মূল অংশে যান
ব্যাখ্যাসহ হাদীস

মুসলিম সমাজ

৬টি হাদীস

“প্রতিদানকারী আত্মীয়তার হক সংরক্ষণকারী নয়; বরং আত্মীয়তার হক সংরক্ষণকারী সে ব্যক্তি, যে আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন হবার পরও তা বজায় রাখে।”

عن عبد الله بن عمرو رضي الله عنهما عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «لَيْسَ الْوَاصِلُ بِالْمُكَافِئِ، وَلَكِنِ الْوَاصِلُ الَّذِي إِذَا قُطِعَتْ رَحِمُهُ وَصَلَهَا».
আব্দুল্লাহ ইবনু ’আমর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “প্রতিদানকারী আত্মীয়তার হক সংরক্ষণকারী নয়; বরং আত্মীয়তার হক সংরক্ষণকারী সে ব্যক্তি, যে আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন হবার পরও তা বজায় রাখে।”
এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন।মানসহীহ
ব্যাখ্যা

নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ হাদীসে সংবাদ দিয়েছেন যে, আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষাকারী ও আত্মীয়-স্বজনের সাথে ইহসানকারী পরিপূর্ণ মানুষ সে নয়, যে ইহসানের বিনিময় ইহসান করে। বরং প্রকৃত আত্মীয়তার হক সংরক্ষণকারী সে ব্যক্তি, যে আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন হবার পরও তা বজায় রাখে; যদিও তার সাথে দুর্ব্যবহার করে। সে দুর্ব্যবহারের পরিবর্তে তাদের প্রতি ইহসান করে।

শিক্ষা
  1. শরী‘য়তের দৃষ্টিকোণে আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষাকারী হলো তুমি আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন হবার পরও তা বজায় রাখো, তোমার উপর কেউ যুলুম করলেও তাকে ক্ষমা করো, তোমাকে কেউ বঞ্চিত করলেও তাকে দান করো। প্রতিদানের বিনিমিয় প্রতিদানকারী মূলত আত্মীয়তার সম্পর্ক আদায়কারী নয়।
  2. কাউকে সাধ্যমত কিছু দান করা, তার জন্য দু‘আ করা, সৎকাজে আদেশ ও অসৎকাজ থেকে নিষেধ, তাদের থেকে ক্ষতি প্রতিহত করা, ইত্যাদি কল্যাণকর কাজের মাধ্যমে আত্মীয়তার হক আদায় হয়।
সূত্র

صحيح البخاري (8/ 6) (5991). منار القاري شرح مختصر صحيح البخاري، لحمزة محمد قاسم (5/ 242). بهجة الناظرين، لسليم الهلالي (1/ 397). نزهة المتقين، لمصطفى الخن وغيره (1/ 311). شرح رياض الصالحين، لابن عثيمين (3/ 190).

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

“তোমার ভাইকে সাহায্য কর, সে যালিম হোক অথবা মাযলুম”

عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «انْصُرْ أَخَاكَ ظَالِمًا أَوْ مَظْلُومًا». فَقَالَ رَجُلٌ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، أَنْصُرُهُ إِذَا كَانَ مَظْلُومًا، أَفَرَأَيْتَ إِذَا كَانَ ظَالِمًا كَيْفَ أَنْصُرُهُ؟ قَالَ: « تَحْجُزُهُ -أَوْ تَمْنَعُهُ- مِنَ الظُّلْمِ؛ فَإِنَّ ذَلِكَ نَصْرُهُ».
আনাস ইবনু মালিক রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “তোমার ভাইকে সাহায্য কর, সে যালিম হোক অথবা মাযলুম”। এক ব্যক্তি বলল: হে আল্লাহর রাসূল, যদি সে অত্যাচারিত হয় তবে আমি তাকে সাহায্য করব, কিন্তু আপনি কী লক্ষ্য করেছেন যদি সে অত্যাচারী হয়, তাহলে আমি কীভাবে তাকে সাহায্য করব? তিনি বললেন: “তাকে অন্যায় থেকে বিরত রাখবে - অথবা তাকে বাধা দিবে; কারণ এটাই তার সাহায্য”।
এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন।মানসহীহ
ব্যাখ্যা

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একজন মুসলিমকে তার মুসলিম ভাইকে সাহায্য করার নির্দেশ দিয়েছেন, সে যালিম হোক বা অত্যাচারিত হোক। একজন লোক বলল: হে আল্লাহর রাসূল, যদি সে নির্যাতিত হয়, তাহলে আমি তার উপর থেকে নিপীড়ন দূর করে তাকে সাহায্য করব। কিন্তু যদি সে একজন অত্যাচারী হয়, তাহলে আমি তাকে কীভাবে সাহায্য করব? তিনি বললেন: তুমি তাকে নিষেধ করবে, তার হাত ধরবে এবং তাকে বাধা দিবে ও অন্যায় থেকে বিরত রাখবে। এটি তার শয়তান এবং মন্দ কাজে নির্দেশ দানকারী তার আত্মার বিরুদ্ধে তাকে সাহায্য করা।

শিক্ষা
  1. মুসলিমদের মধ্যে ঈমানের ভিত্তিতে ভ্রাতৃত্বের একটি অধিকারের প্রতি সতর্ক করা।
  2. অত্যাচারীর হাত ধরে তাকে অত্যাচার থেকে বিরত রাখা।
  3. ইসলাম প্রাক-ইসলামিক (জাহিলি) ধারণার বিরোধিতা করে, কারণ তারা একে অপরকে সাহায্য করতেন, নির্যাতিত হোক বা অন্যদের উপর অত্যাচার করুক।
সূত্র

صحيح البخاري (3/ 128) (2443). شرح رياض الصالحين، لابن عثيمين (2/ 589). بهجة الناظرين شرح رياض الصالحين، لسليم الهلالي (1/ 326).

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

“আশ‘আরীগণ যখন জিহাদের ময়দানে অবস্থান করত অথবা মদীনায় তাদের পরিবারের খাদ্য ঘাটতি দেখা দিত”

عن أبي موسى الأشعري رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم : "إنَّ الأشعريين إذا أرمَلُوا في الغَزْوِ، أو قَلَّ طعامُ عِيالِهم بالمدينةِ، جَمَعُوا ما كان عندهم في ثوبٍ واحدٍ، ثم اقتَسَمُوه بينهم في إناءٍ واحدٍ بالسَّوِيَّةِ، فَهُم مِنِّي وأنا مِنهُم".
আবু মূসা আশ‘আরী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “আশ‘আরীগণ যখন জিহাদের ময়দানে অবস্থান করত অথবা মদীনায় তাদের পরিবারের খাদ্য ঘাটতি দেখা দিত, তখন তারা তাদের কাছে যা থাকত তা একটি কাপড়ে একত্র করত। তারপর তারা একই প্লেটে তাদের নিজেদের মধ্যে সমহারে বণ্টন করত। তারা আমার থেকে আর আমি তাদের থেকে।”
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।মানসহীহ
ব্যাখ্যা

আশ‘আরীগণ হলো, আবূ মূসা আল-আশ‘আরী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুর সম্প্রদায়ের লোক। তাদের অবস্থা ছিল যখন তাদের খাদ্য ঘাটতি দেখা দিত অথবা যখন তারা আল্লাহর রাস্তায় জিহাদে থাকতো, তখন তাদের খাদ্য সামগ্রীকে একত্র করত এবং তা তারা তাদের নিজেদের মধ্যে সমান হারে বণ্টন করত। এ কারণে তারা ইজ্জত, সম্মান ও ভালোবাসার দিক থেকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে সম্পর্কিত হওয়ার অধিকারী হতে সক্ষম হয়েছে। অনুরূপভাবে তিনিও তাদের এ মহান চরিত্রে তাদের অংশীদার; যাতে রয়েছে অপরকে নিজের ওপর প্রাধান্য দেওয়া ও সদা আনুগত্য অবলম্বন।

সূত্র

صحيح البخاري , ترقيم محمد فؤاد عبد الباقي, دار طوق النجاة, الطبعة: الأولى، 1422هـ. صحيح مسلم, ترقيم محمد فؤاد عبد الباقي, دار إحياء التراث العربي, بيروت. فتح الباري لابن حجر العسقلاني ,رقم كتبه وأبوابه وأحاديثه: محمد فؤاد عبد الباقي- قام بإخراجه وصححه وأشرف على طبعه: محب الدين الخطيب- عليه تعليقات العلامة: عبد العزيز بن عبد الله بن باز.دار المعرفة, ط بدون, 1379ه. شرح مسلم للنووي, دار إحياء التراث, ط2, 1392ه. تطريز رياض الصالحين لفيصل بن عبد العزيز المبارك النجدي, تحقيق: عبد العزيز آل حمد, دار العاصمة , الطبعة: الأولى، 1423هـ. بهجة الناظرين شرح رياض الصالحين لسليم الهلالي, دار ابن الجوزي،الطبعة الأولى 1418ه. شرح رياض الصالحين لابن عثيمين , دار الوطن للنشر، الرياض, الطبعة: 1426 هـ. كنوز رياض الصالحين بإشراف حمد العمار, دار كنوز إشبيليا, الطبعة الأولى, 1430ه. نزهة المتقين شرح رياض الصالحين لمجموعة من الباحثين, مؤسسة الرسالة, الطبعة الرابعة عشرة, 1407ه.

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

আবুল আব্বাস সাহল ইবন সা’দ সায়েদী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট সংবাদ পৌঁছল যে, আমর ইবন আউফ গোত্রের মাঝে অনিষ্ট (ঝগড়া-বিবাদ) সংঘটিত হয়েছে। তাই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাথে কিছু লোককে নিয়ে তাদের মধ্যে আপোষ-মীমাংসা ক’রে দেওয়ার জন্য সেখানে হাজির হলেন। সেখানে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম আটকে গেলেন। অপর দিকে সালাতের সময় হয়ে গেল। সুতরাং বিলাল রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু আবূ বাকর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুর নিকট এসে বললেন, ‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম আটকে গেছেন। এদিকে সালাতেরও সময় হয়ে গেছে। আপনি কি সালাতে লোকেদের ইমামতি করবেন?’ তিনি বললেন, ‘হ্যাঁ, তুমি যদি চাও।’ অতঃপর বিলাল রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু সালাতের ইকামত দিলেন আর আবূ বাকর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু এগিয়ে গিয়ে (তাহরীমার) তকবীর বললেন লোকেরাও তকবীর বলল। ইতোমধ্যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম এলেন এবং কাতারগুলো অতিক্রম ক’রে (প্রথম) কাতারে এসে দাঁড়ালেন। (তা দেখে) লোকেরা হাততালি দিতে শুরু করল। আবূ বাকর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু সালাতরত অবস্থায় কোন দিকে তাকাতেন না, কিন্তু লোকেদের অধিক মাত্রায় হাততালির কারণে তিনি তাকিয়ে দেখতে পেলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম উপস্থিত হয়েছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে হাতের ইশারায় (নিজের জায়গায় থাকতে) নির্দেশ দিলেন। আবূ বাকর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু তাঁর হাত উপরে তুলে আল্লাহর প্রশংসা করলেন। তারপর কিবলার দিকে মুখ রেখে পিছনে ফিরে এসে কাতারে শামিল হলেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম সামনে গিয়ে লোকদের ইমামত করলেন এবং সালাত শেষ ক’রে লোকদের দিকে ফিরে বললেন, “হে লোক সকল! কি ব্যাপার যে, সালাত অবস্থায় কিছু ঘটতে দেখে তোমরা হাততালি দিতে শুরু করলে? (জেনে রেখো, সালাতে) হাততালি দেওয়া তো মহিলাদের কাজ। সালাত অবস্থায় কারো কিছু ঘটলে সে যেন ‘সুবহানাল্লাহ’ বলে। কারণ, এটা শুনলে কেউ তার দিকে ভ্রুপেক্ষ না ক’রে পারবে না। হে আবূ বকর! তোমাকে যখন ইশারা করলাম, তখন ইমামত করতে তোমার কিসের বাধা ছিল?” তিনি বললেন, ‘আবূ কুহাফার ছেলের জন্য সঙ্গত ছিল না যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লামের সামনে লোকেদের ইমামত করবে।’ (বুখারী ও মুসলিম)

عن سهل بن سعد الساعدي رضي الله عنهما أن رسول الله صلى الله عليه وسلم بَلَغَهُ أن بني عمرو بن عوف كان بينهم شَرٌّ، فخرج رسول الله صلى الله عليه وسلم يصلح بينهم في أناس معه، فحُبِس رسول الله صلى الله عليه وسلم وحَانتِ الصلاة، فجاء بلال إلى أبي بكر رضي الله عنهما ، فقال: يا أبا بكر، إن رسول الله صلى الله عليه وسلم قد حُبِس وحَانت الصلاة فهل لك أن تَؤُمَّ الناس؟ قال: نعم، إن شِئت، فأقام بلال الصلاة، وتقدم أبو بكر فكبَّر وكبَّر الناس، وجاء رسول الله صلى الله عليه وسلم يمشي في الصفوف حتى قام في الصفِّ، فأخذ الناس في التَّصْفيقِ، وكان أبو بكر رضي الله عنه لا يَلْتَفِتُ في الصلاة، فلما أكثر الناس في التَّصْفيقِ الْتَفَتَ، فإذا رسول الله صلى الله عليه وسلم فأشار إليه رسول الله صلى الله عليه وسلم فرفع أبو بكر رضي الله عنه يَدَهُ فحمد الله، ورجع القَهْقَرَى وراءه حتى قام في الصف، فتقدم رسول الله صلى الله عليه وسلم فصلى للناس، فلما فرغ أقبل على الناس، فقال: «أيها الناس، ما لكم حين نَابكم شيء في الصلاة أخذتم في التصفيق؟! إنما التصفيق للنساء. من نَابه شيء في صلاته فليَقُل: سبحان الله، فإنه لا يسمعه أحد حين يقول: سبحان الله، إلا التَفَتَ، يا أبا بكر: ما مَنَعَك أن تصلي بالناس حين أشَرْتُ إليك؟»، فقال أبو بكر: ما كان ينبغي لابن أبي قُحافة أن يصلي بالناس بين يدي رسول الله صلى الله عليه وسلم .
সাহল ইবন সা’দ সায়েদী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট সংবাদ পৌঁছল যে, আমর ইবন আউফ গোত্রের মাঝে অনিষ্ট (ঝগড়া-বিবাদ) সংঘটিত হয়েছে। তাই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাথে কিছু লোককে নিয়ে তাদের মধ্যে আপোষ-মীমাংসা ক’রে দেওয়ার জন্য সেখানে হাজির হলেন। সেখানে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম আটকে গেলেন। অপর দিকে সালাতের সময় হয়ে গেল। সুতরাং বিলাল রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু আবূ বাকর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুর নিকট এসে বললেন, ‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম আটকে গেছেন। এদিকে সালাতেরও সময় হয়ে গেছে। আপনি কি সালাতে লোকেদের ইমামতি করবেন?’ তিনি বললেন, ‘হ্যাঁ, তুমি যদি চাও।’ অতঃপর বিলাল রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু সালাতের ইকামত দিলেন আর আবূ বাকর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু এগিয়ে গিয়ে (তাহরীমার) তকবীর বললেন লোকেরাও তকবীর বলল। ইতোমধ্যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম এলেন এবং কাতারগুলো অতিক্রম ক’রে (প্রথম) কাতারে এসে দাঁড়ালেন। (তা দেখে) লোকেরা হাততালি দিতে শুরু করল। আবূ বাকর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু সালাতরত অবস্থায় কোন দিকে তাকাতেন না, কিন্তু লোকেদের অধিক মাত্রায় হাততালির কারণে তিনি তাকিয়ে দেখতে পেলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম উপস্থিত হয়েছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে হাতের ইশারায় (নিজের জায়গায় থাকতে) নির্দেশ দিলেন। আবূ বাকর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু তাঁর হাত উপরে তুলে আল্লাহর প্রশংসা করলেন। তারপর কিবলার দিকে মুখ রেখে পিছনে ফিরে এসে কাতারে শামিল হলেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম সামনে গিয়ে লোকদের ইমামত করলেন এবং সালাত শেষ ক’রে লোকদের দিকে ফিরে বললেন, “হে লোক সকল! কি ব্যাপার যে, সালাত অবস্থায় কিছু ঘটতে দেখে তোমরা হাততালি দিতে শুরু করলে? (জেনে রেখো, সালাতে) হাততালি দেওয়া তো মহিলাদের কাজ। সালাত অবস্থায় কারো কিছু ঘটলে সে যেন ‘সুবহানাল্লাহ’ বলে। কারণ, এটা শুনলে কেউ তার দিকে ভ্রুপেক্ষ না ক’রে পারবে না। হে আবূ বকর! তোমাকে যখন ইশারা করলাম, তখন ইমামত করতে তোমার কিসের বাধা ছিল?” তিনি বললেন, ‘আবূ কুহাফার ছেলের জন্য সঙ্গত ছিল না যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লামের সামনে লোকেদের ইমামত করবে।’
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।মানসহীহ
ব্যাখ্যা

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট সংবাদ পৌঁছল যে, বনী আমর ইবন আউফ গোত্রের মাঝে ঝগড়া-বিবাদ সংঘটিত হয়েছে, যা মারামারির পর্যায়ে পৌঁছছিল। এ সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সংবাদ দেওয়া হলো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাথে কিছু লোককে নিয়ে বের হয়ে গেলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম (মসজিদে) তাদের কাছে আসতে দেরী করলেন। অপর দিকে সালাতের সময় হয়ে গেল। অর্থাৎ আসরের সালাত। যেমনটি বুখারী তার বর্ণনায় স্পষ্ট করেছেন, তার শব্দ হচ্ছে: “যখন আসরের সালাতের সময় হলো আযান ও ইকামত হলো এবং আবূ বকরকে নির্দেশ দিলে সে সামনে গেল।” অতঃপর বেলাল আবু বকরের নিকট এসে বলল, হে আবূ বকর রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আটকে গেছেন, এদিকে সালাতেরও সময় হয়ে গেছে, আপনি কি মানুষদের ইমামতি করবেন? তিনি বললেন, হ্যা, যদি তুমি চাও। ফলে বেলাল ইকামত দিল আর আবূ বকর এগিয়ে গেলেন। তিনি তাকবীর বললেন লোকেরাও তাকবীর বলল। ইতোমধ্যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাতারের ভেতর দিয়ে হেঁটে চলে এলেন। বুখারী এক বর্ণনায় বৃদ্ধি করেছেন যে, “কাতারগুলো ফাঁক করে করে” প্রথম কাতারে এসে দাঁড়ালেন। যেমনটি সহীহ মুসলিমের বর্ণনায় বর্ণিত: “সে কাতারসমূহ অতিক্রম করল এবং সামনের কাতারে গিয়ে দাড়ালো।” তারপর লোকেরা যখন রাসূলের উপস্থিতি দেখলো, তারা রাসূলের পিছনে সালাত আদায়কে ভালোবাসতেন বলে হাততালি দিতে শুরু করল। আবূ বকর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু তাদের হাত তালি শুনছিলেন তবে কারণ বুঝতে পারেননি। আর তিনি সালাতরত অবস্থায় কোন দিকে তাকানো নিষিদ্ধ হওয়ার কারণে এবং তিনি জানতেন যে, এটি শয়তানের চোঁ মারা শয়তান বান্দার সালাত থেকে কিছু অংশ ছিনিয়ে নিয়ে যায়, যেমনটি তিরিমিযী ও অন্যদের বর্ণনায় বর্ণিত, তাই তিনি সালাতে এদিক সেদিক তাকাতেন না। কিন্তু লোকেদের অধিক মাত্রায় হাততালির কারণে তিনি তাকিয়ে দেখতে পেলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাতে উপস্থিত হয়েছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে হাতের ইশারায় মানুষের সালাতের ইমামতি করার যে জায়গায় আছে সেখানে থাকতে নির্দেশ দিলেন। যেমনটি বুখারীর বর্ণনায় বর্ণিত: “তিনি তার প্রতি ইশারা করে বলেন, তুমি তোমার জাযগায় থাকো।” আবূ বকর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সাথে যে আচরণ করেছেন সেটা দেখে তার দুই হাত উপরে তুলে আল্লাহর প্রশংসা করলেন। তারপর কদম কদম পিছনে ফিরে এসে মুক্তাদিদের কাতারে শামিল হলেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম সামনে গিয়ে লোকদের ইমামত করলেন এবং সালাত শেষ ক’রে লোকদের দিকে ফিরে বললেন, “হে লোক সকল! কি ব্যাপার যে, সালাত অবস্থায় কিছু ঘটতে দেখে তোমরা হাততালি দিতে শুরু করলে? হাততালি তো মহিলাদের জন্যে। তারপর তিনি সালাতে কোন কিছু ঘটলে তাদের জন্যে সুন্নাত কি তা বর্ণনা করেন এবং বলেন, সালাত অবস্থায় কারো কিছু ঘটলে সে যেন ‘সুবহানাল্লাহ’ বলে। কারণ, এটা শুনলে কেউ তার দিকে ভ্রক্ষেপ না ক’রে পারবে না। তারপর তিনি বলেন, হে আবূ বকর! তোমাকে যখন ইশারা করলাম, তখন ইমামত করতে তোমার কিসের বাধা ছিল?” তিনি বললেন, ‘আবূ কুহাফার ছেলের জন্য সঙ্গত ছিল না যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লামের সামনে লোকেদের ইমামত করবে।’ এটি রাসূলুল্লাহের প্রতি তার অতি মাত্রায় মহব্বত, সম্মান ও ইজ্জত করার বহিঃপ্রকাশ।

সূত্র

كنوز رياض الصالحين، تأليف: حمد بن ناصر بن العمار ، الناشر: دار كنوز أشبيليا، الطبعة الأولى: 1430هـ. بهجة الناظرين، تأليف: سليم بن عيد الهلالي، الناشر: دار ابن الجوزي، سنة النشر:1418 هـ - 1997م. نزهة المتقين، تأليف: جمعٌ من المشايخ، الناشر: مؤسسة الرسالة، الطبعة الأولى: 1397 هـ، الطبعة الرابعة عشر 1407هـ. شرح رياض الصالحين، تأليف: محمد بن صالح العثيمين، الناشر: دار الوطن للنشر، الطبعة: 1426هـ. صحيح مسلم، تأليف: مسلم بن الحجاج النيسابوري، تحقيق: محمد فؤاد عبد الباقي الناشر: دار إحياء التراث العربي – بيروت. دليل الفالحين، تأليف: محمد بن علان، الناشر: دار الكتاب العربي، نسخة الإلكترونية، لا يوجد بها بيانات نشر. صحيح البخاري، تأليف: محمد بن إسماعيل البخاري، تحقيق: محمد زهير الناصر، الناشر: دار طوق النجاة الطبعة: الأولى، 1422هـ.

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

“আল্লাহ তা’আলা তিনটি কাজ পছন্দ করেন এবং তিনটি কাজ অপছন্দ করেন

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّ اللهَ يَرْضَى لَكُمْ ثَلَاثًا، وَيَكْرَهُ لَكُمْ ثَلَاثًا، فَيَرْضَى لَكُمْ: أَنْ تَعْبُدُوهُ، وَلَا تُشْرِكُوا بِهِ شَيْئًا، وَأَنْ تَعْتَصِمُوا بِحَبْلِ اللهِ جَمِيعًا وَلَا تَفَرَّقُوا، وَيَكْرَهُ لَكُمْ: قِيلَ وَقَالَ، وَكَثْرَةَ السُّؤَالِ، وَإِضَاعَةِ الْمَالِ».
আবূ হুরাইরা রদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “আল্লাহ তা’আলা তিনটি কাজ পছন্দ করেন এবং তিনটি কাজ অপছন্দ করেন। তোমাদের জন্য তিনি যা পছন্দ করেন, তা হল: ১. তোমরা তারই ইবাদাত করবে, ২. তার সঙ্গে কিছুই শরীক করবে না এবং ৩. তোমরা সম্মিলিতভাবে আল্লাহর রজ্জু মজবুতভাবে ধারণ করবে ও পরস্পর বিচ্ছিন্ন হবে না। আর যে সকল বিষয় তিনি তোমাদের জন্য অপছন্দ করেন: ১. নিরর্থক কথাবার্তা বলা, ২. অধিক প্রশ্ন করা এবং ৩. সম্পদ বিনষ্ট করা”।
ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেনমানসহীহ
ব্যাখ্যা

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যে, আল্লাহ তাঁর বান্দাদের তিনটি গুণ পছন্দ করেন এবং তিনটি গুণ অপছন্দ করেন, তিনি তাদের থেকে পছন্দ করেন: আল্লাহকে একক বলে বিশ্বাস করবে এবং তাঁর সাথে কোন কিছুকে শরীক করবে না এবং আল্লাহর অঙ্গীকার, কুরআন ও তাঁর নবীর সুন্নাহকে একসাথে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরবে এবং মুসলিম সম্প্রদায় থেকে বিচ্ছিন্ন হবে না। আর তিনি তাদের জন্য অপছন্দ করেন: তাদের সাথে সম্পর্কিত নয় এমন বিষয় নিয়ে অলস ও বেশী কথা বলা, যা ঘটেনি তা নিয়ে জিজ্ঞাসা করা, অথবা লোকেদের কাছে তাদের অর্থ এবং তাদের হাতে যা আছে এবং তার যা প্রয়োজন দেখা দেয়নি তা প্রার্থনা করা, অর্থ অপচয় করা এবং বৈধ উদ্দেশ্য ব্যতীত অন্য উপায়ে ব্যয় করা এবং তা ধ্বংসের সম্মুখীন করা।

শিক্ষা
  1. আল্লাহ তা‘আলা তাঁর বান্দাদের কাছ থেকে তাঁর ইবাদাতে একনিষ্ঠতাকে পছন্দ করেন এবং তাঁর প্রতি কুফরিকে ঘৃণা করেন।
  2. আল্লাহর রজ্জুকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরার এবং আঁকড়ে ধরার জন্য মানুষকে আহ্বান উৎসাহ প্রদান করা হয়; কারণ এতে রয়েছে ঐক্য এবং জোট বদ্ধতা রয়েছে।
  3. জমাতের প্রতি উৎসাহিত করা এবং তা আঁকড়ে ধরা ও এক কাতারে সীমাবদ্ধ থাকার নির্দেশ করা। আর এর বিপরীত, যা বিভাজন এবং মতবিরোধ তা নিষিদ্ধ করা।
  4. নিজের সাথে সম্পর্কিত নয় এমন বিষয় নিয়ে অতিরিক্ত কথা বলা নিষিদ্ধ; কারণ যদি এটি জায়েয হয়, তাহলে এটি সময়ের অপচয়, আর যদি এটি নিষিদ্ধ হয়, তাহলে এটি অনেক পাপের উৎস।
  5. মানুষের খবরে জড়ানো, তাদের অবস্থা অনুসন্ধান করা এবং তাদের কথা ও কাজ বর্ণনা করা পরিহার করা।
  6. মানুষের অর্থের জন্য বেশী প্রার্থনা করা নিষেধ।
  7. অর্থের অপচয় হারাম এবং মানুষকে তা সংরক্ষণের জন্য উৎসাহিত করা যাতে তার কল্যাণ রয়েছে।
সূত্র

صحيح مسلم (3/ 1340) (1715). البحر المحيط الثجاج في شرح صحيح الإمام مسلم بن الحجاج (30/ 85). إكمال المعلم بفوائد مسلم (5/ 568).

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

“আমি কি তোমাদেরকে সিয়াম, সালাত ও সাদাকাহর চেয়েও ফাযীলাতপূর্ণ কাজের কথা বলবো না?”

عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَلاَ أُخْبِرُكُمْ بِأَفْضَلَ مِنْ دَرَجَةِ الصِّيَامِ وَالصَّلاَةِ وَالصَّدَقَةِ؟» قَالُوا: بَلَى، قَالَ: «صَلاَحُ ذَاتِ البَيْنِ، فَإِنَّ فَسَادَ ذَاتِ البَيْنِ هِيَ الحَالِقَةُ».
আবূ দারদা রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: “আমি কি তোমাদেরকে সিয়াম, সালাত ও সাদাকাহর চেয়েও ফাযীলাতপূর্ণ কাজের কথা বলবো না?” সাহাবীগণ বললেন, হ্যাঁ অবশ্যই হে আল্লাহর রাসূল! তিনি বললেনঃ “পরস্পরের মধ্যে মীমাংসা করা। কারণ পরস্পরের মধ্যে ঝগড়া বাধানো হল ধ্বংসের কারণ”।
এটি আবূ দাঊদ ও তিরমিযী বর্ণনা করেছেন।মানসহীহ
ব্যাখ্যা

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবীদের জিজ্ঞাসা করলেন: আমি কি তোমাদেরকে এমন কিছুর কথা বলবো যা অধিক নফল সিয়াম, সালাত এবং সদকার সাওয়াবের চেয়েও উত্তম? তারা বললেন: হ্যাঁ। তিনি বললেন: বিবাদকারীদের মধ্যে পুনর্মিলন, কারণ বিবাদ মানুষের মধ্যে বিভেদ, শত্রুতা, ঘৃণা এবং বিচ্ছিন্নতা সৃষ্টি করে। মানুষের মধ্যে সম্পর্কের অবনিতর ফলে যে ঘৃণা তৈরি হয় তা হল এমন একটি বৈশিষ্ট্য যা দীন ও দুনিয়া ধ্বংস করে ও উপড়ে ফেলে, যেমন ক্ষুর চুল উপড়ে ফেলে।

শিক্ষা
  1. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আদর্শ ছিল সাহাবীদের প্রশ্ন করা এবং উত্তর জানার জন্য তাদের উৎসাহ সৃষ্টি করা।
  2. আত-তীবী বলেন: পারস্পরিক সম্পর্ক ঠিক রাখার প্রতি উৎসাহ ও উদ্বুদ্ধ করা এবং তা নষ্ট না করার প্রতি গুরুত্বারোপ; কারণ সুসম্পর্ক আল্লাহর রশির সাথে দৃঢ় বন্ধন প্রতিষ্ঠার কারণ হয় এবং মুসলিমদের মধ্যে বিভাজন রোধ করে। আর সম্পর্কের অবনতি ধর্মে এক ধরনের খুঁত সৃষ্টি করে। যিনি তা মেরামত করতে ও অবনতি দূর করতে চেষ্টা করেন, তিনি এমন একটি মর্যাদা অর্জন করেন যা স্রেফ সিয়াম রাখা, সালাত পড়া ও নিজের আত্মাকে নিয়ে ব্যস্ত থাকার চেয়ে বেশি উচ্চ।
সূত্র

سنن أبي داود (7/ 280) (4919). سنن الترمذي (4/ 244) (2509). تحفة الأحوذي (7/ 179). شرح سنن أبي داود للعباد (559/ 32).

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

এখানকার প্রতিটি হাদীস, মান, ব্যাখ্যা ও শিক্ষা HadeethEnc.com যেভাবে প্রকাশ করে হুবহু সেভাবেই দেখানো, তাদের পুনঃপ্রকাশের শর্ত মেনে। মানের সঙ্গে মান-নির্ধারকের নাম নেই। অনুবাদ ও ব্যাখ্যা এর লেখকদের নিজস্ব, এবং কোনো কোনোটিতে বিধান বলা আছে; সাবীলের পর্যালোচকেরা এগুলো যাচাই করেননি। আরবি হাদীসটিই মূল পাঠ। উৎস: HadeethEnc.com