অধ্যায় ৫০ · The Book of Seeking Refuge with Allah
১১২টি বর্ণনা · নম্বর ৫৪২৮–৫৫৩৯
প্রতিটি বর্ণনার নিচে ডেটাসেটের নিজস্ব অনুবাদ হুবহু দেখানো হয়েছে। এতে অনুবাদকের নাম নেই, এর স্বত্ব যাচাই হয়নি, এবং কেউ এটি আরবির সঙ্গে মিলিয়ে দেখেননি; কিছু বর্ণনার অনুবাদ নেই। মূল পাঠ আরবি।
অনূদিত নববী হাদীসের বিশ্বকোষে (HadeethEnc.com) কোনো বর্ণনার হুবহু পাঠ থাকলে, তার অনুবাদ সেই বর্ণনার নিচে উৎসের নামসহ দেখানো হয়েছে। দুটিকে প্রোগ্রামের সাহায্যে, কেবল আরবি পাঠ দেখে মেলানো হয়েছে: বিশ্বকোষের হাদীসের পুরো পাঠ, তাতে উল্লেখিত সাহাবীর নামসহ, বর্ণনাটির শেষ অংশের সঙ্গে অক্ষরে অক্ষরে এক। এই মিল কেউ যাচাই করেননি, এবং সাবীলের পর্যালোচকেরা অনুবাদটি পরীক্ষা করেননি। মূল পাঠ আরবি।
আবু আবদুর রহমান আহমদ ইবন শুআয়ব (রহঃ) ... মুআয ইবন আবদুল্লাহ্ তাঁর পিতার মাধ্যমে বর্ণনা করেন যে, একবার কিছু বৃষ্টিপাতের পর চতুর্দিক অন্ধকার হয়ে গেল। আমরা আমাদের নিয়ে সালাত আদায়ের জন্য রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অপেক্ষা করছিলাম। তারপর তিনি এমন কিছু বললেনঃ যার মর্ম হলো, পরে তিনি আমাদের নিয়ে সালাত আদায়ার্থে বের হলেন। তিনি বললেনঃ বল! আমি বললামঃ কি বলবো? তিনি বললেনঃ কুল হুয়াল্লাহু আহাদ, কুল আউযু বিরাব্বিল ফালাক, কুল আউযু বিরাব্বিন্নাস এবং সকাল-সন্ধ্যায় তিনবার করে। সকল বিপদাপদে এটাই তোমার জন্য যথেষ্ট।
ইউনুস ইবন আবদুল আ'লা (রহঃ) ... আবদুল্লাহ্ ইবন খুবায়ব (রহঃ) তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আমি মক্কার পথে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে ছিলাম। একবার আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে নির্জনে পেয়ে তাঁর নিকট গেলাম। তিনি বললেনঃ বল। আমি বললামঃ কি বলবো? তিনি বললেনঃ বল, আমি বললাম কি বলবো? তিনি বললেন, বল, কুল আউযু বিরাব্বিল ফালাক। তিনি তা শেষ করলেন। এরপর বললেনঃ বল, কুল আউযু বিরাব্বিন্নাস। এই সূরা শেষ করে তিনি বললেনঃ লোকেরা এ দু'টির চেয়ে উত্তম আশ্রয় গ্রহণ করতে পারে না।
মুহাম্মদ ইবন আলী (রহঃ) ... উকবা ইবন আমির জুহানী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি এক জিহাদের সফরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উটনী টানছিলাম। তিনি বললেনঃ হে উাকবা! বল! আমি সেদিকে লক্ষ্য করলাম। তিনি আবার বললেন, বল। আমি সেদিকে লক্ষ্য করলাম। তিনি তৃতীয়বার একই কথা বললেন। আমি বললাম, কী বলব? তিনি বললেনঃ বল, কুল হুয়াল্লাহু আহাদ। তিনি সূরা শেষ করলেন। এরপর তিনি কুল আউযু বিরাব্বিল ফালাক পাঠ করলে আমি তাঁর সংগে পাঠ করলাম। তিনি এটিও শেষ করলেন। তারপর বললেন, কুল আউযু বিরাব্বিন্নাস, তাঁর সঙ্গে আমিও তা পড়লাম। তিনি এটিও শেষ করলেন। তারপর বললেনঃ এই সূরাগুলো হতে উত্তম কোন আশ্রয় কেউ গ্রহণ করে না।
আহমদ ইবন উসমান ইবন হাকীম (রহঃ) ... উকবা ইবন আমির জুহানী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন, বল। আমি বললাম, কী বলবো? তিনি বললেনঃ বল, কুল হুয়াল্লাহু আহাদ এবং কুল আউযু বিরাব্বিল ফালাক এবং কুল আউযু বিরাব্বিন্নাস। পরে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা পাঠ করলেন এবং বললেনঃ কোন ব্যক্তি এই সূরাগুলোর ন্যায় অন্য কিছুর আশ্রয় গ্রহণ করে না করেনি, কিংবা বললেন, কোন লোক এর মত কিছুর আশ্রয় গ্রহণ করতে পারে না।
মাহমূদ ইবন খালিদ (রহঃ) ... ইবন আবিস জুহানী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। একদা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেনঃ হে ইবন আবিস! যা দ্বারা লোক আল্লাহর আশ্রয় গ্রহণ করে থাকে, এদের মধ্যে যা উত্তম, তা কি আমি তোমাকে বলবাে না? অথবা তিনি বললেনঃ আমি কি তোমাকে অবহিত করব না? সে বললোঃ হ্যাঁ, ইয়া রাসূলাল্লাহ! তিনি বললেনঃ তা হলো, কুল আউযু বিরাব্বিল ফালাক এবং কুল আউযু বিরাব্বিন্নাস-এ দু’টি সূরা।
আমর ইবন উসমান (রহঃ) ... উকবা ইবন আমির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে একটি সাদা খচ্চর হাদিয়া দেওয়া হলে তিনি তার উপর সওয়ার হলেন, আর উকবা (রাঃ) তা টেনে নিয়ে চললেন। এমন সময় রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উকবা (রাঃ)-কে বললেনঃ হে উকবা, পড়! তিনি বললেন, কি পড়বাে? তিনি বললেন, পড়, কুল আউযু বিরাব্বিল ফালাক। তিনি তা আবারও বললেন, আমি তা পড়লাম। তিনি বুঝতে পারলেন, আমি এতে খুব বেশি খুশি হইনি। তিনি বললেনঃ হয়তো তুমি এর মর্যাদা বুঝিতে পারনি। আমি এর মত সূরা আর পাইনি।
أَخْبَرَنَا مُوسَى بْنُ حِزَامٍ التِّرْمِذِيُّ، قَالَ أَنْبَأَنَا أَبُو أُسَامَةَ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ صَالِحٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ جُبَيْرِ بْنِ نُفَيْرٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ، أَنَّهُ سَأَلَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنِ الْمُعَوِّذَتَيْنِ . قَالَ عُقْبَةُ فَأَمَّنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِهِمَا فِي صَلاَةِ الْغَدَاةِ .
মূসা ইবন হিযাম তিরমিযী (রহঃ) ... উকবা ইবন আমির (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সূরা নাস ও ফালাক সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করলে, তিনি এই দুটি সূরা দ্বারাই আমাদের ফজরের সালাতে ইমামতি করেন।
أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَمْرٍو، قَالَ أَنْبَأَنَا ابْنُ وَهْبٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي مُعَاوِيَةُ بْنُ صَالِحٍ، عَنِ ابْنِ الْحَارِثِ، - وَهُوَ الْعَلاَءُ - عَنِ الْقَاسِمِ، مَوْلَى مُعَاوِيَةَ عَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ، قَالَ كُنْتُ أَقُودُ بِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي السَّفَرِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " يَا عُقْبَةُ أَلاَ أُعَلِّمُكَ خَيْرَ سُورَتَيْنِ قُرِئَتَا " . فَعَلَّمَنِي { قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ الْفَلَقِ } وَ { قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ النَّاسِ } فَلَمْ يَرَنِي سُرِرْتُ بِهِمَا جِدًّا فَلَمَّا نَزَلَ لِصَلاَةِ الصُّبْحِ صَلَّى بِهِمَا صَلاَةَ الصُّبْحِ لِلنَّاسِ فَلَمَّا فَرَغَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنَ الصَّلاَةِ الْتَفَتَ إِلَىَّ فَقَالَ " يَا عُقْبَةُ كَيْفَ رَأَيْتَ " .
আহমদ ইবন আমর (রহঃ) ... উকবা ইবন আমির (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, আমি সফরে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সওয়ারী টানছিলাম, এমন সময় তিনি বললেনঃ হে উকবা! আমি কি তোমাকে পঠিত সর্বোত্তম দু'টি সূরা শিক্ষা দেব না? তিনি আমাকে শিক্ষা দিলেন কুল আউযু বিরাব্বিল ফালাক এবং কুল আউযু বিরাব্বিন্নাস। তিনি দেখলেন, আমি এতে অধিক সন্তুষ্ট হয়নি। এরপর যখন তিনি ফজরের নামায পড়তে বের হলেন, তখন তিনি এই দু'টি সূরা দিয়েই নামায পড়লেন। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নামায শেষ করে আমার প্রতি লক্ষ্য করে বললেনঃ হে উকবা! কেমন পেলে?
أَخْبَرَنِي مَحْمُودُ بْنُ خَالِدٍ، قَالَ حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ، قَالَ حَدَّثَنِي ابْنُ جَابِرٍ، عَنِ الْقَاسِمِ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ، قَالَ بَيْنَا أَقُودُ بِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي نَقَبٍ مِنْ تِلْكَ النِّقَابِ إِذْ قَالَ " أَلاَ تَرْكَبُ يَا عُقْبَةُ " . فَأَجْلَلْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ أَرْكَبَ مَرْكَبَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ قَالَ " أَلاَ تَرْكَبُ يَا عُقْبَةُ " . فَأَشْفَقْتُ أَنْ يَكُونَ مَعْصِيَةً فَنَزَلَ وَرَكِبْتُ هُنَيْهَةً وَنَزَلْتُ وَرَكِبَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ قَالَ " أَلاَ أُعَلِّمُكَ سُورَتَيْنِ مِنْ خَيْرِ سُورَتَيْنِ قَرَأَ بِهِمَا النَّاسُ " . فَأَقْرَأَنِي { قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ الْفَلَقِ } وَ { قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ النَّاسِ } فَأُقِيمَتِ الصَّلاَةُ فَتَقَدَّمَ فَقَرَأَ بِهِمَا ثُمَّ مَرَّ بِي فَقَالَ " كَيْفَ رَأَيْتَ يَا عُقْبَةُ بْنَ عَامِرٍ اقْرَأْ بِهِمَا كُلَّمَا نِمْتَ وَقُمْتَ " .
মাহমূদ ইবন খালিদ (রহঃ) ... উকবা ইবন আমির (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, আমি এক রাস্তায় রাসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সওয়ারীর রশি এক ঘাঁটি হতে টেনে নিচ্ছিলাম। এমন সময় তিনি বললেনঃ হে উকবা! তুমি সওয়ার হবে না? আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মর্যাদার প্রতি লক্ষ্য করে তাঁর বাহনে আরোহণ সমীচীন মনে করলাম না। কিছুক্ষণ পর তিনি আবার বললেনঃ হে উকবা! তুমি কি সওয়ার হবে না? তখন আমি আশংকাবোধ করলাম যে, আদেশ অমান্য করার অপরাধ হয়ে যায় কিনা। সুতরাং তিনি অবতরণ করলা আমি সওয়ার হলাম। কিছুক্ষণ পরে আমি নীচে নামলাম, আর তিনি সওয়ার হলেন। এরপর তিনি বললেনঃ মানুষ যা তিলাওয়াত করে, এমন দু'টি উত্তম সূরা আমি কি তোমাকে শিক্ষা দিব না। এরপর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে দুটি সূরা - কুল আউযু বিরাব্বিল ফালাক ও সূরা নাস শিক্ষা দিলেন। এমন সময় নামাযের ইকামত বলা হলো এবং তিনি অগ্রসর হয়ে এ দু'টি সূরাই পড়লেন, পরে তিনি আমার নিকট দিয়ে যাওয়ার সময় বললেনঃ হে উকবা! কিরূপ মনে হলো? তুমি প্রত্যেক শয়ন ও জাগরণে এ সূরা দু'টি পাঠ করবে ।
কুতায়বা (রহঃ) ... উকবা ইবন আমির (রা) থেকে বর্ণিত যে, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে ছিলাম। তিনি বললেনঃ হে উকবা! বল। আমি বললামঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! কি বলবো? তিনি কিছুক্ষণ চুপ থাকলেন। তারপর বললেনঃ হে উকবা! বল। আমি বললামঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমি কি বলবো? তিনি আবার চুপ থাকলেন। আমি বললামঃ হে আল্লাহ্! তাকে আমার দিকে ফিরিয়ে দিন। তারপর তিনি বললেনঃ হে উকবা! বল। আমি বললামঃ ইয়া রাসূলুল্লাহ! কি বলবো? এবার তিনি বললেনঃ বল, কুল আউযু বিরাব্বিল ফালাক, আমি তা পড়ে শেষ করলাম। এরপর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ বল। আমি বললামঃ কি বলবো? তিনি বললেনঃ বল, কুল আউযু বিরাব্বিন্নাস। আমি তা পাঠ করলাম। এরপর তিনি বললেনঃ কোন প্রার্থনাকারী এর মত কিছু দ্বারা প্রার্থনা করেনি এবং কোন আশ্রয়প্রার্থী এর মত অন্য কিছু দ্বারা আশ্রয় গ্রহণ করেনি।
কুতায়বা (রহঃ) ... উকবা ইবন আমির (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে দেখলাম, তিনি বাহনে আরোহণ করে আছেন। আমি তাঁর পায়ে আমার হাত রেখে বললামঃ আমাকে সূরা হূদ শিক্ষা দিন, আমাকে সূরা ইউসুফ শিক্ষা দিন। তিনি বললেনঃ তুমি আল্লাহর নিকট অতি প্রিয় সূরা ফালাক অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ কোন সূরা পড়বে না।
মুহাম্মদ ইবন মুসান্না (র) ... উকবা ইবন আমির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমার উপর কয়েকটি আয়াত নাযিল হয়েছে, যার মত আর কোন আয়াত দেখা যায় না, আর তা হলো ‘কুল আউযুবি রাব্বিল ফালাক’ শেষ পর্যন্ত এবং কুল আউযুবিরাব্বিন নাস’ শেষ পর্যন্ত।
আমর ইবন আলী (র) ... জাবির ইবন আবদুল্লাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বলেনঃ হে জাবির! পড়। আমি বললামঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার মাতাপিতা আপনার উপর কুরবান হোক, আমি কি পড়বো? তিনি বললেনঃ তুমি পড়, কুল আউযু বিরাব্বিল ফালাক, কুল আউযু বিরাব্বিন্নাস। তখন আমি উভয় সূরা তিলাওয়াত করলাম। তিনি বললেনঃ একটি পাঠ কর। এর মত আর কোন সূরা তিলাওয়াত করবে না।
ইয়াযীদ ইবন সিনান (রহঃ) ... আবদুল্লাহ্ ইবন আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চারটি বস্তু হতে আল্লাহর আশ্রয় কামনা করতেন : অনুপকারী ইলম হতে, এমন অন্তর হতে- যা আল্লাহর ভয়ে ভীত কম্পিত হয় না, এমন দু'আ হতে, যা ককূল হয় না, আর ঐ প্রবৃত্তি হতে যা পরিতৃপ্ত হয় না।
হুসায়ন ইবন ইসহাক (রহঃ) ... শাকাল ইবন হুমায়দ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে বললামঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমাকে এমন এক আশ্রয় প্রার্থনার দু'আ শিক্ষা দিন, আমি যা দ্বারা আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করতে পারি। তখন তিনি আমার হাত ধরে বললেনঃ তুমি বল, হে আল্লাহ্! আমি আমার কান, চক্ষু, জিহ্বা, অন্তর এবং বীর্যের অনিষ্ট হতে আপনার আশ্রয় প্রার্থনা করছি। রাবী বলেন, আমি তা মুখস্থ করে নিয়েছি। সাঈদ (রাঃ) বলেন, হাদীসের 'মনি' শব্দের অর্থ বীর্য।
ইসমাঈল ইবন মাসউদ (রহঃ) ... মুস'আব ইবন সা'দ (রাঃ) তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণনা করেন যে, তিনি আমাদেরকে পাঁচটি কথা শিক্ষা দিতেন এবং তিনি বলতেনঃ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এগুলাে দ্বারা দু'আ করতেন এবং তিনি বলতেনঃ হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি কৃপণতা থেকে, আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি কাপুরুষতা থেকে, আমি আরো আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি জীবনের নিকৃষ্টতম অংশ (অতি বার্ধক্য) থেকে এবং আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি দুনিয়ার ফিতনা থেকে এবং আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি কবরের আযাব থেকে।
ইয়াহইয়া ইবন মুহাম্মদ (রহঃ) ... আমর ইবন মায়মূন আওদী (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন সা'দ (রাঃ) তাঁর সন্তানদেরকে এই বাক্যসমূহ শিক্ষা দিতেন, যেমন শিক্ষক ছাত্রদেরকে শিক্ষা দিয়ে থাকেন। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই দু'আগুলো নামাযের পর পাঠ করতেনঃ হে আল্লাহ! আমি কাপুরুষতা, কার্পণ্য, চরম বার্ধক্য, দুনিয়ার ফিতনা এবং কবরের আযাব থেকে আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। রাবী বলেনঃ আমি এই হাদীস মুসআব (রাঃ)-এর নিকট বর্ণনা করলে তিনি এর সত্যয়ন করেন।
মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না (রহঃ) ... আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেনঃ ইয়া আল্লাহ্! আমি অপারগতা, অলসতা, কৃপণতা, চরম বার্ধক্য এবং জীবন ও মরণের ফিতনা হতে আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি।
আলী ইবন মুনযির (রহঃ) ... আনাস ইবন মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কয়েকটি নির্দিষ্ট দু'আ ছিল, যা তিনি কোন সময় ছাড়তেন না। তা এই যে, তিনি বলতেন, হে আল্লাহ্! আমি দুশ্চিন্তা, অপারগতা, অলসতা, কৃপণতা, কাপুরুষতা, এবং লােকের আগ্রাসন হতে আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি।
ইসহাক ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ... আনাস ইবন মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কয়েকটি দু'আ ছিল, যা তিনি কখনও ত্যাগ করতেন না। হে আল্লাহ্! আমি দুশ্চিন্তা, ভয়, অপরাগতা, অলসতা, কৃপণতা, কাপুরুষতা, ঋণ এবং লােকের আগ্রাসন হতে আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি।
আবু হাতিম সিজিস্তানী (রহঃ) ... আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু'আর সময় বলতেনঃ হে আল্লাহ! আমি দুশ্চিন্তা, দুঃখ, অপারগতা, অলসতা, কৃপণতা, কাপুরুষতা, ঋণের বােঝা এবং ললাকের আগ্রাসন হতে আপনার নিকট আশ্রয় চাচ্ছি।
মুহাম্মাদ ইবন উসমান (রহঃ) ... আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অধিকাংশ সময় ঋণ এবং পাপ হতে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করতেন। আমি বললামঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি কত বেশিই না ঋণ হতে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করে থাকেন! তখন তিনি বললেনঃ যে ব্যক্তি ঋণী হয়, সে যখন কথা বলে, মিথ্যা বলে এবং যখন ওয়াদা করে, তা ভঙ্গ করে।
হুসায়ন ইবন ইসহাক (রহঃ) ... শাকাল ইবন হুমায়দ (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, একদা আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপস্থিত হয়ে বললামঃ হে আল্লাহর নবী! আমাকে এমন আশ্রয়ের দু'আ শিখিয়ে দিন, যা দ্বারা আমি আশ্রয় প্রার্থনা করতে পারি। তিনি আমার হাত ধরে বললেনঃ তুমি বল, আমি আমার কান, চোখ, জিহ্বা, অন্তর এবং বীর্যের অপকারিতা হতে আল্লাহর আশ্রয় চাচ্ছি। রাবী বলেনঃ আমি তা মুখস্থ করে নিলাম। সা'দ (রাঃ) বলেন, হাদীসে বর্ণিত 'মনি' অর্থ বীর্য।
উবায়দ ইবন ওয়াকী (রহঃ) ... শাকাল ইবন হুমায়দ (রাঃ) তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আমি বললামঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমাকে কিছু দু'আ শিখিয়ে দিন, যা দ্বারা আমি লাভবান হতে পারি। তিনি বললেনঃ তুমি বল, হে আল্লাহ্! আমাকে কান, চোখ, জিহ্বা, অন্তর এবং পুরুষাঙ্গের অপকারিতা হতে রক্ষা করুন।
মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না (রহঃ) ... হুমায়দ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আনাস ইবন মালিক (রাঃ)-এর নিকট কবর আযাব এবং দাজ্জাল সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেনঃ ইয়া আল্লাহ! আমি অলসতা, চরম বার্ধক্য, কাপুরুষতা, কৃপণতা, দাজ্জালের ফিতনা এবং কবর আযাব হতে আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি।
আহমদ ইবন সুলায়মান (রহঃ) ... যায়দ ইবন আরকাম (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি তােমাদেরকে তা-ই শিক্ষা দেব, যা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে শিক্ষা দিতেন, তিনি বলতেনঃ হে আল্লাহ্! আমি অপারগতা, অলসতা, কৃপণতা, কাপুরুষতা, চরম বার্ধক্য এবং কবর আযাব হতে আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। হে আল্লাহ! আমার আত্মাকে পরহেযগারী দান করুন এবং একে মন্দ কার্য হতে পবিত্র করুন; আপনি অতি উত্তম পবিত্রকারী এবং আপনিই এর মালিক। হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি ঐ অন্তর হতে যা ভীত হয় না, আর ঐ প্রবৃত্তি থেকে, যা তৃপ্ত হয় না, আর এমন ইলম হতে, যা উপকার করে না এবং এমন দু'আ থেকে, যা ককূল হয় না।
আমর ইবন আলী (রহঃ) ... আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ হে আল্লাহ! আমি অপারগতা, অলসতা, কৃপণতা, কাপুরুষতা, চরম বার্ধক্য, কবর আযাব এবং জীবন-মরণের ফিতনা হতে আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি।
আবু আসিম খুশায়শ ইন আসরাম (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেনঃ হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি দারিদ্রতা হতে, আমি আরও আশ্রয় প্রার্থনা করি অপ্রতুলতা এবং অপমান ও লাঞ্ছনা থেকে, আর আমি আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি আমি যেন কারাে উপর অত্যাচার না করি অথবা আমি যেন অত্যাচারিত না হই।
মাহমূদ ইবন খালিদ (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করবে অভাব-অনটন, অপ্রতুলতা, অপমান থেকে এবং কারো উপর অত্যাচার করা কিংবা কারো দ্বারা অত্যাচারিত হওয়া থেকে।
আহমাদ ইবন নাসর (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেনঃ হে আল্লাহ্! আমি আপনার কাছে স্বল্পতা, অভাব-অনটন, লাঞ্ছনা থেকে আশ্রয় চাই। আমি অত্যাচার করা ও অত্যাচারিত হওয়া থেকে আপনার পানাহ্ চাই।
মাহমূদ ইবন খালিদ (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা আল্লাহর নিকট অভাব-অনটন, অপ্রতুলতা, লাঞ্ছনা এবং অত্যাচার করা ও অত্যাচারিত হওয়া থেকে আশ্রয় প্রার্থনা কর।
ইউনুস ইবন আবদুল আ'লা (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা আল্লাহর নিকট অভাব-অনটন, অপ্রতুলতা, লাঞ্ছনা এবং অন্যের উপর অত্যাচার করা এবং অত্যাচারিত হওয়া থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করবে।
মুহাম্মদ ইবন মুসান্না (রহঃ) ... মুসলিম (রহঃ) বলেন, তাঁর পিতাকে প্রত্যেক নামাযের পর বলতে শুনতেন যে, হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি কুফরী, অভাব এবং কবরের আযাব হতে। আমিও এ দ্বারা দু'আ করতে আরম্ভ করলাম। তখন আমার পিতা বললেনঃ হে প্রিয় বৎস! এই দু'আ কোথা থেকে শিখলে? আমি বললামঃ হে পিতা! আমি আপনাকে এই দু'আ করতে শুনেছি প্রত্যেক নামাযের পর। আমি তা আপনার নিকটেই শিখেছি। তিনি বললেনঃ বেটা, এগুলােকে আঁকড়ে ধরবে। কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রত্যেক নামাযের পর এগুলাে দ্বারা দু'আ করতেন।
মুহাম্মদ ইবন আবদুল্লাহ (রহঃ) ... আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রায়ই এই দু'আ পাঠ করতেনঃ হে আল্লাহ! আমি দোযখের ফিতনা, দোযখের আযাব, কবরের ফিতনা, কবরের আযাব, দাজ্জালের ফিতনা, অভাব-অনটন এবং ঐশ্বর্যের ফিতনা থেকে আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। হে আল্লাহ্! আমার পাপসমূহকে বরফ ও শিলার পানি দ্বারা ধুয়ে দিন, আর আমার অন্তরকে পাপ-পঙ্কিলতা হতে এভাবে পরিষ্কার করে দিন, যেভাবে সাদা কাপড় ময়লা হতে পরিষ্কার করা হয়ে থাকে। আর আমাকে পাপ হতে এত দূরে রাখুন, যেমন পূর্ব ও পশ্চিমের মধ্যে দূরত্ব রেখেছেন। হে আল্লাহ্! আমি অলসতা, অতি বার্ধক্য, পাপ এবং ঋণগ্রস্ত হওয়া থেকে আপনার আশ্রয় প্রার্থনা করছি।
কুতায়বা (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেনঃ হে আল্লাহ্! আমি চারটি বস্তু থেকে আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি : অনুপকারী ইলম হতে; ঐ অন্তর হতে, যাতে ভয় থাকে না; ঐ প্রবৃত্তি হতে, যা তৃপ্ত হয় না আর ঐ দু'আ হতে যা কবূল হয় না।
মুহাম্মাদ ইবন আলা (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেনঃ হে আল্লাহ্! আমি ক্ষুধা হতে আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। কেননা তা অতি নিকৃষ্ট সঙ্গী। আর আমি আমানতে খিয়ানত করা হতে আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। কেননা তা অতি মন্দ চরিত্র।
মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেন, হে আল্লাহ! আমি ক্ষুধা হতে আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। কেননা তা অতি নিকৃষ্ট সাথী। আর খিয়ানত হতে, যা অতি মন্দ চরিত্র।
কুতায়বা (রহঃ) ... আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই দু'আ করতেনঃ হে আল্লাহ্! আমি আপনার আশ্রয় প্রার্থনা করছি অনুপকারী বিদ্যা হতে; এমন অন্তর হতে, যে ভয় করে না; এমন দু'আ হতে যা কবূল হয় না; আর ঐ প্রবৃত্তি হতে, যা তৃপ্ত হয় না। তিনি বললেনঃ হে আল্লাহ! আমি এই চারটি বস্তু হতে আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি।
আমর ইবন উসমান (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু'আ করতেনঃ হে আল্লাহ! আমি শক্রতা, নিফাক এবং মন্দ চরিত্র থেকে আপনার আশ্রয় প্রার্থনা করছি।
ইসহাক ইবন ইব্রাহীম (রহঃ) ... আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রায়ই পাপ এবং ঋণভার হতে আশ্রয় প্রার্থনা করতেন। তখন কেউ তাঁকে প্রশ্ন করলোঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আপনি পাপ ও ঋণভার থেকে অত্যধিক আশ্রয় প্রার্থনা করেন? তিনি বললেনঃ কোন লোক যখন করযদার হয়, তখন সে কথা বললে মিথ্যা বলে এবং ওয়াদা করলে খেলাফ করে।
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ يَزِيدَ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبِي قَالَ، حَدَّثَنَا حَيْوَةُ، وَذَكَرَ، آخَرَ قَالَ حَدَّثَنَا سَالِمُ بْنُ غَيْلاَنَ التُّجِيبِيُّ، أَنَّهُ سَمِعَ دَرَّاجًا أَبَا السَّمْحِ، أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا الْهَيْثَمِ، أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا سَعِيدٍ، يَقُولُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " أَعُوذُ بِاللَّهِ مِنَ الْكُفْرِ وَالدَّيْنِ " . قَالَ رَجُلٌ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَتَعْدِلُ الدَّيْنَ بِالْكُفْرِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " نَعَمْ " .
মুহাম্মদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন ইয়াযীদ (রহঃ) ... আবু সাঈদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ আমি কুফর এবং দেনা হতে আল্লাহ্র আশ্রয় প্রার্থনা করছি। তখন এক ব্যক্তি বললোঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি কি দেনা এবং কুফরকে একই রকম মনে করেন? রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হ্যাঁ।
মুহাম্মাদ ইবন বাশশার (রহঃ) ... আবূ সাঈদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমি আল্লাহর নিকট কুফর এবং দেনা থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। তখন এক ব্যক্তি বললোঃ আপনি কি কুফর এবং দেনাকে একই রকম মনে করেন? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ।
আহমাদ ইবন হারব (রহঃ) ... আনাস ইবন মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেনঃ হে আল্লাহ! আমিই দুঃখ-কষ্ট, দুশ্চিন্তা-আলস্য, ভীরুতা, কৃপণতা এবং ঋণের বােঝা থেকে এবং মানুষের আধিপত্য বিস্তার হতে আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি।
ইসহাক ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ... আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেনঃ হে আল্লাহ্! আমি কবরের আযাব, দোযখের ফিতনা, কবরের ফিতনা, কবরের আযাব, মসীহ্ দাজ্জালের ফিতনা, সম্পদশালী হওয়ার ফিতনার অনিষ্টতা, অভাবগ্রস্ততার ফিতনার অনিষ্টতা হতে আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। হে আল্লাহ্! আমার পাপসমূহ বরফ এবং শিলার পানি দ্বারা ধুয়ে দিন, আর আমার অন্তরকে পাপসমূহ হতে এমন পবিত্র করে দিন, যেমন আপনি সাদা কাপড়কে ময়লা থেকে পবিত্র করে দেন। হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট আলস্য, অতি বার্ধক্য, ঋণ এবং গুনাহ হতে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।
উৎসে উল্লিখিত মান
SahihAbu Ghuddah
SahihAl-Albani
Isnaad SahihZubair Ali Zai
১১২টির মধ্যে ৫০
১১২টি বর্ণনা · নম্বর ৫৪২৮–৫৫৩৯
আরবি পাঠ, নম্বর, অধ্যায়ের নাম ও মান — সবই একটি উন্মুক্ত ডেটাসেটে (hadith-api) যেমন আছে হুবহু তেমন দেখানো হয়েছে। সাবীল এখনও এর নির্ভুলতা বা স্বত্ব যাচাই করেনি, আর আলেমদের পর্যালোচনাও শুরু হয়নি। ততদিন কোনো বর্ণনার ওপর নির্ভর করার আগে ছাপা সংস্করণের সাথে মিলিয়ে নিন।