عَنْ مَالِكِ بْنِ أَوْسِ بْنِ الْحَدَثَانِ أَنَّهُ قَالَ: أَقْبَلْتُ أَقُولُ مَنْ يَصْطَرِفُ الدَّرَاهِمَ؟ فَقَالَ طَلْحَةُ بْنُ عُبَيْدِ اللهِ وَهُوَ عِنْدَ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ رضي الله عنهما: أَرِنَا ذَهَبَكَ، ثُمَّ ائْتِنَا، إِذَا جَاءَ خَادِمُنَا، نُعْطِكَ وَرِقَكَ، فَقَالَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ: كَلَّا، وَاللهِ لَتُعْطِيَنَّهُ وَرِقَهُ، أَوْ لَتَرُدَّنَّ إِلَيْهِ ذَهَبَهُ، فَإِنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «الْوَرِقُ بِالذَّهَبِ رِبًا، إِلَّا هَاءَ وَهَاءَ، وَالْبُرُّ بِالْبُرِّ رِبًا، إِلَّا هَاءَ وَهَاءَ، وَالشَّعِيرُ بِالشَّعِيرِ رِبًا، إِلَّا هَاءَ وَهَاءَ، وَالتَّمْرُ بِالتَّمْرِ رِبًا، إِلَّا هَاءَ وَهَاءَ».
মালিক ইবনু আওস ইবনু হাদাসান হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি এ কথা বলতে বলতে আগালাম যে, দিরহাম বিনিময় করতে পারে এমন কে আছে? তালহা ইবনু উবাইদুল্লাহ তখন উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) এর নিকটেই ছিলেন- তিনি বললেন, তোমার স্বর্ণ আমাদেরকে দেখাও এবং তুমি পরে এসো। আমাদের গোলাম যখন আসবে তখন তোমার রৌপ্য দিয়ে দিব। তখন উমর ইবনুল খাত্তাব বললেনঃ কখনো নয়; আল্লাহর শপথ! হয় তুমি তার দিরহাম এখনই প্রদান করো, অন্যথায় তার স্বর্ণ তাকে ফিরিয়ে দাও। কারণ, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “স্বর্ণের বিনিময়ে স্বর্ণ নগদ নগদ বিক্রি না হলে সুদ হবে, গমের বিনিময়ে গম নগদ নগদ এবং হাতে হাতে বিক্রি না হলে সুদ হবে, যবের বিনিময়ে যব নগদ নগদ না হলে সুদ হবে এবং খেজুরের বিনিময়ে খেজুর নগদ বিক্রি না হলে তাও সুদে পরিণত হবে”।
সহীহ বুখারী ও মুসলিমমানসহীহ
ব্যাখ্যা
তাবেয়ী মালিক ইবনু আনাস সংবাদ দিচ্ছেন যে, তার নিকট কিছু সোনার দিনার ছিল এবং তিনি সেগুলো রোপার দিরহাম দিয়ে ভাঙ্গতি করতে চাইলেন। তখন তালহা ইবনু উবাইদুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, দেখার জন্য আপনার দিনারগুলো আমাদেরকে দিন! তারপর কেনার দৃঢ় ইচ্ছা করার পর বললেন: আমাদের খাদিম আসার পর আসনু আমরা আপনাকে রূপার দিরহাম দিয়ে দিব। উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু মজলিসে উপস্থিত ছিলেন। তিনি এই প্রকার লেনদেন নিষেধ করলেন এবং তালহার ওপর কসম দিয়ে এখনই তাকে রূপা পরিশোধ অথবা তার সোনা তাকে ফেরত দিতে বললেন। এর কারণ বর্ণনা করলেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, সোনার বিনিময়ে রূপা অথবা তার বিপরীত বিক্রি করলে সাথে সাথে গ্রহণ করা ওয়াজিব, অন্যথায় সেই চুক্তি হারাম সুদ ও বাতিল বেচাকেনা হবে। কাজেই নগদ ও হাতে হাতে গ্রহণ করা ছাড়া রূপার বিনিময়ে সোনা এবং সোনার বিনিময়ে রূপা বিক্রি করা যাবে না। অনুুরূপভাবে ওজনে ওজন, পরিমাপে পরিমাপ সমান সমান ও হাতে হাতে গ্রহণ করা ছাড়া গমের বিনিময়ে গম, যবের বিনিময়ে যব, খেজুরের বিনিময়ে খেজুর বিক্রি করা যাবে না। এসবের কোনো পণ্য একটি নগদ আরেকটি বাকি এবং একই মজলিস গ্রহণ করা ছাড়া বিক্রি করা যাবে না।
শিক্ষা
- এই হাদীসে পাঁচ ধরনের জিনিসের কথা বলা হয়েছে: সোনা, রূপা, গম, যব এবং খেজুর যদি একই প্রকারে বিক্রি হয় তবে এর বৈধতার জন্য দুটি শর্ত পূরণ করতে হবে: চুক্তির মজলিসে বিনিময় করা এবং ওজনে বরাবর হওয়া, যেমন সোনার বিনিময়ে সোনা, অন্যথায় এটি বেশির সুদ হবে। আর যদি রূপা ও গমের মত দুই শ্রেণির মাঝে বিনিময় হয়, তাহলে চুক্তির বৈধতার জন্য একটি শর্ত প্রযোজ্য। সেটি হল চুক্তির মজলিসে গ্রহণ করা, অন্যথায় এটি বাকির সুদ হবে।
- চুক্তির মজলিস দ্বারা উদ্দেশ্য: ক্রয়-বিক্রয়ের স্থান, তারা উভয় বসে থাক, চলন্ত অবস্থায় থাক বা আরোহী অবস্থায় থাক। বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার অর্থ হলো রেওয়াজ মোতাবেক একে অপর থেকে পৃথক হওয়া।
- হাদীসের নিষেধাজ্ঞার মধ্যে রয়েছে সব ধরনের সোনা, মুদ্রা করা না করা এবং সব ধরনের রূপা, মুদ্রা করা না করা।
- রূপার বিনিময়ে সোনা বিক্রিতে যা ওয়াজিব হয় এই যুগে নগদ মুদ্রায় তাই ওয়াজিব হবে। অর্থাৎ, যদি কেউ কোনো মুদ্রা অন্য মুদ্রার দ্বারা বিনিময় করতে চায়, যেমন এক দিরহামের বিনিময়ে এক রিয়াল, তাতে উভয় পক্ষ সম্মত হলে উদ্বৃত্ত জায়েয হবে; তবে বিক্রিয়ের বৈঠকে লেনদেন করা ওয়াজিব, নয়তো লেনদেনটি অবৈধ হবে এবং এটি হারাম লেনদেন হিসাবে গণ্য হবে।
- সুদের লেনদেন বৈধ নয় এবং উভয় পক্ষ সম্মত হলেও তার চুক্তি অবৈধ। কারণ ইসলাম মানুষ ও সমাজের অধিকার সংরক্ষণ করে, যদি তারা তার থেকে নিচে নেমে যায।
- মুনকার (পাপকর্ম) থেকে নিষেধ করা এবং যার সাধ্য রয়েছে তার তাতে বাধা প্রদান করা।
- অবৈধ কাজ থেকে নিষেধ করার সময় দলিল উল্লেখ করা; যেমনটি উমার ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু করেছেন।
সূত্র
صحيح البخاري (3/ 68) (2134).
صحيح مسلم (3/ 1209) (1586).
الإلمام بشرح عمدة الأحكام، لإسماعيل الأنصاري (2/ 28).
تيسير العلام شرح عمدة الأحكام، لعبد الله البسام (ص496).
HadeethEnc.com-এ এই হাদীসعن أبي المنهال قال: «سألت البراء بن عازب، وزيد بن أرقم، عن الصَّرْفِ؟ فكل واحد يقول: هذا خير مني. وكلاهما يقول: نهى رسول الله صلى الله عليه وسلم عن بيع الذهب بالوَرِقِ دَيْنَاً».
আবূ মিনহাল রাহিমাহুল্লাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, বারা ইবন আযেব ও যায়েদ ইবন আরকাম রাদিয়াল্লাহু আনহুমাকে মুদ্রার বিনিময় সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করলাম। প্রত্যেকেই অপরের সম্পর্কে বললেন, তিনি আমার চাইতে উত্তম। এরপর উভয়ে বললেন, “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাকীতে রুপার বিনিময়ে সোনা ক্রয়-বিক্রয় করতে নিষেধ করেছেন।”
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।মানসহীহ
ব্যাখ্যা
আবূ মিনহাল রাহিমাহুল্লাহ বারা ইবন আযেব ও যায়েদ ইবন আরকাম রাদিয়াল্লাহু আনহুমাকে সারফ তথা মুদ্রার বিনিময় সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করলেন। তা হলো মূল্য জাতিয় জিনিস যেমন সোনা-রুপার একটি অন্যটির বিনিময়ে ক্রয়-বিক্রয় করা। সতর্কতাস্বরূপ তাদের একজন অন্যজনের কাছ থেকে ফাতওয়া নিতে বললেন এবং নিজেকে এ ব্যাপারে অপরজনের তুলনায় নগণ্য মনে করলেন। কিন্তু উভয়েই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে যে হাদীস মুখস্ত রেখেছেন, সে ব্যাপারে তারা একমত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাকীতে রুপার বিনিময়ে সোনা ক্রয়-বিক্রয় করতে নিষেধ করেছেন। কেননা এতে উভয় পন্যতেই সুদের কারণ পাওয়া যায়। (উভয়টি পন্যদ্রব্য ক্রয়-বিক্রয়ের মূল্য হিসাবে ব্যবহৃত হওয়াই সুদের কারণ) তাই এর বেচা-কেনার বৈঠকে নগদ নগদ গ্রহণ করা আবশ্যক হয়ে যায়। নতুবা ক্রয়-বিক্রয় সহীহ হবে না এবং তা বাকীতে হওয়ার কারণে সুদ হয়ে যাবে। একটি সতর্কতা: সুদ হলো আর্থিক হারাম লেনদেন, যা দু’ভাগে বিভক্ত। ঋণের সুদ, যা নির্দিষ্ট পরিমাণ ঋণের ওপর নির্দিষ্ট সময়ের জন্য অতিরিক্ত নেওয়া হয়। আর দ্বিতীয় প্রকারের সুদ হলো বেচা-কেনায় সুদ। তা হলো নির্দিষ্ট শ্রেণীর জিনিস বেচা-কেনায় নগদ বা বাকীতে অতিরিক্ত পরিমাণ নেওয়া। এগুলোকে সুদী জিনিস বলে নামকরণ করা হয়। যেমন স্বর্ণের বিনিময়ে স্বর্ণ বা গমের বিনিময়ে গম নেওয়া।
সূত্র
- صحيح البخاري، للإمام أبي عبد الله محمد بن إسماعيل البخاري، عناية محمد زهير الناصر، دار طوق النجاة، الطبعة الأولى، 1422هـ.
- صحيح مسلم، للإمام مسلم بن الحجاج، حققه ورقمه محمد فؤاد عبد الباقي، دار عالم الكتب-الرياض، الطبعة الأولى، 1417هـ.
- منحة العلام في شرح بلوغ المرام، تأليف عبد الله الفوزان، طبعة دار ابن الجوزي -الطبعة الأولى- 1428
- توضيح الأحكام شرح بلوغ المرام، تأليف عبد الله البسام، مكتبة الأسدي -مكة المكرمة- الطبعة الخامِسَة، 1423 هـ - 2003 م.
- الإلمام بشرح عمدة الأحكام، للشيخ إسماعيل الأنصاري -مطبعة السعادة- الطبعة الثانية، 1392هـ.
- تيسير العلام شرح عمدة الأحكام، عبد الله البسام، تحقيق محمد صبحي حسن حلاق -مكتبة الصحابة- الشارقة - الطبعة العاشرة- 1426.
HadeethEnc.com-এ এই হাদীসعن أبي بكرة رضي الله عنه قال: «نهى رسول الله صلى الله عليه وسلم عن الفضة بالفضة، والذهب بالذهب، إلا سَوَاءً بسوَاءٍ، وأمرنا أن نشتري الفضة بالذهب، كيف شئنا. ونشتري الذهب بالفضة كيف شئنا، قال: فسأله رجل فقال: يدا بيد؟ فقال: هكذا سمعت».
আবূ বাকরাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম রৌপ্যের বিনিময়ে রৌপ্য ও স্বর্ণের বিনিময়ে স্বর্ণ সমান সমান ব্যতিরেকে ক্রয় করতে নিষেধ করেছেন। আমরা যেভাবে চাই সেভাবে তিনি স্বর্ণের বিনিময়ে রৌপ্য এবং রৌপ্যের বিনিময়ে স্বর্ণ ক্রয় করার অনুমতি দিয়েছেন। বর্ণনাকারী বলেন, অতপরঃ এক ব্যক্তি তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, “হাতে হাতে (নগদ নগদ)?” তিনি বললেন, “এরূপই আমি শুনেছি।”
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।মানসহীহ
ব্যাখ্যা
স্বর্ণের বিনিময়ে স্বর্ণ ও রৌপ্যের বিনিময়ে রৌপ্য অতিরিক্ত নেওয়া রিবা তথা সুদ। তাই নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম সমান সমান ব্যতিরেকে এগুলোর ক্রয়-বিক্রয় করতে নিষেধ করেছেন।
অন্যদিকে রৌপ্যের বিনিময়ে স্বর্ণ বা স্বর্ণের বিনিময়ে রৌপ্য ক্রয় করতে কোন অসুবিধে নেই; যদিও তা কম বা বেশি হোক। তবে বেচা-কেনাটি বৈধ হতে হলে ক্রয়-বিক্রয়ের বৈঠকে তা ক্রেতা কর্তৃক গ্রহণ করতে হবে; নতুবা তা রিবা নাসী তথা বিলম্বে গ্রহণকৃত হারাম সুদ হবে। কেননা সোনা-রূপা দু’টি ভিন্ন জাতীয় বস্তু হওয়ায় তাতে কম বা বেশি নেওয়া জায়েয; কিন্তু গ্রহীতা কর্তৃক তা নগদ গ্রহণ করা শর্ত সাপেক্ষে হতে হবে।কারণ, সুদের কারণ যা উভয়ের মাঝে একত্র রয়েছে।
সূত্র
- صحيح البخاري، للإمام أبي عبد الله محمد بن إسماعيل البخاري، عناية محمد زهير الناصر، دار طوق النجاة، الطبعة الأولى، 1422هـ.
- صحيح مسلم، للإمام مسلم بن الحجاج، حققه ورقمه محمد فؤاد عبد الباقي، دار عالم الكتب-الرياض، الطبعة الأولى، 1417هـ.
- الإلمام بشرح عمدة الأحكام، للشيخ إسماعيل الأنصاري -مطبعة السعادة- الطبعة الثانية 1392هـ.
- تيسير العلام شرح عمدة الأحكام، عبد الله البسام، تحقيق محمد صبحي حسن حلاق -مكتبة الصحابة- الشارقة، الطبعة العاشرة، 1426ه.
HadeethEnc.com-এ এই হাদীসعن أبي سعيد الخدري- رضي الله عنه-: جاء بلال إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم بتمر بَرْنِيٍّ، فقال له النبي صلى الله عليه وسلم : «من أين لك هذا؟» قال بلال: كان عندنا تمر رديء، فبعتُ منه صاعين بصاع ليطعم النبي صلى الله عليه وسلم . فقال النبي صلى الله عليه وسلم عند ذلك: «أَوَّهْ، أَوَّهْ، عَيْنُ الربا، عين الربا، لا تفعل، ولكن إذا أردت أن تشتري فَبِعِ التمرَ ببيع آخر، ثم اشتر به».
আবূ সাঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, বেলাল বারনী খেজুর নিয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আসলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, “এগুলো তুমি কোথায় পেয়েছ? বেলাল বলল, আমাদের নিকট খারাপ খেজুর ছিল, তার দুই সা-এর বিনিময়ে এক সা কিনে নিয়ে এসেছি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে খাওয়াবো বলে। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, “আহ্, আহ্, হুবহু সুদ, হুবহু সুদ, এরূপ কর না। তবে যদি তুমি কিনতে চাও, তাহলে (তোমার) খেজুরকে অন্য বস্তুর বিনিময়ে বিক্রি কর, অতঃপর তার মূল্য দিয়ে এই খেজুর খরিদ কর।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।মানসহীহ
ব্যাখ্যা
বেলাল বারনী উন্নত খেজুর নিয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আসলেন। উন্নত জাতের খেজুর দেখে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আশ্চর্য হলেন এবং বললেন: এগুলো কোত্থেকে? বেলাল বললেন, আমাদের নিকট খেজুর ছিল, ফলে নিম্নমানের দুই সা খেজুর দিয়ে ভালো জাতের এক সা এই খেজুর ক্রয় করেছি, যেন তা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খাবার হয়। বিষয়টি নবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট কঠিন ঠেকল এবং তিনি আহ্ শব্দ উচ্চারণ করলেন। কারণ, পাপই তার নিকট সবচেয়ে বড় মুসীবত ছিল। তিনি বললেন, তোমার এই কাজটিই হুবহু সুদ, অতএব এরূপ কর না। তবে যদি তুমি নিম্নমানেরটি পরিবর্তন করতে চাও, তাহলে খারাপটিকে মুদ্রার বিনিময়ে বিক্রি কর, অতঃপর মুদ্রা দিয়ে ভালো খেজুর খরিদ কর। এই বৈধ পদ্ধতিটি তুমি গ্রহণ কর, যেন হারামে পড়তে না হয়। “তাইসীরুল আল্লাম শারহু উমদাতুল আহকাম (পৃ. ৫৬৮)”
সূত্র
- صحيح البخاري –الجامع الصحيح-؛ للإمام أبي عبد الله محمد بن إسماعيل البخاري، عناية محمد زهير الناصر، دار طوق النجاة، الطبعة الأولى، 1422هـ.
- صحيح مسلم؛ للإمام مسلم بن الحجاج، حققه ورقمه محمد فؤاد عبد الباقي، دار عالم الكتب-الرياض، الطبعة الأولى، 1417هـ.
- الإلمام بشرح عمدة الأحكام للشيخ إسماعيل الأنصاري-مطبعة السعادة-الطبعة الثانية 1392ه.
- تيسير العلام شرح عمدة الأحكام-عبد الله البسام-تحقيق محمد صبحي حسن حلاق- مكتبة الصحابة- الشارقة- الطبعة العاشرة- 1426ه.
- خلاصة الكلام شرح عمدة الأحكام - فيصل بن عبد العزيز بن فيصل ابن حمد المبارك الحريملي النجدي - الطبعة: الثانية، 1412 هـ - 1992 م.
HadeethEnc.com-এ এই হাদীসعن أبي سعيد الخدري- رضي الله عنه- مرفوعاً: «لا تبيعوا الذهب بالذهب إلا مثِلْاً بمثل، ولا تُشِفُّوا بعضها على بعض، ولا تبيعوا الوَرِقَ بالوَرِقِ إلا مثلا بمثل، ولا تُشفوا بعضها على بعض، ولا تبيعوا منها غائبا بناجز».
وفي لفظ «إلا يدا بيد».
وفي لفظ «إلا وزنا بوزن، مثلا بمثل، سواء بسواء».
আবূ সাঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে মারফু‘ হিসেবে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, সমান পরিমাণ ছাড়া তোমরা সোনার বদলে সোনা বিক্রি করবে না, একটি অপরটি হতে কম-বেশি করবে না। সমান ছাড়া তোমরা রূপার বদলে রূপা বিক্রি করবে না ও একটি অপরটি হতে কম-বেশি করবে না। আর নগদ মুদ্রার বিনিময়ে বাকী মুদ্রা বিক্রি করবে না। অপর শব্দে -তবে হাতে হাতে ছাড়া। অপর শব্দে বর্ণিত, ওজনের জিনিসকে ওজনের বিনিময়ে এবং একই জাতীয় বস্তুকে একই জাতীয় বস্তুর বিনিময়ে এবং বরাবর করে লেনদেন করবে।
এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন। - মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।মানসহীহ
ব্যাখ্যা
এ হাদীসটিতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি সুদের দু’টি প্রকার অর্থাৎ অতিরিক্ত ও বাকী নিষেধ করেছেন। তিনি স্বর্ণকে স্বর্ণের বিপরীতে বিক্রি করতে নিষেধ করেছেন। চায় তা বানানো হোক বা না হোক। তবে বৈধ যদি তা বরাবর হয়, ওজনে সমান হয় এবং আকদের মজলিসে গ্রহণ করা হয়। কারণ, যদি দু’টি বস্তুর একটি নগদ অপরটি বাকী বা অনুপুস্থিত হয় তবে তা বিক্রি করা হালাল হবে না। অনুরূপভাবে তিনি চাঁদিকে চাঁদির বিনিময়ে বিক্রি করতে নিষেধ করেছেন। চায় তা বানানো হোক বা না হোক। তবে বৈধ যদি তা বরাবর হয়, ওজনে সমান হয় এবং আকদের মজলিসে গ্রহণ করা হয়। সুতরাং অপরটি থেকে একটিকে কম-বেশি করা সঠিক হবে না এবং গ্রহণ করার পূর্বে পৃথক হওয়া যাবে না।
সূত্র
منحة العلَّام للشيخ عبد الله بن صالح الفوزان، ط1، دار ابن الجوزي، الدمام، 1427ه.
تيسير العلام شرح عمدة الأحكام للبسام، حققه وعلق عليه وخرج أحاديثه وصنع فهارسه: محمد صبحي بن حسن حلاق، ط10، مكتبة الصحابة، الإمارات - مكتبة التابعين، القاهرة، 1426 هـ.
الإلمام بشرح عمدة الأحكام لإسماعيل الأنصاري، ط1، دار الفكر، دمشق، 1381ه.
صحيح البخاري، تحقيق: محمد زهير بن ناصر الناصر، ط1، دار طوق النجاة (مصورة عن السلطانية بإضافة ترقيم: محمد فؤاد عبد الباقي)، 1422ه.
صحيح مسلم، تحقيق: محمد فؤاد عبد الباقي، دار إحياء التراث العربي، بيروت.
HadeethEnc.com-এ এই হাদীসعَنْ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ رَضيَ اللهُ عنهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «الذَّهَبُ بِالذَّهَبِ، وَالْفِضَّةُ بِالْفِضَّةِ، وَالْبُرُّ بِالْبُرِّ، وَالشَّعِيرُ بِالشَّعِيرِ، وَالتَّمْرُ بِالتَّمْرِ، وَالْمِلْحُ بِالْمِلْحِ، مِثْلًا بِمِثْلٍ، سَوَاءً بِسَوَاءٍ، يَدًا بِيَدٍ، فَإِذَا اخْتَلَفَتْ هَذِهِ الْأَصْنَافُ، فَبِيعُوا كَيْفَ شِئْتُمْ، إِذَا كَانَ يَدًا بِيَدٍ».
উবাদাহ ইবন সামেত রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “স্বর্ণের বিনিময়ে স্বর্ণ, রৌপ্যের বিনিময়ে রৌপ্য, গমের বিনিময়ে গম, যবের বিনিময়ে যব, খেজুরের বিনিময়ে খেজুর এবং লবনের বিনিময়ে লবন, একই পরিমাণে, সমান সমানে, হাতে হাতে (নগদে) হতে হবে। আর যদি এ শ্রেণির মধ্যে পরিবর্তন আসে, তখন তোমরা হাতে হাতে (নগদে) হলে যেমন খুশি বিক্রয় করতে পারবে।”
ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেনমানসহীহ
ব্যাখ্যা
নবী (সা.) ছয়টি সূদভুক্ত পণ্যের (সোনা, রূপা, গম, যব, খেজুর এবং লবণ) সঠিক বিক্রয় পদ্ধতি বর্ণনা করেছেন। যদি একই ধরনের পণ্য বিক্রি হয়, যেমন সোনার বিনিময়ে সোনা বা রূপার বিনিময়ে রূপা, তবে দুইটি শর্ত অবশ্যই পূরণ করতে হবে: প্রথমত: সমতা থাকতে হবে:
যদি পণ্য ওজনে নির্ধারিত হয়, যেমন সোনা বা রূপা, তবে ওজন সমান হতে হবে। যদি পণ্য পাত্রের মাপে নির্ধারিত হয়, যেমন গম, যব, খেজুর বা লবণ, তবে মাপে সমান হতে হবে।" দ্বিতীয়ত: পণ্য ও মূল্য তাৎক্ষণিক বিনিময় করতে হবে:
বিক্রেতা পণ্যের মূল্য গ্রহণ করবেন এবং ক্রেতা পণ্য গ্রহণ করবেন, এবং এই লেনদেন একই বৈঠকে (লেনদেন সম্পাদনের মজলিসে) শেষ করতে হবে। যদি পণ্য ভিন্ন ধরনের হয়, যেমন সোনার বিনিময়ে রূপা বা খেজুরের বিনিময়ে গম, তাহলে বিক্রয় বৈধ হবে একটি শর্তে:
ক্রয়- বিক্রয়ের বৈঠকেই পণ্য ও মূল্য বিনিময় করতে হবে। যদি এই শর্ত পূরণ না হয়, তাহলে লেনদেন বাতিল বলে গণ্য হবে এবং বিক্রেতা ও ক্রেতা উভয়ই হারাম সুদের লেনদেনে অংশগ্রহণ করবে।
শিক্ষা
- রিবাভুক্ত (সুদভুক্ত) সম্পদ এবং এগুলোর বিক্রয় পদ্ধতির বর্ণনা।
- রিবাভিত্তিক (সুদভিত্তিক) লেনদেন নিষিদ্ধ।
- কাগুজে নোটে সুদের ক্ষেত্রে সোনা এবং রুপার বিধান কার্যকর হবে।
- রিবাভুক্ত ছয়টি পণ্যের বিক্রয় ও ক্রয়ের বিভিন্ন অবস্থা: ১. যদি রিবাভুক্ত পণ্য একই ধরনের হয় (যেমন: সোনা বিনিময়ে সোনা বা খেজুর বিনিময়ে খেজুর), তবে তা বৈধ হতে দুইটি শর্ত পূরণ করতে হবে: ওজন বা মাপের দিক থেকে সমতা থাকতে হবে এবং বিক্রয়ের বৈঠকে তাৎক্ষণিক বিনিময় হতে হবে। ২. যদি রিবাভুক্ত পণ্য ভিন্ন ধরনের হয়, কিন্তু রিবা প্রযোজ্য হওয়ার কারণ এক হয় (যেমন: সোনা বিনিময়ে রুপা, বা গম বিনিময়ে যব), তবে বৈধতার জন্য শুধু তাৎক্ষণিক বিনিময় (তাকাবুদ) শর্ত প্রযোজ্য। সমতা শর্ত প্রযোজ্য নয়। ৩. যদি রিবাভুক্ত পণ্য ভিন্ন ধরনের হয় এবং রিবা প্রযোজ্য হওয়ার কারণও ভিন্ন হয় (যেমন: সোনা বিনিময়ে খেজুর), তবে এর জন্য কোনো শর্ত প্রযোজ্য নয়; না সমতার, না তাৎক্ষণিক বিনিময়ের।
- রিবাভুক্ত নয় এমন পণ্য অথবা একটি রিবাভুক্ত এবং অন্যটি রিবাভুক্ত নয় এমন পণ্যের বিক্রয় ও ক্রয়: এক্ষেত্রে না সমতা শর্ত প্রযোজ্য, না তাৎক্ষণিক বিনিময় (তাকাবুদ) শর্ত প্রযোজ্য। উদাহরণস্বরূপ: সোনার বিনিময়ে জমি বিক্রি।
সূত্র
صحيح مسلم (3/ 1210) (1587).
فيض القدير (3/ 571).
البحر المحيط الثجاج في شرح صحيح الإمام مسلم بن الحجاج (27/ 623).
HadeethEnc.com-এ এই হাদীসএখানকার প্রতিটি হাদীস, মান, ব্যাখ্যা ও শিক্ষা HadeethEnc.com যেভাবে প্রকাশ করে হুবহু সেভাবেই দেখানো, তাদের পুনঃপ্রকাশের শর্ত মেনে। মানের সঙ্গে মান-নির্ধারকের নাম নেই। অনুবাদ ও ব্যাখ্যা এর লেখকদের নিজস্ব, এবং কোনো কোনোটিতে বিধান বলা আছে; সাবীলের পর্যালোচকেরা এগুলো যাচাই করেননি। আরবি হাদীসটিই মূল পাঠ। উৎস: HadeethEnc.com