প্রতিটি বর্ণনার নিচে ডেটাসেটের নিজস্ব অনুবাদ হুবহু দেখানো হয়েছে। এতে অনুবাদকের নাম নেই, এর স্বত্ব যাচাই হয়নি, এবং কেউ এটি আরবির সঙ্গে মিলিয়ে দেখেননি; কিছু বর্ণনার অনুবাদ নেই। মূল পাঠ আরবি।
অনূদিত নববী হাদীসের বিশ্বকোষে (HadeethEnc.com) কোনো বর্ণনার হুবহু পাঠ থাকলে, তার অনুবাদ সেই বর্ণনার নিচে উৎসের নামসহ দেখানো হয়েছে। দুটিকে প্রোগ্রামের সাহায্যে, কেবল আরবি পাঠ দেখে মেলানো হয়েছে: বিশ্বকোষের হাদীসের পুরো পাঠ, তাতে উল্লেখিত সাহাবীর নামসহ, বর্ণনাটির শেষ অংশের সঙ্গে অক্ষরে অক্ষরে এক। এই মিল কেউ যাচাই করেননি, এবং সাবীলের পর্যালোচকেরা অনুবাদটি পরীক্ষা করেননি। মূল পাঠ আরবি। বিশ্বকোষ যে হাদীস এই ভাষায় অনুবাদ করেনি, তার ইংরেজি দেখানো হয়েছে।
। আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনও উচ্চ দস্তরখানে (টেবিলে) বসে এবং (বিভিন্ন প্রকার চাটনি ও হজমির) ছোট ছোট পেয়ালায় নিয়ে খাননি। কখনো তার জন্য পাতলা রুটি বানানো হয়নি। কাতাদা (রাহঃ)-কে আমি (ইউনুস) প্রশ্ন করলাম, তাহলে কিসের উপর (থালা) রেখে তারা খাওয়া-দাওয়া করতেন? তিনি বললেন, চামড়ার এই সাধারণ দস্তরখান বিছিয়ে তার উপর। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (৩২৯২), বুখারী এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান গারীব বলেছেন। মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার বলেন, এই ইউনুস হলেন ইউনুস আল-ইসকাফ। সাঈদ ইবনু আবী আরুবা হতে, তিনি কাতাদা হতে, তিনি আনাস (রাঃ) হতে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সূত্রে আবদুল ওয়ারিস ইবনু সাঈদ (রাহঃ) উপরোক্ত হাদীসের মতো বর্ণনা করেছেন।
। হিশাম ইবনু যাইদ (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আনাস (রাঃ)-কে আমি বলতে শুনেছি, আমরা একটি খরগোশকে মাররায-যাহরানে তাড়া করলাম। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণ এর পিছু ধাওয়া করলেন। আমি এর নাগালে পৌছে তা ধরে ফেললাম। আমি আবূ তালহা (রাঃ)-এর সামনে খরগোশটি নিয়ে আসলে তিনি একটি ধারালো পাথর দিয়ে তা যবেহ করেন। তিনি আমাকে এর উরু অথবা নিতম্বের গোশত দিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট পাঠালে তিনি তা খেলেন। আমি (হিশাম) প্রশ্ন করলাম, তিনি কি তা খেয়েছেন? আনাস (রাঃ) বললেন, তিনি তা গ্রহণ করেছেন। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (৩২৪৩), নাসা-ঈ আবূ ঈসা বলেন, জাবির, আম্মার ও মুহাম্মাদ ইবনু সাফওয়ান (রাঃ) (তাকে মুহাম্মাদ ইবনু মাইকীও বলা হয়) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটি হাসান সহীহ। এ হাদীস মোতাবিক বেশিরভাগ অভিজ্ঞ আলিম আমল করেছেন। খরগোশের গোশত খাওয়াতে কোন সমস্যা নেই বলে তারা মনে করেন। খরগোশের গোশত খাওয়াকে অপর কয়েকজন বিশেষজ্ঞ আলিম মাকরূহ বলেন। তারা বলেন, খরগোশের ঋতুস্রাব হয়।
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ دِينَارٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم سُئِلَ عَنْ أَكْلِ الضَّبِّ فَقَالَ " لاَ آكُلُهُ وَلاَ أُحَرِّمُهُ " . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ عُمَرَ وَأَبِي سَعِيدٍ وَابْنِ عَبَّاسٍ وَثَابِتِ بْنِ وَدِيعَةَ وَجَابِرٍ وَعَبْدِ الرَّحْمَنِ ابْنِ حَسَنَةَ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَقَدِ اخْتَلَفَ أَهْلُ الْعِلْمِ فِي أَكْلِ الضَّبِّ فَرَخَّصَ فِيهِ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَغَيْرِهِمْ وَكَرِهَهُ بَعْضُهُمْ . وَيُرْوَى عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّهُ قَالَ أُكِلَ الضَّبُّ عَلَى مَائِدَةِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَإِنَّمَا تَرَكَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم تَقَذُّرًا .
। ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, দব্ব (অনেকটা গুইসাপের মত দেখতে) খাওয়ার ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেনঃ আমি তা খাই না এবং তা হারামও বলি না। সহীহ, নাসা-ঈ উমার, আবূ সাঈদ, ইবনু আব্বাস, সাবিত ইবনু ওয়াদিআ, জাবির ও আবদুর রাহমান ইবনু হাসান নহে (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। দব্ব (অনেকটা গুইসাপের মত দেখতে) খাওয়ার ব্যাপারে অভিজ্ঞ আলিমগণ দ্বিমত পোষণ করেছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একদল সাহাবী ও অপরাপর আলিম তা খাওয়ার পক্ষে সম্মতি দিয়েছেন এবং তাদের অন্য এক দল তা খাওয়াকে মাকরূহ বলেছেন। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, দব্বের গোশত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দস্তরখানে খাওয়া হয়েছে; তিনি ব্যক্তিগত অরুচির কারণে তা পরিত্যাগ করেছেন”।
। ইবনু আবী আম্মার (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি জাবির (রাঃ)-কে প্রশ্ন করলাম, দাবু কি শিকারযোগ্য প্রাণী? তিনি বললেন, হ্যাঁ। তিনি আবার বললেন, আমি কি তা খেতে পারি? জাবির (রাঃ) বললেন, হ্যাঁ, প্রশ্নকারী আবার প্রশ্ন করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি তা বলেছেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (৩২৩৬) আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। এ হাদীস মোতাবিক একদল অভিজ্ঞ আলিম আমল করেছেন। দাবু খাওয়াতে তারা কোন সমস্যা মনে করেন না। এই অভিমত দিয়েছেন ইমাম আহমাদ এবং ইসহাকও। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে দাবু খাওয়া মাকরূহ হওয়ার ব্যাপারেও একটি হাদীস বর্ণিত আছে। কিন্তু তার সনদ খুব একটা জোড়ালো নয়। দাবু খাওয়াকে অপর একদল আলিম মাকরূহ বলেছেন। একথা বলেছেন ইবনুল মুবারাকও। প্রখ্যাত হাদীস বিশারদ ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ আল-কাত্তান বলেছেন, এ হাদীসটিকে আবদুল্লাহ ইবনু উবাইদ ইবনু উমাইর-ইবনু আবী আম্মার হতে, তিনি জাবির (রাঃ) হতে, তিনি উমর (রাঃ)-এর সূত্রে উমর (রাঃ)-এর কথা বলে জারীর ইবনু হাযিম বর্ণনা করেছেন। এ ক্ষেত্রে ইবনু জুরাইজের হাদীসটিই অনেক বেশি সহীহ। ইবনু আবী আম্মারের নাম আবদুর রাহমান ইবনু আব্দুল্লাহ ইবনু আবী আম্মার। তিনি মক্কার অধিবাসী।
। খুযাইমা ইবনু জাযয়ি (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেছেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকটে ভালুক খাওয়া প্রসঙ্গে প্রশ্ন করলাম। তিনি বললেনঃ ভালুক কেউ খায় নাকি? আমি তাকে নেকড়ে বাঘ খাওয়া প্রসঙ্গে প্রশ্ন করলাম। তিনি বললেনঃ কোন উত্তম লোক নেকড়ে বাঘ খায় নাকি? যঈফ, ইবনু মাজাহ (৩২৩৭) আবূ ঈসা বলেছেন, এ হাদীসের সনদ মযবুত নয়। আমরা শুধুমাত্র ইসমাঈল ইবনু মুসলিমের মাধ্যমে আব্দুল করিমের সূত্রেই হাদীসটি জানতে পেরেছি। কিছু হাদীস বিশারদ এ হাদীসের রাবী ইসমাঈলও আবদুল কারম আবূ উমাইয়্যার সমালোচনা করেছেন। তিনি কাইস ইবনুল মুখারিকের পুত্র। কিন্তু মালিক আল-জাযারীর পুত্র আবদুল কারীম সিকাহ রাবী।
। জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে ঘোড়ার গোশত খাইয়েছেন এবং আমাদেরকে গাধার গোশত খেতে নিষেধ করেছেন। সহীহ, ইরওয়া (৮/১৩৮) মুসলিম ও অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। আসমা বিনতু আবূ বাকর (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। আমর ইবনু দীনারের সূত্রে জাবির (রাঃ) হতে একাধিক বর্ণনাকারী একইরকম বর্ণনা করেছেন। এ হাদীসটি আমর ইবনু দীনার হতে মুহাম্মাদ ইবনু আলী (রহঃ)-এর সূত্রে জাবির (রাঃ) হতে হাম্মাদ (রহঃ) বর্ণনা করেছেন। ইবনু উয়াইনার বর্ণনাটি অনেক বেশি সহীহ। আমি (তিরমিয়ী) ইমাম বুখারীকে বলতে শুনেছি, হাম্মাদ ইবনু যাইদ (রহঃ)-এর চেয়ে সুফিয়ান ইবনু উয়াইন (রহঃ) বেশি স্মৃতিশক্তি সম্পন্ন ছিলেন।
। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, খাইবারের যুদ্ধের দিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে কোন প্রকারের শিকারী দাতযুক্ত হিংস্র প্রাণী, চাদমারির (নিশানার) লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে হত্যা করা প্রাণী (মুজাসসামা) এবং গৃহপালিত গাধা হারাম ঘোষণা করেছে। হাসান সহীহ, সহীহা (৩৫৮, ২৩৯১), ইরওয়া (২৪৮৮) আলী, জাবির, বারাআ, ইবনু আবী আওফা, আনাস, ইরবায ইবনু সারিয়া, আবূ সালাবা, ইবনু উমার ও আবূ সাঈদ (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। এ হাদীসটি মুহাম্মাদ ইবনু আমর হতে অপর একটি সূত্রে আবদুল আযীয ইবনু মুহাম্মাদ প্রমুখ বর্ণনা করেছেন, কিন্তু তাদের বর্ণনায় তারা একটিমাত্র বিষয় উল্লেখ করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম “শিকারী দাঁতযুক্ত হিংস্র প্রাণী হারাম ঘোষণা করেছেন”।
। আবূ সালাবা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, মাজুসীদের (অগ্নি উপাসক) হাড়ি-পাতিল সম্বন্ধে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে প্রশ্ন করা হল। তিনি বললেনঃ এগুলো ধুয়ে পরিষ্কার করে নাও, তারপর এগুলো রান্নার কাজে লাগাও। শিকারী দাতযুক্ত হিংস্র প্রাণী তিনি নিষিদ্ধ করেছেন। সহীহ, (১৫৬০) নং হাদীস পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি আবূ সালাবা (রাঃ)-এর রিওয়ায়াত হিসাবে মাশহুর। তার সূত্রে অন্যভাবেও এ হাদীসটি বর্ণিত হয়েছে। আবূ সালাবা (রাঃ)-এর নাম জুরসূম, মতান্তরে জুরহুম বা নাশিব। আবূ কিলাবা-আবূ আসমা আর-রাহাবী হতে, তিনি আবূ সালাবা (রাঃ) হতে এই সূত্রেও উল্লেখিত হাদীস বর্ণিত আছে।
। আবূ সালাবা আল-খুশানী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা আহলে কিতাবের লোকালয়ে বাস করি, তাদের হাড়ি-পাতিলে রান্না করি এবং তাদের থালা-বাটি পানাহারের কাজে লাগাই। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এদেরগুলো ব্যতীত অন্য ব্যবস্থা করতে না পারলে তবে পানি দিয়ে এগুলো ধুয়ে নাও। তিনি আবার বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! শিকারের পশু পাওয়া যায় এমন এলাকায় আমরা বসবাস করি, আমরা কি করব? তিনি এবং সাথে সাথে আল্লাহ্ তা'আলার নাম নিয়ে থাকলে সে শিকার ধরে হত্যা করে ফেললে তুমি তা খেতে পার। কুকুরটি প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত না হলে তবে এর শিকার যবেহ করার সুযোগ পাওয়া গেলে তা খাও। তুমি তোমার তীর নিক্ষেপ করলে এবং সাথে সাথে আল্লাহ তা'আলার নাম নিলে তা শিকারকে মেরে ফেললেও তা খেতে পার। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (৩২০৭), নাসা-ঈ এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন।
। মাইমূনা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, কোন এক সময় ঘিয়ের মধ্যে একটি ইদুর পড়ে মারা গেল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বললেনঃ ইদুরটি তুলে ফেল এবং এর চারপাশের ঘিও ফেলে দাও, তারপর তা খাও। সহীহ, বুখারী (২৩৫) আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। যুহরী-উবাইদুল্লাহ হতে ইবনু আব্বাস (রাঃ)-এর বরাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সূত্রেও উল্লেখিত হাদীসটি বর্ণিত আছে এবং এই সনদসূত্রে মাইমূনা (রাঃ)-এর উল্লেখ নেই। তবে ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে এই মাইমূনা (রাঃ)-এর সূত্রটি অনেক বেশি সহীহ। পূর্বোক্ত হাদীসের মতো মামার-যুহরী হতে, তিনি সাইদ ইবনুল মুসাইয়্যিব হতে, তিনি আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এই সূত্রে বর্ণিত আছে, কিন্তু এই সূত্রটি অরক্ষিত। আবূ ঈসা বলেন, আমি মুহাম্মাদ ইবনু ইসমাঈল আল-বুখারীকে বলতে শুনেছি, মামার-যুহরী হতে, তিনি সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যিব হতে, তিনি আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত আছে যে, তাকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, শক্ত হয়ে জমানো ঘি হলে তোমরা ইদুরটি এবং তার চারপাশের ঘি ফেলে দাও, আর তরল হলে তার ধারেও যেও না। এই বর্ণনাটি। এবং মামার এতে ভুল করেছেন। নির্ভুল হল যুহরী-উবাইদুল্লাহ হতে, তিনি ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে, তিনি মাইমূনা (রাঃ)-এর সূত্রে বর্ণিত হাদীসটি।
। ইবনু উমর (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ বাম হাতে যেন তোমাদের কেউ না খায় এবং পান না করে। কেননা বাম হাতে শাইতান পানাহার করে। সহীহ, সহীহা (১২৩৬), মুসলিম জাবির, উমার ইবনু আবী সালামা, সালামা ইবনুল আকওয়া, আনাস ইবনু মালিক ও হাফসা (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীসটি বর্ণিত আছে। এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। মামার ও উকাইল (রাহঃ)-যুহরী হতে, তিনি সালিম হতে, তিনি ইবনু উমর (রাঃ)-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন। মালিক ও ইবনু উয়াইনার সূত্রটি তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি সহীহ।
। সালিম (রহঃ) হতে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের প্রত্যেকে যেন খাওয়ার সময় ডান হাতে খায় এবং ডান হাতে পান করে। কারণ বাম হাতে শাইতান পানাহার করে। সহীহ, দেখুন পূর্বের হাদীস
। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের প্রত্যেকে যেন খাওয়ার শেষে তার আঙ্গুল চাটে। কেননা তার জানা নেই যে, খাবারের কোন ভাগে বারকাত নিহিত রয়েছে। সহীহ, রাওযুন নায়ীর (১৯), মুসলিম জাবির, কাব ইবনু মালিক ও আনাস (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান গারীব বলেছেন। আমরা এ হাদীসটি শুধুমাত্র সুহাইল ইবনু আবূ সালিহ-এর সূত্রেই জেনেছি। আমি (তিরমিয়ী) এ হাদীস সম্বন্ধে মুহাম্মাদকে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, আবদুল আযীযের হাদীসটি বিরোধপূর্ণ। আমরা এ হাদীসটি শুধুমাত্র তার সূত্রেই জেনেছি।
। জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যদি কারো খাবারের লোকমা নিচে পড়ে যায় তাহলে সে যেন সন্দেহজনক জিনিস (ময়লা) দূর করে তা খেয়ে নেয় এবং তা যেন শাইতানের জন্য ফেলে না রাখে। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (৩২৭৯), মুসলিম আনাস (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে।
। আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খাওয়ার পরে তার তিনটি আঙ্গুল চাটতেন। তিনি বলতেনঃ তোমাদের কারো খাবারের লোকমা নিচে পড়ে গেলে সে যেন তার ময়লা দূর করে তা খেয়ে নেয় এবং শাইতানের জন্য তা ফেলে না রাখে। (বর্ণনাকারী বলেন,) আমাদেরকে তিনি থালাও চেটে খাওয়ার জন্যে নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি আরও বলেছেনঃ তোমাদের খাদ্যের কোন অংশ বরকত রয়েছে তা তোমাদের জানা নেই। সহীহ, মুখতাসার শামা-ইল (১২০), মুসলিম এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান গারীব সহীহ বলেছেন।
। উম্মু আসিম (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, একদা নুবাইশ আল-খাইর (রাঃ) আমাদের নিকটে এলেন, আমরা একটি পাত্রে খাবার খাচ্ছিলাম। তিনি আমাদের নিকটে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন ব্যক্তি পাত্রে খাবার পর তা চেটে খেলে পাত্রটি তার জন্য (আল্লাহ্ তা'আলার নিকটে) ক্ষমা প্রার্থনা করে। যঈফ, ইবনু মাজাহ (৩২৭১) আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি গারীব। শুধুমাত্র মুআল্লা ইবনু রশিদের সূত্রেই আমরা হাদীসটি জানতে পেরেছি। ইবনু হারুন-সহ আরো কিছু রাবী এ হাদীসটি শুধু মুআল্লা ইবনু রাশিদের সূত্রে বর্ণনা করেছেন।
। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ খাদ্যের মাঝখানে বারকাত নাযিল হয়। অতএব তোমরা এর কিনারা হতে খাওয়া আরম্ভ কর, মাঝখান হতে খেও না। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (৩২৭৭) এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। এটি আতা ইবনুস সাইবের রিওয়ায়াত হিসাবেই পরিচিত। আতার সূত্রে শুবা ও সাওরীও এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। ইবনু উমর (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে।
। জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে এটা হতে খেলো, বর্ণনানুসারে তিনি প্রথম বার রসুনের কথা বলেছেন, তারপর বলেছেনঃ রসুন, পিয়াজ ও একইরকম দুৰ্গন্ধ যুক্ত জিনিস খেলো, সে আমাদের মসজিদের নিকটেও যেন না আসে। সহীহ, ইরওয়া (৫৪৭), মুসলিম এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। উমার, আবূ ইয়াস আল-মুযানী ও ইবনু উমর (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীসটি বর্ণিত আছে।
حَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ غَيْلاَنَ، حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ، أَنْبَأَنَا شُعْبَةُ، عَنْ سِمَاكِ بْنِ حَرْبٍ، سَمِعَ جَابِرَ بْنَ سَمُرَةَ، يَقُولُ نَزَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى أَبِي أَيُّوبَ وَكَانَ إِذَا أَكَلَ طَعَامًا بَعَثَ إِلَيْهِ بِفَضْلِهِ فَبَعَثَ إِلَيْهِ يَوْمًا بِطَعَامٍ وَلَمْ يَأْكُلْ مِنْهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَلَمَّا أَتَى أَبُو أَيُّوبَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَذَكَرَ ذَلِكَ لَهُ فَقَالَ " فِيهِ ثُومٌ " . فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَحَرَامٌ هُوَ قَالَ " لاَ وَلَكِنِّي أَكْرَهُهُ مِنْ أَجْلِ رِيحِهِ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .
। সিমাক ইবনু হারব (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, জাবির ইবনু সামুরা (রাঃ)-কে তিনি বলতে শুনেছেন, আবূ আইয়ুব আনসারী (রাঃ)-এর বাড়ীতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পদার্পণ করেন। তিনি খাওয়া-দাওয়ার পর (নিত্য দিনের অভ্যাস মতো) বাকী খাবার আবূ আইয়ুব আনসারীকে দিতেন। একদিন তিনি খাবার পাঠান। কিন্তু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা হতে মোটেও খাননি। আবূ আইয়ূব (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এসে এর কারণ জানতে চাইলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এর মধ্যে রসুন আছে। তিনি বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! তা কি হারাম? তিনি বললেনঃ না, তবে আমি এর দুর্গন্ধের কারণে তা অপছন্দ করি। সহীহ, ইরওয়া (২৫১১), মুসলিম এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ্ বলেছেন।
। আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেনঃ রান্না করা ব্যতীত রসুন খাওয়া ঠিক নয়। যঈফ, প্রাগুক্ত আবূ ঈসা বলেছেন, এ হাদীসের সনদ খুব একটা মজবুত নয়। আলী (রাঃ)-এর বিবৃতি হিসেবেও হাদীসটি বর্ণিত হয়েছে। শারীকের এ হাদীসটি মুরসাল হিসেবেও বর্ণিত হয়েছে। মুহাম্মাদ বলেছেন, আল-জাররাহ ইবনু মালীহ সত্যবাদী এবং আল-জাররাহ ইবনুয যাহহাক হাদীস শাস্ত্রে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তি।
। উম্মু আইয়ূব (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের মেহমান হলেন। তারা তার জন্য সুস্বাদু খাবার রান্না করেন। তার মধ্যে এই (পিয়াজ-রসুনের) সবজীরও কিছু অংশ ছিল। তিনি তা খেতে অপছন্দ করলেন। তিনি তার সাহাবীদের বললেনঃ তোমরা এটা খাও। আমি তোমাদের কারো মতো নই। আমার আশংকা হচ্ছে (এটা খাওয়ার কারণে) আমার সার্থীকে (ফেরেশতার) কষ্টে ফেলতে পারি। হাসান, ইবনু মা-জাহ (৩৩৬৪) এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ গারীব বলেছেন। উম্মু আইয়ূব (রাঃ) হলেন আবূ আইয়ুব আনসারী (রাঃ)-এর স্ত্রী।
। আবূল আলিয়া হতে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রসুন হালাল খাদ্যের অন্তর্ভুক্ত। সনদ দুর্বল ও বিচ্ছিন্ন। আবূ খালদার নাম খালিদ ইবনু দীনার। হাদীস বিশারদদের নিকট তিনি বিশ্বস্থ রাবী। তিনি আনাস ইবনু মালিকের দেখা পেয়েছেন এবং তার নিকট হতে হাদীস বর্ণনা করেছেন। আবূল আলিয়ার নাম রুফাঈ আর-রিযাহী। আব্দুর রহমান ইবনু মাহদী বলেন, আবূ খালদাহ একজন উত্তম মুসলিম ছিলেন।
। জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা (শোয়ার আগে) ঘরের দরজা বন্ধ করে দিও, পানির পাত্রের মুখ ঢেকে বা বেঁধে দিও, থালাগুলো উপুর করে রেখ অথবা ঢেকে দিও এবং আলো নিভিয়ে দিও। কেননা শাইতান বন্ধ দরজা খুলতে পারে না। মশকের বন্ধ মুখ উদম করতে পারে না এবং পাত্রের মুখ খুলতে পারে না। (আলো না নিভালে) মানুষের ঘরে দুষ্টু ইদুর আগুন লাগিয়ে দেয়। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (৩৪১), মুসলিম ইবনু উমার, আবূ হুরাইরা ও ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। এ হাদীসটি জাবির (রাঃ) হতে অপরাপর সূত্রেও বর্ণিত হয়েছে।
। সালিম (রহঃ) হতে তার বাবার সূত্রে বর্ণিত আছে, তিনি (আবদুল্লাহ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ শোয়ার সময় তোমরা তোমাদের ঘরে আগুন জ্বলিয়ে রেখ না। সহীহ, সহীহুল আদাব (৯৩৮), নাসা-ঈ এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন।
। আইশা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ খেজুরহীন ঘরের মানুষেরা যেন অনাহারী। সহীহ, সহীহা (১৭৭৬), মুসলিম আবূ রাফির স্ত্রী সালমা (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা উল্লেখিত সনদসূত্রে হাসান গারীব বলেছেন। আমরা এ হাদীসটি শুধুমাত্র এই সূত্রে হিশাম ইবনু উরওয়ার রিওয়ায়াত হিসাবে জেনেছি। আমি (তিরমিয়ী) বুখারী (রাহঃ)-কে এ ব্যতীত অন্য কেউ এ হাদীস বর্ণনা করেছে বলে আমার জানা নেই।
। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন কিছু খেয়ে অথবা কিছু পান করে বান্দাহ আল্লাহ্ তা'আলার প্রশংসা করলে অবশ্যই তিনি তার উপর সন্তুষ্ট হন। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (১৬৫১), মুসলিম উকবা ইবনু আমির, আবূ সাঈদ, আইশা, আবূ আইয়ূব ও আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান বলেছেন। এ হাদীসটি বিভিন্ন সূত্রে যাকারিয়্যা ইবনু আবী যাইদা হতে বর্ণিত হয়েছে। আমরা এ হাদীসটি শুধু যাকারিয়্যা ইবনু আবী যাইদার রিওয়ায়াত হিসাবে জেনেছি।
। জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক কুষ্ঠ রোগীর হাত ধরে তাকে নিজের সাথে একই পাত্রে খাওয়াতে বসান। অতঃপর তিনি বললেনঃ আল্লাহ্ তা'আলার নামে আল্লাহ্ তা'আলার উপর আস্থা রেখে এবং (প্রতিটি ব্যাপারে) তার উপর ভরসা করে খাও। যঈফ, ইবনু মাজাহ (৩৫৪২) আবূ ঈসা বলেছেন, এ হাদীসটি গারীব। আমরা শুধু ইউনুস ইবনু মুহাম্মাদ-আল-মুফাযযাল ইবনু ফাযালার সূত্রে বর্ণিত হাদীসের মাধ্যমেই এ প্রসঙ্গে জেনেছি। মুফাযযাল ইবনু ফাযালা (রাহঃ) বসরার একজন শাইখ (হাদীসের উস্তাদ)। আর অপর একজন আল-মুফাযযাল ইবনু ফাযালা আছেন তিনিও বসরার শাইখ এবং তিনি বসরার এই শাইখের চেয়ে বেশী নির্ভরযোগ্য ও প্রসিদ্ধ। শুবাও এ হাদীসটি হাবীব ইবনুশ শহীদ-ইবনু বুরাইদার সূত্রে বর্ণনা করেছেন এবং তাতে আছে, উমার (রাঃ) জনৈক কুষ্ঠ রোগীর হাত ধরলেন.....। আমার মতে শুবার হাদীসটিই অনেক বেশী সুপ্রমাণিত ও সহীহ।
। ইবনু উমর (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সাত পাকস্থলী ভর্তি করে কাফির খাদ্যদ্রব্য গ্রহণ করে, আর একটিমাত্র পাকস্থলী ভর্তি করে মুমিন খাদ্যদ্রব্য গ্রহণ করে। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (৩২৫৭), নাসা-ঈ এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। আবূ হুরাইরা, আবূ সাঈদ, আবূ বাসরাহ আল-গিফারী, আবূ মূসা, জাহজাহ আল-গিফারী, মাইমূনা ও আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীসটি বর্ণিত আছে।
حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ مُوسَى الأَنْصَارِيُّ، حَدَّثَنَا مَعْنٌ، حَدَّثَنَا مَالِكٌ، عَنْ سُهَيْلِ بْنِ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ضَافَهُ ضَيْفٌ كَافِرٌ فَأَمَرَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِشَاةٍ فَحُلِبَتْ فَشَرِبَ ثُمَّ أُخْرَى فَشَرِبَهُ ثُمَّ أُخْرَى فَشَرِبَهُ حَتَّى شَرِبَ حِلاَبَ سَبْعِ شِيَاهٍ ثُمَّ أَصْبَحَ مِنَ الْغَدِ فَأَسْلَمَ فَأَمَرَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِشَاةٍ فَحُلِبَتْ فَشَرِبَ حِلاَبَهَا ثُمَّ أَمَرَ لَهُ بِأُخْرَى فَلَمْ يَسْتَتِمَّهَا فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " الْمُؤْمِنُ يَشْرَبُ فِي مِعًى وَاحِدٍ وَالْكَافِرُ يَشْرَبُ فِي سَبْعَةِ أَمْعَاءٍ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ غَرِيبٌ مِنْ حَدِيثِ سُهَيْلٍ .
। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, একবার একজন কাফির রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাসায় মেহমান হন। তার জন্য একটি ছাগল দোহন করাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হুকুম করেন। ছাগল দোহনের পর সে সবটুকু দুধ পান করে। আরেকটি ছাগল দোহন করলে সে তার দুধও পান করে। তৃতীয় ছাগল দোহন করলে সে তার দুধও পান করে। এরকমভাবে সে একটানা সাতটি ছাগলের দুধ পান করে শেষ করে ফেলে। পরের দিন সকালে সে ইসলাম কুবুল করে। তার জন্য একটি ছাগল দোহন করতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হুকুম দেন। ছাগল দোহনের পর সে তা পান করে। তার জন্য তিনি আরো একটি ছাগলের দোহন করতে হুকুম দেন। কিন্তু সে তা পান করে আর শেষ করতে পারল না। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ মু'মিন লোক একটি পাকস্থলী ভর্তি করে খাদ্য গ্রহণ করে, আর কাফির লোক সাতটি পাকস্থলী ভর্তি করে খাদ্য গ্রহণ করে। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (৩২৫৬), নাসা-ঈ এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা সুহাইলের হাদীস হিসেবে হাসান সহীহ গারীব বলেছেন।
। আবদুল্লাহ ইবনু আবী আওফা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, ফরিং (খাওয়া) প্রসঙ্গে তাকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, আমি ছয়টি যুদ্ধে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে অংশগ্রহণ করেছি। আমরা ফরিং খেয়েছি। সহীহ, নাসা-ঈ আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি আবূ ইয়াফুর (রহঃ)-এর সূত্রে সুফিয়ান ইবনু উয়াইনা (রহঃ) একইরকম বর্ণনা করেছেন এবং ছয়টি যুদ্ধের কথা সেখানে উল্লেখ করেছেন। এই হাদীসটি আবূ ইয়াফুর (রহঃ)-এর সূত্রে সুফিয়ান সাওরী প্রমুখ বর্ণনা করেছেন এবং সেখানে সাতটি যুদ্ধের কথা উল্লেখ করেছেন।
حَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ غَيْلاَنَ، حَدَّثَنَا أَبُو أَحْمَدَ، وَالْمُؤَمَّلُ، قَالاَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ أَبِي يَعْفُورٍ، عَنِ ابْنِ أَبِي أَوْفَى، قَالَ غَزَوْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم سَبْعَ غَزَوَاتٍ نَأْكُلُ الْجَرَادَ . قَالَ أَبُو عِيسَى وَرَوَى شُعْبَةُ، هَذَا الْحَدِيثَ عَنْ أَبِي يَعْفُورٍ، عَنِ ابْنِ أَبِي أَوْفَى، قَالَ غَزَوْتُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم غَزَوَاتٍ نَأْكُلُ الْجَرَادَ . حَدَّثَنَا بِذَلِكَ مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ بِهَذَا .
। ইবনু আবী আওফা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমরা সাতটি যুদ্ধে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে অংশগ্রহণ করেছি। এ সময় আমরা ফড়িং খেয়েছি। সহীহ, নাসা-ঈ আবূ ঈসা বলেন, এই হাদীসটি শুবা আবূ ইয়াফুর হতে, তিনি ইবনু আবী আওফা (রাঃ) হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আমরা সাতটি যুদ্ধে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে অংশগ্রহণ করি। এ সময় আমরা ফড়িং খেয়েছি। ইবনু উমার ও জাবির (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা এ হাদীসটিকে হাসান সহীহ বলেছেন। আবূ ইয়াফুরের নাম ওয়াকিদ মতান্তরে ওয়াকদান। অপর এক আবূ ইয়াফুরের নাম আবদুর রাহমান, বাবা উবাইদ, দাদা বিসতাস।
। জাবির ইবনু আবদুল্লাহ ও আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তাড়া উভয়ে বলেছেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পঙ্গপালকে বদদু'আ করলে এভাবে বলতেনঃ “হে আল্লাহ! পঙ্গপালকে ধ্বংস করুন, এদের বড়গুলোকে হত্যা করুন, ছোটগুলোকে ধ্বংস করুন, এর ডিমগুলো বিনষ্ট করুন এবং তা সমূলে নিশ্চিহ্ন করুন, আমাদের জীবনযাত্রার উপকরণ ও রিযিক হতে সেগুলোর মুখ ফিরিয়ে রাখুন। অবশ্যই আপনি দু'আ শ্রবণকারী”। তখন এক ব্যক্তি বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কিভাবে আল্লাহ্ তা'আলার সৈন্যবাহিনীর অন্তর্ভুক্ত একটি দলের মূলোচ্ছেদের জন্য দু'আ করতে পারেন? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ ওগুলো হচ্ছে সমুদ্রের মাছের ঝাকের ন্যায়। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি গারীব। আমরা শুধু উপরোক্ত সূত্রেই এই হাদীস প্রসঙ্গে জেনেছি। মূসা ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু ইবরাহীম আত-তাইনীর সমালোচনা করা হয়েছে। তিনি বহু গারীব ও মুনকার হাদীস বর্ণনাকারী। তার পিতা মুহাম্মাদ ইবনু ইবরাহীম নির্ভরযোগ্য রাবী এবং তিনি মাদীনার অধিবাসী।
حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، حَدَّثَنَا عَبْدَةُ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، عَنِ ابْنِ أَبِي نَجِيحٍ، عَنْ مُجَاهِدٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ أَكْلِ الْجَلاَّلَةِ وَأَلْبَانِهَا . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ . وَرَوَى الثَّوْرِيُّ عَنِ ابْنِ أَبِي نَجِيحٍ عَنْ مُجَاهِدٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مُرْسَلاً .
। ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, জাল্লালার (পায়খানা খেতে অভ্যস্ত গৃহপালিত প্রাণী) গোশত খেতে ও তার দুধ পান করতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষেধ করেছেন। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (৩১৮৯) ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান গারীব বলেছেন। এ হাদীসটি সুফিয়ান সাওরী-ইবনু আবী নাজীহ হতে, তিনি মুজাহিদ হতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সূত্রে মুরসাল হিসাবে বর্ণনা করেছেন।
। যাহদাম আল-জারমী (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি আবূ মূসা (রাঃ)-এর সামনে গেলাম। তিনি তখন মুরগীর গোশত খাচ্ছিলেন। তিনি বললেন, আমার সামনে এগিয়ে এসো এবং খাবারে অংশগ্রহণ কর। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আমি মুরগীর গোশত খেতে দেখেছি। সহীহ, ইরওয়া (২৪৯৯), নাসা-ঈ এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান বলেছেন। যাহদাম হতে একাধিক সূত্রে এ হাদীসটি বর্ণিত হয়েছে। আমরা শুধু যাহদামের সূত্রেই উক্ত হাদীসটি বর্ণিত পেয়েছি। আবূল আওয়্যামের নাম ইমরান আল-কাত্তান।
। আবূ মূসা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আমি মোরগের গোশত ভক্ষণ করতে দেখেছি। সহীহ, দেখুন পূর্বের হাদীস আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটিতে আরো লম্বা বক্তব্য আছে। এ হাদীসটি হাসান সহীহ। এ হাদীসটি আল-কাসিম আত-তামীমী হতে, তিনি আবূ কিলাবা হতে, তিনি যাহদাম (রাহঃ) হতে এ সূত্রেও আইয়ূব আস-সাখতিয়ানী বর্ণনা করেছেন।
। উম্মু সালামা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি (ছাগলের) পাজরের ভুনা গোশত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সামনে রাখলেন। তিনি তা হতে খেলেন, তারপর নামাযে দাড়িয়ে গেলেন কিন্তু (আবার) ওযু করেননি। সহীহ, মুখতাসার শামা-ইল (১৩৮) আবদুল্লাহ ইবনুল হারিস, মুগীরা ও আবূ রাফি (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ এবং এই সনদসূত্রে গারীব বলেছেন।
। আবূ জুহাইফা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমি হেলান দিয়ে কখনো খাবার খাই না। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (৩২৬২), বুখারী এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। আমরা এ হাদীস, প্রসঙ্গে শুধু আলী ইবনুল আকমারের সূত্রে জেনেছি। এ হাদীসটি আলী ইবনুল আকমারের সুত্রে যাকারিয়্যা ইবনু আবু যাইদা, সুফিয়ান ইবনু সাঈদ সাওরী প্রমুখ আলী ইবনুল আকসার হতে বর্ণনা করেছেন। এ হাদীসটি আলী ইবনুল আকমারের সূত্রে শুবা-সুফিয়ান সাওরী হতে বর্ণনা করেছেন। আলী, আবদুল্লাহ ইবনু আমর ও আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে।
। আইশা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিষ্টি ও মধু পছন্দ করতেন। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (৩৩২৩), নাসাঈ এ হাদীসটি হাসান সহীহ গারীব। আলী ইবনু মুসহির-হিশাম ইবনু উরওয়ার সূত্রে এ হাদীসটি বর্ণিত আছে। এ হাদীসে আরো অনেক বক্তব্য রয়েছে।
। আলকামা ইবনু আবদুল্লাহ আল-মুযানী (রহঃ) হতে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত আছে, তিনি (আবদুল্লাহ) বলেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ গোশত কিনলে (রান্নার সময়) সে যেন তাতে বেশী ঝোল রাখে। কারো ভাগে গোশত না পড়লেও সে যেন অন্তত ঝোল খেতে পায়। এটাও গোশতের অন্তর্ভুক্ত। যঈফ, যঈফা (২৩৪১) এ অনুচ্ছেদে আবূ যার (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেছেন, এ হাদীসটি গারীব। আমরা শুধু উল্লেখিত সনদসূত্রে মুহাম্মাদ ইবনু ফাযাআর হাদীস হিসেবে এটি জেনেছি। তিনি ছিলেন স্বপ্নের ব্যাখ্যাকার। সুলাইমান ইবনু হারব মুহাম্মাদ ইবনু ফাযাআর সমালোচনা করেছেন। আলকামা ইবনু আবদুল্লাহ হলেন বাকর ইবনু আবদুল্লাহ আল-মুযানীর ভাই।
। আবূ যার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ন্যায়সংগত ও কল্যাণকর কাজের কোন বিষয়কেই যেন তোমাদের কেউ তুচ্ছ মনে না করে। সে (ভাল করার মতো) কিছু না পেলে অন্তত তার ভাইয়ের সাথে যেন হাসিমুখে মিলিত হয়। তুমি গোশত কিনে তা অথবা অন্য কিছু রান্না করার সময় তাতে ঝোলের পরিমাণ বেশি রাখবে এবং তোমার প্রতিবেশীকেও তা হতে এক আজলা দিবে। সহীহ, মুসলিম (৮/৩৭), পৃথকভাবে,সহীহা (১৩৬৮),তালীকুর রাগীব (৩/২৬৪) এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। এ হাদীসটি শুবা বর্ণনা করেছেন আবূ ইমরান আল-জাওনী হতে।
। আবূ মূসা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ পুরুষদের মধ্যে অনেক কামিল ব্যক্তি এসেছে। কিন্তু ইমরান-কন্যা মারইয়াম (আঃ) এবং ফিরআউনের স্ত্রী আসিয়া (রাঃ)-এর মতো আর কোন কামিল লোক মহিলাদের মধ্যে আসেনি। অন্য সব খাবারের চাইতে সারীদের যেমন বেশি মর্যাদা (অগ্রাধিকার) রয়েছে, তেমনি মহিলাদের উপর আইশা (রাঃ)-এরও একইরকম মর্যাদা রয়েছে। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (৩২৮০), নাসা-ঈ আইশা ও আনাস (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন।
আবদুল্লাহ ইবনুল হারিস (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেছেন, আমার পিতা (হারিস) আমাকে বিয়ে করিয়ে দেন। এ উপলক্ষে তিনি কিছু লোককে দাওয়াত করেন। তাদের মধ্যে সাফওয়ান ইবনু উমাইয়া (রাঃ)-ও ছিলেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ গোশত দাত দিয়ে ছিড়ে ছিড়ে বা কেটে কেটে খাও। কেননা তা খুবই সুস্বাদু ও তৃপ্তিদায়ক। যঈফ, যঈফা (২১৯৩) আবূ ঈসা বলেন, এ অনুচ্ছেদে আইশা ও আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। উল্লেখিত হাদীসটি আমরা শুধুমাত্র আবদুল কারীমের সূত্রেই জেনেছি। একদল বিশেষজ্ঞ আলিম আবদুল কারমের স্মরণশক্তির সমালোচনা করেছেন। আইউব সাখতিয়ানী তাদের অন্যতম।
। জাফর ইবনু আমর ইবনু উমাইয়া আয-যামরী (রহঃ) হতে তার বাবার সূত্রে বর্ণিত আছে, তিনি (আমর ইবনু উমাইয়া) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ছুরি দিয়ে একটি ছাগলের কাঁধের (রান্না করা) গোশত কাটতে এবং তা খেতে দেখেছেন। তারপর তিনি নামায আদায়ের জন্য চলে গেলেন কিন্তু (নতুন করে) ওযু করেননি। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (৪৯০), নাসা-ঈ এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। মুগীরা ইবনু শুবা (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে।
। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য গোশত আনা হল এবং তাকে বাহুর গোশত পরিবেশন করা হল। তিনি বাহুর গোশতই বেশি পছন্দ করতেন। তিনি তা দাঁত দিয়ে ছিড়ে ছিড়ে চিবিয়ে খেলেন। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (৩৩০৭), বুখারী ও মুসলিম ইবনু মাসউদ, আইশা, আবদুল্লাহ ইবনু জাফর ও আবূ উবাইদা (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আৰূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। আবূ হাইয়্যানের নাম ইয়াহইয়া, পিতা সাঈদ ইবনু হাইয়্যান আত-তামীমী। আবূ যারআর নাম হারিম।
। আইশা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকটে বাহুর গোশত অন্য সব অংশের গোশতের চেয়ে বেশী প্রিয় ছিল তা নয়, বরং প্রকৃত ব্যাপার এই যে, অনেক দিন পরপর তিনি গোশত খাওয়ার সুযোগ পেতেন। এজন্যই তাকে বাহুর গোশত পরিবেশন করা হত। কেননা বাহুর গোশত তাড়াতাড়ি সিদ্ধ হয় এবং গলে যায়। মুনকার, মুখতাসার শামায়িল (১৪৪) আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি গারীব। আমরা শুধুমাত্র উল্লেখিত (সনদ) সূত্রেই এ হাদীস জেনেছি।
। জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সিরকা (টক ও বাজযুক্ত পানীয়) কতই না উত্তম তরকারী! সহীহ, ইবনু মাজহ (৩৩১৬, ৩৩১৭), মুসলিম আইশা ও উম্মু হানী (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে।
। আইশা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সিরকা কতই না উত্তম তরকারী! সহীহ, ইবনু মা-জাহ (৩৩১৬, ৩৩১৭), মুসলিম ইয়াহইয়া ইবনু হাসসান হতে, তিনি সুলাইমান ইবনু বিলাল হতে উল্লেখিত সনদে অনুরূপ। তবে তাতে নি'মাল ইদামু অথবা আলউদমু এভাবে উল্লেখ আছে। সহীহ দেখুন পূর্বের হাদীস এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ এবং উল্লেখিত সনদসূত্রে গারীব বলেছেন। আমরা এটিকে হিশাম ইবনু উরওয়ার রিওয়ায়াত হিসাবে শুধু সুলাইমান ইবনু বিলালের সুত্রেই জেনেছি।
উৎসে উল্লিখিত মান
SahihAhmad Muhammad Shakir
Hasan SahihBashar Awad Maarouf
Sahih MuslimZubair Ali Zai
৬৮টির মধ্যে ৫০
৬৮টি বর্ণনা · নম্বর ১৭৮৮–১৮৬০
আরবি পাঠ, নম্বর, অধ্যায়ের নাম ও মান — সবই একটি উন্মুক্ত ডেটাসেটে (hadith-api) যেমন আছে হুবহু তেমন দেখানো হয়েছে। সাবীল এখনও এর নির্ভুলতা বা স্বত্ব যাচাই করেনি, আর আলেমদের পর্যালোচনাও শুরু হয়নি। ততদিন কোনো বর্ণনার ওপর নির্ভর করার আগে ছাপা সংস্করণের সাথে মিলিয়ে নিন।