মূল অংশে যান
দু‘আ

কুরআনের কোন দু‘আগুলো «রাব্বানা» দিয়ে শুরু?

সাবীল লাইব্রেরি থেকে · আলেমদের পর্যালোচনা বাকি আছে

এখানে প্রতিটি উত্তর সাবীল লাইব্রেরির একটি লেখা, সূত্রসহ হুবহু দেখানো। প্রশ্নটির জন্য কেউ এটি লেখেননি, কোনো যন্ত্রও এটি লেখেনি, ছোট করেনি বা নতুন করে সাজায়নি: যে লেখাটি প্রশ্নের উত্তর দেয়, প্রশ্নটিকে তার সাথে মিলিয়ে দেওয়া হয়েছে। লাইব্রেরির আলেমদের পর্যালোচনা এখনও বাকি। যেখানে মাযহাবগুলোর মত ভিন্ন, লেখাটিতে প্রতিটির মত বলা আছে। নিজের অবস্থার হুকুম জানতে একজন আলেমকে জিজ্ঞেস করুন।

02Rabbanā · Iরাব্বানা · ১
رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الْآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ
রাব্বানা আতিনা ফিদ্-দুনইয়া হাসানাতাঁও ওয়া ফিল্-আখিরাতি হাসানাতাঁও ওয়া ক্বিনা ‘আযাবান্-নার
rabbanā ātinā fid-dunyā ḥasanatan wa fil-ākhirati ḥasanatan wa qinā ‘adhāban-nār
হে আমাদের রব, আমাদের দুনিয়ায় কল্যাণ দিন, আখিরাতেও কল্যাণ দিন, আর আমাদের জাহান্নামের শাস্তি থেকে রক্ষা করুন।
Our Lord, give us good in this world and good in the Hereafter, and protect us from the punishment of the Fire.
Q 2:201 — the du‘ā he ﷺ made most often.
رَبَّنَا لَا تُؤَاخِذْنَآ إِن نَّسِينَآ أَوْ أَخْطَأْنَا ۚ رَبَّنَا وَلَا تَحْمِلْ عَلَيْنَآ إِصْرًا كَمَا حَمَلْتَهُۥ عَلَى ٱلَّذِينَ مِن قَبْلِنَا ۚ رَبَّنَا وَلَا تُحَمِّلْنَا مَا لَا طَاقَةَ لَنَا بِهِۦ ۖ وَٱعْفُ عَنَّا وَٱغْفِرْ لَنَا وَٱرْحَمْنَآ ۚ أَنتَ مَوْلَىٰنَا فَٱنصُرْنَا عَلَى ٱلْقَوْمِ ٱلْكَـٰفِرِينَ
পুরো আয়াত

La yukallifu Allahu nafsan illa wusAAaha laha ma kasabat waAAalayha ma iktasabat rabbana la tuakhithna in naseena aw akhtana rabbana wala tahmil AAalayna isran kama hamaltahu AAala allatheena min qablina rabbana wala tuhammilna ma la taqata lana bihi waoAAfu AAanna waighfir lana wairhamna anta mawlana faonsurna AAala alqawmi alkafireena

আল্লাহ্‌ কারও উপর এমন কোনো দায়িত্ব চাপিয়ে দেন না যা তার সাধ্যাতীত [১]। সে ভাল যা উপার্জন করে তার প্রতিফল তারই, আর মন্দ যা কামাই করে তার প্রতিফল তার উপরই বর্তায়। ‘হে আমাদের রব! যদি আমরা বিস্মৃত হই অথবা ভুল করি তবে আপনি আমাদেরকে পাকড়াও করবেন না। হে আমাদের রব! আমাদের পূর্ববর্তীগণের উপর যেমন বোঝা চাপিয়ে দিয়েছিলেন আমাদের উপর তেমন বোঝা চাপিয়ে দিবেন না। হে আমাদের রব! আপনি আমাদেরকে এমন কিছু বহন করাবেন না যার সামর্থ আমাদের নেই। আর আপনি আমাদের পাপ মোচন করুন, আমাদেরকে ক্ষমা করুন, আমাদের প্রতি দয়া করুন, আপনি আমাদের অভিভাবক। অতএব, কাফির সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে আমাদেরকে সাহায্য করুন [২]।’

টীকা

[১] পূর্ববর্তী আয়াতে বলা হয়েছিল যে, তোমাদের অন্তরে যা আছে, প্রকাশ কর কিংবা গোপন রাখ সর্বাবস্থায় আল্লাহ্‌ তা'আলা তোমাদের কাছ থেকে তার হিসাব নেবেন। আয়াতের আসল উদ্দেশ্য ছিল এই যে, তোমরা স্বেচ্ছায় যেসব কাজ করবে, আল্লাহ্‌ তা'আলা তার হিসাব নেবেন। অনিচ্ছাকৃত কু-চিন্তা ও ক্রটি-বিচূতি এর অন্তর্ভুক্তই ছিল না। কিন্তু আয়াতের ভাষা বাহ্যতঃ ব্যাপক ছিল। এতে বোঝা যেত যে, অনিচ্ছকৃত ধারণারও হিসাব নেয়া হবে। এ আয়াত শুনে সাহাবায়ে কেরাম অস্থির হয়ে গেলেন এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে আরয করলেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ! এতদিন আমরা মনে করতাম যে, আমাদের ইচ্ছাকৃত কাজেরই হিসাব হবে। মনে যেসব অনিচ্ছাকৃত কল্পনা আসে, সেগুলোর হিসাব হবে না। কিন্তু এ আয়াত দ্বারা জানা গেল যে, প্রতিটি কল্পনারও হিসাব হবে। এতে তো শাস্তির কবল থেকে মুক্তি পাওয়া সাংঘাতিক কঠিন মনে হয়। মহা নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আয়াতের সঠিক উদ্দেশ্য জানতেন, কিন্তু উক্ত আয়াতে ব্যবহৃত শব্দের ব্যাপকতার পরিপ্রেক্ষিতে তিনি নিজের পক্ষ থেকে কিছু বলা সমীচীন মনে করলেন না, বরং ওহীর অপেক্ষায় রইলেন। তিনি সাহাবায়ে কেরামকে আপাততঃ আদেশ দিলেন যে, আল্লাহ্‌র পক্ষ থেকে যে নির্দেশ আসে, তা সহজ হোক কিংবা কঠিন - মুমিনের কাজ হলো তা মেনে নেয়া। সাহাবায়ে কেরাম রাসূল সাল্লাল্লাহু '‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের নির্দেশমত কাজ করলেন; যদিও তাদের মনে এ সংশয় ছিল যে, অনিচ্ছাকৃত কল্পনা ও কু-চিন্তা থেকে বেঁচে থাকা খুবই কঠিন। এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আল্লাহ্ তা'আলা প্রথমে মুসলিমদের আনুগত্যের প্রশংসা করেন এবং বিশেষ ভঙ্গিতে ঐ সন্দেহের নিরসন করে বলেন, আল্লাহ্ তা'আলা কাউকে তার সাধ্যের বহির্ভূত কোনো কাজের নির্দেশ দেন না। কাজেই অনিচ্ছাকৃতভাবে যেসব কল্পনা ও কু-চিন্তা অন্তরে মাথাচাড়া দিয়ে উঠে, এরপর সেগুলো কার্যে পরিণত করা না হয়, সেসব আল্লাহ্‌ তা'আলার কাছে মাফযোগ্য। যেসব কাজ ইচ্ছে করে করা হয়, শুধু সেগুলোরই হিসাব হবে। কুরআনে বর্ণিত এ ব্যাখ্যার ফলে সাহাবায়ে কেরামের মানসিক উদ্বেগ দূর হয়ে যায়। [মুসনাদে আহমাদ ২/৪১২, ১/৩৩২, মুসলিম ১২৫]

তারপর আল্লাহ্‌ তা'আলা মুসলিমদেরকে একটি বিশেষ দো'আ শিক্ষা দিয়েছেন। যাতে ভুল-ভ্রান্তিবশতঃ কোনো কাজ হয়ে যাওয়ার পর ক্ষমা প্রার্থনার পদ্ধতি শিখিয়ে দেয়া হয়েছে এবং পূর্ববর্তী উম্মতদের মত শাস্তিও যেন এ উম্মতের উপর না আসে, তার জন্য বিশেষভাবে দোআ করতে বলা হয়েছে।

[২] আলোচ্য আয়াত দু'টি সূরা বাকারার শেষ আয়াত। সহীহ হাদীসসমূহে এ আয়াত দুটির বিশেষ ফযীলতের কথা বর্ণিত আছে। রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, কেউ রাতের বেলায় এ আয়াত দু’টি পাঠ করলে তা তার জন্য যথেষ্ট। [বুখারী ৪০০৮, ৫০০৮, মুসলিম ৮০৮] অর্থাৎ বিপদাপদ ও বিভিন্ন প্রকার অনিষ্ট থেকে মুক্ত থাকার জন্য যথেষ্ট।

Allah does not burden any soul greater than it can bear. For it is what it has earned, and against it is what it has incurred. “Our Lord, do not hold us accountable if we forget or fall into error. Our Lord, do not place on us such a burden as You have placed on those before us. Our Lord, do not burden us with that which we cannot bear. Pardon us, forgive us, and have mercy on us. You are our Protector, so give us victory over the disbelieving people[173].”[174]

টীকা

[173] Allah Almighty concludes this Surah by directing His servants how to supplicate Him, just as He taught them in Surah al-Fātihah how to praise Him and ask for guidance. [174] Allah’s Messenger (ﷺ) said: "Whosoever recited the last two verses of Surat al-Baqarah at night, that will be sufficient for him." [Sahih al-Bukhāri: 345]

অর্থ: Bengali Translation - Abu Bakr Zakaria · QuranEnc.com · version 1.1.1। উচ্চারণটি তানযীল যেভাবে প্রকাশ করে সেভাবেই দেওয়া। সাবীল এর কোনোটিই পর্যালোচনা করেনি।

পুরো পাঠ দেখানো হয়েছে, কুরআন ২:২৮৬ থেকে। ছাপা সংস্করণে এটি সংক্ষেপে আছে। নিচের লাইনগুলো ছাপা সংস্করণের, যা সংক্ষিপ্ত পাঠের জন্য লেখা।

রাব্বানা লা তুআখিয্‌না ইন্ নাসীনা আও আখ্‌ত্বা’না
rabbanā lā tu’ākhidhnā in nasīnā aw akhṭa’nā
হে আমাদের রব, আমরা যদি ভুলে যাই বা ভুল করি, তবে আমাদের পাকড়াও করবেন না।
Our Lord, do not take us to task if we forget or fall into error.
Q 2:286 — the closing words of Sūrat al-Baqarah.
03Rabbanā · IIরাব্বানা · ২
رَبَّنَا لَا تُزِغْ قُلُوبَنَا بَعْدَ إِذْ هَدَيْتَنَا وَهَبْ لَنَا مِن لَّدُنكَ رَحْمَةً ۚ إِنَّكَ أَنتَ ٱلْوَهَّابُ
পুরো আয়াত

Rabbana la tuzigh quloobana baAAda ith hadaytana wahab lana min ladunka rahmatan innaka anta alwahhabu

‘হে আমাদের রব! সরল পথ দেয়ার পর আপনি আমাদের অন্তরসমূহকে সত্য লঙ্ঘনপ্রবণ করবেন না। আর আপনার কাছ থেকে আমাদেরকে করুণা দান করুন, নিশ্চয়ই আপনি মহাদাতা।’

“Our Lord, do not let our hearts deviate[5] after You have guided us, and grant us Your mercy; for You are the Munificent Bestower.

টীকা

[5] ’Umm Salamah (رضي الله عنها) reported: “The Prophet (ﷺ) used to pray most by saying: “O He Who changes hearts, make my heart firm in Your religion” (yā Muqallib al-qulūb, thabbit qalbī ‘alā dīnik). When she asked him the reason for this, he (ﷺ) replied, saying: “Umm Salamah, know that every human’s heart is between two Fingers of Allah. Whoever He wills, He makes steadfast, and Whoever He wills He causes to deviate”. [Al-Tirmidhī: 3522]

অর্থ: Bengali Translation - Abu Bakr Zakaria · QuranEnc.com · version 1.1.1। উচ্চারণটি তানযীল যেভাবে প্রকাশ করে সেভাবেই দেওয়া। সাবীল এর কোনোটিই পর্যালোচনা করেনি।

পুরো পাঠ দেখানো হয়েছে, কুরআন ৩:৮ থেকে। ছাপা সংস্করণে এটি সংক্ষেপে আছে। নিচের লাইনগুলো ছাপা সংস্করণের, যা সংক্ষিপ্ত পাঠের জন্য লেখা।

রাব্বানা লা তুযিগ্ ক্বুলূবানা বা‘দা ইয্ হাদাইতানা ওয়া হাব্ লানা মিল্-লাদুন্‌কা রাহমাহ
rabbanā lā tuzigh qulūbanā ba‘da idh hadaytanā wa hab lanā mil-ladunka raḥmah
হে আমাদের রব, হিদায়াত দেওয়ার পর আমাদের অন্তর বাঁকা করে দেবেন না, আর আপনার পক্ষ থেকে আমাদের রহমত দান করুন।
Our Lord, let not our hearts deviate after You have guided us, and grant us mercy from Yourself.
Q 3:8
رَبَّنَآ أَفْرِغْ عَلَيْنَا صَبْرًا وَثَبِّتْ أَقْدَامَنَا وَٱنصُرْنَا عَلَى ٱلْقَوْمِ ٱلْكَـٰفِرِينَ
পুরো আয়াত

Walamma barazoo lijaloota wajunoodihi qaloo rabbana afrigh AAalayna sabran wathabbit aqdamana waonsurna AAala alqawmi alkafireena

আর তারা যখন যুদ্ধার্থে জালুত ও তার সেনাবাহিনীর সম্মুখীন হল তখন তারা বলল, ‘হে আমাদের রব! আমাদের উপর ধৈর্য ঢেলে দিন, আমাদের পা অবিচলিত রাখুন এবং কাফের সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে আমাদের জয়জুক্ত করুন।’

When they faced Goliath and his troops in combat, they said: “Our Lord, shower us with patience, make our feet firm, and give us victory over the disbelieving people.”

অর্থ: Bengali Translation - Abu Bakr Zakaria · QuranEnc.com · version 1.1.1। উচ্চারণটি তানযীল যেভাবে প্রকাশ করে সেভাবেই দেওয়া। সাবীল এর কোনোটিই পর্যালোচনা করেনি।

পুরো পাঠ দেখানো হয়েছে, কুরআন ২:২৫০ থেকে। ছাপা সংস্করণে এটি সংক্ষেপে আছে। নিচের লাইনগুলো ছাপা সংস্করণের, যা সংক্ষিপ্ত পাঠের জন্য লেখা।

রাব্বানা আফরিগ্ ‘আলাইনা সবরাঁও ওয়া সাব্বিত্ আক্বদামানা
rabbanā afrigh ‘alaynā ṣabran wa thabbit aqdāmanā
হে আমাদের রব, আমাদের উপর ধৈর্য ঢেলে দিন এবং আমাদের পা অবিচল রাখুন।
Our Lord, pour patience upon us and make our feet firm.
Q 2:250 — said by Ṭālūt’s few before a battle they were expected to lose.
04Rabbanā · IIIরাব্বানা · ৩
رَبَّنَا ظَلَمْنَا أَنْفُسَنَا وَإِنْ لَمْ تَغْفِرْ لَنَا وَتَرْحَمْنَا لَنَكُونَنَّ مِنَ الْخَاسِرِينَ
রাব্বানা যলামনা আন্‌ফুসানা ওয়া ইল্লাম্ তাগফির্ লানা ওয়া তারহামনা লানাকূনান্না মিনাল্-খাসিরীন
rabbanā ẓalamnā anfusanā wa il lam taghfir lanā wa tarḥamnā lanakūnanna minal-khāsirīn
হে আমাদের রব, আমরা নিজেদের উপর জুলুম করেছি; আপনি যদি আমাদের ক্ষমা না করেন ও দয়া না করেন, তবে আমরা অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হব।
Our Lord, we have wronged ourselves; if You do not forgive us and have mercy on us, we shall be among the lost.
Q 7:23 — the words of Ādam.
05Rabbanā · III cont.রাব্বানা · ৩
رَبِّ اشْرَحْ لِي صَدْرِي وَيَسِّرْ لِي أَمْرِي وَاحْلُلْ عُقْدَةً مِنْ لِسَانِي يَفْقَهُوا قَوْلِي
রব্বিশ্‌রাহ্ লী সদরী ওয়া ইয়াস্‌সির্ লী আমরী ওয়াহ্‌লুল্ ‘উক্বদাতাম্ মিল্-লিসানী ইয়াফ্‌ক্বাহূ ক্বাওলী
rabbi-shraḥ lī ṣadrī wa yassir lī amrī waḥlul ‘uqdatan min lisānī yafqahū qawlī
হে আমার রব, আমার বুক প্রশস্ত করে দিন, আমার কাজ সহজ করে দিন, আর আমার জিহ্বার জড়তা খুলে দিন — যাতে তারা আমার কথা বুঝতে পারে।
My Lord, expand my breast, ease my task, and loosen the knot in my tongue that they may understand me.
Q 20:25–28 — Mūsā, before speaking to Pharaoh. For any hard conversation.
দু‘আ সংকলন থেকে · পুরো শিরোনাম খুলুন

লাইব্রেরি সাধারণভাবে যা বলে, এটি তা-ই। এটি আপনার নিজের অবস্থার হুকুম নয়: সে জন্য একজন আলেমকে জিজ্ঞেস করুন।