।
- সালাম শুধু মুসলিমকেই দেয়া হবে। কেননা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন (بينكم) অর্থাৎ তোমাদের মাঝে।
- সালাম বিনিময় দুঃসম্পর্ক, বিচ্ছিন্নতা এবং বিদ্বেষ দূর করে।
- মুসলিমদের মধ্যে পরস্পর ভালোবাসার গুরুত্ব হাদীসে বর্ণিত হয়েছে এবং এটি ঈমানের পরিপূর্ণতা।
- অন্য হাদীসে এসেছে, সালামের শব্দ হলো: ”السلام عليكم ورحمة الله وبركاته ” আস সালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ ওয়া বরাকাতুহ (আপনার ওপর নিরাপত্তা, আল্লাহর রহমত ও তাঁর বরকত নাযিল হোক)। শুধু “السلام عليكم”আস সালামু আলাইকুম(আপনার ওপর নিরাপত্তা বর্ষিত হোক) বলাও যথেষ্ট।
সূত্র
صحيح مسلم (1/ 74) (54).
بهجة الناظرين شرح رياض الصالحين، لسليم الهلالي (1/ 129).
تطريز رياض الصالحين، لفيصل المبارك (ص515).
شرح رياض الصالحين، لابن عثيمين (4/ 394).
نزهة المتقين شرح رياض الصالحين، لمجموعة من الباحثين (1/ 661).
HadeethEnc.com-এ এই হাদীসعن أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم : «من قتل وَزَغَةً فِي أَوَّلِ ضَرْبَةٍ فله كذا وكذا حسنة، ومن قتلها في الضَّرْبَةِ الثانية فله كذا وكذا حسنة دون الأولى، وإن قتلها في الضربة الثالثة فله كذا وكذا حسنة». وفي رواية: «من قتل وَزَغًا في أول ضربة كتب له مائة حسنة، وفي الثانية دون ذلك، وفي الثالثة دون ذلك».
আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি প্রথম আঘাতেই টিকটিকি হত্যা করে ফেলে, তার জন্য এত এত নেকী হয়, আর যে ব্যক্তি দ্বিতীয় আঘাতে মেরে ফেলে, তার জন্য প্রথম ব্যক্তি অপেক্ষা কম এত এত নেকী হয়। আর যদি তৃতীয় আঘাতে তাকে হত্যা করে, তাহলে তার জন্য (অপেক্ষাকৃত কম) এত এত নেকী হয়।” অপর এক বর্ণনায় আছে, “যে ব্যক্তি প্রথম আঘাতেই টিকটিকি হত্যা করে, তার জন্য একশত নেকী, দ্বিতীয় আঘাতে তার চাইতে কম (নেকী) এবং তৃতীয় আঘাতে তার চাইতে কম (নেকী) হয়।”
এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।মানসহীহ
ব্যাখ্যা
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম টিকটিকি হত্যা করার প্রতি উৎসাহ ও প্রেরণা দিয়েছেন। তিনি জানান, যে ব্যক্তি প্রথম আঘাতেই সেটা হত্যা করে ফেলে, তার জন্য একশত নেকী লিপিবদ্ধ করা হয়, আর যে ব্যক্তি দ্বিতীয় আঘাতে সেটাকে মেরে ফেলে, তার জন্য প্রথম ব্যক্তি অপেক্ষা কিছু কম নেকী লেখা হয়। আর যদি তৃতীয় আঘাতে তাকে হত্যা করে, তার নেকী আরও কম লেখা হয়।
সূত্র
- رياض الصالحين من كلام سيد المرسلين؛ للإمام أبي زكريا النووي، تحقيق د. ماهر الفحل، دار ابن كثير، دمشق، الطبعة الأولى، 1428ه.
- بهجة الناظرين شرح رياض الصالحين؛ تأليف سليم الهلالي، دار ابن الجوزي، الطبعة الأولى 1418ه
- نزهة المتقين شرح رياض الصالحين؛ تأليف د. مصطفى الخِن وغيره، مؤسسة الرسالة، بيروت، الطبعة الرابعة عشر، 1407هـ.
- صحيح مسلم، للإمام مسلم بن الحجاج، تحقيق محمد فؤاد عبد الباقي، دار إحياء التراث العربي.
- كنوز رياض الصالحين، لحمد بن ناصر العمار، دار كنوز إشبيليا، الطبعة الأولى1430ه
- شرح رياض الصالحين؛ للشيخ محمد بن صالح العثيمين، مدار الوطن، الرياض، 1426هـ.
HadeethEnc.com-এ এই হাদীসعن أبي سعيد الخُدْرِي رضي الله عنه قال: جاءت امرأة إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم فقالت: يا رسول الله، ذهب الرجال بِحَدِيثِكَ، فاجْعَل لنَا من نَفْسِك يومًا نَأتِيكَ فيه تُعَلِّمُنَا مما عَلَّمَكَ الله، قال: «اجْتَمِعْنَ يَوَم كَذَا وكَذَا» فَاجْتَمَعْنَ، فأتَاهُنَّ النبي صلى الله عليه وسلم فَعَلَّمَهُنَّ مما عَلَّمَهُ الله، ثم قال: «ما مِنْكُنَّ من امرأة تُقَدِّمُ ثَلاَثَة من الولد إلا كانوا حِجَابًا من النَّارِ» فقالت امرأة: واثنين؟ فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم : «واثنين».
আবূ সাঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন এক মহিলা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এসে বলল, ‘হে আল্লাহর রসূল! কেবলমাত্র পুরুষেরাই আপনার হাদীস শোনার সৌভাগ্য লাভ করছে। সুতরাং আপনি আমাদের জন্যও একটি দিন নির্ধারিত করুন। আমরা সে দিন আপনার নিকট আসব, আপনি আমাদেরকে তা শিক্ষা দেবেন, যা আল্লাহ আপনাকে শিক্ষা দিয়েছেন।’ তিনি বললেন, “তোমরা অমুক অমুক দিন একত্রিত হও।” অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের নিকট এসে সে শিক্ষা দিলেন, যা আল্লাহ তাঁকে শিক্ষা দিয়েছেন। তারপর তিনি বললেন, “তোমাদের মধ্যে যে কোন মহিলার তিনটি সন্তান মারা যাবে, তারা তার জন্য জাহান্নামের আগুন থেকে আড় হয়ে যাবে।” এক মহিলা বলল, ‘আর দু’টি সন্তান মারা গেলে?’ তিনি বললেন, “দু’টি মারা গেলেও (তাই হবে)।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।মানসহীহ
ব্যাখ্যা
একজন মহিলা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলল, পুরুষরা পুরো সময় আপনার ব্যয় করে। ফলে সারা দিন তারা আপনার পিছু না ছাড়ার কারণে আমরা আপনার সাথে সাক্ষাৎ করতে এবং দীন সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতে সুযোগ পাই না। তাই আমাদের নারীদের জন্য একটি দিন ধার্য করেন যাতে আমরা আপনার সাক্ষাৎ করতে পারি তাতে আপনি আমাদের আমাদের দীনের বিষয়গুলো শেখাবেন। ফলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের জন্য একটি দিন নির্ধারণ করলেন যাতে তারা একত্র হয়। তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার জন্য যে দিন নির্ধারণ করল সেদিন নারীরা একত্র হলো। তিনি তাদের সম্মুখে এসে আল্লাহ তাকে যা শিখিয়েছেন তা হতে যে সব বিষয় জানা তাদের প্রয়োজন তা শিক্ষা দিলেন। তারপর তিনি তাদের সু-সংবাদ দিলেন যে, যে কোন নারীর তিনজন সন্তান ছেলে হোক বা মেয়ে হোক মারা যায় সে সাওয়াবের আশায় এবং ধৈর্য সহকারে আখিরাতের জন্য তাদের পেশ করে তাদের কারণে তার দুঃখিত হওয়া জাহান্নাম থেকে সুরক্ষা হবে। যদিও গুনাহের কারণে সে তা নিজের ওপর অবধারিত করে রাখছিল। এ শোনে এক মহিলা বলল, যদি তার দুইজন মারা যায় তাহলে তার জন্য কি তিনজন সন্তান মারা যাওয়ার মতো সাওয়াব মিলবে? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যদি তার দুইজন সন্তান মারা যায়, তার জন্যও যার তিনজন সন্তান মারা যায় তার সাওয়াব মিলবে।
সূত্র
نزهة المتقين، تأليف: جمعٌ من المشايخ، الناشر: مؤسسة الرسالة، الطبعة الأولى: 1397 هـ الطبعة الرابعة عشر 1407هـ.
بهجة الناظرين، تأليف: سليم بن عيد الهلالي، الناشر: دار ابن الجوزي ، سنة النشر: 1418 هـ- 1997م.
صحيح مسلم، تأليف: مسلم بن الحجاج النيسابوري، تحقيق: محمد فؤاد عبد الباقي الناشر: دار إحياء التراث العربي – بيروت.
رياض الصالحين، تأليف: محيي الدين يحيى بن شرف النووي، تحقيق: د. ماهر بن ياسين الفحل ، الطبعة: الأولى، 1428هـ.
صحيح البخاري، تأليف: محمد بن إسماعيل البخاري، تحقيق: محمد زهير الناصر، الناشر: دار طوق النجاة الطبعة: الأولى، 1422هـ.
دليل الفالحين، تأليف: محمد بن علان، الناشر: دار الكتاب العربي، نسخة الكترونية، لا يوجد بها بيانات نشر.
شرح رياض الصالحين، تأليف: محمد بن صالح العثيمين، الناشر: دار الوطن للنشر، الطبعة: 1426هـ.
مرقاة المفاتيح شرح مشكاة المصابيح، تأليف: علي بن سلطان القاري، الناشر: دار الفكر، الطبعة: الأولى، 1422هـ.
HadeethEnc.com-এ এই হাদীসعن أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم : «لا يَمُوتُ لأحَدٍ من المسلمين ثلاثة من الوَلَد فتَمسُّه النَّار إلا تَحِلَّة القَسَم».
আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে মারফূ‘ হিসেবে বর্ণিত, “যে কোনো মুসলিমের তিনটি (নাবালক) সন্তান মারা যাবে, তাকে জাহান্নামের আগুন স্পর্শ করবে না। কিন্তু (আল্লাহ) তাঁর কসম পূরা করার জন্য (তাদেরকে জাহান্নামের উপর দিয়ে পার করাবেন)।”
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।মানসহীহ
ব্যাখ্যা
যার তিনটি সন্তান ছেলে হোক বা মেয়ে হোক মারা গেল এবং সে ধৈর্য ধারণ ও সাওয়াবের আশা করল এবং আল্লাহর ফায়সালা ও বিচারের ওপর সন্তুষ্ট থাকল, আল্লাহ তা‘আলা জাহান্নামের আগুনের ওপর তার দেহকে হারাম করে দেবেন। তবে এতটুকু সংঘটিত হবে যতটুকু পরিমাণ জাহান্নামে দিলে তিনি তার কসম থেকে মুক্ত হবেন। আর তা হলো তার বাণী: “তোমাদের যে কোনো ব্যক্তিই হোকনা কেন, সে অবশ্যই তাতে প্রবেশ করবে।” [সূরা মারইয়াম, আয়াত: ৭১]
সূত্র
- صحيح البخاري، للإمام محمد بن إسماعيل البخاري، تحقيق محمد الناصر، دار طوق النجاة.
- صحيح مسلم، للإمام مسلم بن الحجاج، تحقيق محمد فؤاد عبد الباقي، دار إحياء التراث العربي.
- بهجة الناظرين شرح رياض الصالحين؛ تأليف سليم الهلالي، دار ابن الجوزي- الطبعة الأولى1418ه
- نزهة المتقين شرح رياض الصالحين؛ تأليف د. مصطفى الخِن وغيره، مؤسسة الرسالة-بيروت، الطبعة الرابعة عشر، 1407هـ.
- سنن أبي داود، لأبي داود السجستاني، تحقيق محمد محيي الدين، المكتبة العصرية.
- كنوز رياض الصالحين، لحمد بن ناصر العمار، دار كنوز إشبيليا- الطبعة الأولى1430ه
- دليل الفالحين لطرق رياض الصالحين، لمحمد علي بن محمد بن علان بن إبراهيم البكري الصديقي الشافعي اعتنى بها: خليل مأمون شيحا، دار المعرفة.
- شرح رياض الصالحين؛ للشيخ محمد بن صالح العثيمين، مدار الوطن، الرياض، 1426هـ.
HadeethEnc.com-এ এই হাদীসعَنْ خُرَيْمِ بْنِ فَاتِكٍ رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «الْأَعْمَالُ سِتَّةٌ، وَالنَّاسُ أَرْبَعَةٌ، فَمُوجِبَتَانِ، وَمِثْلٌ بِمِثْلٍ، وَحَسَنَةٌ بِعَشْرِ أَمْثَالِهَا، وَحَسَنَةٌ بِسَبْعِ مِائَةٍ، فَأَمَّا الْمُوجِبَتَانِ: فَمَنْ مَاتَ لَا يُشْرِكُ بِاللهِ شَيْئًا دَخَلَ الْجَنَّةَ، وَمَنْ مَاتَ يُشْرِكُ بِاللهِ شَيْئًا دَخَلَ النَّارَ، وَأَمَّا مِثْلٌ بِمِثْلٍ: فَمَنْ هَمَّ بِحَسَنَةٍ حَتَّى يَشْعُرَهَا قَلْبُهُ، وَيَعْلَمَهَا اللهُ مِنْهُ كُتِبَتْ لَهُ حَسَنَةً، وَمَنْ عَمِلَ سَيِّئَةً، كُتِبَتْ عَلَيْهِ سَيِّئَةً، وَمَنْ عَمِلَ حَسَنَةً فَبِعَشْرِ أَمْثَالِهَا، وَمَنْ أَنْفَقَ نَفَقَةً فِي سَبِيلِ اللهِ فَحَسَنَةٌ بِسَبْعِ مِائَةٍ، وَأَمَّا النَّاسُ، فَمُوَسَّعٌ عَلَيْهِ فِي الدُّنْيَا مَقْتُورٌ عَلَيْهِ فِي الْآخِرَةِ، وَمَقْتُورٌ عَلَيْهِ فِي الدُّنْيَا مُوَسَّعٌ عَلَيْهِ فِي الْآخِرَةِ، وَمَقْتُورٌ عَلَيْهِ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ، وَمُوَسَّعٌ عَلَيْهِ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ».
খুরাইম ইবনু ফাতিক রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “আমলসমূহ ছয় প্রকার ও মানুষ চার প্রকার। দুটি আবশ্যককারী কাজ এবং একটি এমন কাজ যা অপরটির সমান। একটি ভালোকাজ তার দশগুণ সমপরিমাণ আবার একটি ভালোকাজ সাতশত গুণ। আবশ্যককারী কাজ দুটি হচ্ছে: যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে কোন কিছুকে শিরক না করে মারা যাবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। আর যে ব্যক্তির আল্লাহর সাথে কোন কিছু শিরক করে মারা যাবে, সে (জাহান্নামের) আগুনে প্রবেশ করবে। একটি অপরটির সমান কাজ হচ্ছে: যে ব্যক্তি কোন ভালোকাজের সংকল্প করে, এমনকি তার অন্তর তা অনুভব করে এবং আল্লাহ তা‘আলা তার থেকে এ নিয়তের ব্যাপারে অবগত থাকেন, তার জন্য একটি ভালোকাজ লিপিবদ্ধ করা হয়। আর যে ব্যক্তি কোন মন্দ কাজ করে, তার উপরে একটি গুনাহ লেখা হয়। আর যে ব্যক্তি কোন ভালোকাজ করে, তার জন্য এর দশগুণ করে দেয়া হয়। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় কোন কিছু দান করে, তার জন্য সাতশতগুণ বৃদ্ধি করে দেয়া হয়। আর মানুষ (চার প্রকার): ১) দুনিয়ায় স্বচ্ছল কিন্তু আখিরাতে অস্বচ্ছল, ২) দুনিয়াতে অস্বচ্ছল কিন্তু আখিরাতে স্বচ্ছল, ৩) দুনিয়া ও আখিরাত উভয় স্থানেই অস্বচ্ছল এবং ৪) দুনিয়া ও আখিরাত উভয় স্থানেই স্বচ্ছল।”
এটি আহমাদ বর্ণনা করেছেন।মানহাসান
ব্যাখ্যা
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম সংবাদ দিয়েছেন যে, ‘আমল হচ্ছে মোট ছয় ধরণের আর মানুষ হচ্ছে চার শ্রেণির। ছয় ধরণের আমল হচ্ছে:
প্রথমত: যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে কোন কিছু শিরক না করে মারা যাবে, তার জন্য জান্নাত আবশ্যক হয়ে যাবে।
দ্বিতীয়ত: যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে কোন কিছুকে শিরক করে মারা যাবে, তার জন্য চিরস্থায়ীভাবে জাহান্নামের আগুন আবশ্যক হয়ে যাবে।
আর এ দুটি হলো আবশ্যককারী।
তৃতীয়ত: নিয়ত সংক্রান্ত ভালোকাজ, যে ব্যক্তি কোন ভালোকাজের নিয়ত করে, আর সে তার নিয়তের ক্ষেত্রে সত্যবাদীও হয়, এমনকি তার অন্তরও এটি অনুভব করে এবং আল্লাহ তা‘আলাও তার এ নিয়ত সম্পর্কে জানেন। কিন্ত তারপরে তার সামনে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয় যে, সে আর উক্ত কাজটি সম্পাদন করতে পারে না, তাহলে এমতাবস্থায় তার জন্য পূর্ণ একটি ভালোকাজ লিখে দেয়া হয়।
চতুর্থত: কৃত মন্দকাজ, যে ব্যক্তি কোন একটি মন্দকাজ করে, তার জন্য একটি মন্দকাজই লেখা হয়।
আর এরা হচ্ছে: সমান, সমান কোন প্রকার বৃদ্ধি করা ছাড়া।
পঞ্চমত: একটি ভালোকাজ, যা তার দশগুণ হয়ে থাকে। এটি হচ্ছে যে ব্যক্তি নিয়ত করে এবং সে অনুযায়ী আমলটি সম্পাদন করে; এতে তার দশটি ভালোকাজ লিখে দেয়া হয়।
ষষ্ঠত: সাতশত গুণ বর্ধিত ভালোকাজ। এটি হচ্ছে: যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় কোন কিছু দান করে, তার জন্য এ ভালোকাজটি সাতশত গুণ বৃদ্ধি করে লেখা হয়। এটি নিঃসন্দেহে আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা‘আলার বান্দার উপরে তাঁর অনুগ্রহ ও করুণা।
আর চার শ্রেণির মানুষ হচ্ছে:
প্রথম: যাকে দুনিয়াতে রিযিকের প্রাচুর্যতা ও নি‘আমাত দান করা হয়েছে, সে এখানে যা চায় সব কিছুই পায়, তবে আখিরাতে সে সংকটে পতিত হবে। আর তার অবস্থান হবে জাহান্নামে, সে হচ্ছে মূলত: ধনী কাফির।
দ্বিতীয়: যার উপরে দুনিয়ার রিযিকের সংকীর্ণতা রয়েছে, কিন্তু আখিরাতে সে প্রাচুর্যতা পাবে আর তার আবাস হবে জান্নাত, সে হচ্ছে: দরিদ্র মুমিন।
তৃতীয়: যার উপরে দুনিয়া ও আখিরাত উভয়টিই সংকীর্ণ, সে হচ্ছে: দরিদ্র কাফির।
চতুর্থ: যে দুনিয়া ও আখিরাত উভয় স্থানেই প্রাচুর্যতা পাবে, সে হচ্ছে: ধনী মুমিন।
শিক্ষা
- বান্দার উপরে আল্লাহ তা‘আলার বড় করুণা ও ভালোকাজকে বাড়িয়ে দেয়ার বর্ণনা।
- আল্লাহর ন্যায়পরায়নতা ও অনুগ্রহ: যখন আমরা কোন একটি মন্দকাজ করি, তখন ন্যায়বিচার হিসেবে তিনি একটি মন্দকাজের শাস্তি দেন।
- আল্লাহর সাথে শিরক করার ভয়াবহতা, তাতে রয়েছে জান্নাত থেকে বঞ্চিত হওয়া।
- আল্লাহর পথে ব্যয় করার ফযীলতের বর্ণনা।
- আল্লাহর পথে কোন কিছু ব্যয় করলে তা বহুগুণে বর্ধিত হয়, যা শুরু হয় সাতশত গুণ থেকে; কেননা এতে করে আল্লাহর কালিমাকে সমুন্নত করার ওপর সহযোগিতা করা হয়ে থাকে।
- মানুষের বিভিন্নতা ও তাদের মধ্যকার শ্রেণির বর্ণনা।
- দুনিয়াতে মুমিন এবং কাফির উভয় ধরণের মানুষকে প্রাচুর্যতা প্রদান করা হলেও আখিরাতে মুমিন ছাড়া অন্য কোনো ব্যক্তিকে প্রাচুর্যতা দেয়া হবে না।
সূত্র
مسند أحمد (31/ 196) (18900)، (31/ 384)، الفتح الرباني لترتيب مسند أحمد بن حنبل الشيباني (19/198).
HadeethEnc.com-এ এই হাদীসএখানকার প্রতিটি হাদীস, মান, ব্যাখ্যা ও শিক্ষা HadeethEnc.com যেভাবে প্রকাশ করে হুবহু সেভাবেই দেখানো, তাদের পুনঃপ্রকাশের শর্ত মেনে। মানের সঙ্গে মান-নির্ধারকের নাম নেই। অনুবাদ ও ব্যাখ্যা এর লেখকদের নিজস্ব, এবং কোনো কোনোটিতে বিধান বলা আছে; সাবীলের পর্যালোচকেরা এগুলো যাচাই করেননি। আরবি হাদীসটিই মূল পাঠ। উৎস: HadeethEnc.com