عن أُمُّ سَلَمَة رضي الله عنها أن رسول الله صلى الله عليه وسلم سَمِعَ جَلَبَةَ خَصْمٍ بِبَابِ حُجْرَتِهِ، فَخَرَجَ إلَيْهِمْ، فقال: «ألا إنما أنا بشر، وإنما يأتيني الخصم، فلعل بعضكم أن يكون أبلغ من بعض؛ فَأَحْسِبُ أَنَّهُ صَادِقٌ؛ فَأَقْضِي لَهُ، فمن قضيت له بحق مسلم فإنما هي قطعة من نار، فَلْيَحْمِلْهَا أَوْ يَذَرْهَا».
উম্মু সালামাহ রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত: একদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর ঘরের দরজায় বাদী-বিবাদীর তর্কাতর্কি শুনতে পেয়ে তাদের নিকট বেরিয়ে আসলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, মনে রাখবে আমি তো একজন মানুষ। আমার কাছে (কোন কোন সময়) ঝগড়াকারীরা আসে। তোমাদের মধ্যে কেউ কেউ অন্যের চেয়ে অধিক বাকপটু। তখন আমি মনে করি যে, সে সত্য বলেছে। তাই আমি তার পক্ষে রায় দেই। বিচারে যদি আমি ভুলবশত অন্য কোন মুসলমানের হক তাকে দিয়ে থাকি, তবে তা দোযখের টুকরা। এখন সে তা গ্রহণ করুক বা ত্যাগ করুক।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।মানসহীহ
ব্যাখ্যা
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার দরজার সামনে দুই পক্ষের ঝগড়া বিবাধের বিক্ষিপ্ত আওয়াজ শুনতে পেয়ে তাদের মধ্যে মীমাংসা করার জন্য ঘর থেকে বের হয়ে আসেন। তারপর তিনি বলেন, আমি তোমাদের মতোই মানুষ। আমি গায়েব জানি না এবং আমি গোপন বিষয়ের সংবাদ দিই না যাতে তোমাদের মধ্যে কে সত্যবাদী আর কে মিথ্যাবাদী তা তোমাদের জানাবো। আমার কাছে বাদী-বিবাদী আসে যাতে আমি তাদের মধ্যে ফায়সালা করি। আর আমার ফায়সালা উভয় পক্ষ থেকে যে দলীল, প্রমাণাদি ও সপথ শুনি তার ভিত্তিতে। হতে পারে তাদের মধ্যে কেউ অধিক পন্ডিত, সাহিত্যিক ও স্পষ্টবাদী। ফলে আমি মনে করি যে সে সত্যবাদী, তখন আমি তার পক্ষে ফায়সালা দিয়ে থাকি। হতে পারে ভিতরের সত্য তার প্রতিপক্ষের জন্য। আর মনে রাখবে আমার ফায়সালা বাহ্যিক দিক বিবেচনায় গোপনীয়তার বিবেচনায় নয়। যার ফলে কোন হারাম হালাল হয়ে যায় না। এ কারণেই যদি আমি কারো জন্য অপরের হকের ফায়সালা করে দেই অথচ সে জানে যে সে অন্যায়কারী, তাহলে মনে রাখবে আমি তার জন্য জাহান্নামের একটি টুকরার ফায়সালা করলাম। সে যদি চায় তা গ্রহণ করুক অথবা ছেড়ে যাক। তার শাস্তি তার ওপরই বর্তাবে। আল্লাহ তা‘আলাই জালিমদের থেকে প্রতিশোধ গ্রহণকারী।
সূত্র
الإلمام بشرح عمدة الأحكام، إسماعيل بن محمد الأنصاري، دار الفكر، دمشق، الطبعة: الأولى 1381هـ.
تأسيس الأحكام، أحمد بن يحيى النجمي، دار علماء السلف، الطبعة: الثانية 1414هـ.
تيسير العلام شرح عمدة الأحكام، عبد الله بن عبد الرحمن البسام، تحقيق: محمد صبحي حلاق، مكتبة الصحابة، الأمارات، مكتبة التابعين، القاهرة، الطبعة: العاشرة 1426هـ.
عمدة الأحكام من كلام خير الأنام -صلى الله عليه وسلم- لعبد الغني المقدسي، دراسة وتحقيق: محمود الأرناؤوط، مراجعة وتقديم: عبد القادر الأرناؤوط، دار الثقافة العربية، دمشق، بيروت، مؤسسة قرطبة، الطبعة: الثانية 1408هـ.
صحيح البخاري، محمد بن إسماعيل البخاري الجعفي، تحقيق: محمد زهير الناصر، دار طوق النجاة (مصورة عن السلطانية بإضافة ترقيم: محمد فؤاد عبد الباقي)، الطبعة: الأولى 1422هـ.
صحيح مسلم، مسلم بن الحجاج القشيري النيسابوري، تحقيق محمد فؤاد عبد الباقي، دار إحياء التراث العربي، بيروت، الطبعة: 1423هـ.
HadeethEnc.com-এ এই হাদীসعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بنِ مَسْعُودٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ حَلَفَ عَلَى يَمِينٍ وَهُوَ فِيهَا فَاجِرٌ لِيَقْتَطِعَ بِهَا مَالَ امْرِئٍ مُسْلِمٍ، لَقِيَ اللَّهَ وَهُوَ عَلَيْهِ غَضْبَانُ». قَالَ: فَقَالَ الْأَشْعَثُ: فِيَّ وَاللَّهِ كَانَ ذَلِكَ؛ كَانَ بَيْنِي وَبَيْنَ رَجُلٍ مِنَ الْيَهُودِ أَرْضٌ، فَجَحَدَنِي، فَقَدَّمْتُهُ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَلَكَ بَيِّنَةٌ؟» قُلْتُ: لَا. قَالَ: فَقَالَ لِلْيَهُودِيِّ: «احْلِفْ». قَالَ: قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، إِذَنْ يَحْلِفَ وَيَذْهَبَ بِمَالِي. فَأَنْزَلَ اللَّهُ تَعَالَى: {إِنَّ الَّذِينَ يَشْتَرُونَ بِعَهْدِ اللَّهِ وَأَيْمَانِهِمْ ثَمَنًا قَلِيلًا}. إِلَى آخِرِ الْآيَةِ.
আব্দুল্লাহ ইবন মাস‘ঊদ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “কোন ব্যক্তি যদি কোন মুসলিমের অর্থ সম্পদ আত্মসাৎ করার উদ্দেশে মিথ্যা শপথ করে, তা হলে সে আল্লাহর সমীপে এমন অবস্থায় হাযির হবে যে, আল্লাহ তার উপর রাগান্বিত থাকবেন”। তিনি বলেন, আশ‘আস বললেন, আল্লাহর কসম! এটা আমার সম্পর্কেই ছিল, আমার ও এক ইয়াহূদী ব্যক্তির সাথে যৌথ মালিকানায় এক খন্ড জমি ছিল। সে আমার মালিকানার অংশ অস্বীকার করে বসল। আমি তাকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কাছে নিয়ে গেলাম। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন, “তোমার কোন সাক্ষী আছে কি?” আমি বললাম, না। তিনি বলেন, তখন তিনি ইয়াহূদীকে বললেন, “তুমি কসম কর”। তিনি বলেন, আমি তখন বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! সে তো কসম করবে এবং আমার সম্পত্তি নিয়ে নেবে। তখন আল্লাহ তা‘আলা (এ আয়াত) নাযিল করেনঃ {إِنَّ الَّذِينَ يَشْتَرُونَ بِعَهْدِ اللَّهِ وَأَيْمَانِهِمْ ثَمَنًا قَلِيلًا}. إِلَى آخِرِ الْآيَةِ. ‘‘যারা আল্লাহর সঙ্গে কৃত প্রতিশ্রুতি এবং নিজেদের শপথকে স্বল্পমূল্যে বিক্রি করে ....... আয়াতের শেষ পর্যন্ত’’- (আলে ইমরান ৭৭)।
সহীহ বুখারী ও মুসলিমমানসহীহ
ব্যাখ্যা
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অন্য কারো অর্থ আত্মসাতের জন্য শপথকারী নিজে মিথ্যা বলছেন জেনেও আল্লাহর নামে শপথ না করার ব্যাপারে সতর্ক করে দিয়েছেন। সে আল্লাহর সাথে এমন অবস্থায় দেখা করবে যখন তিনি তার উপর রাগান্বিত থাকবেন। আশ'আশ ইবনু কায়স রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই কথা এক ইহুদি ব্যক্তির সাথে তার জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধের সময় বলেছেন। তারা তাদের মামলা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে নিয়ে যান। তখন তিনি আশ'আশকে বলেন: আপনার দাবির প্রমাণ হিসেবে আপনাকে অবশ্যই সাক্ষী উপস্থাপন করতে হবে। যদি আপনি তা প্রদান করতে অক্ষম হন, তাহলে আপনার জন্য আপনার বিবাদীর শপথ ছাড়া আর কিছুই নেই। আশ’আশ বলেন: হে আল্লাহর রাসূল, তাহলে তো ইহুদি লোকটি শপথ করবে এবং দ্বিধা না করে আমার সম্পদ নিয়ে নিবে, তাই আল্লাহ তাআলা কুরআনে এর সত্যতা প্রকাশ করলেন তাঁর বাণীতে: {নিশ্চয় যারা আল্লাহ্র সাথে করা প্রতিশ্রুতি} এবং মুমিনদের জন্য আমানত ফিরিয়ে দেওয়ার তার অসিয়ত পরিবর্তন করে {এবং নিজেদের শপথের বিনিময়ে} অর্থাৎ আল্লাহর নামে মিথ্যা শপথের বিনিময়ে পৃথিবীর ধ্বংসাবশেষ {তুচ্ছ মূল্য খরিদ করে, আখেরাতে তাদের কোনো অংশ নেই। আর আল্লাহ্ তাদের সাথে কথা বলবেন না} এমন কথা যা তাদের খুশি করবে এবং তাদের উপকার করবে, বরং তাদের উপর গোস্বা করবেন। {এবং তাদের দিকে তাকাবেন না কেয়ামতের দিন।} রহমত ও অনুগ্রহের দৃষ্টি দিবেন না। {আর তাদেরকে পরিশুদ্ধও করবেন না}; ভালো প্রশংসার মাধ্যমে এবং মাখফিরাত করে তাদের পাপ ও নাপাকি থেকে পবিত্র করবেন না। {এবং তাদের জন্য রয়েছে মর্মন্তুদ শাস্তি} তাদের কর্মের ফল স্বরূপ কষ্টদায়ক শাস্তি।
শিক্ষা
- জনগণের অর্থ অবৈধভাবে গ্রহণ করা নিষিদ্ধ।
- মুসলিমদের ছোট-বড় সকল অধিকার খুব বড়।
- সাক্ষীর ভার বাদীর উপর এবং যদি বিবাদী অস্বীকার করে তবে শপথ তার উপর।
- দুইজন সাক্ষীর দ্বারা অধিকার প্রমাণ হয়। যদি বাদীর কাছে প্রমাণ না থাকে, তাহলে বিবাদীকে শপথ করতে হবে।
- (আল-গুমুস) হারাম কসম, যা একটি মিথ্যা শপথ যার মাধ্যমে শপথকারী অন্যের অধিকার হরণ করে। এটি এমন একটি বড় পাপ যা ব্যক্তিকে আল্লাহর ক্রোধ এবং শাস্তির মুখোমুখি করে।
- শাসকের বিরোধীদের প্রতি ধর্মোপদেশ, বিশেষ করে যখন তিনি শপথ নিতে চান।
সূত্র
صحيح البخاري (3/ 121) (2416).
صحيح مسلم (1/ 123) (138).
الإلمام بشرح عمدة الأحكام، لإسماعيل الأنصاري (2/ 136).
تيسير العلام شرح عمدة الأحكام، للبسام (ص687).
فتاوى اللجنة الدائمة - اللجنة الدائمة للبحوث العلمية والإفتاء (23/ 513).
HadeethEnc.com-এ এই হাদীসعن أبي هريرة رضي الله عنه : أنه سمع رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: كانت امرأتان معهما ابناهما، جاء الذئب فذهب بابن إحداهما، فقالت لصاحبتها: إنما ذهب بابنك، وقالت الأخرى: إنما ذهب بابنك، فتحاكما إلى داود صلى الله عليه وسلم فقضى به للكبرى، فخرجتا على سليمان بن داود صلى الله عليه وسلم فأخبرتاه، فقال: ائتوني بالسكين أَشُقُّهُ بينهما، فقالت الصغرى: لا تفعل! رحمك الله، هو ابنها، فقضى به للصغرى.
আবূ হুরায়রাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে মারফু হিসেবে বর্ণিত, “দু’জন মহিলার সাথে তাদের দু’টি ছেলে ছিল। একদা একটি নেকড়ে বাঘ এসে তাদের মধ্যে একজনের ছেলেকে নিয়ে গেল। একজন মহিলা তার সঙ্গিনীকে বলল, ‘বাঘে তোমার ছেলেকেই নিয়ে গেছে।’ অপরজন বলল, ‘তোমার ছেলেকেই বাঘে নিয়ে গেছে।’ সুতরাং তারা দাঊদ আলাইহিস সালাম-এর নিকট বিচারপ্রার্থিনী হল। তিনি (অবশিষ্ট ছেলেটি) বড় মহিলাটির ছেলে বলে ফায়সালা ক’রে দিলেন। অতঃপর তারা বের হয়ে দাঊদ আলাইহিস সালাম-এর পুত্র সুলায়মান আলাইহিস সালাম-এর নিকট দিয়ে গেল এবং উভয়ে তাকে ঘটনাটি বর্ণনা করল। তখন তিনি বললেন, ‘আমাকে একটি চাকু দাও। আমি একে দু টুকরো ক’রে দু’জনের মধ্যে ভাগ ক’রে দেব।’ তখন ছোট মহিলাটি বলল, ‘আপনি এরূপ করবেন না। আল্লাহ আপনাকে রহম করুন। ছেলেটি ওরই।’ তখন তিনি ছেলেটি ছোট মহিলার (নিশ্চিত জেনে) ফায়সালা দিলেন।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।মানসহীহ
ব্যাখ্যা
আমাদের নবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম-আমাদেরকে দুইজন মহিলার ঘটনা সম্পর্কে অবগত করেন। তারা দুইজন তাদের দুইজনের ছেলে নিয়ে বের হলো। একটি নেকড়ে বাঘ এসে তাদের মধ্যে একজনের ছেলেকে নিয়ে গেল, আর অপর ছেলেটি থেকে গেল। তারা উভয় বলল, অবশিষ্ট ছেলেটি আমার। সুতরাং তারা দাঊদ আলাইহিস সালাম-এর নিকট বিচারপ্রার্থিনী হল। তিনি স্বীয় ইজতিহাদ দ্বারা (অবশিষ্ট ছেলেটি) বড় মহিলাটির জন্য ফায়সালা ক’রে দিলেন। কারণ, হতে পারে বড় মহিলাটি বন্দা হয়ে গেছে আর সন্তান হবে না। আর ছোট মহিলাটি যুবতী। সে ভবিষ্যতে আরেকটি সন্তান লাভ করতে পারবে। তারপর তারা দুইজন তার নিকট থেকে বের হয়ে তার ছেলে সুলায়মান আলাইহিস সালামের নিকট গেল। এবং তার কাছে ঘটনাটি পুণরায় ব্যক্ত করল। তখন তিনি বললেন, ‘আমাকে একটি চাকু দাও। আমি একে দু টুকরো ক’রে দু’জনের মধ্যে ভাগ ক’রে দিব।’ তখন বড় মহিলাটি খুশি হলো। আর ছোট মহিলাটি প্রত্যাখ্যান করল এবং বলল, ছেলেটি বড় মহিলার। তার অন্তরে দয়া ও রহমতের উদ্রেক হলো। কারণ, বাস্তবে এটি তাঁরই সন্তান ছিল। তাই সে বলল, হে আল্লাহর নবী এটি বড় মহিলার সন্তান। তারপর তিনি দলীল ও আলামত দ্বারা ছেলেটি ছোট মহিলার জন্য ফায়সালা দিলেন। কারণ, তিনি সন্তানটির প্রতি দয়া দেখালেন এবং তাকে বাচানোর জন্য বললেন, সে বড় মহিলার ছেলে। কারণ দুই টুকরা করে তাকে মেরে ফেলার চাইতে বাঁচিয়ে রাখা অনেক উত্তম। ফলে তিনি তাকে ছোট মহিলাটির জন্য ফায়সালা দিলেন।
সূত্র
نزهة المتقين شرح رياض الصالحين، نشر: مؤسسة الرسالة، الطبعة: الرابعة عشر، 1407هـ - 1987م.
شرح رياض الصالحين، لابن عثيمين، نشر: دار الوطن للنشر، الرياض، 1426هـ.
بهجة الناظرين شرح رياض الصالحين، للهلالي، نشر: دار ابن الجوزي.
صحيح البخاري، نشر: دار طوق النجاة (مصورة عن السلطانية بإضافة ترقيم محمد فؤاد عبد الباقي)، الطبعة: الأولى، 1422هـ.
صحيح مسلم، تحقيق: محمد فؤاد عبد الباقي، نشر: دار إحياء التراث العربي – بيروت.
HadeethEnc.com-এ এই হাদীসعَن ابنِ عباسٍ رضي الله عنهما أنَّ رسولَ اللهِ صلي الله عليه وسلم قال: «لَو يُعطَى النّاسُ بدَعواهُم لادَّعَى رِجالٌ أموالَ قَومٍ ودِماءَهُم، ولَكِنَّ البَيِّنَةَ على المُدَّعِى، واليَمينَ على مَن أنكَرَ».
ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “যদি মানুষকে কেবল তাদের দাবী অনুযায়ী দিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে অবশ্যই কতক লোক অন্যের সম্পদ ও জীবনও দাবী করবে। তবে দাবীদার কে প্রমাণ পেশ,আর যে অস্বীকারীর করবে তাকে শপথ করতে হবে”।
এটি বায়হাকী বর্ণনা করেছেন।মানসহীহ
ব্যাখ্যা
নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বর্ণনা করেন যে, যদি মানুষকে কেবল তাদের দাবির ভিত্তিতে প্রমাণ ছাড়াই দাবি করা জিনিস দেওয়া হয়, তবে লোকেরা জনগণের সম্পদ ও রক্ত দাবি করবে, কিন্তু দাবিদারকে অবশ্যই যা দাবি করছেন তার পক্ষে প্রমাণ ও দলিল উপস্থিত করতে হবে। যদি তার কাছে প্রমাণ না থাকে, তাহলে যার উপর দাবি করা হয়েছে তার সামনে দাবিটি উপস্থাপন করা হবে, যদি সে তা অস্বীকার করে তবে তাকে শপথ করতে হবে এবং সে খালাস পেয়ে যাবেন।
শিক্ষা
- ইবনু দাকীক আল-ঈদ বলেছেন: এই হাদীসটি বিধানসমূহের অন্যতম ভিত্তি এবং বিবাদ ও ঝগড়ার সময় সর্বশ্রেষ্ঠ সমাধান।
- শরীয়া এসেছে মানুষের অর্থ ও রক্ত নিয়ে তামাশা করা থেকে সুরক্ষা দিতে।
- বিচারক তার জ্ঞানের উপর ভিত্তি করে বিচার করবেন না, বরং প্রমাণের স্মরণাপন্ন হবেন।
- যে কেউ প্রমাণ ছাড়া কোন দাবি করবে তা প্রত্যাখ্যান করা হবে, এটি পরস্পর হক ও লেনদেনের ক্ষেত্রে হোক বা ঈমান ও ইলমের বিষয় হোক।
সূত্র
السنن الكبرى للبيهقي تحقيق التركي (21/ 242 - 243) (21243).
التحفة الربانية في شرح الأربعين حديثًا النووية (ص76).
شرح الأربعين النووية، لابن عثيمين (ص328).
فتح القوي المتين في شرح الأربعين وتتمة الخمسين، لعبد المحسن البدر (ص114).
HadeethEnc.com-এ এই হাদীসعَن ابنِ عباسٍ رضي الله عنهما أنَّ رسولَ اللهِ صلي الله عليه وسلم قال: «لَو يُعطَى النّاسُ بدَعواهُم لادَّعَى رِجالٌ أموالَ قَومٍ ودِماءَهُم، لَكِنَّ البَيِّنَةَ على المُدَّعِى، واليَمينَ على مَن أنكَرَ».
ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “যদি মানুষকে কেবল তাদের দাবী অনুযায়ী দিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে অবশ্যই কতক লোক অন্যের সম্পদ এবং তাদের জীবনও দাবী করবে। তবে দাবীদারের দায়িত্ব প্রমাণ পেশ করা আর যে অস্বীকারীর করবে তার দায়িত্ব শপথ করা”।
এটি বাইহাকী ও অন্যান্যরা এভাবে বর্ণনা করেছেন এবং এর অংশবিশেষ সহীহ বুখারী ও মুসলিমে রয়েছে।মানহাসান
ব্যাখ্যা
নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বর্ণনা করেন যে, যদি মানুষকে কেবল তাদের দাবির ভিত্তিতে প্রমাণ ছাড়াই দাবি করা জিনিস দেওয়া হয়, তবে লোকেরা জনগণের সম্পদ ও রক্ত দাবি করবে, কিন্তু দাবিদারকে অবশ্যই যা দাবি করছেন তার পক্ষে প্রমাণ ও দলিল উপস্থিত করতে হবে। যদি তার কাছে প্রমাণ না থাকে, তাহলে যার উপর দাবি করা হয়েছে তার সামনে দাবিটি উপস্থাপন করা হবে, যদি সে তা অস্বীকার করে তবে তাকে শপথ করতে হবে এবং সে খালাস পেয়ে যাবেন।
শিক্ষা
- ইবনু দাকীক আল-ঈদ বলেছেন: এই হাদীসটি বিধানসমূহের অন্যতম ভিত্তি এবং বিবাদ ও ঝগড়ার সময় সর্বশ্রেষ্ঠ সমাধান।
- শরীয়া এসেছে মানুষের অর্থ ও রক্ত নিয়ে তামাশা করা থেকে সুরক্ষা দিতে।
- বিচারক তার জ্ঞানের উপর ভিত্তি করে বিচার করবেন না, বরং প্রমাণের স্মরণাপন্ন হবেন।
- যে কেউ প্রমাণ ছাড়া কোন দাবি করবে তা প্রত্যাখ্যান করা হবে, এটি পরস্পর হক ও লেনদেনের ক্ষেত্রে হোক বা ঈমান ও ইলমের বিষয় হোক।
সূত্র
السنن الكبرى للبيهقي تحقيق التركي (21/ 242 - 243) (21243).
التحفة الربانية في شرح الأربعين حديثًا النووية (ص76).
شرح الأربعين النووية، لابن عثيمين (ص328).
فتح القوي المتين في شرح الأربعين وتتمة الخمسين، لعبد المحسن البدر (ص114).
HadeethEnc.com-এ এই হাদীসএখানকার প্রতিটি হাদীস, মান, ব্যাখ্যা ও শিক্ষা HadeethEnc.com যেভাবে প্রকাশ করে হুবহু সেভাবেই দেখানো, তাদের পুনঃপ্রকাশের শর্ত মেনে। মানের সঙ্গে মান-নির্ধারকের নাম নেই। অনুবাদ ও ব্যাখ্যা এর লেখকদের নিজস্ব, এবং কোনো কোনোটিতে বিধান বলা আছে; সাবীলের পর্যালোচকেরা এগুলো যাচাই করেননি। আরবি হাদীসটিই মূল পাঠ। উৎস: HadeethEnc.com