মূল অংশে যান
ব্যাখ্যাসহ হাদীস

বন্ধুত্ব ও বৈরিতা সংক্রান্ত বিধানাবলী

৩টি হাদীস

“মানুষ তার বন্ধুর দ্বীনের উপর হয়। অতএব তোমাদের প্রত্যেককে দেখা উচিত কাকে বন্ধু বানাবে”।

عن أبي هريرة رضي الله عنه أَن النبيَّ صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وسَلَّم قَالَ: «الرَّجُلُ عَلَى دِينِ خَلِيلِهِ، فَلْيَنْظُر أَحَدُكُم مَنْ يُخَالِل».
আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “মানুষ তার বন্ধুর দ্বীনের উপর হয়। অতএব তোমাদের প্রত্যেককে দেখা উচিত কাকে বন্ধু বানাবে”।
এটি আবূ দাউদ, তিরমিযী ও আহমাদ বর্ণনা করেছেন।মানহাসান
ব্যাখ্যা

নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বর্ণনা করেছেন, মানুষ অভ্যাসে ও চরিত্রে তার অন্তরঙ্গ বন্ধু ও দোস্তের মত হয়। বন্ধুত্ব আচরণ, চরিত্র ও স্বভাবে প্রভাব ফেলে। এই জন্য তিনি ভালো বন্ধু নির্বাচন করতে নির্দেশ দিয়েছেন। কারণ, বন্ধু তার বন্ধুকে ঈমান, হিদায়াত ও কল্যাণের পথ দেখাবে এবং তার সহযোগী হবে।

শিক্ষা
  1. ভালো লোকের সঙ্গ ও তাদের নির্বাচন করার নির্দেশ এবং খারাপ লোকের সঙ্গ থেকে নিষেধ করা হয়েছে এখানে।
  2. হাদীসটিতে আত্মীয়ের পরিবর্তে বন্ধুকে নির্দিষ্ট করা হয়েছে; কারণ আপনিই বন্ধু বাছাই করেন, কিন্তু ভাই এবং আত্মীয় বাছাইয়ে আপনার পছন্দ নেই।
  3. সাহচর্য গ্রহণ অবশ্যই চিন্তার ফল থেকে আসতে হবে।
  4. একজন ব্যক্তি ঈমানদারদের সঙ্গ দ্বারা তার দীনকে শক্তিশালী করে এবং পাপীদের সঙ্গ দ্বারা তাকে দুর্বল করে।
সূত্র

سنن أبي داود (7/ 204) (4833). سنن الترمذي (4/ 187) (2378). مسند أحمد (13/ 398) (8028). بهجة الناظرين شرح رياض الصالحين، لسليم الهلالي (1/ 433). تحفة الأحوذي بشرح جامع الترمذي، للمباركفوري (7/ 51). تطريز رياض الصالحين، لفيصل آل مبارك (ص250). كنوز رياض الصالحين، لمجموعة من الباحثين (6/ 166). نزهة المتقين شرح رياض الصالحين، لمجموعة من الباحثين (1/ 341).

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

“মুসলিমের ওপর অপর মুসলিমের অধিকার ছয়টি”: বলা হলো, হে আল্লাহর রাসূল সেগুলো কী? তিনি বললেন, “তুমি তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করলে তাকে সালাম দাও, সে তোমাকে দাওয়াত দিলে তার দাওয়াত গ্রহণ কর, সে তোমার কাছে উপদেশ চাইলে তুমি তাকে উপদেশ দাও, সে হাঁচি দিয়ে ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বললে তার জবাব দাও, সে অসুস্থ হলে তাকে দেখতে যাও এবং সে মারা গেলে তার জানাযায় অংশ গ্রহণ কর।”

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «حَقُّ الْمُسْلِمِ عَلَى الْمُسْلِمِ سِتٌّ» قِيلَ: مَا هُنَّ يَا رَسُولَ اللهِ؟، قَالَ: «إِذَا لَقِيتَهُ فَسَلِّمْ عَلَيْهِ، وَإِذَا دَعَاكَ فَأَجِبْهُ، وَإِذَا اسْتَنْصَحَكَ فَانْصَحْ لَهُ، وَإِذَا عَطَسَ فَحَمِدَ اللهَ فَسَمِّتْهُ، وَإِذَا مَرِضَ فَعُدْهُ وَإِذَا مَاتَ فَاتَّبِعْهُ».
আবূ হুরাইরা রদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “মুসলিমের ওপর অপর মুসলিমের অধিকার ছয়টি”: বলা হলো, হে আল্লাহর রাসূল সেগুলো কী? তিনি বললেন, “তুমি তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করলে তাকে সালাম দাও, সে তোমাকে দাওয়াত দিলে তার দাওয়াত গ্রহণ কর, সে তোমার কাছে উপদেশ চাইলে তুমি তাকে উপদেশ দাও, সে হাঁচি দিয়ে ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বললে তার জবাব দাও, সে অসুস্থ হলে তাকে দেখতে যাও এবং সে মারা গেলে তার জানাযায় অংশ গ্রহণ কর।”
ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেনমানসহীহ
ব্যাখ্যা

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ব্যাখ্যা করেছেন যে, একজন মুসলিমের তার মুসলিম ভাইয়ের উপর ছয়টি অধিকার রয়েছে: প্রথমত: যখন সে তার সাথে দেখা করে তখন সে তাকে বলবে: السلام عليكم এবং সে সালামের জবাব দেয়: وعليكم السلام দ্বিতীয়ত: যদি সে তাকে অলিমা বা অন্য কিছুতে আমন্ত্রণ জানায়, তাহলে তার আমন্ত্রণে সাড়া দেওয়া। তৃতীয়ত: যদি সে পরামর্শ চায় তাহলে তাকে পরামর্শ দাও এবং তাকে তোষামোদ করো না বা প্রতারণা করো না। চতুর্থত: যদি সে হাঁচি দেয় এবং বলে: الحمد لله তাহলে তাকে এই বলে উত্তর করো: يرحمك الله এবং সে উত্তরে বলবে: يَهديكم الله ويُصلح بالكم "আল্লাহ তোমাকে হেদায়েত দিন এবং তোমার কাজ ঠিক করে দিন।" পঞ্চম: অসুস্থ হলে তাকে দেখতে যায়। ষষ্ঠত: যদি সে মারা যায়, তাহলে সে তার জানাযার সালাত পড়বে এবং তাকে দাফন না করা পর্যন্ত তার জানাযার সাথে থাকবে।

শিক্ষা
  1. আল-শাওকানী বলেন: তাঁর কথা حق المسلم (মুসলিমের অধিকার) এর অর্থ হল: এটি পরিত্যাগ করা উচিত নয় এবং এটি পালন করা হয় বাধ্যতামূলক অথবা দৃঢ়ভাবে মুস্তাহাব, সেই ওয়াজিবের মত যা ত্যাগ করা উচিত নয়।
  2. যদি সালাম গ্রহণকারী ব্যক্তি একজন হন, তাহলে সালামের জবাব দেওয়া ব্যক্তিগত ওয়াজিব এবং একটি দলের জন্য তাদের মধ্যে একজনের উত্তর যথেষ্ট হবে, তবে সালাম শুরু করার ক্ষেত্রে মূল নীতি হল এটি একটি সুন্নাত।
  3. অসুস্থদের দেখতে যাওয়া তার মুসলিম ভাইদের উপর তার অধিকারের মধ্যে একটি। কারণ এটি তার হৃদয়ে আনন্দ ও সুখ নিয়ে আসে এবং এটি একটি ফারযে কিফায়া।
  4. দাওয়াতে সাড়া দেওয়া ওয়াজিব, যদি না তাতে পাপ হয়। যদি এটি অলিমার (বিবাহভোজের) জন্য হয়, তাহলে অধিকাংশ আলেমের অভিমত হলো, শরয়ী ওজর না থাকলে তা গ্রহণ করা ওয়াজিব। তবে যদি এটি বিবাহভোজের জন্য না হয়, তাহলে অধিকাংশ আলেমের মতামত যে এটি মুস্তাহাব।
  5. যে ব্যক্তি হাঁচিদাতার আল-হামদুলিল্লাহ শুনতে পায়, তার উপর হাঁচিদাতার উত্তর দেওয়া ওয়াজিব।
  6. সমাজ, ঈমান এবং এর সদস্যদের মধ্যে ভালোবাসার বন্ধনকে শক্তিশালী করার ভেতর শরীয়তের পরিপূর্ণতা ও তার আগ্রহ।
  7. (فَسَمِّتْهُ) এবং কিছু সংস্করণে: "فشمّته" রয়েছে: মঙ্গল ও কল্যাণের জন্য প্রার্থনা করা। বলা হয় যে এর অর্থ: আল্লাহ আপনাকে তিরস্কার থেকে দূরে রাখুন এবং আপনার শত্রু যা নিয়ে আনন্দ করে তা থেকে আপনাকে রক্ষা করুন। التسميت এর অর্থ হল: আল্লাহ আপনাকে সরল পথে পরিচালিত করুন।
সূত্র

صحيح مسلم (4/ 1705) (2162). منحة العلام في شرح بلوغ المرام، لعبد الله الفوزان (10/ 7). توضيح الأحكام من بلوغ المرام، للبسام (3/ 128). بهجة الناظرين شرح رياض الصالحين، لسليم الهلالي (1/ 327).

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

“যে লোক অন্য কারো ক্ষতিসাধন করে, আল্লাহ তা‘আলা তা দিয়েই তার ক্ষতিসাধন করেন। যে লোক অন্যকে কষ্ট দেয়, আল্লাহ তা’আলা তাকে কষ্টের মধ্যে ফেলেন।”

عن أبي صِرْمة رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «مَنْ ضَارَّ ضَارَّ اللهُ بِهِ، وَمَنْ شَاقَّ شَقَّ اللهُ عَلَيْهِ».
আবূ সিরমাহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “যে লোক অন্য কারো ক্ষতিসাধন করে, আল্লাহ তা‘আলা তা দিয়েই তার ক্ষতিসাধন করেন। যে লোক অন্যকে কষ্ট দেয়, আল্লাহ তা’আলা তাকে কষ্টের মধ্যে ফেলেন।”
এটি আবূ দাউদ, তিরমিযী, ইবনে মাজাহ ও আহমাদ বর্ণনা করেছেন।মানহাসান
ব্যাখ্যা

নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাবধান করেছেন,মুসলিমকে ক্ষতি করা বা কোন বিষয়ে তাকে কোন কষ্টে ফেলা; হোক তা তার নিজের বা তার সম্পদের বা পরিবারের ব্যাপারে। আর যে ব্যক্তি এমন করে, আল্লাহ তা‘আলা তার সমজাতীয় কাজের কারণে তাকে সমজাতীয় শাস্তি প্রদান করেন।

শিক্ষা
  1. মুসলিমের ক্ষতি করা ও তাকে কষ্টে ফেলা হারাম।
  2. আল্লাহ তাঁর বান্দাহর জন্য প্রতিশোধ গ্রহণ করেন।
সূত্র

سنن أبي داود (5/ 477) (3635). سنن الترمذي (3/ 495) (1940). سنن ابن ماجه (3/ 432) (2342). مسند أحمد (25/ 34) (15755). مساوئ الأخلاق، للخرائطي (ص: 274) (583). توضيح الأحكام مِن بلوغ المرام، للبسام (7/ 445). فتح ذي الجلال والإكرام شرح بلوغ المرام، لابن عثيمين (6/ 396). منحة العلام في شرح بلوغ المرام، لعبد الله الفوزان (10/ 261).

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

এখানকার প্রতিটি হাদীস, মান, ব্যাখ্যা ও শিক্ষা HadeethEnc.com যেভাবে প্রকাশ করে হুবহু সেভাবেই দেখানো, তাদের পুনঃপ্রকাশের শর্ত মেনে। মানের সঙ্গে মান-নির্ধারকের নাম নেই। অনুবাদ ও ব্যাখ্যা এর লেখকদের নিজস্ব, এবং কোনো কোনোটিতে বিধান বলা আছে; সাবীলের পর্যালোচকেরা এগুলো যাচাই করেননি। আরবি হাদীসটিই মূল পাঠ। উৎস: HadeethEnc.com